
মানিকগঞ্জ জেলায় ২০২৫ সালের শুরু থেকে নবেম্বর মাস পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য ১৪ টি দুর্ধর্ষ চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, গরুর খামার এমনকি কবরস্থানও বাদ যায়নি সংঘবদ্ধ সক্রিয় অপরাধচক্রের হাত থেকে।
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৫- কবর খুঁড়ে খুলিচুরি:
সিংগাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের হাতনি কবরস্থানে রাতে দুর্বৃত্তরা পাঁচটি কবর খুঁড়ে মাথার খুলি চুরি করে নিয়ে যায়। এমন নৃশংস ঘটনায় এলাকায় তীব্র আলোড়নের সৃষ্টি হয়।
৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫- রাইজিং গ্রুপ কারখানায় দুর্ধর্ষ ডাকাতি:
রাত আড়াইটার দিকে ২০-২৫ জন মুখোশধারী ডাকাত রাইজিং গ্রুপের “পপুলার প্যাকেজ অ্যান্ড এক্সেসরিজ লিমিটেড” কারখানায় ঢুকে পড়ে। অস্ত্রের মুখে কর্মচারীদের হাত-পা বেঁধে ডাইং পলিব্যাগ ও নগদ অর্থ লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ ও ডিবির যৌথ অভিযানে ১২ ডাকাত গ্রেফতার এবং লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার হয়।
২৬ জুন ২০২৫- সাতটি গরু চুরি:
সাটুরিয়া উপজেলার তিল্লি ইউনিয়নের উত্তর পারতিল্লির বিলপাড়া গ্রামে মো. নিফাজ উদ্দিনের বাড়ি থেকে ৭টি গরু চুরি হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার কারণে থানার এক এসআই ও দুই কনস্টেবলকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়।
১৮ জুলাই ২০২৫ – অর্ধকোটি টাকার দুর্ধর্ষ চুরি:
সিংগাইর উপজেলার ভাউদিপাড়া গ্রামে মো. কফিল উদ্দিনের বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি হয়। পরিবারের সবাই হাসপাতালে থাকায় সুযোগ নেয় চোরেরা। তারা লকার ভেঙে ২২ ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ প্রায় অর্ধকোটি টাকার মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায়।
৫ আগস্ট ২০২৫- ব্যবসায়ীর বাড়িতে সশস্ত্র ডাকাতি:
সদর উপজেলার ভাড়ারিয়া ইউনিয়নের কাঠ ব্যবসায়ী রাজা মিয়ার বাড়িতে ১২-১৪ জনের ডাকাত দল অস্ত্রের মুখে সবাইকে জিম্মি করে ১৮ ভরি স্বর্ণ ও নগদ ১২ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
১৭ আগস্ট ২০২৫- গরু লুট ও খামারিকে হত্যা:
সিংগাইরের তালেবপুর গ্রামে গরু লুটের সময় বাধা দেওয়ায় ডাকাতরা খামার মালিক ৭৫ বছর বয়সী মহর উদ্দিনকে কুপিয়ে হত্যা করে। তারা ট্রাকে করে চারটি গরু নিয়ে যায়। পরদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় র্যাব-৪ অভিযান চালিয়ে ডাকাত সর্দার ইসমাইলসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে।
২১ আগস্ট ২০২৫- শহরের শিববাড়ি মহল্লায় সংঘবদ্ধ ডাকাতি:
মানিকগঞ্জ পৌর এলাকার শিববাড়ি মহল্লায় ভোর ৩টার দিকে বাড়ির মালিক মোস্তফা কামাল ও তাঁর স্ত্রীকে জিম্মি করে প্রায় দেড় লাখ টাকা ও সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায় দুর্ধর্ষ ডাকাত দল।
১ সেপ্টেম্বর ২০২৫- আদালত চত্বরে মোটরসাইকেল চুরি:
মানিকগঞ্জ আদালত প্রাঙ্গণ থেকে মোটরসাইকেল চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে এক যুবক। স্থানীয়রা ধাওয়া দিয়ে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন। আটক যুবক মুন্না ফরাজী (২৫) শিবালয় উপজেলার বাসিন্দা। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়।
৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ – একই রাতে দুই বাড়িতে চুরি:
সাটুরিয়ার আগসাভার গ্রামে একই রাতে দুই বাড়িতে চুরি হয়। তৈয়ব আলীর বাড়ি থেকে চোরেরা ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, স্বর্ণালঙ্কার ও তিনটি মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। পাশের বাড়ির আরিফ মিয়ার ঘর থেকেও নগদ টাকা ও মোবাইল চুরি করে নিয়ে যায় চোরেরা।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫- প্রবাস ফেরত নারী খুন:
ঘিওর উপজেলার পয়লা ইউনিয়নের বাইলজুরী গ্রামে রাতে রাশিদা বেগম (৫৫) নামে প্রবাস ফেরত নারীকে নিজ বাড়িতে খুন করে ডাকাত দল। তারা ঘরের আসবাবপত্র ভেঙে মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সঞ্চার হয়।
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ – শহরে গরু লুট:
মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা মো. উজ্জল হোসেনের “জামেলা ডেইরি ফার্ম” থেকে অস্ত্রের মুখে ৫টি গরু লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। শহরের কেন্দ্রস্থলে এমন ঘটনা জনমনে উদ্বেগ বাড়ায়।
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫- দেকান থেকে চাল চুরি:
জেলা শহরের খালপাড়ে তনুরত্ন চাউলের দোকান থেকে ১৩৩ বস্তা চাল চুরি করে নিয়ে যায় চোরচক্র। পরে সদর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া চাল উদ্ধার করে, তবে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়।
৩০ অক্টোবর ২০২৫- মোবাইল শোরুমে ১০ লাখ টাকার ফোন চুরি:
সর্বশেষ ঘটনায় শহরের ব্যস্ততম শহীদ রফিক সড়কের বিসমিল্লাহ সুপার মার্কেটে অবস্থিত “পিকাবো মোবাইল শোরুম”-এ সংঘবদ্ধ চোরচক্র হানা দিয়ে ১০ লাখ টাকা মূল্যের ফোন সেট নিয়ে যায়।
সাত থেকে আটজন দুর্বৃত্ত সকালের দিকে কাটার মেশিন দিয়ে তালা কেটে দোকানে ঢুকে ৬০ থেকে ৭৯টি বিভিন্ন মডেলের মোবাইল ফোন সেট নিয়ে সটকে পড়ে।
দোকান মালিক শিশির সেন জানান, “দোকানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও চোরেরা বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয়। সকালে এসে দেখি সব ফাঁকা।”
এ ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোরচক্র শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল (৩০ অক্টোবর) সকালে শহরের ব্যস্ততম এলাকায় মোবাইল শোরুমে চুরির ঘটনা ঘটে।
দশ মাসে একের পর এক চুরি, ডাকাতি ও খুনের ঘটনায় মানিকগঞ্জবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ক্রমেই বাড়ছে। অপরাধীচক্র এখন শহর ও গ্রাম উভয় জায়গায় সক্রিয়। প্রশাসনের পাশাপাশি জনসচেতনতা, স্থানীয় পাহারা দল গঠন এবং আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যবহারই পারে এমন পরিস্থিতি সামাল দিতে।এছাড়াও মাদক ও চাঁদাবাজি তো আছে, পৃথক কিছু খুন সব মিলে ২০২৫ মানিকগঞ্জ জেলা বাসিন্দারা ছিল আতংকের মধ্যে। তাই ২০২৬ সালে মানিকগঞ্জ জেলা বাসিন্দারা একটা কথা।
“উদ্বেগ নয়, নিরাপত্তা চাই।” – এমনটাই দাবি মানিকগঞ্জবাসীর।
© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।