Author: তরঙ্গ টিভি

  • দুমকি উপজেলায়, তরুণ মাইনুলের অনুপ্রেরণামূলক গল্প, পড়াশোনার পাশাপাশি সবজি চাষে সফল্য।

    দুমকি উপজেলায়, তরুণ মাইনুলের অনুপ্রেরণামূলক গল্প, পড়াশোনার পাশাপাশি সবজি চাষে সফল্য।

    পড়াশুনার পাশাপাশি সমন্বিত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের আঃ সালাম মৃধার ছেলে মোঃ মাইনুল ইসলাম বাবার অনাবাদিত পতিত জমিতে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন জাতের শাক সবজির বাগান ও সমন্বিত মাছের খামার।

     

    তিন বছর পূর্বে মাত্র ৩৩ শতাংশ জমিতে পুকুর ও মাদা তৈরি করে শুরু করেন বিভিন্ন জাতের শাকসবজি ও পুকুরে হরেক রকমের মাছ চাষ শুরু করেন। মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, মাইনুলের খামারে আগাম জাতের, লাউ, ধুন্দল, জালি কুমড়া, দেশি জাতের বোম্বাই মরিচ, বেগুন, শসা, শাম্মাম, করলা, মিস্টি কুমড়া, পুঁই শাক, বস্তায় আদা চাষ ও সারি সারি পেঁপে গাছ।

    অপরদিকে পুকুরে চাষ করেছে, রুই, কাতল, তেলাপিয়া, সিলভার কার্প গ্রাসকার্প, ফলি, পুঁটি ও ব্লাককার্প মাছ। চলতি খরিপ ঋতুতে তিনি ইস্পাহানী কিং, রেড লেডি, শাহী ও বাবু জাতের পেঁপের ১২০ টি গাছ থেকে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় করেছেন। এছাড়াও অন্যান্য সবজি চাষ করে এক লক্ষাধিক টাকা মুনাফা করেছেন।

    মাঈনুল ইসলাম বলেন, আমি পটুয়াখালী সরকারি কলেজে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে অর্নাস ৩য় বর্ষে পড়াশোনার পাশাপাশি সমন্বিত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছি। বাবার কৃষি কাজে সাহায্য করতে গিয়ে আস্তে আস্তে কৃষিতে ঝুঁকে পড়ি। বাবার অনুপ্রেরণা ও কৃষি অধিদপ্তরের পরামর্শ ও সহযোগিতায় আজ আমি একজন সফল খামারি। তিনি আরো জানান, বর্তমানে শাক সবজির ভালো দাম পাওয়ায় বেশ লাভবান হচ্ছি।

    কৃষি কাজে স্বল্প পুঁজিতে এবং স্বল্প সময়ে অধিক লাভজনক হওয়ায় বর্তমানে আরো ১৫ শতাংশ জমি সবজি চাষের জন্য মাদা তৈরি করছি। মাইনুলের বাবা আ: সালাম মৃধা বলেন, একসময় সংসারের ব্যয়ভার বহন, ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার খরচ মেটাতে খুব কষ্ট হতো। ছেলে মাইনুলের নিরলস প্রচেষ্টায় সমন্বিত সবজি, মাছ, কম্পোস্ট সার উৎপাদন করে বাজার জাত করনের ফলে বেশ লাভবান হচ্ছি। এখন আর সংসারে কোন অভাব নেই।

    পাশ্ববর্তী এলাকার বাবুল মৃধা জানান, মাইনুলের কাছ থেকে অনেকেই সুলভ মূল্যে একই গ্রামের কৃষক আবুল কালাম মৃধা ও আঃ খালেক হাওলাদার জানান, মাইনুলের খামার দেখে মুরাদিয়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নতুন নতুন কৃষি খামার করে অনেকেই লাভবান হচ্ছে। এব্যাপারে দুমকি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ ইমরান হোসেন বলেন, মাইনুলের খামারে বিষমুক্ত শাকসবজি উৎপাদন করে লাভবান হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাকে প্রশিক্ষণ, পরামর্শ দিয়েছি। অর্থনৈতিক ভাবে মাঈনুল পড়াশুনার পাশাপাশি সমন্বিত সবজি চাষ করে স্বাবলম্বী।

  • শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

    শিক্ষকদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে কুড়িগ্রামে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট

    ঢাকা প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে কুড়িগ্রাম জেলাজুড়ে সোমবার (১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী কর্মবিরতি পালন করেছে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা ।

     

    জেলার সকল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলেজ ও মাদ্রাসায় সকাল থেকে পাঠদান বন্ধ রেখে শিক্ষকরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। বেসরকারি শিক্ষকদের সংগঠন সম্মিলিত শিক্ষক সমাজ কুড়িগ্রাম জেলা শাখা এই কর্মসূচির ডাক দেন।

    গত রোবাবার (১২ অক্টোবর) রাতে তারা একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন শিক্ষক নেতা মুকুল মিয়া, আসাদুজ্জামান সরকার ও রাশেদুজ্জামান তাওহীদ।

    সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহরের রিভার ভিউ হাই স্কুল, কুড়িগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, কালেক্টরেট হাই স্কুল এন্ড কলেজ, খলিলগগঞ্জ হাই স্কুল এন্ড কলেজ, কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসা, আদর্শ হাই স্কুল, এমএ সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয়, নীলারাম হাই স্কুল, বেলগাছা বরকতিয়া হাই স্কুলে সকাল ১০টা থেকে শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতিষ্ঠানে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন করেন।

    এসময় তারা বলেন, শিক্ষকরা দেশের ভবিষ্যৎ তারা আদর্শ ও নৈতিকতা সম্পন্ন জাতি গঠনে কাজ করে যাচ্ছেন। তাদের ওপর নির্যাতন করা লজ্জাজনক ও অমানবিক। তারা শিক্ষক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    এব্যাপারে কথা হলে সম্মিলিত শিক্ষক সমাজের কুড়িগ্রাম জেলা শাখার সমন্বয়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদ জানান,
    শিক্ষক নির্যাতনের মধ্যে দিয়ে আমাদের সমস্ত শিক্ষক সমাজকে অপমানিত করা হয়েছে। যতক্ষণ না পর্যন্ত আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা জাতীয়করণসহ, সকল সার্বিক ন্যায্য দাবি মেনে নেওয়া না হবে আমরা আমাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবো।

    জেলা শাখার অপর সমন্বয়ক মুকুল মিয়া বলেন, অবিলম্বে শিক্ষক নির্যাতনকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। আমরা আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে ফিরে যাবোনা।
    আমাদের ২০% বাড়ি ভাড়া ও ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দিতে সরকারের এত গড়িমসি আর সহ্য করবোনা।

    এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমি পত্র-পত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়া জানতে পেরেছি। এ বিষয়ে আমার নিজস্ব কোন বক্তব্য নেই। আমরা চাই তারা ক্লাস নিবেন, সরকার সময় মত যতটা পারে তাঁদের দাবি দাওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

    কর্মবিরতির কারণে জেলার শত শত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে হতাশা দেখা গিয়েছে। শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, আমরা একই পাঠ্যপুস্তক, সিলেবাস ও একই বোর্ডের অধীনে সনদপত্র অর্জন করি। অথচ আমাদের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি বৈষম্য এটা মেনে নেয়া যায়না।

    আমরাও চাই আমাদের শিক্ষকদের দাবি মেনে নিয়ে তাদেরকে ক্লাসে ফিরিয়ে আনা হোক। দীর্ঘদিন এরকম চলতে থাকলে আমাদের পড়াশোনার ক্ষতি হবে। আমার ক্লাসে ফিরে যেতে চাই, পাঠদান চাই।

  • কুড়িগ্রামে মাদ্রাসার আবা‌সিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক

    কুড়িগ্রামে মাদ্রাসার আবা‌সিক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে শিক্ষক আটক

    মাদ্রাসার আবা‌সিক শিক্ষার্থীকে (১৪) ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা প্রধানকে আটক করেছে ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা ও স্থানীয়রা।

     

    রোববার (১২ অক্টোবর) দিবাগত রাতে চিলমারীর থানাহাট ইউনিয়নের মধ্য প্রামাণিকপাড়ায় একটি মক্তবে আটকে রাখেন অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে।

    অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসা শিক্ষকের নাম হাফেজ মাওলানা রিয়াজুল ইসলাম। তার বাড়ি কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার তবকপুর ইউনিয়নে। তি‌নি বিবা‌হিত। ইউনিয়নের একটি আবা‌সিক কওমি মাদ্রাসায় সস্ত্রীক বসবাস ক‌রেন তিনি। কয়েক দিন আগে স্ত্রীর অনুপ‌স্থি‌তি‌তে মাদ্রাসার আবা‌সিক এক ছাত্রী‌কে তি‌নি ধর্ষণচেষ্টা ক‌রেন ব‌লে অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে।

    ভুক্ত‌ভোগী ছাত্রীর এক নিকটাত্মীয় জানান, এক সপ্তাহ আ‌গে ওই শিক্ষক রা‌তের বেলা ভুক্ত‌ভোগী ছাত্রী‌কে নিজ রু‌মে ডে‌কে নেন। মুখ চে‌পে ধ‌রে ধর্ষ‌ণের চেষ্টা ক‌রেন। ছাত্রী তা‌কে বাধা দি‌লে তি‌নি ছাত্রীর বু‌কে ও মাথায় আঘাত ক‌রেন। এ‌তে ওই ছাত্রী অসুস্থ হ‌য়ে প‌ড়ে। প‌রে ওই ছাত্রী তার বা‌ড়ি‌তে গি‌য়ে বাবা-মা‌কে বিষয়‌টি জানান। প‌রে ছাত্রীর প‌রিবা‌রের লোকজন রোববার ওই শিক্ষক‌কে আটক ক‌রে চিলমারী উপ‌জেলার থানাহাট ইউ‌নিয়‌নের মধ‌্য প্রামা‌ণিকপাড়ার এক‌টি মক্ত‌বে আট‌কে রা‌খেন এবং মারধর ক‌রেন। এ সময় ওই শিক্ষক ছাত্রী‌কে ধর্ষণচেষ্টার কথা স্বীকার ক‌রেন। তার স্বীকা‌রোক্তির এক‌টি ভি‌ডিও সামা‌জিক যোগা‌যোগমাধ‌্যমে ছ‌ড়ি‌য়ে প‌ড়ে‌ছে।

    রোববার দিবাগত রাত ১ টা পর্যন্ত পাওয়া খব‌রে অ‌ভিযুক্ত ওই শিক্ষক‌কে স্থানীয়রা আট‌কে রা‌খেন ব‌লে জানা গে‌ছে। বিষয়‌টি স্থানীয়ভা‌বে ফয়সালা করার চেষ্টা চল‌ছিল ব‌লেও খবর পাওয়া গে‌ছে।

    চিলমারী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশরাফুল ইসলাম ব‌লেন, বিষয়‌টি শু‌নে‌ছি। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রাজারহাট রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়, কাদাপানিতে একাকার পুরো প্ল্যাটফর্ম

    রাজারহাট রেলস্টেশন প্ল্যাটফর্ম সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে যায়, কাদাপানিতে একাকার পুরো প্ল্যাটফর্ম

    কুড়িগ্রামের রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশন সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ও মূল ভবনের চারপাশে পানি জমে থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। ট্রেন থেকে নামার সময় কাদাপানিতে একাকার হয়ে যাচ্ছে পুরো প্ল্যাটফর্ম এলাকা। একইসঙ্গে ভোগান্তি থেকে রেহাই পাচ্ছেন না স্টেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও।

     

    ব্রিটিশ আমলে নির্মিত রাজারহাট রেলওয়ে স্টেশন স্বাধীনতার পর আনুমানিক তিনশ গজ পশ্চিমে স্থানান্তর ও পুনর্নির্মাণ করা হয়। তবে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মটি নিচু হওয়ায় প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে যাত্রীদের ট্রেনে উঠানামা করতে হয়। সামান্য বৃষ্টি হলেই নিচু প্ল্যাটফর্মে পানি ঢুকে যায় এবং বিশ্রামাগারেও পানি প্রবেশ করে।

    রেল-নৌ যোগাযোগ ও পরিবেশ উন্নয়ন গণকমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার আরিফ বলেন, “বিষয়টি একাধিকবার বিভাগীয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।”

    এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আল ইমরান বলেন, “স্টেশনের ভেতরের সমস্যাগুলোর দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষের। তবে জনভোগান্তি কিছুটা লাঘবের জন্য উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে স্টেশনের বাইরে একটি সিসি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে।

  • দুমকী উপজেলায়, মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। প্রকৃত অস্বচ্ছল কে স্বচ্ছল এবং স্বচ্ছলকে অস্বচ্ছল বানিয়ে আবাসন বরাদ্দ।

    দুমকী উপজেলায়, মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। প্রকৃত অস্বচ্ছল কে স্বচ্ছল এবং স্বচ্ছলকে অস্বচ্ছল বানিয়ে আবাসন বরাদ্দ।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলায়, বীর । মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ। প্রকৃত অস্বচ্ছল কে স্বচ্ছল এবং স্বচ্ছলকে অস্বচ্ছল বানিয়ে আবাসন বরাদ্দ নেয়া হয়েছে।

     

    উক্ত প্রকল্পের আওতায় এ বিষয়ে ২০২২ সালের ৩১ আগস্ট এডিপি/ আরডিপিতে প্রাপ্ত বরাদ্দ সাপেক্ষে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আবুল বাকের মো. তৌহিদ স্বাক্ষরির এক চিঠিতে পটুয়াখালী জেলার পাঁচটি উপজেলায় মোট ১৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের অনুকূলে আবাসন বরাদ্দের প্রশাসনিক অনুমোদন প্রদান করা হয়।যার মধ্যে দুমকী উপজেলায় ১৮ জন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের নাম রয়েছে।উক্ত প্রকল্পের প্রথম ধাপে ১২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়েছে যার মধ্যে তালিকায় ১-৬ ক্রমিকের নামগুলো বাদ দেয়া হয়।

    পরবর্তীতে ২০২৪ সালে উক্ত প্রকল্পের( ৩য় পর্যায়)২০২৩-২৪ অর্থ বছরে প্রথম তালিকায় ১-৬ ক্রমিকের বাদ পরা ৬ জন মুক্তিযোদ্ধার অনুকূলে বরাদ্দ আসলে ২০২৪ সালের ২৮ এপ্রিল দুমকী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দরপত্র আহবান করেন। উক্ত কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিযুক্ত হন উপজেলার মুরাদিয়া এলাকার মেসার্স তারিক ব্রাদার্স।

    ২০২৪ সালের ১০ জুন মেসার্স তারিক ব্রাদার্সকে কার্যাদেশ প্রদান করা হয়। যার প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয় ১কোটি ১০ লক্ষ ৬ শত চুয়াত্তর টাকা।পরবর্তীতে জুলাই আন্দোলন শুরু হয় এবং আগস্টে আওয়ামী সরকার ক্ষমতা হারালে নাটকীয়তা শুরু হয়। ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর এক চিঠিতে উক্ত প্রকল্পের বরাদ্দকৃত আবাসন প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধারা পেয়েছেন কি না বিষয়টি যাচাইপূর্বক প্রতিবেদন প্রদানের জন্য সকল জেলা, উপজেলায় পত্র প্রেরন করেন।

    উক্ত চিঠিকে পুঞ্জীভূত করে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে হতে একটি সিন্ডিকেট নতুনভাবে ঘর বরাদ্দের জন্য পূর্বের তালিকায় থাকা কিছু কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আপত্তি দেন এবং ক্ষমতার প্রভাব খাঁটিয়ে প্রশাসনকে চাপ প্রয়োগ করে মনগড়া একটি তালিকা প্রস্তুত করে প্রতিবেদন দাখিল করলে থলের বিড়াল বেড়িয়ে আসে।

    ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর উপজেলা হতে পাঠানো তালিকায় স্বচ্ছলকে অস্বচ্ছল এবং অস্বচ্ছলকে স্বচ্ছল বানানো হয়েছে। পাঠানো ওই তালিকায় দুই জন সরকারি কর্মকর্তা ও ২ জন মুক্তিযোদ্ধার স্বাক্ষর রয়েছে। যার মধ্যে ৪ জনকে স্বচ্ছল দেখানো হয়েছে। যার প্রেক্ষিতে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার আবাসন নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধা আবাসন নির্মাণ না করতে মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন এমনটাই জানিয়েছেন ঠিকাদার মোঃ তারিকুল ইসলাম ।

    মন্ত্রণালয়ে ৪ জন মুক্তিযোদ্ধাকে স্বচ্ছল দেখিয়ে প্রতিবেন দাখিল করা হলে এবছরের ২৮ জানুয়ারি উপসচিব পলি কর স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে উক্ত প্রকল্পের বরাদ্দকৃত ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার স্বচ্ছলতার বিষয়ে বর্তমান আর্থ- সামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় প্রকৃত অর্থে স্বচ্ছল কিনা তা পুনঃ যাচাই পূর্বক সুনির্দিষ্ট মতামত জানতে চেয়ে চিঠি দিলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক ২ সদস্যের কমিটিকে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে উপজেলা কৃষি ও মৎস্য কর্মকর্তাকে মনোনয়ন দেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা গত ৯ সেপ্টেম্বর উক্ত দুই কর্মকর্তার সরেজমিন প্রতিবেদনসহ ৪ জন মুক্তিযোদ্ধার স্বচ্ছলতার বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

    ‎‎এ বিষয়ে সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রকৃত স্বচ্ছল – অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার বাস্তবিক অবস্থা তুলে ধরেন।‎তালিকায় যাদেরকে অস্বচ্ছল দেখানো হয়েছে ‎তালিকায় ১ নম্বরে থাকা বীর মুক্তিযোদ্ধা রহমান আকনকে অস্বচ্ছল দেখানো হয়েছে। তার দুইটি বাস গাড়ি রয়েছে এবং তাঁর নামে ১ একর খাস জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা ৩ কোটি টাকামূল্যে সেনানিবাস অধিগ্রহণ করে। তালিকায় ৩ নম্বর ক্রমিকে সুলতান হাওলাদার। অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক। তাঁর চার ছেলে দুই মেয়ে সকলেই চাকরি করেন। ৫ নম্বর ক্রমিকে খন্দকার আবদুর রহিম। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা ২ ছেলে সরকারি চাকরি করেন। ৬ নম্বর ক্রমিকে রাজা অলিউল হক। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকুরিজীবি। ৭ নম্বর ক্রমিকে হোচেন আলী খান। তাঁর নামে ১ একর খাস জমি বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ৮ নম্বর ক্রমিকে আনোয়ার হোসেন হাওলাদার সাবেক লেবুখালী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ছিলেন।তাঁর এক ছেলে এক মেয়ে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি করেন। বড় ছেলে ও তাঁর স্ত্রী বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজের শিক্ষক।ছোট ছেলে সরকারি জনতা কলেজে চাকরি করেন। ১৫ নম্বর ক্রমিকে প্রয়াত মো. আব্দুর রাজ্জাক মৃধা। তিনি সরকারি চাকরি করতেন।

     

    এক মেয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। এবং তালিকায় যাদেরকে স্বচ্ছল দেখানো হয়েছে। ১৩ নম্বর ক্রমিকে মো. আব্দুল লতিফ মিয়া। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারী। দুই ছেলে সরকারি চাকরি করেন। ব্রেইন স্ট্রোকে ভুগছেন । এক ছেলে বেকার। জরাজীর্ণ ঘর।১৬ নম্বর ক্রমিকে মো. সফিজ উদ্দিন খান। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবি। চলাচল করতে অক্ষম। এক ছেলে বেকার।জরাজীর্ণ ঘর। ১৭ নম্বর ক্রমিকে টি এম আহমেদ।দুই স্ত্রী, এক স্ত্রীকে নিয়ে নারায়ণগঞ্জ বসবাস করেন। এক ছেলে সরকারি কর্মচারী ।
    ‎১৮ নম্বর ক্রমিকে প্রয়াত ডা. রাজেশ্বর হালদার। স্ত্রী বৃদ্ধাবস্থায় চলাচল করতে অক্ষম।

     

    এক ছেলে শৈল্য চিকিৎসক। হেলেপরা জরাজীর্ণ ঘর। রশি দিয়ে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে। ভাঙাচোরা টিনের চালা। তালিকায় স্বচ্ছল- অস্বচ্ছল প্রসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ মিয়া বলেন মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে গুটিকয়েক সাবেক ইউএনও শাহিন মাহমুদের সাথে সাথে বাকবিতন্ডা করেন এবং স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।
    ‎‎

    এ বিষয়ে প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা রাজেশ্বর হালদারের ছেলে রমেন হালদার বলেন, ভাঙাচোরা ঘরে মা ও স্ত্রীকে নিয়ে কষ্টে আছি। যে কোন সময় চাপা পরে দূর্ঘটনা ঘটতে পারে। প্রথমে ঘরের নাম পেতে ঘরের সামনে থেকে তিন শতাংশ জমি বিক্রিকরে সত্তর হাজার টাকা দিয়েছি এক মুক্তিযোদ্ধাকে।নাম ছিলো তালিকায়। এখন শুনি আমরা স্বচ্ছল। পরে আবারো এক মুক্তিযোদ্ধা নব্বই হাজার টাকা চেয়েছে। তাঁকে বলেছি আমার আর টাকা দেয়ার ক্ষমতা নাই।ঘর তুলে বসবাস করার সক্ষমতাও আমার নাই।

    ‎‎বীর মুক্তিযোদ্ধা সফিজ উদ্দিন খান বলেন, প্রথমে তালিকায় নাম ছিলো। মনে করেছি পাবো। এখন শুনি আমি স্বচ্ছল হয়েগেছি। আগে ছিলাম অস্বচ্ছল এখন স্বচ্ছল? এক মুক্তিযোদ্ধা আমার কাছে দুই লাখ টাকা চেয়েছিল। আমি বলেছি বৃদ্ধাবস্থায় ঘুষ দিয়া ঘর দরকার নাই। ভাঙা ঘরে থাকবো তবুও কাউকে ঘুষ দেব না।
    ‎‎

    স্বচ্ছল – অস্বচ্ছল তালিকা নির্ধারণ কমিটির একজন সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রহিমের ভাষ্য, প্রশাসন তাঁকে কমিটিতে রাখছেন তা তিনি জানতেননা। তাঁকে উপজেলায় ডেকে স্বাক্ষর দিতে বলছেন তিনি স্বাক্ষর দিয়েছেন। স্বচ্ছল – অস্বচ্ছল নির্ধারণের বিষয় তিনি জানেন না। তৎকালীন ইউএনও দু’ একজন মুক্তিযোদ্ধার চাপের মুখে ওই কাগজে স্বাক্ষর করছেন।‎প্রতিবেদনে স্বাক্ষর করা অপর মুক্তিযোদ্ধা আ. মাননান হাওলাদার মুমূর্ষু অবস্থায় থাকায় তাঁর সাক্ষাৎকার নেয়া যায়নি।‎প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী বলেন, ওই সময়ে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ইউএনওর কার্যালয়ে এসে আমাদেরকে স্বাক্ষর করতে বলেন।সরেজমিন যাচাই তাঁরা করছেন।‎উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. অলিউল ইসলাম বলেন, সরেজমিন যাচাই আমরা করিনি। মুক্তিযোদ্ধারা যাচাইয়ের কাজ করেছেন। আমরা স্বাক্ষর করে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি।
    ‎‎

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন,গত বছরের ২৫নভেম্বর তারিখের তদন্তে কোন অনিয়ম হয়েছে কিনা আমরা খতিয়ে দেখবো এবং অনিয়ম হলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • শার্শার নাভারন সরকারি খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান

    শার্শার নাভারন সরকারি খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান

    যশোরের শার্শা উপজেলার নাভারন সরকারি খাদ্য গুদামে দুদকের অভিযান নিম্ন মানের চাউল রাখা ও ধান কেনার হিসাবের গড়মিল থাকার কারণে খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ ইকবালুর রহমানকে কাগজপত্র নিয়ে যশোর দুদক অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

     

    মঙ্গলবার বিকেলে দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক আল-আমীন এর নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    জানা যায়, শার্শা উপজেলায় ১৭ টি রাইস মিল থেকে ১২ হাজার ৬ শত ১৬ মেট্রিক টন চাউল কেনা হয়েছে। সেখান থেকে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ ইকবালুর রহমান প্রতি কেজি চাউল থেকে ৬০ পয়সা করে কমিশন নিয়েছেন ও ধান কিনেছেন ১ হাজার ৫৬ মেট্রিক টন সেখান থেকেও কমিশন খেয়েছেন তিনি। এ ধরণের অভিযোগের কারনেই দুদকের সদস্যরা ঝটিকা অভিযান চালিয়েছেন।

    দুদক যশোরের সহকারী পরিচালক আল-আমীন সাংবাদিকদের বলেন, অভিযানের সময় ৪, ৫ ও ৬ নাম্বার গোডাউনে নিম্ন মানের চাউল পাওয়া যায় এবং ধান কেনার কোন হিসাব দেখাতে পারেনি। একারণে তাকে দুদক অফিসে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

    এদিকে এলাকার অনেকেই জানিয়েছেন শুধু খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ ইকবালুর রহমান ও উপ খাদ্য পরিদর্শক ফারজানার নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট খাদ্য গুদামে নানান ধরনে অপরাধ করে থাকেন।

    এ ব্যাপারে অভিযুক্ত খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামসেদ ইকবালুর রহমান বলেন, কে বা কারা আমার বিরুদ্ধে দুদকে অভিযোগ করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে দুদক এর কর্মকর্তারা এসেছিলেন। কাগজপত্র নিয়ে কাল বুধবার যশোর দুদক অফিসে হাজির হবো।

  • যশোরের শার্শায়  নিখোঁজ ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করল ডিবি পুলিশ

    যশোরের শার্শায় নিখোঁজ ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করল ডিবি পুলিশ

    যশোরের শার্শা উপজেলায় নিখোঁজের চার দিনের মাথায় এক ভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে ডিবি পুলিশ। শার্শার নাভারণের কাজীরবেড় গ্রামের একটি বাড়িতে থাকা সাব-বাক্সের ভেতর থেকে অর্ধগলিত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করা হয়।

     


    এর আগে গত ১০ অক্টোবর থেকে আব্দুল্লাহ নিখোঁজ ছিলেন। ডিবির এসআই অলোক কুমার দে’রনেতৃত্বে একটি দল ক্লুলেস এ ঘটনার তদন্তে মাঠে নামে। টানা তিনদিন জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান শেষে আজ মঙ্গলবার ভোরে নাভারন কাজীরবেড়গ্রামের সুমন সরদারের বাড়ির ভেতরে সাব-বাক্সের মধ্যে থেকে শার্শার গাতিপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে।

    নিহত আব্দুল্লাহর বাবা ইউনুস আলী জানান, ১০ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তার ছেলে আব্দুল্লাহ (২৬) জীবিকার তাগিদে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। সন্ধান না পেয়ে ১১ অক্টোবর শার্শা থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন তিনি। একই সঙ্গে ডিবি পুলিশের সহযোগিতা চান।

    ইউনুস আলী বলেন, আজ ভোরে জানতে পারি আমার ছেলেকে পাওয়া গেছে। পরে তিনি যেয়ে লাশ শনাক্ত করেন। তার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন ইউনুস।

    এদিকে, লাশ উদ্ধারের খবরে কাজীরবেড় এলাকায় উৎসুক জনতার ভীড় জমে। অন্যদিকে, শোকের ছায়া নেমে এসেছে আব্দুল্লাহর গ্রামে।

    এ বিষয়ে ডিবির এসআই অলোক কুমার দে বলেন, পরিকল্পিতভাবেই হত্যা করা হয়েছে আব্দুল্লাহকে। যে বাড়িতে লাশ রাখা হয়েছিল, সেখানে কেউ ছিল না। কেন হত্যা করা হয়েছে এবং কারা জড়িত, তা শার্শা থানা পুলিশকে সাথে নিয়ে আমরা তদন্ত করছি। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না।

  • শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার নানামূখী ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে নড়িয়া থানার ওসি ক্লোজ

    শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার নানামূখী ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগে নড়িয়া থানার ওসি ক্লোজ

    শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসলাম উদ্দিন মোল্লাকে ক্লোজ করা হয়েছে। থানার একাধিক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ঘুষ–বাণিজ্য, প্রবাসীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে টাকা আদায় এবং অসদাচরণের অভিযোগ ওঠার পর এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

    গণমাধ্যমের হাতে পৌঁছানো একটি ভিডিওতে দেখা গেছে—ওসি আসলাম উদ্দিন মোল্লা এক সেবা প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা গ্রহণ করছেন। এরপর থেকেই শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা–সমালোচনা।

    নড়িয়া উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজারের বেশি প্রবাসী ইউরোপের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রবাসী গণমাধ্যমকে জানান, ইউরোপ থেকে দেশে ফেরার পর থানায় ডেকে নিয়ে ওসি আসলাম তাদের কাছ থেকে এককালীন বড় অঙ্কের টাকা নিতেন। পাশাপাশি মাসিকভাবে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা থানায় দিতে হবে বলেও জানাতেন। অন্য কেউ বিষয়টি জানলে “ডেভিল হান্ট” নামে কথিত অভিযানে গ্রেপ্তারের হুমকি দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    অভিযোগ রয়েছে, ওসি আসলাম উদ্দিন মোল্লা তার নিজ জেলা রাজবাড়ী থেকে পরিচিত কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে এনে থানায় পদায়ন করেন। স্থানীয় সূত্র জানায়, এসব কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় ঘুষ–বাণিজ্যের রাজত্ব গড়ে তোলেন তিনি।

    গত ৯ অক্টোবর রাতে নড়িয়ার চামটা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নিজাম রাড়ীকে কোনো মামলা ছাড়াই গ্রেপ্তার করে ওসি তদন্ত সুকান্ত দত্তের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল। স্থানীয় সূত্রের দাবি, গ্রেপ্তারের আগে চেয়ারম্যানের পরিবারের কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা গ্রহণ করা হয়েছিল।
    পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে প্রচার করা হয়, পুলিশের ওপর ‘জনপ্রতিরোধের মুখে’ নিজাম রাড়ীকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনার পর পুলিশ কোনো মামলা না করে শুধু একটি জিডি করে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়।

    নড়িয়া থানার এসআই খাইরুল লস্কর, রাজিব রহমান, এরশাদ, এএসআই আল মামুন ও প্রবীর মণ্ডলের বিরুদ্ধে নিয়মিত ডিউটি না করে ‘আসামি ধরার নামে টাকা আদায়ের’ অভিযোগ উঠেছে।
    এক ঘটনায় ভোজেশ্বর এলাকা থেকে প্রবাস থেকে ফেরত আবু বকর বেপারীকে ইয়াবাসহ মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ ওঠে। ভিকটিমের দাবি, তার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে পরদিন ৩৪ ধারায় আদালতে প্রেরণ করা হয়।

    ভোজেশ্বর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই হারুন অর রশিদের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের অভিযোগ, তার দায়িত্বকালে সাধারণ মানুষকে হয়রানি ও ঘুষের অভিযোগ ব্যাপক ছিল। পাচক এলাকায় আবু সিদ্দিক ঢালী হত্যাকাণ্ডের রাতে আসামিপক্ষের বাড়ি–ঘর লুটপাট এবং পিকআপ ভর্তি গরু ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায়ও তার নাম উঠে আসে। স্থানীয়দের ধারণা, ওই রাতে ওসি আসলাম ১০ লাখ টাকার বেশি ঘুষ নিয়েছিলেন।

    গত ১৯ জুন মাজেদা হাসপাতাল এলাকা থেকে চারজন স্কুলশিক্ষার্থীকে আটক করে এসআই খাইরুল লস্কর ও এএসআই প্রবীর মণ্ডলের নেতৃত্বাধীন সিভিল টিম। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও মামলা ‘হালকা ধারা’তে পাঠানোর শর্তে তাদের পরিবারের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে গেলে দেড় লাখ টাকা ফেরত দেওয়া হয়।

    কোরবানির ঈদে বিভিন্ন হাট থেকে থানার জন্য ছয়টি খাসি আনা হলেও তা পুলিশ ফোর্সের ভাগ্যে জোটেনি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এর মধ্যে চারটি খাসি ওসি আসলামের বাসায় পাঠানো হয়। পরে থানায় রাখা একটি খাসি ‘চুরি’ হয়ে গেলে পুলিশ দুইজনকে আটক করে। তবে পরবর্তীতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ‘রক্তমাখা চামড়া’ও গায়েব হয়ে যায়।

    এ বিষয়ে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগগুলোর বিষয় বিস্তারিত খতিয়ে দেখব। তদন্ত অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • জাজিরায় মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান: কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট, চার জেলেকে জরিমানা

    জাজিরায় মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান: কারেন্ট জাল পুড়িয়ে বিনষ্ট, চার জেলেকে জরিমানা

    মা ইলিশ রক্ষায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।

    রবিবার (১৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বিলাশপুর ইউনিয়নের সফি কাজির মোড় এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন জাজিরা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান। এ সময় জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ উপস্থিত ছিলেন।

    অভিযানে মা ইলিশ ধরার উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া মৎস্য সংরক্ষণ ও প্রতিবন্ধকতা প্রতিরোধ আইন ১৯৫০ (সংশোধিত ২০২৩) অনুযায়ী মা ইলিশ ধরার অপরাধে ৪ জন জেলেকে মোট ৪ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

    জাজিরা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল শরীফ জানান, “মা ইলিশের প্রজনন মৌসুমে পদ্মা নদীতে ইলিশ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। সরকার ঘোষিত এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে কেউ যেন আইন লঙ্ঘন না করে, সে বিষয়ে আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।”

    সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, “সরকারি নির্দেশ অমান্য করে ইলিশ আহরণ বা বিক্রির চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মা ইলিশ সংরক্ষণে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

    প্রসঙ্গত, মা ইলিশের প্রজনন মৌসুম উপলক্ষে ৪ অক্টোবর থেকে পর্যন্ত ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা, বিক্রি, পরিবহন ও মজুতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার।

    এ সময় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে নিয়মিত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে প্রশাসন জানিয়েছে।

  • বকশীগঞ্জে জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন।

    বকশীগঞ্জে জীবনের নিরাপত্তা ও সম্পত্তি রক্ষায় সংবাদ সম্মেলন।

    জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌরসভার চরকাউরিয়া সিমারপাড়া এলাকায় বসবাসকারী একাধিক পরিবার জীবন ও পৈতৃক সম্পত্তি রক্ষার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।তারা একই এলাকার শেখ ফরিদ মিয়া ও তার ছেলে জানিক মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে হয়রানি, হুমকি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত থাকার অভিযোগ এনেছেন।

     

    সোমবার (১৩ অক্টোবর) দুপুরে ভুক্তভোগীদের নিজ বাড়িতে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আল সুমন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রতন সাহার স্ত্রী শ্রাবন্তী সাহাসহ বেশ কয়েকজন।

    তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্তরা তাদের সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করে আসছেন। প্রতিবাদ করলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

    আল সুমন অভিযোগ করে বলেন, “শেখ ফরিদ ও তার ছেলে জানিক মিয়া আমাদের সম্পত্তি দখল করতে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করছে। এমনকি খুনের হুমকিও দিয়েছে। আমরা বকশীগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি (জিডি নং: ৪৭২), কিন্তু এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।”

    স্থানীয় মোটরসাইকেল মেকানিক রতন সাহার স্ত্রী শ্রাবন্তী সাহা বলেন, “১৫ বছর আগে শেখ ফরিদের কাছ থেকে চার ফুট রাস্তা সংযুক্ত জায়গাসহ জমি কিনে বাড়ি করেছি। কিন্তু তিনি বারবার টাকা দাবি করে রাস্তা বন্ধ করে দেন। কয়েকবার টাকা দিয়েও কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।”

    আরেক ভুক্তভোগী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সাংসারিক প্রয়োজনে আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি বা ইজারা দিতে গেলে অভিযুক্তরা সম্ভাব্য ক্রেতা ও ইজারাদারদের হুমকি দেয়। এতে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।”

    সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ভুক্তভোগীরা জানান, অভিযুক্তদের প্রভাবের কারণে তারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কাছে বারবার অভিযোগ করেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিকার পাননি।

    তাদের দাবি, অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হোক এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।

    সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও অন্যান্য ভুক্তভোগী সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।