Author: তরঙ্গ টিভি

  • ১২ অক্টোবর থেকে শুরু জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন

    ১২ অক্টোবর থেকে শুরু জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন

    দেশব্যাপী টাইফয়েড জ্বর প্রতিরোধে আগামী ১২ অক্টোবর ২০২৫ থেকে শুরু হচ্ছে জাতীয় টাইফয়েড টিকাদান ক্যাম্পেইন, যা চলবে ১৩ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত। সরকারের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) ও ইউনিসেফের সহযোগিতায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনে ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী সব শিশুকে একটি করে টাইফয়েড টিকা বিনামূল্যে প্রদান করা হবে।

     

    পাবনা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ জানিয়েছেন, জেলার ৭,৭৪,৮০৯ জন শিশুকে টিকা দেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

    জেলার ২,৯৭৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা ১২ থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত নিজ নিজ বিদ্যালয় থেকেই এই টিকা গ্রহণ করতে পারবে।

    অন্যদিকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরের ৯ মাস থেকে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুরা ১ থেকে ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত জেলার ১,৮৬০টি ইপিআই কেন্দ্রে টিকা নিতে পারবে।

    পাবনা জেলা সদরসহ সকল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, পাবনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল, এবং পাবনা, ঈশ্বরদী, বেড়া ও সুজানগর পৌরসভায় প্রতিদিন (সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত) এ টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

    রেজিস্ট্রেশন ও টিকা কার্ড ডাউনলোড পদ্ধতি টিকা নিতে হলে অভিভাবকদের জন্ম নিবন্ধনের ১৭ সংখ্যার তথ্য ব্যবহার করে www.vaxepi.gov.bd ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করে টিকা কার্ড ডাউনলোড করতে হবে। যাদের জন্ম নিবন্ধন এখনো হয়নি অথবা বয়স ১৫ বছরের বেশি, তাদেরকে স্থানীয় স্বাস্থ্য সহকারীর সহযোগিতা নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

    টাইফয়েড: প্রতিরোধযোগ্য একটি রোগ
    স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, টাইফয়েড হলো একটি ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রামক রোগ, যা সাধারণত দূষিত পানি ও খাদ্য গ্রহণের মাধ্যমে ছড়ায়। প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হন, যার মধ্যে ১ লাখ ১০ হাজারেরও বেশি মৃত্যুবরণ করে। বাংলাদেশে এই রোগের প্রাদুর্ভাব তুলনামূলকভাবে বেশি এবং ১৫ বছরের নিচে বয়সী শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

    টাইফয়েডের সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে: জ্বর,
    মাথাব্যথা, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা, শারীরিক দুর্বলতা,
    গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান।

    গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে সিভিল সার্জন ডা. মোঃ আবুল কালাম আজাদ বলেন, “টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকার গুরুত্ব ও কার্যকারিতা সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে। গুজব প্রতিরোধে গণমাধ্যমের ইতিবাচক ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

    তিনি আরও জানান, সরকারের ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ব্যবহৃত এই টাইফয়েড টিকা নিরাপদ, কার্যকর এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) অনুমোদিত।

    প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন: মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), ডাঃ রাশেদুল বারী, প্রতিনিধি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), সাদিক আহমেদ, সহকারী পুলিশ সুপার, সুজানগর সার্কেল, মোঃ খায়রুল কবির, ডেপুটি সিভিল সার্জন, মোঃ সামিউল আলম, সিনিয়র তথ্য অফিসার, আখতারুজ্জামান আখতার, সভাপতি, পাবনা প্রেসক্লাব। সভাপতিত্ব করেন সিভিল সার্জন ডাঃ মোঃ আবুল কালাম আজাদ।

  • ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান পরিচালনা করেন দাগনভূঞা পৌরসভা

    ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযান পরিচালনা করেন দাগনভূঞা পৌরসভা

    ফেনীর দাগনভূঞায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধনে অভিযান পরিচালনা করেছেন দাগনভূঞা পৌরসভা।

     

    বৃহস্পতিবার (০৯অক্টোবর ) এই কর্মসূচি পালন করা হয়।দাগনভূঞা পৌরসভা আওতাধীন ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে রেলি বাহির করা হয়।

     

    রেলিটি হাসপাতালের সড়ক হয়ে ফেনী দাগনভূঞা মহাসড়কে এসে শেষ হয়। এ-সময় পৌর প্রশাসন ও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে পরিচ্ছন্ন কর্মীরা সড়কে ফেলে রাখা ময়লা পরিষ্কার করেন এবং এডিস মশা নিধনে স্প্রে করেন।

     

    ডেঙ্গু প্রতিরোধ অভিযানে অংশগ্রহণের জন্য সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে পৌর প্রশাসক বলেন, দাগনভূঞা পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে অভিযান পরিচালনা করা হবে।

  • পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাই, নেতৃত্বে জুলাইয়ের হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি

    পুলিশ পিটিয়ে আসামি ছিনতাই, নেতৃত্বে জুলাইয়ের হত্যাসহ ১১ মামলার আসামি

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়ায় গত ১২ মার্চ ‘মব’ সৃষ্টি করে প্রকাশ্যে পুলিশ পিটিয়ে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র হত্যার পাঁচ মামলার আসামি ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য গোলাম মোস্তফাকে ছিনিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আওয়ামী লীগেরই আরেক নেতা আনিসুর রহমান সোহাগ।

     

    আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার এ মিশন বাস্তবায়নে সোহাগকে সহায়তা করেন দুই সহযোগী- আরিফুল হাসান মীর সাগর ও সোহেল শাহরিয়ার। আর পুরো মিশন বাস্তবায়নে ১৭ জন সরাসরি হামলায় নেতৃত্ব দেন।

    অভিযুক্ত সোহাগ জুলাই আন্দোলনের ১১টি হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলার আসামি। তবে ছিনতাই হওয়া গোলাম মোস্তফা দেশে নাকি দেশের বাইরে পালাতে সক্ষম হয়েছেন, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। পলাতক আওয়ামী লীগ নেতা গোলাম মোস্তফাসহ অন্যরা যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন, সেজন্য পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

    মোহাম্মদপুরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলার অভিযোগপত্রে (চার্জশিট) এসব তথ্য উঠে এসেছে।

    এর আগে ১২ মার্চ মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকার বি-ব্লকের একটি সড়ক থেকে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে গোলাম মোস্তফাকে এক নম্বর আসামি করে অজ্ঞাত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করে।

    মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শাহদাত হোসেন ঢাকা পোস্টকে বলেন, মামলার তদন্ত শেষে অনুসন্ধানে প্রাপ্ত গোলাম মোস্তফা, মূল পরিকল্পনাকারী আনিসুর রহমান সোহাগসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে গত মাসে মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার চার্জশিটে অভিযুক্ত অন্যরা হলেন- আরিফুল হাসান মীর সাগর, সোহেল শাহরিয়ার, দেলোয়ার হোসেন মন্ডল, আব্দুল্লাহ শেখ, সাইফুজ্জামান শোভন, রাজিব শিকদার, আসলাম শিকদার, রাকিব ঠাকুর, হাসানাত সরদার ওরফে হাসান, মেহেদী হাসান সাব্বির, জহিরুল ইসলাম, আরিফিন আলম ওরফে ইমন, আসাদুজ্জামান আসাদ, সানিয়াত সরদার ও হাসিব মুন্সী।

    জানতে চাইলে তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আসামিরা সরকারি কাজে বাধা দিয়েছে এবং পুলিশের ওপর হামলা করে আহত করেছে। এগুলো ভিডিও ফুটেজে প্রমাণ আছে। অভিযুক্তদের এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি, তবে চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

    তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দেওয়া আনিসুর রহমান সোহাগ লালমাটিয়ার অ্যাভেরোজ ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের সাবেক অধ্যক্ষ। ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সদস্য সোহাগের বিরুদ্ধে জাল সনদে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের অধ্যক্ষ বনে যাওয়া, প্রতারণার মাধ্যমে ব্যবসায়িক অংশীদারদের ঠকানো, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এপিএস হাফিজুর রহমান লিকুর সম্পত্তি দেখভালের দায়িত্বে থাকার অভিযোগ রয়েছে।

    পল্লবী থানা, মোহাম্মদপুর, ভাটারা, শাহআলী, গুলশান, চকবাজার, পল্টন, মিরপুর মডেল থানা, বাড্ডা থানা ও রামপুরা থানায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের হত্যা ও হত্যাচেষ্টার ১১টি মামলার আসামি তিনি।

    আদালতে দেওয়া পুলিশের চার্জশিটে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় অ্যাভেরজ স্কুলের দ্বিতীয় তলায় অফিস কক্ষে অবস্থান করছিলেন আনিসুর রহমান সোহাগ, আরিফুল হাসান মীর সাগর ও সোহেল শাহরিয়ার। তারা নিচে নেমে হুকুম দিয়ে হামলার নেতৃত্ব দেন। এতে মোহাম্মদপুর থানার এসআই মো. শহিদুল আহত হয়ে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। এ ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি। তবে আসামিরা দেশ ত্যাগের চেষ্টা করছে— এমন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ইমিগ্রেশন শাখার বিশেষ পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দিয়েছে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা।

    জানা গেছে, আওয়ামী লীগ নেতা জাহাঙ্গীর কবির নানকের অন্যতম সহযোগী এই গোলাম মোস্তফা। তার নামে মোহাম্মদপুর, রামপুরা, বাড্ডা, ক্যান্টনমেন্ট ও চকবাজার থানায় জুলাই আন্দোলনে পাঁচটি হত্যা মামলা রয়েছে।

  • জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে ১৫ অক্টোবর

    জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে ১৫ অক্টোবর

    আগামী ১৫ অক্টোবর জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হবে। ঐতিহাসিক এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

    বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে ঐকমত্য কমিশন কার্যালয়ের সভাকক্ষে কমিশনের এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।

    কমিশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা পবন চৌধুরী এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

    পবন চৌধুরী জানান, ঐকমত্য কমিশনের বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মতামত এবং রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের পাঁচটি বৈঠকে প্রাপ্ত মতামত বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে আশা প্রকাশ করা হয় যে, বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে এবং রাজনৈতিক দলগুলো থেকে প্রাপ্ত অভিমত বিশ্লেষণ করে খুব শিগগিরই বাস্তবায়নের উপায় সংক্রান্ত সুপারিশ এবং চূড়ান্তকৃত জুলাই সনদ সরকারের কাছে জমা দেওয়া হবে।

    বৈঠকে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ, সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার, বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. ইফতেখারুজ্জামান ও ড. মো. আইয়ুব মিয়া উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ায় যুক্ত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দারও সভায় অংশ নেন।

  • হামজাকে বেঞ্চে রাখতে চাওয়া হংকং কোচের মাঠ নিয়ে ক্ষোভ

    হামজাকে বেঞ্চে রাখতে চাওয়া হংকং কোচের মাঠ নিয়ে ক্ষোভ

    সন্ধ্যা ছয়টা পাঁচ মিনিটে প্রেস কনফারেন্স। স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের ভিড়। তখনও হংকং দল অনুশীলনে। মিনিট পনেরো বিলম্বে কোচ এস্টেবান ওয়েস্টন এসেছেন। মধ্যবয়সী বাকপটু কোচ বাংলাদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নে কখনো মজা করেছেন আবার কখনো অভিযোগও তুলেছেন।

    বাংলাদেশ দলের প্রাণভোমরা হামজা দেওয়ান চৌধুরি। যিনি লেস্টার সিটিতে খেলছেন। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ খেলারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। হামজা আসার পর শুধু বাংলাদেশ নয় দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবলেই উন্মাদনা বেড়েছে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশের গ্রুপে পড়া হংকং কোচকে তাই এক সাংবাদিক জিজ্ঞেস করলেন, ‘হামজা হংকংয়ে খেললে কোথায় খেলাতেন?’ সাংবাদিকের প্রশ্ন শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে কোচ বললেন, ‘অন দ্য বেঞ্চ।’

    হামজাকে তার দলে খেলালে বেঞ্চে রাখার কথা বললেও প্রতিপক্ষ দলের হামজা খেলার টার্নিং পয়েন্ট হতে পারেন এটা অবশ্য হংকং কোচের ভালোই জানা। হামজাকে নিয়ে তার মন্তব্য, ‘না, বিশেষ কোনও পরিকল্পনা নেই। আমরা তার সামর্থ্য সম্পর্কে জানি। ইংল্যান্ডে সে ডিফেন্ডার, রাইট-ব্যাক হিসেবে খেলে, তবে মিডফিল্ডেও খেলতে পারে। কিন্তু একটা দল একজন খেলোয়াড় দিয়ে হয় না। আমরাও কিছু ভালো খেলোয়াড় রাখি, কিন্তু দলীয় খেলায় বিশ্বাস করি, সবার অবদান গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের সব খেলোয়াড় এবং বদলি খেলোয়াড়দের কাজে লাগাবো। মূল বিষয় হলো দল।’

    হংকং ৬ তারিখ মধ্যরাতে ঢাকায় এসেছে। গতকাল উত্তরায় অনুশীলন করেছে। আজ জাতীয় স্টেডিয়ামে ম্যাচ ভেন্যুতে ঘন্টা খানেক ঘাম ঝরিয়েছে। ভেন্যু নিয়ে খানিকটা অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি পিচ আরও ভালো হতে পারতো। বাংলাদেশ প্রতিদিন মাঠ ব্যবহার করেছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। এএফসি ম্যাচের আগে ২-৩ দিন মাঠ ব্যবহার না করাই উচিত, কিন্তু তারা তা করেনি। ফলে মাঠের মান খারাপ হয়েছে। তবে আমরা এটা নিয়ে খুব একটা ভাবছি না। উভয় দলকেই এই মাঠে খেলতে হবে। নিজেদের খেলা দিয়েই ম্যাচে টিকে থাকবো।’

    হংকংয়ের র‍্যাঙ্কিং ১৪৬, সেখানে বাংলাদেশের ১৮৪। এরপরও বাংলাদেশকে সমীহ করছেন হংকংয়ের কোচ, ‘আমরা লিখটেনস্টাইনের (২০৩ নম্বরে) কাছে হেরেছিলাম, যারা ইউরোপে খেলে। তাই বলা যায় র‍্যাঙ্কিং নয়, আমরা প্রতিপক্ষকে দেখি, খেলোয়াড়দের দেখি। ফুটবলে অনেক কিছু ভূমিকা রাখে। সব কিছু মিলে একটা ম্যাচ হয়। দুই দলের মধ্যে বিশাল পার্থক্য নেই।’

    হংকং দল এবার আলোচনায় ন্যাচারালাইজড ফুটবলার সংখ্যা নিয়ে। এ নিয়ে আজ প্রশ্ন হলে কোচের মন্তব্য, ‘আমার দলে ২৩ জন হংকং পাসপোর্টধারী খেলোয়াড় রয়েছে। তারা নিয়ম মেনে দলে এসেছে। জাতি নিয়ে আমরা চিন্তা করি না। এটা নির্ভর করে না আপনি কোন দেশ থেকে এসেছেন।’

  • বিশ্বকাপের টিকিট পেল সালাহর মিসর

    বিশ্বকাপের টিকিট পেল সালাহর মিসর

    গতকাল বিশ্বকাপ বাছাইয়ে জিবুতিকে হারিয়েছে মিসর। এই জয়ে আফ্রিকা অঞ্চলের ‘এ’ গ্রুপে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মিসর। তাতে ৮ বছর পরে আবারো বিশ্বকাপের টিকিট পেল মোহাম্মদ সালাহরা

    কাসাব্লাংকায় জিবুতির বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয় পেয়েছে মিসর। যেখানে জোড়া গোল করে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন দেশটির সবচেয়ে বড় তারকা লিভারপুল ফরোয়াড মোহাম্মদ সালাহ।

    বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ৯ ম্যাচ খেলে ২৩ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মিসর। তাদের এখনো এক ম্যাচ বাকি থাকলেও ইতোমধ্যেই বিশ্বকাপ টিকিট নিশ্চিত হয়ে গেছে। এই মিশনে মিসরের হয়ে ৯টি গোল করেছেন সালাহ। এবারের বাছাইপর্বে আফ্রিকা অঞ্চলে সালাহই সর্বোচ্চ গোলদাতা।

    চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেল মিসর। ১৯৩৪ সালে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলেছিল তারা। এরপর ১৯৯০ ও ২০১৮ বিশ্বকাপে সুযোগ পেয়েছে। গত বিশ্বকাপে জায়গা না পেলেও এবার তারা ফিরছে বিশ্বমঞ্চে।

    ১৯তম দল হিসেবে ২০২৬ বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করল মিসর। ৪৮ দলের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেবে আরও ২৭টি দল।

    এখনো পর্যন্ত বিশ্বকাপ নিশ্চিত করা দলগুলো-

    কানাডা (স্বাগতিক), মেক্সিকো (স্বাগতিক) ও যুক্তরাষ্ট্র (স্বাগতিক), আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, প্যারাগুয়ে, উরুগুয়ে, অস্ট্রেলিয়া, ইরান, জাপান, জর্ডান, দক্ষিণ কোরিয়া ও উজবেকিস্তান, মরক্কো, তিউনিসিয়া, মিসর ও নিউজিল্যান্ড।

  • নাইজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

    নাইজেরিয়াকে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টারে আর্জেন্টিনা

    ফিফা অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপে শেষ ষোলোর ম্যাচে নাইজেরিয়া অনূর্ধ্ব-২০ দলকে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ দল। সহজ জয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট কাটল আর্জেন্টিনা যুব দল।

    নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ৪-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তাদের হয়ে জোড়া গোল করেছেন মাহের কারিজ্জো। এ ছাড়া একটি করে গোল করেছেন আলেহো সারকো ও মাতেও সিলভেত্তি।

    ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয় মিনিটেই গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন বায়ার লেভারকুসেনের ফরোয়ার্ড আলেহো সারকো। এই টুর্নামেন্টে দলটির হয়ে এটাই দ্রুততম গোলের রেকর্ড।

    মিনিট বিশেক পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মাহের কারিজ্জো। ফ্রি কিক থেকে দারুণ এক গোল করেন তিনি। বিরতির আগে আর গোল করতে পারেনি কোনো দল। ফলে ২-০ গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যায় তারা।

    বিরতি থেকে ফিরেই আবার গোলের দেখা পায় আর্জেন্টিনা। ৫৩তম মিনিটে বাঁ পায়ের শটে আবারো জাল খুঁজে পান মাহের। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে আবারো গোল করে আর্জেন্টিনা। এবার গোল পান ইন্টার মায়ামি উইঙ্গার মাতেও সিলভেত্তি।

    আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় কোয়ার্টার ফাইনালে মেক্সিকোর মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।

  • শেষ ওভারের থ্রিলারে ঢাকার বিদায়, কোয়ালিফায়ারে রংপুর

    শেষ ওভারের থ্রিলারে ঢাকার বিদায়, কোয়ালিফায়ারে রংপুর

    জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) টি-টোয়েন্টিতে ঢাকা ও রংপুর বিভাগের লো স্কোরিং ম্যাচেও ফল এসেছে শেষ ওভারে। ঢাকার দেওয়া ১২৪ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ১৮ ওভার শেষে রংপুরের জয় পেতে দরকার ছিল ১০ রান, হাতে ছিল ৪ উইকেট। পরের ওভারে ২ রানে ২ উইকেট হারানোয় সেই ম্যাচ আরও রোমাঞ্চকর হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ১ বল এবং ১ উইকেট হাতে রেখে জিতল রংপুর।

    এই জয়ে রংপুর বিভাগ এনসিএল টি-টোয়েন্টির কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করেছে। একইসঙ্গে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে ঢাকার। আজ (বৃহস্পতিবার) সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি ছিল এলিমিনেটর। ফলে বাদ পড়লেই যে বিদায় সেই সমীকরণ আগেই জানা ছিল। অন্যদিকে, ফাইনালে ওঠার লক্ষ্যে রংপুরকে প্রথম কোয়ালিফায়ারে (চট্টগ্রাম-খুলনা) পরাজিত দলের মোকাবিলা করতে হবে।

    এর আগে টসে জিতে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে ঢাকা নির্ধারিত ২০ ওভারে সব উইকেট হরিয়ে ১২৩ রান তোলে। তাদের পক্ষে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত সর্বোচ্চ ৬১ রান করেন। তার ৩৬ বলের ইনিংসটি সাজিয়েছেন ৬ ছক্কা ও ২ চারে। সৈকত ক্রিজে এসেছিলেন দলের ৪ উইকেটে ২৬ রান তোলার পর। ফলে বোঝাই যাচ্ছে তার বিধ্বংসী ইনিংস না পেলে ঢাকা লড়াইয়ের পুঁজিও পেত না। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫ রান করেন শুভাগত হোম। বিপরীতে রংপুরের হয়ে নাসুম আহমেদ, নাসির হোসেন ও আবু হাশিম দুটি করে উইকেট নেন।

    শেষ ওভারের থ্রিলারে ঢাকার বিদায়, কোয়ালিফায়ারে রংপুর

    লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৪৮ রানে পঞ্চম ও ৫২ রানে ষষ্ঠ উইকেট হারায় রংপুর। ওই পরিস্থিতি কাটিয়ে ৪৪ রান করে দলকে জয়ের পথ দেখান অধিনায়ক আকবর আলি। অলরাউন্ডার নাসুম আহমেদের সঙ্গে গড়েন ৪১ বলে ৬২ রানের জুটি। শেষ ওভারে আউট হওয়ার আগে আকবর ২৯ বলে ৪ চার ও এক ছক্কায় ৪৪ রান করেন। তার সঙ্গে নাসুমের জুটি জয়ের পথে ছুটলেও ১৯তম ওভারে মোড় ঘুরিয়ে দেন স্পিনার রায়হান রাফসান। তিনি ২ রানে ২ উইকেট নেন।

    dhakapost

    তখনও আকবর ক্রিজে থাকায় ভরসা ছিল রংপুরের। শেষ ওভারে জয় পেতে প্রয়োজন ৮ রান। রিপন মণ্ডলের বলে স্কুপে চার মারেন আকবর, কিন্তু পরের বলেই ক্যাচ আউট তিনি। শেষ উইকেটে তাদের জয়ের জন্য ৪ বলে ৪ রান লাগে। দুই বলে দুটি সিঙ্গেলের পর ওভারের পঞ্চম বলে চার মেরে রংপুরকে জেতান শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে উইকেটে আসা বোলার আবদুল গাফ্ফার। যা তাদের কোয়ালিফায়ার নিশ্চিত করে বিদায় করেছে মাহিদুল অঙ্কনের দলকে।

  • রংপুর বিভাগেই প্রথম হবে বিসিবির আঞ্চলিক অফিস!

    রংপুর বিভাগেই প্রথম হবে বিসিবির আঞ্চলিক অফিস!

    সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পর্ষদ নির্বাচনে সভাপতি হিসেবে জয়লাভ করেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট আমিনুল ইসলাম বুলবুল। নিজের প্রথম মেয়াদে বুলবুল জানিয়েছিলেন ক্রিকেটকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে চান।

    বাংলাদেশের ক্রিকেট মূলত ঢাকা কেন্দ্রীক। এটা অনেক বছর ধরে হয়েই আসছে। যে কারণে বুলবুল দায়িত্ব নিয়ে ঢাকার বাইরেও ক্রিকেট ছড়িয়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।

    নতুন মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর সেই বিষয়ে এগিয়ে যেতে চাইছে বিসিবি। ঢাকার বাইরে সব বিভাগেই আঞ্চলিক অফিস করার লক্ষ্য বিসিবির। যার প্রথমটি হতে পারে রংপুর বিভাগে। আজ (বৃহস্পতিবার) ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলাপ করেন রংপুর বিভাগের বিসিবি পরিচালক হাসানুজ্জামান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা সারজিস আলমও। তিনি রংপুরের সন্তান।

    এদিকে, আমিনুল ইসলাম বুলবুলের সঙ্গেও আলাপ করেছেন হাসানুজ্জামান। বিসিবি সভাপতি আশ্বস্ত করেছেন রংপুরেই শুরু হবে প্রথম কাজ। ঢাকা পোস্টকে হাসানুজ্জামান বলেন, ‘বুলবুল ভাই আঞ্চলিক ক্রিকেটে উন্নতির কথা বলেছেন। কিছু জায়গায় মিস কমিউনেকেশন হয়েছে যে রাজশাহী এবং রংপুর বিভাগ একসাথে হবে। তবে রংপুর আলাদাভাবেই শুরু হবে এবং সবার প্রথমে ইনশাআল্লাহ।’

    প্রথম মেয়াদে বিসিবি সভাপতি হওয়ার পর রংপুরে গিয়েছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। 

    প্রথম মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর বুলবুল সবচেয়ে বেশি জোর দিয়েছিলেন ক্রিকেট বিকেন্দ্রীকরণের প্রতি। তখন গণমাধ্যমে বিসিবি পরিচালক ইফতেখার মিঠু বলেছিলেন, ‘তিনি (বিসিবি সভাপতি) প্রধানত বিকেন্দ্রীকরণের কথা বলেছেন। আমরা অনেক দিন ধরে বলছি ঢাকা থেকে ক্রিকেটটা ছড়িয়ে দিতে।’

  • বিশ্ববাজারে সোনার দামে রেকর্ড

    বিশ্ববাজারে সোনার দামে রেকর্ড

    বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ঠেলে দিয়েছে সোনার বাজারে। ফলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সোনার দাম প্রতি আউন্স ৪ হাজার মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

    ১৯৭০-এর দশকের পর এটাই সোনার নামে সবচেয়ে বড় উল্লম্ফন। চলতি এপ্রিলের পর থেকে বিশ্ববাজারে সোনার দাম প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৈশ্বিক বাণিজ্যে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টিকারী নতুন শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন।

    বিশ্লেষকরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে দ্বিতীয় সপ্তাহে প্রবেশ করা চলমান শাটডাউনের কারণে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশে বিলম্ব ঘটেছে। এটিও বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

    বিশ্বজুড়ে সোনাকে দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিরাপদ বিনিয়োগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে আসছে। কারণ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা কিংবা বাজারের অস্থির সময়েও সোনার মূল্য বজায় থাকে কিংবা বৃদ্ধি পায়।

    এদিকে, ব্রিটেনের ব্যাংক অব ইংল্যান্ড (বিওই) সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বাজারমূল্য ‌অতিরিক্ত ফুলে-ফেঁপে উঠেছে এবং এতে আর্থিক বাজারে ‌‘সংশোধনের ‌তীব্র ঝুঁকি’ তৈরি হতে পারে।

    সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের শেয়ারবাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর উত্থানের কারণে শেয়ারের দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। তবে ১০ শতাংশ কিংবা তার বেশি পতন ঘটলে সেটিকে ‘কারেকশন বা সংশোধন’ ধরা হয়।

    বুধবার বিকেলে এশিয়ার বাজারে স্পট গোল্ডের মূল্য বাড়তে বাড়তে আউন্স প্রতি ৪ হাজার ৩৬ ডলারে পৌঁছায়। আগের দিনও স্পট গোল্ড ফিউচারের মূল্য প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

    সিঙ্গাপুর-ভিত্তিক ওসিবিসি ব্যাংকের রেইট স্ট্র্যাটেজিস্ট ক্রিস্টোফার ওং বলেন, মার্কিন সরকারের অচলাবস্থা সোনার দাম বৃদ্ধিতে সহায়ক হিসেবে কাজ করছে। ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে মাসব্যাপী শাটডাউনের সময়ও সোনার দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছিল। তবে শাটডাউন যদি প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে শেষ হয়, তাহলে দাম কমতেও পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন তিনি।

    সিঙ্গাপুরের ইউওবি ব্যাংকের বাজার কৌশলবিষয়ক প্রধান হেং কুন হাউ বলেন, ‘‘সোনার এই নজিরবিহীন উত্থান বিশ্লেষকদের পূর্বাভাসকেও ছাড়িয়ে গেছে। তার মতে, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা এবং খুচরা (অ-পেশাদার) বিনিয়োগকারীদের ক্রয়ও সোনার দাম বৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখছে।’’

    যদিও স্বল্পমেয়াদী অনিশ্চয়তার কারণে সাম্প্রতিক এই দামবৃদ্ধির ঘটনা ঘটেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর কৌশলগতভাবে সোনা কেনা, মার্কিন ট্রেজারি ও ডলারের ওপর নির্ভরতা কমানোর প্রচেষ্টাই দীর্ঘমেয়াদে সোনার দামের উত্থানপতনের মূল চালিকা শক্তি।

    ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো একত্রে ১ হাজার টনের বেশি সোনা কিনছে; যেখানে ২০১০–২০২১ সময়কালে গড় ক্রয় ছিল ৪৮১ টন। আর গত বছর বিশ্বে সবচেয়ে বড় ক্রেতাদের মধ্যে ছিল পোল্যান্ড, তুরস্ক, ভারত, আজারবাইজান ও চীন।

    সব বিনিয়োগকারী সরাসরি সোনা কেনেন না। অনেকে বিনিয়োগ করেন স্বর্ণ নির্ভর এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডে (ইটিএফ)। বিশ্ব স্বর্ণ পরিষদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের এখন পর্যন্ত সোনা-নির্ভর ইটিএফে ৬৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে; যা রেকর্ড।

    মূল্যবান ধাতুর বিক্রেতা ও সরবরাহকারী সিলভার বুলিয়নের প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগর গ্রেগারসেন, গত এক বছরে তাদের গ্রাহকসংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। সোনার দাম হয়তো কমবে। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে অন্তত আগামী পাঁচ বছর এটি ঊর্ধ্বমুখী থাকবে।

    সূত্র: বিবিসি।