গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলা জুড়ে তীব্র বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। দিনে ৫ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকা এবং রাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের ফলে সাধারণ মানুষ, কৃষক, খামারি ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ঘণ্টায় ৭-৮ বার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। এতে গরমে জনদুর্ভোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। সামনে ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এসএসসি পরীক্ষা ঘিরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উদ্বেগ বাড়ছে।
চাপাইর এলাকার পরীক্ষার্থী সুমি আক্তার বলেন, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকলে পড়তে পারি না। মোমবাতির আলোয় চোখে সমস্যা হয়, আর গরমে ফ্যান না চলায় মনোযোগও থাকে না।”
অভিভাবক সেলিম হোসেন জানান, “সবাই তো চার্জার লাইট বা আইপিএস কিনতে পারে না। গ্রামের বেশিরভাগ শিক্ষার্থী নিম্নবিত্ত পরিবারের হওয়ায় তাদের পড়াশোনা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
এদিকে বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে কৃষি খাতেও। বিদ্যুৎ না থাকায় সেচ পাম্প চালানো যাচ্ছে না, ফলে জমিতে পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ধানসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষকরা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো পানি না পেলে ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ডিজেলের সংকট থাকায় বিকল্প ব্যবস্থাও সচল রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।
খামারিরাও বিপাকে পড়েছেন। পোল্ট্রি ও গবাদিপশুর খামারে বিদ্যুৎ না থাকায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি আবাসিক এলাকায় পানির সংকট দেখা দিয়েছে এবং রান্নাবান্নাতেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে, ফলে কর্মজীবী মানুষ সময়মতো কাজে যেতে পারছেন না।
কালিয়াকৈর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “পরীক্ষার আগে এই সময়টা শিক্ষার্থীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্যুৎ সংকট তাদের প্রস্তুতিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”
এ বিষয়ে গাজীপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের প্রকৌশলী মোঃ সাহারুল ইসলাম জানান, জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নির্ধারিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এসএসসি পরীক্ষার সময় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা থাকবে এবং রাতের লোডশেডিং কমাতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার এ.এইচ.এম. ফখরুল হুসাইন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরীক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় নিয়ে রাতে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্রে বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও রাখা হবে।”
উল্লেখ্য, চলতি বছরে কালিয়াকৈর উপজেলায় ১২টি কেন্দ্রে মোট ৭ হাজার ৬ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।