Author: তরঙ্গ টিভি

  • বেনাপোল সীমান্তে  বিজিবি অভিযান চালিয়ে পিস্তল ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার।

    বেনাপোল সীমান্তে বিজিবি অভিযান চালিয়ে পিস্তল ম্যাগাজিন ও গুলি উদ্ধার।

    যশোর বেনাপোল পোর্ট থানার গাতিপাড়া সীমান্ত থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল,একটি ম্যাগাজিন ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছে যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবি সদস্যরা।

    বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার ৯ফেব্রুয়ারি ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে বিজিবি এর অধীনস্থ বেনাপোল বিওপির সুবেদার মোঃ আব্দুল আজিজ এর নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহলদল অভিযান পরিচালনা করে।

    সীমান্ত থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গাতিপাড়া গ্রামের ফজলে করিম ওরফে বুড়োর বাড়ির পাশ থেকে বিশেষ কায়দায় লুকানো অবস্থায় অস্ত্রের চালানটি উদ্ধার করে।

    উদ্ধারকৃত মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন এবং দুই রাউন্ড ভিএল গুলি। উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও গোলাবারুদের সর্বমোট সিজার মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৪০০ টাকা।

    বিজিবি জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র, ম্যাগাজিন ও গুলির বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে, এবং মামলা দায়েরের মাধ্যমে এগুলো বেনাপোল পোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হবে।
    যশোর ব্যাটালিয়ন ৪৯ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ্ সিদ্দিকী জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্রের প্রবেশ রোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • এএফপির প্রতিবেদন বাংলাদেশের নির্বাচনে সম্পর্কের পরীক্ষায় ভারত, কৌশলী চীন

    এএফপির প্রতিবেদন বাংলাদেশের নির্বাচনে সম্পর্কের পরীক্ষায় ভারত, কৌশলী চীন

    বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশের আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষমতার ভারসাম্যকে নতুন রূপ দিতে পারে। এই নির্বাচন ঘিরে বেইজিং প্রভাব সুসংহত করতে চাইছে আর ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক টালমাটাল হয়ে উঠছে।

    এবারের এই ভোট ২০২৪ সালের আগস্টে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বাধীন গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী শাসনের পতনের পর দেশের প্রথম নির্বাচন।

    প্রত্যর্পণের অনুরোধ সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ায় ভারতকে নিয়ে ক্ষুব্ধ বাংলাদেশের নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। যে কারণে চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে সরকারের সম্পৃক্ততা জোরদার করা হয়েছে।

    ১৭ কোটি জনসংখ্যার মুসলিমপ্রধান এই দেশ শেখ হাসিনার শাসনামলে চীনের সঙ্গে শক্তিশালী বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। তবে বিশ্লেষকদের মতে, দিল্লিই ছিল ঢাকার প্রধান অংশীদার, যে সমীকরণ এখন বদলাচ্ছে।

    যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্সের জ্যেষ্ঠ ফেলো জশুয়া কার্লান্টজিক বলেন, ‌‌‘‘বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এবং ভবিষ্যৎ সরকার প্রকৃত অর্থেই চীনের দিকে ঝুঁকছে।

    তিনি বলেন, ‘‘বাংলাদেশ এখন বঙ্গোপসাগর সম্পর্কিত চীনের কৌশলগত চিন্তাভাবনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে এবং বাংলাদেশ এই কৌশলে চীনপন্থী ভূমিকা পালন করবে—এ ব্যাপারে চীন ক্রমবর্ধমান আত্মবিশ্বাসী।’’

    ইউনূসের প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর ছিল চীনে; যা কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গত জানুয়ারিতে দুই দেশ ভারতের কাছে প্রস্তাবিত একটি উত্তরাঞ্চলীয় বিমানঘাঁটির কাছে ড্রোন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন প্রতিরক্ষা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘নির্বাচনের ফল যাই হোক না কেন, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর হওয়ার একটি অপরিবর্তনীয় সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।’’

    • লাগামহীন বৈরিতা

    এর বিপরীতে, শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে দিল্লি ও ঢাকার মধ্যে নিয়মিত টানাপোড়েন চলছে। গত ডিসেম্বরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশে ‘‘সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অবিরাম বৈরিতা’’ চলছে অভিহিত করে এর নিন্দা জানায়।

    পুলিশ বলেছে, বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ৭০ জন সদস্য নিহত হন। ঢাকা এই সহিংসতার মাত্রা অতিরঞ্জিত করার অভিযোগে ভারতকে দোষারোপ করেছে। তবে সম্পর্ক মেরামতের বিচ্ছিন্ন কিছু প্রচেষ্টাও হয়েছে।

    জানুয়ারিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুব্রহ্মণ্যম জয়শঙ্কর বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকায় আসেন। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নির্বাচনে এগিয়ে আছে বলে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।

    বিএনপি জিতলে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত খালেদা জিয়ার ৬০ বছর বয়সী ছেলে তারেক রহমানের প্রতিও সমবেদনা জানিয়ে বার্তা পাঠান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।

    কিন্তু ভারতের হিন্দুত্ববাদী ডানপন্থীদের বিক্ষোভের পর এক বাংলাদেশি ক্রিকেটারকে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। এর জেরে ভারতে চলা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ।

    • অস্থিতিশীলতা নয়, স্থিতিশীলতায় প্রাধান্য

    ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের প্রবীণ দোন্থি বলেন, উভয় পক্ষেরই বাস্তববাদী অবস্থানের সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। তিনি বলেন, নয়াদিল্লি ও ঢাকা—দু’পক্ষই সম্পর্কের অবনতির সমাধান না করার মূল্য সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত।

    ভারতের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তানের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়িয়েছে ঢাকা। এক দশকের বেশি সময় পর জানুয়ারিতে দুই দেশের মাঝে পুনরায় সরাসরি ফ্লাইট চালু করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরকার নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্কের আর অবনতি না ঘটিয়েই ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ধারা অব্যাহত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    দোন্থি বলেন, নতুন প্রশাসন সম্ভবত অস্থিতিশীলতার চেয়ে স্থিতিশীলতাকেই অগ্রাধিকার দেবে। তবে নির্বাচিত সরকারের অধীনে—বিশেষ করে বিএনপি জিতলে, ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্থিতিশীল হতে পারে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক হুমায়ুন কবির।

    তিনি বলেন, একসময় ভারতের সঙ্গে তীব্র বিরোধে থাকা ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীও তাদের প্রচারে ‘‘এক ধরনের বাস্তববাদী বাস্তবতা’’ তুলে ধরেছে।

    তীব্র বাগাড়ম্বরের পরও ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের বাস্তব ভিত্তি অটুট রয়েছে। বাণিজ্য স্থিতিশীল আছে এবং শেখ হাসিনা আমলের কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক চুক্তি—ভারতীয় টাগবোট সংক্রান্ত; বাতিল করা হয়েছে।

    বাংলাদেশে ভারতের সাবেক উপ-হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ভারতীয় কূটনীতিক দিলীপ সিনহা বলেন, চীন এমনভাবে অবকাঠামো সরবরাহ করছে; যা ভারত পারে না।

    তিনি বলেন, কিন্তু ভারত এমন কিছু জিনিস সরবরাহ করে; যা বাংলাদেশের অত্যন্ত প্রয়োজন। যেমন, বিদ্যুৎ এবং পোশাকশিল্পের জন্য সুতা।

    বিশ্লেষকরা বলেছেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শক্তিশালী হওয়া মানেই ভারতের সঙ্গে বৈরিতা; বিষয়টি এমন নয়। হুমায়ুন কবির বলেন, ‘‘এটি ‘একটি না হলে আরেকটি’ ধরনের পরিস্থিতি নয়। দুই সম্পর্কই একই সঙ্গে বিকশিত হতে পারে।’’

  • ভোটে কাকে বেছে নেবেন, ভাবতে বললেন তারেক রহমান

    ভোটে কাকে বেছে নেবেন, ভাবতে বললেন তারেক রহমান

    ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সমর্থনে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠেছবি: বিএনপির মিডিয়া সেলের ফেসবুক পেজ থেকে নেওয়া

    দেশ ও জনগণকে নিয়ে বিএনপির নানা পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বললেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির দায়িত্ব দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করা, বিএনপির লক্ষ্য দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়া, দেশকে সঠিকভাবে পরিচালনা করা।

    তাই ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক দলকে বেছে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, ‘চোখটা বন্ধ করে এক মিনিটের জন্য চিন্তা করে দেখুন, এই মুহূর্তে যতগুলো রাজনৈতিক দল বাংলাদেশে আছে, বিএনপি ছাড়া আর কোনো রাজনৈতিক দল শিক্ষাসংক্রান্ত, যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যাপারে, কৃষক ভাইদের সহযোগিতার ব্যাপারে, মা-বোনদের স্বাবলম্বী করার ব্যাপারে, কোনো ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনা দিতে তারা সক্ষম হয়েছে কি না?’

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে আজ রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর শ্যামলী ক্লাব মাঠে আয়োজিত সমাবেশের প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তারেক রহমান। ওই এলাকায় (ঢাকা-১৩ আসন) বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ববি হাজ্জাজের সমর্থনে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

    নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে চান বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘এমন একটি পরিস্থিতি, এমন একটি দেশ তৈরি করতে চান, যেখানে মা-বোনেরা সকাল, সন্ধ্যা কিংবা রাতে, যেকোনো সময় নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন। তরুণ যুবকেরা, বয়স্করা ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি-বাকরি যাই করুক নিরাপদে, নিশ্চিন্তে করতে পারবেন। এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে মানুষ রাতে নিজ নিজ ঘরে নিরাপদে ঘুমাতে পারবেন। আর সেই লক্ষ্যে নির্বাচনে জিতে সরকার গঠন করলে তারা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক করতে সবচেয়ে বেশি জোর দেবেন।’

    ঢাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ কাজে যে যত বড় শক্তিশালী হোক, ওই ব্যক্তি কোনো খাল বন্ধ করে মানুষের সমস্যা করলে, খাল বন্ধের কারণে জলাবদ্ধতা হলে ওই ব্যক্তিকে সরিয়ে দিয়ে খালটি পুনরুদ্ধার করা হবে।

    ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই মুহূর্তে বিএনপিই একমাত্র দল, যাদের দেশ পরিচালনা ও রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। এ জন্যই বিএনপি বিভিন্ন পরিকল্পনা, কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য হাতে নিয়েছে।

    এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে, কর্মসূচি সফল করতে ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে বিজয়ী করার আহ্বানও জানান তিনি।

  • শার্শা উপজেলায় মাটি কাটার সময় বোমা বিস্ফোরণ, দুই শ্রমিক গুরুতর আহত।

    শার্শা উপজেলায় মাটি কাটার সময় বোমা বিস্ফোরণ, দুই শ্রমিক গুরুতর আহত।

    যশোরের শার্শা উপজেলার বালুন্ডা গ্রামে মাটি কাটার সময় পরিত্যক্ত বোমা বিস্ফোরণে দুই শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কায়বা ইউনিয়নের বালুন্ডা দক্ষিণ পাড়ার গনি ঢালির ভিটে নামক স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    আহতরা হলেন— বালুন্ডা গ্রামের আব্দুল বারীকের ছেলে জাকির হোসেন (৬৫) এবং একই গ্রামের মৃত নুজ্জাকের ছেলে আব্দুল কাদের (৬০)। তারা পেশায় মাটি কাটা শ্রমিক।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে জাকির হোসেন ও আব্দুল কাদের ভিটার মাটি কাটার কাজ করছিলেন। একপর্যায়ে মাটির আনুমানিক দেড় হাত গভীরে কোদাল দিয়ে আঘাত করলে সেখানে পুঁতে রাখা একটি বোমা বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

    আহতদের উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, জাকির হোসেনের শরীরের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে তারা নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।

    খবর পেয়ে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পুলিশ জানায়, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে মাটির নিচে বোমাগুলো অনেক আগে থেকেই পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। তবে এটি পরিকল্পিত কোনো নাশকতার অংশ কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

    এ ঘটনায় এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চাঞ্চল্য ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছে এবং ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চালাচ্ছে।

  • যশোরের শার্শায় ধলদা হাইস্কুল মাঠে ধানের শীষের বিশাল জনসভা

    যশোরের শার্শায় ধলদা হাইস্কুল মাঠে ধানের শীষের বিশাল জনসভা

    আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোর জেলার শার্শা উপজেলার উলাশী ইউনিয়নের ধলদা হাইস্কুল মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীর সমর্থনে এক বিশাল নির্বাচনী পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে অনুষ্ঠিত ঔ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ৮৫ যশোর-১ (শার্শা) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন।

    উক্ত সভায় মঞ্চে উপবিষ্ট ছিলেন- শার্শা উপজেলা বিএনপি’র প্রধান উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, সভাপতি মো.হাসান জহির,সিনিয়র সহ-সভাপতি মহসিন কবির,যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল মিন্টু,সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল আলম বাবু,শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইমদাদুল হক ইমদা,যুগ্ম-সম্পাদক মো.শহিদুল ইসলাম,শার্শা বিএনপি’র শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মো.সহিদ আলী,ছাত্রদল আহবায়ক শরিফুল ইসলাম চয়ন,সহ ঔ এলাকার বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

    শার্শাকে একটি আধুনিক ও মাদকযুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করা হয়। বিশেষ করে সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়।
    ​ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর আশ্বাস দেন প্রার্থীরা।

    ​এ সময় নুরুজ্জামান লিটন জনসভায় উপস্থিত নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তারেক রহমান, খালেদা জিয়া এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কখনো ক্ষমতার দাপট বা অহংকার প্রদর্শন করেননি। জিয়াউর রহমানের পরিবারের সদস্যরা বড় বড় সরকারি পদে থাকলেও তারা কখনো নিজেদের পরিচয় দিয়ে বাড়তি সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেননি।

    ​নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান রেখে বলেন, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় তিনি নেতাকর্মীদের অতি-উৎসাহী না হওয়ার পরামর্শ দেন। তিনি সতর্ক করেন যে, যারা মানুষের সম্মান নিয়ে ছিনিমিনি খেলে, তারা সমাজ, দল বা পরিবারের জন্য কল্যাণকর নয়। স্পষ্ট করে তিনি বলেন, আগামী দিনে ‘ভালো মানুষ’ ছাড়া কেউ বিএনপি করতে পারবে না।

    তারেক রহমানের নির্দেশে রাজনীতিতে জনগণের সেবক হওয়া এবং মানুষের সম্মান রক্ষা করা বাধ্যতামূলক। পরিশেষে, তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারি/২০২৬ নির্বাচনে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়ে আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটন-কে জয়যুক্ত করার জন্য সকলের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

    ​তিনি বলেন, মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবরা অনেক সময় অস্বচ্ছল অবস্থায় থাকেন। সাধারণ মানুষ তাদের সাহায্যের জন্য চাল, ডাল বা সামান্য টাকা অনুদান দিয়ে থাকেন, যা দিয়ে তাদের জীবন চালানো কঠিন হয়। অনেক ইমামের মাসিক বেতন ৫ হাজার, ৩ হাজার বা তার চেয়েও কম।

    ১০ হাজার টাকা বেতন পান এমন ইমামের সংখ্যা খুবই নগণ্য। দলের নেতা তারেক রহমান এর বরাত দিয়ে প্রতিশ্রুতি দেন যে, যদি বিএনপি ক্ষমতায় আসে, তবে প্রতিটি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খতিবদের জন্য মাসিক সরকারি সম্মানী বা বেতন নিশ্চিত করা হবে। এই সুবিধা শুধু মুসলমানদের জন্য নয়, বরং হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতাদের জন্যও মাসিক বেতনের ব্যবস্থা করা হবে।

    এছাড়া ঈদ, দুর্গাপূজা এবং বড়দিনের মতো প্রধান ধর্মীয় উৎসবগুলোতে ধর্মীয় নেতাদের জন্য উৎসব ভাতার ব্যবস্থাও সরকারের পক্ষ থেকে করা হবে বলে তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে জনকল্যাণমূলক কাজগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।

    তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম, কোরআন এবং হাদিসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে।

    তিনি বলেন, তারা প্রচারণা চালাচ্ছে যে “দাঁড়িপাল্লা” মার্কায় ভোট দিলে মানুষ বেহেশতে যাবে, যা কোরআন বা হাদিসের কোথাও নেই। তিনি হজরত ফাতেমা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন যে, নবী করিম (সা.) কখনো তার প্রিয় কন্যাকে ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে বলেননি। তিনি দাবি করেন, নারীদের এভাবে রাজনৈতিক বা প্রচার কাজে ব্যবহার করা ইসলাম সমর্থন করে না।

    হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে নতুন করে কারো কাছ থেকে শেখার কিছু নেই, বরং নবীর দেখানো পথ অনুসরণ করাই যথেষ্ট। ​ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, পরকালে সর্বপ্রথম জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে একদল ভণ্ড আলেম বা ইমাম যারা নিজেদের অনেক বড় ধর্মীয় নেতা হিসেবে দাবি করে কিন্তু অন্তরে সততা নেই।

    ​মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার থাকার আহবান জানান।

    ​শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজিত ঔ সভা শেষে ধানের শীষের প্রার্থীর পক্ষে ঘরে ঘরে ভোট ও দোয়া চাওয়ার আহ্বান জানিয়ে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের সভাপতি আব্দুল হামিদ।

    অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন,শার্শা ছাত্রদল সদস্য সচিব সবুজ হোসেন খান।

  • বুধবার পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে

    বুধবার পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে বেনাপোল দিয়ে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে

    পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটির কারণে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানিসহ কাস্টমস ও বন্দরের সকল কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। এর ফলে এদিন এ বন্দর দিয়ে কোন আমদানি-রপ্তানি হবে না। তবে বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে আবারও এ পথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য চলবে বলে বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্টস স্টাফ এসোসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক সাজেদুর রহমান জানান, পবিত্র শবেবরাত উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষনা করায় বুধবার বেনাপোল-পেট্রাপোল কাস্টমস ও বন্দরের সকল কাজকর্ম বন্ধ থাকবে। সে কারণে এ পথে কোন আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম হবে না। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে পূনরায় এ পথে আমদানি-রপ্তানি চলবে।

    বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের পুলিশ পরিদর্শক সৈয়দ মোর্ত্তজা আলী বলেন, বুধবার এ পথে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও দু‘দেশের মধ্যে পাসপোর্টযাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।

    বেনাপোল ¯’লবন্দরের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) কাজী রতন জানান, বুধবার পবিত্র শবেবরাতের সরকারি ছুটি থাকায় বন্দরের পাশাপাশি কাস্টমসের কার্যক্রমের সাথে দু‘দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকবে। আমদানি-রপ্তানি বন্ধ থাকলেও যেসব ভারতীয় ট্রাক পণ্য বন্দরে আনলোড করে খালি ট্রাক নিয়ে ফিরে যেতে চাইবে তাদের অনুমতি দেয়া হবে। এ জন্য চেকপোস্ট কার্গো শাখা খোলা থাকবে।

  • ঝিকরগাছায় হত্যার শিকার শামীমের পরিবারের পাশে পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম।

    ঝিকরগাছায় হত্যার শিকার শামীমের পরিবারের পাশে পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম।

    যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি করা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ভ্যানচালক শামীম পারভেজ হত্যাকাণ্ডে যশোর জেলার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম নিহতের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশে দ্রুত হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হয়, খুনিরা আটক করা হয় এবং ছিনতাই হওয়া ভ্যানও উদ্ধার করা হয়।

    সোমবার বিকালে নিজে শামীমের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পুলিশ সুপার। এসময় তিনি তাদের সমস্যা শোনেন এবং শামীমের অন্ধ বাবার হাতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন এবং ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ দেওয়ান মোহাম্মদ শাহজালাল আলম।

    প্রসঙ্গত, নিহত শামীম পারভেজ (২১) পেশায় ভ্যানচালক এবং কিছুটা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী ছিলেন। গত ২৯ জানুয়ারি বিকেলে তিনি বাড়ি থেকে বের হন। পরের দিন ঝিকরগাছা থানার ২ নম্বর মাগুরা ইউনিয়নের আঙ্গারপাড়া গ্রামের নাইলপুকুরের পাশে একটি কলাবাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পরপরই প্রধান অভিযুক্ত ইব্রাহিম খলিলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া মামলার আরেক জড়িত ব্যক্তি মামুনকেও আটক করা হয়েছে। আদালতে জবানবন্দিতে ইব্রাহিম স্বীকার করেছেন, ভ্যান ছিনতাই করতে শামীমকে ডেকে নিয়ে তিনি শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন।

  • যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিক্ষোভ।

    যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে আইসের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন বিক্ষোভ।

    মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শুক্রবার ছড়িয়ে পড়ে নজিরবিহীন ইউএস ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) বিরোধী বিক্ষোভ। ফেডারেল অভিবাসন সংস্থা আইস এর অভিযান বন্ধ এবং মিনেসোটা থেকে ফেডারেল এজেন্ট প্রত্যাহারের দাবিতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামেন। চলতি মাসে ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে দুই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার পর এই ক্ষোভ আরও তীব্র আকার নেয়। খবর আইবিএননিউজ।                                                                                   

    ৩০ জানুয়ারি (শুক্রবার) মিনিয়াপোলিসের ডাউনটাউনে কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হন। বিক্ষোভে অংশ নেন শিশুদের নিয়ে পরিবার, প্রবীণ দম্পতি, কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং নাগরিক অধিকারকর্মীরা। অনেকের হাতে ছিল “No ICE ”, “Stop the Raids” এবং “End Federal Brutality” লেখা প্ল্যাকার্ড। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভারী অস্ত্রধারী ও মুখোশ পরা ফেডারেল এজেন্টদের উপস্থিতি শহরকে কার্যত সামরিক অঞ্চলে পরিণত করেছে।

    জাতীয় পর্যায়ে অভিবাসন দমন অভিযানের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মিনিয়াপোলিস এলাকায় ৩ হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করেছেন। এই সংখ্যা মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের মোট সদস্যসংখ্যার প্রায় পাঁচ গুণ। ট্যাকটিক্যাল গিয়ারে সজ্জিত এজেন্টদের নিয়মিত টহল স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ও ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। বিক্ষোভকারীরা বলছেন, এই অভিযান কেবল অভিবাসীদের নয়, বরং পুরো শহরের নাগরিক স্বাধীনতাকেই হুমকির মুখে ফেলেছে।

    বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ক্যাটিয়া কাগান বলেন, তাঁর বাবা–মা রুশ ইহুদি হিসেবে নিরাপত্তা ও উন্নত জীবনের আশায় যুক্তরাষ্ট্রে এসেছিলেন। তাঁর ভাষায়, “আমি এখানে দাঁড়িয়েছি সেই আমেরিকান স্বপ্নের জন্য, যেটার খোঁজে আমার পরিবার এই দেশে এসেছিল।” আর ৬৫ বছর বয়সী ধ্যান–শিক্ষক কিম এই অভিযানকে নাগরিকদের বিরুদ্ধে ফেডারেল সরকারের “পূর্ণমাত্রার ফ্যাসিবাদী আক্রমণ” বলে আখ্যা দেন।

    এই আন্দোলন কেবল মিনেসোটায় সীমাবদ্ধ ছিল না। ‘জাতীয় প্রতিবাদ দিবস’ ঘোষণা করে ক্যালিফোর্নিয়া থেকে নিউইয়র্ক পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা ক্লাস বর্জন করেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে প্রায় ২৫০টি বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। নিউইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস, শিকাগো ও ওয়াশিংটনের মতো বড় শহরগুলোতে “No work. No school. No shopping. Stop funding ICE” স্লোগানে কর্মসূচি পালিত হয়। শিকাগোর ডি–পল ইউনিভার্সিটিতে “sanctuary campus” ও “fascists not welcome here” লেখা পোস্টার দেখা যায়।

    মিনিয়াপোলিসের যে এলাকায় নিহত অ্যালেক্স প্রেট্টি ও রেনি গুড–এর ওপর গুলি চালানো হয়েছিল, সেই পাড়ায় স্থানীয় স্কুলগুলোর প্রায় ৫০ জন শিক্ষক ও কর্মচারী মিছিল করেন। তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের মানসিক নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকার রক্ষায় এই ধরনের অভিযানের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো তাদের নৈতিক দায়িত্ব।

    আন্দোলনে সংহতি জানাতে এগিয়ে আসেন সংগীতজগতের তারকারাও। কিংবদন্তি রক সংগীতশিল্পী ব্রুস স্প্রিংস্টিন মিনিয়াপোলিসে নিহতদের স্মরণে আয়োজিত এক তহবিল সংগ্রহ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তাঁর নতুন গান “Streets of Minneapolis” পরিবেশন করেন। এই গান দ্রুতই বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত হয়।

    এদিকে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে মিশ্র বার্তা আসছে। একদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, পরিস্থিতি কিছুটা “ডি–এস্কেলেট” করা যেতে পারে, অন্যদিকে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে অভিযান প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। তিনি হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সেক্রেটারি ক্রিস্টি নোয়েম–এর ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, তিনি “খুব ভালো কাজ করছেন” এবং সীমান্ত সংকট ইতোমধ্যেই নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

    মিনিয়াপোলিসের ঘটনাপ্রবাহ ফেডারেল প্রশাসনের ভেতরেও আলোড়ন তোলে। মিনিয়াপোলিস এফবিআই ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জ্যারাড স্মিথ–কে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে ওয়াশিংটনে পুনর্বিন্যাস করা হয়। একই সময়ে একটি চার্চে বিক্ষোভের ঘটনায় সাবেক সিএনএন উপস্থাপক ডন লেমনকে গ্রেপ্তার করে ফেডারেল আইনে অভিযোগ আনা হয়। আদালতে হাজির হয়ে লেমন নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।

    নিউইয়র্ক টাইমস–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, আইস–এর একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকে এজেন্টদের ওয়ারেন্ট ছাড়াই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা আরও বাড়ানো হয়েছে। এতে করে নিম্নস্তরের এজেন্টরাও সন্দেহভাজন অনিবন্ধিত অভিবাসীদের ধরতে ব্যাপক অভিযান চালাতে পারবেন। এই খবর প্রকাশের পর নাগরিক অধিকার সংগঠনগুলো নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

    রয়টার্স/ইপসোস জরিপ অনুযায়ী, মিনিয়াপোলিসের রাস্তায় ভারী অস্ত্রধারী ও মুখোশধারী এজেন্টদের আগ্রাসী আচরণের ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতি জনসমর্থন তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তবিষয়ক সমন্বয়কারী টম হোম্যান মিনিয়াপোলিসে গিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে ব্যাপক রাস্তাভিত্তিক ধরপাকড়ের বদলে লক্ষ্যভিত্তিক অভিযানে ফেরা হবে।

    তবে মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ এই আশ্বাসে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহার এবং এই “নিষ্ঠুর অভিযান” পুরোপুরি বন্ধ করাই একমাত্র কার্যকর সমাধান।

    এই উত্তাল পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনজীবনও ব্যাহত হচ্ছে। কলোরাডোর অরোরায় এবং অ্যারিজোনার টুসনে ব্যাপক অনুপস্থিতির আশঙ্কায় বহু স্কুল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।

    বিশ্লেষকদের মতে, মিনিয়াপোলিস থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন আর কেবল একটি অঙ্গরাজ্যের ইস্যু নয়; এটি ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতি ঘিরে জাতীয় পর্যায়ের এক বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকেতে রূপ নিয়েছে। সূত্র: রয়টার্স ।

  • যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকির মুখে লাখ লাখ পরিবার স্ন্যাপ সুবিধা পেতে নতুন শর্ত কার্যকর

    যুক্তরাষ্ট্রে ঝুঁকির মুখে লাখ লাখ পরিবার স্ন্যাপ সুবিধা পেতে নতুন শর্ত কার্যকর

    গত রবিবার,১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাপ্লিমেন্টারি নিউট্রিশন অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রোগ্রামে নতুন কাজের শর্ত কার্যকর হয়েছে। এর ফলে লাখ লাখ আমেরিকান তাদের স্ন্যাপ সুবিধা হারাতে পারেন। বর্তমানে স্বল্প-আয়ের প্রায় ৪২ মিলিয়ন পরিবার দৈনন্দিন বাজার-খরচ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের জন্য এই ফেডারেল কর্মসূচির ওপর নির্ভর করে।

    গত বছরের জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরে আইনে পরিণত হওয়া একটি বৃহৎ বিলের আওতায় স্ন্যাপের কাজের শর্তে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তিকে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ তিন মাসের বেশি সময় স্ন্যাপ সুবিধা পেতে হলে কাজের শর্ত পূরণ করতে হবে।
    নতুন আইনের অধীনে, নির্ভরশীল নেই এমন সক্ষম প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে কাজের শর্ত প্রযোজ্য হওয়ার উচ্চ বয়সসীমা প্রথমবারের মতো ৫৪ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬৪ বছর করা হয়েছে।খবর আইবিএননিউজ।

    এছাড়াও ১৮ বছরের নিচে নির্ভরশীল সন্তানের দায়িত্বে থাকা বাবা-মা বা পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য থাকা ছাড়-এর নিয়ম বদলানো হয়েছে। এখন ১৪ বছরের নিচে সন্তানের দেখভাল করছেন—এমন ব্যক্তিরাই কেবল ছাড় পাবেন; আগে এই সীমা বেশি ছিল।
    নন-প্রফিট সংস্থা হাঙ্গার ফ্রি আমেরিকার সিইও জোয়েল বার্গ এবিসি নিউজকে বলেন, “অপ্রয়োজনীয়ভাবে লাখ লাখ মানুষকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। তারা নিজেদের এবং অনেক ক্ষেত্রে পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় খাবার হারাবে। স্যুপ কিচেন, ফুড প্যান্ট্রি এবং যেসব ফুড ব্যাংক এগুলোকে সরবরাহ করে—তাদের কাছে এই বাড়তি চাহিদা মেটানোর মতো পর্যাপ্ত সম্পদ থাকবে না।”
    কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের (সিবিও) আগস্ট ২০২৫-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে প্রায় ১১ লাখ মানুষ স্ন্যাপ সুবিধা হারাতে পারেন। এর মধ্যে রয়েছে- ৬৪ বছর পর্যন্ত বয়সী প্রায় ৮ লাখ সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক, যাদের কোনো নির্ভরশীল নেই এবং এবং ১৪ বছর বা তার বেশি বয়সী সন্তানের অভিভাবক বা তত্ত্বাবধায়ক প্রায় ৩ লাখ মানুষ।
    এছাড়া, ১৮ থেকে ৫৪ বছর বয়সী (অথবা ২০৩১ সাল থেকে ১৮ থেকে ৪৯ বছর) এমন প্রায় ১০ লাখ সক্ষম প্রাপ্তবয়স্ক, যাদের কোনো নির্ভরশীল নেই এবং যারা আগে কাজের শর্ত থেকে ছাড় পেতেন—তারাও সুবিধা হারাতে পারেন।

    এই বৃহৎ বিলের মাধ্যমে গৃহহীন ব্যক্তি, সামরিক ভেটেরান এবং ১৮ বছরে পৌঁছানোর সময় ফস্টার কেয়ারে থাকা তরুণদের জন্য থাকা ছাড়ও বাতিল করা হয়েছে।
    বার্গ বলেন, এই জনগোষ্ঠীর জন্য শুধু চাকরি পাওয়াই নয়, বরং সরকারকে প্রমাণ দেখানো যে তারা কাজের শর্ত পূরণ করছেন—তা অত্যন্ত কঠিন হবে।
    “এটা তাদের জন্য অসম্ভবের কাছাকাছি কঠিন হবে, আর তারা এমনিতেই সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ আমেরিকানদের মধ্যে পড়ে,” তিনি বলেন। “গৃহহীন মানুষ, ভেটেরান এবং ফস্টার কেয়ার থেকে সদ্য বেরিয়ে আসা তরুণরা—তাদের খাবার, বাজার-সামগ্রী সব হারাবে, আর সেটা ঠিক করার কোনো পরিকল্পনাও নেই।”
    সিবিও-এর হিসাব অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে স্ন্যাপে অংশগ্রহণ কমলেও, আমেরিকান ইন্ডিয়ানদের মধ্যে অংশগ্রহণ বাড়বে, কারণ নতুন আইনে তারা ছাড় পেয়েছেন—ফলে কিছুটা ভারসাম্য আসবে।

    কাজের শর্তের সমর্থকদের মতে, এই নিয়মগুলো অপচয়, জালিয়াতি ও অপব্যবহার রোধের জন্য প্রয়োজনীয়। স্ন্যাপ কর্মসূচি পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি দপ্তরের (ইউএসডিএ) অধীনস্থ ফুড নিউট্রিশন সার্ভিস (এফএনএস)।
    এগ্রিকালচার সেক্রেটারি ব্রুক রোলিন্স শুক্রবার ফক্স বিজনেস-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘‘স্ন্যাপ সুবিধা অস্থায়ী ব্যবহারের জন্য, দীর্ঘমেয়াদে থাকার জন্য নয়। ‘আমেরিকান ড্রিম’ মানে খাদ্য ভাতা কর্মসূচিতে থাকা নয়। ‘আমেরিকান ড্রিম’ মানে এসব কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল থাকা নয়। এগুলো সহায়তা হওয়া উচিত, ভিক্ষা নয়। … গতকাল পর্যন্ত আমরা প্রায় ১৭ লাখ মানুষকে স্ন্যাপ থেকে বের করে এনেছি।”
    এবিসি নিউজ-কে পাঠানো এক বিবৃতিতে ইউএসডিএ-র এক মুখপাত্র বলেন, রাজ্য সংস্থাগুলোকে “যেসব এলাকায় কোনো ছাড় নেই, সেখানে সময়সীমা কঠোরভাবে প্রয়োগের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।”

    মুখপাত্র আরও বলেন, “বিভাগটি রাজ্য সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এর মধ্যে নির্দেশনা ও রাজ্যভিত্তিক সহায়তা অন্তর্ভুক্ত—যাতে সময়সীমা ও সংশ্লিষ্ট কাজের শর্ত সফলভাবে বাস্তবায়ন হয় এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণভাবে, যোগ্য সুবিধাভোগীদের কল্যাণ থেকে কাজ, শিক্ষা বা প্রশিক্ষণের সুযোগে নিয়ে যাওয়া যায়।”
    ২০২৩ সালের আমেরিকান কমিউনিটি সারভে-এর তথ্য অনুযায়ী, স্ন্যাপ পাওয়া অধিকাংশ পরিবারের ক্ষেত্রে গত ১২ মাসে অন্তত একজন পরিবার-সদস্য কাজ করেছেন। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, কাজের শর্ত প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ কমাতে পারে। ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইকোনোমিক রিসার্চ-এর ২০২১ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্ন্যাপ-এর কাজের শর্ত কার্যকর হলে ১৮ মাসের মধ্যে যোগ্য প্রাপ্তবয়স্কদের সর্বোচ্চ ৫৩% কর্মসূচি থেকে বেরিয়ে যেতে পারেন।

    বার্গ বলেন, “এই কাজের শর্তগুলো আসলে কাজকে উৎসাহিত করার জন্য নয়। এগুলো মানুষকে অমানবিক করা এবং ‘অন্যদের’ আক্রমণ করার একটি উপায়। অধিকাংশ স্ন্যাপ সুবিধাভোগীই কাজের পক্ষে এবং অধিকাংশই ইতিমধ্যে কাজ করছেন—অথবা তারা শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা বয়স্ক আমেরিকান। তাই এই পুরো বিতর্কটাই একধরনের দৃষ্টি-ভ্রান্তি।”

  • মিনিয়াপোলিসে কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওপর স্প্রে হামলা, গ্রেপ্তার ১

    মিনিয়াপোলিসে কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমরের ওপর স্প্রে হামলা, গ্রেপ্তার ১

    যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে একটি টাউন হল সভা চলাকালে ডেমোক্রেট ও মুসলিম কংগ্রেসওম্যান ইলহান ওমারের ওপর স্প্রে (তরল পদার্থ) হামলা হয়েছে। ২৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার রাতে উত্তর মিনিয়াপোলিসের একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এই সভায় উপস্থিত এক ব্যক্তি সিরিঞ্জ ব্যবহার করে তীব্র গন্ধযুক্ত স্প্রে ছিটিয়ে দেন বলে জানিয়েছে প্রত্যক্ষদর্শীরা।খবর আইবিএননিউজ।

    ঘটনার সময় ইলহান ওমর তার বক্তব্যের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করার দাবি জানান এবং হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সেক্রেটারি স্ক্রিস্টি নোয়েমকে পদত্যাগের আহ্বান জানান।
    প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বক্তব্য শুরুর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দর্শকসারিতে বসা এক ব্যক্তি হঠাৎ উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে থাকেন এবং সিরিঞ্জ থেকে একটি তরল পদার্থ স্প্রে করেন। উপস্থিত অনেকে জানান, ওই তরলের গন্ধ ছিল ঝাঁঝালো ও অ্যাসিডের মতো।
    ঘটনার পর ইলহান ওমর নিজেই ওই ব্যক্তির দিকে এগিয়ে যান। তবে সঙ্গে সঙ্গেই নিরাপত্তারক্ষীরা অভিযুক্তকে ধরে মাটিতে ফেলে দেন। পুরো ঘটনার সময় সভাস্থলে উপস্থিত অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

    মিনিয়াপোলিস সিটি কাউন্সিল সদস্য লাট্রিশা ভেটাওয়াসহ কয়েকজন ওমরকে অনুরোধ করেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে সভা সংক্ষিপ্ত করে চিকিৎসা পরীক্ষা করানোর জন্য। তবে ইলহান ওমর সেই অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে বলেন,“আর দশ মিনিট দিন। দয়া করে ওদের এই শো জিততে দেবেন না।”

    অভিযুক্তকে বাইরে নিয়ে যাওয়ার সময় সভাকক্ষে করতালি পড়ে। তখন ওমার বলেন, “এ ধরনের কুৎসিত মানুষরা বুঝতে পারে না, আমরা মিনেসোটা স্ট্রং। ছোটবেলা থেকেই আমি শিখেছি, হুমকির কাছে মাথা নত করতে নেই।”
    মিনিয়াপোলিস পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে হেনেপিন কাউন্টি জেলে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তৃতীয় ডিগ্রির হামলার অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযুক্তের নাম অ্যান্থনি জেমস কাজমারচাক (৫৫)।পুলিশের মুখপাত্র ট্রেভর ফোলকের মতে, ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থলে এসে নমুনা সংগ্রহ করেছে। জেল রেকর্ড অনুযায়ী, কাজমারচাকের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক ট্রাফিক অপরাধের মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২০০৯ ও ২০১০ সালে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর দুটি দণ্ড রয়েছে।

    সিএনএনের পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কাজমারচাক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত রাজনৈতিক বিষয়বস্তু শেয়ার করতেন। ২০২১ সালে পুলিশের বাজেট কমানোর দাবিতে ইলহান ওমারের অবস্থানের বিরোধিতা করে তিনি একটি রাজনৈতিক কার্টুনও পোস্ট করেছিলেন। সাম্প্রতিক সময়ে তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর একটি অনুষ্ঠানের ছবি প্রোফাইল হিসেবে ব্যবহার করেন।
    ট্রাম্পের বিতর্কিত মন্তব্য : এ ঘটনার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো প্রমাণ ছাড়াই দাবি করেন, ইলহান ওমর নাকি নিজেই এই ঘটনাটি সাজিয়েছেন। এবিসি নিউজকে তিনি বলেন, “আমি ওকে নিয়ে ভাবি না। সে একটা প্রতারক। হয়তো নিজেই স্প্রে করিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, ঘটনার কোনো ভিডিও তিনি দেখেননি এবং দেখার আগ্রহও নেই।
    উল্লেখ্য, ঘটনার কয়েক ঘণ্টা আগেই আইওয়ায় এক সমাবেশে ট্রাম্প ইলহান ওমরকে লক্ষ্য করে তার জন্মভূমি নিয়ে বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেন, যা নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
    মিনিয়াপোলিসের মেয়র জ্যাকব ফ্রে এ ঘটনাকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে নিন্দা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “মতপার্থক্য থাকতে পারে, কিন্তু মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়।”

    এদিকে, ইউএস ক্যাপিটল পুলিশ এক বিবৃতিতে জানায়, ঘটনাটি “অগ্রহণযোগ্য” এবং দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সংস্থাটি জানায়, ২০২৪ সালে কংগ্রেস সদস্যদের বিরুদ্ধে প্রায় ৯,৫০০ হুমকি ও উদ্বেগজনক ঘটনার তদন্ত করা হয়েছে, আর মোট সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার।
    রিপাবলিকান পার্টির একাধিক কংগ্রেস সদস্যও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। নিউইয়র্কের প্রতিনিধি মাইক ল’কলার বলেন, “রাজনৈতিক মতভেদ থাকতেই পারে। কিন্তু এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই সহ্য করা যায় না।”

    ইলহান ওমরের প্রতিক্রিয়া : সভা শেষে সাংবাদিকদের ইলহান ওমার বলেন,“আমি যুদ্ধ টিকে গেছি। ভয় দেখিয়ে বা হুমকি দিয়ে আমাকে থামানো যাবে না।”
    পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, “আমি ভালো আছি। আমি বুলিদের জিততে দিই না। আমার অসাধারণ সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞ—মিনেসোটা স্ট্রং।”