1. info@www.tarangotv.com : তরঙ্গ টিভি :
সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:২৪ পূর্বাহ্ন

আমরা মওদুদী ইসলাম চাই না, আমরা চাই মদিনার ইসলাম ওলামা দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মাওলানা ইসহাকের স্মরণ সভায় ইঞ্জি. শ্যামল

সোহেল আহাদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধিঃ
  • প্রকাশিত: শনিবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৫
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক মাওলানা মুহাম্মদ ইসহাক বিন নূরী রহ. এর স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার ২৯ নভেম্বর দুপুর ১২টায় স্থানীয় সুর স¤্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনের সরোদ মঞ্চে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ওলামা দলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক হাফেজ মাওলানা রশিদ আহমেদের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা ওলামা দলের আহবায়ক মাওলানা ইয়াছিনের পরিচালনায় প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, প্রধান বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির আহবায়ক মাওলানা কাজী সেলিম রেজা।


স্মরণ সভায় কেন্দ্রীয় বিএনপির চেয়ারম্যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল বলেন, শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পরে আমরা একটি সংকটের মধ্যে ছিলাম। আমাদের নেত্রী তখন ছিলেন সত্যিকারার্থে একজন গৃহবধু। আমাদের দলের অনেক সিনিয়র নেতৃবৃন্দ তাঁকে বুঝিয়ে দলে নিয়ে এসেছেন। আর তাঁর নেতৃত্বে এই স্বৈরাচারী এরশাদকে আমরা পতন ঘটিয়েছি। ১৯৮৬ সনের নির্বাচনে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ও জামায়াতে ইসলামী স্বৈরাচারী এরশাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে স্বৈরাচার এরশাদকে বৈধতা দিয়েছিল। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বে এই নির্বাচনে আমরা অংশগ্রহণ করিনি। সেই সময়ে সারা বাংলাদেশের যুব সমাজ, ছাত্র সমাজ, সারা ইউনিভার্সিটিতে তৎকালীন বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন নেতৃত্বে সমঝতা করে স্বৈরাচারী এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। তাঁর নেতৃত্বেই আমরা স্বৈরাচারী এরশাদের পতন ঘটিয়েছিলাম। যাঁর নেতৃত্বে আমরা এই দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলাম, যাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশের জাতীয়তাবাদী দল এই দেশের আপামর জনগণের হৃদয়ের দল হিসেবে পরিণত হয়েছিল তিনি আজ অসুস্থ। এই কারণেই গতকাল থেকে আমরা একটা টেনশনের মধ্যে দিন পার করছি। একবার দেখি স্যোশাল মিডিয়ায়, একবার টেলিভিশনের স্ক্রলে কী হচ্ছে কী হচ্ছেনা!


তিনি আরো বলেন, গত ১৭ বছরে সারা বাংলাদেশে কী হয়েছে জানিনা, তবে আমার মনে হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে আলেম ওলামাগণ যে নির্যাতিত হয়েছেন বাংলাদেশের আর কোথাও এত নির্যাতিত হয়েছে বলে আমার জানা নেই। প্রায় ১৭ জন আলেম ওলামা শহিদ হয়েছেন। মোদী বিরোধী আন্দোলন, ফতোয়া বিরোধী আন্দোলন, বিভিন্ন সময়ে আন্দোলনে ফ্যাসিস্টের প্রতিনিধি রবিউল ছিল আলেমদের বিরুদ্ধে। আমাদের শত বছরের জামিয়া ইউনুছিয়া মাদরাসায় যেভাবে পুলিশের মাধ্যমে হামলা চালিয়েছে, অত্যাচার চালিয়েছে তা ইতিহাসের কলঙ্কজনক অধ্যায়।
আমাদের সমাজের আলেম ওলামা, শিক্ষক, বঞ্চিত ঈমাম, মুয়াজ্জিনসহ ফ্যাসিস্টের ছোবল থেকে রক্ষা পায়নি। জুম্মা নামাজে বয়ান দিতে গিয়ে যদি সত্য কথা বলা হতো তখন পরের দিন তাকে ফোন করে বিভিন্নভাবে হুমকি দেয়া হতো, চাকরি চলে যাওয়ার ভয় দেখানো হতো। শুধু তাই নয়, কিছু কিছু ঈমাম মুয়াজ্জিন চার পাঁচ মাস যাবৎ এলাকায়ও যেতে পারতো না। বিএনপিতো এমনিতেই অত্যাচারীত ছিল, আমরা যখন পিসি পাঠাতাম তখন আমাদের দলের নেতাকর্মীরা বলতো, আমাদের দলের নেতাকর্মী আছে বিশ পঁচিশজন, আলেম ওলামারাও আছে বিশ পঁচিশজন, তাদের জন্যও পিসি পাঠাতে হবে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আমরা যে নির্যাতি হয়েছি আমার মনে হয় আলেম ওলামারা আমাদের চেয়েও বেশি নির্যাতিত হয়েছে।
আজকের বাস্তবতা আমরা একটা শক্তির বিরুদ্ধে আমাদের লড়তে হচ্ছে। এই শক্তি ইতিমধ্যেই বাড়ি বাড়ি ঘুরে তারা বেহেশতের চাবি দিয়ে দিচ্ছে। হেফাজতের মুরুব্বী জুনাইদ আহমেদ বাবুনগরী সাহেব বলেছেন আমরা মওদুদী ইসলাম চাই না, আমরা চাই মদিনার ইসলাম।


আমাদের এখন ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে লড়ত হবে এবং মওদুদী ইসলামের বিরুদ্ধেও লড়তে হবে। জামায়াত ইসলাম গ্রামে গ্রামে মহিলাদের পাঠিয়ে মা বোনদের ধোকা দিচ্ছে। মা বোনদের বলছে, তারা বেহেশতের চাবি নিয়ে এসেছে। মওদুদী ইসলাম শুরু হয়েছে ১৯৪১ সনে আর মদিনার ইসলাম শুরু হয়েছে দেড় হাজার বছর আগে। তারা ৪১ সালের মওদুদী ইসলাম নিয়ে ফতোয়া দেয়া শুরু করেছে। তাদের বিরুদ্ধে আমাদের সকলের সজাগ থাকতে হবে, সতর্ক থাকতে হবে। সেজন্য আপানারা গ্রামে গঞ্জে গিয়ে গ্রামের মানুষদেরকে বোঝাতে হবে, সবাইকে বোঝাতে হবে। ইতিমধ্যে আমাদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হেফাজতের মুরুব্বিরাও আমাদের সাথে একমত হয়েছেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন থেকে তিলাওয়াত করেন মাওলানা কাজী নাজিম উদ্দীন।
এছাড়াও বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাবেক মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সহসভাপতি এডভোকেট শফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান শাহীন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন চপল, জেলা যুবদলের সভাপতি শামীম মোল্লা, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা ওলামা দলের উপদেষ্টা সাব্বির আহমেদ খান প্রমূখ।

 

আরো সংবাদ পড়ুন
© ২০২০-২০২৫ তরঙ্গ টিভি,  সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন : ইয়োলো হোস্ট