Author: তরঙ্গ টিভি

  • জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না : জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগ ছাড়া নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না : জিএম কাদের

    জাতীয় পার্টি ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের। তিনি বলেন, জাতীয় পার্টিকে বাদ দিতে পারলে অন্যান্য দল লাভবান হবে, তাই ষড়যন্ত্র চলছে।

     বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলা দিবস উপলক্ষে রাজধানীর কাকরাইলে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন জিএম কাদের। এই সরকার দেশে গৃহযুদ্ধ বাঁধাতে চায় দাবি করে তিনি বলেন, দেশের ইতিহাসে কখনো এত খারাপ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছিল না।

    আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে বিএনপি-জামায়াতকে নিয়ে এই সরকার নির্বাচন করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, এখন নির্বাচন করতে গেলে কী হবে? কোনো নির্বাচন হবে না। যে নির্বাচনের জন্য আমরা শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিবাদ বলি, তার বিরুদ্ধে আমরা অবস্থান নিয়েছিলাম। এই সরকার একই কাজ করছে এবং একটা ঐকমত্য কমিশন করেছে, যেখানে দেশের অর্ধেক লোককে বাদ দিয়ে ঐক্য করার চেষ্টা চলছে।

    আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বাদ দিতে পারেন না বলে উল্লেখ করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিতে হলে তাদের মামলায় দোষী সাব্যস্ত করতে হবে। লোক যারা খারাপ করছে তাদেরকে বাদ দিতে পারেন। কিন্তু বিচার ছাড়া দলকে কীভাবে বাদ দিতে পারেন।

    সরকারের বিরুদ্ধে কিছু বললে নানান রকম ভয়-ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেন জিএম কাদের।

    দেশের মানুষ তাদেরকে ক্ষমা করবে না। শেখ হাসিনাকে বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান সমর্থন দিয়েছিল। সমস্ত প্রতিষ্ঠান নিজের কবজায় করেও রাখতে পারে নাই। দেশের মানুষ তাদেরকে লাথি দিয়ে ফেলে দিয়েছে।

    জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের দাবিতে জামায়াতের চলমান আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে জিএম কাদের বলেন, তারা বলছে- আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টি হলো মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। তার অর্থ জাতীয় পার্টি থাকলে তো তারা থার্ড পার্টি হতে পারবে না। সেই কারণে জাতীয় পার্টিকে বাদ দেওয়ার কথা বলছে।

    জিএম কাদের বলেন, আজকে দেশে কোনো বিনিয়োগ হচ্ছে না। যারা ছোটখাটো ব্যবসা করতো সেটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। লাখ-লাখ মানুষ বেকার হচ্ছে।

    দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাংলাদেশের ইতিহাসে কখনও এত খারাপ ছিল না বলেও মন্তব্য করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, কোনো কিছুর নিরাপত্তা নেই। মানুষের জীবনের যেমন নিরাপত্তা নেই, তেমনি বাড়ি-ঘর, ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো কিছুর নিরাপত্তা নেই। মানুষের বাড়ি-ঘর লুটপাট করে নিচ্ছে। মহিলাদের অসম্মান করা হচ্ছে। আমরা যা খবর পাচ্ছি- প্রতিদিন খুন হচ্ছে মানুষ।

    দেশ দুর্ভিক্ষের দিকে ধাবিত হচ্ছে বলেও দাবি করেন জিএম কাদের। তিনি বলেন, টিসিবির ট্রাকে যত জনের মালামাল থাকে, তার চেয়ে ১০ গুণ মানুষ সেখানে বসে থাকে।

    এ সময় দলের মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, জাতীয় ঐকমত্যের অভাব দেশে বিভাজন তৈরি করছে। বর্তমান সরকার আগামী নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তাদের দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। সুষ্ঠু ভোটের জন্য দরকার নির্দলীয় বা সর্বদলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার। এ সময় জাতীয় পার্টিকে ছাড়া নির্বাচনের চেষ্টা করা হলে তা প্রতিহতের ঘোষণা দেন মহাসচিব।

  • প্রেস সচিব সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহারের চিন্তা করছে সরকার

    প্রেস সচিব সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণে ড্রোন ব্যবহারের চিন্তা করছে সরকার

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বরত পুলিশকে বডি ক্যামেরা প্রদান, নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি স্থাপন ও ড্রোন ওড়ানোর চিন্তাভাবনা করছে সরকার। এ বিষয়ে আইনগত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

    বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    প্রেস সচিব বলেন, আজ সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনাকালে এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

    অন্য এক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের অঙ্গরাজ্য ডেট্রয়েট শহরে বাংলাদেশের নতুন কনস্যুলেট অফিস স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন পুরো কাজের যেন অনলাইন সার্ভিস থাকে। সেটার সক্ষমতা যেন কনস্যুলেট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থাকে। সেই বিষয়ে উনি নির্দেশনা দিয়েছেন।

  • জাজিরায় এসিলেন্ড মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার: স্থানীয় কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অডিও ফাঁস

    জাজিরায় এসিলেন্ড মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার: স্থানীয় কিছু সাংবাদিকের বিরুদ্ধে অডিও ফাঁস

    শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জাজিরা উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পলাশ খান, সাধারণ সম্পাদক শাওন বেপারী, সাংবাদিক বরকত মোল্লা, আবদুর রহিম মোল্লা এবং তাঁদের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন সদস্য সম্প্রতি এসিল্যান্ডের কাছ থেকে ব্যক্তিগত সুবিধা দাবি করেন। কিন্তু কর্মকর্তা মেহেদী হাসান নীতিনিষ্ঠভাবে কোনো অনৈতিক সুবিধা দিতে অস্বীকৃতি জানান।

    এর পরপরই ওই তথাকথিত সাংবাদিকরা তাঁর বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন অভিযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াতে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। স্থানীয় কিছু অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও ফেসবুক পেজে মেহেদী হাসানের নামে নানা অপপ্রচার চালানো হয়, যা প্রশাসনিক মহলে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।

    এ ঘটনায় ফাঁস হওয়া একটি অডিও রেকর্ডিংয়ে কথোপকথনের মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, কীভাবে কয়েকজন ব্যক্তি পরিকল্পিতভাবে এসিল্যান্ডের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ তৈরির কৌশল নিয়ে আলোচনা করছিলেন। রেকর্ডটিতে তাঁদের কণ্ঠে সরকারি কর্মকর্তাকে ‘চাপ দেওয়ার’ ইঙ্গিতও শোনা যায়, যা স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

    এছাড়াও জাজিরার স্থানীয় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সাধারণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করেন এ সকল তথাকথিত সাংবাদিকরা, জাজিরা টাইমস নামে একটি ফেসবুক পেইজ দিয়ে প্রতারণামূলকভাবে নিউজ প্রচার করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে টাকা পয়সা হাতে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

    জাজিরা উপজেলার সচেতন নাগরিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানিয়েছেন একজন সৎ ও নিষ্ঠাবান সরকারি কর্মকর্তাকে হেয় করার এ ধরনের অপপ্রচার কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যক্তিগত স্বার্থে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের হয়রানি করার এই সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।”

    তাঁরা এ ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ও অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ মেহেদী হাসান বলেন “আমি সবসময় জনগণের স্বার্থে এবং আইন অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছি। কিছু অসাধু ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থে আমার সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমি বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে অবহিত করেছি, এবং সত্য প্রকাশ পাবে।”

    জেলা প্রশাসনের একজন দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছেন, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং অডিওসহ অন্যান্য তথ্য যাচাই করা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    স্থানীয় সমাজে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে নৈতিকতা, পেশাদার সাংবাদিকতা ও প্রশাসনিক সেবার স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। সৎ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার রোধে প্রশাসন ও মিডিয়া উভয়ের দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে সচেতন মহল।

  • বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব কে এই হুমায়ুন কবির

    বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব কে এই হুমায়ুন কবির

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে। তিনি এই দায়িত্বে থেকে দলটির আন্তর্জাতিক বিষয়কগুলো দেখভাল করবেন। হুমায়ুন কবির দলের একজন তরুণ ও শিক্ষিত নেতৃত্ব হিসেবে পরিচিত। তিনি সিলেট-২ (বিশ্বনাথ ও ওসমানীনগর) আসনে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী।

    জন্মসূত্রে সিলেটের সন্তান হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যে বেড়ে ওঠেন এবং সেখানেই দীর্ঘ সময় রাজনীতি ও প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন করেন।

    তিনি যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব সাসেক্স থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর লন্ডন স্কুল অব ইকোনোমিকস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সায়েন্স থেকে রাজনীতিতে মাস্টার্স, ইউনিভার্সিটি অব কেমব্রিজ থেকে ম্যানেজমেন্টে মাস্টার্স এবং লিডস ল’ স্কুল থেকে আইনে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন। শিক্ষাজীবনেই তিনি আন্তর্জাতিক রাজনীতি, প্রশাসন ও জননীতি নিয়ে কাজ শুরু করেন।

    পেশাগত জীবনে হুমায়ুন কবির যুক্তরাজ্যের লন্ডন মেয়রের দপ্তরে কৌশল সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং পরবর্তীতে লিউইশাম এক্সিকিউটিভ মেয়রের কার্যালয়ে কেবিনেট উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ব্রিটিশ সরকারের উচ্চপর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও পালন করেন— প্রথমে বরিস জনসনের নেতৃত্বে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একটি টিমে এবং পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাকের অধীনে ন্যায় মন্ত্রণালয়ে একাধিক কেবিনেট মন্ত্রী ও বিশেষ উপদেষ্টার সঙ্গে প্রাইভেট সেক্রেটারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    রাজনৈতিক জীবনে হুমায়ুন কবির বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কর্মকৌশল ও কূটনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।

    তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসেবে তিনি লন্ডন ও ইউরোপে বিএনপির আন্তর্জাতিক যোগাযোগ জোরদারে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে বাংলাদেশের রাজনীতি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পক্ষে বক্তব্য রাখেন।

    সম্প্রতি হুমায়ুন কবিরকে দলের যুগ্ম মহাসচিব করা হয়েছে, যা তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্বের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সিলেট-২ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী হিসেবে তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন।

    উচ্চশিক্ষা, আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার সমন্বয়ে হুমায়ুন কবিরকে বিএনপির উদীয়মান রাজনৈতিক মুখ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

  • মেঘনায় মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান, ২৪ জেলে আটক

    মেঘনায় মা ইলিশ সংরক্ষণে অভিযান, ২৪ জেলে আটক

    মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার অভয়াশ্রম এলাকায় টাস্কফোর্সের বিশেষ অভিযানে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ধরার অভিযোগে ২৪ জেলেকে আটক করেছে নৌ পুলিশ।

    শুক্রুবার (১০ অক্টোবর) রাতে মেঘনা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ নৌ পুলিশের অতিরিক্ত ডিআইজি (অপারেশন্স) প্রবীর কুমার রায়।

    অভিযানে অংশ নেন নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের পুলিশ সুপার সৈয়দ মোশফিকুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা শ্রীবাস চন্দ্র চন্দ, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাপ্পি দত্ত রনি, চাঁদপুর সদর উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক, কোস্টগার্ড চাঁদপুর স্টেশনসহ নৌ পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।

    নৌ পুলিশ চাঁদপুর অঞ্চলের সহকারী পুলিশ সুপার ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, অভিযানের সময় চাঁদপুর নৌ থানায় ৫ মামলায় ২১ জন এবং হরিনাঘাট নৌ পুলিশ ফাঁড়িতে ২ মামলায় ৩ জনকে নৌকা ও জালসহ আটক করা হয়।

    তিনি আরও জানান, আটক জেলেদের বিরুদ্ধে মৎস্য সংরক্ষণ আইনে মামলা দায়েরের পর আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    সরকারের জারি করা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পর্যন্ত পদ্মা-মেঘনায় মা ইলিশ ধরা, পরিবহণ, মজুত ও বিক্রি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে নৌ পুলিশ ও মৎস্য বিভাগ যৌথভাবে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে।

  • মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে তোড়জোড়, অথচ পদ্মা পাড়েই বসছে ইলিশের হাট

    মা ইলিশ রক্ষা অভিযানে তোড়জোড়, অথচ পদ্মা পাড়েই বসছে ইলিশের হাট

    মা ইলিশ রক্ষায় সরকার ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের অভিযান চললেও শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলায় প্রকাশ্যেই চলছে মা ইলিশের বেচাকেনা। পদ্মার দুই পাড়ে গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী মাছের আড়ত। সেখানে প্রতিদিন লাখ লাখ টাকার মা ইলিশ কেনাবেচা হচ্ছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সরকারের ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার উত্তর তারাবুনিয়ার ছুরিরচর বেপারী বাজারের দক্ষিণ পাশে নদীর পাড়ে উত্তর তারাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক লাল মিয়া বেপারীর নেতৃত্বে ১০-১২ জন ব্যবসায়ী মিলে একটি অস্থায়ী মাছের আড়ত গড়ে তুলেছেন। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা চলছে মা ইলিশের কেনাবেচা। একইভাবে দুলারচর ভাঙা স্কুল এলাকা, উত্তর তারাবুনিয়ার মোল্যার বাজার ঘাট এবং মনাই হাওলাদারের বাজারের সাবেক লঞ্চঘাট এলাকাতেও গড়ে উঠেছে একাধিক অস্থায়ী আড়ত। কাচিকাটার বিভিন্ন পয়েন্টেও বসেছে ছোট-বড় আরও কয়েকটি মাছের হাট।

    জানা যায়, এসব আড়তে প্রতিদিন লক্ষাধিক টাকার মা ইলিশ বিক্রি হচ্ছে। জেলেরা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে রাতে নদীতে জাল ফেলছে। অভিযানের খবর পেলে তারা দ্রুত পাড়ে উঠে যায়, আবার পরিস্থিতি অনুকূলে আসলেই মাছ তুলে এনে এসব অস্থায়ী আড়তে বিক্রি করছে।

    ব্যবসায়ী লালমিয়া বেপারী বলেন, আশা ছিল মা ইলিশের মৌসুমে ভালো ব্যবসা হবে। কিন্তু নদীতে আশানুরূপ মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। এখানে যারা ব্যবসা করে, সবার অবস্থাই খারাপ।

    আরেক ব্যবসায়ী সুমন প্রধানীয়া বলেন, নদীতে মাছ নেই, জেলেরা নদীতে যেতে পারছে না। ব্যবসা করে লোকসান গুনছি।

    জেলে আল আমিন ও আনিসুর বলেন, ২২ দিন কাজ না করে বসে থাকলে সংসার চলে না। সরকার যে ২০ কেজি চাল দেয়, তাতে পরিবার টিকে না। তাই ঝুঁকি নিয়েই নদীতে জাল ফেলি।

    এ বিষয়ে সখিপুর থানা বিএনপির সভাপতি ও কাচিকাটা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ সরদার বলেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কেউ যদি অবৈধ কাজে জড়িত থাকে, সেটা ব্যক্তিগত বিষয়। বিএনপি তার দায় নেবে না। আমরা চাই প্রশাসন অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিক।

    ভেদরগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, আমরা প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করছি, জাল জব্দ করছি। আপনি যে আড়তের কথা বলেছেন, সেটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • বিস্ফোরক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    বিস্ফোরক মামলায় ইউপি চেয়ারম্যান গ্রেফতার

    শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শিধলকুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি  মাসুদুর রহমান বাবুলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে জেলার ধানুকা নামক এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পালং মডেল থানা পুলিশের একটি দল।

    পালং মডেল থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন জানান, ডামুড্যা উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও শিধলকুড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মাসুদুর রহমান বাবুলকে পালং মডেল থানার একটি বিস্ফোরক মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।

  • মেহেদীকে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয় চলন্ত ট্রেনের নিচে

    মেহেদীকে হত্যার পর লাশ ফেলে দেওয়া হয় চলন্ত ট্রেনের নিচে

    কুমিল্লায় অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসানকে হত্যার পর গভীর রাতে লাশ ফেলে দেওয়া হয় চলন্ত ট্রেনের নিচে। অনলাইন জুয়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরে তারই বন্ধুরা পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ওই যুবককে।

    গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে শহরতলীর দৈয়ারা এলাকায় হত্যার পর মেহেদীর লাশ ফেলে দেওয়া হয় চলন্ত ট্রেনের নিচে। আবার সেই ঘাতকরাই লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফেলে পালিয়ে যায়।

    এদিকে ঘটনার এক মাস অতিবাহিত হলেও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের মামলা নেয়নি রেলওয়ে পুলিশ। সাধারণ ডায়েরির পরিপ্রেক্ষিতে সুরতহাল শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

    অপরদিকে বিধি অনুযায়ী ইউডি মামলা দায়েরের বিধান থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাও করেনি রেলওয়ে পুলিশ।

    অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার দিকে বাসা থেকে বের হন অটোরিকশাচালক মেহেদী হাসান (২১)। তিনি জামালপুর জেলার বকশীগঞ্জ থানার মাদারীচর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে।

    পারিবারিক সূত্র জানায়, দরিদ্র পরিবারের সন্তান মেহেদী কুমিল্লা শহরতলীর দৈয়ারা এলাকায় ক্যানসার আক্রান্ত মা এবং স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। ভাড়ায় অটোরিকশা চালিয়ে সংসার এবং মায়ের চিকিৎসা করতেন। চলাফেরা করতেন স্থানীয় অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক কাউছার, তুহিন মিয়া, আবাদ মিয়া এবং আলাউদ্দিনের সঙ্গে।

    ঘটনার দিন একটি নতুন মোবাইল এবং নগদ ১০ হাজার টাকা নিয়ে বাসা থেকে বের হন মেহেদী। অনলাইন জুয়া নিয়ে পূর্ববিরোধকে কেন্দ্র করে কাউছারের গ্যারেজে তুহিন মিয়া, আবাদ মিয়া এবং আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজনের সঙ্গে দ্বন্দ্ব এবং তর্কাতর্কি হয়।

    নিহতের স্ত্রী কুলসুম আক্তার বলেন, হত্যার এক সপ্তাহ আগে আলাউদ্দিন আমার স্বামীকে মারধর করেন। সেদিন পরিকল্পিতভাবে কাউছারের গ্যারেজে তাকে হত্যা করা হয়। রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আমার স্বামীর লাশ রেখে ঘাতকরা পালিয়ে যায়। টাকাপয়সা নিয়ে দ্বন্দ্বের জের ধরেই তার বন্ধুরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে বলে আমরা ধারণা করছি। আমার স্বামীর পুরো শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যার পর তাকে ট্রেনের নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আবার তারাই লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেছে। এ সময় পুলিশ দেখে তারা পালিয়ে যায়। এত বড় একটা ঘটনা কিন্তু মামলা নিচ্ছে না রেলওয়ে পুলিশ।

    নিহতের মা হাসেনা বেগম বলেন, কাউছারের গ্যারেজে তুহিন মিয়া, আবাদ মিয়া এবং আলাউদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন মিলে আমার ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। ঘটনার পর থেকে ঘাতকরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি রেলওয়ে পুলিশের কাছে বারবার ধরনা দিয়েও কোনো বিচার পাচ্ছি না। জিডিমূলে আমার ছেলের সুরতহাল এবং ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। তারা ইউডি মামলাও গ্রহণ করেনি।

    তিনি বলেন, রেলওয়ে পুলিশের রহস্যজনক আচরণে আমরা হতবাক। পরিকল্পিতভাবে হত্যাকাণ্ডকে তারা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমি অনেক চেষ্টা করেও তাদের কাছে মামলা দিতে পারিনি। আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে কিন্তু পুলিশ মামলা নিচ্ছে না। এখন আমি আদালতের আশ্রয় নেব।

    কুমিল্লা রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সহীদার রহমান বলেন, এটা পরিকল্পিত হত্যা নাকি রেল দুর্ঘটনা সেটা এখন বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট এবং ভিসেরা রিপোর্ট পেলেই আমরা নিশ্চিত হতে পারব। তথ্যপ্রমাণ ছাড়া এ ঘটনায় আমরা মামলা গ্রহণ করতে পারব না।

    কুমিল্লা আদালতের পিপি গিয়াস উদ্দিন বলেন, ইউডি মামলা ছাড়া ময়নাতদন্ত এবং লাশ দাফন করা যায় না। যেহেতু পরিবারের অভিযোগ এটা পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তাই পুলিশ মামলা নেওয়া দরকার ছিল। এক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা বিতর্কিত।

  • সাবেক খাদ্য পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    সাবেক খাদ্য পরিদর্শকের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

    জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সাড়ে ৪২ লক্ষাধিক টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জনের অভিযোগের মামলায় বগুড়ার সান্তাহার সরকারি কেন্দ্রীয় খাদ্য সংরক্ষণাগারের (সিএসডি) সাবেক খাদ্য পরিদর্শক শেখ আবু এরশাদের (৪৪) বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে।

    দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বগুড়া কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করেন। বুধবার বিকালে দুদক কর্মকর্তা এ তথ্য দিয়েছেন।

    দুদক সূত্র জানায়, বগুড়ার সান্তাহার সিএসডির সাবেক খাদ্য পরিদর্শক শেখ আবু এরশাদ বর্তমানে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক। তিনি বগুড়া শহরের জলেশ্বরীতলার বনামালী দেবলেনের মৃত শেখ সালেক উদ্দিনের ছেলে।

    দুদকের নির্দেশে তিনি গত ২০২৩ সালের ১৬ এপ্রিল বগুড়া জেলা কার্যালয়ে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য দাখিল করেন।

    অনুসন্ধানে জানা যায়, তিনি জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সাবেক উপসহকারী পরিচালক জাকির হোসেন বাদী হয়ে গত বছরের ২২ অক্টোবর সান্তাহার সিএসডির সাবেক খাদ্য পরিদর্শক শেখ আবু এরশাদের বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ে মামলা করেন।

    তদন্তকারী কর্মকর্তা দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সাবেক উপসহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন তদন্ত করে জানতে পারেন, শেখ আবু এরশাদ জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত ৪২ লাখ ৮৭ হাজার ৪৬৮ টাকা মূল্যমানের সম্পদ অর্জন করেন। এ পরিমাণ সম্পদ নিজ ভোগদখলে রেখে দুদক আইনের শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন। প্রাথমিকভাবে অপরাধ প্রমাণ হওয়ায় প্রধান কার্যালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়ার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে তার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।

    দুদক বগুড়া জেলা কার্যালয়ের সাবেক উপসহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেন আরও জানান, এখন অভিযুক্ত শেখ আবু এরশাদের বিরুদ্ধে আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হবে।

  • আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন জামায়াত নেতা

    আন্দোলনকারী শিক্ষকদের অভিনন্দন জানিয়ে যা বললেন জামায়াত নেতা

    বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর সেই মেরুদন্ডের মূল ভিত্তি হলো শিক্ষক সমাজ। মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে শিক্ষকগণ জাতি ও সমাজ গঠনে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তাদের অবহেলা করে কোনো দেশ বা সমাজের উন্নয়ন সম্ভব নয়।

    তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনের মাধ্যমে আংশিকভাবে দাবি আদায় করতে পারায় আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেন এবং আন্দোলনকারী সকল শিক্ষককে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

    ২১ অক্টোবর সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আগত শিক্ষক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশে তিনি এসব কথা বলেন।

    সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক এবিএম ফজলুল করিম, জামায়াতের কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা ড. খলিলুর রহমান মাদানী, ফেডারেশনের সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক মো. রবিউল ইসলাম, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অধ্যাপক আ জ ম কামাল উদ্দিন, মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুস সবুর মাতব্বর।

    উপস্থিতি ছিলেন, কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম, প্রাইমারি শিক্ষক পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ ড. সাখাওয়াত হোসাইন, মাদ্রাসা শিক্ষক-কর্মচারী ফোরামের সভাপতি অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন আজিজী, এমপিওভুক্ত শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. নূরুল আমিন হেলালী, সহ-সভাপতি মো. রকিবুল হাসান ও মো. মিজানুর রহমান মাহীন, সাধারণ সম্পাদক মো. আশরাফুজ্জামান হানিফ, প্রেসিডিয়াম সদস্য আবু তালেব সোহাগ, সদস্য মো. আমজাদ হোসেন, মো. হাবিবুল্লাহ, মো. তোফাজ্জল হোসাইন এবং ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সভাপতি মো. গোলাম আযম প্রমুখ।

    অধ্যাপক মুজিবুর রহমান আরও বলেন, শিক্ষকদের উপযুক্ত সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। শিক্ষকগণ যাতে সমাজে সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারেন, সে জন্য তাদের প্রথম শ্রেণির নাগরিকের মর্যাদা দিতে হবে।ৎ

    তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে জাতীয় বাজেটের গড়ে ৭ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ দেওয়া হয়, অথচ আমাদের দেশে তা মাত্র ১.৬৭ শতাংশ- যা জাতির জন্য লজ্জাজনক। আগামী বাজেটে অন্তত ৩ থেকে ৪ শতাংশ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রাখার দাবি জানান তিনি।

    তিনি আরও বলেন, শিক্ষকদের প্রকৃত মর্যাদা দিতে হলে শিক্ষাব্যবস্থার পূর্ণ জাতীয়করণ করতে হবে এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে বিদ্যমান বৈষম্যের অবসান ঘটাতে হবে। পাশাপাশি শিক্ষকদের খাবার, পোশাক, শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাসস্থানের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

    তিনি জানান, দেশে প্রায় ৬ লক্ষাধিক শিক্ষক দীর্ঘ আন্দোলনের মাধ্যমে তাঁদের দাবি আংশিকভাবে আদায় করেছেন। এ আন্দোলনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ যে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়েছেন, তার জন্য তিনি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “আল্লাহ সবাইকে দুনিয়া ও আখিরাতে এর উত্তম প্রতিদান দিন।

    শিক্ষক প্রতিনিধিদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব মোঃ দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলনের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ও সর্বাত্মক সহযোগিতা প্রদানের জন্য আমরা ৬ লক্ষ শিক্ষকের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এর নেতৃবৃন্দের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।

    তিনি শিক্ষকদের ন্যায্য দাবির প্রতি সমর্থন ও সহযোগিতা প্রদানকারী সকল রাজনৈতিক দল, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতা, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।