
পুরান ঢাকার আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সুমন চৌধুরীকে (৪৯) অপহরণ, মারধর, চাঁদাদাবি এবং অর্থ লুটের অভিযোগে লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত মামলার ১ নম্বর আসামি মো. আরমানকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে আজিমপুর সেনা ক্যাম্পের টহলরত দল।
শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল ৪টা ৩০মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে আজিমপুর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাকে করে গ্রেফতার করা হয়।
সেনা সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজিমপুর সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরবর্তীতে রাতে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লালবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুজন ভূইয়া অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক সুমন চৌধুরী ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে বাঁশ, চাটাই ও কবর খননের কাজের এক বছরের সরকারি লিজ নেন। তিনি কবরস্থান সংলগ্ন নিজস্ব অফিস থেকে কাজ পরিচালনা করছিলেন। তার সঙ্গে এজাহারে উল্লেখিত দুই কর্মী কামাল খাকি ও সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন কাজ করেন।
বাদীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চাঁদাবাজ চক্র হিসেবে পরিচিত আরমান, মাকসুদ, রানা, বাঙ্গি, শাহানুর, রাজন, বড় ফারুক, মনির, হেলাল, জয়সহ আরও ১০–১৫ জন তার কাছে নিয়মিত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ব্যবসা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে দিতে হুমকি দেন এবং নানা সময় প্রাণনাশের ভয়ও দেখান।
ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর বিকাল ৩টা ৩০মিনিটে বাদী তার অফিসে থাকা অবস্থায় উল্লিখিত আসামিরা সেখানে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাকে জোরপূর্বক টেনে–হিঁচড়ে নিয়ে যান আজিমপুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় ১ নম্বর আসামি আরমানের অফিসে। সেখানে তারা পরস্পর যোগসাজশে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অফিসে ব্যবসা চালাতে হলে চাঁদা দিতে হবে, নইলে এলাকা ছাড়তে হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় আসামি আরমান, মাকসুদ ও বাঙ্গি ভয়ভীতি দেখিয়ে সুমন চৌধুরীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী টেন্ডারে তার নাম ও কাগজপত্র বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেন। ঘটনার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে আজিমপুর সেনা ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেলে আসামিরা দ্রুত সরে পড়েন। পরে পরিবার–স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী কিছুটা বিলম্বে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।
লালবাগ থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল খান যুগান্তরকে বলেন, সেনাবাহিনী একজনকে গ্রেফতার করে থানায় দিয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে, এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।