Author: তরঙ্গ টিভি

  • শিক্ষাবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা তেজগাঁও কলেজের অবকাঠামো।

    শিক্ষাবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা তেজগাঁও কলেজের অবকাঠামো।

    ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত তেজগাঁও কলেজ, ৬০ বছরেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে চলেছে। ১৯৬১ সালের ২২ ডিসেম্বর, বুড়িগঙ্গার তীরে ইসলামিয়া হাই স্কুলের ক্যাম্পাসে “ঢাকা নাইট কলেজ” নামে এই প্রতিষ্ঠানের যাত্রা শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে রাতের ক্লাসের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রদান করাই ছিল এর লক্ষ্য। ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত কলেজটি ফার্মগেটের আল-রাজী হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় স্থানান্তরিত হয় এবং সেই সময়েই “ঢাকা নাইট কলেজ” থেকে “তেজগাঁও কলেজ” নামে পুনঃনামকরণ করা হয়। পরবর্তীতে, ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের পর, তৎকালীন অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ এবং শিক্ষামন্ত্রী মফিজ উদ্দীন আহমেদের প্রচেষ্টায় কলেজটি তেজগাঁও শিল্প এলাকার আসাদুল হকের ক্রাউন লন্ড্রিতে স্থানান্তরিত হয়, যেখানে আজকের স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে উঠেছে।

    প্রতিষ্ঠার সহায়ক ব্যক্তিত্ব:
    কলেজের প্রতিষ্ঠায় যাঁরা মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের মধ্যে প্রথমেই উল্লেখ করতে হয় তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী শফিকুল ইসলামকে, যিনি প্রতিষ্ঠানের প্রথম সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। মাওলানা আবুল খায়েরের নিরলস কর্মপ্রচেষ্টা ছাড়া এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে উঠতে পারত না; তিনি শিক্ষার প্রসারে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। অধ্যক্ষ আমিনুল ইসলাম, অধ্যক্ষ তোফায়েল আহমেদ, অধ্যক্ষ আব্দুর রশীদ এবং অধ্যক্ষ মোঃ আনোয়ার হোসেনের মতো শিক্ষাবিদরা বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্ব দিয়ে কলেজটিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত একটি বৃহৎ বেসরকারি কলেজে পরিণত করেছেন। এছাড়াও, প্রফেসর আব্দুল বাকি, প্রফেসর রাহুনুর রহমান, প্রফেসর শাহেদুল হক এবং সহযোগী প্রফেসর সোলাইমান চৌধুরী সহ অনেক শিক্ষক-শিক্ষিকা কলেজের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন।

    নামকরণের স্বার্থকতা:
    “তেজগাঁও” নামটি শুধু একটি ভৌগোলিক নির্দেশক নয়; এটি কলেজের আকাশচুম্বী লক্ষ্য ও অগ্রগতির প্রতীক। তেজগাঁও শিল্প এলাকায় অবস্থিত হওয়ায়, এই নামটি শিক্ষার্থীদের শিল্প ও বাণিজ্যের জগতে প্রবেশের সেতু হিসেবে কাজ করে। “কলেজ” শব্দটি যুক্ত হওয়ায় শিক্ষার উচ্চ মান ও আধুনিকতার প্রতি প্রতিশ্রুতি প্রকাশ পায়। ফলে, নামটি প্রতিষ্ঠানের উদ্দেশ্য, অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ দৃষ্টিভঙ্গিকে সুন্দরভাবে ধারণ করে।

    বর্তমান অবস্থা ও অবদান:
    আজ তেজগাঁও কলেজে চারটি অনুষদের অধীনে ৩০টিরও বেশি বিভাগ রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৮ হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা সংখ্যা ২৫০-এর বেশি, এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তা ২০ জনেরও অধিক। কলেজটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হওয়ার পর থেকে শিক্ষা ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখে চলেছে, বিশেষ করে বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও মানবিক বিভাগে। সামাজিক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, বিতর্ক, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৪টি বিদেশী অস্ত্রসহ বিপুল গোলাবারুদ জব্দ।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির বিশেষ অভিযানে ৪টি বিদেশী অস্ত্রসহ বিপুল গোলাবারুদ জব্দ।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি) এর অভিযানে ৪টি ইউএসএ প্রস্তুতকৃত বিদেশি অস্ত্র ও ২৪ রাউন্ড গুলি এবং ৯ টি ম্যাগাজিন জব্দ করেছে। ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদীকে গত ১২ ডিসেম্বর গুলি করাকে কেন্দ্র করে ৫৩ বিজিবি কর্তৃক সীমান্ত এবং দায়িত্বপূর্ণ এলাকা বিশেষ টহল,চেকপোস্ট স্থাপন এবং গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

    সম্প্রতি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকা দিয়ে দুষ্কৃতিকারীরা বাংলাদেশ অভ্যন্তরে বিশৃংখলা পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে বেশ কিছু পরিমাণ অস্ত্র প্রবেশে পরিকল্পনা করবে বলে গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে ৫৩ বিজিবি। এরই ধারাবাহিকতায় উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ান ৫৩ বিজিবির অধীনে মনোহরপুর বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সীমান্ত হতে আনুমানিক ১ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গোপালপুর নামক স্থানে একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।

    অভিযান পরিচালনাকালে দুজন মোটরসাইকেল আরোহীকে দূর থেকে থামতে বললে মোটরসাইকেল আরোহীরা দ্রুততম পালিয়ে যাওয়ার সময় একটি ব্যাগ পড়ে যায়। বিজিবি টহলকারীরা মোটরসাইকেল থেকে পড়ে যাওয়া ব্যাগটি উদ্ধার করতঃ কালো পলিথিনে মোড়ানো ৪ টি অস্ত্রসহ বিপুল গোলাবারুদ জব্দ করে। দুষ্কৃতিকারীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বড় ধরনের নাশকতা পরিস্থিতির সৃষ্টি লক্ষ্যে অবৈধ পথে অস্ত্র ও গোলাবারুদ আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও অপরাধ দমনে নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে এ অভিযান পরিচালনা করে আসছে।

    ৫৩ বিজিবি এই অভিযানের সময় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। বিজিবি সব সময় তৎপর রয়েছে এবং আমাদের সকল সদস্য পেশা দায়িত্বের সাথে সংকল্পবদ্ধ। অস্ত্র গোলাবারুদ চোরাচালান প্রতিরোধ ও দুষ্কৃতিকারীদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবি কর্তৃক সার্বক্ষণিক সীমান্ত এলাকায় কঠোর গোয়েন্দা নজরদারী ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটেলিয়ন (৫৩ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুস্তাফিজুর রহমান জানায়, সীমান্ত এলাকায় অস্ত্র পাচার রোধ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আমাদের সার্বক্ষণিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে। জব্দকৃত অস্ত্র ও গুলি পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রস্তুতি চলছে। এ বিষয়ে স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি প্রকাশ করে বলা হয়, বিজিবির তৎপরতায় সীমান্ত এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড অনেকটাই কমে আসবে ।

  • ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ৭ সদস্যকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের

    ভারত-সমর্থিত সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ৭ সদস্যকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের

    পাকিস্তানের উত্তরপশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযানে (আইবিও) ভারত–সমর্থিত ফিতনা আল-খাওয়ারিজ গোষ্ঠীর ৭ সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছেন দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। সোমবার খাইবার পাখতুনখোয়ার ডেরা ইসমাইল খান জেলায় ওই অভিযানে দেশটির সেনাবাহিনীর এক সদস্যও নিহত হয়েছেন।

    দেশটির সামরিক বাহিনীর আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ফিতনা আল-খাওয়ারিজ গোষ্ঠীর উপস্থিতির খবরে নিরাপত্তা বাহিনী ডেরা ইসমাইল খান জেলার কুলাচি এলাকায় ওই অভিযান পরিচালনা করেছে।

    বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযান চলাকালে আমাদের সৈন্যরা খারিজিদের অবস্থানে কার্যকর হামলা চালিয়েছেন। এ সময় উভয় পক্ষের মাঝে তীব্র গোলাগুলি হয়। এতে অন্তত সাত খারিজি নিহত হয়েছেন।

    পাকিস্তানের আইএসপিআর বলেছে, তীব্র গোলাগুলির সময় ৩৪ বছর বয়সী নায়েক ইয়াসির খান সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করে চূড়ান্ত আত্মত্যাগ ও শাহাদাত বরণ করেন। নিহত খারিজিদের কাছ থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতরা ওই এলাকায় একাধিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

    দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী বলেছে, ওই এলাকায় ভারতীয় মদদপুষ্ট সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে তল্লাশি অভিযান চলছে। আইএসপিআর বলেছে, ‘আজম-ই-ইস্তেহকাম’ ভিশনের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বিভিন্ন সংস্থার সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পূর্ণ গতিতে চলবে; যাতে বিদেশি মদদপুষ্ট ও সমর্থিত সন্ত্রাসবাদের অভিশাপ দেশ থেকে নির্মূল করা যায়।

    ২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর থেকে পাকিস্তানে সন্ত্রাসী হামলা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দেশটির সীমান্তবর্তী খাইবার পাখতুনখাওয়া ও বেলুচিস্তান প্রদেশে প্রায় প্রতিনিয়ত হামলার ঘটনা ঘটছে।

    আফগান ভূখণ্ড যেন পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত না হয়, তালেবান সরকারের প্রতি সেই আহ্বান জানিয়ে আসছে ইসলামাবাদ। এ ইস্যুতে সম্প্রতি উভয় দেশের মাঝে উত্তেজনা ব্যাপক বেড়েছে। এই ঘটনায় উভয় দেশের সৈন্যরা একাধিকবার পাল্টাপাল্টি আন্তঃসীমান্ত হামলাও চালিয়েছে।

    সম্প্রতি কাবুল বিশ্ববিদ্যালয়ে আফগানিস্তানের আলেমদের এক বৈঠকে জোর দিয়ে বলা হয়, দেশের ভূখণ্ডকে অন্য কোনও রাষ্ট্রকে হুমকি কিংবা ক্ষতি করার কাজে ব্যবহার করা যাবে না। ইসলামাবাদ এ প্রস্তাবকে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ হিসেবে স্বাগত জানালেও বলেছে, অতীতেও এ ধরনের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। কিন্তু আফগান তালেবান সরকার সেসব রক্ষা করেনি।

  • সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে সরকার

    সাংবাদিকদের কল্যাণে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেবে সরকার

    তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ও সামাজিক কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব ধরনের উদ্যোগ নেবে। এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়নের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর সার্কিট হাউজ রোডে তথ্য ভবনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় পর্যায়ের আর্থিক সহায়তার অনুদানের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

    তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি দায়িত্বশীল ও জাতীয় স্বার্থনির্ভর সংবাদ পরিবেশনও অপরিহার্য। দেশের মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় সাংবাদিকদের কর্তব্যনিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে হবে। সরকারের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই সাংবাদিকদের জন্য এ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

    এ সময় তিনি সাংবাদিকদের আর্থিক সহায়তা ভবিষ্যতে সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দেওয়া যায় কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেন। পাশাপাশি সাংবাদিক সমাজ যেন স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিত করার কথাও তিনি উল্লেখ করেন।

    বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সম্প্রচার ও প্রেস) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক এ. এস. এম. জাহীদ, গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আবদুল জলিল, প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফ এবং চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক খালেদা বেগমসহ সাংবাদিক নেতারা।

    অনুষ্ঠানে দুইজন মৃত সাংবাদিকের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ৬ লাখ টাকা, ১১৪ জন সাংবাদিককে চিকিৎসা ব্যয় বাবদ ৬৯ লাখ টাকা এবং ৫২ জন অসচ্ছল সাংবাদিকের মধ্যে ২৬ লাখ টাকার মোট ১ কোটি ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।

    এরপর উপদেষ্টা, গণযোগাযোগ অধিদপ্তর, চলচ্চিত্র ও প্রকাশনা অধিদপ্তর, চলচ্চিত্র সার্টিফিকেশন বোর্ড, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্ট এবং প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ পরিদর্শন করেন।

  • বিজয় দিবস উদযাপন পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগানের ক্ষতি করা যাবে না

    বিজয় দিবস উদযাপন পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগানের ক্ষতি করা যাবে না

    মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদযাপন উপলক্ষ্যে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণকালে স্মৃতিসৌধের ফুলের বাগানের কোনোরূপ ক্ষতি করা যাবে না।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সরকারি এক তথ্য বিবরণীতে এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে।

    আরেক তথ্য বিবরণীতে বলা হয়, মহান বিজয় দিবস-২০২৫ উদ্‌যাপন উপলক্ষ্যে ঢাকার গাবতলী থেকে সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ পর্যন্ত সড়কে কোনো ধরনের পোস্টার, ব্যানার ও ফেস্টুন লাগানো যাবে না।

    মহান বিজয় দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকার তেজগাঁও পুরাতন বিমানবন্দরে সকাল ১০টায় জমকালো এয়ার শো অনুষ্ঠিত হবে। এয়ার শো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলেও তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়েছে।

  • মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যায় ব্যবহৃত সেই ছুরিও ছিল চুরি করা

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যায় ব্যবহৃত সেই ছুরিও ছিল চুরি করা

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে চুরি ধরে ফেলায় মা ও মেয়েকে হত্যায় ব্যবহৃত সুইচ গিয়ারটিও ছিল চুরি করা। এই ঘটনার আগে ঘাতক গৃহকর্মী আয়েশা একইভাবে অন্য একটি বাসা থেকে চাকুটি চুরি করেছিল বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা।

    পুলিশ ও একাধিক সূত্রে জানা যায়, গত ৮ ডিসেম্বর সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যবর্তী সময়ে মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় কুপিয়ে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও নবম শ্রেণির ছাত্রী মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় লায়লার স্বামী আ জ ম আজিজুল ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।

    ঘটনার দুই দিন পর ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় আয়েশার স্বামী জামাল শিকদার ওরফে রাব্বি শিকদারের দাদাবাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতে তোলা হলে গৃহকর্মী আয়েশার ৬ দিন ও তার স্বামী রাব্বি শিকদারের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা

    রিমান্ড শেষে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা-পরবর্তী সময়ে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে আয়েশা। অপরদিকে আদালতে রাব্বি দাবি করেছে, সে জানত তার স্ত্রী আয়েশা সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কর্মচারী। কিন্তু মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার পর রাব্বি প্রথমবার জানতে পারে, তার স্ত্রী গৃহকর্মীর কাজ করে।

    আদালতে রাব্বি আরও বলেছে, রাব্বি পেশায় একজন নিরাপত্তাকর্মী। সে হেমায়েতপুর এলাকায় রাত্রিকালীন নিরাপত্তার কাজ করত এবং দিনে ঘুমাত। পাশাপাশি, স্ত্রী বাইরে কাজ করায় দুই বছরের সন্তানকে দেখাশোনা করত। মোহাম্মদপুরের লায়লা আফরোজ ও তার মেয়ে নাফিসাকে হত্যার দিনে সে ফেসবুকের মাধ্যমে ঘটনাটি দেখেছে। কিন্তু এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর তার স্ত্রী জড়িত— এটা জেনেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন রাব্বি। মা ও মেয়েকে ছুরিকাঘাতে হত্যার সময়ে ধস্তাধস্তিতে স্ত্রী আয়েশার হাত কেটে যায়। কাটা হাত নিয়ে বাসায় যাওয়ার পর ঘটনার বিস্তারিত জেনে প্রথমে তার হাতের চিকিৎসা করান রাব্বি। পরবর্তী সময়ে স্ত্রীকে নিয়ে সদরঘাট চলে আসেন। এই এলাকায় এসে স্ত্রী আয়েশার চুরি করে আনা একটি ল্যাপটপ পাঁচ হাজার টাকায় বিক্রি করে দেন। পরে সদরঘাট থেকে লঞ্চে করে বরিশাল যান। সেখান থেকে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় দাদাবাড়িতে গিয়ে আত্মগোপন করেন।

    মা ও মেয়েকে হত্যায় জড়িত ঘাতক আয়েশা ৬ দিনের রিমান্ডে পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রিমান্ডের চতুর্থ দিন চলছে।

    মোহাম্মদপুর থানার একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রিমান্ডে থাকা আয়েশা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। দুটি জীবন কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় আয়েশা এখন অনুশোচনায় ভুগছেন। তিনি ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছেন না। রিমান্ড চলাকালে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকায় তাকে বাড়তি নজরদারিতে রাখা হয়েছে।

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, গৃহকর্মী পলাতক

    গৃহকর্মীর জোড়া হত্যায় ব্যবহৃত অত্যাধুনিক ধারালো সুইচ গিয়ারটির উৎস সম্পর্কে নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, এই সুইচ গিয়ারটিও চুরি করা। মোহাম্মদপুরের হুমায়ুন রোডে একটি বাসায় একই কায়দায় কাজ নেয় আয়েশা। পরবর্তী সময়ে সেই বাসায় এই চাকুটি পায় সে। পরে এই চাকু ব্যবহার করে ওই বাসার আলমারির তালা ভেঙে ২০ হাজার টাকা চুরি করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দিলে পুলিশ তাকে আটক করে।

    পরবর্তী সময়ে চুরি করা টাকা ফেরত দিয়ে সে যাত্রায় রক্ষা পায় আয়েশা। যদিও সুইচ গিয়ারটি নিজের কাছে রেখে দেয়, যা দিয়ে মা ও মেয়েকে নির্মমভাবে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন তিনি।

    গৃহকর্মীর আড়ালে পেশাদার চোর আয়েশা

    মোহাম্মদপুর থানা সূত্রে জানা গেছে, আয়েশা গৃহকর্মীর আড়ালে পেশাদার চোর। বিভিন্ন বাসায় কাজ নিয়ে প্রবেশ করে চুরি করত। ২০২৪ সাল থেকে গত ৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি বাসায় চুরি করেছে। এমনকি তার বোনের বাসা থেকেও নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার চুরি করেছে। এতোগুলো ঘটনার মধ্যে মোহাম্মদপুর থানায় একবার সে আটক হয়েছিল।

    আয়েশা ও রাব্বির পরিবার সাভারে থাকলেও চুরির সুবিধার্থে আয়েশা জেনেভা ক্যাম্পে ভাড়া থাকত।

    ক্যাম্প সূত্রে জানা গেছে, জেনেভা ক্যাম্পের ৭ নম্বর ব্লকের একটি বাসায় ভাড়া থাকা অবস্থায় চুরি করে ধরা খায় আয়েশা। সেই বাসা থেকেও তাকে মারধর করে বের করে দেওয়া হয়েছিল।

    যা জানালেন তদন্ত কর্মকর্তা

    আলোচিত এ জোড়া খুনের মামলা তদন্ত করছেন মোহাম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ওসমান মাসুম। বাসা থেকে চুরি যাওয়া মালামাল উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনার দিন বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি স্মার্টফোন ও একটি বাটন ফোন চুরি হয়। এছাড়া এক জোড়া চুড়ি ও একটি গলার চেইন গায়েব হয়। হত্যার পরে নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে ও ব্যাগ নিয়ে আয়েশা বের হয়ে যায়। ঘটনা জানাজানি হলে আয়েশার স্বামী মোবাইল, নাফিসার স্কুল ড্রেস ও বোরকা ব্যাগ ভর্তি করে নদীতে ফেলে দেন, তাই উদ্ধার সম্ভব হয়নি।

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা : গৃহকর্মী ৬ দিন, স্বামী ৩ দিনের রিমান্ডে

    তিনি আরও বলেন, সদরঘাট এলাকায় বিক্রি করে দেওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এর আগে গ্রেপ্তার অভিযানে তাদের কাছ থেকে এক জোড়া চুড়ি ও চেইন উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

    এদিকে মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনাটি শুরু থেকেই ক্লুলেস ছিল। যদিও পরে চাঞ্চল্যকর মা-মেয়ে হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। এই ঘটনায় রাব্বি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামি আয়েশা প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছে। আশা করি সে আদালতে এই একই জবানবন্দি দেবে।

    এসআই আরও জানান, ২০১৭ সালে আয়েশা নিজের গায়ে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। তখনও সে হেমায়েতপুর এলাকায় থাকত।

  • এখনো ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর

    এখনো ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিক আনিস আলমগীর

    সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে আটকের পর ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাকে এখনো কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তিনি বর্তমানে ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, তাকে এখনো কোনো মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি। তিনি ডিবি কার্যালয়ে রয়েছেন। তবে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ‌উনার বিরুদ্ধে মামলা হলে গ্রেপ্তার দেখানো হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

    এদিকে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওনসহ মোট চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে উত্তরা পশ্চিম থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি। অভিযোগে নাম আসা অপর দুইজন হলেন মডেল মারিয়া কিসপট্টা ও ইমতু রাতিশ ইমতিয়াজ।

    এর আগে রোববার (১৪ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্সের কেন্দ্রীয় সংগঠক আরিয়ান আহমেদ রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় এ অভিযোগ দেন।

    তিনি বলেন, রোববার রাত আড়াইটার পরে আমি একটা অভিযোগ পেয়েছি। এটা মূলত সাইবার–সংক্রান্ত বিষয়ে অভিযোগ, রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অপপ্রচার এই আরকি। ঊর্ধ্বতন স্যারদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই অভিযোগ এখনো মামলা হিসেবে নথিভুক্ত হয়নি।

    এদিকে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধানমণ্ডি এলাকার একটি ব্যায়ামাগার থেকে সাংবাদিক আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

  • স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে শাহবাগ অবরোধ

    স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে শাহবাগ অবরোধ

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হামলাকারীদের গ্রেপ্তারে ব্যর্থতার দায়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ চেয়ে রাজধানীর শাহবাগ অবরোধ করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বেলা ১২টায় তারা রাজধানীর শাহবাগ মোড়ে রাস্তা অবরোধ করেন। অবরোধের কারণে রাস্তায় যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।

    অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো.মনিরুজ্জামান বলেন, ছাত্র শক্তি নামে একটি সংগঠন শাহবাগে রাস্তা অবরোধ করেছে। তারা হাদির ওপর হামলা ও আসামি গ্রেপ্তার না হওয়ার কারণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করছেন। এছাড়া তারা অভিযোগ করছেন দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে।

    তাদের অবরোধের কারণে শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল আপাতত বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সদস্যরা সক্রিয় রয়েছে।

    ওসমান হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক এবং অভ্যুত্থান-অনুপ্রাণিত সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন ‘ইনকিলাব মঞ্চে’র মুখপাত্র। তিনি ঢাকার ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে স্বত্রন্ত্র প্রার্থী হবেন বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন হাদি এবং এ লক্ষ্যে নিয়মিত গণসংযোগ করছিলেন তিনি।

    গত ১২ ডিসেম্বর (শুক্রবার) জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে করে আসা দুই আততায়ীর একজন চলন্ত রিকশায় থাকা ওসমান হাদির মাথায় গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন আছেন হাদি। তার অবস্থা বেশ সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

    হাদির ওপর হামলাকারী ২ আততায়ীর একজন সন্দেহভাজন ‘ফয়সাল করিম’ তার সঙ্গেই কিছুদিন ধরে নির্বাচনী প্রচার কাজে যুক্ত ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাকে সন্দেহভাজন হামলাকারী ধরে নিয়ে নাগরিকদের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। এই ফয়সাল করিম নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার নেতা ছিলেন।

  • এলাকায় সহজ-সরল হান্নান, ছিলেন না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত

    এলাকায় সহজ-সরল হান্নান, ছিলেন না কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত

    রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট এলাকায় প্রকাশ্যে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নান (৪৩)। তার বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের সদর উপজেলায়। তবে ঢাকায় তার গ্রেপ্তারের খবরে হতবাক হয়েছেন এলাকাবাসী।

    র‍্যাব জানায়, ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর (ঢাকা মেট্রো-ল-৫৪-৬৩৭৫) শনাক্ত করা হয়। পরে বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাই করে মোটরসাইকেলটির মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানের নাম পাওয়া যায়।

    র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, রোববার (৪ ডিসেম্বর) সকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে আব্দুল হান্নানকে আটক করে র‍্যাব-২। আটক করার পর আজ সকালেই তাকে পল্টন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

    হান্নানের বাড়িতে গিয়ে জানা যায়, প্রায় ৪০ বছর আগে হান্নানের পিতার সঙ্গে তার মায়ের তালাক হয়। এরপর থেকেই সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা এলাকার মধ্যপাড়ায় নানার বাড়িতে ছোট ভাই সোহেলকে নিয়ে বসবাস শুরু করেন তার মা মোসা: ফুরকান। ফুরকান বেগম এলাকায় কাজ করে দুই ছেলেকে বড় করেন। হান্নান ও তার ভাই সোহেল প্রথমে এলাকাতেই রাজমিস্ত্রীর কাজ করতেন। পরে ঢাকায় গিয়ে কন্ডাক্টরের কাজ শুরু করেন এবং পরিবার নিয়ে সেখানেই বসবাস করেন। মাঝে মধ্যে কিংবা দুই ঈদে তিনি বাড়িতে আসতেন। কিছুদিন আগে মায়ের চোখের অপারেশনের জন্য তাকে ঢাকায় নিয়ে যান, এরপর থেকে হান্নানের মা-ও ঢাকায় বসবাস করছেন।

    হান্নানের মামি শওকত আরা বলেন, হান্নানের মাকে অনেক আগেই তার বাবা তালাক দিয়েছিল। পরে ছোট ছোট ছেলে নিয়ে এসে আমরাই এখানে মানুষ করেছি। গ্রামে কাজ করে তার মা সাংসার চালিয়েছে। ঢাকায় থাকতে থাকতে হান্নান কন্ডাক্টরের কাজ শিখেছে। সে একটি হোন্ডা মোটরসাইকেল নিয়েছিল এবং পরে তা বিক্রি করে দেয়। কিন্তু হোন্ডার নাম কাটানো হয়নি। এ কারণেই ছেলেকে ধরে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত চাই। তাজেমুল নামের এক বাসিন্দা বলেন, ছোটবেলায় হান্নানের বাবা-মা আলাদা হয়ে যায়। এরপর তার মা মামাদের কাছে এনে কষ্ট করে হান্নানকে বড় করেছে। বড় হয়ে সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত। রাজমিস্ত্রীর কাজ করতে করতেই কন্ডাক্টরের কাজ শুরু করে। এলাকায় হান্নান খুবই ভালো ছেলে। কোনো কাইজ্জা-ফ্যাসাদের (ঝগড়া) সঙ্গে সে যুক্ত নয় এবং তার মামারাও ভালো মানুষ। পরে আমরা শুনছি, সে নাকি ধরা পড়েছে। সে কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং কিছুদিন আগেই তার মাকে নিয়ে ঢাকায় চলে গেছে। সে পরিবার নিয়েই ঢাকায় থাকে।

    বাগডাঙ্গা সুন্দরপুর ইসলামিয়া হাফেজিয়া ও নূরানী মাদ্রাসার শিক্ষক গোলাম আরিফ বলেন, আব্দুল হান্নান নিরীহ ছেলে। সে কোনো প্রকার অপরাধের সঙ্গে জড়িত নয়। যতটুকু দেখেছি, সে রাজমিস্ত্রীর কাজ করত। অভিজ্ঞতা হওয়ার পর ঢাকায় কন্ডাক্টরের কাজ করে। আমরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

    সুন্দরপুর ইউনিয়নের ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. নুরুল ইসলাম বলেন, হান্নান ঢাকায় কন্ডাক্টরের কাজ করে। আজ থেকে ১০-১৫ বছর আগেই সে ঢাকায় থাকতে শুরু করে। ছেলেটার কোনো দোষ আমরা দেখতে পাই না। বছরে দুই-তিনবার গ্রামে আসে। সে ও তার পরিবার কোনো দল-পার্টির সঙ্গে জড়িত নয়।

    তিনি আরও বলেন, এখন যে ঘটনাটি শুনছি, তা শুনে আমরা রীতিমতো হতবাক। সে সহজ-সরল ছেলে। তার কোনো মোটরসাইকেলের ব্যবসাও ছিল না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মো. একরামুল হক বলেন, আমরা বিষয়টি শুনেছি। তার বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। পরে বিস্তারিত জানানো হবে।

  • সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে এভারকেয়ার ছাড়লেন ওসমান হাদি

    সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে এভারকেয়ার ছাড়লেন ওসমান হাদি

    উন্নত চিকিৎসার জন্য গুলিবিদ্ধ জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হচ্ছে।

    সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তাকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে বের করে নেওয়া হয়।

    হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আজ বেলা ১১টা ২২ মিনিটে সিঙ্গাপুর থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে।

    দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে শরিফ ওসমান হাদিকে বহন করে সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করার কথা রয়েছে।

    ওসমান হাদি ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য প্রার্থী। গত শুক্রবার দুপুরে ঢাকার পল্টন এলাকায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।