Author: তরঙ্গ টিভি

  • দুমকিতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২ আহত ২।

    দুমকিতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত ২ আহত ২।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকী-বাউফল সড়কের রাজাখালি শ্রীরামপুর ব্রিজসংলগ্ন সড়কে মালামাল পরিবহনের টমটম-অটোবাইক সংঘর্ষে রবিউল (৬) ও ইব্রাহীম (৫৫) নামের দুই যাত্রী নিহত ও অপর দুই যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন-মো. সুমন সর্দার (২৫) ও আবদুল কাদের (৫০)। ?তাদের গ্রামের বাড়ি বাউফলের ঝিলনা ও কলতা এলাকায়। গতকাল শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিহত শিশু রবিউলের বাড়ি পার্শ্ববর্তী বাউফল উপজেলার ঝিলনা এবং ইব্রাহীমের গ্রামের বড়ি কলতা এলাকায়।
    স্থানীয় সূত্র জানায়, লিঙ্ক রোড থেকে মালামাল পরিবহনের শ্যালো ইঞ্জিনচালিত দ্রুতবেগের টমটমের সঙ্গে অটোবাইকের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোবাইক উল্টে গেলে শিশুসহ চার যাত্রী গুরুতর আহত হন। আহতদের দ্রুত উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু রবিউল ও ইব্রাহীমকে মৃত ঘোষণা করেন। অপর আহত ২ জনকে হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।দুমকী থানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন বলেন, লাশের সুরতহাল করে মর্গে পাঠানো হবে। এ ব্যাপারে মামলা প্রক্রিয়াধীন।।#
    জাকির হোসেন হাওলাদার।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈশাখী টেলিভিশন ২০ বছর পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৈশাখী টেলিভিশন ২০ বছর পেরিয়ে ২১ বছরে পদার্পণ

    বেসরকারি স্যাটেলাইট টিভি চ্যানেল বৈশাখী টেলিভিশন ২০ বছর পূর্তি উদযাপন শেষে ২১ বছরে পদার্পণ করেছে।

    এই উদযাপন উপলক্ষে আজ শনিবার বেলা ১১ঃ০০ টায় বনার্ঢ্য র‍্যালি সহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা প্রেসক্লাবে হলরুমে কেক কাটা ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নামোশংকরবাটী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আসলাম কবির। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বৈশাখী টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোঃ আব্দুল ওয়াহাব। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এএনএম ওয়াসিম ফিরোজ। প্রধান অতিথি বলেন, বৈশাখী টেলিভিশনের দীর্ঘ পথচলার প্রশংসা করে বলেন, বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে বৈশাখী টিভি গণমানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠেছে।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ টেলিভিশন এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ রফিকুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মনোয়ার হোসেন জুয়েল, চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক মোঃ ফয়সাল মাহমুদ, সিটি প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক মোঃ মেহেদী হাসান, সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ আমিনুল ইসলাম, চ্যানেল আইয়ের জেলা প্রতিনিধি আশরাফুল ইসলাম রঞ্জু, এছাড়াও মাহিদুল ইসলাম ফরহাদ সহ সকল ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, এ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী আসাদ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বৈশাখী টেলিভিশনের অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক—এ কামনা করে দেশের ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরতে গণমাধ্যমের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। কেক কাটা ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি হয়

  • শার্শা সাতমাইল-গোগা সড়ক : কাজ বন্ধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের ঢালাই

    শার্শা সাতমাইল-গোগা সড়ক : কাজ বন্ধের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ফের ঢালাই

    যশোরের শার্শা উপজেল স্থানীয়দের বাধার মুখে একদিন কাজ বন্ধ থাকলেও পরদিন একই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে শার্শা উপজেলার বসতপুর বাজার এলাকায় ফের সিসি ঢালাইয়ের কাজ শুরু করায় জনমনে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে নিষেধাজ্ঞাকে উপেক্ষা করেই নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।
    স্থানীয়রা জানান, ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন সাতমাইল-গোগা সড়কে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ব্যাপক অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন। অথচ কোনো তদন্ত বা দৃশ্যমান ব্যবস্থা ছাড়াই মাত্র একদিনের ব্যবধানে শুক্রবার সকাল থেকে একই সামগ্রী দিয়ে পুনরায় ঢালাই কাজ শুরু হয়। এতে এলাকাজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।

    শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ‘শার্শার বাগআঁচড়ায় সিসি রাস্তা নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগে কাজ বন্ধ’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। ওই খবরে উল্লেখ করা হয়-পায়ের আঙুল দিয়ে গুতো দিলেই ঢালাইয়ের রাস্তা খুঁড়ে যাচ্ছে। অভিযোগের পর শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাউল্লাহ ও বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রঞ্জু কাজ বন্ধের কথা জানালেও বাস্তবে একদিনের মধ্যেই ফের একই কাজ শুরু হয়।
    সরেজমিনে বসতপুর বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, চরম অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সড়কের সিসি ঢালাইয়ের কাজ চলছে। এ সময় স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরোনো ও ময়লাযুক্ত নিম্নমানের কালো পাথর, ইটের খোয়া ও বালি। নকশা অনুযায়ী সিমেন্টের পরিমাণ ও রডের মানও বজায় রাখা হয়নি। ফলে সদ্য নির্মিত সড়কটি অল্প সময়েই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
    স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অনিয়মের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে তারা কাজ বন্ধ করে দেন। কিন্তু কোনো তদন্ত বা প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ছাড়াই শুক্রবার সকাল থেকে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে একই সামগ্রী দিয়ে আবারও ঢালাই শুরু হয়। অভিযোগের তীর- শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাল্লাহসহ বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জুর দিকে। তাদের প্রশ্ন-আগে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সময়ে যে অনিয়ম চলত, এখন প্রশাসকের তত্ত্বাবধানেও যদি একই চিত্র দেখা যায়, তবে পরিবর্তন কোথায়?
    জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রকল্প উন্নয়ন সহায়তার আওতায় বাগআঁচড়া ইউনিয়নের সাতমাইল-গোগা ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর মধ্যে বসতপুর স্কুল মোড় থেকে বাজারের শেষ প্রান্ত পর্যন্ত প্রায় ৩৫০ মিটার সিসি ঢালাই রাস্তার কাজ চলমান রয়েছে। তবে শুরু থেকেই নির্ধারিত নকশা ও মানদণ্ড অনুসরণ না করার অভিযোগ রয়েছে।
    নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকরা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম বলতে পারেননি। তারা জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন কিছুক্ষণ আগে ঘটনাস্থলে ছিলেন, সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে সরে যান। কাজ বন্ধ থাকার পর আবার কীভাবে শুরু হলো-এ প্রশ্নে শ্রমিকদের কেউ কেউ অস্পষ্ট মন্তব্য করেন।
    এ বিষয়ে বাগআঁচড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও শার্শা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শাহারিয়ার মাহমুদ রঞ্জু উক্ত কাজে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে এমন সত্যতা স্বীকার করে বলেন, স্থানীয়দের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    শার্শা উপজেলা প্রকৌশলী সানাল্লাহ বলেন- অভিযোগের পর নির্মাণকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। তবে কাজ পুনরায় শুরু হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন। তিনি জানান, রোববার অফিস সময়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং অনিয়মের প্রমাণ পেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
    এদিকে, এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নির্ধারিত মান বজায় রেখে নতুন করে কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন।

  • কালিয়াকৈরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল দিপু হত্যার প্রতিবাদে

    কালিয়াকৈরে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল দিপু হত্যার প্রতিবাদে

    ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী শ্রী দিপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রকাশ্যে পিটিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পোড়ানোসহ সংখ্যালঘুদের উপর চলমান সাম্প্রদায়িক সহিংসতার প্রতিবাদে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    শনিবার সকালে উপজেলার লতিফপুর এলাকার ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, যুব ও ছাত্র মহাজোট কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার আয়োজনে ওই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।


    বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সিনিয়র সহ সভাপতি রবিন্দ্র নার্থ সিদ্ধ্যার সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কালিয়াকৈরে উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অর্জুন চন্দ্র দাসের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট কালিয়াকৈর উপজেলা শাখার সহ- সভাপতি ডা. প্রনব কুমার দাস, যুগ্ম সম্পাদক মন্তুষ চন্দ্র সরকার, সাংগঠনিক সম্পাদক রুপচান মন্ডল, দপ্তর সম্পাদক গোপাল চন্দ্র মন্ডল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুমন সাহা, সদস্য ঈশ্বর চন্দ্র বর্মন, নকুল বিহারী বর্মন, সুবল চন্দ্র মনিদাস, অভিরাম বনিক, নিত্য রন্জন সরকার, রতন সরকার, পলাশ সরকার, সমীর সরকার প্রমুখ।
    মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহের ভালুকায় গার্মেন্টস কর্মী শ্রী দিপু চন্দ্র দাসকে মিথ্যা ধর্ম অবমাননার অভিযোগে প্রকাশ্যে পিটিয়ে নৃশংস ভাবে হত্যা করে তার লাশ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুড়ানো হয়েছে। আবার চট্টগ্রামের রাউজানের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাড়িঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। অনতিবিলম্বে ঘটনার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করেন। গুজব ছড়িয়ে একজন নিরপরাধ সনাতনীকে পৈশাচিক কায়দায় হত্যা করা হয়েছে। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারনেই সংখ্যালঘু সম্প্রদায় আজ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। সংখ্যালঘুরা এদেশের নাগরিক, স্বাধীন ভাবে বাচতে চাই

  • সংস্কৃতির শক্তিতে ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য উদ্যোগে বিপ্লবী শিল্পীরা

    সংস্কৃতির শক্তিতে ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখার এক অনন্য উদ্যোগে বিপ্লবী শিল্পীরা

    রক্তিম বিজয়ের স্মৃতি শুধু একটি দিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি অনুভবের, ধারণের এবং প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহন করে নেওয়ার বিষয়। সেই ভাবনা থেকেই মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে একটানা বিপ্লবী সাংস্কৃতিক আয়োজন করে বিপ্লবী শিল্পী সমাজ। দশ দিনব্যাপী এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে শিল্প, সুর ও অভিনয়ের ভাষায় নতুন করে মানুষের হৃদয়ে পৌঁছে দেয়।


    এই বিপুল কর্মযজ্ঞের নেতৃত্বে ছিলেন বিপ্লবী শিল্পীদের কালজয়ী আহবায়ক শোয়েব হোসেন। সংগঠনের সদস্য সচিব বিপ্লব চৌধুরীর প্রাণবন্ত উদ্যোগ, সাহসী সিদ্ধান্ত ও অক্লান্ত পরিশ্রম আয়োজনটিকে সফলতার উচ্চতায় পৌঁছে দেয়। তাঁদের সম্মিলিত নেতৃত্বে এই আয়োজন হয়ে ওঠে শুধু একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান নয় বরং মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক একটি চলমান সাংস্কৃতিক আন্দোলন।


    গান, কবিতা, আবৃত্তি, অভিনয় ও ছন্দ-নৃত্যের সমন্বয়ে পরিবেশিত এবারের শ্লোগান ছিল “দূর্গম গিরি কান্তার মরু”। এতে ফুটে ওঠে স্বাধীনতা অর্জনের আনন্দ, স্বজন হারানোর বেদনা, যুদ্ধকালীন উত্তেজনা, সংগ্রামের সাহসিকতা এবং দেশের প্রতি গভীর ভালোবাসা। প্রতিটি পরিবেশনা দর্শকদের আবেগে নাড়া দেয় এবং মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অনুভব করার এক গভীর অভিজ্ঞতায় নিয়ে যায়।
    আয়োজকদের সূত্রে জানা যায়, এই আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছিল গত নভেম্বর মাস থেকেই। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর অঞ্চলে বিভিন্ন বিপ্লবী শিল্পী ও সংগঠনের অংশগ্রহণে নিয়মিত মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ এই প্রস্তুতির মূল লক্ষ্য ছিল—দেশ ও জাতির মনে দেশাত্মবোধ ও দেশপ্রেমকে আরও শক্তভাবে জাগ্রত করা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে স্বাধীনতা অর্জনের গুরুত্ব ও মহত্বকে দরদী, বিরহী ও বিপ্লবী সুরে পৌঁছে দেওয়া।
    ঢাকায় অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানগুলোর উল্লেখযোগ্য পর্ব আয়োজন করা হয় পরীবাগের সংস্কৃতি বিকাশ কেন্দ্র এবং বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর মাঠে। এসব আয়োজনে বিভিন্ন বয়সের দর্শক-শ্রোতার উপস্থিতি প্রমাণ করে যে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সাংস্কৃতিক চর্চা আজও মানুষের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।


    আহবায়ক শোয়েব হোসেন শুধু একজন সংগঠক নন—তিনি একজন দক্ষ সংগীত শিক্ষক ও কণ্ঠশিল্পী। গত বছরের মতো এবারও তিনি নতুন শিল্পীদের বিপ্লবী সংগীতের প্রশিক্ষণ দিয়ে নিয়মিতভাবে নতুন প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছেন। তাঁর বিশ্বাস, সাংস্কৃতিক চর্চার মধ্য দিয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা দীর্ঘস্থায়ী করা সম্ভব। ভবিষ্যতে বিপ্লবী শিল্পী সমাজের মাধ্যমে দেশবাসীকে আরও নতুন ও ব্যতিক্রমী সাংস্কৃতিক উপহার দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
    সাংবাদিকদের একান্ত সাক্ষাৎকারে শোয়েব হোসেন বলেন,
    “মুক্তিযুদ্ধ আমাদের আত্মপরিচয়ের মূল ভিত্তি। আমরা চাই নতুন প্রজন্ম ইতিহাস শুধু জানবে না, শিল্প ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তা অনুভব করবে। এই আয়োজন সেই দায়বদ্ধতা থেকেই।”
    সংগঠনের সদস্য সচিব বিপ্লব চৌধুরী বলেন,


    “এই আয়োজন সফল করতে শিল্পীদের সম্মিলিত শ্রম ও ঐক্যই ছিল সবচেয়ে বড় শক্তি। সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও আমরা বিজয় মাসের চেতনাকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে পেরেছি—এটাই আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।”
    বিপ্লবী শিল্পী সমাজের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন জেলা ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক এই ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন আরও বিস্তৃত আকারে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
    অনুষ্ঠান শেষে সুধী সমাজের প্রতিনিধিরা ও দর্শকরা মত দেন, বর্তমান সময়ে যখন ইতিহাসবিমুখতা বাড়ছে, তখন এই ধরনের সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নতুন প্রজন্মের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
    উল্লেখ্য, এবারের আয়োজনের শ্লোগান ছিল—
    “সংস্কৃতির শক্তিতে জাগ্রত হোক মুক্তিযুদ্ধের চেতনা”

  • চেইন চুরির সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    চেইন চুরির সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলায় চেইন চুরির সন্দেহে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

    ঘটনাটি উপজেলার ফেদিয়ারকান্দি গ্রামে ঘটেছে।নিহত যুবকের নাম শাহীন ভূইয়া (২২)। তিনি ফেদিয়ারকান্দি গ্রামের আক্তার ভূইয়ার ছেলে। স্থানীয় সূত্র জানায়,

    একই গ্রামের হুমায়ুন মিয়ার আট বছর বয়সী মেয়ে জান্নাত বেগমের গলার চেইন চুরির সন্দেহে শাহীনকে আটক করা হয়।
    অভিযোগ রয়েছে, জান্নাত বেগমের চাচা লোকমান (পিতা: ইয়াকুব আলী) ভাতিজির চেইন চুরির অভিযোগ তুলে শাহীন ভূইয়াকে মারধর করেন।

    একপর্যায়ে গুরুতর আহত হলে তাকে বাড়ির পাশের রাস্তায় ফেলে রেখে যান অভিযুক্তরা।
    পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে নেওয়ার সময় সরাইল হাসপাতাল মোড়ে শাহীন ভূইয়ার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে চাতলপাড় পুলিশ ফাঁড়ির মাধ্যমে ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।

    নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুল ইসলাম জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে

  • শহীদ হাদি হত্যার বিচার দাবি  জমায়েত বাড়ছে শাহবাগে, রাতভর থাকার ঘোষণা

    শহীদ হাদি হত্যার বিচার দাবি জমায়েত বাড়ছে শাহবাগে, রাতভর থাকার ঘোষণা

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে শুক্রবার দুপুরের পর থেকে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে আছে ইনকিলাব মঞ্চ। একই সঙ্গে শাহবাগেই রাতে অবস্থান করার ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলনকারীরা।

    শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীসহ সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে শাহবাগ মোড়ে এসে অবস্থান নেয়।

    ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের সন্ধ্যায় অবরোধ কর্মসূচিতে বলেন, খুনিদের গ্রেফতার করতে আমরা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারকে সময় দিয়েছিলাম। সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এখন লাগাতার আন্দোলন চলবে। সরকার ওসমান হাদির নিরাপত্তার ব্যবস্থা করতে পারেনি। এখন খুনিদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত সরকার পদত্যাগও করতে পারবে না। পদত্যাগ কোনো সমাধান নয়, খুনিদের গ্রেফতারই একমাত্র সমাধান।

    তিনি বলেন, আমরা এই জনগণ রাজপথে নেমেছি শহীদ ওসমান হাদির রক্তের বদলা নেওয়ার জন্য। যতক্ষণ পর্যন্ত সরকারের উপদেষ্টারা এখানে এসে জনগণের সামনে জবাব না দেবেন, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা শাহবাগ ছাড়ব না। আমরা রাতভর অবস্থান করব। যতক্ষণ পর্যন্ত খুনিদের গ্রেফতার করা না হয়, অবরোধ কর্মসূচি চলবে।

    অবরোধের কারণে শাহবাগ ও আশপাশের এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে।

  • জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে কী লিখলেন তারেক রহমান

    জাতীয় স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইতে কী লিখলেন তারেক রহমান

    সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে একাত্তরের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। পরে বাসে বসে তিনি পরিদর্শন বইয়ে সাক্ষর করেন। নিজের পরিচয় হিসেবে লিখেন ‘রাজনৈতিক কর্মী’।

    শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৪ মিনিটে স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এরপর শহীদ বেদির সামনে গিয়ে দাঁড়িয়ে থেকে শ্রদ্ধা জানান। এ সময় দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন তিনি ও তার সঙ্গে আসা অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

    জাতীয় স্মৃতিসৌধ শ্রদ্ধা শেষে উপস্থিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সবার উদ্দেশ্য বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, রাস্তায় জনস্রোতের মধ্যে আসতে দেরি হয়েছে। এতটা সময় আপনারা অপেক্ষা করেছেন আমি আপনাদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

    এর পরপরই তিনি স্মৃতিসৌধের বেদির স্থান ত্যাগ করে তাকে বহনকারী বাসে উঠে যান। পরে ১০টা ৩৭ মিনিটের দিকে গাড়িতে বাসেই বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাতীয় স্মৃতিসৌধে পরিদর্শন বইতে স্বাক্ষর করেন।

    এসময় পরিদর্শন বইয়ে তারিখের জায়গায় বাংলায় আজকের ২৮-১২-২০২৫ তারিখ লেখেন। নামের স্থলে নিজের নাম তারেক রহমান লেখেন। এরপর নিজের পরিচয়ের স্থলে লেখেন, ‘রাজনৈতিক কর্মী’।

    আর মন্তব্যের স্থলে তিনি লেখেন, ১৯৭১ এর শহীদের প্রতি জাতি চির কৃতজ্ঞ। তাদের আত্মার প্রতি আল্লাহর দরবারে মাগফেরাত কামনা করি। জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।

    রাত ১০টা ৩৪ মিনিটের দিকে তাকে বহনকারী বাসটি স্মৃতিসৌধের ফটক ত্যাগ করে।

  • আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের

    আজ যেসব কর্মসূচি রয়েছে তারেক রহমানের

    আজ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারতে যাবেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বেলা ১১টায় তিনি সেখানে যাবেন। এ সময় তার সঙ্গে থাকবেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সিনিয়র নেতারা।

    শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিএনপির মিডিয়া সেল এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

    কবর জিয়ারত শেষে তারেক রহমান নির্বাচন কমিশনে গিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন কার্যক্রমে অংশ নেবেন।

    এরপর তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের খোঁজখবর নিতে রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতাল পরিদর্শনে যাবেন বলেও দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

    এর আগে বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শনিবার নির্বাচন কমিশনে গিয়ে ভোটার নিবন্ধন আবেদন করবেন তারেক রহমান। গত সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দীনের সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ এতথ্য জানান।

    সালাহউদ্দিন বলেন, শনিবার নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় খোলা থাকবে এবং ওইদিনই তারেক রহমান ভোটার হওয়া, ভোটার আইডি ও জাতীয় পরিচয়পত্র সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন

  • শীতে কাঁপছে সারা দেশ, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

    শীতে কাঁপছে সারা দেশ, তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা

    পৌষের প্রথম দিকেই শীতে কাঁপছে গোটা দেশ। বিশেষ করে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলে জনজীবন রীতিমতো বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশার প্রভাবে দিনের বেলাতেও যানবাহন চলাচল করতে হচ্ছে হেডলাইট জ্বালিয়ে। তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় তীব্র শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষ।

    বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে কুয়াশার কারণে মেঘনা নদীতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের সংঘর্ষে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

    বর্তমানে দেশের সাতটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এসব জেলার মধ্যে রয়েছে চুয়াডাঙ্গা, যশোর, গোপালগঞ্জ, রাজশাহী, পাবনা, সিরাজগঞ্জ ও নীলফামারী। শুক্রবার চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে সর্বশেষ আজ শনিবার সকালে যশোরে সর্বনিম্ন ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, হালকা থেকে ঘন কুয়াশার প্রকোপ আরও অন্তত পাঁচ দিন অব্যাহত থাকবে। এর ফলে নৌ, সড়ক ও বিমান চলাচল সাময়িকভাবে ব্যাহত হতে পারে। একই সঙ্গে জানুয়ারির শুরু থেকে শীতের তীব্রতা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, ২৬ ডিসেম্বর থেকে ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত মধ্যরাত থেকে সকাল সময়জুড়ে সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায় এই কুয়াশা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। পাশাপাশি সাত জেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া মৃদু শৈত্যপ্রবাহ কিছু এলাকায় অব্যাহত থাকার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন ও সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম দিন পর্যন্ত দেশের নদী অববাহিকা অঞ্চলে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা এবং অন্যান্য এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি ধরনের কুয়াশা পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    ২৬ ডিসেম্বর সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে যশোরে, যা ছিল ৯ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে চুয়াডাঙ্গায় ৯ দশমিক ৬, গোপালগঞ্জে ৯ দশমিক ৮ এবং পাবনার ঈশ্বরদীতে ১০ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। এদিন দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা রেকর্ড করা হয়েছে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায়।

    আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক গণমাধ্যমকে জানান, কুয়াশার এই প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকতে পারে এবং জানুয়ারির শুরুতে শীতের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

    তিনি আরও জানান, দেশের অভ্যন্তরের জলাধার, বিল ও হাওর থেকে উৎপন্ন কুয়াশা, বিকিরণজনিত কুয়াশা, পাহাড়ি এলাকায় সৃষ্ট কুয়াশা এবং ভারতের উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে বায়ুতাড়িত কুয়াশা প্রবেশ করায় সামগ্রিকভাবে কুয়াশার ঘনত্ব বেড়েছে। এই কুয়াশা মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলে অবস্থান করায় সূর্যের আলো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, ফলে ঠান্ডার অনুভূতিও আরও তীব্র হয়ে উঠছে।

    শনিবার ভোর থেকে কুয়াশার চাদরে ঢাকা পড়ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন সড়ক-মহাসড়ক ও ফসলের মাঠ। হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলছে যানবাহন। প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না অনেকেই। ঘন কুয়াশার কারণে পাটুরিয়া দৌলতদিয়া ও আরিচা কাজিরহাট নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে সন্ধ্যা নামলেই। রাজধানীসহ সারা দেশের আটটি বিভাগের ওপরই বয়ে চলেছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ। গতকাল শুক্রবার যশোরে চলতি মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ ডিগ্রি।

    উত্তরের জেলাগুলোর অবস্থা আরো করুণ। গত তিন দিনে শৈত্যপ্রবাহের তীব্র শীত আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কয়েকটি জেলার জনজীবন। দুর্ভোগ পোহাচ্ছে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয় নেওয়া ছিন্নমূল ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। বেশি অসুবিধায় পড়েছেন ছোট বাচ্চা ও বয়োবৃদ্ধরা। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্র না থাকায় ঘর থেকে বের হচ্ছেন না গরিব অসহায় মানুষ। সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে হিমালয় থেকে আসা হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে। ঘন কুয়াশা আর হাড়-কাঁপানো শীতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। দিনেও স্বস্তি নেই, আর রাত নামলেই প্রকৃতি যেন আরো কঠোর হয়ে ওঠে।