Author: তরঙ্গ টিভি

  • দিনাজপুর ঘোড়াঘাটে মাইক্রোবাস ও মিনি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দুই।

    দিনাজপুর ঘোড়াঘাটে মাইক্রোবাস ও মিনি ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা দুই।

    শনিবার (সকালে) ঘোড়াঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান মাইক্রোবাসের চালক নাসিম, যিনি বীরগঞ্জ যদুর মোড় এলাকার বাসিন্দা। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় আনোয়ার হোসেনের মৃত্যু হয়।

    নিহত আনোয়ার হোসেনের বাড়ি বীরগঞ্জের পশ্চিম চাকাই এলাকায়। তিনি বীরগঞ্জ পৌর শহরে দত্ত মার্কেটে ‘শাহীন গার্মেন্টসের মালিক। আনোয়ারের মৃত্যুর খবর দেন ভাতিজা এরশাদ। তিনি জানান, মরদেহ বর্তমানে দিনাজপুরের জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনে রাখা হয়েছে এবং দাফনের জন্য মরদেহ বাড়িতে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

    গুরুতর আহত ধুলাউড়ী কাশিমনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রমজান আলী। তিনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এছাড়া তার স্ত্রীসহ পরিবারের আরও কয়েকজন সদস্য হাসপাতালে চিকিৎসা ধিন অবস্থায় আছেন ।আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষক রমজান আলী পরিবার সহ জামালপুর থেকে মাইক্রোবাস বীরগঞ্জে ফিরছিলেন।

    ঘোড়াঘাট এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মিনি ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

  • কালিয়াকৈরে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ‘তাকওয়া পরিবহন’—জ্যাম ও দুর্ঘটনার মূল কারণ

    কালিয়াকৈরে চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ‘তাকওয়া পরিবহন’—জ্যাম ও দুর্ঘটনার মূল কারণ

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ‘তাকওয়া পরিবহন’। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে চলাচল এবং যত্রতত্র গাড়ি থামানোর কারণে প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ যাত্রী ও পথচারীরা।

    শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকাল থেকেই চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের মতে, এই জ্যামের পেছনে প্রধান ভূমিকা রাখছে তাকওয়া পরিবহনের বাসগুলো। চন্দ্রা, খাড়াজোড়া থেকে গাজীপুর রুটে চলাচলকারী এসব বাস মহাসড়কের নির্ধারিত স্ট্যান্ড ছাড়াও যেকোনো স্থানে থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করায় সৃষ্টি হচ্ছে বিশৃঙ্খলা।
    অভিযোগ রয়েছে, তাকওয়া পরিবহনের চালক ও সহকারীরা ট্রাফিক আইন মানেন না। এতে একদিকে যেমন যানজট বাড়ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের ভাষায়, “এই পরিবহন এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।”
    এক পথচারী সবুজ মিয়া বলেন, “তাকওয়া পরিবহন কোনো নিয়ম মানে না। রাস্তায় চলাচল করতে খুব সমস্যা হয়। আমাদের ছেলে-মেয়েরা স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে, তাদের সঙ্গেও বাসের স্টাফরা খারাপ আচরণ করে।”
    আরেকজন গাড়িচালক জানান, “তারা যেকোনো জায়গায় গাড়ি পার্কিং করে রাখে। এতে অন্য গাড়ি চালানো খুব কঠিন হয়ে যায়।

    আমার মতে, এই পরিবহনই জ্যামের প্রধান কারণ।”

    এ বিষয়ে নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, “আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত আছি। তাকওয়া পরিবহন মহাসড়কে যানজটের একটি বড় কারণ। জ্যাম নিরসনে আমরা কাজ করছি এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মহাসড়কের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং জনদুর্ভোগ কমবে।

  • ভেদরগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    ভেদরগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত

    শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তারকে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ এপ্রিল) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মেডিকেল অফিসার হাদী মমিন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ মাসুদ মামুন এবং সহকারী পরিচালক ফাহিম আহমেদ।

    এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সহকারী পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মোঃ আবু সিদ্দিক, ডা. আবু নাঈম, এফতে খাইরুল ইসলামসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, একজন দক্ষ ও সৎ কর্মকর্তাকে হারানো আমাদের জন্য দুঃখজনক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে উপজেলার মানুষের সেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। তাঁর কর্মদক্ষতা ও আন্তরিকতা সকলের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

    বিদায়ী কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তার তাঁর বক্তব্যে সহকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি কখনো আপনাদের সহকর্মী হিসেবে ভাবিনি, আপনারা আমার কাছে যোদ্ধা। মাঠপর্যায়ে আপনাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কারণেই আমি এই অবস্থানে পৌঁছাতে পেরেছি।

    তিনি আরও জানান, গত বছর জনসংখ্যা দিবসে ভেদরগঞ্জ ও ডামুড্যা উপজেলা সাতটি ক্যাটাগরির মধ্যে ছয়টিতে প্রথম স্থান অর্জন করে, যা তিনি তাঁর সহকর্মীদের সম্মিলিত সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।

    তিনি তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, ডামুড্যা, ভেদরগঞ্জ ও গোসাইরহাট—এই তিন উপজেলায় তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জীবনের উল্লেখযোগ্য সময় এখানে কাটিয়েছেন। অবসর গ্রহণের পরও সহকর্মীদের প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস দেন তিনি।

    অনুষ্ঠান শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে বিদায়ী কর্মকর্তাকে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী প্রদান করা হয়।

    এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, জনপ্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

  • শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ!

    শতকোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত বেড়িবাঁধ দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ!

    চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গণ্ডামারা ইউপির খাটখালী বাজার সংলগ্ন বেড়িবাঁধ দখল করে অবৈধ স্থাপনা (দোকান) নির্মাণ করা হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নোটিশ ও কয়েক দফা বাধা সত্ত্বেও ‘অদৃশ্য শক্তির’ প্রভাব খাটিয়ে বঙ্গোপসাগরের জলোচ্ছ্বাস-বন্যা মোকাবিলায় নির্মিত ২৯৩ কোটি টাকার স্থায়ী বেড়িবাঁধের সিসি ব্লকের উপর স্থাপনা নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

    সরেজমিনে দেখা যায়, ‘গণ্ডামারার ৯নং ওয়ার্ডের বড়ঘোনার খাটখালী এলাকায় ২০২২ সালে ২৯৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে (উপজেলাজুড়ে) জলোচ্ছ্বাস-বন্যা মোকাবিলায় নির্মিত টেকসই বেড়িবাঁধের সিসি ব্লক বেষ্টিত বাঁধের উপর পাকা দালান (দোকান) নির্মাণ কাজ চলছে। এতে নির্মাণকৃত পাকা দালানের পাশে ও নিচে পড়ে রয়েছে বাঁধের শত শত সিসি ব্লক। এতে তড়িঘড়ি করে নির্মাণ করা এসব অবৈধ স্থাপনার প্রায় ৭০% কাজই শেষ হয়েছে। বাকী কাজও চলছে খুব দ্রুত। এ সময় স্থানীয়দের মুখে এসব অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করতে দেখে আশেপাশের আরও কয়েক জায়গায় অন্যান্যদের স্থাপনা নির্মাণের প্রস্তুতির কথা শোনা গেছে।

    নাম না প্রকাশে স্থানীয়রা জানান, ‘খাটখালী বাজার সংলগ্ন ফজল আহমদ চৌধুরী মসজিদের সভাপতি ও মুতাওয়াল্লী হারুনুর রশিদ চৌধুরী প্রকাশ টিপু মিয়ার অর্থায়নে এসব স্থাপনা নির্মাণ করছেন স্থানীয় আবদুর রহমান ও আবদুস সালাম নামে দুই ব্যক্তি। এদের মধ্যে আবদুর রহমান বাঁশখালীর সংসদ সদস্যের ব্যবসায়িক পার্টনার ও জামায়াত সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত রয়েছে। স্থাপনা নির্মাণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাধা সত্বেও মসজিদের নাম করে বেড়িবাঁধের ব্লকের উপর চারটি দোকান নির্মাণ করছেন তারা দুইভাই। বর্তমানে এসব অবৈধ স্থাপনার কাজ শেষের পথে। অভিযুক্তরা প্রভাবশালী হওয়ায় এলাকাবাসী ভয়ে এ বিষয়ে প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলে জানান স্থানীয়রা।

    এ বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুর রহমান বলেন, ‘মসজিদের নামে ওই জায়গায় ৪ একর জায়গা রয়েছে। বেড়িবাঁধ নির্মাণের সময় জায়গাগুলো সরকারি একর হয়ে গেছে। জমিদার টিপু মিয়া ৩৫ লক্ষ টাকা খরচ করে মসজিদ নির্মাণ করেছেন। পরবর্তী মসজিদের খরচ মেটাতে ৪টা দোকান নির্মাণ করা হচ্ছিল। টিপু মিয়ার নির্দেশে বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। শিগগিরই এটি ভেঙে ফেলবো। এমপি সাহেবের ব্যবসায়িক পার্টনার হলেও এমপি সাহেবের প্রভাব ছিল না। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না। পরে তিনি আবার বলেন, আমি পার্টনার নই, টিপু মিয়া হলেন ওনার ব্যবসায়িক পার্টনার।’

    জানতে চাইলে হারুনুর রশিদ চৌধুরী প্রকাশ টিপু মিয়া বলেন, ‘এই জায়গাটি আমাদের ছিল। আমরা মসজিদের জন্য দান করেছিলাম। মূলত মসজিদের খরচের জন্য দোকানগুলো নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বাঁশখালীর বিভিন্ন জায়গায় দোকানঘর, দালান, বরফমিল নির্মাণ করা হচ্ছে। আপনারা আগে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন। তারপর দেখা যাক কি হয়।’

    এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জামশেদুল আলম বলেন, ‘এটা যেহেতু পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা। এসব বিষয়ে তারা দেখবে। যদি পানি উন্নয়ন বোর্ড কোন সহযোগিতা চাই তাহলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে কথা বলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    জানতে চাইলে পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী অনুপম পাল বলেন, ‘বিষয়টি জানার পর পাউবোর লোকজন গিয়ে কাজ বন্ধ করে দিয়েছিল।

    অভিযুক্তদের নোটিশও দেওয়া হয়েছে। যতই প্রভাবশালী হোক না কেন, কাউকে পাউবোর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ দেওয়া হবে না। আমরা ইউএনও মহোদয়ের সাথে কথা বলেছি। শিগগিরই এসব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের  ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা

    সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের ঈদ পুনর্মিলনী ও কৃতী শিক্ষার্থী সম্মাননা

    সামাজিক, মানবিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন সিলেট-চট্টগ্রাম ফ্রেন্ডশীপ ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগে ঈদ পুনর্মিলনী, কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে উপহার বিতরণ ৫ এপ্রিল, রবিবার, সন্ধ্যায় সাতটায় নগরীর টাইগারপাসস্থ মোড়ের মামা-ভাগিনা মাজার সংলগ্ন একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয়

    সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ও বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক মোস্তফা আলম মাসুমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক বাংলাদেশ ব্যাংক কর্মকর্তা একরাম হোসেন চৌধুরী। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ খুলশী থানা কমান্ডের কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা এস এম লিয়াকত হোসেন। শুরুতে সংগঠনের সদস্য আকতার হোসেন নিজামীর পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও নারী উদ্যোক্তা ফারহানা আফরোজ।

    সভায় বক্তারা বলেন, সিলেট আধ্যাত্মিক রাজধানী এবং চট্টগ্রাম বাণিজ্যিক রাজধানী। এই দুটি বিভাগের মানুষের মধ্যে একটি অন্তর্মিল রয়েছে। সিলেটের মানুষ যেমন অতিথিপরায়ণ ও আন্তরিকতায় স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, ঠিক তেমনি চট্টগ্রামের মানুষ অতিথিপরায়ণ ও আন্তরিক। এ দুটি অঞ্চলের মানুষ দুটি বিভাগের জনমানুষ হলেও এ দুটি অঞ্চলের সামগ্রিক পরিবেশ তথা কৃষ্টি-সংস্কৃতি-সভ্যতায় প্রায়ই মিল।
    এ সময় বক্তারা আরো বলেন, চট্টগ্রাম এবং সিলেট একসময় এক বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে তা ভৌগোলিকভাবে আলাদা হলেও সাহিত্য ও সংস্কৃতির দিক দিয়ে আলাদা করা সম্ভব হয়নি।

    সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক স ম জিয়াউর রহমানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সহসভাপতি ও ফুলকলি ফুড প্রোডাক্টস লিমিটেডের জিএম এম এ সবুর, সহসভাপতি মুছা আলম খান চৌধুরী, সহসভাপতি মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব এম নুরুল হুদা চৌধুরী সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ এমরান, সাংবাদিক নজিব চৌধুরী, মোহাম্মদ তিতাস, নাহিদা আকতার, সিরাজুম মুনিরা রিমঝিম, আয়েশা সিদ্দিকা, কবি আসিফ ইকবাল, মো. মুজিবুর রহমান।

    আলোচনা সভা শেষে অতিথি ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ কৃতী শিক্ষার্থীদের মাঝে সম্মাননা ক্রেস্ট ও এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে ঈদ উপহার বিতরণ করা হয়।

  • ৩রা এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত “দুই জাহাজই খেয়ে নিলো দশ মিলিয়ন ডলার” শীর্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ

    ৩রা এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ‘মানবজমিন’ পত্রিকায় প্রকাশিত “দুই জাহাজই খেয়ে নিলো দশ মিলিয়ন ডলার” শীর্ষক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ভিত্তিহীন সংবাদের প্রতিবাদ

    গত ৩রা এপ্রিল ২০২৬ তারিখে আপনাদের বহুল প্রচারিত ‘মানবজমিন’ পত্রিকার প্রথম পাতায় “দুই জাহাজই খেয়ে নিলো দশ মিলিয়ন ডলার” শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি আমাদের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) কর্তৃক অর্জিত নতুন দুটি বাল্ক ক্যারিয়ার জাহাজের ক্রয়মূল্য, গুণমান এবং সংগ্রহ প্রক্রিয়া নিয়ে যে তথ্য পরিবেশন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বিভ্রান্তিকর এবং জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপপ্রয়াস মাত্র। বিএসসি উক্ত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

    প্রকৃত সত্য এই যে:
    ১. প্রাতিষ্ঠানিক ও সম্মিলিত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া:
    ● বিএসসির জাহাজ অর্জন বা ক্রয় প্রক্রিয়া কোনো একক ব্যক্তি বা বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর বর্তায় না।
    ● প্রতিটি ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পৃথক টেকনিক্যাল কমিটি, টেন্ডার কমিটি, প্রাক্কলন কমিটি এবং ক্লাস সার্ভেয়ারদের (Class Survey) সমন্বয়ে একাধিক ধাপ পার হতে হয়।
    ● পরবর্তীতে DPP প্রণয়ন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন, সংশ্লিষ্ট অন্য ১০টি মন্ত্রণালয়ের ছাড়পত্র, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির (The Advisory Council Committee on Government Purchase) সুপারিশের ভিত্তিতে সরকার কর্তৃক চূড়ান্ত অনুমোদন গ্রহণ করা হয়।
    ● বায়ার সুপারভাইজারসহ (Buyer Supervisor) বিভিন্ন পর্যায়ের বিশেষজ্ঞ ও কমিটির চুলচেরা বিশ্লেষণের পর সরকারি ও থার্ড পার্টি সকল যাচাই-বাছাই ও ইন্সপেকশন শেষে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে এই জাহাজগুলো গ্রহণ করা হয়েছে।
    ● সুতরাং, প্রাতিষ্ঠানিক এই সম্মিলিত প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে কোনো ব্যক্তিবিশেষের চরিত্রহনন করা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর।
    ২. আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে স্বচ্ছ ক্রয় প্রক্রিয়া:
    ● জাহাজ দুটির সংগ্রহ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে সরকারি ক্রয় বিধিমালা (PPR) এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র পদ্ধতি যেমন: এক ধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি (OSTETM) অনুসরণ করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত ‘দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি’ (Tender Evaluation Committee)-র সুপারিশের ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছে।
    ● পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আইআইএফসি (IIFC) এবং যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত মেরিটাইম ল’ ফার্ম এইচএফডব্লিউ (HFW)-এর সক্রিয় আইনি ও কারিগরি পরামর্শ গ্রহণ করা হয়েছিল।
    ● আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে প্রাপ্ত এবং যোগ্যতম প্রস্তাবের সবগুলোই ছিল ৩৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের উপরে, যা বিএসসির সংগৃহীত মূল্যের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে।

    ৩. যৌক্তিক বাজারমূল্য ও সাশ্রয়ী ক্রয়:
    ● আন্তর্জাতিক ভ্যালুয়্যারদের (International Ship Valuers) মাধ্যমে যাচাইকৃত এই জাহাজের প্রাক্কলিত মূল্য (Estimated Price) ছিল ৪০.২ মিলিয়ন ডলার।
    ● বিএসসি অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিটি জাহাজ ৩৮.৩৪ মিলিয়ন ডলারে ক্রয় করেছে, যা প্রাক্কলিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ৫০ কোটি টাকা কম এবং বাজারমূল্যের তুলনায় সাশ্রয়ী।
    ● জাহাজের ১৩৫টি টেকনিক্যাল প্যারামিটার বিবেচনায় প্রতিবেদনে উল্লিখিত ৩২-৩৩ মিলিয়ন ডলারের তথ্যের কোনো দালিলিক ভিত্তি নেই।
    ৪. উন্নত প্রযুক্তি ও বিশ্বমানের ইক্যুইপমেন্ট:
    ● জাহাজ দুটি আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন, NECA বিধিমালা অনুসরণ করে নির্মিত এবং গ্রিন হাউস গ্যাস (GHG) নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর।
    ● চায়নায় নির্মিত হলেও এর প্রধান যন্ত্রপাতিসমূহ (Major Equipment) ওয়েস্টার্ন এবং জাপানি অরিজিনের।
    ● এগুলো এরোডাইনামিক শেপ (Aerodynamic Shape) এবং ডুয়েল ফুয়েল রেট্রোফিট (Dual Fuel Retrofit) সম্পন্ন, যা প্রচলিত অন্যান্য জাহাজের তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ উন্নত এবং ব্যাপক জ্বালানি সাশ্রয়ী।
    ৫. অসাধারণ পরিচালন ও আর্থিক সাফল্য:
    ● জাহাজ দুটি বহরে যুক্ত হওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক রুটে সফলভাবে বাণিজ্যিক পরিচালনা করছে এবং USA, Brazil ও Ivory Coast সহ বিভিন্ন দেশের পোর্ট স্টেট কন্ট্রোল (PSC) ও ক্লাসের (Class) প্রতিটি ইন্সপেকশনে ‘জিরো ডেফিসিয়েন্সি’ (Zero Deficiency) ডিক্লেয়ার করেছে, যা জাহাজদ্বয়ের উচ্চ গুণগত মান নির্দেশ করে।
    ● ইতোমধ্যে জাহাজ দুটি ৫০ কোটি টাকা আয় করেছে এবং বর্তমান পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকলে আগামী ৬-৭ বছরের মধ্যেই বিনিয়োগকৃত সম্পূর্ণ অর্থ উঠে আসবে।
    ● বিএসসি গত অর্থবছরে ৮০০ কোটি টাকা আয় এবং ৩০৬ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা সংস্থার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সাফল্য।
    উপসংহার:
    প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিএসসির বক্তব্যকে খণ্ডিতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে এবং সারফেস ওয়েবের কিছু অসত্য তথ্য ব্যবহার করে রাষ্ট্রীয় অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। বিশেষভাবে উল্লেখ্য যে, বিএসসি তার ৫৪ বছরের ইতিহাসে নিজস্ব অর্থায়নে ও সক্ষমতায় এই জাহাজদ্বয় অর্জনকে তার সর্বোচ্চ বাণিজ্যিক সাফল্য বলে বিবেচনা করে। এই ধরণের অভূতপূর্ব রাষ্ট্রীয় অর্জনকে ভিত্তিহীন সংবাদের মাধ্যমে বিতর্কিত করা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের শামিল। বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার স্বার্থে এবং বিএসসির প্রকৃত অবস্থান তুলে ধরতে আমাদের এই প্রতিবাদলিপিটি আপনাদের পত্রিকায় যথাযথ গুরুত্বের সাথে প্রকাশের অনুরোধ জানাচ্ছি। বিএসসি তার সুনাম রক্ষার্থে প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

  • যশোর সন্ধানী সুপার মার্কেট থেকে পিস্তল-গুলিসহ দোকান মালিক আটক

    যশোর সন্ধানী সুপার মার্কেট থেকে পিস্তল-গুলিসহ দোকান মালিক আটক

    শহরের এমকে রোডস্থ সন্ধানী সুপার মার্কেট থেকে বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ আলী হোসেন নামে এক দোকান মালিককে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।

    সোমবার দুপুরে যশোর শহরের সন্ধানী সুপার মার্কেটে একটি মোবাইল মেরামতের দোকানে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আটক আলী হোসেন ওই দোকানের মালিক ও সাতক্ষীরা কলারোয়া উপজেলার কোটা গ্রামের আবু মুছার ছেলে।

    ডিবি পুলিশের ওসি (তদন্ত) সুজন কুমার মন্ডল জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই অলোক কুমারের নেতৃত্বে ডিবির একটি টিম সোমবার দুপুরে সন্ধানী সুপার মার্কেটে অভিযান চালায়। এসময় মার্কেটের তন্বী ইলেকট্রনিক্স নামে একটি মোবাইল সার্ভিসিং সেন্টারে তল্লাশী করে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগজিন, এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার ও দোকান মালিক আলী হোসেনকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় আটক আলী হোসেনের বিরুদ্ধে কোতয়ালি থানায় অস্ত্র আইনে মামলা দেয়া হয়েছে।

    এদিকে- ওই দোকানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা যাচ্ছে একজন মানুষ হাতে প্যাকেট নিয়ে দোকানে ঢুকে গ্লাসের ওপর ভর দিয়ে ভিতরে কি যেন রাখছে। বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছে দোকান মালিকরা।

  • বেনাপোল স্থলবন্দরের ক্রেনের তার ছিড়ে একজন শ্রমিক নিহত, একজন আহত

    বেনাপোল স্থলবন্দরের ক্রেনের তার ছিড়ে একজন শ্রমিক নিহত, একজন আহত

    বেনাপোল স্থলবন্দরে পণ্য খালাস (আনলোড) করার সময় ক্রেনের সিলিং তার ছিড়ে একজন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। আহত অপর শ্রমিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক সহিদ আলী বলেন, মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) রাত্রে সাড়ে ৯টার সময় স্থলবন্দরের টিটিআই মাঠে লোহার সিট ভারতীয় ট্রাক থেকে বাংলাদেশী ট্রাকে আনলোড করার সময় ক্রেনের দড়ি (সিলিং তার) ছিড়ে দুইজন শ্রমিক মারাত্নক আহত হয়। শাহজাহান আলী (৫৬) ও সোহেল হোসেনকে (৫২) মারাত্মক আহত অবস্থায় ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যায়। সেখানে শাহজান আলীর মৃত্যু হয়। সোহেল হোসেন নামে আর একজন শ্রমিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

    নিহত শাহাজান আলী বেনাপোল পোর্ট থানার বেনাপোল (পাঠবাড়ি) গ্রামের আফতাব এর ছেলে ও আহত সোহেল একই থানার সাদিপুর গ্রামের মোস্তফার ছেলে। এরা দুই জনই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১ এর সদস্য।

    এরা দুই জনই বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজি : ৮৯১) এর সদস্য বলে নিশ্চিত করেছেন বেনাপোল হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক সহিদ আলী।

    শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগের চিকিৎসক ডাঃ মোহাম্মদ ইব্রাহিম বলেন,বেনাপোল ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা বন্দরের দুইজন শ্রমিককে উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসেন।পরীক্ষা নিরিক্ষা করে দেখা যায় পথিমধ্যে শাহাজান আলীর মৃত্যু হয়েছে। অপর শ্রমিক সোহেল হোসেনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

    বেনাপোল স্থলবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) পলাশ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, অসাবধানতাবশত : ক্রেনের তার ছিড়ে বন্দরের দুইজন শ্রমিক আহত হয়। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। আর একজন চিকিৎসাধীর আছেন। আমরা খোজ খবর নিচ্ছি।

  • বেনাপোল স্থলবন্দরে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক শাহাজানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে

    বেনাপোল স্থলবন্দরে ক্রেন দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক শাহাজানের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে

    যশোরের বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দরে ক্রেনের সিলিং ছিঁড়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় নিহত শ্রমিক শাহাজান (৪৫)-এর জানাজা নামাজ সম্পন্ন হয়েছে।

    বুধবার ( ৮ এপ্রিল ২০২৬) সকল সাড়ে ১১ টার সময় বেনাপোল বলফিল্ড মাঠ প্রাঙ্গনে শ্রমিক শাহাজানের জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

    উল্লেখ্য গতকাল মঙ্গলবার বন্দর এলাকায় পণ্য লোড করার সময় হঠাৎ করে ক্রেনের সিলিং ছিঁড়ে গেলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আরও একজন শ্রমিক আহত হন বলে জানা গেছে।

    এসময় জানাযার নামাজে উপস্থিত ছিলেন,বাংলাদেশ স্থলবন্দর চেয়ারম্যান(অতিরিক্ত সচিব)
    মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান,উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন,বেনাপোল পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু তাহের ভারত,
    বেনাপোল স্থলবন্দর পরিচালক (ট্রাফিক) মোঃ সামীম হোসেন,শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ নিয়াজ মাখদুম,পৌর বিএনপির সহ সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান সনি, বেনাপোল সি এন্ড এফ এজেন্ট
    অ্যাসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মফিজুর রহমান স্বজন,বেনাপোল স্থলবন্দর শ্রমিক ইউনিয়ন ৮৯১ এর
    সভাপতি মাকসুদুর রহমান রিন্টু, সাধারণ সম্পাদক লিটন হোসেন, বেনাপোল স্থলবন্দর
    হ্যান্ডেলিং ইউনিয়ন ৯২৫ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি, সাধারণ সম্পাদক মোঃ সহিদ আলী।

    আরও উপস্থিত ছিলেন,উপজেলা যুবদলের আহবায়ক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম,পৌর যুবদলের আহবায়ক মফিজুর রহমান বাবু, সদস্য সচিব রায়হানুজ্জামান দীপু সহ বেনাপোল স্থলবন্দরের সকল শ্রমিক বৃন্দ এবং
    স্থানীয় সকল পর্যায়ে সাধারণ মানুষ উক্ত জানাজা নামাজে উপস্থিত ছিলেন।

    জানাজায় উপস্থিত সবাই মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।

  • শরীয়তপুরে সেচ পাম্পে কাপড় পেঁচিয়ে নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    শরীয়তপুরে সেচ পাম্পে কাপড় পেঁচিয়ে নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু

    শরীয়তপুর সদর উপজেলায় বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্পের মোটরে কাপড় পেঁচিয়ে রোজিনা বেগম (৩৫) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চরপালং এলাকায় কীর্তিনাশা নদীর তীরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত রোজিনা বেগম চরপালং গ্রামের ভ্যানচালক ইব্রাহিম সরদারের স্ত্রী। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের জননী ছিলেন।
    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইরি ব্লকের সেচ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নদীর তীরে একটি বিদ্যুৎচালিত পাম্প স্থাপন করা হয়। সকালে ওই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় অসাবধানতাবশত রোজিনা বেগমের পরিহিত কাপড় পাম্পের মোটরে পেঁচিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

    খবর পেয়ে পুলিশ ও শরীয়তপুর সদর ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে পাম্পে পেঁচানো অবস্থায় থাকা মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

    নিহতের স্বজন বাদশা বেপারী অভিযোগ করেন, জনসাধারণের চলাচলের পথের ওপর ঝুঁকিপূর্ণভাবে পাম্প মেশিনটি স্থাপন করা হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পাম্পটি ঘেরাও বা সুরক্ষিত রাখার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। এ অবহেলার কারণেই এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
    তবে সংশ্লিষ্ট ব্লক ম্যানেজার কাশেম মোল্লা জানান, পাম্পটির চারপাশে পূর্বে বেড়া দেওয়া ছিল। কিন্তু দুর্বৃত্তরা তা খুলে নিয়ে যাওয়ায় সেটি উন্মুক্ত হয়ে পড়ে।
    পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।