গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চললেও তা দমনে পুলিশের কার্যকর অভিযান না থাকার অভিযোগ উঠেছে। বিশেষ করে উপজেলার বিভিন্ন খাবার হোটেলকে কেন্দ্র করে মাদক ব্যবসা বিস্তারের বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
শনিবার (০৪ এপ্রিল) সন্ধ্যায় কালিয়াকৈর থানার পশ্চিম পাশে ইমরান হোসেনের একটি চা দোকানের সামনে মাদক সংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলতে গেলে কালিয়াকৈর থানার তদন্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম এ বিষয়ে বক্তব্য দেন। এর আগে একই দিন দুপুরেও তিনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। এরপর থেকেই উপজেলার চন্দ্রা এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দু’পাশে এবং কালিয়াকৈর বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ১৫টি খাবার হোটেলে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা চলছে। এসব স্থান থেকে তরুণ, যুবক, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ সহজেই মাদক সংগ্রহ করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদকের প্রভাবে প্রতিরাতে চন্দ্রা এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ বেড়ে গেছে। অথচ বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জানা থাকা সত্ত্বেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
এছাড়া উপজেলার চাপাইর ইউনিয়নের মেদী আশুলাই চান্দেরচালা গ্রামে কাশেম নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে তার স্ত্রী সালমা বেগম ও মেয়েসহ পরিবারের কয়েকজন সদস্য প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। একইভাবে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-মহল্লায়ও মাদকের বিস্তার ঘটছে।
এ বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য নিয়মিত মাদক ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মাসিক অর্থের একটি অংশ নিচ্ছেন। ফলে এসব ব্যবসায়ী ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।
অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় এ বিষয়ে জানতে চাইলে তদন্ত ওসি সাইফুল ইসলাম মৌখিকভাবে জানান, মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গেলে কিছু গণমাধ্যমকর্মীর পক্ষ থেকে তদবির আসে, যার কারণে অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। তিনি আরও বলেন, “প্রকাশ্যে মাদক বেচাকেনা হচ্ছে—এটা আপনারাও জানেন, আমরাও জানি। কিন্তু অভিযানে গেলে বাধা আসে।” পরে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদেরকেও বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান এবং কথা শেষ করে ফোন কেটে দেন।
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত মাদকবিরোধী কার্যকর অভিযান চালিয়ে এলাকা মাদকমুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।