1. info@www.tarangotv.com : তরঙ্গ টিভি :
বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১২:১২ অপরাহ্ন

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে গৃহবধূকে ধর্ষণ, দুই আনসার সদস্য আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত: সোমবার, ১২ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২০ বার পড়া হয়েছে

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে দায়িত্বরত দুই আসনার সদস্যের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার (১১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে জেলা সদর হাসপাতালের নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী ওই নারী সদর হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) দুপুর ২টার দিকে মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আমিনুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ঘটনা জানার পরপরই গতকাল রাতেই অভিযুক্তদের আটক করে পুলিশ। আজকে দুপুরের দিকে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম ভুক্তভোগী ওই নারীকে দেখতে এবং চিকিৎসার বিষয়ে সার্বিক খোঁজখবর নিতে হাসপাতালে যান। এ সময় ভুক্তভোগীর ওই নারীর সঙ্গে কথা বলেন।

পুলিশ ও ভুক্তভোগীর  স্বামী সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রোববার দিবাগত রাত ২টার দিকে ব্যাটারিচালিত ভ্যান নিয়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকায় নানাবাড়ি যাচ্ছিলেন ভুক্তভোগী ও তার স্বামী। তারা নারায়ণগঞ্জ থেকে আসছিলেন। এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আসামাত্র ভ্যান গাড়ির ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে গেলে নিরাপত্তার জন্য সদর হাসপাতালের সামনে গিয়ে অবস্থান নেন। এরপর হাসপাতালের গেটে দায়িত্বরত আনসার সদস্য শাহাদাৎ হোসেন এবং আবু সাঈদ তাদের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে হাসপাতালের ভেতর নিয়ে যান। হাসপাতালের নতুন ভবনের নিচ তলায় স্বামীকে রেখে ওই ভবনের দ্বিতীয় তলায় স্ত্রীকে নিয়ে যান। এরপর আনসার সদস্যরা নানাভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে স্ত্রী নিচ তলায় নেমে তার স্বামীকে পুরো বিষয়টি জানালে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তারা থানায় গিয়ে আনসার সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দায়িত্বরত সব আনসার সদস্যদের ডেকে আনলে ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে শনাক্ত করেন। পুলিশ তাদের আটক করে থানা হেফাজতে নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার জানান, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিক্তিতে অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী ওই নারী যেন সঠিক চিকিৎসা পায় সেই বিষয়টি দেখার জন্য হাসপাতালে এসেছি। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কার্যক্রম অব্যাহত আছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে তিনি জানান।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর জেলা কমান্ড্যান্ট কামরুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সদর উপজেলার অফিসার (আনসার) শামীমাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তার কাছ থেকে প্রাথমকিভাবে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর পরই অভিযুক্ত দুই আনসার সদস্যকে বাহিনী থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তারা যে ঘটনাটি ঘটিয়েছে এটি খুবই ন্যাক্কারজনক এবং অমানবিক। ব্যক্তির দোষ কখনই বাহিনী নেবে না। এ ঘটনায় দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা চাই অভিযুক্তদের যেন সর্বোচ্চ শাস্তি হয়।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন জানান,বিষয়টি জানার পরেই হাসপাতালে দায়িত্বরত সকল আনসার সদস্যদের ডেকে অভিযুক্তদের চিহ্নিত করা হয়। পরে পুলিশ এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আরো সংবাদ পড়ুন

© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি,  সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।

   
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট