Author: তরঙ্গ টিভি

  • গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের আয়োজনে মীরসরাই পৌরসভায় বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ

    গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের আয়োজনে মীরসরাই পৌরসভায় বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ

    জাতীয় পরিবেশ, জলবায়ু ও কৃষি বিষয়ক সংগঠন গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্সের আয়োজনে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও বিশ্ব পরিবেশ সংরক্ষণ দিবস ২০২৫ এর অংশ বিশেষ গতকাল ৩০ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দুপুর ১২ টায় মীরসরাই পৌরসভা চত্বরে বৃক্ষ রোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচী অনুষ্ঠিত হয় ।

    সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও সদস্য সচিব স ম জিয়াউর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন মীরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসার প্রতাপ চন্দ্র রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন মীরসরাই পৌরসভার প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো : আবুল কালাম আজাদ।

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি অফিসার বলেন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে সকল নাগরিকদের এগিয়ে আসতে হবে। গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স চট্টগ্রামের পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়নে চট্টগ্রামের পরিবেশ উন্নয়নে যে দায়িত্ব পালন করে আসছে তা প্রশংসার দাবিদার। প্রতাপ চন্দ্র রায় বলেন, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষা করতে এবং সবুজে সবুজে চট্টগ্রামকে সাজাতে চট্টগ্রামে গ্রীন চট্টগ্রাম এ্যালায়েন্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ সংগঠন একটি প্রশংসনীয় কাজ করছে, তা অনুকরণীয় ও অনুসরণীয়।

    সংগঠনের সদস্য ( অর্থ ও হিসাব) আকতার হোসেন নিজামীর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সদস্য ( মিডিয়া ও কমিউনিকেশন) নজীব চৌধুরী, সদস্য আকতার হোসেন শাকিল, সমাজকর্মী নুরুল আমিন, আব্দুল খালেক, আব্দুল হালিম, জহিরুল ইসলাম।

    সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভা শেষে অতিথিবৃন্দ ও সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শিক্ষার্থী এবং স্হানীয় জনসাধারণের মাঝে পাঁচ শতাধিক বিভিন্ন ফলজ, বনজ, ঔষধীসহ খেজুর চারা বিতরণ করা হয় এবং পৌরসভা চত্বরে চারা রোপণ করা হয়

  • মানিকগঞ্জের আলোচিত ভাস্কর শিল্পীর ঘড় বাড়ি এখনো ধ্বংসস্তুপ

    মানিকগঞ্জের আলোচিত ভাস্কর শিল্পীর ঘড় বাড়ি এখনো ধ্বংসস্তুপ

    পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রার মোটিফ তৈরিকে কেন্দ্র করে মানিকগঞ্জের আলোচিত ভাস্কর মানবেন্দ্র ঘোষের ঘর ও স্টুডিও এখনো ধ্বংসস্তুপ। এ ঘটনার ছয় মাস কেটে গেলেও সরকারের প্রতিশ্রুতি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি।

    গত ১৫ এপ্রিল রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ঘোষের বাজারে মানবেন্দ্র ঘোষের বাড়িতে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে তাঁর স্টুডিওসহ প্রায় ৩০টি চিত্রকর্ম ও আসবাবপত্র পুড়ে যায়। ঘটনাটি সারা দেশে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।

    সরকারি প্রতিশ্রুতি অনযায়ী ভাস্করের ঘর ও স্টুডিও নতুনভাবে নির্মাণের কথা থকলেও ছয় মাস পরেও তার কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

    মানবেন্দ্র ঘোষ জানান, পহেলা বৈশাখের কয়েক দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয় যে, তিনি নাকি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখাবয়ব তৈরি করেছেন। তিনি আসলে বাঘের শোভাযাত্রার জন্য বাঘের একটি বাঘের মোটিফ তৈরি করেছিলেন।

    বিতর্কের পর থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে হুমকি ও ভয়ভীতি পেতে থাকেন তিনি। ১৫ এপ্রিল রাতে নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। কিন্তু সেই রাতেই, গভীর রাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়।

    এ ঘটনার পর ১৭ এপ্রিল মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক মানোয়ার হোসেন মোল্লা এক ব্রিফিংয়ে জানান, মানবেন্দ্র ঘোষের ক্ষতিগ্রস্ত ঘর সরকারের পক্ষ থেকে তাঁর নিজস্ব নকশায় পুনর্নির্মাণ করা হবে।

    এ বিষয়ে মানবেন্দ্র বলেন, তিন মাস আগে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাঁর ঘর ও স্টুডিওর একটি ডিজাইন চেয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কবে নির্মাণ শুরু হবে, সে বিষয়ে কেউ স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।

    এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাঁকে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে একটি আবেদনপত্রে স্বাক্ষর করান, তবে সেই প্রক্রিয়াতেও কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

    ঘর পুড়ে যাওয়ার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং জেলা প্রশাসন থেকে কিছু আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

    দুই মাস পর্যন্ত পুলিশ পাহারা দেওয়া হয় বাড়িটিতে। নিরাপত্তার জন্য বাড়ির পূর্ব দিকে একটি দেয়াল নির্মাণ ও আটটি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে।

    মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি এস. এম. আমানউল্লাহ জানান, এ ঘটনায় ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন কারাগারে মারা গেছেন, বাকি সবাই জামিনে রয়েছেন। তদন্ত শেষ হলে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে।

    এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জনাব মানোয়ার হোসেন মোল্লা গণমাধ্যমকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে মানবেন্দ্র ঘোষের চাহিদা অনুযায়ী ঘর ও স্টুডিওর ডিজাইন পাঠানো হয়েছে। তবে সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা এখনো পাওয়া যায়নি।

    দুঃখভারাক্রান্ত মনে মানবেন্দ্র ঘোষ জানান, ‘‘আগুনে শুধু আমার শিল্প নয়, জীবনের একটা অধ্যায় পুড়ে গেছে। আমার পরিবার এখনো আতঙ্গে দিন কাটাচ্ছে।’’

    মানবেন্দ্র ঘোষের মতো শিল্পীরা দেশের সাংস্কৃতিক সম্পদ। তাঁদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সৃষ্টিশীল স্বাধীনতা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারের দেওয়া আশ্বাস দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এমনটাই প্রত্যাশা সকলের

  • দুই দিনের বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বৃদ্ধি, চরম বিপাকে সাধারন মানুষ

    দুই দিনের বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বৃদ্ধি, চরম বিপাকে সাধারন মানুষ

    মানিকগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলা ও সাভার উপজেলার, এলাকার বাজার গুলি ঘুরে দেখা যায় গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সবজির সহ বিভিন্ন জিনিসের দাম ঊর্ধ্বমুখি চলমান, বিশেষ করে কাঁচা মরিচ এর দাম। তার মাঝে গত দুই দিন বৃষ্টির কারণে আজ সকাল সবজি বাজার গুলিতে ঘুরে দেখা যায় খুচরা ও পাইকারি দামে তেমন প্রার্থক্য নাই।
    বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকার ওপরে। শুধু সবজিই না একইসঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মাছ, মাংস ও রসুনের দামও। এখন অবশ্য বিক্রেতারা বলছেনড় ঋতু পরিবর্তন ও পণ্যের ঘাটতির কারণে দাম বাড়তি রয়েছে। এর মাঝে দুইদিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু লাগাম হীন। মানিকগঞ্জ কাঁচাবাজার আরদ,টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে কাঁচাবাজার ও সাভারে কাঁচাবাজারে সরজমিনে দেখা যায়। আজকের বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় টমেটো ৮০ টাকা, দেশি টমেটো ১০০-১১০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৯০ টাকা, দেশি গাজর ৬০টাকা, চায়না গাজর ১০০-১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৯০টাকা, কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা, শিম ৩৫ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা,
    করল্লা ৭০ টাকা, কাকরোল ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৬০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৫০ টাকা, দেশি পটল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, ধুন্দল ৩০-৪০০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, বরবটি ৩৫-৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, কচুরমুখী ৬০-৬৫টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ১০০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৪০ টাকা, পেপে ২৫-৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৩০-৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০ টাকা। এছাড়া, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা করে।
    এক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতি কেজিতে ভারতীয় টমেটো, সাদা গোল বেগুন, দেশি শসা, করল্লা, দেশি পটল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, মূলার দাম কমেছে ২০ টাকা করে। হাইব্রিড শসা ও মিষ্টি কুমড়ার দাম কমেছে ১০ টাকা করে। আর শিমের দাম কমেছে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজিতে চায়না গাজরের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা, কালো গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, কাকরোলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, প্রতি পিসে চাল কুমড়ার দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। এছাড়া অন্যান্য সবজির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। শাহিন হোসেন বলেন, সবজির বাজার যে আমাদের নাগালের মধ্যে আসছে না, আমাদের যে কষ্ট হচ্ছে… এটা দেখার কেউ নেই দেশে! মনে হয় যেন এই দায় কারোই না। দিনের পর দিন দাম বাড়তে থাকবে, আর আমরা শুধু সহ্য করে যাবো। কোনো মতে খেয়ে পড়ে বাঁচবো।
    মোস্তাফিজুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, এই বাজার মনে হয় কেউই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আগের সরকারগুলোও পারে নাই, এই সরকারও পারছে না। কিন্তু আমাদের মতো অল্প বেতনের মানুষগুলো হচ্ছি ভুক্তভোগী। এদিকে সবজির দাম বাড়তি থাকা নিয়ে বিক্রেতা নূরে আলম বলেন, গত কয় মাস আগে অসময়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণে অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে, গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই সবজির দামও বেড়ে গিয়েছে। এখন বৃষ্টি নাই, কিন্তু সিজন চেঞ্জ হচ্ছে তাই দাম কমছে না। শীত আসতে শুরু করলেই দাম কমে যাবে, আশা করি।
    দাম বেড়েছে আদা-রসুনের আজকের বাজারে দেশি রসুন, চায়না রসুনের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাশাপাশি বেড়েছে চায়না আদার দামও। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে প্রায় অপরিবর্তিত।
    সপ্তাহে দুয়েক আগে দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজকে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। আর চায়না রসুন ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার ৪০-৫০ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি। এছাড়া চায়না আদা ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজকে ২০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। আর দেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা করে।
    আজকে আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০টাকায়। এরমধ্যে ছোট পেঁয়াজ ৮০ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা করে। দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা, লাল আলু ২০-২৫ টাকা, সাদা আলু ২০-২৫ টাকা, বগুড়ার আলু ৩০-৩৫ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, ভারতীয় আদা মান ভেদে ১৬০ দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বিক্রেতা মো. লিটন বলেন, এখন রসুনের দাম একটু বাড়তি আছে। বাজারে একটু ঘাটতি হলেই দাম বেড়ে যায়। তবে বেশিদিন বাড়তি দাম থাকবে না। নতুন রসুন এলেই দাম কমে যাবে।
    মাছ-মাংসের বাজারও ঊর্ধমুখী। ফের বেড়েছে কক মুরগির দাম। এছাড়া অন্যান্য মাংসের দাম রয়েছে স্থিতিশীল

  • দুই দিনের বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বৃদ্ধি, চরম বিপাকে সাধারন মানুষ।

    দুই দিনের বৃষ্টির অজুহাতে সবজির দাম বৃদ্ধি, চরম বিপাকে সাধারন মানুষ।

    মানিকগঞ্জ এবং টাঙ্গাইল জেলা ও সাভার উপজেলার, এলাকার বাজার গুলি ঘুরে দেখা যায় গত দুই থেকে তিন মাস ধরে সবজির সহ বিভিন্ন জিনিসের দাম ঊর্ধ্বমুখি চলমান, বিশেষ করে কাঁচা মরিচ এর দাম। তার মাঝে গত দুই দিন বৃষ্টির কারণে আজ সকাল সবজি বাজার গুলিতে ঘুরে দেখা যায় খুচরা ও পাইকারি দামে তেমন প্রার্থক্য নাই।

    বেশিরভাগ সবজি বিক্রি হচ্ছে কেজি ৮০ টাকার ওপরে। শুধু সবজিই না একইসঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে মাছ, মাংস ও রসুনের দামও। এখন অবশ্য বিক্রেতারা বলছেনড় ঋতু পরিবর্তন ও পণ্যের ঘাটতির কারণে দাম বাড়তি রয়েছে। এর মাঝে দুইদিন বৃষ্টি হওয়ার কারণে কিছু লাগাম হীন। মানিকগঞ্জ কাঁচাবাজার আরদ,টাঙ্গাইল বাসস্ট্যান্ডে কাঁচাবাজার ও সাভারে কাঁচাবাজারে সরজমিনে দেখা যায়। আজকের বাজারে প্রতি কেজি ভারতীয় টমেটো ৮০ টাকা, দেশি টমেটো ১০০-১১০ টাকা, কাঁচা টমেটো ৯০ টাকা, দেশি গাজর ৬০টাকা, চায়না গাজর ১০০-১২০ টাকা, লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৯০টাকা, কালো গোল বেগুন ১২০ টাকা, শিম ৩৫ টাকা, দেশি শসা ৬০ টাকা, উচ্ছে ৭০ টাকা,
    করল্লা ৭০ টাকা, কাকরোল ৯০ টাকা, ঢেঁড়স ৪০-৬০ টাকা, পটল (হাইব্রিড) ৫০ টাকা, দেশি পটল ৬০ টাকা, চিচিঙ্গা ৪৫ টাকা, ধুন্দল ৩০-৪০০ টাকা, ঝিঙা ৪০ টাকা, বরবটি ৩৫-৫০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, মূলা ৪০ টাকা, কচুরমুখী ৬০-৬৫টাকা, কাঁচা মরিচ ১৬০ টাকা, ধনেপাতা (মানভেদে) ১০০ টাকা, শসা (হাইব্রিড) ৪০ টাকা, পেপে ২৫-৩০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। আর মানভেদে প্রতিটি লাউ ৩০-৪০ টাকা, চাল কুমড়া ৪০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। আর প্রতি হালি কাঁচা কলা ৩০ টাকা। এছাড়া, প্রতি হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকা করে।
    এক্ষেত্রে দেখা যায়, প্রতি কেজিতে ভারতীয় টমেটো, সাদা গোল বেগুন, দেশি শসা, করল্লা, দেশি পটল, চিচিঙ্গা, ঝিঙা, মূলার দাম কমেছে ২০ টাকা করে। হাইব্রিড শসা ও মিষ্টি কুমড়ার দাম কমেছে ১০ টাকা করে। আর শিমের দাম কমেছে ১৪০ টাকা এবং কাঁচা মরিচের দাম কমেছে ৪০ টাকা। এছাড়া প্রতি কেজিতে চায়না গাজরের দাম বেড়েছে ১০-২০ টাকা, কালো গোল বেগুনের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, কাকরোলের দাম বেড়েছে ২০ টাকা, প্রতি পিসে চাল কুমড়ার দাম বেড়েছে ১০ টাকা করে। এছাড়া অন্যান্য সবজির দাম রয়েছে অপরিবর্তিত। শাহিন হোসেন বলেন, সবজির বাজার যে আমাদের নাগালের মধ্যে আসছে না, আমাদের যে কষ্ট হচ্ছে… এটা দেখার কেউ নেই দেশে! মনে হয় যেন এই দায় কারোই না। দিনের পর দিন দাম বাড়তে থাকবে, আর আমরা শুধু সহ্য করে যাবো। কোনো মতে খেয়ে পড়ে বাঁচবো।
    মোস্তাফিজুর রহমান নামে আরেক ক্রেতা বলেন, এই বাজার মনে হয় কেউই নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। আগের সরকারগুলোও পারে নাই, এই সরকারও পারছে না। কিন্তু আমাদের মতো অল্প বেতনের মানুষগুলো হচ্ছি ভুক্তভোগী। এদিকে সবজির দাম বাড়তি থাকা নিয়ে বিক্রেতা নূরে আলম বলেন, গত কয় মাস আগে অসময়ে বেশি বৃষ্টি হওয়ার কারণে অনেক ফসলের ক্ষতি হয়েছে, গাছ নষ্ট হয়ে গিয়েছে। তাই সবজির দামও বেড়ে গিয়েছে। এখন বৃষ্টি নাই, কিন্তু সিজন চেঞ্জ হচ্ছে তাই দাম কমছে না। শীত আসতে শুরু করলেই দাম কমে যাবে, আশা করি।
    দাম বেড়েছে আদা-রসুনের আজকের বাজারে দেশি রসুন, চায়না রসুনের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। পাশাপাশি বেড়েছে চায়না আদার দামও। তবে অন্যান্য পণ্যের দাম রয়েছে প্রায় অপরিবর্তিত।
    সপ্তাহে দুয়েক আগে দেশি রসুন ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজকে বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা কেজি। আর চায়না রসুন ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও বৃহস্পতিবার ৪০-৫০ বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৮০ টাকা কেজি। এছাড়া চায়না আদা ১৮০-২০০ টাকায় বিক্রি হলেও আজকে ২০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। আর দেশি পেঁয়াজের দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ৫ টাকা করে।
    আজকে আকার ও মানভেদে ক্রস জাতের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৭৫-৮০টাকায়। এরমধ্যে ছোট পেঁয়াজ ৮০ টাকা ও বড় সাইজের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা করে। দেশি পেঁয়াজ ৮৫ টাকা, লাল আলু ২০-২৫ টাকা, সাদা আলু ২০-২৫ টাকা, বগুড়ার আলু ৩০-৩৫ টাকা, দেশি রসুন ১২০ টাকা, চায়না রসুন ১৮০ টাকা, চায়না আদা ২০০ টাকা, ভারতীয় আদা মান ভেদে ১৬০ দরে বিক্রি হচ্ছে। দাম বেড়ে যাওয়ার প্রসঙ্গে বিক্রেতা মো. লিটন বলেন, এখন রসুনের দাম একটু বাড়তি আছে। বাজারে একটু ঘাটতি হলেই দাম বেড়ে যায়। তবে বেশিদিন বাড়তি দাম থাকবে না। নতুন রসুন এলেই দাম কমে যাবে।
    মাছ-মাংসের বাজারও ঊর্ধমুখী। ফের বেড়েছে কক মুরগির দাম। এছাড়া অন্যান্য মাংসের দাম রয়েছে স্থিতিশীল।

  • ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ

    ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ

    অবরোধকারীরা এদিন ‘মাদারীপুরের সীমানা ফরিদপুরে হবে না’, ‘ঢাকা বিভাগ ছাড়বো না, অন্য বিভাগে যাবো না’ বলে স্লোগান দেন।

    ‎বিক্ষোভ মিছিলে বক্তারা বলেন, মাদারীপুর জেলা ঐতিহাসিকভাবে, ভৌগোলিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে ঢাকার সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের পর জেলার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগ আরও সহজ ও দ্রুত হয়েছে, যা প্রশাসনিক ও জনসেবামূলক কার্যক্রমে ঢাকাকে কেন্দ্র করে একটি বাস্তব নির্ভরতা সৃষ্টি করেছে।

    ‎তারা আরও বলেন, স্থানীয় জনমতকে উপেক্ষা করে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থি হবে। তাই জনগণের ইচ্ছা ও বাস্তবতার আলোকে মাদারীপুর জেলার সর্বস্তরের মানুষ বিনীতভাবে সরকারের প্রতি মাদারীপুর জেলাকে বর্তমানের মতো ঢাকা বিভাগের সঙ্গেই সংযুক্ত রাখা হোক। তারা এই আহ্বান জানান।

    এদিন উপস্থিত ছিলেন, মাদারীপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সহসংগঠক জহিরুল ইসলাম সানি, সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আশিকুল তামিম আশিক, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কিরণ আক্তার, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মাদারীপুর জেলা শাখার সদস্য রুবেল মাহমুদ, জুলাই যোদ্ধা হাফেজ মোহাম্মদ আব্দুর রহিম ও নেয়ামুল হকসহ জেলার সর্বস্তরের জনগণ।

  • নোয়াখালীতে মহিলা জামায়াতের তালিমে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

    নোয়াখালীতে মহিলা জামায়াতের তালিমে হামলা-ভাঙচুরের অভিযোগ

    নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মহিলা জামায়াতের তালিমে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন দেওটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. রবিন। গতকাল মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের উত্তর দেওটি গ্রামের মাঈন উদ্দিন ব্যাপারীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জামায়াতে ইসলামী মহিলা বিভাগের উদ্যোগে ওই বাড়ির উঠোনে তালিমের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর আগমুহূর্তে দেওটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য মো. রবিন, শাহ আলম ও লিটনসহ কয়েকজন সেখানে গিয়ে আয়োজকদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। অনুমতি ছাড়াই তালিমের আয়োজন করা হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন। একপর্যায়ে হুমকি-ধমকি দিয়ে চেয়ার ভাঙচুর ও অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।

    এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে দেখা যায়, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রবিন মহিলা জামায়াতের এক কর্মীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘রাজনৈতিক তালিম এটা। রাজনৈতিক তালিম করতে আসছিস তোরা। তুই তালিম করতে আসছিস, তোর চোখ দেখা যায়, হাত দেখা যায়! শয়তান! তোর নিজের পর্দার ঠিক নাই, আরেকজনরে পর্দা করতে বলিস। তুই বাড়িতে আসছিস রাজনৈতিক আলাপ করতে।দেওটি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমেরিকা প্রবাসী আবদুল ওয়াদুদের বাড়ির উঠানে মহিলা জামায়াতের তালিমের আয়োজন করা হয়েছিল। তিনি নিজেই আমাদের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং অনুষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। তার অনুমতিতেই এটি অনুষ্ঠিত হচ্ছিল।

    দেওটি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. ফরহাদ হোসেন সুজন বলেন, ওরা (জামায়াত) একটা বাড়িতে হঠাৎ করে ডেকোরেশনের চেয়ার নিয়ে আসছে এবং প্যান্ডেল সাজাচ্ছে। ওই বাড়ির লোকজনের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রবিন কেন এসব আনা হয়েছে জিজ্ঞেস করলে ওরা সেখানে মহিলা তালিম করবে বলে জানায়।

    এদিকে অভিযুক্ত স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মো. রবিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, মহিলা তালিম তো সাধারণত ঘরের ভেতরে, পর্দার ভেতরে হয়। এভাবে বড় করে ডেকোরেশনের চেয়ার এনে তো মহিলা তালিম হয় না। হলেও তো বাড়ির লোকজনের জানার কথা। আমরা কেউ তো সেটা জানতাম না। আমাদের বাড়িতে আমাদের অনুমতি না নিয়ে এমন রাজনৈতিক আয়োজন করায় আমি প্রতিবাদ করেছি।

    সোনাইমুড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির মো. হানিফ বলেন, এ হামলা নারীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে নগ্ন হস্তক্ষেপের জঘন্য উদাহরণ। নিরীহ নারী কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, গণতন্ত্র ও সহনশীলতার কোনো চর্চা তাদের মধ্যে নেই।

    সোনাইমুড়ী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, দেওটি এলাকায় মহিলা জামায়াতের অনুষ্ঠানে হামলার বিষয়টি মৌখিকভাবে শুনেছি। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • শরীয়তপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৪০০ কেজি ইলিশ জব্দ

    শরীয়তপুরে যৌথবাহিনীর অভিযানে ৪০০ কেজি ইলিশ জব্দ

    মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে ইলিশ পরিবহনের সময় যৌথবাহিনী ও মৎস্য বিভাগের অভিযানে ৪০০ কেজিসহ ৩টি ট্রলার জব্দ করা হয়েছে।

    শনিবার (১১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সুদীপ্ত ঘোষের নেতৃত্বে গোসাইরহাট উপজেলার কোদালপুর ইউনিয়নের মাউছাখালী নামক এলাকার মেঘনার শাখা নদীতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

    গোসাইরহাট উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরার ওপর চলমান নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু অসাধু জেলে ইলিশ পরিবহন করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে আনুমানিক ৪০০ কেজি ইলিশসহ ৩টি ট্রলার জব্দ করা হয়। এ সময় প্রশাসনের টের পেয়ে অসাধু জেলেরা পালিয়ে যায়। পরে জব্দকৃত ইলিশ মাছ বিভিন্ন এতিমখানা মাদরাসায় বিতরণ করা হয়।

    অভিযানের বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কাশেম ঢাকা পোস্টকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মেঘনার শাখা নদীতে কিছু অসাধু জেলে ইলিশ পরিবহন করছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে সকালে যৌথবাহিনী ও উপজেলা মৎস্য বিভাগের অভিযানে তিনটি ট্রলারে আনুমানিক ৪০০ কেজি ইলিশসহ ট্রলারগুলো জব্দ করি। পরবর্তীতে জব্দকৃত ইলিশ বিভিন্ন এতিমখানায় বিতরণ করা হয়েছে। ট্রলার ৩টি মৎস্য বিভাগের হেফাজতে রয়েছে।

    প্রসঙ্গত, মা ইলিশের প্রজনন নিশ্চিত করতে ৩ অক্টোবর দিনগত রাত ১২টা ১ মিনিটে শুরু হওয়া ২২ দিনের এ নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত।

  • পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ

    পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ

    প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ ও শরীয়তপুর জেলাকে অন্তর্ভুক্তের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ প্রস্তাবে বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ করেছে ‘জাগো শরীয়তপুর’ নামে একটি সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় প্রায় আধা ঘণ্টা পদ্মা সেতুতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে

    মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জাজিরা প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এর আগে সকালে একই স্থানে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।

    মানববন্ধনকারীরা জানায়, প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় ফরিদপুরকে আলাদা বিভাগ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। যেখানে শরীয়তপুর জেলাকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে ভৌগোলিক দিক থেকে শরীয়তপুর থেকে ফরিদপুরের তুলনায় ঢাকার দূরত্ব কম। তাছাড়া শরীয়তপুরের সঙ্গে ঢাকার শিক্ষা, সংস্কৃতি, চিকিৎসা, ব্যবসা বানিজ্যের এক নিবিড় যোগসূত্র রয়েছে। পদ্মা সেতুর চালুর পর থেকে সেগুলো আরও সহজতর হয়ে গেছে। তাই শরীয়তপুরবাসী কোনোভাবেই ফরিদপুর বিভাগে যেতে চাচ্ছে না। তারা শরীয়তপুরকে ফরিদপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাহারের দাবি জানান। অন্যথায় সামনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন ত

    আল-আমিন নামের এক আন্দোলনকারী বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সঙ্গে রয়েছি। তাছাড়া ফরিদপুর থেকে ঢাকায় আমরা সহজে যাতায়াত করতে পারি। আমরা কোনোভাবেই ফরিদপুর বিভাগে যাব না। যদি আমাদের দাবি মানা না হয়, তাহলে আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।

    জাগো শরীয়তপুরের আহ্বায়ক আমিন মোহাম্মদ জিতু বলেন, আমরা আজ ঘণ্টাব্যাপী কর্মসূচি পালন করেছি। প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগ থেকে শরীয়তপুরের নাম বাদ দেওয়া নাহলে লাখ লাখ মানুষ মিলে পদ্মা সেতু ব্লকেড করে দক্ষিণ বঙ্গ অচল করে দেয়া হবে।

     

    পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রসুল বলেন, আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছি। প্রায় ২৫ মিনিট যানচলাচল বন্ধ ছিল। আমাদের অনুরোধে আন্দোলনকারীরা পরবর্তীতে সরে যায়।

  • বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের দাফন সম্পন্ন

    বিয়ারিং প্যাড পড়ে নিহত আবুল কালামের দাফন সম্পন্ন

    মেট্রোরেলের বিয়ারিং প্যাড খুলে পড়ায় নিহত আবুল কালামের (৩৬) দাফন সম্পন্ন হয়েছে। সোমবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে শরীয়তপুরের নড়িয়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

    এর আগে, নড়িয়ার ঈশ্বরকাঠি গ্রামে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

    নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাকী দাস বলেন, আবুল কালামের মর্মান্তিক মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে তার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছি। আমরা সার্বক্ষণিক তার পরিবারের পাশে রয়েছি। পরিবারের লোকজন যে কোনো প্রয়োজনে উপজেলা প্রশাসনকে পাশে পাবে।

    উল্লেখ্য, রোববার বেলা ১২টার দিকে ব্যক্তিগত কাজে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় যাওয়ার সময় মেট্রোরেলের বেয়ারিং প্যাড খুলে পড়লে ঘটনাস্থলেই আবুল কালামের মৃত্যু হয়।

  • পুলিশের হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল মহড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

    পুলিশের হেলমেটবিহীন মোটরসাইকেল মহড়া, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দার ঝড়

    ২৪ ঘণ্টা জনগণের জানমালের নিরাপত্তার অঙ্গীকার -এই শ্লোগানে, ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশ গত মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) একটি সতর্ক মহড়া আয়োজন করে। তবে, মহড়ায় অংশগ্রহণকারী পুলিশের মোটরসাইকেল চালকদের কেউই হেলমেট পরেননি। এ ঘটনা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা উঠতে থাকে।

     

    মোটরসাইকেল মহড়ায় সাতটি মোটরসাইকেলে ১৪ জন পুলিশ সদস্য সাইরেন বাজিয়ে অংশ নেন। তাদের সঙ্গে ছিল একটি পিকআপ গাড়ি, যার মধ্যে আরও ৬ থেকে ৮ পুলিশ সদস্য ছিলেন। মোট ২০ থেকে ২২ জন পুলিশ সদস্য এই মহড়ায় অংশ নেন। মহড়াটি বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে এক ঘণ্টা ধরে আলফাডাঙ্গা উপজেলার বিভিন্ন সড়ক ঘুরে থানায় ফিরে আসে।

    পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মহড়ার উদ্দেশ্য ছিল জনগণের জানমাল রক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা। এই মহড়ায় পুলিশ সদস্যরা আলফাডাঙ্গা বাজার, গুরুত্বপূর্ণ মোড়, জনবহুল স্থান এবং গ্রামীণ এলাকায় টহল দেন। তারা জনগণকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান এবং আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা কামনা করেন।

    দেশে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো আইনত দণ্ডনীয়। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। এফ ডি নিউজ ওয়ান নামে একটি পেজ থেকে মহড়ার ভিডিও শেয়ার করা হলে বিভিন্ন ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাফিন হোসেন নামে একজন মন্তব্য করেন, মহড়া দিলেন, হেলমেট নেই, অথচ মোড়ে মোড়ে মোবাইল কোর্ট বসিয়ে সাধারণ জনগণকে হয়রানি করেন। ইমন খান নামে একজন লিখেছেন, একটারও হেলমেট নেই। রবিদুল ইসলাম মন্তব্য করেন, পুলিশের হেলমেট লাগে না? মো. মামুন প্রশ্ন তোলেন, তাদের মাথায় হেলমেট নেই কেন? তারা কি আইনের ঊর্ধ্বে?

    এ বিষয়ে আরও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহজালাল আলম ওই সময় থানায় ছিলেন না। তিনি ফরিদপুর শহরে দাপ্তরিক কাজে ছিলেন। তবে, মহড়াটি তার নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে বলে জানান অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম। তিনি স্বীকার করেন, হেলমেট ছাড়া মহড়া আয়োজন করা ভুল ছিল। ভবিষ্যতে এমনটি আর হবে না।

    এ বিষয়ে ওসি মো. শাহজালাল আলম বলেন, আমরা আইনের শাসক, তাই হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালানো যাবে না। পুলিশ সদস্যদের এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

    সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ফরিদপুর ইউনিটের সাবেক সভাপতি শিপ্রা গোস্বামী মন্তব্য করেন, আইনের রক্ষকরা যদি নিজেই আইন লঙ্ঘন করে, তাহলে তা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি আরো বলেন, যে পুলিশ সদস্য নিজে হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল চালান, তিনি কীভাবে সাধারণ মানুষকে জরিমানা করবেন?