Author: তরঙ্গ টিভি

  • **টরন্টোয় চট্টগ্রামের মেজবান: বরফজমা শহরের বুকে মায়ামাখা মাটির গন্ধ— প্রবাসীরা বললেন, “আজ আমরা যেন বাড়ি ফিরলাম!”*

    **টরন্টোয় চট্টগ্রামের মেজবান: বরফজমা শহরের বুকে মায়ামাখা মাটির গন্ধ— প্রবাসীরা বললেন, “আজ আমরা যেন বাড়ি ফিরলাম!”*

    টরন্টোতে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা আয়োজিত মেজবান ২০২৫ ছিল যেন প্রবাসের মাটিতে চট্টগ্রামের পুনর্জাগরণ। প্রবাসীদের হৃদয়ে জমে থাকা শেকড়ের টান, মাটির গন্ধ ও ঐতিহ্যের অহংকার যেন একদিনে ফিরে এলো রঙে, গন্ধে, স্বাদে ও আবেগে। বাইরে বরফ পড়ছে, ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছে শহর, অথচ হলের ভেতর ছিল এক অন্য পৃথিবী—উষ্ণতা, মমতা, ভালোবাসা আর উদযাপনে ভরা। শীতের রুক্ষ বৃষ্টি নয়, ঝরে পড়ছিল সাদা বরফের তুলো। রাস্তা ছিল কুয়াশায় ঢাকা, বাতাস ছিল ধারালো ছুরির মতো ঠান্ডা। ২০২৫ সম্প্রতি এক রবিবার। এমন দিনে ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর। কিন্তু সেই দিনটিতে এক অদৃশ্য শক্তি মানুষকে টেনে নিয়ে গেছে এক ঠিকানার দিকে—Chinese Cultural Centre of Greater Toronto—যেখানে সেদিন কানাডার বরফের ভেতর উষ্ণ আগুনের মতো জ্বলে উঠেছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি উৎসব।খবর আইবিএননিউজ ।

    বেলা গড়িয়ে দুপুর নামতেই অতিথিদের ঢল নামে। পরিবার, বন্ধু, শিশু, প্রবীণ—সবার মুখে ছিল হাসি আর আবেগ। প্রবাসজীবনের ক্লান্তি যেন সেদিন পাঁচ ঘণ্টার জন্য ভুলে গিয়েছিল সবাই। তিন হাজার এরও বেশি চট্টগ্রামি এবং বাংলাদেশি অতিথির উপস্থিতি প্রমাণ করল—চাটগাঁর টান ভাষায়, খাবারে, স্মৃতিতে ও হৃদয়ে অটুট। লাইনে দাঁড়িয়ে গল্প করতে করতে কেউ বলছে—“বদ্দা অনে খঅন্ডে?” আরেকজন ফোনে বলছে—“পরিবার নিয়া আইছি, লাইনে আছি।”—এই হাসি, কথোপকথন, ভাষার মিষ্টতা যেন চট্টগ্রামের অলিতে-গলিতে ভেসে যাওয়া সুর হয়ে ফিরে এলো। দুপুর ১২টা বাজতেই দরজা খুলল। চোখে পড়ে লম্বা লম্বা সারি। ভিজে রাস্তা, জমে থাকা বরফ, কড়া ঠান্ডা—কিছুই থামাতে পারেনি মানুষের ঢল। শিশুরা হাত ধরে টেনে এনেছে বাবা-মাকে, তরুণরা দলের পর দল হেসে হেসে ঢুকছে, প্রবীণরা ধীর পায়ে কিন্তু উজ্জ্বল চোখে বলছেন—“মেজবান, বাদ যাইযুম কেনে?” মনে হচ্ছিল এই ঠান্ডা শহরে যেন একদিনের জন্য বসন্ত নেমে এসেছে—হাসি, গল্প, আলাপ, পরিচয়ের গলিঘুঁজি জেগে উঠেছে প্রাণে।

    হল ছিল সাজানো চট্টগ্রামী ঐতিহ্যের রঙে। ব্যানার, সজ্জা, আলো, মানুষের আনাগোনা—মনে হচ্ছিল টরন্টো নয়, আমরা যেন চাটগাঁর সাগরপাড়ের কোনো মহৎ উৎসবে। সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক, কমিটির সদস্যরা সকাল থেকেই কেবল একটি লক্ষ্য নিয়ে ছুটেছেন—প্রতিটি অতিথি যেন হাসিমুখে ফিরে যায়। দরজায় দাঁড়িয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো, খাবারের ধারা বজায় রাখা, প্রবেশ-নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা—সবকিছু তারা করেছেন অবিরাম হাসি ও দায়িত্ববোধ নিয়ে। যত এগোনো যায়, ভেতর থেকে তীব্র মাংসের মেজবানি ঘ্রাণ এসে নাকে লাগে। সেই গন্ধ যেন চাটগাঁর বাড়ির উঠোনে চলে গেলো মানুষকে অচেতন ভাবেই। সাজসজ্জা ছিল চাটগাঁর রঙে—লাল-কালো ব্যানার, ঐতিহ্যবাহী স্টিকার, সংস্কৃতির প্রতীক, বড় বড় অক্ষরে লেখা মেজবান ২০২৫—মনে হচ্ছে যেন সাগরপাড়ের মেলা এসে বাসা বাঁধল টরন্টোর বুকে।সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ বাপসনিউজকে পাঠানো সংবাদে আরো লিখেছেন,হলে প্রবেশ করতেই বেজে ওঠে চিরচেনা কণ্ঠ— “বদ্দা আইছছো না? খঅন্ডে?” এই এক বাক্যে জমে থাকা বরফ ভেঙে যায়, প্রবাসের দীর্ঘ একাকীত্ব এবং ক্লান্তি গলে যায়। কে কোথা থেকে এসেছে তা আর mattered করছিল না। সবাই এক হয়ে গেল—চাটগাঁইয়া পরিচয়ে।

    প্রায় তিন হাজার মানুষের ভিড়। চোখে বিস্ময়—কেউ ছবি তুলছে, কেউ ফেসবুক লাইভ করছে, কেউ দূরদেশে থাকা আত্মীয়কে কল দিয়ে বলছে “দেখো, ক্যানাডার মেজবান দেখতাসো?” শিশুদের দৌড়ঝাঁপ, মায়েদের ব্যাগে বাচ্চার খাবার, বাবাদের হাতে গরম কফির কাপ—সব মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য। কেউ কাউকে ঠেলে দেয়নি, কেউ তাড়াহুড়া করেনি—সবাই বরং অপেক্ষার ফাঁকে গল্প করছে, পরিচিতি খুঁজছে, হেসে উঠে বলছে “আপনে কোথায় চাটগাঁ? কাজির দেউড়ি? চৌমুহনী? চকবাজার?”

    সময়ের প্রবাহ নিঃশব্দে গলতে থাকে। ভেতরে তখন খাবারের এক অনন্ত সম্ভার সাজানো। বিশাল টেবিলজুড়ে বাসমতি চালের সাদা ভাত, পাশে ফুটন্ত রসে ভাজা লালচে রঙের মেজবানি বীফ, আরেক পাশে ডাল-মাংসের স্বাদে তুলতুলে গ্রেভি—যা এক চামচ ভাতে মাখালে মনে হয় দুনিয়ার সেরা খাবার। পাশে টাটকা গার্ডেন স্যালাড, ঠান্ডা পানি ও সফট ড্রিংকস, আর শেষে গরম গরম সুগন্ধি চালের পায়েস—যা মুখে দেওয়া মাত্রই শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তারপর চাটগাঁর অতিথিপরায়ণতার শেষ রীতি—এক খিলি মিষ্টি পান সাথে পান মশলা, মিষ্টি ঠোঁটে লেগে থাকে দীর্ঘক্ষণ।

    আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল— ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের বা যাদের গরুর মাংস খাওয়া পছন্দ নয়, বা যারা ছাগলের মাংস ভালোবাসেন তাদের প্রতি সম্মান রেখে আলাদা আয়োজন ছিল। ওদের জন্য ছিল সুগন্ধে ভরা নরম ছাগলের মাংসের কারি, পাশে ছাগলের মাংসের ডাল—যা খেতে খেতে অনেকে বললেন, “এ খাবারের স্বাদ যেন শৈশবের ঈদের দুপুর!” যেন মা রান্না করেছেন, ঘরে বসে খাচ্ছি—এমন অনুভূতিতে ভিজে গিয়েছিল অনেকের চোখ। শুধু খাবার নয়—তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে ছিল স্বতন্ত্র সার্ভিং স্টেশন, আলাদা বসার স্থান, যাতে কেউ অস্বস্তিতে না থাকেন, বরং ভালোবাসা আর সম্মানের উষ্ণতায় উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। সেদিন অনেকেই হাত রাখলেন আমাদের হাতে, বললেন—“আপনারা শুধু মেজবান করেননি, মানুষের পছন্দ-অপছন্দের প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছেন—এটাই আসল আতিথেয়তা।” এই প্রশংসা, এই কৃতজ্ঞতার শব্দ—দিনের শেষে আমাদের হৃদয় ভরে দিয়েছে পরম শান্তিতে।

    খাবার ছিল অসীম—যে যতবার খেতে চায়। এ যেন শুধু আহার নয়—সম্মানের প্রতীক, সম্ভ্রমের ঘোষণা। চাটগাঁর মেজবানি মানেই অতিথি আপ্যায়নের রাজকীয়তা; সেই রাজকীয়তা প্রবাসেও অমোঘ উজ্জ্বল।

    আয়োজকরা তখন ছুটছেন হলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে—কারো প্লেটে ভাত কমে গেছে, কেউ মাংস আরেক চামচ চাচ্ছেন, কোথাও সারি বেড়ে গেছে—স্বেচ্ছাসেবকেরা হাসিমুখে বলছেন, “অনেক খানা আছে, লগে লগে পাইবেন, আফসোস নাই, ন খাই যাইবেন না কেউ।” এই হাসি, এই যত্ন—অতিথিরা বলছিলেন, “দেশে না ফিরেও আজ যেন দেশে আছি।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টরন্টোর মেয়রের প্রতিনিধি, কাউন্সিলরগণ, Scarborough–South East এর MPP, ফেডারেল এমপি এবং প্রবাসী কমিউনিটির নামী-দামি ব্যক্তিত্ব। মঞ্চে তাঁদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছিল গর্ব—চট্টগ্রাম সংস্কৃতি শুধু বেঁচে নেই, বরং প্রবাসে আরও দুর্দান্তভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠছে।

    বিকেল গড়িয়ে ৫টা এলেও মানুষের মন যায়নি। কেউ বিদায় নিচ্ছেন ধীরে ধীরে, আলিঙ্গন করছেন পুরনো বন্ধু, কেউ বলেছেন “পরেরবার আরেকটা আরোও বড় আয়োজন হবে।” কামরায় এখনো ধরে আছে মাংসের ধোঁয়া, মানুষের চিৎকার, শিশুর হাসি। যেন চলে না গিয়েও দিনটি বুকের ভেতরে থেকে গেলো। একজন স্বেচ্ছাসেবক পরে লিখলেন, “আমি সেদিন ছবি তুলতে পারিনি— কিন্তু আমার হৃদয়ে হাজার ছবি জমা আছে।” এই বাক্যই হয়তো ব্যক্ত করে সেই দিনের অনুভূতি। শরীর ভেঙে পড়েছিল অনেকের, ক্লান্তি চোখে-মুখে, তবুও মনে ছিল শান্তি— কারণ অতিথিরা খুশি, মানুষ বলেছে “এটাই সেরা মেজবান,” আর তারাই এই অনুষ্ঠানের সত্যিকারের পুরস্কার।

    মেজবান ২০২৫ ছিল না কেবল একটি অনুষ্ঠান—
    এটি ছিল প্রবাসে চট্টগ্রামের প্রাণের উৎসব, স্মৃতির পুনর্জন্ম, মাটির প্রতি প্রেমের উৎসর্গ। দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও আমরা ভুলিনি আমাদের পরিচয়।
    আমরা অনুভব করেছি— গায়ের রং, ভাষার টান, খাবারের স্বাদ— আমাদের শেকড় আমাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে।

    চট্টগ্রাম আমাদের আবেগ, মেজবান আমাদের অহংকার।
    এই ঐতিহ্য যেন শুধু ইতিহাস না হয়ে ওঠে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে যাক আলোর প্রদীপ হয়ে। টরন্টোর আকাশে সেই দিন যে মায়া ভেসেছিল— তা চিরদিন ভাসুক আমাদের স্মৃতিতে।

    চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা কৃতজ্ঞতা জানায় সব অতিথি, সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক ও মমতায় ভরা মানুষদের। আপনাদের উপস্থিতিই প্রমাণ— চট্টগ্রাম শুধু ভূগোল নয়, চট্টগ্রাম একটি অনুভব।

    বিশেষ কৃতজ্ঞতা — হৃদয়ের গভীর থেকে:
    এই সফলতার মূল ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছেন যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন হাসিমুখে, নিঃস্বার্থভাবে—আমাদের প্রিয় কনভেনর সারোয়ার জামান, যাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, দৃঢ় মনোবল ও দিন-রাত পরিশ্রম না থাকলে এ মেজবান এভাবে স্মরণীয় হয়ে উঠত না। তাঁর দায়িত্ববোধ, সাহস, এবং আবেগ ছিল এই আয়োজনের হৃদস্পন্দন। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সহ-কনভেনর বাহার উদ্দিন বাহার এবং মেজবান কমিটির প্রতিটি সদস্যের প্রতি, যারা নিজের পরিবার, সময়, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ভুলে শুধুমাত্র একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন— “চট্টগ্রামের মুখ উজ্জ্বল করা, প্রবাসে মেজবানকে পৌঁছে দেওয়া হৃদয় ছুঁয়ে।”

    কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই আমাদের সম্মানিত ট্রাস্টি, উপদেষ্টা, এবং সব এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের—
    আপনাদের দিকনির্দেশনা, সমর্থন ও একতাই এই ঐতিহাসিক মেজবানকে করেছে মহিমান্বিত।

    আর সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ প্রতিটি অতিথিকে ।
    আপনাদের উপস্থিতি, হাসি, সহযোগিতা এবং ভালোবাসায় মেজবান ২০২৫ আরও রঙিন, আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আপনারাই প্রমাণ করেছেন— চট্টগ্রাম শুধু একটি জায়গা নয়; এটি একটি অনুভূতি, একটি আত্মপরিচয়।

    চট্টগ্রাম আমাদের আত্মা। মেজবান আমাদের ভালোবাসা।
    এই ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক—হৃদয়ে, প্রবাসে, ইতিহাসে।
    আবার ফিরবো আরও বড় আয়োজন নিয়ে—আরও হাসি, আরও মিলন, আরও মেজবানি নিয়ে। এ ভালোবাসা বেঁচে থাকুক—মেজবান ফিরে আসুক আবারও, আরও জাঁকজমক রুপ নিয়ে। প্রবাসেও আমরা এক, আমরা চাটগাঁইয়া, আমরা মেজবানের উত্তরাধিকারী।সংগঠন ও আয়োজকদের পক্ষ খেকে অতিথিদের শুভেচছা জানিয়েছেন সভাপতি সাহাব সিদ্দিকী বুলবুল ,সাধারন সম্পাদক ড.মঞ্জুরমোর্শেদ ,কোষাধক্ষ সানাথ বডুয়া,সারওয়ার জামান ,বাহাউদ্দিন বহার ,মোহাম্মদ সোলাইমান,মোহাম্মদ আবু তাহের,সাঈদা সেলিনা সারওয়ার,ফারা হোসেন,জাহেদ আহমেদ মানিক,শরিফা কামাল মসি,শামিমা ইয়াসমিন রুমা,কানিজ ফাতিমা এবং কাজী এ বাসিত প্রমূখ ।

    টরন্টোতে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা আয়োজিত মেজবান ২০২৫ ছিল যেন প্রবাসের মাটিতে চট্টগ্রামের পুনর্জাগরণ। প্রবাসীদের হৃদয়ে জমে থাকা শেকড়ের টান, মাটির গন্ধ ও ঐতিহ্যের অহংকার যেন একদিনে ফিরে এলো রঙে, গন্ধে, স্বাদে ও আবেগে। বাইরে বরফ পড়ছে, ঠান্ডা বাতাসে কাঁপছে শহর, অথচ হলের ভেতর ছিল এক অন্য পৃথিবী—উষ্ণতা, মমতা, ভালোবাসা আর উদযাপনে ভরা। শীতের রুক্ষ বৃষ্টি নয়, ঝরে পড়ছিল সাদা বরফের তুলো। রাস্তা ছিল কুয়াশায় ঢাকা, বাতাস ছিল ধারালো ছুরির মতো ঠান্ডা। ২০২৫ সম্প্রতি এক রবিবার। এমন দিনে ঘর থেকে বের হওয়াই কষ্টকর। কিন্তু সেই দিনটিতে এক অদৃশ্য শক্তি মানুষকে টেনে নিয়ে গেছে এক ঠিকানার দিকে—Chinese Cultural Centre of Greater Toronto—যেখানে সেদিন কানাডার বরফের ভেতর উষ্ণ আগুনের মতো জ্বলে উঠেছিল চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মেজবানি উৎসব।খবর আইবিএননিউজ ।

    বেলা গড়িয়ে দুপুর নামতেই অতিথিদের ঢল নামে। পরিবার, বন্ধু, শিশু, প্রবীণ—সবার মুখে ছিল হাসি আর আবেগ। প্রবাসজীবনের ক্লান্তি যেন সেদিন পাঁচ ঘণ্টার জন্য ভুলে গিয়েছিল সবাই। তিন হাজার এরও বেশি চট্টগ্রামি এবং বাংলাদেশি অতিথির উপস্থিতি প্রমাণ করল—চাটগাঁর টান ভাষায়, খাবারে, স্মৃতিতে ও হৃদয়ে অটুট। লাইনে দাঁড়িয়ে গল্প করতে করতে কেউ বলছে—“বদ্দা অনে খঅন্ডে?” আরেকজন ফোনে বলছে—“পরিবার নিয়া আইছি, লাইনে আছি।”—এই হাসি, কথোপকথন, ভাষার মিষ্টতা যেন চট্টগ্রামের অলিতে-গলিতে ভেসে যাওয়া সুর হয়ে ফিরে এলো। দুপুর ১২টা বাজতেই দরজা খুলল। চোখে পড়ে লম্বা লম্বা সারি। ভিজে রাস্তা, জমে থাকা বরফ, কড়া ঠান্ডা—কিছুই থামাতে পারেনি মানুষের ঢল। শিশুরা হাত ধরে টেনে এনেছে বাবা-মাকে, তরুণরা দলের পর দল হেসে হেসে ঢুকছে, প্রবীণরা ধীর পায়ে কিন্তু উজ্জ্বল চোখে বলছেন—“মেজবান, বাদ যাইযুম কেনে?” মনে হচ্ছিল এই ঠান্ডা শহরে যেন একদিনের জন্য বসন্ত নেমে এসেছে—হাসি, গল্প, আলাপ, পরিচয়ের গলিঘুঁজি জেগে উঠেছে প্রাণে।

    হল ছিল সাজানো চট্টগ্রামী ঐতিহ্যের রঙে। ব্যানার, সজ্জা, আলো, মানুষের আনাগোনা—মনে হচ্ছিল টরন্টো নয়, আমরা যেন চাটগাঁর সাগরপাড়ের কোনো মহৎ উৎসবে। সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক, কমিটির সদস্যরা সকাল থেকেই কেবল একটি লক্ষ্য নিয়ে ছুটেছেন—প্রতিটি অতিথি যেন হাসিমুখে ফিরে যায়। দরজায় দাঁড়িয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো, খাবারের ধারা বজায় রাখা, প্রবেশ-নির্গমন নিয়ন্ত্রণ করা—সবকিছু তারা করেছেন অবিরাম হাসি ও দায়িত্ববোধ নিয়ে। যত এগোনো যায়, ভেতর থেকে তীব্র মাংসের মেজবানি ঘ্রাণ এসে নাকে লাগে। সেই গন্ধ যেন চাটগাঁর বাড়ির উঠোনে চলে গেলো মানুষকে অচেতন ভাবেই। সাজসজ্জা ছিল চাটগাঁর রঙে—লাল-কালো ব্যানার, ঐতিহ্যবাহী স্টিকার, সংস্কৃতির প্রতীক, বড় বড় অক্ষরে লেখা মেজবান ২০২৫—মনে হচ্ছে যেন সাগরপাড়ের মেলা এসে বাসা বাঁধল টরন্টোর বুকে।সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ বাপসনিউজকে পাঠানো সংবাদে আরো লিখেছেন,হলে প্রবেশ করতেই বেজে ওঠে চিরচেনা কণ্ঠ— “বদ্দা আইছছো না? খঅন্ডে?” এই এক বাক্যে জমে থাকা বরফ ভেঙে যায়, প্রবাসের দীর্ঘ একাকীত্ব এবং ক্লান্তি গলে যায়। কে কোথা থেকে এসেছে তা আর mattered করছিল না। সবাই এক হয়ে গেল—চাটগাঁইয়া পরিচয়ে।

    প্রায় তিন হাজার মানুষের ভিড়। চোখে বিস্ময়—কেউ ছবি তুলছে, কেউ ফেসবুক লাইভ করছে, কেউ দূরদেশে থাকা আত্মীয়কে কল দিয়ে বলছে “দেখো, ক্যানাডার মেজবান দেখতাসো?” শিশুদের দৌড়ঝাঁপ, মায়েদের ব্যাগে বাচ্চার খাবার, বাবাদের হাতে গরম কফির কাপ—সব মিলিয়ে এক অপরূপ দৃশ্য। কেউ কাউকে ঠেলে দেয়নি, কেউ তাড়াহুড়া করেনি—সবাই বরং অপেক্ষার ফাঁকে গল্প করছে, পরিচিতি খুঁজছে, হেসে উঠে বলছে “আপনে কোথায় চাটগাঁ? কাজির দেউড়ি? চৌমুহনী? চকবাজার?”

    সময়ের প্রবাহ নিঃশব্দে গলতে থাকে। ভেতরে তখন খাবারের এক অনন্ত সম্ভার সাজানো। বিশাল টেবিলজুড়ে বাসমতি চালের সাদা ভাত, পাশে ফুটন্ত রসে ভাজা লালচে রঙের মেজবানি বীফ, আরেক পাশে ডাল-মাংসের স্বাদে তুলতুলে গ্রেভি—যা এক চামচ ভাতে মাখালে মনে হয় দুনিয়ার সেরা খাবার। পাশে টাটকা গার্ডেন স্যালাড, ঠান্ডা পানি ও সফট ড্রিংকস, আর শেষে গরম গরম সুগন্ধি চালের পায়েস—যা মুখে দেওয়া মাত্রই শৈশবের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। তারপর চাটগাঁর অতিথিপরায়ণতার শেষ রীতি—এক খিলি মিষ্টি পান সাথে পান মশলা, মিষ্টি ঠোঁটে লেগে থাকে দীর্ঘক্ষণ।

    আরেকটি বিশেষ মুহূর্ত ছিল— ভিন্ন ধর্মের অনুসারীদের বা যাদের গরুর মাংস খাওয়া পছন্দ নয়, বা যারা ছাগলের মাংস ভালোবাসেন তাদের প্রতি সম্মান রেখে আলাদা আয়োজন ছিল। ওদের জন্য ছিল সুগন্ধে ভরা নরম ছাগলের মাংসের কারি, পাশে ছাগলের মাংসের ডাল—যা খেতে খেতে অনেকে বললেন, “এ খাবারের স্বাদ যেন শৈশবের ঈদের দুপুর!” যেন মা রান্না করেছেন, ঘরে বসে খাচ্ছি—এমন অনুভূতিতে ভিজে গিয়েছিল অনেকের চোখ। শুধু খাবার নয়—তাদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা ভেবে ছিল স্বতন্ত্র সার্ভিং স্টেশন, আলাদা বসার স্থান, যাতে কেউ অস্বস্তিতে না থাকেন, বরং ভালোবাসা আর সম্মানের উষ্ণতায় উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। সেদিন অনেকেই হাত রাখলেন আমাদের হাতে, বললেন—“আপনারা শুধু মেজবান করেননি, মানুষের পছন্দ-অপছন্দের প্রতি যে সম্মান দেখিয়েছেন—এটাই আসল আতিথেয়তা।” এই প্রশংসা, এই কৃতজ্ঞতার শব্দ—দিনের শেষে আমাদের হৃদয় ভরে দিয়েছে পরম শান্তিতে।

    খাবার ছিল অসীম—যে যতবার খেতে চায়। এ যেন শুধু আহার নয়—সম্মানের প্রতীক, সম্ভ্রমের ঘোষণা। চাটগাঁর মেজবানি মানেই অতিথি আপ্যায়নের রাজকীয়তা; সেই রাজকীয়তা প্রবাসেও অমোঘ উজ্জ্বল।

    আয়োজকরা তখন ছুটছেন হলের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে—কারো প্লেটে ভাত কমে গেছে, কেউ মাংস আরেক চামচ চাচ্ছেন, কোথাও সারি বেড়ে গেছে—স্বেচ্ছাসেবকেরা হাসিমুখে বলছেন, “অনেক খানা আছে, লগে লগে পাইবেন, আফসোস নাই, ন খাই যাইবেন না কেউ।” এই হাসি, এই যত্ন—অতিথিরা বলছিলেন, “দেশে না ফিরেও আজ যেন দেশে আছি।”

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টরন্টোর মেয়রের প্রতিনিধি, কাউন্সিলরগণ, Scarborough–South East এর MPP, ফেডারেল এমপি এবং প্রবাসী কমিউনিটির নামী-দামি ব্যক্তিত্ব। মঞ্চে তাঁদের বক্তব্যে ফুটে উঠেছিল গর্ব—চট্টগ্রাম সংস্কৃতি শুধু বেঁচে নেই, বরং প্রবাসে আরও দুর্দান্তভাবে ফুলে-ফেঁপে উঠছে।

    বিকেল গড়িয়ে ৫টা এলেও মানুষের মন যায়নি। কেউ বিদায় নিচ্ছেন ধীরে ধীরে, আলিঙ্গন করছেন পুরনো বন্ধু, কেউ বলেছেন “পরেরবার আরেকটা আরোও বড় আয়োজন হবে।” কামরায় এখনো ধরে আছে মাংসের ধোঁয়া, মানুষের চিৎকার, শিশুর হাসি। যেন চলে না গিয়েও দিনটি বুকের ভেতরে থেকে গেলো। একজন স্বেচ্ছাসেবক পরে লিখলেন, “আমি সেদিন ছবি তুলতে পারিনি— কিন্তু আমার হৃদয়ে হাজার ছবি জমা আছে।” এই বাক্যই হয়তো ব্যক্ত করে সেই দিনের অনুভূতি। শরীর ভেঙে পড়েছিল অনেকের, ক্লান্তি চোখে-মুখে, তবুও মনে ছিল শান্তি— কারণ অতিথিরা খুশি, মানুষ বলেছে “এটাই সেরা মেজবান,” আর তারাই এই অনুষ্ঠানের সত্যিকারের পুরস্কার।

    মেজবান ২০২৫ ছিল না কেবল একটি অনুষ্ঠান—
    এটি ছিল প্রবাসে চট্টগ্রামের প্রাণের উৎসব, স্মৃতির পুনর্জন্ম, মাটির প্রতি প্রেমের উৎসর্গ। দেশ থেকে হাজার মাইল দূরে থেকেও আমরা ভুলিনি আমাদের পরিচয়।
    আমরা অনুভব করেছি— গায়ের রং, ভাষার টান, খাবারের স্বাদ— আমাদের শেকড় আমাদের হৃদয়ে রয়ে গেছে।

    চট্টগ্রাম আমাদের আবেগ, মেজবান আমাদের অহংকার।
    এই ঐতিহ্য যেন শুধু ইতিহাস না হয়ে ওঠে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে পৌঁছে যাক আলোর প্রদীপ হয়ে। টরন্টোর আকাশে সেই দিন যে মায়া ভেসেছিল— তা চিরদিন ভাসুক আমাদের স্মৃতিতে।

    চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অব কানাডা কৃতজ্ঞতা জানায় সব অতিথি, সংগঠক, স্বেচ্ছাসেবক ও মমতায় ভরা মানুষদের। আপনাদের উপস্থিতিই প্রমাণ— চট্টগ্রাম শুধু ভূগোল নয়, চট্টগ্রাম একটি অনুভব।

    বিশেষ কৃতজ্ঞতা — হৃদয়ের গভীর থেকে:
    এই সফলতার মূল ভিত্তিতে দাঁড়িয়ে আছেন যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন হাসিমুখে, নিঃস্বার্থভাবে—আমাদের প্রিয় কনভেনর সারোয়ার জামান, যাঁর দূরদর্শী নেতৃত্ব, দৃঢ় মনোবল ও দিন-রাত পরিশ্রম না থাকলে এ মেজবান এভাবে স্মরণীয় হয়ে উঠত না। তাঁর দায়িত্ববোধ, সাহস, এবং আবেগ ছিল এই আয়োজনের হৃদস্পন্দন। আন্তরিক কৃতজ্ঞতা সহ-কনভেনর বাহার উদ্দিন বাহার এবং মেজবান কমিটির প্রতিটি সদস্যের প্রতি, যারা নিজের পরিবার, সময়, ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য ভুলে শুধুমাত্র একটি লক্ষ্য নিয়ে কাজ করেছেন— “চট্টগ্রামের মুখ উজ্জ্বল করা, প্রবাসে মেজবানকে পৌঁছে দেওয়া হৃদয় ছুঁয়ে।”

    কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানাই আমাদের সম্মানিত ট্রাস্টি, উপদেষ্টা, এবং সব এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্যদের—
    আপনাদের দিকনির্দেশনা, সমর্থন ও একতাই এই ঐতিহাসিক মেজবানকে করেছে মহিমান্বিত।

    আর সবচেয়ে বড় ধন্যবাদ প্রতিটি অতিথিকে ।
    আপনাদের উপস্থিতি, হাসি, সহযোগিতা এবং ভালোবাসায় মেজবান ২০২৫ আরও রঙিন, আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে। আপনারাই প্রমাণ করেছেন— চট্টগ্রাম শুধু একটি জায়গা নয়; এটি একটি অনুভূতি, একটি আত্মপরিচয়।

    চট্টগ্রাম আমাদের আত্মা। মেজবান আমাদের ভালোবাসা।
    এই ঐতিহ্য বেঁচে থাকুক—হৃদয়ে, প্রবাসে, ইতিহাসে।
    আবার ফিরবো আরও বড় আয়োজন নিয়ে—আরও হাসি, আরও মিলন, আরও মেজবানি নিয়ে। এ ভালোবাসা বেঁচে থাকুক—মেজবান ফিরে আসুক আবারও, আরও জাঁকজমক রুপ নিয়ে। প্রবাসেও আমরা এক, আমরা চাটগাঁইয়া, আমরা মেজবানের উত্তরাধিকারী।সংগঠন ও আয়োজকদের পক্ষ খেকে অতিথিদের শুভেচছা জানিয়েছেন সভাপতি সাহাব সিদ্দিকী বুলবুল ,সাধারন সম্পাদক ড.মঞ্জুরমোর্শেদ ,কোষাধক্ষ সানাথ বডুয়া,সারওয়ার জামান ,বাহাউদ্দিন বহার ,মোহাম্মদ সোলাইমান,মোহাম্মদ আবু তাহের,সাঈদা সেলিনা সারওয়ার,ফারা হোসেন,জাহেদ আহমেদ মানিক,শরিফা কামাল মসি,শামিমা ইয়াসমিন রুমা,কানিজ ফাতিমা এবং কাজী এ বাসিত প্রমূখ ।

  • সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে সুজনের গোলটেবিল বৈঠক

    সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়ে সুজনের গোলটেবিল বৈঠক

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণে নাগরিক ভাবনা নিয়ে গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোলটেবিল বৈঠকটি সুজন—সুশাসনের জন্য নাগরিক, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কমিটির আয়োজনে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর ২০২৫) সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে সদর উপজেলার উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

    ‘সচেতন, সংগঠিত ও সোচ্চার জনগোষ্ঠীই গণতন্ত্রের রক্ষাকবচ’—এই প্রতিপাদ্যে আয়োজিত বৈঠকে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নাগরিক দায়িত্ব ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। সুজন-সুশানের জন্য নাগরিক চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মোঃ আসলাম কবীর এর সভাপতিত্বে সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক উত্তরণ, নাগরিক ভাবনা নিয়ে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক মোঃ মনোয়ার হোসেন জুয়েল। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য তুলে ধরেন সুজন – সুশাসনের জন্য নাগরিক রাজশাহী বিভাগীয় সম্মন্বয়ক মোঃ মিজানুর রহমান। এছাড়া ও গোলটেবিল বৈঠকে মতামত উপস্থাপন করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মোঃ এ্যাড. ইশাহাক, মাওলানা মোঃ মুক্তার আলী,শিক্ষক শাহ নাজিম, ঠিকাদার মোঃ সজিব,সুমাইয়া ইসলাম প্রমুখ।

    বৈঠকে বক্তারা বলেন, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছাড়া গণতন্ত্র প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায় না। এজন্য নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংস্কার এবং নাগরিকদের সচেতন ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করেন বক্তরা।

  • হাদির ওপর হামলাকারীর শেকড় যতই শক্তিশালী হোক উপড়ে ফেলা হবে

    হাদির ওপর হামলাকারীর শেকড় যতই শক্তিশালী হোক উপড়ে ফেলা হবে

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকারীর শেকড় যতই শক্তিশালী হোক না কেন তা উপড়ে ফেলা হবে বলে মন্তব্য করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, হাদি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মহানায়ক। আজ তিনি সন্ত্রাসীদের গুলিতে চিকিৎসাধীন। আমরা তার জন্য কায়মনোবাক্যে দোয়া করি।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টায় ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার মালিথিয়া গ্রামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

    হাদির ওপর গুলির ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন উল্লেখ করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে ধ্বংস করতে পতিত স্বৈরাচারের সন্ত্রাসী বাহিনী টার্গেট করেছে। কিন্তু তারা সফল হবে না। আগামী নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ হবে দাবি করে তিনি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য সরকার ও নির্বাচন কমিশন বদ্ধ পরিকর। আগামী নির্বাচনে মানুষ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে। জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটবে এবারের নির্বাচনে।

    এ সময় তিনি বেগম খালেদা জিয়া ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির সুস্থতায় সকলের কাছে দোয়া কামনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

  • যে কারণে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, জানালেন আখতারুজ্জামান

    যে কারণে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, জানালেন আখতারুজ্জামান

    জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন বিএনপি থেকে বহিষ্কার হওয়া সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান। নতুন দলে যোগ দিয়েই তিনি বলেছেন, জামায়াত ‘দেশপ্রেমিক’ একটি দল।

    শনিবার সকালে মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আমির শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এক সময় জামায়াতের কড়া সমালোচক এই মুক্তিযোদ্ধা এদিন প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করে জামায়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। জামায়াতে যোগ দেওয়ার কারণও জানিয়েছেন তিনি।

    আখতারুজ্জামান বলেন, বিএনপির কথার ঠিক নেই। উনি (তারেক রহমান) বলেছেন, ‘জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধে লক্ষ মানুষকে হত্যা করেছে’। কথাটা সঠিক নয়। আমরা মুক্তিযুদ্ধ করেছি পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে, জামায়াতের বিরুদ্ধে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করিনি। আপনি একের পর এক মিথ্যা বলে যাবেন। এর প্রতিবাদে আমি জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছি। কারণ জামায়াত তো দেশদ্রোহী কোনো দল নয়; জামায়াতে ইসলামী একটি দেশপ্রেমিক দল। জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধকে স্বীকার করে এবং তাদের যে গঠনতন্ত্র আছে, সেখানেও এটা স্পষ্টভাবে লেখা আছে।

    বিএনপি নীতিনির্ধারকদের সমালোচনা করে আখতারুজ্জামান বলেন, ১৯৯১ সালে জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গী না করার জন্য আমি দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে অনুরোধ জানিয়েছিলাম। কিন্তু তারা ওই সময়ে আমার কথা শোনেননি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগের সঙ্গে একাট্টা হয়ে বিএনপির বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে তারা আবার জোটবদ্ধ হয়েছিল এবং সরকারও গঠন করেছিল।

    ‘গত ১৫ বছর আওয়ামী লীগের রোষানলে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে জামায়াত। তাদের নেতাদের ফাঁসিতেও ঝুলিয়েছেন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, বিএনপি যেমন নির্যাতিত হয়েছে, নিপীড়ন ভোগ করেছে, মাইর খাইছে, মামলা-মোকদ্দমা খাইছে; অনুরূপভাবে জামায়াতেও খাইছে, নির্যাতিত, নিষ্পেষিত হয়েছে।

    আখতারুজ্জামান বলেন, ৫ অগাস্টের পরে এখন যেখানে ফ্যাসিস্ট বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে চলার কথা, ঐক্যের রাজনীতি নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার কথা; সেখানে দেখা গেল—বিভক্তির রাজনীতির সূচনা করল বিএনপি।

    বিএনপি থেকে সদ্যই জামায়াতে যোগ দেওয়া এই নেতা বলেন, বিএনপি মুক্তিযুদ্ধের কথা বলছে, ভালো কথা। আমিও তো মুক্তিযোদ্ধা। কিন্তু আমরা তো একাত্তর সালে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছি, জামায়াতের সঙ্গে তো নয়। তা হলে এখন এসব নিয়ে কেন ঝগড়াঝাঁটি। আমার প্রশ্ন, আপনি (বিএনপি) কাদের স্বার্থে এখন জামায়াতের বিরুদ্ধে কথা বলছেন?

    আখতারুজ্জামান বলেন, ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিএনপির নেতারা এতো পাগল হয়ে যান কেন, আমি তা বুঝতে পারি না।

    সাবেক সংসদ সদস্য আখতারুজ্জামান ১৯৭১ সালে তিন নম্বর সেক্টরের কমান্ডার মেজর কে এম শফিউল্লাহর অধীনে যুদ্ধ করেন।

  • ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার

    ওসমান হাদি হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে তিনি সরকারি এ সিদ্ধান্ত জানান।

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির জন্য দোয়া চেয়ে উপদেষ্টা বলেন, তাকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের ধরিয়ে দিতে পারলে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। সবার দোয়ায় তিনি আমাদের মাঝে আবার ফিরে আসতে পারবেন।

    তিনি বলেন, আসামি ধরার প্রক্রিয়া চলমান আছে। আশা করছি, সবার সহযোগিতায় খুব তাড়াতাড়ি ধরতে পারব।

    আগামী নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন, তাদের সবার নিরাপত্তা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্টদের গ্রেপ্তারের সংখ্যা বাড়াতে হবে। এতদিন শুধু সরকারি কর্মচারীদেরই অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হতো। এখন যারা নির্বাচনে অংশ নেবেন, তারাও যদি অস্ত্র চান, তাহলে তাদেরও লাইসেন্স দেওয়া হবে। যাদের কোনো অস্ত্র আমাদের কাছে জমা আছে, সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে।’

    তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখসারির যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    এমন অপরাধীর জামিন পাওয়া নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমরা তো গ্রেপ্তার করেছি। কিন্তু তাকে জামিন দেওয়ার ক্ষমতা তো আদালতের। আবার আমরা তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার চেষ্টা করছি।’

    আগামী ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশে আসবেন। তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা রয়েছে কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, তার নিরাপত্তা নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই। তার নিরাপত্তার বিষয়ে যত ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন, নেওয়া হবে।

  • ওসমান হাদিকে গুলি করা একজন শনাক্ত: ডিএমপি কমিশনার

    ওসমান হাদিকে গুলি করা একজন শনাক্ত: ডিএমপি কমিশনার

    ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে গুলি করা একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি।

    ডিএমপি কমিশনার বলেন, এ ঘটনার তদন্ত চলছে এখনই বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

    এছাড়া ডিএমপির পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে অভিযুক্তের সন্ধানদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে এবং উপযুক্ত পুরস্কৃত করা হবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে পুলিশ।

    মাথায় গুলিবিদ্ধ ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদির অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। এভারকেয়ার হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন তিনি।

     

    শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরের বক্স কালভার্ট সড়কে ওসমান হাদির ওপর গুলি চালানো হয়। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসকরা জানান, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

    প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা ও সিসিটিভির ফুটেজ দেখা যায়, হাদিসহ দুইজন একটি ব্যাটারিচালিত রিকশায় যাচ্ছিলেন; তখন মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

    কী কারণে হাদিকে গুলি করা হয়েছে- তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজে যাকে গুলি ছুড়তে দেখা যায়, তিনি সকাল থেকেই হাদির সঙ্গে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেন

  • স্মৃতিতে ভাসল শাহীন ক্যাডেট কোচিং-এর প্রথম প্রজন্ম

    প্রিয় বন্ধন আর স্মৃতির টানে শাহীন শিক্ষা পরিবার তথা শাহীন ক্যাডেট কোচিং-এর প্রথম প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের প্রতীক্ষিত ‘স্মৃতিমিলন ২০২৫’ পুনর্মিলনী সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দিনব্যাপী আয়োজনে ‘স্মৃতি জাগুক স্কুল জীবনের, বন্ধন হোক আরও গভীর’— এই স্লোগান যেন আরও বাস্তব হয়ে উঠেছিল।

    শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত রাজধানীর উত্তরা সেক্টর–৭-এ অবস্থিত শাহীন শিক্ষা পরিবার-এর কর্পোরেট কার্যালয়ে এই বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

    পুনর্মিলনীতে অংশ নেন শাহীন ক্যাডেট কোচিং-এর প্রথম চারটি ব্যাচ—১৯৯২, ১৯৯৩, ১৯৯৪ ও ১৯৯৫—যারা ১৯৯৮, ১৯৯৯, ২০০০ ও ২০০১ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন। দীর্ঘ ২৫-৩০ বছর পর প্রায় ১০০ জন সাবেক শিক্ষার্থী একসঙ্গে মিলিত হন প্রিয় বন্ধন আর স্মৃতির টানে।

    পুনর্মিলনীর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ মাছুদুল আমীন শাহীন, চেয়ারম্যান, শাহীন শিক্ষা পরিবার ও প্রেসিডেন্ট, সেফ ফাউন্ডেশন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. মাহবুবুর রহমান সেলিম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, শাহীন শিক্ষা পরিবার এবং মুহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আসলাম, নির্বাহী পরিচালক এবং শাহীন শিক্ষা পরিবার।

  • কেরানীগঞ্জে এখনো জ্বলছে বহুতল ভবনের আগুন, উদ্ধার ৪৫ জন

    ঢাকার কেরানীগঞ্জ বাবু বজার এলাকায় একটি বহুতল ভবনে আগুন লেগেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৪টি ইউনিট। ভবনের বিভিন্ন ফ্লোরে থাকা ৪৫ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে এনেছে ফায়ার ফাইটাররা।

    শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) ভোর ৫টা ৩৭ মিনিটে আগুন লাগার খবর পেয়ে ৫টা ৪৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ইনস্পেকটর আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

     

    আরও পড়ুন

    কেরানীগঞ্জে জমেলা টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট

    কেরানীগঞ্জে জমেলা টাওয়ারে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট

     

    তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জ বাবুবাজার এলাকায় জমেলা টাওয়ার নামের একটি ১২ তলা ভবনের নিচতলায় আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে কেরানীগঞ্জ, সদরঘাট ও সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের মোট ১৪টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

    সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, এ পর্যন্ত মোট ৪৫ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন সিঁড়ি দিয়ে নিরাপদে নামিয়ে আনা হয়েছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ফায়ার ফাইটাররা। প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার কারণ জানাতে পারেননি ফায়ার সার্ভিসের এই কর্মকর্তা।

  • ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

    ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন তারেক রহমান

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন। শুক্রবার দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যুগান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন তারেক রহমান।

    শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ বৈঠক শুরু হয়।

    বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে আসছেন। তার এ আগমনকে শুধু স্বাগত নয় আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি।

    তিনি বলেন, লন্ডনে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে একটা বৈঠক হয়েছিল, সেখানেই নির্বাচনের সময় জানানো হয়েছিল।

    বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ছাড়াও অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

    তারেক রহমান ২০০৭ সালে এক-এগারোর পটপরিবর্তনের পর গ্রেফতার হন। ২০০৮ সালে কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে চিকিৎসার জন্য সপরিবার যুক্তরাজ্যে যান। এরপর থেকে তিনি সে দেশেই আছেন।

    ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয়। এরপর বিভিন্ন মামলায় তারেক রহমানের সাজার রায় বাতিল এবং কোনো কোনো মামলায় আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পান।

  • হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সিআইডির হাতে মিলল গুরুত্বপূর্ণ আলামত

    হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনায় সিআইডির হাতে মিলল গুরুত্বপূর্ণ আলামত

    ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধের ঘটনায় নতুন তথ্য দিয়েছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

    শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) দুপুরে বিজয়নগরের কালভার্ট এলাকায় অস্ত্রধারীরা হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

    ঘটনার পরপরই পুলিশ ও সিআইডি সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করেন। এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে হাদির গুলিবিদ্ধ হওয়ার স্থানের পাশ থেকে ২টি গুলির খোসা উদ্ধার করে সিআইডি। গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে খোসাগুলো জব্দ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি।

    তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার করা খোসা পরীক্ষা করে অস্ত্রের ধরন ও গুলির উৎস শনাক্তের চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজও সংগ্রহ করা হয়েছে।

    এর আগে ১৪ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শরিফ ওসমান হাদি দাবি করেছিলেন, তাকে হত্যা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি বিভিন্ন ধরনের সহিংস হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

    পোস্টে তিনি লেখেন- বিদেশি নাম্বার থেকে একাধিক কল ও মেসেজের মাধ্যমে তাকে নজরদারিতে রাখা এবং তার পরিবারকে ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সেনাবাহিনী অবস্থান নিয়েছে।