
চৈত্রের খরতাপে গাজীপুরের কালিয়াকৈর এলাকায় জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। টানা কয়েকদিনের তীব্র তাপপ্রবাহে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির কর্মজীবীরা।
প্রচণ্ড রোদে কাজ করতে গিয়ে শ্রমিকরা অল্প সময়েই ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন। চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকার ইট ভাঙার শ্রমিক মো. মিনহাজ উদ্দিনকে মাথায় গামছা জড়িয়ে ঘামে ভেজা শরীরে কাজ করতে দেখা যায়। কিছুক্ষণ পরপরই বিশ্রাম নিতে হচ্ছে তাকে। তিনি বলেন, “আগের মতো আর কাজ করা যায় না। এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর আর সাড়া দেয় না। গরম খুব বেশি।”
একই এলাকার গার্মেন্টস শ্রমিক আলিম মিয়া বলেন, “গরম বেশি হলেও কাজ তো করতেই হবে। না করলে সংসার চলবে না।”
পোশাক শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তীব্র গরমে তাদের কাজের ধরনে পরিবর্তন এসেছে। একটানা কাজের পরিবর্তে মাঝেমধ্যে বিরতি নিচ্ছেন তারা। কেউ পানি পান করছেন, কেউ ছায়ায় বসে বিশ্রাম নিচ্ছেন। শ্রমিক নজরুল ইসলাম বলেন, “মাঝে মাঝে মেশিন বন্ধ করে বিশ্রাম নিতে হয়, না হলে কাজ করা যায় না।”
গাজীপুর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আগের দিন তাপমাত্রা ছিল ৩৫ থেকে ৩৬.৮ ডিগ্রির মধ্যে। এদিন সকাল ৭টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সংজ্ঞা অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তা তাপপ্রবাহ হিসেবে বিবেচিত হয়। সে হিসেবে গাজীপুরে টানা কয়েকদিন ধরে তাপপ্রবাহ বিরাজ করছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করে। মাঝে বৃষ্টির কারণে কিছুটা কমলেও সাম্প্রতিক দিনে আবার তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে।
তাপপ্রবাহের প্রভাব শুধু শ্রমিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, নগরজীবনেও পড়েছে এর প্রভাব। রোদ থেকে বাঁচতে অনেকে ছাতা ব্যবহার করছেন, কেউ গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিচ্ছেন। তুরাগ নদীর তীরে গাছতলায় বসে থাকা সুমন বলেন, “রোদে কোথাও থাকা যাচ্ছে না। বাতাসও গরম, তাই ছায়ায় বসে আছি।”
অতিরিক্ত গরমের কারণে অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, ইতোমধ্যে কিছুটা ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা পরামর্শ দিয়েছেন, এ সময় ভাজাপোড়া ও খোলা শরবত এড়িয়ে চলা, ঢিলেঢালা পোশাক পরা, ছাতা ব্যবহার করা এবং সরাসরি রোদ এড়িয়ে চলা জরুরি। পাশাপাশি বেশি বেশি তরল পান করতে হবে। শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।