
যশোরে শিশুদের ঈদ পোশাকের বাজার জমজমাট।
‘আমি লেহেঙ্গা কিনেছি, মেহেদী দেবো ঈদের দিন, অনেক সাজবো।’ কথাগুলো পুলেরহাট এলাকার ক্ষুদে ক্রেতা মিফতাহুল জান্নাতের। হালফ্যাশনের ফার্সি ড্রেস কিনেছে ঘোপ এলাকার তাহিয়া তাবাসসুম। মাগুরা থেকে আসা আরেক ক্ষুদে ক্রেতা ফারহান লাবিব বাবা মায়ের সাথে এসেছে জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবী কিনতে।
যশোর শহরের বিভিন্ন বিপনীবিতানে এমনিভাবেই সকাল থেকে রাতঅবধি চলছে শিশুদের ঈদ পোশাকের বেচাকেনা। যশোর ছাড়াও ক্ষুদে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাকটি বেছে নিতে আসছে পার্শ্ববর্তী জেলা শহরগুলো থেকেও।
প্রতিটি বাড়িতে শিশুর কেনাকাটা দিয়েই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে শিশুর পোশাকটি সবার আগে গুরুত্ব পায়। তাই কেনাকাটার তালিকার প্রথমেই থাকে শিশুদের পোশাক। ইতোমধ্য পার হয়েছে ১৩টি রোজা। যশোরের বিপণীবিতানগুলোতে ঈদ উপলক্ষে শুরু হয়েছে শিশুদের পোশাকের বেচাকেনা।
এবারে চাহিদার তালিকায় রয়েছে মেয়ে শিশুদের হালফ্যাশন ফার্সি ড্রেস। চওড়া ঘেরের সালোয়ার, তার সাথে হাঁটু পর্যন্ত কামিজ আর ওড়নার এ পোশাকটি মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায়। আর ছেলে শিশুদের কেনাকাটায় বরাবরের মতো জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবী প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে পোশাকের দাম এবারেও চড়া। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া ও বাড়তি আমদানি খরচের কারণে পোশাকের দাম বেশি বলছেন বিভিন্ন বিপণীবিতানের সাথে সংশ্লিষ্টরা।
শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কালেক্টরেট মার্কেট, কাপুড়িয়াপট্টি, সিটি প্লাজাসহ শহরের বিভিন্ন বিপণীবিতানে নানান দামে শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এসব পোশাকের বেশিরভাগই ভারত ও চীন থেকে আমদানিকৃত। পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের তৈরি দেশি ঘরানার জমকালো পোশাকেরও চাহিদা রয়েছে, বলছেন বিক্রেতারা। বেশিরভাগ দোকান খোলা থাকছে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। ঈদের আগ পর্যন্ত সময় আরও বাড়ানো হবে বলে জানান বিক্রেতারা।
পোশাকের দরদাম কোথায় কেমন
সাধারণ ক্রেতাদের ভরসা জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট। এখানে ফ্রক ও স্কার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্য। গাউন, সারারা ও গারারা পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকার মধ্য। শার্ট ৪৫০থেকে ৮০০টাকা। গেঞ্জি ২৫০থেকে ৮০০ টাকা। জিন্স প্যান্ট ৬০০থেকে এক হাজার টাকা। কালেক্টরেট মার্কেটে শিশুদের ফ্রক ও স্কার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৫০০থেকে দুই হাজার টাকায়। ফার্সি, গাউন, সারারা ও গারারা পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ২০০থেকে চার হাজার টাকায়। শিশুদের পাঞ্জাবী ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকা। শার্ট ৬০০থেকে এক হাজার ২০০টাকা। গেঞ্জি ২৫০ থেকে ৮০০টাকা। জিন্স প্যান্ট ৩৫০থেকে এক হাজার টাকা।
কাপুড়িয়াপট্টিতে শিশুদের ফ্রক বিক্রি হচ্ছে ৩৫০থেকে দুই হাজার টাকায়। ফার্সি, গাউন, সারারা, গারারা, লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকায়। গেঞ্জি ৩০০থেকে এক হাজার ৩৫০টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে শার্ট। পাঞ্জাবী ৬০০থেকে এক হাজার ৫০০টাকা। জিন্সের প্যান্ট এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা। সিটি প্লাজায় শিশুদের গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে ৫০০থেকে এক হাজার টাকায়। শার্ট ৭০০থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। প্যান্ট এক হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। ফ্রক এক হাজার ৭০০থেকে চার হাজার টাকা। স্কার্ট দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ফার্সি, গাউন, সারারা, গারারা চার হাজার থেকে ১০হাজার টাকা।
মুজিব সড়কস্থ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে শিশুদের থ্রি পিছ দুই হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। লেহেঙ্গা দুই হাজার ৫৫০টাকা থেকে ছয় হাজার টাকা। ফ্রক ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকা। পাঞ্জাবী ৬৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। শার্ট ৬০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। প্যান্ট এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। গেঞ্জি ৫০০থেকে এক হাজার ৮০০টাকা।
যা বলছেন বিক্রেতারা
জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের এস.কে ফ্যাশনের বিক্রেতা আকবর মোল্লা বলেন, আট রোজার পর থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন, তবে বিক্রি কম। কাপুড়িয়াপট্টির টম এন্ড জেরির বিক্রেতা মাসুদ পারভেজ বলেন, এবারের হালফ্যাশন ফার্সি ড্রেস। এবারে এটিই বেশি চলছে। তবে আমদানি খরচ বেশি হওয়ায় পোশাকের দাম কিছুটা বেশি। সিটি প্লাজার কিডস্ ক্লাবের সত্ত্বাধিকারী এস.কে মমিনুল ইসলাম বলেন, বিক্রি ভালোই চলছে। রোজার প্রথম থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। সবার হাতে বেতন বোনাস এলে হয়তো বেচাকেনা বাড়বে।
আমদানিতে বাড়তি খরচের কারণে পোশাকের দাম বেশি, আমাদের ব্যবসায়িক স্বার্থও দেখতে হচ্ছে। ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস’র বিক্রেতা রাকিব বিশ্বাস বলেন, পোশাকের বিক্রি যা হচ্ছে তা শিশুদের পোশাকেরই। বড়দের পোশাকের বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে। ঈদ উপলক্ষে সময় আরও বাড়ানো হবে।
© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।