Author: তরঙ্গ টিভি

  • বাবা প্রবাসে, ৪ বছরের শিশুর দাফনে বাধা চাচাদের

    বাবা প্রবাসে, ৪ বছরের শিশুর দাফনে বাধা চাচাদের

    চার বছরের এক শিশুর দাফন নিয়ে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে উত্তেজনা। মৃত শিশুর প্রবাসী বাবার অনুপস্থিতিতে তার দাফনে বাধা দেন তার চাচাতো চাচারা। তাদের দাবি, পারিবারিক কবরস্থানে শিশুটির দাফন হতে দেবে না।

    ঘটনাটি ঘটেছে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার নারান্দী ইউনিয়নের গাংকুল পাড়া এলাকায়। মৃত শিশুটির নাম মো. ফাহাদ মিয়া (৪)। তার বাবা আল মামুন বাবুল মিয়া বর্তমানে সৌদি আরবে একটি কোম্পানিতে গাড়িচালক হিসেবে কাজ করেন।  তার আপন ভাই বাচ্চু মিয়াও প্রবাসী।

    রোববার (১২ অক্টোবর) সকালে তার ছেলে ফাহাদ মারা যায়। এরপর শিশুটির দাফন কার্য নিয়ে শুরু হয় বাগবিতণ্ডা।

    পারিবারিক কবরস্থানে শিশুটির দাদা রিয়াজ উদ্দিন ও দাদি আমেনা খাতুনের কবর রয়েছে। বাবুল মিয়ার ইচ্ছা তার বাবা-মায়ের পাশেই শায়িত করা হোক তার ছেলেকে। কিন্তু পারিবারিক কবরস্থানের জমিটি মৃত রিয়াজ উদ্দিন ও তার ভাই মৃত মাইজ উদ্দীনের এজমালি জমি হওয়ায় কবর দিতে বাধা দেন বাবুল মিয়ার চাচাতো ভাইয়েরা। তার চাচা মৃত মাইজ উদ্দীনের ছেলে সোহেল মিয়ার দাবি, এই কবরস্থানে আর দাফন হবে না।

    জানা যায়, শিশু ফাহাদের হঠাৎ হার্টের সমস্যা থেকে শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। রোববার শিশুটির হার্টের অপারেশন হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

    সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রবাসী বাবা আল মামুন বাবুল মিয়া ভিডিও কলে ছেলের নিথর মুখ দেখে চোখের পানি ফেলছেন আর বলছেন, ‘ওকে আমার বাবা-মায়ের কবরের পাশে শুইয়ে দাও..ও আমার জান।’

    কিন্তু প্রবাসে থাকা সোহেল মিয়া ফোনে বাড়িতে থাকা তার ছোট ভাই আসিফকে নির্দেশ দিয়ে ওই কবরস্থানে কবর দিতে বাধা দেয়। তাদের ভাষ্য, ওই পারিবারিক জমিতে কবর দেওয়া যাবে না।

    স্থানীয়রা জানায়, শিশু ফাহাদের পরিবার যেখানে কবর দিতে চাচ্ছে সেখানে আগে থেকেই তার দাদা-দাদি কবর রয়েছে। দীর্ঘদিন যাবৎ এটা পারিবারিক কবর হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছে। তবে জমিটি রাস্তার পাশে হওয়ায় বর্তমানে এর দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এ জন্য এখানে কবর দিতে বাধা দিচ্ছে শিশুটির চাচাতো চাচারা।

    এ নিয়ে বাগবিতণ্ডায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে ঘটনাস্থলে ছুটে যান পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি দল। তবে তারাও বুঝাতে ব্যর্থ হওয়ায় পরে স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যস্থতায় বিকল্প স্থানে শিশুটিকে দাফন করা হয়।

    প্রবাসী বাবুল মিয়ার বন্ধু রায়হান আকন্দ বলেন, আজকে সকালে খবর পাই আমার বন্ধুর ছেলে মারা গেছে। সে প্রবাস থেকে আমাকে ফোন দিয়ে বলছে, দাফন নিয়ে বিরোধ হচ্ছে। আমি এখানে এসে যা দেখি প্রশাসনকে অবগত করা হয়েছে। আসলে মানবিক দিক থেকে পারিবারিক স্থানে কবর দেওয়া উচিত ছিল। এখন মৃত শিশু ফাহাদের বাবার ক্রয় করা জমিতে দাফন করার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

    আরেক চাচাতো ভাই হাকিম বলেন, বর্তমান জায়গাটা এজমালি (যৌথ) জায়গা। দাদু এখানে ছয় গন্ডা জায়গা পাবে। এখানে আমরা সবাই অংশ পাই। কিন্তু এখন তাদের দখলে এইজন্য তারা বাঁধা দিয়েছে। এখানে কবর দেওয়ার জন্য বাপ-চাচা ও এলাকার অনেকেই তাদের রিকোয়েস্ট করেছে কিন্তু তারা দেয়নি। বলে মার্ডার হবে তবুও এখানে কবর দিতে দেবে না। বাধ্য হয়ে অন্য জায়গায় দাফন দিচ্ছি।

    মৃত ফাহাদের ফুফু পারুল আক্তার কান্না কান্না করতে করতে বলেন, আমি ঢাকায় থাকি। আমার দুই ভাই প্রবাসে। বাড়িতে আমাদের কেউ নেই । আমার ভাই আমাকে ফোন দিয়ে বলেছে ওর দাদা-দাদির সঙ্গে কবর দেওয়ার জন্য। কিন্তু দিতে দিল না। মাসুম বাচ্চার কবর দিতে কতটুকু জায়গা লাগতো?

    অভিযুক্ত সোহেল মিয়ার ছোট ভাই আসিফ বলেন, আমার বড় ভাই (সোহেল) বলেছে এখানে কবর দেওয়া যাবে না। সে জানে কিসের জন্য বাধা দিতে বলেছে। হয়তো জায়গা পাবে। এটা এজমালি জায়গা। আমি কি বলব? সে বলছে তাই বাধা দিয়েছি।

    পাকুন্দিয়া থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) আতিকুর রহমান রাসেল মিয়া বলেন, এই বাচ্চাটা দাফনের ব্যাপারে তার চাচারা বাধা দিয়েছে। জরুরি নম্বরে কল পেয়ে আমরা আসি। দুই পক্ষই একটা সমাধানে এসেছে। এখন দাফনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ওর বাবার যে নিজস্ব জমি রয়েছে সেখানে কবর দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আর ও দাদাদের যে এজমালি সম্পত্তি রয়েছে সেখানে কবর দেওয়া হয়নি।

  • ইইউর ইলেকশন এক্সপ্লোরেটরি মিশনের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের বৈঠক

    ইইউর ইলেকশন এক্সপ্লোরেটরি মিশনের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলনের বৈঠক

    ইউরোপীয় ইউনিয়নের ইলেকশন এক্সপ্লোরেটরি মিশনের সঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে এ বৈঠক আয়োজিত হয়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বিষয় উপদেষ্টা গোলাম মসীহ, ইসলামী যুব আন্দোলনের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ইমতিয়াজ আহমেদ সজল, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল খাইরুল আহসান মারজান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্যসচিব মো. রাজন সিকদার, ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক্সপ্লোরেটরি মিশনের টিম লিডার ম্যাটি বাক্কেন ও লিগ্যাল অ্যাডভাইজর ম্যানুয়েল ওয়ালি।

  • নামজারি নিয়ে রাজউকের নতুন নির্দেশনা

    নামজারি নিয়ে রাজউকের নতুন নির্দেশনা

    রেকর্ডভুক্তকরণ এবং নামজারি সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নতুন নির্দেশনা প্রদান করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)।

    শুক্রবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এর আগে রাজউকের সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) শেখ মতিয়ার রহমান একটি নোটিশ জারি করেছেন।

    নোটিশে উল্লেখ করা হয়, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইন, ১৯৫০ এর ১৪২ ধারা এবং তৎসহ ১১৬ ও ১১৭ ধারার বিধান অনুযায়ী ভূমির মালিকানা হালনাগাদ করা হয়ে থাকে। ভূমি হস্তান্তর বা মৃত্যুজনিত কারণে মালিকানা পরিবর্তনের ক্ষেত্রে কেবল রেকর্ড হালনাগাদ করা হয় এবং এ ক্ষেত্রে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ শুধুমাত্র তার গৃহীত, বাস্তবায়িত প্রকল্পের আওতাধীন বরাদ্দকৃত প্লট, ফ্ল্যাটের রেকর্ডভুক্তকরণ এবং নামজারীর অনাপত্তিপত্র প্রদান করে থাকে।

    সেবার মানোন্নয়ন ও নামজারির প্রক্রিয়া সহজীকরণের লক্ষ্যে রেকর্ডভুক্তকরণ, নামজারি সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নির্দেশক্রমে পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার নির্দেশনা প্রদান করে বলা হয়, রেকর্ডভুক্তকরণ, নামজারির আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে নথিতে বিদ্যমান অথবা আবেদনকারীর দাখিলকৃত দলিলানি ও প্রমাণক যাচাইপূর্বক নিষ্পত্তি করতে হবে। এ ক্ষেত্রে (ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ব্যতীত) সংশ্লিষ্ট আবেদনকারীদের হাজিরা গ্রহণের প্রয়োজন হবে না।

    উত্তরাধিকারসূত্রে রেকর্ডভুক্তকরণের ক্ষেত্রে লিজ গ্রহীতার (সর্বশেষ মালিক) আদালত কর্তৃক সাকসেশন, উত্তরাধিকার সনদ দাখিলের প্রয়োজন হবে না। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার বিভাগের সংশ্লিষ্ট দপ্তর (ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা সিটি কর্পোরেশন) কর্তৃক প্রদত্ত উত্তরাধিকার সনদ অনুসারে আবেদন নিষ্পত্তি করতে হবে। তবে প্রয়োজনে উক্ত উত্তরাধিকার সনদের সঠিকতা যাচাই করা যেতে পারে।

    উত্তরাধিকার সনদ অনুযায়ী যে কোনো একজন উত্তরাধিকারী আবেদন করলেই সব ওয়ারিশদের নামে রেকর্ডভুক্তকরণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রে সব উত্তরাধিকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন এবং সত্যায়িত ছবি দাখিল করতে হবে। উত্তরাধিকার সনদে উল্লিখিত সব উত্তরাধিকারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, পাসপোর্ট নম্বর, নিবন্ধিত জন্ম নিবন্ধন নম্বর উল্লেখ থাকা বাঞ্ছনীয়।

    লিজ দলিল সম্পাদনের পূর্বে মূল বরাদ্দগ্রহীতার মৃত্যুজনিত কারণে সংশোধিত বরাদ্দপত্র ইস্যু করার ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। উত্তরাধিকার সনদসহ দাখিলকৃত যে কোনো দলিলাদিতে তদাগত ভুলত্রুটি পরিলক্ষিত হলে এর দায় সংশ্লিষ্ট আবেদনকারী এবং সনদ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বহন করবে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট রেকর্ডভুক্তকরণ, নামজারি বাতিল বলে গণ্য হবে।

    আবেদনকারী, আবেদনকারীদের দাখিলকৃত তথ্য এবং দলিলাদির ফলে ভবিষ্যতে কোনো জটিলতার সৃষ্টি হলে তার দায়। রাজউকের কোনো কর্মকর্তা কর্মচারীর ওপর বর্তাবে না। সংশ্লিষ্ট সেবামূল্য ও পরিশোধ পদ্ধতি পূর্বের ন্যায় বহাল থাকবে।

  • অন্তর্বর্তী সরকারকে জামায়াত নেতা বুলবুল কোনো রাজনৈতিক দলের লেজ ধরলে জনগণ বরদাস্ত করবে না

    অন্তর্বর্তী সরকারকে জামায়াত নেতা বুলবুল কোনো রাজনৈতিক দলের লেজ ধরলে জনগণ বরদাস্ত করবে না

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, অন্য কোনো চিন্তা করে অন্তর্বর্তী সরকারের লাভ হবে না, কোনো চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্রকে আমরা বরদাস্ত করবো না। জনগণ বাদ আপনারা যদি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের লেজ ধরেন, আনুগত্য প্রকাশ করেন, তা জনগণ মানবে না। এটা পরিষ্কার হয়ে গেছে।

    তিনি বলেন, সুতরাং অন্য চিন্তা বাদ দিয়ে জনদাবি মেনে নিয়ে জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির মধ্য দিয়েই পিআর পদ্ধতিতে আগামী নির্বাচনের আয়োজন করুন।

    জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে ধারাবাহিক যুগপৎ আন্দোলন কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি প্রদান করে জামায়াতে ইসলামী।

    রোববার (১২ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা জেলা প্রশাসকের নিকট স্মারকলিপি দেওয়া শেষে এসব কথা বলেন তিনি।

    নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচনসহ ৫ দফা দাবিতে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি চলছে। আজ শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, অন্যান্য সমমনা ইসলামিক রাজনৈতিক দলগুলোও যুগপৎ কর্মসূচির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদানের কর্মসূচি পালন করছে।

    তিনি বলেন, পেশকৃত পাঁচ দফা দাবি হচ্ছে জনদাবি, জুলাই শহীদ আহতের দাবি। আমরা বলেছি, পেশকৃত পাঁচ দফা দাবি প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি পৌঁছে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি জেলা প্রশাসককে।

    বুলবুল বলেন, আমরা বলেছি আগামী বছরের মধ্য ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন দিতে হবে। এর আগে গণভোট আয়োজনের মাধ্যমে জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।

    এই গণভোটের ব্যাপারে একটি দল বাদে অন্য সব রাজনৈতিক দল একমত উল্লেখ করে বুলবুল বলেন, যে দল একমত হয়নি তারা বলেছিল, এটা কি, কেন এখনই প্রয়োজন? নির্বাচিত হয়ে ওনারা নাকি এটা পরে করবেন! যেন তারা আগেই নির্বাচিত হয়ে গেছেন। আমরা বলেছি, অবশ্যই গণভোট দিতে হবে।

    বুলবুল বলেন, শেষ পর্যন্ত ওই দল গণভোটে একমত হলেও আরেকটা প্যাঁচ লাগিয়ে দিয়েছে। আমরা আশা করছি ওই প্যাঁচও ছুটে যাবে ইনশাআল্লাহ, কারণ এটা গণদাবি। যারা রাষ্ট্র পরিচালনায় আছেন, তাদের জনদাবি, জনআকাঙ্খা বুঝতে হবে। নির্বাচনের আগেই জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি দিতে হবে।

    ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াত আমির বলেন, আমরা রাজপথে ছিলাম, এখনো মাঠে আছি। আমরা ফ্যাসিস্ট শক্তির রক্তচক্ষুকে পরোয়া করিনি। সুতরাং এর বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করে লাভ হবে না। অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রকে আমরা বরদাস্ত করবো না।

    তিনি বলেন, অবশ্যই নির্বাচনের আগেই লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করতে হবে। আমরা যৌক্তিকভাবে তা তুলে ধরছি।

    যারা গুম করেছেন, খুন করেছেন অবশ্যই তাদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমরা মনে করি, ন্যায়বিচার হওয়া উচিত। অপরাধী যেই হোক বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার প্রক্রিয়াও অবশ্যই ইনসাফপূর্ণ হতে হবে।

    বুলবুল বলেন, হাজার বছর টিকে থাকার জন্য যারা গুম, খুন করেছেন, ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকে সহযোগিতা করেছেন, মানবতাকে হত্যা করেছেন, যারা শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠার জন্য বার বার পাতানো নাটুকে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, শেখ হাসিনার নাটক মঞ্চস্থ করেছেন, অভিনয় করেছিলেন, সেই বাম রাজনৈতিক দল ও জাতীয় পার্টির কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করতে হবে, বিচারের আওতায় আনতে হবে।

    আমরা আশা করি, সরকার জনগণের পাল্স বুঝবেন, জনগণের আকাঙ্ক্ষা বুঝবেন, কোনো রাজনৈতিক দলের আকাঙ্খা আনুগত্যকে তোয়াক্কা না করে গণদাবির পাঁচ দফা মেনে নিয়ে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করবেন। আমরা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। যেমনি করে মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল তেমনি করে আগামী দিনেই ঐক্যবদ্ধ থাকবে।

    উল্লেখ্য, জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে আন্দোলনের ৫ দফা গণদাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।

    পাঁচ দফা দাবি–

    ১. জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজন করা

    ২. জাতীয় সংসদ নির্বাচনে উভয় কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু করা

    ৩. অবাধ সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের লক্ষ্যে সবার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা

    ৪. ফ্যাসিস্ট সরকারের সব জুলুম নির্যাতন গণহত্যা ও দুর্নীতির বিচার দৃশ্যমান করা

    ৫. স্বৈরাচারের দোসর জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা।

    জেইউ/বিআরইউ

  • প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সরলেন শিক্ষকরা, যান চলাচল স্বাভাবিক

    প্রেসক্লাবের সামনে থেকে সরলেন শিক্ষকরা, যান চলাচল স্বাভাবিক

    মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করা বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। পুলিশ তাদের সরিয়ে দিলে প্রেসক্লাবের যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

    রোববার (১২ অক্টোবর) দুপুর ২টা ১৫ নাগাদ শিক্ষকরা সরে শহীদ মিনারের দিকে চলে যান।

    প্রেসক্লাবের সামনে থেকে শিক্ষকরা সরে যাওয়ার পর পল্টন থেকে কদম ফোয়ারামুখী রাস্তা খুলে দেওয়া হয়। ফলে প্রেসক্লাব এলাকায় এখন যানচলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।

    প্রেসক্লাবের সামনে এখনো প্রচুর পুলিশের উপস্থিতি রয়েছে। খণ্ডবিখণ্ডভাবে কিছু শিক্ষক এখনো রয়ে গেছেন। তবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নেয়নি পুলিশ।

    এর আগে রোববার (১২ অক্টোবর) সকাল থেকেই মূল বেতনের ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। এতে করে পল্টন থেকে কদম ফোয়ারার রাস্তায় যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছিল সাধারণ মানুষজন।

  • প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত তিন শিক্ষক ঢামেকে

    প্রেসক্লাবের সামনে পুলিশের লাঠিচার্জে আহত তিন শিক্ষক ঢামেকে

    রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের বিক্ষোভে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জে অন্তত তিনজন শিক্ষক আহত হয়েছেন।

    শনিবার (১২ অক্টোবর) দুপুর আড়াইটা থেকে সাড়ে তিনটার মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন- মো. শফিকুল ইসলাম কাজল (৪০), গণপতি হাওলাদার (৩২) ও আক্কাস আলী (৫৫)।

    আহত শিক্ষক গণপতি হাওলাদার বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক–কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ বাড়ি ভাড়া, ১,৫০০ টাকা মেডিকেল ভাতা এবং কর্মচারীদের জন্য ৭৫ শতাংশ উৎসব ভাতার প্রজ্ঞাপন জারির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করছিলেন শিক্ষকরা। এ সময় পুলিশ বাধা দেয়। পরে শিক্ষক–কর্মচারীদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড ও লাঠিচার্জ করে পুলিশ সদস্যরা। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। আহত অবস্থায় আমি ও আরও দুজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে আমরা চলে এসেছি।

    তিনি বলেন, আমি পিরোজপুর থেকে এসেছি। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদি থেকে এসেছেন শফিকুল ইসলাম কাজল এবং চাঁদপুর থেকে এসেছেন আক্কাস আলী। আমাদের তিনজনের মাথা, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাঠিচার্জের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, প্রেস ক্লাব থেকে আহত অবস্থায় তিন শিক্ষককে হাসপাতালে জরুরি বিভাগে আনা হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তারা হাসপাতাল থেকে চলে গেছেন।

  • সোমবার থেকে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

    সোমবার থেকে সারাদেশে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি

    মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে সোমবার (১৩ অক্টোবর) থেকে সারাদেশের সব বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করছেন শিক্ষকরা। 

    এর আগে দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালে শিক্ষকদের ওপর সাউন্ড গ্রেনেড, জলকামান ও লাঠিচার্জের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশি বাধার মুখে শিক্ষকরা পরে শহীদ মিনারে অবস্থান নেন। সেখানে থেকেই তারা লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

    অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী বলেন, জনদুর্ভোগ এড়াতে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের অবস্থান কর্মসূচি এখন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে চলবে। প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত এখান থেকেই আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাব। আলোচনার মাধ্যমে, সহযোগিতার মাধ্যমে প্রজ্ঞাপন নিয়েই বিজয়ী বেশে আমরা শ্রেণিকক্ষে ফিরব।

    তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতার প্রজ্ঞাপন না হবে, ততক্ষণ আমরা শহীদ মিনার ছাড়ব না, ঢাকার রাজপথও ছাড়ব না।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রেস ক্লাবের সামনে পুলিশ শিক্ষক নেতাদের সরে যেতে বললে উত্তেজনা দেখা দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে শিক্ষকরা আতঙ্কিত হয়ে ছত্রভঙ্গ হন। পরে সংগঠনের নেতাদের আহ্বানে তারা মিছিলসহ শহীদ মিনারে সমবেত হন।

    এর আগে শনিবার প্রেস ক্লাবের সামনের অবস্থান কর্মসূচি থেকে শিক্ষকরা সোমবারের মধ্যে ২০ শতাংশ বাড়িভাড়া ভাতা বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি না হলে কর্মবিরতির আলটিমেটাম দিয়েছিলেন। আজকের ঘটনার পর সেই কর্মসূচি একদিন এগিয়ে এনে নতুন ঘোষণা দেওয়া হয়।

    সংগঠনটির নেতারা জানান, সরকারের ঘোষিত বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধির হার ‘অপর্যাপ্ত ও অবাস্তব’। তারা মূল বেতনের ২০ শতাংশ হারে বাড়িভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন বদলি নীতির বাস্তবায়ন দাবি করেন।

    গত ১৩ আগস্ট একই দাবিতে প্রেস ক্লাবের সামনেই বিক্ষোভ সমাবেশ করেছিল সংগঠনটি। সে সময়ও তারা ১৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধাপে ধাপে কর্মবিরতি পালন করেন।

  • ট্রাইব্যুনালের চার্জশিটে নাম আসা ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে : সেনাবাহিনী

    ট্রাইব্যুনালের চার্জশিটে নাম আসা ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে : সেনাবাহিনী

    গুম-খুনে জড়িত থাকার অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চার্জশিটে নাম আসা সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৫ জনকে ঢাকায় সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। হেফাজতে থাকা কর্মকর্তাদের মধ্যে ১৪ জন কর্মরত এবং একজন এলপিআর-এ আছেন।

    শনিবার (১১ অক্টোবর) ঢাকা সেনানিবাসের মেসে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মামলা–সংক্রান্ত বিষয়ে সেনাবাহিনীর পদক্ষেপ সম্পর্কে অবহিত করতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

    মেজর জেনারেল হাকিমুজ্জামান বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। আমরা মোট ১৬ জনকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য বলেছিলাম, তাদের মধ্যে ১৫ জন এসে হেফাজতে রয়েছেন।

    তিনি বলেন, গত ৮ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রথম দুটি চার্জশিট জমা পড়ে। এরপর তৃতীয় আরেকটা চার্জশিট জমা পড়ে। এই সংবাদটি আসা শুরু করে বেলা ১১টা থেকে ১টার মধ্যে। আমরা টিভি স্ক্রলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি চার্জশিট জমা পড়েছে এবং ট্রাইব্যুনাল এক্সেপটেড হয়েছে। চার্জশিটগুলোর মধ্যে একটা ছিল গুম সংক্রান্ত, যারা তখন ডিজিএফআই এ কর্মরত ছিল তাদের একটা বড় অংশের বিরুদ্ধে অভিযোগ। আরেকটা ছিল র‍্যাবের টিএফআই নিয়ে, আর আরেকটা ছিল ৪-৫ আগস্টের রামপুরার ঘটনা নিয়ে।

    এরপর সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়ে গেল। গ্রেপ্তারি পরোয়ানার পর আইজিপির কাছে চলে যায়। নিয়ম অনুযায়ী এবং ২২ তারিখ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় (গ্রেপ্তার করে হাজির করার জন্য)। তবে আমরা (সেনাবাহিনী) এখন পর্যন্ত কোনো চার্জশিট কিংবা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাইনি। চার্জশিটে প্রায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তার নাম এসেছে। এর মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন কর্মকর্তা, এলপিআরে আছেন ১ জন কর্মকর্তা এবং কর্মরত আছেন ১৫ জন কর্মকর্তা। যারা অবসরে চলে গেছেন তাদের প্রতি আমাদের সেনা আইন ওইভাবে খাটে না।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বাংলাদেশের সব আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ৮ তারিখ কর্মরত ১৫ ও এলপিআরে থাকা ১ জন সেনা কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য একটা আদেশ সংযুক্তি করে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। আদেশে তাদের বলা হয়েছে, ৯ তারিখে তারা যেন ঢাকা সেনানিবাসে সেনা হেফাজতে চলে আসেন। আমরা কিন্তু এখনো গ্রেপ্তারি পরোয়ানা পাইনি বা পুলিশও আমাদের কিছু জানায়নি। তারপরও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ার কারণে স্বপ্রণোদিত হয়ে এসব কর্মকর্তাদের হেফাজতে আসার জন্য আদেশ দিয়ে দেয়।

    বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এই ধরনের প্র্যাকটিস করে। সংবেদনশীল কেসে যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে, শুরুতে তাদের আমরা হেফাজতে নিয়ে থাকি। পরে প্রয়োজনমতো কোর্ট-মার্শাল বা অন্যান্য আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আমরা যাদেরকে হেফাজতে আসার জন্য বলেছি, তাদের অধিকাংশই সাড়া দিয়েছেন; তবে একজন সাড়া দেননি। ওই কর্মকর্তা ৯ তারিখ পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া জানাননি। ১০ অক্টোবর আমরা তার সঙ্গে ও তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করি। জানতে পারি তিনি ৯ অক্টোবর সকালে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন, একজন আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে বের হয়েছিলেন, কিন্তু পরে বাড়ি ফেরেননি এবং পরিবারের সঙ্গে তার মোবাইলফোনেও যোগাযোগ স্থাপন করা যায়নি। তিনি মেজর জেনারেল কবির।

    তিনি বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা নিয়ম অনুযায়ী তাকে ‘ইলিগ্যাল অ্যাবসেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করি। এছাড়া ১০ অক্টোবর আমরা এ বিষয়ে আরও কিছু আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। একই সঙ্গে ডিজিএফআই, এনএসআই ও বিজিবিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্থলবন্দর, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দর দিয়ে তিনি অবৈধভাবে দেশের বাইরে যেন যেতে না পারে- এর ব্যবস্থা করা হোক। আমরা তার গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণায়ও লোক পাঠিয়েছি। তিনি দেশের বাইরে চলে যেতে পারেন- এই আশঙ্কাকে মাথায় রেখে কাঠামোগতভাবে অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। আমি নিজে ডিজি ডিজিএফআই, ডিজি এনএসআই এবং ডিজি বিজিবির সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছি।

    অভিযুক্তদের বিচার সামরিক আইনে নাকি আইসিটি আইনে হবে, এ বিষয়ে কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান আছে কিনা? এছাড়া অভিযুক্তরা সাজা পাওয়ার আগে তাদের চাকরি থাকবে কিনা— এই ধরনের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইসিটি আইন বনাম সেনা আইন এটা না বলাই ভালো। মুখোমুখি বিষয়টি না বলাই ভালো। দ্বিতীয় যে বিষয়টি হচ্ছে, আইসিটি আইনে বলা আছে যে অভিযোগপত্রে নাম উঠলে চাকরি চলে যাবে। এখানে প্রথম বিষয়টি হচ্ছে যে অভিযুক্ত সে কি আসলে সাজাপ্রাপ্ত? সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার পরও ওই ব্যক্তির আপিলের সুযোগ থাকে। আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার পর যদি সাজা বহাল থাকে, তখন তাকে আমরা সাজাপ্রাপ্ত বলতে পারব।

    ‘আবার দেখা যাবে এই বিচার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে একজন খালাস পেয়ে গেলেন। খালাস পেয়ে গেলে ট্রাইব্যুনালের আইন অনুযায়ী সে আবার তার সার্ভিসে ফিরে যেতে পারবে। কিন্তু এখন প্রশ্ন হলো এর ভিতর দিয়ে তার যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক… দেখা গেল অনেকে মানসিক চাপ সহ্য না করতে পেরে অসুস্থ হয়ে গেলেন বা কেউ হার্ট অ্যাটাক করে ফেললেন, এগুলোর কি হবে। এগুলো কি বলা হচ্ছে মানবাধিকার।’

    তিনি বলেন, এখন সেনাবাহিনীতে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম আছে। কোনো কর্মকর্তার বিচার চলাকালীন সময়ে সেনাবাহিনীর নিয়মে বয়স শেষ হয়ে গেলে সে তো অবসরে চলে যাবেন। তখন সে খালাস হলেও তো তাকে আমরা চাকরিতে নিতে পারব না। তাই ট্রাইব্যুনালের ওই আইনের বিষয়ে আমরা যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে এর ব্যাখ্যা চাইব।

    চার্জশিটে যেসব কর্মকর্তাদের নাম এসেছে তাদের বিরুদ্ধে সেনা আইনে কোনো কার্যক্রম চলছে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গুম সংক্রান্ত আমাদের ন্যাশনাল একটা কমিশন আছে। এই কমিশনকে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছি। বাংলাদেশ আর্মি জাস্টিসের প্রতি অটল। যেটা জাস্টিস হবে বাংলাদেশ আর্মি সেটার পক্ষে থাকবে।

    অপর এক প্রশ্নের জবাবে সেনাবাহিনীর এই মেজর জেনারেল বলেন, গুম কমিশনের প্রতিবেদনে কিন্তু বলা হয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অর্গানাইজেশন হিসেবে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। আমাদের কতিপয় অফিসার কেউ হয়তো র‍্যাবে ছিল, কেউ হয়তো ডিজিএফআইয়ে ছিল, কিন্তু তারা আর্মিতে থাকা অবস্থায় কিন্তু না। র‍্যাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্ডারে, আর্মি সদর দপ্তরের আন্ডারে নয়। ডিজিএফআই সরাসরি প্রাইম মিনিস্টার অফিসের আন্ডারে, কখনোই আর্মির আন্ডারে নয়। বর্তমানেও ডিজিএফআই প্রধান উপদেষ্টার অফিসের আন্ডারে। যেহেতু তারা আমাদের সদস্য, তাই তারা আমাদের হেফাজতে আছেন। অভিযোগপত্র আমাদের কাছে আসলে আমরা বুঝতে পারব কে কতটুকু জড়িত।

    ট্রাইব্যুনাল একটি নির্দিষ্ট ডেট দিয়েছে অভিযুক্তদেরকে হাজির করার বিষয়ে— প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এখানে যেটা আইনগতভাবে হওয়ার কথা সেটা হবে।

    আইনগত প্রক্রিয়াটা কী হবে এবং ২২ তারিখে তাদেরকে আদালতে হাজির করা যাবে কিনা— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনের বিষয়ে আমরা একটা ব্যাখ্যা চাইব। ব্যাখ্যা পাওয়ার পর, ২২ তারিখের বিষয়টা আমরা আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেব।

    নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, পুরো জাতি এখন নির্বাচনমুখী। গত ১৩-১৪ মাস ধরে সেনাবাহিনী মাঠে কাজ করছে। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নে সেনা সদস্যরা বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের পরিমাণ তিনগুণ পর্যন্ত বাড়ানো হবে বলে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। ট্রেনিং, পোস্টিং, প্রমোশনসহ সব ধরনের প্রস্তুতি চলছে। এমন সময় এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঘটনাটি সেনা সদস্যদের মনোবলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। তবে সবকিছুর ঊর্ধ্বে থেকে আমরা সবসময় ন্যায়ের পক্ষে থাকব।

    আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অবসরে যাওয়া যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে, তাদের পুলিশ চাইলে গ্রেপ্তার করতে পারে। আমরা শুধু বলেছি, যদি তারা আমাদের হেফাজতে আসতে চায়, তাহলে সেটাও সম্ভব। তবে মনে রাখতে হবে, অবসরপ্রাপ্তরা সরাসরি সেনা সদর দপ্তরের অধীন নন।

    প্রসঙ্গত, গত ৮ অক্টোবর গুম-খুনসহ মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক ও বর্তমান ২৪ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২১ অক্টোবরের মধ্যে তাদের গ্রেপ্তার করে ২২ অক্টোবর ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

  • বীরগঞ্জে আইন-প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন।

    বীরগঞ্জে আইন-প্রশাসন সহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন।

    গতকাল ১২ অক্টোবর রবিবার সকাল ১১ টায় দিনাজপুরের বীরগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয় হলরুমে একতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু করার পক্ষে এক সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

     

    উক্ত সাংবাদিক সম্মেলনে যৌথ মালিকানাধীন বীরগঞ্জ পৌর শহরের ঠাকুরগাঁও বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন বহুল পরিচিত, স্বাস্থ্য সেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী প্রতিষ্ঠান, “একতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার”- এর মালিকগন বলেন, তারা তাদের অতীতের অনিচ্ছাকৃত ভুলত্রুটির জন্য আইন-প্রশাসন ও সর্বস্তরের মানুষের নিকট আন্তরিক ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। দুঃখ প্রকাশসহ অঙ্গিকার করেন যে, ক্লিনিক চালুর পর থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন, মানসম্মত আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারসহ সুদক্ষ প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও নার্সের দ্বারা ব্যবসায়ীক কর্মকান্ড তথা প্রসূতি অপারেশন করাবেন।

    যে কোন প্রকার দুর্ঘটনা এড়াতে সজাগ থাকবেন।

    তারা বলেন আমরা অনুতপ্ত, ক্লিনিকেও নয় মেডিক্যাল কলেজে নেয়ার পর এক প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় সীমাহীন হয়রানি এবং বিপুল পরিমান আর্থিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি।

    আমরা কয়েক মাস যাবত ক্লিনিকে কর্মরত নার্স, আয়া ও কর্মচারীগনসহ মানবেতর জীবনযাপন করছি ।

    ইতোমধ্যে একতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়মতান্ত্রিক
    ভাবে পরিচালনার জন্য লাইসেন্স সহ যাবতীয় কাগজপত্রাদি হালনাগাদ করা হয়েছে।

    তাই খুব শিঘ্রই আমাদের একতা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার কে পুর্বের ন্যায় কর্মক্ষম করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন স্বত্বাধিকারী রেজাউল করিম রিপন সঙ্গে ছিলেন অপর দুই পার্টনার জিয়াউর রহমান জিয়া ও সোহেল রানা।

  • বীরগঞ্জে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ২০২৫ ইং

    বীরগঞ্জে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ২০২৫ ইং

    দিনাজপুরের বীরগঞ্জে শুরু হয়েছে টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৫

     

    রবিবার (১২ অক্টোবর ) সকালে বীরগঞ্জ পৌরসভার ইব্রাহিম মেমোরিয়াল শিক্ষা নিকেতন, ক্রিসেন্ট ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এবং ডেলাইট স্কুলে ক্যাম্পেইনের শুভ উদ্বোধন করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আফরোজ সুলতানা এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) দীপংকর বর্মন ।

     

    এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল) ডা. নিলয় দাস, উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জুলফিকার আলী শাহ, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোছা. শাহজিদা হক, সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।