Author: তরঙ্গ টিভি

  • গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনাই ‘সেরা’ : রাশিয়া

    গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য ট্রাম্পের পরিকল্পনাই ‘সেরা’ : রাশিয়া

    পারস্পরিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈরিতা থাকলেও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে সমর্থন করে রাশিয়া। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এ তথ্য জানিয়েছেন।

    ল্যাভরভ অবশ্য বলেছেন, গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য এই মুহূর্তে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ‘সেরা’ হলেও ‘আদর্শ’ নয়। তিনি আরও বলেছেন গাজায় যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তির জন্য ইসরায়েল, হামাস এবং তিন মধ্যস্থতাকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মিসর ও কাতার যদি রাশিয়ার কাছে কোনো ধরনের সহযোগিতা চায়, তাহলে তা দিতে প্রস্তুত আছে মস্কো।

    গতকাল মার্কিন সাময়িকী ফরেন অ্যাফেয়ার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছেন ল্যাভরভ। সেখানে গাজার সাম্প্রতিক পরিস্থিতি এবং ট্রাম্পের নতুন যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমরা বাস্তববাদী। সেই সঙ্গে আমরা অনুভব করতে পারছি যে গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাটি সেরা। আলোচনার টেবিলে এই মুহূর্তে এটির বিকল্পর আর কিছু নেই।”

    “এটি সেরা হলেও আদর্শ প্রস্তাব নয়। কারণ এই যুদ্ধের একদম মূল পয়েন্ট হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি। ট্রাম্পের প্রস্তাবে এ বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, শুধু ফোকাস করা হয়েছে গাজার ওপর।”

    “তবে এই মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো গাজায় রক্তপাত থামানো। এ কারণেই ট্রাম্পের প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং আশাব্যাঞ্জক।”

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনার ব্যাপারে ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এ সময় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু তার পাশে ছিলেন।

    সেদিন ট্রাম্প বলেছিলেন, গাজায় যুদ্ধের অবসান এবং স্থায়ী শান্তি স্থাপন সংক্রান্ত নতুন পরিকল্পনার কপি ইসরায়েল, হামাস এবং যুদ্ধের অপর দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ মিসর ও কাতারের কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং হামাস ব্যতীত বাকি সবাই তার পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে।

    ৩ অক্টোবর শুক্রবার হামাস সম্মতি জানানোর পরের দিন ৪ অক্টোবর ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। তার পর ৬ অক্টোবর মিসরের লোহিত সাগর তীরবর্তী পর্যটন শহর শারম আল শেখ- এ ট্রাম্পের প্রস্তাবের ওপর বৈঠক শুরু হয় ইসরায়েল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে।

    সেই বৈঠকে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলার পর গতকাল ট্রাম্পের পরিকল্পনার প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল-হামাস। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট করা এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন ট্রাম্প।

    প্রসঙ্গত, রাশিয়া শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান (টু স্টেট সলিউশন)-এর দৃঢ় সমর্থক। গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের হামলার জবাব দিতে ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে গাজায় অভিযান শুরু করে ইসরায়েলি বাহিনী; সে সময় প্রথম যেসব দেশ যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছিল— তাদের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। ২০২৩ সালের ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর সংস্থা নিরাপত্তা পরিষদে প্রথমবার গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব উত্থাপন করে রাশিয়া।

    সূত্র : আরটি

  • ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষরের পর গাজায় উচ্ছ্বাস

    ইসরায়েল-ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী চুক্তি স্বাক্ষরের পর গাজায় উচ্ছ্বাস

    ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাসের যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব সংক্রান্ত চুক্তিতে স্বাক্ষরের খবরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। কেউ খুশিতে কাঁদছেন-হাততালি দিচ্ছেন, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন-নাচানাচি করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন ‘আল্লাহু আকবর’।  

    ৫ সন্তানের মা ঘাদা এই খবর শোনার পর থেকে কাঁদছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কাঁদছি; কিন্তু এটা আনন্দের অশ্রু। মনে হচ্ছে, নতুন করে আবার আমাদের জন্ম হলো। আশা করছি, এই ভয়াবহ যুদ্ধের শেষ হচ্ছে।”

    ঘাদা জানান, গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। যে বাড়িতে তারা থাকতেন, সেটি ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর গত ১৫ মাস ধরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ তাঁবুতে বসবাস করছেন ঘাদা।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েল ও মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ মিসর ও কাতার সম্মতি দিলেও হামাস তখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    পরে ৩ অক্টোবর শুক্রবার হামাস সম্মতি জানানোর পরের দিন ৪ অক্টোবর ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। তার পর ৬ অক্টোবর মিসরের লোহিত সাগর তীরবর্তী পর্যটন শহর শারম আল শেখ- এ ট্রাম্পের প্রস্তাবের ওপর বৈঠক শুরু হয় ইসরায়েল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে।

    সেই বৈঠকে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলার পর গতকাল রাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল-হামাস।

    এই পর্যায়টির স্থায়িত্ব হবে ৬ সপ্তাহ। এই ছয় সপ্তাহে নিজেদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর পরিবর্তে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল রাতেই আনন্দ মিছিল বের করেন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের বাসিন্দারা। কিশোর তরুণরা বাঁশি-খঞ্জনি-ড্রাম বাজিয়ে, নেচে গেয়ে উল্লাস শুরু করেন।

    ইমান আল কৌকা নামের এক তরুণী এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন, আজ আমাদের দুঃখেরও দিন। এটা এমন দিন যার জন্য আমরা হাসব—আবার যুদ্ধে আমরা যাদের হারিয়েছি, যা যা হারিয়েছে—সেসব স্মরণ করে কাঁদব। আমরা শুধু আমাদের বন্ধু, স্বজন এবং বাড়িঘরই হারাইনি। আমরা আমাদের শহর হারিয়েছি। এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল আমাদের প্রাগৈতিহাসিক আমলে ঠেলে দিয়েছে।”

    ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় বাড়ি ঘর হারিয়ে গত বছর খান ইউনিসের দেইর আল বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন গাজার অপর বাসিন্দা আহমেদ দাহমান। রয়টার্সকে তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর বোমার আঘাতে বাড়িঘরের পাশাপাশি নিজের বাবাকেও হারিয়েছেন তিনি; কিন্তু তাকে দাফন করতে পারেননি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাবার মরদেহ রেখেই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে হয়েছে তাদের।

    রয়টার্সকে দাহমান বলেন, “অবশেষে গাজায় রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে এবং আমাদের জীবন রক্ষা পাচ্ছে—এটা আনন্দের খবর। তবে আমি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। আমরা যখন ফিরব, তখন দেখব যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।”

    “আমার বাবার লাশ ধ্বংসস্তূপের তলায় রেখে পালাতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে আমার প্রথম কাজ হবে বাবার দেহাবশেষ খুঁজে বের করে তার দাফন সম্পন্ন করা।”

    আহমেদ দাহমানের মা বুশরা বলেন, “এ যুদ্ধবিরতি আমার স্বামীকে ফেরত দিতে পারবে না। কিন্তু অন্তত অনেকের জীবন রক্ষা পাবে। আমি কাঁদব, এমন কান্না যা এর আগে কখনও, কোনোদিন কাঁদিনি। এই নিষ্ঠুর যুদ্ধ আমাদের কাঁদার সময় দেয়নি।”

    সূত্র : রয়টার্স

  • ৬ বছরের রেকর্ডভাঙা ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ায় কাঁপছে দিল্লি

    ৬ বছরের রেকর্ডভাঙা ম্যালেরিয়া-ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়ায় কাঁপছে দিল্লি

    গত কয়েক বছরের তুলনায় এবছর অনেক বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লি এবং রাজধানী সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। ফলে মশার বিস্তার হয়েছে ব্যাপকভাবে এবং মশাবাহিত তিন রোগ- ম্যালেরিয়া, ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ায় রীতিমতো কাঁপছে দিল্লি।

    দিল্লির রাজ্য সরকারের অধীন নয়াদিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন-এর তথ্য অনুসারে, গত ২৯ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত রাজধানীতে ম্যালেরিয়ায় ৩৭১ জন, চিকুনগুনিয়ায় ৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে ৭৫৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

    গত বছর এই সময়ে নয়াদিল্লিতে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ২৩৭ জন এবং চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৪২ জন।

    দিল্লির স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ২০২১ সালের তুলনায় চলতি বছর ৫ গুণ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ওই বছর সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে মাত্র ৬৬ জন ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    ডেঙ্গু যদিও এখনও তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে যেকোনো সময় আক্রান্তের সংখ্যায় উল্লম্ফন ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ২০২৩ সালে নয়াদিল্লিতে ২ হাজার ৭০১ জন আক্রান্ত হয়েছিলেন।

    নয়াদিল্লির বাসিন্দাদের সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তারা। গতকাল বুধবার এক বিবৃতিতে দিল্লির সরকারি চিকিৎসকরা বলেছেন, “আপনার যদি কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে, মাথা বা মাংসপেশীতে ব্যাথা অনুভূত হয়— তাহলে দেরি না করে রক্ত পরীক্ষা করান এবং রোগ ধরা পড়লে যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসা নেওয়া শুরু করুন।”

    সূত্র : জি নিউজ

  • ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বড় ঝুঁকি কী কী?

    ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার বড় ঝুঁকি কী কী?

    ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় যুদ্ধের অবসানে গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০টি পয়েন্ট বিশিষ্ট নতুন যে যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা হাজির করেছিলেন ট্রাম্প, গত কাল বুধবার সেই পরিকল্পনার প্রথম পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল ও গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস।

    ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনার প্রথম পর্যায়ের স্থায়িত্ব হবে ৬ সপ্তাহ। এই ছয় সপ্তাহে নিজেদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর পরিবর্তে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের চির প্রতিদ্বন্দ্বী রাশিয়াও ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছে; রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ বলেছেন, গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য ট্রাম্পের প্রস্তাব ‘সেরা’ এবং এ মুহূর্তে এই প্রস্তাবের কোনো বিকল্প নেই।

    তবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের প্রস্তাবে এখন কয়েকটি বড় ঝুঁকি রয়ে গেছে। যেমন প্রথমত, ট্রাম্পের প্রস্তাবে হামাসকে সম্পূর্ণ অস্ত্র সমর্পণ করতে বলা হয়েছে; কিন্তু হামাস এই প্রস্তাবে এখনও সায় দেয়নি। যুদ্ধের গত দুই বছরে এর আগেও হামাসকে কয়েক বার অস্ত্র সমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছিল, কিন্তু প্রতিবারই গোষ্ঠীটি সেই আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে।

    একই অবস্থা গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রেও। ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর যুদ্ধ শুরুর পর বেশ কয়েকবার  ইসরায়েলকে গাজা উপত্যকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে; কিন্তু বরাবরই তাতে আপত্তি জানিয়েছে ইসরায়েল।

    গত ৩ অক্টোবর হামাস নতুন প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় সম্মতি জানানোর পরের দিন ৪ অক্টোবর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে টেলিফোন করে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। নেতানিয়াহু তাতে সম্মতিও জানান।

    তবে ট্রাম্প আহ্বান জানানোর পর গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা বর্ষণ কমলেও সম্পূর্ণ থামেনি। ট্রাম্প গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানানো পর গত চার দিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে গজায় নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। এমনকি ট্রাম্পের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে গতকাল মিসরে যখন হামাস, ইসরায়েল, মিসর, কাতার ও ইসরায়েলের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলছিল, তখনও গাজায় বোমাবর্ষণ করেছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ জানিয়েছে, বুধবার রাতে উত্তর গাজায় বেশ কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া গেছে।

    আরও একটি বড় জটিলতা আছে। ইসরায়েলি বাহিনীর গত দুই বছরের অভিযানে বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবি। গত ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বাস্তবায়ন এবং ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে বৈশ্বিক সম্মেলন হয়েছে। এই সম্মেলনের উদ্যোক্তা ছিল ফ্রান্স ও সৌদি আরব। জাতিসংঘের অধিকাংশ রাষ্ট্র এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সেটি বয়কট করেছিল।

    সেই সম্মেলনে এবং সম্মেলনের আগে ও পরে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় ফ্রান্স, বেলজিয়াম, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, লুক্সেমবার্গসহ বেশ কয়েকটি দেশ। এ যুদ্ধের দুই মধ্যস্থতাকারী দেশ কাতার, মিসর এবং পুরো আরব ও মুসলিম বিশ্ব স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবিতে সোচ্চার।

    তবে নেতানিয়াহু ও তার নেতৃত্বাধীন সরকার তীব্রভাবে স্বাধীন-সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিরোধী। ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনাতেও এ বিষয়টিকে কম গুরুত্ব দিয়ে গাজা’র ওপর ফোকাস করা হয়েছে।

    সূত্র : রয়টার্স

  • ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি, এখন কী ঘটবে?

    ট্রাম্পের গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তি, এখন কী ঘটবে?

    গাজায় যুদ্ধবিরতি এবং ইসরায়েলি জিম্মি ও ফিলিস্তিনি কারাবন্দীদের মুক্তির লক্ষ্যে ইসরায়েল ও হামাস প্রস্তাবিত শান্তি চুক্তির প্রথম ধাপে রাজি হয়েছে বলে ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজা যুদ্ধের অবসানে গত সপ্তাহে ট্রাম্পের প্রকাশিত ২০ দফা শান্তি চুক্তি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বুধবার রাতে এই ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

    ইসরায়েল, হামাসের পাশাপাশি বিশ্বের বেশিরভাগ দেশই শান্তি চুক্তির এই পরিকল্পনায় স্বাগত জানিয়েছে। গাজা যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ৬৭ হাজারেরও বেশি মানুষের প্রাণ কেড়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এছাড়া হাজার হাজার মানুষ আহত ও গাজা উপত্যকাকে প্রায় মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া ইসরায়েলি এই যুদ্ধকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও জাতিসংঘের একটি কমিশন গণহত্যার শামিল বলে অভিহিত করেছে।

    ♦ হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে এখন পর্যন্ত যা জানা যাচ্ছে…

    • কী ঘটেছে বুধবার?

    ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ও হামাস তার গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে রাজি হয়েছে। নিজের প্রতিষ্ঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, সব বন্দিকে ‌‌‘‘খুব শিগগিরই’’ মুক্তি দেওয়া হবে এবং চুক্তির অংশ হিসেবে ইসরায়েল তাদের সেনা নির্ধারিত সীমারেখায় প্রত্যাহার করে নেবে।

    এই ঘোষণা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি চলতি সপ্তাহের মাঝেই মধ্যপ্রাচ্য সফরের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। গত ২৯ সেপ্টেম্বর হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পরপরই প্রথমবারের মতো ওই ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রস্তাব প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি এই পরিকল্পনাকে গাজা যুদ্ধ অবসানের রূপরেখা হিসেবে উপস্থাপন করেন।

    বুধবার হোয়াইট হাউসের এক অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও যখন ট্রাম্পের হাতে একটি চিঠি হস্তান্তর করেন, তখন এই চুক্তির সম্ভাবনা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। চিঠিটি পড়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘‘আমাকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বার্তা দিয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছে, আমরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি চুক্তির খুব কাছাকাছি এবং খুব শিগগিরই আমাকে তাদের প্রয়োজন পড়বে।’’

    অনুষ্ঠানটি শেষ করে ট্রাম্প বলেন, ‘‘আমাকে মধ্যপ্রাচ্যের কিছু সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করার জন্য এখন যেতে হবে।’’ হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ছবিতে দেখা যায়, সেই চিঠিতে প্রেসিডেন্টকে ট্রুথ সোশ্যালে পোস্ট দেওয়ার বিষয়ে অনুরোধ করা হয়েছিল, যাতে তিনিই প্রথম এই চুক্তির ঘোষণা দিতে পারেন।

    • হামাস-ইসরায়েল ঠিক কী বিষয়ে একমত হয়েছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প?

    ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন,

    • ইসরায়েল ও হামাস উভয়ই শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে স্বাক্ষর করেছে
    • সব জিম্মিকে খুব শিগগির মুক্তি দেওয়া হবে
    • ইসরায়েল তাদের সৈন্যদের নির্ধারিত সীমারেখায় প্রত্যাহার করবে
    • এটি হবে স্থায়ী ও দৃঢ় শান্তির পথে প্রথম পদক্ষেপ
    • সব পক্ষকে ন্যায়সঙ্গতভাবে আচরণ করতে হবে

    কাতার, মিসর ও তুরস্কের মধ্যস্থতাকারীদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

    এই ঘোষণা গাজা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের আট মাসের প্রচেষ্টার মধ্যে সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। হোয়াইট হাউসে দ্বিতীয় মেয়াদে নির্বাচনী প্রচারণার সময় গাজা যুদ্ধের অবসানকে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন তিনি।

    • চুক্তিতে এখনও কী কী অনিশ্চিত?

    ট্রাম্পের প্রস্তাবিত এই চুক্তি যুদ্ধ অবসানের আশা জাগালেও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও অস্পষ্ট রয়ে গেছে। কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার জ্যেষ্ঠ রাজনৈতিক বিশ্লেষক মারওয়ান বিশারা বলেন, ‘‘ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে এখনও কিছু গুরুতর মতপার্থক্য রয়েছে এবং অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এর মধ্যে রয়েছে, ইসরায়েলের সৈন্য প্রত্যাহারের সময় ও পরিসর, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা প্রশাসনের কাঠামো এবং হামাসের ভবিষ্যৎ।

    তিনি বলেন, আপনি বলতে পারেন, প্রথম ধাপের প্রাথমিক অংশটি কার্যকর হচ্ছে। তার মতে, উভয় পক্ষই বন্দি-বিনিময়ের বিষয়ে কিছু মৌলিক কাঠামোতে একমত হয়েছে।

    ‘‘(ট্রাম্পের) পরিকল্পনা অনুযায়ী, হামাস জিম্মিদের হস্তান্তর করার পর যুদ্ধ শেষ হওয়ার কথা। তবে ইসরায়েল বলছে, হামাস নিরস্ত্র হলেই কেবল যুদ্ধ শেষ হবে।

    • জিম্মিদের মুক্তি কখন?

    বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজের সিন হ্যানিটিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, জিম্মিদের সোমবারের মধ্যেই মুক্তি দেওয়া হতে পারে। এমনকি যাদের মরদেহ রয়েছে, তাদেরও ফেরত দেওয়া হবে।

    হামাসের একটি সূত্র বলেছে, ইসরায়েলি সরকারের চুক্তিতে অনুমোদনের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জীবিত জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হবে। আর ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই প্রক্রিয়া শনিবার থেকেই শুরু হতে পারে।

    ট্রাম্প বলেছেন, পুরো শান্তি প্রক্রিয়ায় ইরানও অংশ নেবে বলে বিশ্বাস করেন তিনি।

    গাজায় হামাসের হাতে এখনও অন্তত ২০ জন ইসরায়েলি জিম্মি জীবিত রয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। হামাস ও অন্যান্য ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার সময় প্রায় ২৫০ জনকে ধরে নিয়ে গাজায় জিম্মি করে রাখে। হামাসের অতর্কিত সেই হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ১০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।

    • ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া কী?

    ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, ‘‘ইসরায়েলের জন্য এটি এক মহান দিন।’’ বুধবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, আমাদের জিম্মিদের মুক্ত করার এই পবিত্র মিশনে নিযুক্ত থাকার জন্য আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

    ‘‘সৃষ্টিকর্তার সহায়তায়, আমরা একসঙ্গে আমাদের সব লক্ষ্য অর্জন করব এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তি আরও জোরদার করব।’’

    • হামাস কী বলছে?

    হামাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই চুক্তিতে গাজা যুদ্ধের অবসান, দখলদার বাহিনীর প্রত্যাহার, ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি এবং বন্দী বিনিময়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

    ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী এই সংগঠন চুক্তিতে মধ্যস্থতার জন্য কাতার, মিসর, তুরস্ক ও ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য পক্ষকে দখলদার ইসরায়েলি সরকারকে চুক্তির সব শর্তের পূর্ণ বাস্তবায়নে বাধ্য এবং কোনোভাবেই যেন তা এড়িয়ে যেতে না পারে, সেটি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে হামাস।

    ‘‘আমরা গাজা উপত্যকা, জেরুজালেম ও পশ্চিম তীরের আমাদের মহৎ জনগণকে স্যালুট জানাই, যারা অতুলনীয় গৌরব, বীরত্ব ও মর্যাদার পরিচয় দিয়েছেন। এই বিশাল ত্যাগ ও অবস্থানই ইসরায়েলি দখলদারদের দমন ও উচ্ছেদের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে।’’

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি জনগণের জাতীয় অধিকার—স্বাধীনতা, মুক্তি ও আত্মনিয়ন্ত্রণের দাবির বিষয়ে কখনোই আপস করবে না হামাস।

    • গাজার বাসিন্দাদের প্রতিক্রিয়া কী?

    গাজা উপত্যকা থেকে আল-জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজযুম বলেছেন, ফিলিস্তিনিরা, বিশেষ করে গাজার জনগণ এই চুক্তির খবরে উল্লাসের পাশাপাশি সতর্কতার সঙ্গে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

    গাজার মধ্যাঞ্চলের দেইর আল-বালাহ থেকে তিনি বলেন, দুই বছরের ধ্বংসযজ্ঞ, বাস্তুচ্যুতি ও ভঙ্গুর প্রতিশ্রুতির পর যুদ্ধবিরতির খবর শুনে অনেক পরিবার উল্লাসে ফেটে পড়েছে।

    ‘‘মানুষ মরিয়া হয়ে প্রিয়জনদের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় আছে। এমনকি যাদের হারিয়েছে তাদের জন্য শোক প্রকাশের সময়টুকুও চায় তারা। তবে এখনও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়নি এবং ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।’’

    • কী বলছেন বিশ্বনেতারা?

    বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, নেতা ও সংগঠন গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির প্রথম ধাপে হামাস-ইসরায়েলের স্বাক্ষরের ঘটনায় স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ‘‘আমি এই অতি-প্রয়োজনীয় অগ্রগতির মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র, কাতার, মিসর ও তুরস্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার প্রশংসা করছি।’’

    ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার চুক্তিতে পৌঁছানোর খবরে বলেছেন, ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনার প্রথম ধাপ যেন কোনও ধরনের কাল বিলম্ব ছাড়াই পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়।

    ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘‘জিম্মিদের মুক্তি ও গাজার মানুষের জন্য মানবিক সহায়তা বৃদ্ধি তাদের কিছুটা স্বস্তি দেবে এবং স্থায়ী শান্তির পথ প্রশস্ত করবে।’’

    নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স বলেছেন, এটি শান্তির পথে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ। তবে হামাসকে সব জিম্মির মুক্তি এবং ইসরায়েলকে নির্ধারিত সীমারেখায় সৈন্য প্রত্যাহার করতে হবে।

    • এরপর কী হবে?

    নেতানিয়াহু বলেছেন, তিনি বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই চুক্তি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবেন। ভোটে অনুমোদন পাওয়ার পর ইসরায়েলি সৈন্যদের প্রত্যাহার শুরু হবে। এর ৭২ ঘণ্টা পর হামাস জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া শুরু করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

    রয়্যাল ইউনাইটেড সার্ভিসেস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক এইচএ হেলিয়ার আল-জাজিরাকে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি যাতে কার্যকর থাকে, সেই বিষয়ে ইসরায়েলের ওপর চাপ কতটা অব্যাহত থাকবে, সেটিই এখন মূল বিষয়।

    তিনি বলেন, প্রস্তাবিত চুক্তির আওতায় ইসরায়েলের গাজা থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের বিভিন্ন ধাপের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিপরীতে যাওয়া এক সিদ্ধান্ত।

    আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ট্রাম্প মিসর সফরে যাবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। নেতানিয়াহুও তাকে ইসরায়েলি সংসদে বক্তব্য দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি সম্ভবত সফরে গিয়ে ইসরায়েলি সংসদে বক্তব্য রাখবেন।

    ট্রাম্পের পরিকল্পনার পরবর্তী ধাপে যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা প্রশাসন তদারকির জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘‘বোর্ড অব পিস’’ গঠন করা হবে। এই বোর্ডের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন ট্রাম্প নিজে এবং এর সদস্যদের মধ্যে থাকবেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা; যার মধ্যে রয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারও।

    সূত্র: আল-জাজিরা, ফক্স নিউজ, অ্যাক্সিওস।

  • ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার আহ্বান

    ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার আহ্বান

    ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস ও দখলদার ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতির চুক্তি করায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন ইসরায়েলের বিরোধী দলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ।

    বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির চুক্তিতে সম্মত হয়। যা ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দেন।

    এরপর ইসরায়েলি বিরোধী দলীয় নেতা ট্রাম্পকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, “বর্তমানে অন্য যে কেউর চেয়ে ট্রাম্প নোবেল পুরস্কার সবচেয়ে বেশি প্রাপ্য। তিনি ইসরায়েলিদের কৃতজ্ঞতা প্রাপ্য।”

    তিনি আরও বলেছেন, “আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দল, স্টিভ উইটকোফ, জার্ড ক্রুসনার, মার্কো রুবিও এবং টনি ব্লেয়ারকে অভিনন্দন জানাই। আরও অভিনন্দন জানাই প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু, প্রতিরক্ষা বাহিনীর কমান্ডার ও সেনাদের। সবার ওপরে অভিনন্দন জানাতে চাই জিম্মিদের পরিবারকে। এই সিংহ ও সিংহীরা বিশ্বকে জিম্মিদের ব্যাপারে এক মুহূর্তের জন্যও ভুলতে দেয়নি।”

    এরআগে বৃহস্পতিবার সকালে ট্রাম্প যুদ্ধবিরতির চুক্তির ঘোষণা দেওয়ার পর ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ বলেন, “কোনো সন্দেহ নেই, এ যুদ্ধবিরতির জন্য ট্রাম্প নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রাপ্য।”

    যুদ্ধবিরতির খবরে গাজায় উচ্ছ্বাস

    যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। কেউ খুশিতে কাঁদছেন-হাততালি দিচ্ছেন, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন-নাচানাচি করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন ‘আল্লাহু আকবর’।

    ৫ সন্তানের মা ঘাদা এই খবর শোনার পর থেকে কাঁদছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কাঁদছি; কিন্তু এটা আনন্দের অশ্রু। মনে হচ্ছে, নতুন করে আবার আমাদের জন্ম হলো। আশা করছি, এই ভয়াবহ যুদ্ধের শেষ হচ্ছে।”

    ঘাদা জানান, গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। যে বাড়িতে তারা থাকতেন, সেটি ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর গত ১৫ মাস ধরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ তাঁবুতে বসবাস করছেন ঘাদা।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েল ও মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ মিসর ও কাতার সম্মতি দিলেও হামাস তখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    পরে ৩ অক্টোবর শুক্রবার হামাস সম্মতি জানানোর পরের দিন ৪ অক্টোবর ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। তার পর ৬ অক্টোবর মিসরের লোহিত সাগর তীরবর্তী পর্যটন শহর শারম আল শেখ- এ ট্রাম্পের প্রস্তাবের ওপর বৈঠক শুরু হয় ইসরায়েল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে।

    সেই বৈঠকে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলার পর গতকাল রাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল-হামাস।

    এই পর্যায়টির স্থায়িত্ব হবে ৬ সপ্তাহ। এই ছয় সপ্তাহে নিজেদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর পরিবর্তে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল রাতেই আনন্দ মিছিল বের করেন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের বাসিন্দারা। কিশোর তরুণরা বাঁশি-খঞ্জনি-ড্রাম বাজিয়ে, নেচে গেয়ে উল্লাস শুরু করেন।

    ইমান আল কৌকা নামের এক তরুণী এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন, আজ আমাদের দুঃখেরও দিন। এটা এমন দিন যার জন্য আমরা হাসব—আবার যুদ্ধে আমরা যাদের হারিয়েছি, যা যা হারিয়েছে—সেসব স্মরণ করে কাঁদব। আমরা শুধু আমাদের বন্ধু, স্বজন এবং বাড়িঘরই হারাইনি। আমরা আমাদের শহর হারিয়েছি। এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল আমাদের প্রাগৈতিহাসিক আমলে ঠেলে দিয়েছে।”

    ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় বাড়ি ঘর হারিয়ে গত বছর খান ইউনিসের দেইর আল বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন গাজার অপর বাসিন্দা আহমেদ দাহমান। রয়টার্সকে তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর বোমার আঘাতে বাড়িঘরের পাশাপাশি নিজের বাবাকেও হারিয়েছেন তিনি; কিন্তু তাকে দাফন করতে পারেননি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাবার মরদেহ রেখেই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে হয়েছে তাদের।

    রয়টার্সকে দাহমান বলেন, “অবশেষে গাজায় রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে এবং আমাদের জীবন রক্ষা পাচ্ছে—এটা আনন্দের খবর। তবে আমি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। আমরা যখন ফিরব, তখন দেখব যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।”

    “আমার বাবার লাশ ধ্বংসস্তূপের তলায় রেখে পালাতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে আমার প্রথম কাজ হবে বাবার দেহাবশেষ খুঁজে বের করে তার দাফন সম্পন্ন করা।”

    আহমেদ দাহমানের মা বুশরা বলেন, “এ যুদ্ধবিরতি আমার স্বামীকে ফেরত দিতে পারবে না। কিন্তু অন্তত অনেকের জীবন রক্ষা পাবে। আমি কাঁদব, এমন কান্না যা এর আগে কখনও, কোনোদিন কাঁদিনি। এই নিষ্ঠুর যুদ্ধ আমাদের কাঁদার সময় দেয়নি।”যিুদ্

    খবরে উচ্ছ্বাসের জোয়ার বইছে গাজায় বসবাসরত ফিলিস্তিনিদের মধ্যে। কেউ খুশিতে কাঁদছেন-হাততালি দিচ্ছেন, কেউ বাঁশি বাজাচ্ছেন, কেউ গান গাইছেন-নাচানাচি করছেন এবং চিৎকার করে বলছেন ‘আল্লাহু আকবর’।

    ৫ সন্তানের মা ঘাদা এই খবর শোনার পর থেকে কাঁদছেন। বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, আমি কাঁদছি; কিন্তু এটা আনন্দের অশ্রু। মনে হচ্ছে, নতুন করে আবার আমাদের জন্ম হলো। আশা করছি, এই ভয়াবহ যুদ্ধের শেষ হচ্ছে।”

    ঘাদা জানান, গাজার প্রধান শহর গাজা সিটির বাসিন্দা ছিলেন তিনি। যে বাড়িতে তারা থাকতেন, সেটি ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পর গত ১৫ মাস ধরে পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ তাঁবুতে বসবাস করছেন ঘাদা।

    গত ২৯ সেপ্টেম্বর সোমবার স্থানীয় সময় বিকেলে ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউসে গাজায় যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত নতুন একটি পরিকল্পনার ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তাৎক্ষণিকভাবে ইসরায়েল ও মধ্যস্থতাকারী দুই দেশ মিসর ও কাতার সম্মতি দিলেও হামাস তখনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

    পরে ৩ অক্টোবর শুক্রবার হামাস সম্মতি জানানোর পরের দিন ৪ অক্টোবর ইসরায়েলকে গাজায় বোমাবর্ষণ বন্ধ করতে বলেন ট্রাম্প। তার পর ৬ অক্টোবর মিসরের লোহিত সাগর তীরবর্তী পর্যটন শহর শারম আল শেখ- এ ট্রাম্পের প্রস্তাবের ওপর বৈঠক শুরু হয় ইসরায়েল, হামাস, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে।

    সেই বৈঠকে দুই দিনেরও বেশি সময় ধরে আলোচনা চলার পর গতকাল রাতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের প্রাথমিক পর্যায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বাক্ষর করেছে ইসরায়েল-হামাস।

    এই পর্যায়টির স্থায়িত্ব হবে ৬ সপ্তাহ। এই ছয় সপ্তাহে নিজেদের হাতে থাকা সব জিম্মিকে মুক্তি দেবে হামাস। এর পরিবর্তে ইসরায়েল গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধ, ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি ফিলিস্তিনিদের মুক্তি এবং গাজা থেকে পর্যায়ক্রমে সেনা প্রত্যাহার করে নেবে।

    চুক্তি স্বাক্ষরের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গতকাল রাতেই আনন্দ মিছিল বের করেন গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খান ইউনিসের বাসিন্দারা। কিশোর তরুণরা বাঁশি-খঞ্জনি-ড্রাম বাজিয়ে, নেচে গেয়ে উল্লাস শুরু করেন।

    ইমান আল কৌকা নামের এক তরুণী এখনও বিশ্বাস করতে পারছেন না যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। রয়টার্সকে তিনি বলেন, “আজ আমাদের আনন্দের দিন, আজ আমাদের দুঃখেরও দিন। এটা এমন দিন যার জন্য আমরা হাসব—আবার যুদ্ধে আমরা যাদের হারিয়েছি, যা যা হারিয়েছে—সেসব স্মরণ করে কাঁদব। আমরা শুধু আমাদের বন্ধু, স্বজন এবং বাড়িঘরই হারাইনি। আমরা আমাদের শহর হারিয়েছি। এই যুদ্ধের মাধ্যমে ইসরায়েল আমাদের প্রাগৈতিহাসিক আমলে ঠেলে দিয়েছে।”

    ইসরায়েলি বাহিনীর বোমায় বাড়ি ঘর হারিয়ে গত বছর খান ইউনিসের দেইর আল বালাহ এলাকায় আশ্রয় নিয়েছেন গাজার অপর বাসিন্দা আহমেদ দাহমান। রয়টার্সকে তিনি জানান, ইসরায়েলি বাহিনীর বোমার আঘাতে বাড়িঘরের পাশাপাশি নিজের বাবাকেও হারিয়েছেন তিনি; কিন্তু তাকে দাফন করতে পারেননি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে বাবার মরদেহ রেখেই নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটতে হয়েছে তাদের।

    রয়টার্সকে দাহমান বলেন, “অবশেষে গাজায় রক্তপাত বন্ধ হচ্ছে এবং আমাদের জীবন রক্ষা পাচ্ছে—এটা আনন্দের খবর। তবে আমি যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা শঙ্কিত। আমরা যখন ফিরব, তখন দেখব যে কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।”

    “আমার বাবার লাশ ধ্বংসস্তূপের তলায় রেখে পালাতে বাধ্য হয়েছিলাম। বাড়ি ফিরে আমার প্রথম কাজ হবে বাবার দেহাবশেষ খুঁজে বের করে তার দাফন সম্পন্ন করা।”

    আহমেদ দাহমানের মা বুশরা বলেন, “এ যুদ্ধবিরতি আমার স্বামীকে ফেরত দিতে পারবে না। কিন্তু অন্তত অনেকের জীবন রক্ষা পাবে। আমি কাঁদব, এমন কান্না যা এর আগে কখনও, কোনোদিন কাঁদিনি। এই নিষ্ঠুর যুদ্ধ আমাদের কাঁদার সময় দেয়নি।”

    সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল, রয়টার্স

  • ভারত নিয়ে তারেক রহমানের মন্তব্যে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

    ভারত নিয়ে তারেক রহমানের মন্তব্যে ভারতীয় বিশেষজ্ঞদের প্রতিক্রিয়া

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভারত নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছেন। ভারতে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তারেক এই কথাগুলি বলেছেন আসন্ন নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে। তিনি আসলে ভোটদাতাদের বার্তা দিতে চাইছেন।

    বিবিসি-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক ভারত প্রসঙ্গে বলেছেন, তিনি বাংলাদেশের স্বার্থ দেখবেন। তিনি পানির হিস্যা চান, তিনি দেখতে চান না, আরেক ফেলানী ঝুলে আছে, তিনি মানুষের হিস্যা ও হিসাব চান। শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, ভারত যদি স্বৈরাচারকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয় তো তার কিছু করার নেই. বাংলাদেশের মানুষের সিদ্ধান্ত শীতল সম্পর্ক থাকবে, তাকে মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।

    কী বলছেন ভারতের বিশেষজ্ঞরা?

    ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক ও বাংলাদেশ বিশেষজ্ঞ শ্রীরাধা দত্ত ডিডাব্লিউকে বলেছেন, ‘’তারেক রহমান তার নির্বাচনী কনস্টিটুয়েন্সির কথা ভেবে এই কথাগুলো বলেছেন। তারেক একটা পপুলিস্ট বা জনমোহিনী অবস্থান নিয়েছেন। তিনি এমন কথা বলেছেন, যাতে তার সমর্থকরা খুশি হবেন। এটাকে একটা নির্বাচনী আবেদন বলা যেতে পারে।‘’

    ১৯৭১ সালের যুদ্ধে অংশ নেওয়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটোন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য ডিডাব্লিউকে জানিয়েছেন, “তারেক রহমানের বাবা বাংলাদেশের মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক সেনাপ্রধান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল জিয়াউর রহমানের সঙ্গে ১৯৭১ সালের অপারেশনের আগে বার দুয়েক দেখা হয়েছিল এবং কথা হয়েছিল। এখানে মনে রাখা দরকার, খালেদা জিয়া যখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তখনো ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক শীতলই ছিল। খুব খারাপ ছিল না, আবার খুব উষ্ণও ছিল না।”

    তিনি মনে করেন, “বাংলাদেশে বর্তমানে যা পরিস্থিতি, তাতে নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে তারেক রহমানকে আক্রমণাত্মক মনোভাব দেখাতে হবে। তিনি সেটাই করেছেন।”

    কাজের সূত্রে বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার সময় এবং আওয়ামী লীগের শাসনকাল কাছ থেকে দেখা কাস্টমস অ্যান্ড এক্সাইজ বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান সুমিত দত্ত মজুমদার ডিডাব্লিউকে বলেছেন, “প্রতিটি দেশই নিজের স্বার্থ দেখে সেইমতো সিদ্ধান্ত নেয়। এটা নতুন কোনো কথা নয়। তবে যে দলই ক্ষমতায় আসুক তাদের ভূরাজনীতির কথা মাথায় রাখতেই হবে।”

    তারেকের তোলা বিষয়গুলি নিয়ে

    সীমান্তহত্যা নিয়ে উৎপল ভট্টাচার্য বলেছেন, “সীমান্তে আমাদের বিএসএফ, ওদের বিডিআর আছে। গুলি দুইদিক থেকেই চলে। সীমান্ত এমনিতে ৩৬০ দিন শান্ত থাকে। দুই তরফের মধ্যে উৎসবে শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। সীমান্তে গুলি ও মৃত্যু একেবারেই কাঙ্খিত নয়, খুবই দুর্ভাগ্যজনক, কিন্তু অনুপ্রবেশ, চোরাচালানের বাস্তবতাকেও তো অস্বীকার করা যায় না। আর এটা একতরফা হয় না, বিএসএফ ও বিডিআর দুই পক্ষের গুলিতেই মানুষ মারা গেছেন।”

    শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, “তিস্তা ছাড়া আর তো জল নিয়ে খুব একটা সমস্যা নেই। তা নিয়ে আলোচনা হতেই পারে। তবে গত দেড় বছরে তারেকের কাছ থেকে ভারতবিরোধী বিবৃতি পাইনি। নির্বাচনের আগে তিনি এই ধরনের কথা বলবেন, সেটা প্রত্যাশিত। তারেকের কথাতে আমি অন্তত আশ্চর্য হইনি।”

    সুমিত দত্ত মজুমদার মনে করেন, “তিস্তা চুক্তির সুযোগ তো রয়েছে। আলোচনা হতে পারে। তবে ভারতের ক্ষেত্রে বড় বিষয় হলো, কট্টরপন্থিদের সঙ্গে তারেক রহমান ও তার দলের সম্পর্ক কী হবে সেই বিষয়টি?”

    তিনি মনে করেন, “শেখ হাসিনার ভারতে আশ্রয় নেওয়ার বিষয়টি মানবিক বিষয়। রাজনীতির বিষয়টি বাদ দিয়েই এটা বলা যায়। শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের বরাবরই সুসম্পর্ক ছিল। তিনি উত্তরপূর্বের চরমপন্থিদের বাংলাদেশে আশ্রয় দেননি। এ কথাটাও মনে রাখতে হবে।”

    উৎপল ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, “বিএনপি সবসময় গণতান্ত্রিক রীতি অনুসরণ করার কথা বলে। অতীতে তাদের শাসনকালেই ভারতে আশ্রয় নেওয়া রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা বাংলাদেশে ফিরতে পেরেছিলেন।”

    প্রত্যাশিত মন্তব্য

    ভারতের পররাষ্ট্রসচিব সম্প্রতি বলেছেন, দিল্লি কেবল মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই ভারত কথা বলবে। ফলে ভারত এখন নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতায় আসার অপেক্ষা করছে। তারপরেই বোঝা যাবে, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের গতিপথ কোন দিকে যাচ্ছে।

    তবে বিশেষজ্ঞরা সকলেই জানিয়েছেন, তারেকের এই প্রতিক্রিয়ায় তাদের কাছে প্রত্যাশিত। নির্বাচনের সময়ে রাজনৈতিক দলের নেতারা আক্রমণাত্মক থাকেন। তারেক যে ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট‘ নীতির কথা বলেছেন, সেটাও প্রত্যাশিত। এখন বিশ্বজুড়ে সব রাজনীতিকই একই কথা বলছেন। তাই তারেকের এই মনোভাবকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে তারা নারাজ।

  • ফরিদগঞ্জের সাবেক মেয়র গ্রেফতার

    ফরিদগঞ্জের সাবেক মেয়র গ্রেফতার

    চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ পৌরসভা সাবেক মেয়র ও পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হক (মাহফুজ) কে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

    বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকার ডেমরা থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মাহফুজ ফরিদগঞ্জ পৌর সদর এলাকার কাছিয়াড়া গ্রামের মাওলানা শহিদ উল্যার বড় ছেলে। সে গত ২০১৭ সালে পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীক পেয়ে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন।

    ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিগত সরকার পতনেরপর থেকে মাহফুজুল হক আত্মগোপণে ছিলেন। বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে ঢাকার ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদগঞ্জ থানার ওসি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, মাহফুজুল হকের বিরুদ্ধে নাশকতা মামলা রয়েছে।

  • গাজীপুরে মাটি খুঁড়ে ড্রামভর্তি চোলাই মদসহ আটক ৬

    গাজীপুরে মাটি খুঁড়ে ড্রামভর্তি চোলাই মদসহ আটক ৬

    মাটি খুঁড়লেই বের হচ্ছে ড্রামভর্তি চোলাই মদ বা বাংলা মদ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনীর অভিযানে ঘরের মেঝে ও জঙ্গল থেকে ১৫ হাজার লিটার চোলাই মদ জব্দ করে প্রকাশ্যে ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া মদ তৈরিতে জড়িত ৬ জনকে আটক করা হয়েছে।

    বুধবার গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার ঠাকুরপাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে বসতবাড়িতে চোলাই মদ তৈরি করা হয়। এরপর তৈরি করা সেই চোলাই মদ পুকুরের পাড়, বাগানে লুকিয়ে রাখে মাদক ব্যবসায়ীরা।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকালে ৪ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে ১৫ হাজার লিটার চোলাই মদ উদ্ধার করে যৌথবাহিনী। পরে উদ্ধার করা চোলাই মদ স্থানীয় লোকজনের সামনেই ধ্বংস করা হয়। সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত  অভিযানে সেনাবাহিনীর মৌচাক ক্যাম্প, বিজিবি, কালিয়াকৈর থানা পুলিশ ও মধ্যপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের গ্রামপুলিশের সদস্যরা সহযোগিতা করেছেন।

    স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এভাবেই কালিয়াকৈর উপজেলার ঠাকুরপাড়া গ্রামে চোলাই তৈরি করা হতো। এ বিষয়ে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়নি স্থানীয় প্রশাসন। এ কারণেই এলাকার যুব সমাজ এই মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে যাচ্ছে। এমন অভিযানে আমরা অনেকটা স্বস্তি প্রকাশ করছি।

    কালিয়াকৈর থানার ওসি আব্দুল মান্নান বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন৷

  • হাসিনার বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দেবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    হাসিনার বিরুদ্ধে আজ সাক্ষ্য দেবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

    ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আজ সাক্ষ্য দেবেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

    বুধবার (৮ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক ওয়ালে দেওয়া পোস্টে একথা জানান তিনি।

    এদিকে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে রাজধানীর চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ডিএমপির সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধেও আজ সাক্ষ্য দেবেন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ। বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হওয়ার কথা রয়েছে।

    এ মামলার গ্রেফতার চার আসামি হলেন- শাহবাগ থানার সাবেক ওসি (অপারেশন) মো. আরশাদ হোসেন, কনস্টেবল মো. সুজন মিয়া, মো. ইমাজ হোসেন ইমন ও মো. নাসিরুল ইসলাম।

    পলাতক আসামিরা হলেন- সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, রমনা অঞ্চলের সাবেক অতিরিক্ত উপ-কমিশনার শাহ আলম মো. আখতারুল ইসলাম ও রমনা অঞ্চলের সাবেক সহকারী কমিশনার মোহাম্মদ ইমরুল।

    গত ১৪ জুলাই চানখারপুলের মামলাটির পলাতক চার আসামিসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চানখারপুল এলাকায় শিক্ষার্থীদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে গুলি চালায় পুলিশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনার পাশাপাশি শাহরিয়ার খান আনাস, শেখ জুনায়েদ, মো. ইয়াকুব, মো. রাকিব হাওলাদার, মো. ইসমামুল হক ও মানিক মিয়া শাহরিক নিহত হন।