Author: তরঙ্গ টিভি

  • ভৈরবের জনসভায় যাওয়ার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এডভোকেট  ফজলুর রহমান

    ভৈরবের জনসভায় যাওয়ার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এডভোকেট ফজলুর রহমান

    বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিটামইন-অষ্টগ্রাম) আসনের ধানের শীষের আলোচিত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান ভৈরবে তারেক রহমানের জনসভায় যাওয়ার পথে গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।আইবিএননিউজকে এ সংবাদ পাঠিয়েছেন সাংবাদিক এএসএম হামিদ হাসান।

    বৃহস্পতিবার(২২জানুয়ারি ২০২৬)দুপুরে হঠাৎ অসুস্থতা অনুভব করলে তাৎক্ষণিক তাকে কিশোরগঞ্জের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

    তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ভৈরবে আয়োজিত জনসভায় যোগ দিতে বাজিতপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন এডভোকেট ফজলুর রহমান। তবে পথিমধ্যে হঠাৎ শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা নেতাকর্মীরা দ্রুত তাকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আরো উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে ভর্তি করার পরামর্শ দেন।

    হাসপাতালের পরিচালক ডা.বাহার উদ্দীন ভুঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমানে এডভোকেট ফজলুর রহমানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। প্রথমদিকে তার তীব্র শ্বাসকষ্ট দেখা দিয়েছিল। দ্রুত অক্সিজেন দেওয়ার পর শ্বাসকষ্ট কিছুটা কমে আসে।
    তিনি আরও জানান, এডভোকেট ফজলুর রহমানের প্রয়োজনীয় চিকিৎসার স্বার্থে বর্তমানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলমান রয়েছে।

    প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকদের ধারণা, যেহেতু তার শরীরে জ্বর ও অতিরিক্ত স্বাসকষ্টের সম্মুখিন হ‌ওয়ায় আমাদের ধারনা হচ্ছে তিনি নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হতে পারেন। তবে সব পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পরই চূড়ান্তভাবে বিষয়টি নিশ্চিত করার পর তাকে সঠিক চিকিৎসা প্রদান করা হবে।

  • যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ৬ জেলার ২০ কেন্দ্র স্থগিত

    যশোর শিক্ষা বোর্ডে এসএসসি পরীক্ষায় ৬ জেলার ২০ কেন্দ্র স্থগিত

    যশোর শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ৬ জেলার ২০ কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসকের সুপারিশ,অধ্যক্ষ বা প্রধান শিক্ষক আবেদন,

    পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়া এবং কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়ায় কেন্দ্রগুলো স্থগিত করা হয়। এসব কেন্দ্রে এবছর এসএসসি পরীক্ষা হবে না। ১৯ জানুয়ারি বোর্ডের পরীক্ষা কমিটির সভায় স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় বলে জানান পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন। বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক নিয়ামত এলাহী জানান, পরীক্ষার নিয়ম একটি কেন্দ্রে সর্বনিম্ন ২০০ শিক্ষার্থী পরীক্ষা দেবে। অথচ এসব কেন্দ্রে গত দুই থেকে তিন বছর কম শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। কেন্দ্রগুলোতে অনিয়মের মধ্যদিয়ে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়।

    সেই সাথে এসব কেন্দ্রগুলো পরীক্ষার্থী অন্য কেন্দ্রে চলে যাওয়ায় কেন্দ্র না রাখার জন্য অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষক শিক্ষা বোর্ডে আবেদনের প্রেক্ষিতে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। কেন্দ্রগুলো হচ্ছে- সাতক্ষীরা তালা সুভাষিনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খুলনা রূপসা বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খালিশপুর বঙ্গবাসী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, সরকারি ল্যাবরেটরি উচ্চ বিদ্যালয়, রোটারী স্কুল, পল্লীমঙ্গল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, খালিশপুর মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, পাবলা আফিলউদ্দিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়, আর.আর.এফ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বি. কে. ইউনিয়ন ইনস্টিটিউশন, খানাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ইসলামাবাদ কলেজিছেঁ স্কুল, যশোর মণিরামপুর পাঁচবাড়িয়া পাঁচকাটিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, অভয়নগর সিদ্ধিপাশা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মেহেরপুর গাংনী সাহেবনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জুগিরগোফা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিনাইদহ কালিগঞ্জ চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজ, ঝিনাইদহ কালিগঞ্জ চাপরাইল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রোস্তমআলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, রোস্তমআলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও চুয়াডাঙ্গা হাসাদহ মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কেন্দ্র স্থগিত সংক্রান্ত চিঠি স্থগিত করা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ও প্রধান শিক্ষককে দেয়া হয়েছে। অবগতির জন্য অনুলিপি জেলা সংশ্লিষ্ট প্রশাসকের পাঠানো হয়েছে।

    পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর ড. আব্দুল মতিন জানান- স্থগিত করা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী সংখ্যা পরীক্ষার নিয়ম অনুযায়ী অনেক হচ্ছে। এসব কেন্দ্র বাতিলের জন্য ৬ জেলার জেলা প্রশাসক সুপারিশ করেছে। পরীক্ষার্থী কম হওয়ায় পরীক্ষা চালানোর ক্ষেত্রে অনেক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারা কেন্দ্র না রাখার জন্য আবেদন করে। এসব কারনে ২০ পরীক্ষা কেন্দ্রে স্থগিত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষা হবে না।

  • প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা! চন্দনাইশে পরিবেশের বারোটা বাজাচ্ছে ইটখোলার মালিকরা

    প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা! চন্দনাইশে পরিবেশের বারোটা বাজাচ্ছে ইটখোলার মালিকরা

    সবুজ প্রান্তর, উর্বর কৃষি জমি, শাংগু নদী ও পাহাড়ি অঞ্চলের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলা চন্দনাইশ। ক্রমাগত পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে এই উপজেলা তাঁর রূপ ও প্রাণশক্তি প্রায় হারিয়ে ফেলতে চলেছে।
    প্রশাসন নামে রাষ্ট্রের সেবকদের রহস্যজনক নীরবতায় বন, মাটি খেকো ও ইটভাটা মালিক চক্রের দৌরাত্ম্য থামছে না। তারা লোকালয় ও ফসলি জমি দখল করে গড়ে তোলেছে অবৈধ ইটখোলা। জিগজ্যাগ চিমনি ছাড়া ভাটাগুলোতে নিয়মিত পোড়ানো হচ্ছে বনের কাঠ ও মাত্রাতিরিক্ত সালফারযুক্ত কয়লা। যা পরিবেশের বারোটা বাজাচ্ছে।

    চন্দনাইশের বুকে এতোই অবৈধ ইটভাটার ছড়াছড়ি যে এক জায়গায় ৩০টিরও বেশি ইটভাটার মধ্যে মাত্র পরিবেশের ছাড়পত্র আছে ২টিতে। প্রশাসন জেগে ঘুমায়, প্রায় সব ভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে অবৈধভাবে। এতে পুড়ানো হচ্ছে উজাড় করা বনের কাঠ ও মাত্রাতিরিক্ত সালফারযুক্ত কয়লা। এভাবে বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে হুমকিতে পড়েছে চন্দনাইশের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে প্রাণ প্রকৃতি ও জনজীবন।
    নিত্যদিন এসব ইটভাটায় বনের কাঠ পোড়ালেও বন বিভাগ, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চলতি মৌসুমে কোন অভিযান নেই বললেই চলে। তারা রহস্যজনকভাবে নীরব রয়েছে। অথচ দক্ষিণ চট্টগ্রামে পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ ভাটা বন্ধে ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান পরিচালনা সহ তৎপরতা রয়েছে।

    চন্দনাইশের ভাটাগুলোতে ইট পোড়ানোর জ্বালানী হিসেবে নির্দিধায় উজাড় করে ফেলছে ভাটার পার্শ্ববর্তী বনের কাঠ। আবার এর মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলও রয়েছে। ফসলী জমির টপ সয়েলকে কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করে বানানো হচ্ছে ইট। সরকারিভাবে ইকো ব্লকের নির্দেশ থাকলেও কোনটিই অনুসরণ করছেনা এই ইটভাটা চক্রটি।

    ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন আইনে বলা আছে, সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ। তবে এ আইন মানা হয়নি চন্দনাইশে। অধিকাংশ ইটভাটাই গড়ে তোলা হয়েছে পাহাড়ের দূরত্বে মেপে। যাতে ইট তৈরীতে পাহাড়ের মাটি ও ইট পোড়াতে বনের কাঠ সহজেই ব্যবহার করা যায়।

    সরেজমিন গতকাল বুধবার উপজেলার কাঞ্চননগর রেলস্টেশন সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ভাটার চারপাশে বিশাল বিশাল কাঠের স্তুপ। আইনে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ হলেও ইট পোড়ানের জ্বালানি হিসেবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে এসব কাঠ। অথচ জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে স্থাপন করা এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কম মাত্রাতিরিক্ত সালফারযুক্ত কয়লা ব্যবহার করার কথা। এলাকাবাসীর শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে চন্দনাইশের বনাঞ্চল । তাদের ভাষ্যমতে শুধু কেবিএম ইটভাটাই নয়, ৩০টি ভাটার মধ্যে জিগজ্যাগ কয়েকটি ভাটা বাদে প্রায় সব কটি ভাটাতেই ইট পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে। অথচ ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন ২০১৩: নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি। চন্দনাইশের এসব বয়লার ভাটায় মানা হচ্ছেনা কোন ধরনের আইন।

    পরিবেশবিদরা মনে করেন, বনের কাঠ ইটভাটায় ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সমস্যা। যা অবৈধ ইটভাটা এবং আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে চলছে। এতে বায়ু দূষণ, বন উজাড়, কৃষি জমির ক্ষতি এবংজনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবে এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। কয়লার উচ্চমূল্য ও সহজলভ্যতার অভাবে ভাটা মালিকরা কাঠ ব্যবহার করছে, যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি।
    পরিবেশ সংগঠন গ্রীণ চট্টগ্রাম এল্যালায়েন্সের সদস্য সচিব ও পরিবেশ সংগঠক স ম জিয়াউর রহমান বলেন, গবেষণায় দেখা গেছে, ইটভাটা মাটি, পানি এবং জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় যে কার্বন মনোঅক্সাইড থাকে তা বাতাসকে যেমন দূষিত করে, তেমনি গাছপালা এবং ফসলের ক্ষতি করে। ইটভাটার বর্জ্যে যে সালফার থাকে তা নদী বা জলাশয়কে দূষিত করে। এর ফলে আশপাশের নদী থেকে মাছসহ সব ধরনের জলজপ্রাণী এবং উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইটভাটার আগুনের প্রচন্ড তাপে ইটভাটার আশপাশের ফসলি জমি নিষ্ফলা হয়ে যায়। এমনকি পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ও এখন ইটভাটার কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আর ইটভাটার কারণে বাতাস দূষিত হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়।
    তিনি আরও বলেন, সরকার ইটভাটার মালিকদের বিকল্প অর্থনৈতিক খাত তৈরী করুক, তারা যেন পরিবেশের ধ্বংস করে ভাটা ব্যবসা না করে। তারা যে পরিমাণ বনাঞ্চল, পরিবেশ ও প্রাণ প্রকৃতির ক্ষতি করেছে তার ক্ষতিপূরণ আদায় করা হোক।

    এদিকে ভাটা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর টনপ্রতি কয়লা ক্রয় করা হচ্ছে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকায়। অপরদিকে প্রতি টন কাঠের দাম পড়ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।কয়লার তুলনায় দাম কম হওয়ায় বনাঞ্চলের কাঠকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে ভাটা মালিকরা। ইট পোড়ানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানায়, প্রতিটি ভাটায় ইট পোড়াতে দিনরাত ৬ থেকে ৭ টন কাঠের প্রয়োজন হয়।
    মালিকরা জানান, জিগজ্যাগ ভাটার সংখ্যা ২৪টি বাকি ৫টি বয়লার ভাটা। লাইসেন্স পাওয়ার ব্যাপারে সবগুলো ভাটা থেকে আবেদন জমা দেয়া আছে।কিছু আইনি জটিলতার কারণে এখনো লাইসেন্সপাওয়া হয়নি। জিগজ্যাগ করা কিছু কিছু ইটভাটায় পূর্ণাঙ্গ কোন টেকনিশিয়ান না থাকায় কয়েকটি ইটভাটার সামনে ২০ থেকে ৫০ মণ কাঠের লাকড়ি রাখা হয়। এছাড়া প্রতিটি ভাটায় কম করে হলেও ২০০ জনশ্রমিক কর্মরত থাকে, তাদের রান্নাবান্নার কাজেও কাঠগুলো ব্যবহার হয়।

    চন্দনাইশের অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাজিব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সিডিউল দেয়া থাকে।

    সিডিউল অনুযায়ী ইতিমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় অভিযান চালানো হয়েছে। চন্দনাইশেও অবৈধ ইটভাটা বৃদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিনা বাঁধায় কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, যেসব ভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ করে খুব শিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তবে এদিকে অনেক ইটভাটায় মূলত লাকড়ী ব্যবসা করেন খোদ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বাদশা। ৫ আগষ্ট ২০২৪ এর আগে তার একটি ইটভাটা থাকলেও রাতারাতি ৪টি ইটভাটার মালিক বলে জানিয়েছেন তারই সমিতির একাধিক সদস্য।বিগত সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী নজরুল ইসলামের বদান্যতায় ইটভাটা মালিকের গুরুত্বপূর্ন পদ উপভোগ করলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ইটভাটারও নিয়ন্ত্রণ নেয় এই বাদশা।

    এদিকে পরিবেশের বারোটা বাজিয়ে গেলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের পটিয়া রেঞ্জার ইমরুল, আধমরা পাহাড়ের কলঙ্ক মনোয়ারের ঘাড়ে। ৩০টি ইটভাটার নেই কোন ছাড়পত্র, প্রকাশ্যে অবাধে পুড়ছে বনের কাট।

    গবেষণায় দেখা গেছে, ইটভাটা মাটি, পানি এবং জনস্বাস্থ্যের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ইটভাটার ধোঁয়ায় যে কার্বন মনোঅক্সাইড থাকে তা বাতাসকে যেমন দূষিত করে, তেমনি গাছপালা এবং ফসলের ক্ষতি করে। ইটভাটার বর্জ্যে যে সালফার থাকে তা নদী বা জলাশয়কে দূষিত করে। এর ফলে আশপাশের নদী থেকে মাছসহ সব ধরনের জলজপ্রাণী এবং উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়ে যায়। ইটভাটার আগুনের প্রচন্ড তাপে ইটভাটার আশপাশের ফসলি জমি নিষ্ফলা হয়ে যায়। এমনকি পার্বত্য এলাকায় পাহাড়ও এখন ইটভাটার কারণে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। আর ইটভাটার কারণে বাতাস দূষিত হওয়ায় মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হয়। ইমরুল, আধমরা পাহাড়ের কলংক মনোয়ারের ঘাড়ে ৩০টি ইটভাটার নেই ছাড়পত্র, প্রকাশ্যে পুড়ছে বনের কাট। চন্দনাইশে অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ফলে—চন্দনাইশের বুকে অবৈধ ইটভাটার ছড়াছড়ি, ৩০টি ইটভাটার মধ্যে পরিবেশ ছাড়পত্র আছে মাত্র ২টির। প্রায় সব ভাটার কার্যক্রমই বর্তমানে পরিচালিত হচ্ছে অবৈধভাবে।
    অবৈধ এসব ইটভাটায় পুড়ছে বনের কাঠ। ধ্বংস হচ্ছে বনাঞ্চল। হুমকিতে পড়েছে পরিবেশ।নিত্যদিন এসব ইটভাটায় বনের কাঠ পোড়ালেও স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে চলতি মৌসুমে কোন অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি। অথচ পার্শ্ববর্তী উপজেলা সাতকানিয়া ও বাঁশখালীসহ বিভিন্ন উপজেলায় অবৈধ ভাটা বন্ধে ও নানা অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রশাসন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।
    সম্প্রতি চন্দনাইশে মাটি কাটার বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযান চোখে পড়লেও চলতি মৌসুমে এ পর্যন্ত অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করতে দেখা যায়নি।ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো বন্ধে বনবিভাগ থেকেও নেয়া হচ্ছে কোন পদক্ষেপ। ফলে দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে এসব অবৈধ ভাটার মালিকরা।
    ইট পোড়ানোর জ্বালানী হিসেবে নির্দিধায় উজাড় করে ফেলছে ভাটার পার্শ্ববর্তী বনের কাঠ।আবার এর মধ্যে সংরক্ষিত বনাঞ্চলও রয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ইট পোড়ানো নিয়ন্ত্রণ আইনে সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার তিন কিলোমিটারের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন ও ইট পোড়ানো নিষিদ্ধ।
    তবে এ আইন মানা হয়নি চন্দনাইশে। অধিকাংশ ইটভাটাই গড়ে তোলা হয়েছে পাহাড়ের আশেপাশেই। যাতে ইট তৈরীতে পাহাড়ের মাটি ও ইট পোড়াতে বনের কাঠ সহজেই ব্যবহার করা যায়।

    সরেজমিন গতকাল বুধবার উপজেলার কাঞ্চননগর রেলস্টেশন সংলগ্ন কেবিএম ইটভাটায় গিয়ে দেখা যায়, ভাটার চারপাশে বিশাল বিশাল কাঠের স্তুপ।

    আইনে কাঠ পোড়ানো নিষিদ্ধ হলেও ইট পোড়ানের জ্বালানি হিসেবে স্তূপ করে রাখা হয়েছে এসব কাঠ। অথচ জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে স্থাপন করা এসব ভাটায় জ্বালানি হিসেবে কয়লা ব্যবহার করার কথা। এলাকাবাসীর শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ধ্বংস হয়ে যাবে চন্দনাইশের বনাঞ্চল।এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে শুধু কেবিএম ইটভাটাই নয়, ৩০টি ভাটার মধ্যে জিগজ্যাগ কয়েকটি ভাটা বাদে প্রায় সব কটি ভাটাতেই ইট পোড়াতে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে।

    অথচ ২০১৩ সালের ইট প্রস্তুত ও ভাটা স্থাপন নীতিমালায় স্পষ্ট বলা আছে, ইট পোড়ানোর ক্ষেত্রে জ্বালানি কাঠের ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি। চন্দনাইশের এসব বয়লার ভাটায় মানা হচ্ছেনা কোন ধরনের আইন।

    পরিবেশবিদরা মনে করেন, বনের কাঠ ইটভাটায় ব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশগত সমস্যা। যা অবৈধ ইটভাটা এবং আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে চলছে।

    এতে বায়ু দূষণ, বন উজাড়, কৃষি জমির ক্ষতি এবং জনস্বাস্থ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের নজরদারি ও কার্যকরী পদক্ষেপের অভাবে এই প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।কয়লার উচ্চমূল্য ও সহজলভ্যতার অভাবে ভাটা মালিকরা কাঠ ব্যবহার করছে, যা পরিবেশ ও মানুষের জন্য মারাত্মক হুমকি। ভাটা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি বছর টনপ্রতি কয়লা ক্রয় করা হচ্ছে ১৬ থেকে ২০ হাজার টাকায়। অপরদিকে প্রতি টন কাঠের দাম পড়ছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা।কয়লার তুলনায় দাম কম হওয়ায় বনাঞ্চলের কাঠকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে ভাটা মালিকরা। ইট পোড়ানোর কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা জানায়, প্রতিটি ভাটায় ইট পোড়াতে দিনরাত ৬ থেকে ৭ টন কাঠের প্রয়োজন হয়।

    এসব কাঠের অধিকাংশই যোগান দেয়া হচ্ছে দোহাজারী রেঞ্জের আশেপাশের স্থানীয় বনাঞ্চল থেকে। স্থানীয়রা জানান, প্রতি রাতেই ট্রাকে ট্রাকে বনের কাঠ যায় এসব ইটের ভাটায়। চন্দনাইশ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আবদুর রহিম বাদশা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, সমিতির প্রত্যেককে বলা আছে ইট পোড়ানোতে জ্বালানি হিসেবে বনের কাঠ ব্যবহার করা যাবে না।তিনি জানান, চন্দনাইশে মোট ৩০টি ইটভাটার য়েছে। যার মধ্যে একটি বন্ধ। বাকি ২৯টি ভাটার মধ্যে জিগজ্যাগ ভাটার সংখ্যা ২৪টি। আর বাকি ৫টি বয়লার ভাটা।

    লাইসেন্স পাওয়ার ব্যাপারে সবগুলো ভাটা থেকে আবেদন জমা দেয়া আছে। কিছু আইনি জটিলতার কারণে এখনো লাইসেন্সপাওয়া হয়নি। বনের কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, জিগজ্যাগ করা কিছু কিছু ইটভাটায় পূর্ণাঙ্গ কোন টেকনিশিয়ান না থাকায় কয়েকটি ইটভাটার সামনে ২০ থেকে ৫০ মণ কাঠের লাকড়ি রাখা হয়। এছাড়া প্রতিটি ভাটায় কম করে হলেও ২০০ জনশ্রমিক কর্মরত থাকে, তাদের রান্নাবান্নার কাজেও কাঠগুলো ব্যবহার হয়।

    বনের কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের অধীন দোহাজারী রেঞ্জের রেঞ্জার মনোয়ার ইসলাম জানান, তিনি গত ১৮ জানুয়ারি দোহাজারী রেঞ্জে যোগদান করেছেন। অবৈধ ইটভাটায় বনের কাঠ পোড়ানের ব্যাপারে খোঁজ নিয়ে বনবিভাগের পক্ষ থেকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন।এবং তিনি চট্টগ্রাম ডিভিশনেও নতুন, তেমন জানাশোনা নেই।তবে আমি কথা দিচ্ছি সকল প্রকার অনিয়ম দূর করা হবে ইনশাআল্লাহ।

    চন্দনাইশের অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রাজিব হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, অবৈধ ইটভাটা উচ্ছেদে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে সিডিউল দেয়া থাকে।

    সিডিউল অনুযায়ী ইতিমধ্যে কয়েকটি উপজেলায় অভিযান চালানো হয়েছে। চন্দনাইশেও অবৈধ ইটভাটা বৃদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। বিনা বাঁধায় কাঠ পোড়ানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, যেসব ভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে তথ্য সংগ্রহ করে খুব শিঘ্রই অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

    তবে এদিকে অনেক ইটভাটায় মূলত লাকড়ী ব্যবসা করেন খোদ ইটভাটা মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম বাদশা। ৫ই আগষ্ট ২০২৪ এর আগে তার একটি ইটভাটা থাকলেও এখন ৪টি ইটভাটার মালিক বলে জানিয়েছেন তারই সমিতির একাধিক সদস্য।

    বিগত সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী নজরুল ইসলামের বদান্যতায় ইটভাটা মালিকের গুরুত্বপূর্ন পদ উপভোগ করলেও পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সেই সাবেক প্রতিমন্ত্রীর ইটভাটারও নিয়ন্ত্রণ নেয় এই বাদশা। বাদশার ভয়ে উপজেলা প্রশাসন কখনো তার মালিকানাধীন ইটভাটায় প্রবেশ করেননা বলেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ইটভাটা মালিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

    এদিকে গণমাধ্যমকে এক ইটভাটার মালিক জানিয়েছেন তারা সাবেক দোহাজারী রেঞ্জ বন কর্মকর্তা ইমরুলকে ম্যানেজ করেই এবং চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসনকেও মৌসুম ভিত্তিক প্রতিভাটা থেকে একটা চাঁদা তোলে এই কাজকর্ম চালাচ্ছেন।এদিকে ইটভাটায় লাকড়ি দেয়া এক ব্যক্তি চট্টগ্রাম সংবাদকে জানান,সাবেক রেঞ্জার ইমরুল সাহেব সব জানে তবে নতুন একজন মনোয়ার ইসলাম নামে আসছে ওনাকে আমরা চিনিনা,নতুন রেঞ্জার আসাতে একটু আমাদের ব্যবসায় সমস্যা হবে। কিছু কিছু সাংবাদিকও তাদের হাতে আছেন বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ইটভাটার মালিক।

  • এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতীক বরাদ্দে শুরু প্রচার-প্রচারণা, যশোরের ৬টি আসনে লড়াইয়ে ৩৫ প্রার্থী

    এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতীক বরাদ্দে শুরু প্রচার-প্রচারণা, যশোরের ৬টি আসনে লড়াইয়ে ৩৫ প্রার্থী

    এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোরের ৬টি আসনে ৩৫ প্রার্থীর মাঝে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান তার কার্যালয়ে বুধবার এ প্রতীক বরাদ্দ দেন।
    আজ বৃহস্পতিবার থেকে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা শুরু হয়েছে।

    প্রতীক পাওয়া প্রার্থীরা হলেন-যশোর-১ শার্শা আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ আজীজুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল (লাঙ্গল), বিএনপির প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বক্তিয়ার রহমান (হাতপাখা) ।

    যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনে বিএনপির প্রার্থী সাবিরা সুলতানা (ধানের শীষ), জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী ইদ্রিস আলী (হাতপাখা), বাসদের প্রার্থী ইমরান খান (মই), স্বতন্ত্র জহুরুল ইসলাম (ঘোড়া), স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান (ফুটবল), বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের প্রার্থী শামছুল হক (টেলিভিশন), এবি পার্টির প্রার্থী রিপন মাহমুদ ( ঈগল) ।

    যশোর-৩ সদর আসনে বিএনপির প্রার্থী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুহাম্মদ শোয়াইব হোসেন (হাতপাখা), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল কাদের (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী খবির গাজী (লাঙ্গল), জাগপার প্রার্থী নিজামউদ্দীন অমিত (চশমা), সিপিবির প্রার্থী রাশেদ খান (কাস্তে) ।

    যশোর-৪ (বাঘারপাড়া-অভয়নগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম নাজিম উদ্দিন আল আজাদ (মোটরসাইকেল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বায়েজীদ হোসাইন (হাতপাখা), বিএনপির প্রার্থী মতিয়ার রহমান ফারাজী (ধানের শীষ), খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আশেক এলাহী (দেয়ালঘড়ি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গোলাম রসুল (দাড়িপাল্লা), জাতীয় পার্টির প্রার্থী জহুরুল হক (লাঙ্গল), বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী সুকৃতি কুমার মন্ডল (রকেট) ।

    যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এম এ হালিম (লাঙ্গল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী গাজী এনামুল হক (দাড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জয়নাল আবেদীন (হাতপাখা), বিএনপির প্রার্থী রশীদ আহমদ (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী শহীদ ইকবাল হোসেন (কলস) ।

    যশোর-৬ কেশবপুর আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী জিএম হাসান (লাঙ্গল), বিএনপি প্রার্থী আবুল হোসেন আজাদ (ধানের শীষ), এবি পার্টির প্রার্থী মাহমুদ হাসান (ঈগল), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোক্তার আলী (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী শহিদুল ইসলামের প্রতীক ( হাতপাখা)।

    জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান জানান, ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী বুধবার প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। ২২ জানুয়ারি থেকে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা শুরু হচ্ছে। ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে। ভোটের পরিবেশ অবাধ সুষ্ঠু ও গ্রহনযোগ্য করতে মাঠে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। যশোরে ৬টি আসনে ২৪ লাখ ৭১ হাজার ৯০৮ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। ৮২৪ ভোট কেন্দ্রের ৪ হাজার ৬৭৯ ভোট কক্ষে ১৪ হাজার ৮৬১ ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে প্রিজাইডিং অফিসার ৮২৪, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ৪ হাজার ৬৭৯ ও পোলিং অফিসার ৯ হাজার ৩৫৮।

  • যশোর ইতিহাসে প্রথমবার বন্দিদের ভোটাধিকারের সুযোগ,কেন্দ্রীয় কারাগারে ভোট দিতে ১২৯ বন্দির আবেদন

    যশোর ইতিহাসে প্রথমবার বন্দিদের ভোটাধিকারের সুযোগ,কেন্দ্রীয় কারাগারে ভোট দিতে ১২৯ বন্দির আবেদন

    ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কারাগারে থাকা বন্দিদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা করেছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ১২৯ জন বন্দি এবার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। তারা পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাবেন। ইতোমধ্যে অনলাইনের মাধ্যমে নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। গত ৩১ ডিসেম্বর এই নিবন্ধন শেষ হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ আহম্মেদ।

    কারাগার সূত্র জানায়, প্রথমে বিষয়টি বন্দিদের অবহিত করা হলে অনেকেই আগ্রহ প্রকাশ করেন। তবে আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকা কিংবা অন্যান্য কারণে অনলাইনে নিবন্ধন করতে পারেননি অনেকে। আবার কেউ কেউ জামিনে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আবেদন করতে চাননি। সব মিলিয়ে সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ১২৯ জন বন্দি ভোট দেওয়ার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন সম্পন্ন করেন।

    কারা সূত্র আরও জানায়, পোস্টাল ব্যালট হাতে পাওয়ার পর বন্দিরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। বন্দিদের নিজ নিজ নির্বাচনী আসনে কোন কোন প্রার্থী ও প্রতীকে নির্বাচন করছেন, সে তথ্য বুকলেট আকারে সরবরাহ করা হবে। এতে তারা প্রার্থী ও প্রতীক সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারবেন। নিবন্ধিত বন্দিদের জন্য যথাযথভাবে ভোট প্রদানের পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

    নির্ধারিত সময়ে নিবন্ধিত ভোটারদের জন্য নির্বাচন কমিশন পৃথকভাবে খাম পাঠাবে। প্রতিটি প্যাকেটে থাকবে ভোট প্রদানের নিয়মাবলি, স্বাক্ষরের জন্য নির্ধারিত স্থান এবং ব্যালট পেপার। বন্দিরা ব্যালট পেপারে ভোট দিয়ে খাম সিল করবেন। কারাগারের নির্ধারিত স্থানে বসেই তারা ভোট দেবেন। পরে ব্যালট পেপারের খাম ও স্বাক্ষরসংবলিত কপিটি আরেকটি খামে ভরে কারা কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেবেন। কারা কর্তৃপক্ষ সেগুলো পোস্ট অফিসে পাঠাবে এবং ডাক বিভাগ এক্সপ্রেস ব্যবস্থায় খামগুলো নির্বাচন কমিশনে পাঠাবে। এরপর নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ভোটের সঙ্গে এগুলো যুক্ত করবে।

    কারা সূত্র আরও জানায়, নিবন্ধিত বন্দিদের কেউ জামিনে মুক্তি পেলেও ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য তাকে কারাগারের ভেতরে নির্ধারিত বুথে উপস্থিত হয়ে ভোট দিতে হবে। ভোট প্রদান শেষে তিনি পুনরায় কারাগার থেকে বের হবেন।

    এ বিষয়ে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার আবিদ হাসান বলেন, নিবন্ধিত বন্দিদের ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এ বিষয়ে একটি টিমও গঠন করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে বন্দিদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে।

    এদিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আশেক হাসান জানান ৯ড়ড়, নির্বিঘ্নে ভোট প্রদানের জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। বন্দিরা যাতে সুষ্ঠুভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

  • কোকোকে নিয়ে কটূক্তি এবার যশোরে জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, তদন্তে পিবিআই

    কোকোকে নিয়ে কটূক্তি এবার যশোরে জামায়াত প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা, তদন্তে পিবিআই

    যশোরে কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে অশালীন ও কটূক্তিমূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে এ মামলা করা হয়।

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) যশোর জেলা কৃষকদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও খড়কির বাসিন্দা মেহেদী হাসান জিল্লু বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলাটি গ্রহণ করে যশোরের অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আছাদুল ইসলাম পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), যশোরকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

    মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়, ২০২৩ সালে চট্টগ্রামে আয়োজিত একটি মাহফিলে বক্তৃতাকালে আমির হামজা প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে আপত্তিকর ও সম্মানহানিকর বক্তব্য দেন। বাদীর অভিযোগ, একজন মৃত ব্যক্তিকে উদ্দেশ করে এ ধরনের মন্তব্য শুধু ব্যক্তিগত সম্মান নয়, বরং পুরো জিয়া পরিবারের মর্যাদাকেই ক্ষুণ্ন করেছে।

    আরজিতে আরও বলা হয়, ওই বক্তব্যের কারণে কোকো ও তার পরিবারকে নিয়ে জনসমক্ষে হাস্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা সমাজে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে। গত ১৭ জানুয়ারি যশোরের লালদীঘির পাড়ে বিএনপির পার্টি অফিসে অবস্থানকালে অনলাইনে বক্তব্যটির ভিডিও দেখেন বাদী। ভিডিওটি দেখে তিনি গভীরভাবে মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

    বাদীর দাবি, এই বক্তব্য জাতীয়তাবাদী চেতনায় বিশ্বাসী মানুষের অনুভূতিতে আঘাত হেনেছে এবং এতে প্রায় ৫০ কোটি টাকার মানহানি হয়েছে। এ কারণেই তিনি আইনি প্রতিকার চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

    বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম. এ. গফুর জানান, জিয়া পরিবারকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিতভাবে মানহানিকর বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, যা একটি গুরুতর অপরাধ। দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

    উল্লেখ্য, অভিযুক্ত আমির হামজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ডাবিরাভিটা গ্রামের বাসিন্দা রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। তিনি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া-৩ আসন থেকে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী।

  • ধানের শীষের সমর্থনে দুমকিতে উঠান বৈঠক।

    ধানের শীষের সমর্থনে দুমকিতে উঠান বৈঠক।

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল(অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর সমর্থনে শ্রীরামপুর ইউনিয়নে এক উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪ বাদুয়া শ্রীরামপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ইউনিয়ন বিএনপি’র ২ ও ৩ নং ওয়ার্ডের উদ্যোগে আয়োজিত এ উঠান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মো: ফারুক হোসেন হাওলাদার।

    প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা বেগম সুরাইয়া আক্তার চৌধুরী।বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা প্রশাসক ও জীবন বীমা কর্পোরেশনের এম ডি একেএম জব্বার ফারুক, দুমকি উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মৃধা,ঢাকাস্হ জাতীয়তাবাদী ফোরামের নেতা আ: মালেক মৃধা, এবায়দুল ইসলাম বাদল, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ডেপুটি ডিরেক্টর মো: মাহফুজুর রহমান সবুজ,শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার মো: খলিলুর রহমান, দুমকি উপজেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো: জসীম উদ্দিন, , মো: জাহিদুল হক, দুমকি থানা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক সহিদুল ইসলাম, দুমকি নারী ও শিশু অধিকার ফোরামের সভাপতি হেলেনা বেগম প্রমুখ। সভা সঞ্চালনা করেন শ্রীরামপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আমীর হোসেন হাওলাদার।বক্তারা বলেন, “ধানের শীষ গণতন্ত্র,জণগনের অধিকার ও স্বাধীনতার প্রতীক। দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জণগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে আসন্ন নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

    একই সঙ্গে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব:) আলতাফ হোসেন চৌধুরীর পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করার আহ্বান জানান।

  • শরীয়তপুর ডামুড্যায় জার্মান প্রবাসী কে মারধর ও মহিলাদের তালিম বন্ধ করে দেয় বিএনপির নেতা কর্মী।

    শরীয়তপুর ডামুড্যায় জার্মান প্রবাসী কে মারধর ও মহিলাদের তালিম বন্ধ করে দেয় বিএনপির নেতা কর্মী।

    শরীয়তপুর ডামুড্যা চর ধান কাঠি ইউনিয়নের ৭ ওয়ার্ডে শার্শা গ্রামে ২৩শে ফেব্রুয়ারী শুক্রবার সকাল ৯ঘটিকার সময় প্রবাসী আক্তারুজ্জামান পিতাঃ কেরামত বেপারী এর নতুন বাড়িতে মহিলাদের তালিম (জামায়াতের) অনুষ্ঠান হবার কথা ছিলো পূর্বের দিন স্থায়ী সবাই কে দাওয়াত ও দেয়া হয়।

    শুক্রবার সকাল ৮টার সময় বিএনপির নেতা মনির মৃধার বড় ভাই কাদির মৃধা ও ভাতিজা অনুষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটায় মহিলাদের কে বাধা চেষ্টা করে । এক পর্যায়ে কাদির মৃধা প্রবাসী আক্তার হোসেন কে থাপ্পড় মেরে বসে বলে যে এখানে সব বিএনপি সাপোর্টার তুই কোন প্রোগ্রাম করতে পারবি না কথার কাটা কাটির ছলে এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয়ে যায়, কাদির মৃধা অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে প্রবাসী আক্তারুজ্জামান পরিবার কে।
    দু পক্ষের সংঘর্ষে এক পর্যায়ে পন্ড হয়ে যায় সবকিছু।

    স্থানীয়রা বলে অনির্মিতার বড় ভাই তাদের মিথ্যা ও তার ভাতিজা এলাকায় ক্ষমতার প্রভাব বিস্তার করে মানুষকে হয়রানি করে। ধানকাঠি ইউনিয়নের কৃষক দলের সভাপতি নুর ইসলাম ফকির বলেন এখানে একটি ভুল বোঝাবুঝি হওয়ার কারণে সংঘর্ষর সৃষ্টি হয়েছে, গতরাত আমাদের ক্লাবে ওরা দাওয়াত দিয়েছিলো আমরা আসি নাই ।

    ভুক্তভোগী প্রবাসী আক্তার হোসেন বলেন আমি দীর্ঘদিন যাবত জার্মান বসবাস করি দেশে নিয়মিত থাকি না আমি এলাকায় কিছু ভালো কাজ করতে চাই বা আমি উদ্যোক্তা হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ,অনেক উন্নয়ন মূল

    ক কাজ করেছি যেগুলো এলাকাবাসী অবগত আছেন কিন্তু আজকে নুর ইসলাম, বাচ্চু ঢালী , কামাল মৃধা , কাদির মৃধা,সহ আরো অনেক আমার কাজে বাধা দিয়েছি এসব চক্র মহল আমার কাজগুলোকে তারা ভালো চোখে দেখে নাই, সহ্য করতে পারে নাই তাই তারা আমার এখানে এসে গ্যা

    ঞ্জাম করেছেন আমার গায়ে হাত তুলেছে আমার ভাতিজাকে মারধর করছে, আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত নেই,

    আমাদের এখানে একটি সংগঠন রয়েছে যুব উন্নয়ন সংগঠন এই সংগঠন নিয়ে আমি কাজ করি, আমি ইসলামকে ভালোবাসি তাই দিনের কল্যাণের জন্য একটি মাদ্রাসা নির্মাণের কাজ করতে চেয়েছিলাম ওরা আমাকে সেই কাজে বাধা দিয়েছে আমাকে শারীরিক ভাবে অত্যাচার করছে আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই প্রতিপক্ষ আমাকে ঘায়েল করার জন্য সব সময় দাঁড়িয়ে আছে কখন কি না জানি হয় ।আমি যেই কয়দিন এই দেশে আছি আমি নিরাপদে থাকতে চাই। আমার নিরাপত্তা চাই।

  • ৫৪ বছরে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি, সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ : জামায়াত আমির

    ৫৪ বছরে লাভের চেয়ে ক্ষতিই বেশি, সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ : জামায়াত আমির

    স্বাধীনতার ৫৪ বছরে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্জনের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণই বেশি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। 

    তিনি বলেন, এই দীর্ঘ সময়ে দেশ ধীরে ধীরে চোরাবালিতে হারিয়ে গেছে; ধ্বংস করা হয়েছে সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান আর জাতির ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বিপুল ঋণের বোঝা। এমন এক প্রতিকূল বাস্তবতায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে উত্তরবঙ্গে দুই দিনের নির্বাচনী সফর শুরুর আগে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।

    প্রতিষ্ঠান ধ্বংস ও ঋণের বোঝা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের কিছু অর্জন যে হয়নি, তা তিনি অস্বীকার করেন না। তবে সামগ্রিকভাবে লাভের চেয়ে ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি। বিশেষ করে দেশের সবগুলো সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রকে বিপুল অঙ্কের ঋণের বোঝার মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    ভবিষ্যৎ সরকারের চ্যালেঞ্জ তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিতে আগামীতে যারা সরকার গঠন করবে, তাদের জন্য এটি একটি বিশাল চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক নানা সংকট এখনো কাটেনি। যুবসমাজ এখনো বেকারত্বে মারাত্মকভাবে ভুগছে, কর্মক্ষেত্রে কর্মীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত হয়নি। চলাফেরা ও কর্মস্থলে মা-বোনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও সমাজ এখনো ব্যর্থ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

    জামায়াত আমির বলেন, এসব চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে স্পষ্টভাবে বিদ্যমান এবং এগুলো মোকাবিলা করতেই হবে। এমন বাস্তবতার মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।

    নির্বাচন ও ঐক্যের বার্তা নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে জাতির কাছে দুটি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, দেশের স্বার্থে একটি জায়গায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, পরস্পরকে আঘাত বা আক্রমণ না করে নিজ নিজ কর্মসূচি নিয়ে জনগণের কাছে যেতে হবে।

    তিনি আরও বলেন, জনগণ যাদের ভোট দিয়ে গ্রহণ করবে, তাদের প্রতি সবার শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। ভিন্ন কোনো কায়দায় নির্বাচনের ফলাফল প্রভাবিত করার কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থেকে সবাইকে বিরত থাকতে হবে। রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়ের কেউ যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক করেন তিনি।

    এ সময় তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার জন্য জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানান।

  • চট্টগ্রামে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার প্রধান আসামি জঙ্গল সলিমপুরে অহেতুক ঝামেলা করলে জনবিস্ফোরণ ঘটবে

    চট্টগ্রামে র‍্যাব কর্মকর্তা হত্যার প্রধান আসামি জঙ্গল সলিমপুরে অহেতুক ঝামেলা করলে জনবিস্ফোরণ ঘটবে

    ‘জঙ্গল সলিমপুরে যদি অহেতুক কোনো ঝামেলা সৃষ্টি হয় বা অপরাধের ফাঁদে ফেলে কেউ গোলযোগ সৃষ্টি করে, তাহলে বড় ধরনের পাবলিক বিস্ফোরণ ঘটবে।’

    বুধবার (২১ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে নিহত র‍্যাব কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইয়াসিন এক ভিডিও বার্তায় এ কথা বলেন। তার এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

    ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যে ইয়াসিনকে আরও বলতে শোনা যায়, র‍্যাব এখানে কীজন্য এসেছে– গাড়ি ছাড়া, পোশাক ছাড়া এভাবে কেন ঢুকেছে। তারা কোন আসামি ধরতে এসেছে– সে বিষয়ে কারো নাম শোনা যায়নি। কোনো আসামির নাম প্রকাশ করা হয়নি।

    তিনি বলেন, এখানে যত সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, সবই রুকন মেম্বারের লোকজনের মাধ্যমে। ডিসি পার্ক থেকে শুরু করে সীতাকুণ্ডের বিভিন্ন এলাকায় তার লোকেরা চাঁদাবাজি করছে। সে চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে আমাদের এই এলাকা দখল করতে চায়। তার কাছে সব অস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে। আমি কথা দিচ্ছি—এই রুকন মেম্বারকে গ্রেপ্তার করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে। সে বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে টাকা তুলে এখানে র‍্যাবকে এনেছে।

    ইয়াসিন বলেন, আজ আবারও জোরালোভাবে বলছি– এলাকায় যদি কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে, তাহলে বড় ধরনের জনবিস্ফোরণ ঘটবে। এই জনবিস্ফোরণের দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে।

    ইয়াসিন বলেন, প্রশাসন চাইলে আমাকে বাড়ি থেকে সাময়িকভাবে উচ্ছেদ করতে পারে কিন্তু আমার ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি থেকে স্থায়ীভাবে উচ্ছেদের কোনো সুযোগ নেই। বল প্রয়োগ বা নির্যাতনের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।

    গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) জঙ্গল সলিমপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় চট্টগ্রাম র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেব হোসেন নিহত হন। একই ঘটনায় র‍্যাবের আরও তিন সদস্য এবং মনা নামে একজন সোর্স গুরুতর আহত হন। নিহত মোতালেব বিজিবির নায়েব সুবেদার ছিলেন এবং প্রেষণে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সীতাকুণ্ড থানায় ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করে মোট ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করা হয়। এতে অজ্ঞাত পরিচয়ের আসামি করা হয়েছে ১৫০ থেকে ২০০ জনকে। ঘটনার পর থেকে এ পর্যন্ত ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশ, র‍্যাব ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার বিকেলে ইয়াসিনের নেতৃত্বে জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় একটি রাজনৈতিক কার্যালয় উদ্বোধনের কথা ছিল। এ কারণে সেখানে বিপুলসংখ্যক লোকজন জড়ো হন। অন্যদিকে রুকন গ্রুপের অনুসারী ও র‍্যাবের সোর্স মনা র‍্যাবকে জানান, ওই অনুষ্ঠানে ইয়াসিন উপস্থিত থাকবেন। এ তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম র‍্যাবের পতেঙ্গা কোম্পানি থেকে একটি টিম সেখানে অভিযান পরিচালনার জন্য যায়।

    বিকেল পৌনে ৪টার দিকে অভিযানে যাওয়া র‍্যাব সদস্যদের ওপর ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা হামলা চালায়। একপর্যায়ে র‍্যাবের চার সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে ফেলা হয়। এসময় র‍্যাবের অন্য সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যান। আটকে রাখা সদস্যদের কাছ থেকে অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে তাদের ব্যাপক মারধর করা হয়।

    খবর পেয়ে সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে এবং স্থানীয় একটি পক্ষের সহায়তা নেয়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় পাঁচজনকে উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক র‍্যাবের উপসহকারী পরিচালক মোতালেবকে মৃত ঘোষণা করেন।

    চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরেই পাহাড় দখল, অবৈধ বসতি ও প্লট বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা সশস্ত্র সন্ত্রাসের অভয়ারণ্য। হাজার কোটি টাকার সরকারি খাস জমির নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে এখানে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও খুনোখুনি। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের পর থেকে এই সহিংসতার মূল কেন্দ্রে রয়েছে ইয়াসিন ও রুকন গ্রুপের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের লড়াই। রুকন উদ্দিন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। নানা অভিযোগে ইতোমধ্যে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।