
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে যশোর–১ (শার্শা) আসনে শুরু থেকেই ছিল উত্তাপ আর আলোচনা। ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে সেই উত্তেজনারই পরিণতি হিসেবে প্রকাশ হয়েছে বেসরকারি ফলাফল। নানা শঙ্কা, অভিযোগ ও নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১১ হাজার ৬৩৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮০৭ জন, নারী ভোটার ১ লাখ ৫৫ হাজার ৮২৩ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ১০২টি ভোটকেন্দ্রের ৫৭৭টি ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করেন ১ হাজার ৮৩৩ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
ভোটের আগেই এ আসনের রাজনৈতিক পরিবেশ জটিল আকার ধারণ করে। প্রচার–প্রচারণার স্বাভাবিক প্রতিযোগিতার বাইরে উঠে আসে বোমা আতঙ্ক, সহিংসতার আশঙ্কা, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন। নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিরাপত্তা বিবেচনায় ১০২টি কেন্দ্রের মধ্যে কয়েকটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয় এবং সেখানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট। ফলে ২৫ হাজার ৩৪৬ ভোটের ব্যবধানে তিনি বেসরকারিভাবে বিজয়ী হন।
ফল ঘোষণার পর শার্শার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বিজয়ী পক্ষের সমর্থকদের উচ্ছ্বাস যেমন চোখে পড়েছে, তেমনি পরাজিত পক্ষের মধ্যে হতাশা ও সম্ভাব্য অনিয়মের অভিযোগ উত্থাপনের প্রস্তুতির ইঙ্গিতও মিলেছে। তবে আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা এবং সম্ভাব্য আপিল প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত পুরো চিত্র স্পষ্ট হবে না।
সব মিলিয়ে যশোর–১ আসনের নির্বাচন দেখিয়েছে, সংখ্যার হিসাব যতই নির্ভুল হোক, মাঠের রাজনৈতিক বাস্তবতাই শেষ পর্যন্ত ফলাফলের রূপরেখা নির্ধারণ করে। এখন দৃষ্টি আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকে এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি কীভাবে গড়ে ওঠে, সেদিকেই সবার নজর।
© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি, সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।