1. info@www.tarangotv.com : তরঙ্গ টিভি :
বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:৩০ পূর্বাহ্ন

বগুড়ায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বগুড়া–৪ (কাহালু ও নন্দীগ্রাম) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীর সমর্থনে ভোট কেনার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক লীগের দুই নেতাকে আটকের ঘটনায় বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে নন্দীগ্রাম উপজেলার থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের পারশন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের মধ্যে থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা ওরফে মজিদের চোখে গুরুতর আঘাত লাগে। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও মাসুদ রানার ভাই রবিউল ইসলাম, দাঁড়িপাল্লার কর্মী এবং থালতা-মাঝগ্রাম ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি বেলাল হোসেন এবং জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেন আহত হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার রাতে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগ তুলে স্বেচ্ছাসেবক লীগের স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি বেলাল হোসেন ও জামায়াতের কর্মী ফারুক হোসেনকে ধানের শীষের সমর্থকেরা আটক করেন। পরে তাদের কাছ থেকে কিছু টাকা উদ্ধার করা হয় বলে দাবি করা হয়। আটকের পর তাদের থালতা–মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানার পারশন গ্রামের বাড়িতে রাখা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রাতেই অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে লাঠিসোঁটা হাতে দাঁড়িপাল্লার সমর্থকেরা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময় আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও হামলার ঘটনা ঘটে। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। একপর্যায়ে আটকে রাখা বেলাল হোসেন ও ফারুক হোসেনকে তাদের সমর্থকেরা উদ্ধার করে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীকে দায়ী করে মঙ্গলবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা মাসুদ রানার ছেলে কলেজ শিক্ষার্থী সিয়াম আকন্দ অভিযোগ করেন, জামায়াত–শিবিরের নেতাকর্মীরা গভীর রাতে তাদের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে হামলা চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের মারধর করে। এ সময় তার বাবার চোখে গুরুতর আঘাত করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম এবং বগুড়া–৪ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মোশারফ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা অর্ধশতাধিক মোটরসাইকেলে লাঠিসোঁটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে কয়েক শত সমর্থকসহ বিএনপি নেতা মাসুদ রানাসহ ধানের শীষের নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা বাড়িঘর ভাঙচুর করে এবং আটক কর্মীদের টাকা-পয়সাসহ ছিনিয়ে নিয়ে যায় বলেও তিনি দাবি করেন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল বলেন, টাকা বিতরণের অভিযোগ সঠিক নয়। তার দাবি, দাঁড়িপাল্লার পক্ষে প্রচারণা চালাতে গিয়ে দুই কর্মীকে আটক করে মারধর করা হয় এবং বেঁধে রাখা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করতে গেলে ধানের শীষের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তিনি জানান।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রচারণা শেষে বাড়ি ফেরার পথে জুলাই আন্দোলনের কর্মী আসাদুল্লাহ আল গালিবের ওপর হামলা করা হয়েছে।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, ধানের শীষের সমর্থকেরা দাঁড়িপাল্লার দুই কর্মীকে আটক করেছেন- এমন খবর পেয়ে জামায়াতের কর্মীরা সেখানে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে নিয়ে যান। এ ঘটনায় হামলা, ভাঙচুর বা সংঘর্ষের কোনো ঘটনা ঘটেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সঠিক তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আরো সংবাদ পড়ুন

© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি,  সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

   
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট