Author: তরঙ্গ টিভি

  • দুমকি উপজেলায়,  বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলা ঘিরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

    দুমকি উপজেলায়, বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর মামলা ঘিরে অর্থ আদায়ের অভিযোগ।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায়, বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার বাদি উপজেলা কৃষকদলের এক নেতার বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে মামলায় জড়ানোর ভয় দেখিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, গ্রেফতার ও জামিনের নাম করে বিভিন্ন পরিবারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

    জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দুমকি থানায় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের ৮৮ জনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও দুই থেকে আড়াইশ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন উপজেলা কৃষকদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. গোলাম মর্তুজা। ওই মামলায় ইতোমধ্যে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বাকিরা অধিকাংশই জামিনে রয়েছেন।
    অভিযোগ রয়েছে, আত্মগোপনে থাকা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে। পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ৫০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আদায়ের ঘটনা ঘটছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। টাকা না দিলে বাড়িতে গিয়ে হুমকি দেওয়া বা পুলিশে ধরিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। পরে জামিনে ছাড়ানোর আশ্বাস দিয়ে আবারও অর্থ নেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. জাহিদুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন মর্তুজা। টাকা দিতে অপারগতা জানালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার ডাকা এক সভা থেকে তাকে বাইরে ডেকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

    একই ইউনিয়নের রাকিব হাসান বাবু নামের এক যুবককে ছাত্রলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে পুলিশে ধরিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। পরে তাকে ছাড়িয়ে নিতে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। নগদ ২০ হাজার টাকা দেওয়ার পরও বাকি টাকা না দেওয়ায় হয়রানির শিকার হতে হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
    টাকা দিতে না পারায় ছেলেকে অন্যায়ভাবে গ্রেফতার করানো হয়েছে বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবু’র মা শাহনাজ বেগম। তিনি দেশে আইন-বিচার আছে কিনা প্রশ্ন রাখেন।
    ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মর্তুজার একই বাড়ির বাসিন্দা ইউসুব মোল্লাকে কোনো মামলা ছাড়াই পুলিশ গ্রেফতার করে বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার অজ্ঞাত আসামি হিসেবে আদালতে চালান দেয়। এতে

    মর্তুজার সংশ্লিষ্টতা ছিল বলে পরিবারের ধারণা।
    এ ছাড়া মুরাদিয়া, শ্রীরামপুর, আঙ্গারিয়া ও লেবুখালী ইউনিয়নের কয়েকটি পরিবারের শিক্ষার্থীদের ছাত্রলীগের ট্যাগ দিয়ে মামলায় জড়ানোর হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়ার অভিযোগও পাওয়া গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, চাঁদা না দিলে গ্রেফতারের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয়ে কেউ কেউ এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।
    অপর একটি সূত্র জানায়, মর্তুজারই আপন ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি মোস্তাকিম বিল্লাহ এলাকায় ঘোরাফেরা করছেন। একই সময়ে মর্তুজা বিএনপি অফিস ভাঙচুর মামলার ভয় দেখিয়ে নিরীহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উপজেলা বিএনপির সভাপতি খলিলুর রহমান বলেন, আপনারা যথাযথ প্রমান দেন তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে দল থেকে।
    তবে মামলার বাদি গোলাম মর্তুজা তার বিরুদ্ধে ওঠা চাঁদাবাজি ও মামলা বাণিজ্যের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
    এ বিষয়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুমকি থানার এসআই অহিদুল ইসলাম প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে রাজি হননি। দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, তার যোগদানের আগেই মামলাটি হয়েছে। বাদি টাকা আদায়ের সঙ্গে জড়িত-এমন কোনো অভিযোগ এখনো থানায় আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন

    মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন

    মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী নিউইয়র্কে ট্যাক্সি চালিয়ে দেশে ৬ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান করেছেন ।
    মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ এখন চারতলা ভবন। সবগুলো প্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত হয়েছে ।

    এখনো সময় পেলে ‘মাঝি দ্য মাউন্টেন ম্যান’ দেখেন মোশাররফ। বলিউডের বিখ্যাত সিনেমাটি ভারতের বিহারের গেহলর গ্রামে দশরথ মাঝিকে নিয়ে নির্মিত। প্রায় ২২ বছর চেষ্টার পর হাতুড়ি, শাবল নিয়ে পাহাড় কেটে রাস্তা বানাতে পেরেছিলেন দশরথ মাঝি। তাঁর মতো মোশাররফও পাথর ভেঙেছেন।

    তবে রাস্তা নয়, ভবন বানাতে। এসএসসির আগেই বাবাকে হারিয়েছিলেন। মোশাররফের ছোট কাঁধে তখন সংসারের বড় বোঝা। সেই ভার কমাতে পাড়ি জমিয়েছিলেন কাতারে।খবর আইবিএননিউজ ।

    কাজ জুটল নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে। সাত ফুটের মতো পাথর ভেঙে পাইলিং করতে হবে। সহকর্মীদের অনেকে চেষ্টা করেও ব্যর্থ হলো। কিন্তু মোশাররফের সে সুযোগ নেই।
    কারণ দেশে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে ছয়টি মুখ—মা আর পাঁচ ভাই-বোন। নীরবে চোখের জল ফেলেছেন। একমনে শক্ত পাথরের গায়ে চালিয়েছেন শাবল, হাতুড়ির আঘাত। পাথর যেন টলে না
    একচুলও। উল্টো হাতুড়ি ছিটকে এসে লাগে পায়ে।

    যন্ত্রণায় ককিয়ে ওঠেন। হাতে ফোসকা পড়ে। কিন্তু তিনি পিছপা হন না। আবার হাতে তুলে নেন হাতুড়ি। এভাবে ধাপে ধাপে সাফল্যের সোপান উতরে গেছেন তিনি।
    মোশাররফ নিজে বেশি দূর পড়তে পারেননি। কিন্তু হাড়ভাঙা খাটুনি খেটে ভাই-বোনদের পড়িয়েছেন। ঘামে ভেজা টাকায় এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন ছয়টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—দুটি কলেজ, একটি উচ্চ বিদ্যালয়, দুটি মাদরাসা ও একটি কিন্ডারগার্টেন। গড়েছেন দুটি পাঠাগারও। দুই কোটি টাকা সমমূল্যের জমি দিয়েছেন হাসপাতালের জন্য। শতবর্ষ একটি বটগাছ সমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে তাঁর কল্যাণে। বললেন, ‘পড়ালেখার মূল্য আমি বুঝি। জীবিকার তাগিদে এইচএসসি দিয়েই পাড়ি জমাতে হয়েছে বিদেশে। কিন্তু আমার মন পড়েছিল দেশে। টাকার অভাবে এলাকার কারো যেন পড়া বন্ধ না হয়, সে জন্য এত কিছু করা। এখান থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা এখন দেশে-বিদেশে বিভিন্ন জায়গায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। ভাবলেই মন নেচে ওঠে খুশিতে।’

    কাতারে পাথর ভেঙেছেন : বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী এই মানুষটির পুরো নাম মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। জন্ম কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ধান্যদৌল গ্রামে। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। বাবা আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী ছিলেন স্কুল শিক্ষক।

    শিক্ষার প্রতি অনুরাগ মোশাররফের রক্তে, বলা যায় উত্তরাধিকার সূত্রেই। তাঁর প্রপিতামহ সিরাজ খান চৌধুরী ১৯৩৭ সালে নিজ গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন ধান্যদৌল প্রাথমিক বিদ্যালয়। ১৯৫৭ সালে রাঙামাটিতে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠান করেন মোশাররফের বাবা আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী। নিজ এলাকা থেকে ওই স্কুলে শিক্ষক নিয়ে পড়াশোনার ব্যবস্থা করেছিলেন তিনি। শিক্ষক বাবার সংসারে আর ১০টা শিশুর মতোই হেসেখেলে বড় হচ্ছিলেন মোশাররফ। পঞ্চম শ্রেণিতে

     

    গড়ে তুললেন বিদ্যার বাতিঘর : ধান্যদৌল তো বটেই, আশপাশের কোনো গ্রামে ছিল না কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়। এ নিয়ে দফায় দফায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সভা। স্কুল করতে সবাই উত্সুক, কিন্তু জমি দিতে কেউ আগ্রহী নয়। এগিয়ে এলেন তরুণ মোশাররফ। এক দিন এক সভায় দাঁড়িয়ে বললেন, ‘কাতারে ঘাম বেচে কিছু পয়সা জোগাড় করেছি। সেটা দিয়েই স্কুলের জন্য জমি কিনব।’

    তাঁকে বাহবা দিল সবাই। পরে শুধু জমি নয়, স্কুলের অবকাঠামো থেকে শুরু করে সবই করে দিয়েছেন মোশাররফ। ১৯৮৯ সালে যাত্রা শুরু করল মোশাররফের প্রথম বিদ্যার বাতিঘর—আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী উচ্চ বিদ্যালয়। এমপিওভুক্ত হওয়া এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখন হাজারের মতো শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক-কর্মচারী ২৪ জন।

    নিউইয়র্কে পাড়ি : সে বছরই একটা সুযোগ পেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পাড়ি জমান মোশাররফ। সেখানেও শুরুতে ছিলেন নির্মাণ শ্রমিক। পরে রেস্তোরাঁ, ফাস্ট ফুডের দোকানে কাজ করেছেন। ১৯৯২ সালে ট্যাক্সি চালানোর লাইসেন্স পেলেন মোশাররফ। এর পর থেকে তিন দশকের বেশি সময় ধরে মার্কিন মুলুকে ট্যাক্সি ক্যাব চালাচ্ছেন। প্রচুর আয়, তবে অন্যদের মতো ভাবেননি কেবল নিজের সুখের কথা। বাড়ি-গাড়ি বা আয়েশি জীবনযাপনের পেছনে ব্যয় করেননি অঢেল অর্থ। আয়ের বেশির ভাগই উজাড় করে দিয়েছেন নিজ এলাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার কাজে।

    শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো দাঁড়িয়ে গেছে : ১৯৯৯ সালে তিনি গড়ে তোলেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ও আব্দুল মতিন খসরু মহিলা কলেজ। পরে গড়েছেন ‘আশেদা- জোবেদা খান চৌধুরী ফোরকানিয়া মাদরাসা’, ‘মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী হাফেজিয়া মাদরাসা ও ‘মুমু-রোহান কিন্ডারগার্টেন’। কঠোর পরিশ্রম করে জমানো টাকা যে শুধু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যই ব্যয় করছেন তা নয়। আবদুর রাজ্জাক খান চৌধুরী লাইব্রেরি ও ডা. মিজানুর রহমান চৌধুরী কিশোরী পাঠাগার নামে এলাকায় দুটি গ্রন্থাগারও প্রতিষ্ঠা করেছেন। ব্রাহ্মণপাড়ায় ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার জন্য দুই কোটি টাকা ব্যয়ে জমিও কিনে দিয়েছেন। ঈদগাহ, কবরস্থান ও মসজিদের উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছেন। টাকার অভাবে গরিব ছেলেমেয়েরা যাতে শিক্ষাবঞ্চিত না হয়, সে জন্য নিজের নামে ফাউন্ডেশন গড়ে শিক্ষাবৃত্তি দিচ্ছেন। এ পর্যন্ত বৃত্তি পেয়েছে ২০০ শিক্ষার্থী। ফাউন্ডেশন থেকে ঘর করে দিয়েছেন ১০টি গৃহহীন পরিবারকে।

    মোশাররফের গড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন বেশ ভালোভাবেই চলছে। শিক্ষার মানও যথেষ্ট ভালো। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে বড় মাঠ। তাঁর নামের কলেজটি এখন চারতলা ভবন। কলেজটিতে এখন ১০ বিষয়ে স্নাতক ও এক বিষয়ে মাস্টার্স পর্যায়ে শিক্ষা দেওয়া হয়। শিক্ষার্থী প্রায় পাঁচ হাজার। এইচএসসির ফলাফলের দিক থেকে কুমিল্লা বোর্ডের সেরা ১০ কলেজের একটি এটি।

    ১৯৮৯ সালে বাবার নামে স্কুল প্রতিষ্ঠার সময় শিক্ষার্থী ছিল ১০০-এর মতো। এখন সেখানে পড়ছে এক হাজার শিক্ষার্থী। মোশাররফের প্রতিষ্ঠিত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এমপিওভুক্ত হয়েছে।

     

     

    রক্ষা পেল শতবর্ষী বটগাছ : ধান্যদৌল গ্রামে শ্রীশ্রী কালীমন্দির প্রাঙ্গণে শতবর্ষী প্রাচীন এক বটগাছ। শৈশবে এই গাছতলায় অনেক খেলেছেন মোশাররফ! ২০০৭ সাল জরাজীর্ণ মন্দির সংস্কারে ওই বটগাছ বিক্রির উদ্যোগ নেয় মন্দির কর্তৃপক্ষ। ৭৫ হাজার টাকা দামও ঠিক হয়। মোশাররফ তখন ট্যাক্সি চালান নিউইয়র্কে। স্থানীয় এক ব্যক্তির মাধ্যমে খবরটি কানে যায় তাঁর। দেরি না করে তিনি যোগাযোগ করেন গাছটির ক্রেতার সঙ্গে। ফোনে বললেন, ‘ভাই, বটগাছটির সঙ্গে আমাদের অনেক স্মৃতি। আপনি তো ৭৫ হাজার টাকায় কিনেছেন। আমি এক লাখ টাকা দেব। কিন্তু গাছটি যেভাবে আছে সেভাবেই থাকবে।’

    পরে তিনি গাছটি দান করেন মন্দির কর্তৃপক্ষকে। মন্দির কমিটির সহসভাপতি লক্ষণকান্তি দেব বলেন, ‘মোশাররফ সাহেব গাছটি বাঁচিয়ে মন্দিরকে দান করেছেন। বটগাছটি এখন ছায়া দিচ্ছে মানুষকে। উনার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশের ভাষা নেই আমাদের।’

    প্রবাসে একা : ব্যক্তিজীবনে দুই সন্তানের জনক তিনি। প্রবাসে এখনো মেসে থাকেন। স্ত্রী-সন্তানরা থাকেন স্বদেশে। তাঁদের কখনো যুক্তরাষ্ট্রে নেননি। কারণ কী? ‘মেসে আমি যেনতেনভাবে থাকতে পারি। আলু ভর্তা, ডাল বা ডিম দিয়ে চলে যায় তিন বেলা। পরিবার নিয়ে গেলে বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে হতো। তাতে খরচ অনেক বেড়ে যেত। বরং সেই টাকা দেশের মানুষের কাজে লাগাতে চেয়েছি।’ সরল-সোজা উত্তর মোশাররফের। এ জন্য স্ত্রী ফয়জুন নাহার চৌধুরীর প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানালেন তিনি। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন, সংসদ সদস্য হাজি জসিম উদ্দিন, অধ্যক্ষ মোহাম্মদ ইউনুস, ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী, জাহাঙ্গীর খান চৌধুরী, হাজি তৈয়ব আলী, আব্দুল ওদুদ চেয়ারম্যানসহ নানা সময়ে আরো অনেকের সহযোগিতা পেয়েছেন। তাঁদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানালেন মোশাররফ।

    আনন্দে বাঁচা মানুষ : মোশাররফের বয়স এখন ৬২ বছর। তরুণ বয়সে পড়াশোনায় ছেদ পড়লেও তিনি এখন উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একটা কলেজে স্নাতকে পড়ছেন। পরীক্ষার সূত্রেই এসেছেন দেশে। বললেন, ‘পড়াশোনার কোনো বয়স নেই। আবার নতুন করে শুরু করতে চেয়েছি।’

    ভোগ নয়, ত্যাগের দর্শনে বিশ্বাসী মোশাররফ। বললেন, ‘আমি আনন্দে বাঁচি। মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে চিত্ত নেচে ওঠে আমার। যত দিন বাঁচি—আনন্দের খোরাক নিয়েই বাঁচতে চাই।

  • ভুয়া মামলার ফাঁদে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

    ভুয়া মামলার ফাঁদে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যখন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটছিল, সাংবাদিকরা তখন রাজপথে থেকে বিক্ষোভ, সংঘর্ষ আর অনিশ্চয়তার খবর সংগ্রহ করছিলেন। কয়েক মাস পর দেখা যাচ্ছে, অনেকে কেবল খবর পরিবেশনই করছেন না, বরং নিজেরাই খবরের শিরোনাম হয়ে উঠেছেন।খবর আইবিএননিউজ ।সেই তারিখের পর থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা, গ্রেপ্তার, ভীতি প্রদর্শন এবং শারীরিক হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে বলে দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষক সংস্থাগুলো জানিয়েছে। গণমাধ্যম সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলছেন, রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে এমন প্রবণতা সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে চরম ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

    ট্র্যান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-র গবেষণা অনুযায়ী, ৫ আগস্ট ২০২৪ থেকে ১ নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত অন্তত ৪৭৬টি ঘটনায় ১,০৭৩ জন সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মী হামলা, হুমকি, আটক, আইনি ব্যবস্থা বা হয়রানির শিকার হয়েছেন।

    আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ‘দ্য নিউ হিউম্যানিটারিয়ান’-এর তথ্যমতে, ১৪০ জনেরও বেশি সাংবাদিক ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। এর মধ্যে বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট সংবাদের কারণে অনেকের বিরুদ্ধে খুনের মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে—যা বিগত বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

    গণমাধ্যম পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডারস’ (আরএসএফ) ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তত ২৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের নিন্দা জানিয়ে একে ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ এবং ‘বিচারিক হয়রানি’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

    ৫ আগস্ট ২০২৪ পরবর্তী উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি— ৫ আগস্ট ২০২৪, রাজনৈতিক পটপরিবর্তন শুরু। সারা দেশে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের খবর সংগ্রহে সাংবাদিকরা। আগস্ট–সেপ্টেম্বর মাসে ফৌজদারি মামলার প্রথম ঢেউ শুরু। হত্যা ও বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট মামলায় সাংবাদিকদের নাম অন্তর্ভুক্ত। অন্তত ২৫ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার নিন্দা জানায় আরএসএফ।

    অক্টোবর–ডিসেম্বর মাসে একাধিক সাংবাদিক আটক বা দফায় দফায় আদালতে হাজিরা। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ। অ্যাক্রেডিটেশন কার্ড বাতিল নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ।

    ২০২৫-এর শুরুতে মিথ্যা মামলা” প্রত্যাহারের দাবিতে গাজীপুরে সাংবাদিকদের বিক্ষোভ। সংবাদ পরিবেশনের জেরে বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা ও তলবের খবর।
    বাপসনিউজ, যুক্তরাস্ট্র, তথ্যানুযায়ী ২০২৫-এর আগষ্ট মাসে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করা হয় বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ইউনিয়ন গোপালগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এ জেড. আমিনুজ্জামান রিপনকে। গোপালগঞ্জের এনসিপি কেন্দ্রীক সংঘর্ষকে নিয়ে মামলা বাণিজ্য ও সাধারণ মানুষকে হয়রানিমূলক গ্রেফতারের প্রতিবাদে খবর প্রকাশ করায় গ্রেফতার করে কারাগারে প্রেরণ করে তাকে। এ মামলায় তাকে দীর্ঘ দিন কারাগারে থাকতে হয়। জানা যায়, তিনি ক্রাইম ম্যাগাজিন অপরাধ জগত এর সিনিয়র ক্রাইম রিপোর্টার, দৈনিক ভোরের বানীর চিফ রিপোর্টার ও বিডি ক্রাইম নিউজের প্রকাশক ও সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন ।
    ২০২৫-এর মাঝামাঝি ও শেষভাগে টিআইবি-র তথ্যমতে, ১৫ মাসে ১,০৭৩ জন সাংবাদিক আক্রান্ত। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের রিপোর্ট অনুযায়ী, শত শত সাংবাদিক নির্যাতন বা আইনি চাপের মুখে। প্রথম সারির সংবাদপত্রের কার্যালয়ে মব (উচ্ছৃঙ্খল জনতা) হামলা।

    ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬— সম্পাদক পরিষদ ২০২৪-এর আগস্ট থেকে দায়ের হওয়া “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা” প্রত্যাহারের আনুষ্ঠানিক দাবি জানায়।

    আইনি চাপ ও গ্রেপ্তার

    পর্যবেক্ষক দলগুলো জানাচ্ছে, বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোতে অভিযুক্তদের দীর্ঘ তালিকায় প্রায়ই সাংবাদিকদের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এর ফলে সংঘাতের সংবাদ সংগ্রহ করা এবং সংঘাতের অংশ হওয়া—এই দুইয়ের মধ্যবর্তী পার্থক্যটা ঘুচিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

    ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অব জার্নালিস্টস (আইএফজে) জানিয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে “সহিংসতায় উসকানি”র অভিযোগে বিদেশ যাওয়ার সময় ব্রডকাস্ট সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থাটি এই অভিযোগগুলোকে ভিত্তিহীন বলে বর্ণনা করেছে।

    স্থানীয় মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) জানিয়েছে, কেবল ২০২৫ সালেই ৩৮১ জন সাংবাদিক হেনস্তা বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, যার মধ্যে কয়েক ডজন সাংবাদিককে সরাসরি তাদের সংবাদ বা মন্তব্যের জন্য আইনি মারপ্যাঁচে ফেলা হয়েছে।

    আদালতের বাইরের হামলা

    আইনি মামলাগুলো পরিস্থিতির একটি খণ্ডচিত্র মাত্র। সাংবাদিকরা রাজনৈতিক পক্ষগুলোর কাছ থেকে শারীরিক লাঞ্ছনা, হুমকি ও চাপের কথা জানিয়েছেন। ২০২৫ সালের শেষদিকে রয়টার্স জানায়, প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারসহ শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্রগুলোর কার্যালয়ে মব হামলা চালানো হয়েছে, যা সাময়িকভাবে মুদ্রণ কার্যক্রম ব্যাহত করে এবং গণমাধ্যমের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা জাগায়।

    সম্পাদকদের মতে, এ ধরনের হামলা এবং ফৌজদারি মামলা এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছে যেখানে সাংবাদিকরা কোনো সংবেদনশীল খবর প্রকাশের আগে তার আইনি পরিণতি নিয়ে বারবার ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন।

    সম্পাদক পরিষদের হস্তক্ষেপ

    ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সম্পাদক পরিষদ এক বিবৃতিতে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা “মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা” প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানায়।

    পরিষদ বলেছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার হতে পারে, কিন্তু রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা ভয় দেখানোর জন্য করা মামলা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার প্রতি সাংবিধানিক অঙ্গীকারকে ক্ষুণ্ন করে।

    অন্যদিকে সরকারি প্রতিনিধিরা দাবি করছেন, সকল মামলা আইনি পথেই এগোচ্ছে এবং সাংবাদিকসহ কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নন।

    সতর্কতার বার্তা

    নিউজ রুমগুলোর ভেতরে সম্পাদকরা ক্রমবর্ধমান ‘সেলফ-সেন্সরশিপ’ বা স্ব-আরোপিত নিয়ন্ত্রণ এবং অতিরিক্ত সতর্কতার কথা উল্লেখ করেছেন। সাংবাদিকরা বারবার আদালতে হাজিরা দেওয়া, আইনি লড়াইয়ের আর্থিক চাপ এবং পেশাগত নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন।

    গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কেবল সাংবাদিকদের ওপরই পড়বে না, বরং সাধারণ মানুষের স্বাধীন তথ্য পাওয়ার পথকেও সংকুচিত করে তুলবে।

    বাংলাদেশ যখন রাজনৈতিক রূপান্তরের পরবর্তী পথ পাড়ি দিচ্ছে, পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই মামলাগুলোর সুষ্ঠু সমাধানই হবে গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতার এক চূড়ান্ত পরীক্ষা।

  • যশোরের শার্শা’ গোগা সীমান্তে ১২ পিস ইয়াবাসহ কিশোর গ্রেফতার।

    যশোরের শার্শা’ গোগা সীমান্তে ১২ পিস ইয়াবাসহ কিশোর গ্রেফতার।

    যশোর শার্শা উপজেলার সীমান্তে ২১ বিজিবি’র অভিযানে ১২ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট ও নগদ টাকাসহ এক কিশোর’কে গ্রেফতার করা হয়। বুধবার ৪মার্চ সন্ধ্যা ৭টার সমায় গোগা বিওপি পোস্টের একটি টহল দল এই অভিযান পরিচালনা করে।

    আসামীর নাম মো. রানা হোসেন, (১৫)পিতা-আবু সাঈদমোড়ল,গ্রাম-গোগা,পোষ্ট-গোগা,থানা-শার্শা,জেলা-যশোর

    ২১ ​বিজিবি’র প্রেস ব্রিফিং এ জানানো হয়েছে যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের গোগা বিওপি’র সদস্যরা জানতে পারে যে,সীমান্তবর্তী ঐ এলাকায় মাদক কেনা-বেচা হচ্ছে।

    মুহুর্তে সেখানে অভিযান পরিচালনা করে উপরিল্লিখিত আসামী রানা হোসেন নামের ঐ কিশোর’কে চ্যালেঞ্জ করে তাকে তল্লাশী করলে,উক্ত কিশোরের কাছ থেকে ১২ পিস ইয়াবা এবং মাদক বিক্রির নগদ ৩০০ টাকা উদ্ধার করে আভিযানিক দল।

    ​আটককৃত কিশোরের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

    খুলনা ব্যাটালিয়ন (২১ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে.কর্ণেল মো.নাফিজ ইমতিয়াজ আহসান প্রেস ব্রিফিং এ জানিয়েছেন,
    সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার রোধে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের হাত থেকে রক্ষা করতে তাদের এই জিরো টলারেন্স নীতি ও কঠোর নজরদারি অব্যাহত রয়েছে এবং থাকবে।

  • দুমকি উপজেলায়  মশার চরম উপদ্রব: অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    দুমকি উপজেলায় মশার চরম উপদ্রব: অতিষ্ঠ জনজীবন, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি।

    শীতের আমেজ শেষ হতে না হতেই পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলাজুড়ে মশার উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গেই মশার আক্রমণ শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত অব্যাহত থাকছে। শহর থেকে গ্রাম—সর্বত্রই মশার রাজত্বে জনজীবন এখন চরমভাবে বিপর্যস্ত।

    বিশেষ করে দুমকি শহরের এলাকাগুলোতে পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মশার প্রকোপ এতটাই বেড়েছে যে ঘরে টেকা দায় হয়ে পড়েছে। সন্ধ্যার পর শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। অনেক অভিভাবক উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, পড়ার টেবিলে বসে মশার যন্ত্রণায় শিক্ষার্থীরা মনোযোগ হারিয়ে ফেলছে।মশার উপদ্রব থেকে রেহাই পাচ্ছে না হাসপাতালগুলোও।

    বেসরকারি কিছু ক্লিনিকে নিজস্ব উদ্যোগে মশা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা থাকলেও সরকারি হাসপাতালগুলোর চিত্র ভিন্ন। সেখানে রোগীদের অভিযোগ, মশার কারণে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের সুস্থ হওয়ার বদলে শারীরিক অস্বস্তি আরও বাড়ছে। সরকারি পর্যায়ে কার্যকর মশক নিধন অভিযানের অভাবকেই দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।মশা থেকে বাঁচতে বাজারে কয়েল, অ্যারোসল স্প্রে ও ইলেকট্রিক ব্যাটের চাহিদা কয়েক গুণ বেড়েছে। তবে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য উন্নতমানের মশা বিতাড়ক পণ্য কেনা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাজারে কম দামের যেসব নিম্নমানের কয়েল পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলো ব্যবহারে কাঙ্ক্ষিত ফল মিলছে না বলে অভিযোগ সাধারণ ক্রেতাদের। উল্টো এসব কয়েলের ধোঁয়ায় শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করা এবং বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা নোংরা পানি মশার প্রজননকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সামনে বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে আসায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া ও চিকুনগুনিয়া মহামারি আকার ধারণ করতে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

    দুমকী উপজেলায়, সচেতন মহলের দাবি, এখনই সমন্বিতভাবে মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। নিয়মিত ফগিং (মশার ওষুধ ছিটানো), ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংস্কার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। দ্রুত কার্যকর কোনো উদ্যোগ না নিলে দুমকী উপজেলাবাসি এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকটের মুখোমুখি হতে হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

  • যশোরের তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের

    যশোরের তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত আইনজীবীদের

    যশোরের তিনটি আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আইনজীবীরা।
    আজ বুধবার (০৪ মার্চ) দুপুরে জেলা আইনজীবী সমিতির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর মধ্যে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি দাবি করে আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন আইনজীবীরা।

    আইনজীবীদের দাবি, আলোচনার পর ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা আইরিন পারভীন আরও খারাপ আচরণ করা শুরু করেছেন। তাই আইনজীবীরা কোনোভাবেই আর তারা তার এজলাসে অংশ নেবেন না।

    বুধবার থেকেই তার আদালত বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া আইরিন পারভীনের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (প্রথম আদালত) আদালতও একই সঙ্গে বর্জনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সভায় পূর্বের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুগ্ম জেলা জজ রাশেদুর রহমানের আদালতও বর্জনের ঘোষণা দেওয়া হয়।

    জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এম. এ. গফুর। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক সভাপতি এম. ইদ্রিস আলী, শরীফ নুর মোহাম্মদ আলী রেজা, কাজী ফরিদুল ইসলাম, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলম বাচ্চু, সিনিয়র আইনজীবী জাফর সাদিক, মঈনুল হক খান ময়না এবং সাবেক জিপি সোহেল শামীম।

    সভায় বক্তারা দাবি করেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়ার বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের ওপর তাদের ক্ষোভ নেই। তবে তিনি আইন-কানুন জানেন না এবং জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে অযোগ্য। তিনি অন্যায় ও নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করছেন। এসব বিষয়ে সমিতিতে অভিযোগ দেন আইনজীবীরা। এমনকি অনাস্থা প্রকাশ করে আদালত মুলতবি ঘোষনা করা হয়।

    এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা আইরিন পারভীনের সঙ্গে সমিতির পক্ষ থেকে বৈঠক করা হয়েছিল। তিনি কথা দিয়েছিলেন পরে দুইপক্ষের মধ্যে সমঝোতা হয়। কিন্তু এরপর তিনি আরও খারাপ আচরণ করা শুরু করেছেন বলে দাবি করা হয়। শেষমেষ বুধবার দুপুরে জরুরী সভা করে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। উল্লেখ্য, যশোরের সিনিয়র আইনজীবীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারক না থাকায় অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন একাধিক বিচারক। যার ফলে প্রতিনিয়ত এ ধরণের ঘটনা ঘটছে।

    তাদের মতে, বিচার প্রার্থীকে কাক্সিক্ষত সেবা নিশ্চিত করা ভারপ্রাপ্ত বিচারকের পক্ষে সম্ভব নয়। তার হাতে সর্বোচ্চ ক্ষমতা না থাকায় তিনি পূর্ণাঙ্গ আইনি সেবা দিতে বঞ্চিত হন। এতে করে আইনজীবী ও বিচারকদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ে, যার প্রভাব পড়ে সেবা প্রত্যাশীদের ওপর। আদালত সূত্র আরও জানায়, যশোরের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ নাজমুল আলম গত বছরের ২৮ আগস্ট বদলি হন। তিন মাস পর ৫ নভেম্বর সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে মোহাম্মদ আলী যোগদান করেন।

    তবে চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি মোহাম্মদ আলীরও বদলি হলে জেলা ও দায়রা জজ পদটি শূন্য হয়ে পড়ে। এরপর থেকেই অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজদের মাধ্যমে জেলা জজ আদালতের কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছিল, যা নিয়ে আইনজীবীদের মধ্যে বেশ কয়েকদিন ধরেই ক্ষোভ বিরাজ করছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

    অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক এম এম মোর্শেদ বেশ কিছু দিন ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি গত সপ্তাহে (বৃহস্পতিবার) ঢাকায় বদলি হন।

    এরপর রোববার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-২ আদালতের বিচারক আইরিন পারভীনকে ভারপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন আইনজীবীরা। এরই মধ্যে বুধবার তারা আদালত বর্জনের ঘোষনা
    দেন।

  • বেনাপোল বাজারে মৌসুমের আগেই তরমুজ ৯০ টাকা, রমজানে ইফতারের পণ্যে নেই স্বস্তি

    বেনাপোল বাজারে মৌসুমের আগেই তরমুজ ৯০ টাকা, রমজানে ইফতারের পণ্যে নেই স্বস্তি

    পবিত্র রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকার কথা থাকলেও বেনাপোল বাজারগুলোতে দেখা যাচ্ছে উল্টো চিত্র। লেবু, শসা ও তরমুজের অস্বাভাবিক দামে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ রোজাদাররা।

    ​​ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের অপরিহার্য অনুষঙ্গ লেবু এখন আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। অর্থাৎ একটি লেবুর দাম পড়ছে ২০ টাকা। পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শসার দামও, যা কেজি প্রতি৮০/ ১০০ টাকায় ঠেকেছে।

    ​সবচেয়ে বেশি অবাক করেছে তরমুজের দাম। মৌসুমের শুরুতে কাঁচা তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা কেজি দরে। ফলের বাজারেও নেই স্বস্তি; মানভেদে খেজুরের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ায় অনেকেই প্রয়োজনীয় পরিমাণে কিনতে পারছেন না।

    ​সাধারণ ক্রেতাদের অভিযোগ, রমজানকে কেন্দ্র করে একটি সিন্ডিকেট চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পরিকল্পিতভাবে দাম বাড়াচ্ছে। বাজারে প্রশাসনের কার্যকর মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা এই সুযোগ নিচ্ছে বলে মনে করছেন তারা। দ্রুত বাজার তদারকি ও কঠোর পদক্ষেপ না নিলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের জন্য রোজা রাখা কঠিন হয়ে পড়বে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।

    উপজেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ কার্যালয়ের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের কোন খোঁজ খবর নাই। বাজার মনিটরিং কার্যক্রম নিয়মিত তদারকিকেউ নাই।

    ​তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা ও ভোক্তা অধিকারের কর্মকর্তারা ভিন্ন একটি দিকও তুলে ধরছেন। তাদের মতে, বর্তমানে বাজারে যে তরমুজ পাওয়া যাচ্ছে তার পুরোপুরি মৌসুম এখনো শুরু হয়নি। ফলে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম কিছুটা চড়া।

    সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মনে করেন, ক্রেতাদেরও অপরিপক্ক বা সিজন শুরু না হওয়া ফলের প্রতি অতি-আগ্রহের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

    ​ভুক্তভোগী রোজাদাররা এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে প্রশাসনের দ্রুত ও কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

  • যশোরে ফার্সি ড্রেস আর জিন্স পাঞ্জাবিতে নজর শিশুদের

    যশোরে ফার্সি ড্রেস আর জিন্স পাঞ্জাবিতে নজর শিশুদের

    যশোরে শিশুদের ঈদ পোশাকের বাজার জমজমাট।
    ‘আমি লেহেঙ্গা কিনেছি, মেহেদী দেবো ঈদের দিন, অনেক সাজবো।’ কথাগুলো পুলেরহাট এলাকার ক্ষুদে ক্রেতা মিফতাহুল জান্নাতের। হালফ্যাশনের ফার্সি ড্রেস কিনেছে ঘোপ এলাকার তাহিয়া তাবাসসুম। মাগুরা থেকে আসা আরেক ক্ষুদে ক্রেতা ফারহান লাবিব বাবা মায়ের সাথে এসেছে জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবী কিনতে।

    যশোর শহরের বিভিন্ন বিপনীবিতানে এমনিভাবেই সকাল থেকে রাতঅবধি চলছে শিশুদের ঈদ পোশাকের বেচাকেনা। যশোর ছাড়াও ক্ষুদে ক্রেতারা তাদের পছন্দের পোশাকটি বেছে নিতে আসছে পার্শ্ববর্তী জেলা শহরগুলো থেকেও।

    প্রতিটি বাড়িতে শিশুর কেনাকাটা দিয়েই শুরু হয় উৎসবের আমেজ। ঈদসহ বিভিন্ন উৎসবে শিশুর পোশাকটি সবার আগে গুরুত্ব পায়। তাই কেনাকাটার তালিকার প্রথমেই থাকে শিশুদের পোশাক। ইতোমধ্য পার হয়েছে ১৩টি রোজা। যশোরের বিপণীবিতানগুলোতে ঈদ উপলক্ষে শুরু হয়েছে শিশুদের পোশাকের বেচাকেনা।

    এবারে চাহিদার তালিকায় রয়েছে মেয়ে শিশুদের হালফ্যাশন ফার্সি ড্রেস। চওড়া ঘেরের সালোয়ার, তার সাথে হাঁটু পর্যন্ত কামিজ আর ওড়নার এ পোশাকটি মেয়ে শিশুদের পছন্দের তালিকায়। আর ছেলে শিশুদের কেনাকাটায় বরাবরের মতো জিন্স প্যান্ট, গেঞ্জি ও পাঞ্জাবী প্রাধান্য পাচ্ছে। তবে পোশাকের দাম এবারেও চড়া। ডলারের দাম বেড়ে যাওয়া ও বাড়তি আমদানি খরচের কারণে পোশাকের দাম বেশি বলছেন বিভিন্ন বিপণীবিতানের সাথে সংশ্লিষ্টরা।

    শহরের জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট, কালেক্টরেট মার্কেট, কাপুড়িয়াপট্টি, সিটি প্লাজাসহ শহরের বিভিন্ন বিপণীবিতানে নানান দামে শিশুদের পোশাক বিক্রি হচ্ছে। এসব পোশাকের বেশিরভাগই ভারত ও চীন থেকে আমদানিকৃত। পাশাপাশি বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজের তৈরি দেশি ঘরানার জমকালো পোশাকেরও চাহিদা রয়েছে, বলছেন বিক্রেতারা। বেশিরভাগ দোকান খোলা থাকছে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত। ঈদের আগ পর্যন্ত সময় আরও বাড়ানো হবে বলে জানান বিক্রেতারা।

     

    পোশাকের দরদাম কোথায় কেমন

    সাধারণ ক্রেতাদের ভরসা জেলা পরিষদ সুপার মার্কেট। এখানে ফ্রক ও স্কার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৫০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্য। গাউন, সারারা ও গারারা পাওয়া যাচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকার মধ্য। শার্ট ৪৫০থেকে ৮০০টাকা। গেঞ্জি ২৫০থেকে ৮০০ টাকা। জিন্স প্যান্ট ৬০০থেকে এক হাজার টাকা। কালেক্টরেট মার্কেটে শিশুদের ফ্রক ও স্কার্ট পাওয়া যাচ্ছে ৫০০থেকে দুই হাজার টাকায়। ফার্সি, গাউন, সারারা ও গারারা পাওয়া যাচ্ছে এক হাজার ২০০থেকে চার হাজার টাকায়। শিশুদের পাঞ্জাবী ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০টাকা। শার্ট ৬০০থেকে এক হাজার ২০০টাকা। গেঞ্জি ২৫০ থেকে ৮০০টাকা। জিন্স প্যান্ট ৩৫০থেকে এক হাজার টাকা।

    কাপুড়িয়াপট্টিতে শিশুদের ফ্রক বিক্রি হচ্ছে ৩৫০থেকে দুই হাজার টাকায়। ফার্সি, গাউন, সারারা, গারারা, লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার টাকা থেকে আট হাজার টাকায়। গেঞ্জি ৩০০থেকে এক হাজার ৩৫০টাকা। একই দামে বিক্রি হচ্ছে শার্ট। পাঞ্জাবী ৬০০থেকে এক হাজার ৫০০টাকা। জিন্সের প্যান্ট এক হাজার টাকা থেকে দুই হাজার টাকা। সিটি প্লাজায় শিশুদের গেঞ্জি বিক্রি হচ্ছে ৫০০থেকে এক হাজার টাকায়। শার্ট ৭০০থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। প্যান্ট এক হাজার থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। ফ্রক এক হাজার ৭০০থেকে চার হাজার টাকা। স্কার্ট দুই হাজার থেকে পাঁচ হাজার টাকা। ফার্সি, গাউন, সারারা, গারারা চার হাজার থেকে ১০হাজার টাকা।

    মুজিব সড়কস্থ বিভিন্ন ফ্যাশন হাউজে শিশুদের থ্রি পিছ দুই হাজার টাকা থেকে ছয় হাজার টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। লেহেঙ্গা দুই হাজার ৫৫০টাকা থেকে ছয় হাজার টাকা। ফ্রক ৪০০ থেকে তিন হাজার টাকা। পাঞ্জাবী ৬৫০ টাকা থেকে দুই হাজার ৫০০টাকা। শার্ট ৬০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা। প্যান্ট এক হাজার থেকে দুই হাজার টাকা। গেঞ্জি ৫০০থেকে এক হাজার ৮০০টাকা।

    যা বলছেন বিক্রেতারা

    জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটের এস.কে ফ্যাশনের বিক্রেতা আকবর মোল্লা বলেন, আট রোজার পর থেকে ক্রেতারা আসতে শুরু করেছেন, তবে বিক্রি কম। কাপুড়িয়াপট্টির টম এন্ড জেরির বিক্রেতা মাসুদ পারভেজ বলেন, এবারের হালফ্যাশন ফার্সি ড্রেস। এবারে এটিই বেশি চলছে। তবে আমদানি খরচ বেশি হওয়ায় পোশাকের দাম কিছুটা বেশি। সিটি প্লাজার কিডস্ ক্লাবের সত্ত্বাধিকারী এস.কে মমিনুল ইসলাম বলেন, বিক্রি ভালোই চলছে। রোজার প্রথম থেকেই বেচাকেনা শুরু হয়েছে। সবার হাতে বেতন বোনাস এলে হয়তো বেচাকেনা বাড়বে।

    আমদানিতে বাড়তি খরচের কারণে পোশাকের দাম বেশি, আমাদের ব্যবসায়িক স্বার্থও দেখতে হচ্ছে। ফ্যাশন হাউজ অঞ্জনস’র বিক্রেতা রাকিব বিশ্বাস বলেন, পোশাকের বিক্রি যা হচ্ছে তা শিশুদের পোশাকেরই। বড়দের পোশাকের বিক্রি এখনো শুরু হয়নি। সকাল সাড়ে ১০টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকছে। ঈদ উপলক্ষে সময় আরও বাড়ানো হবে।

  • দুমকি উপজেলায়, পরকীয়ার ফাঁদে অর্থ আদায়, নারী গ্রেপ্তার।

    দুমকি উপজেলায়, পরকীয়ার ফাঁদে অর্থ আদায়, নারী গ্রেপ্তার।

    পরকীয়ার ফাঁদে ফেলে অনৈতিক সম্পর্কের ভিডিও ধারণ ও বিয়ের চাপ সৃষ্টি করে একাধিক যুবকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায় শামিমা আক্তার আঁখি নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    পুলিশ জানায়, পটুয়াখালী নারী ও শিশু জজ আদালতের ১৭৫/২৬ নম্বর মামলার ১৭ (বি) ধারায় জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়েছে। তদন্তে তিন যুবকের কাছ থেকে অন্তত ১০ লক্ষাধিক টাকা আদায়ের প্রমাণ মিলেছে বলে জানায় পুলিশ।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শ্রীরামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শামিমা দুমকি শহরে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তিনি বিভিন্ন সময়ে সম্পর্কের ফাঁদে ফেলে বিয়ের দাবিতে চাপ সৃষ্টি ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযুক্ত। দুমকির আলমগীরের ছেলে সাদ্দাম হোসেন জুয়েলকে বিয়ের চাপ দিলে স্থানীয়ভাবে আড়াই লাখ টাকা লেনদেনের মাধ্যমে মীমাংসা হয়। পরে জুয়েলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলা দায়ের করা হয়। তবে ১৭৫/২৬ নম্বর মামলায় সকল আসামি নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে বেকসুর খালাস পান।

    পরবর্তীতে প্রতারণার অভিযোগে শামিমার বিরুদ্ধে ১৭ (বি) ধারায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়।দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আদালতের নির্দেশে গ্রেপ্তার করে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

  • বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা রুই মাছ আটক।

    বেনাপোল বন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা রুই মাছ আটক।

    বেনাপোল বন্দরে ভারতীয় ট্রাক থেকে মিথ্যা ঘোষণা দিয়ে আমদানি করা রুই মাছের একটি চালান আটক করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।

    সোমবার (২ মার্চ) রাত ১০ টার দিকে বন্দরের ট্রান্সশিপমেন্ট ইয়ার্ড থেকে মাছের চালানটি আটক করা হয়। পরে মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকালে আটক মাছের চালানটি নিলামে বিক্রি করা হয়।

    মাছের আমদানিকারক ঢাকার সাজ্জাত এন্টার প্রাইজ এবং বন্দর থেকে শুল্কফাঁকি দিয়ে পাচারের চেষ্টা করছিল বহুল আলোচিত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান আলেয়া এন্টারপ্রাইজ।

    এর আগে গত ১৩ জানুয়ারি মিথ্যা ঘোষণার আমদানি করা ৫ হাজার ৯৪৩ কেজি ইলিশের একটি অবৈধ চালান আটক করা হয়েছিল। এতেও সংশ্লিষ্ট ছিল এ চক্রের সদস্যরা।

    বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শুল্ক ফাঁকির কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এক হাজার ১৩ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি হয়েছে। এছাড়াও বিনা এন্ট্রিতে একটি সিন্ডিকেট কোটি কোটি টাকার মালামাল শুল্ক না দিয়েই নিয়ে যাচ্ছে । চিহ্নিত শুল্কফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে কঠিন কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা শুল্কফাঁকির কাজ করেই চলেছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে কাস্টমস ও বন্দরের এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সখ্যতা রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। অপরাধীরা ধরা পড়লেও বিভিন্ন কৌশলে তাদের লাইসেন্স রক্ষা করে আবারও ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া হয় বলে সাধারন ব্যবসায়ীরা জানান। আর এদের কারণে সাধারন ব্যবসায়ীরা পদে পদে হয়রানির শিকার হয়েছেন।

    বেনাপোল কাস্টমসের সহকারি কমিশনার রাহাত হোসেন জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট সামুদ্রিক মাছ ঘোষণা দিয়ে রুই মাছ আমদানি করেছে। পরে মাছবাহী ট্রাকে অভিযান চালিয়ে ১০ প্যাকেজে ৬০০ কেজি রুই মাছ উদ্ধার করা হয়েছে। শুল্ক ফাঁকিবাজদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।