Author: তরঙ্গ টিভি

  • আমি সেই সময় কাঁপছিলাম

    আমি সেই সময় কাঁপছিলাম

    ভারতের টেনিস তারকা সানিয়া মির্জা সম্প্রতি এক টক শো-তে পিতামাতা হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বর্তমানে তার সিঙ্গেল মাদার হিসেবে জীবনযাপন প্রসঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তার একক ইউটিউব অনুষ্ঠান ‘সার্ভিং ইট আপ উইথ সানিয়া’-তে তিনি তার বন্ধু এবং বলিউড পরিচালক ফারাহ খানের সাথে আলাপ করেন।

    পর্বটিতে তারা বিবাহের সিদ্ধান্ত নিয়ে আলোচনা করেন এবং কীভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় যা সকলের জন্য সেরা হয়। এই আলোচনাটির সূত্রপাত হয় ঘটে যখন ফারাহ পিতামাতার বিচ্ছেদের প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। সানিয়া বলেন, ‘একজন শিশু যে কোনোভাবেই প্রভাবিত হবে। তাই আপনাকে বুঝতে হবে এবং এমন একটি পরিস্থিতি বেছে নিতে হবে যা তার ভালো। কারণ যদি একটি শিশু দুটি অসুখী মানুষকে দেখে, তখন চিন্তার প্রয়োজন।’

    তিনি আরও বলেন, ‘একটি শিশু বুঝে যায়, এমনকি যদি পিতামাতা সুখের অভিনয়ও করে।’ এ সময় ফারাহ মন্তব্য করেন, ‘একজন সিঙ্গেল মাদার হওয়ার চেয়ে কঠিন কিছু নেই’ এবং সানিয়া কীভাবে একাই তার সন্তানের পিতামাতার দায়িত্ব পালন করেন সেটির প্রশংসা করেন।

  • ১৬ বছর পর রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দিলেন জাদেজা

    ১৬ বছর পর রাজস্থান রয়্যালসে যোগ দিলেন জাদেজা

    চেন্নাই সুপার কিংস এবং রাজস্থান রয়্যালসের মধ্যে সঞ্জু স্যামসন ও রবীন্দ্র জাদেজার অদলবদলের বিষয়টি শেষ পর্যন্ত সম্পন্ন হয়েছে। ক্রিকবাজ এক প্রতিবেদনে জানায়, রাজস্থান পাচ্ছে জাদেজা ও ইংল্যান্ড অলরাউন্ডার স্যাম কারানকে। আর স্যামসন যাচ্ছেন চেন্নাইয়ে। শনিবার ১৫ নভেম্বর আইপিএলের রিটেনশন ঘোষণার পর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

    এই অদলবদল নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। কারণ চেন্নাই ধীরে ধীরে এমএস ধোনির পরের সময় নিয়ে ভাবছে। স্যামসন ২০২১ সাল থেকে রাজস্থানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং সেই বছর দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। অন্যদিকে জাদেজা ২০১২ সাল থেকে চেন্নাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তিনি তিনবার আইপিএল জিতেছেন দলের হয়ে।

    জাদেজা তার আইপিএল ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন ২০০৮ সালে রাজস্থানের হয়ে খেলে। সে বছর আইপিএলে ১৪ ম্যাচে তিনি করেছিলেন ১৩৫ রান। রাজস্থানের প্রথম আইপিএল জয়ে বড় অবদান রেখেছিলেন তিনি। তৎকালীন অধিনায়ক শেন ওয়ার্ন তাকে পরবর্তী মহাতারকা হিসেবে আখ্যা দিয়েছিলেন। ২০০৯ সালের পর রাজস্থানের সঙ্গে তার সম্পর্ক শেষ হয়। সেই রাজস্থানের সঙ্গে ১৬ বছর পর আবার পথ মিলে গেল জাদেজার।

    তবে এই অদলবদল চুক্তি সহজ ছিল না মোটেও। চুক্তির মাঝ পথে সমস্যা হয়েছিল। কারানকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য রাজস্থানের বিদেশি স্লট খালি ছিল না। তবে এখন বিসিসিআই এই বদলকে অনুমতি দিয়েছে।

    ক্রিকবাজ জানায়, অনেকে মনে করছেন রাজস্থান এই অদলবদলে বেশি লাভ পেয়েছে। কারণ তারা পাচ্ছে জাদেজা ও কারানকে। জাদেজা ও স্যামসনের পারিশ্রমিক সমান হলেও কারান আসছেন মাত্র ২.৪ কোটি রুপিতে। এক ফ্র্যাঞ্চাইজি সিইও বলেছেন যে চেন্নাই এত সহজে জাদেজার মতো তারকা খেলোয়াড়কে ছেড়ে দিয়েছে, এটা খুবই বিস্ময়কর।

    তিনি প্রশ্ন তোলেন যে ধোনির অবসরের পর চেন্নাই ফ্র্যাঞ্চাইজির পোস্টারবয় হিসেবে কে থাকবে। তিনি বলেন, ‘এটা খুবই অবাক করার মতো যে একজন খেলোয়াড়, যিনি সিএসকে’র হয়ে তারকা পারফরমার ছিলেন, তাকে এত সহজে ছেড়ে দেওয়া হলো। এমএস ধোনি অবসরের মুখে। তাহলে সিএসকে’র মুখ কে হবে? এমএসের পর সবসময় জাদেজাকেই ধরা হচ্ছিল। এমএস না থাকলে দলের প্রতিনিধি মুখটি কে হবে?’

    চেন্নাই দলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও মিলছে। ডেভন কনওয়ে জানিয়েছেন যে তিনি দল থেকে বাদ পড়েছেন। এছাড়া দীপক হুডা, রাহুল ত্রিপাঠী ও জেমি ওভারটনকেও রিটেনশনের আগে ছেড়ে দেওয়ার খবর শোনা যাচ্ছে।

  • বিহারের নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিল না: রাহুল গান্ধী

    বিহারের নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিল না: রাহুল গান্ধী

    বিহারের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ভোটের ফলাফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।ভোট চুরির অভিযোগ সরাসরি না তুললেও এই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাতে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘বিহারের লাখ লাখ ভোটার, যারা মহাগাঠবন্ধন জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন— তাদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিহারের এই ফলাফল সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা এমন একটি নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারিনি যা শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিল না।’

    তিনি আরও লেখেন, ‘আমাদের লড়াই সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াই। কংগ্রেস এবং ইনডিয়া জোট এই ভোটের ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াইকে অধিকতর কার্যকর করতে আরও বেশি সচেষ্ট হবে।’

    পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের বিধানসভায় আসনসংখ্যা মোট ২৪৩টি। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে দুই দফায়। গত ৬ নভেম্বর প্রথম দফায় ১২১ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ দফায় ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশের বেশি

    বিহারে এনডিএর ঝড়ো বিজয়, এবার মোদির নজর বাংলায়পরে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয় ১২২টি আসনে। এ দফায় ভোট পড়েছিল ৬৮ শতাংশের বেশি। দুই দফা মিলিয়ে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে এই নির্বাচনে।

    এই নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিজেপি-জনতা দল ইউনাইডেট (জেডিইউ) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবং কংগ্রেস-রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতৃত্বাধীন জোট মহাগাঠবন্ধনের মধ্যে। শুক্রবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, বিধানসভার ২৪২টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয় পেয়েছেনে এনডিএ জোটের প্রার্থীরা। বিরোধী মহাগাঠবন্ধন জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৩৫টি আসনে।

    এনডিএ জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল বিজেপি জয় পেয়েছে ৮৯ টি আসনে। জোটের দ্বিতীয় শরিক এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ ৮৫টি আসনে জয় পয়েছে। এছাড়া বিহারের রাজনীতিবিদ এবং ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি ১৯টি এবং আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন রাম মাঝির নেতৃত্বাধীন আওয়াম মোর্চা পার্টি জিতেছে ৫টি আসনে।

    জোটের আরেক শরিক আরজেডির ফলাফল কংগ্রেসের চেয়েও খারাপ। ২০২০ সালের নির্বাচনে ১৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭৫টিতে জয় পেয়েছিল আরজেডি। এবার ১৪৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৫টিতে জয়ী হয়েছে দলটি।

  • সংবিধান বদলে সেনাপ্রধানকে গ্রেফতার ও বিচার থেকে আজীবন দায়মুক্তি দিল পাকিস্তান

    সংবিধান বদলে সেনাপ্রধানকে গ্রেফতার ও বিচার থেকে আজীবন দায়মুক্তি দিল পাকিস্তান

    পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে নতুন ক্ষমতা দেওয়ার পক্ষে ভোট দিয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট। একইসাথে তাকে গ্রেফতার ও বিচার থেকে আজীবন দায়মুক্তিও দেওয়া হয়েছে। সমালোচকরা বলছে, এই পদক্ষেপের ফলে দেশটিতে স্বৈরতন্ত্রের পথ আরও প্রশস্ত হয়েছে।

    বৃহস্পতিবার স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে দেশটির সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী আইনে পরিণত হয়েছে। যার মাধ্যমে পাকিস্তানের শীর্ষ আদালতগুলোর পরিচালনা পদ্ধতিতেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসবে।

    যারা এই পরিবর্তনের পক্ষে কথা বলছেন তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত সশস্ত্র বাহিনীকে প্রশাসনিক কাঠামো প্রদান করবে, একই সাথে আদালতে মামলার জট কমাতেও সাহায্য করবে।

    পারমাণবিক অস্ত্রধারী এই দেশটির রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে সেনাবাহিনী। কখনও কখনও তারা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করেছে, আবার অনেক সময় পর্দার আড়ালে থেকে কলকাঠি নেড়েছে।

    পাকিস্তানের ইতিহাসে, জেনারেল পারভেজ মোশাররফ এবং জেনারেল জিয়া-উল-হকের মতো সামরিক নেতাদের প্রকাশ্য নিয়ন্ত্রণের ফলে দেশটি একাধিকবার দোদুল্যমান পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে।

    বেসামরিক এবং সামরিক বাহিনীর মধ্যে ক্ষমতার এই ভারসাম্যকে হাইব্রিড শাসন হিসাবে উল্লেখ করেছেন বিশ্লেষকরা। সংবিধানের নতুন সংশোধনীকে এখন সেই ভারসাম্য পরিবর্তন হয়ে সেনাবাহিনীর পক্ষে ঝুঁকে পড়া হিসেবে দেখছেন অনেকে।

    ওয়াশিংটনের উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ‘আমার কাছে, এই সংশোধনীটি সর্বশেষ ইঙ্গিত, সম্ভবত এখন পর্যন্ত সবচেয়ে শক্তিশালী। পাকিস্তান এখন আর হাইব্রিড সিস্টেম নয়, বরং একটি পোস্ট-হাইব্রিড সিস্টেমের অভিজ্ঞতা লাভ করছে। আমরা মূলত এমন একটি পরিস্থিতি দেখছি যেখানে বেসামরিক-সামরিক সম্পর্ক যতটা সম্ভব ভারসাম্যহীন।’

    সংবিধানের এই সর্বশেষ সংশোধনীর ফলে ২০২২ সালের নভেম্বর থেকে সেনাপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মুনির এখন পাকিস্তানের নৌ ও বিমান বাহিনীরও তত্ত্বাবধান করবেন। তার ফিল্ড মার্শাল পদবি ও পোশাক আজীবনের জন্য এবং প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক অবসর গ্রহণের পরেও তাকে ‘দায়িত্ব এবং কাজ’ প্রদান করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে যে, এই সিদ্ধান্তের কারণে, তিনি আজীবন জনপরিসরে কোনো না কোনো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবেন। বিলটির সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছেন যে, এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তানের সামরিক কমান্ড কাঠামোকে আরও স্পষ্ট করে।

    পাকিস্তানের সরকার-পরিচালিত সংবাদ সংস্থা, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস অফ পাকিস্তান, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফকে উদ্ধৃত করে বলেছে যে, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আধুনিক যুদ্ধের প্রয়োজনীয়তার সাথে তাল মিলিয়ে চলতে পারবে। যা দেশটির একটি বৃহত্তর সংস্কার এজেন্ডার অংশ। কিন্তু অন্যরা এটিকে সেনাবাহিনীর কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর হিসেবে দেখছেন।

    ‘সামরিক বাহিনী এবং বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে কোনও ভারসাম্য নেই’ – বলেছেন সাংবাদিক এবং পাকিস্তানের মানবাধিকার কমিশনের সহ-সভাপতি মুনিজা জাহাঙ্গীর। তিনি বলছেন, ‘আবার ক্ষমতার ভারসাম্যকে সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকিয়ে দেওয়া হলো এবং এমন এক সময়ে তাদেরকে আরও ক্ষমতায়িত করা হলো, যখন কিনা সেনাবাহিনীতে লাগাম টানার প্রয়োজন ছিল।’

    এই পরিবর্তনের আরেকটি বিতর্কিত ক্ষেত্র হল আদালত এবং বিচার বিভাগ। সংশোধনীর অধীনে একটি নতুন ফেডারেল সাংবিধানিক আদালত বা এফসিসি তৈরি করা হবে যা সাংবিধানিক প্রশ্নগুলোতে সিদ্ধান্ত নেবে। এই আদালতের প্রথম প্রধান বিচারপতি এবং এতে কর্মরত বিচারকদের রাষ্ট্রপতি নিযুক্ত করবেন।

    ‘এটি ন্যায্য বিচারের অধিকারের আকার এবং প্রকৃতি চিরতরে বদলে গেলো’ – মিসেস জাহাঙ্গীর বলেন। তিনি বলছেন, ‘শুধু বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রেই নয়, সাংবিধানিক বেঞ্চগুলোতেও নির্বাহী বিভাগের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। যখন রাষ্ট্র সেই বেঞ্চগুলোর গঠন নির্ধারণ করছে, তখন একজন মামলাকারী হিসেবে আমার ন্যায্য বিচার পাওয়ার কী আশা আছে?’

    সাংবাদিক ও ভাষ্যকার আরিফা নূর বলছেন, ‘বিচার বিভাগ এখন নির্বাহী বিভাগের বেশ অধীনস্থ। সাধারণভাবেই মনে হচ্ছে যে বিচার বিভাগের এখন আপাতত কাজ করার জন্য কোনও স্বাধীন স্থান থাকবে না।’

    এই সংশোধনী পাস হওয়ার আগে, সাংবিধানিক মামলার শুনানি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ করত সুপ্রিম কোর্ট। অনেকেই দাবি করছেন, এর ফলে শুনানির অপেক্ষায় থাকা ফৌজদারি ও দেওয়ানি মামলার জট তৈরি হয়েছে, কারণ বিচারকদের সাংবিধানিক যুক্তিও শুনতে হচ্ছে।

    যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে যে, দুটিকে আলাদা করার ফলে আদালতের কাজের প্রক্রিয়া মসৃণ হয়েছে। কিছু আইনজীবীর কাছে এই সিদ্ধান্ত কিছুটা আকর্ষণীয় হলেও সুপ্রিম কোর্টের করাচি-ভিত্তিক আইনজীবী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই বক্তব্যকে অযৌক্তিক বলে মনে করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, পাকিস্তানে বিচারাধীন বেশিরভাগ মামলা কিন্তু সুপ্রিম কোর্টে নেই।

    তার মতে, ‘পরিসংখ্যানগতভাবে, যদি আপনি সত্যিই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে চিন্তিত হতেন, তাহলে আপনি সেই মামলাগুলোর বিষয়ে সংস্কারের ওপর মনোযোগ দিতেন।’

    সংশোধনীটি স্বাক্ষরিত হওয়ার কয়েক ঘন্টার মধ্যেই, সুপ্রিম কোর্টের দুই বিচারপতি তাদের পদত্যাগপত্র জমা দেন। ‘যে সংবিধানকে সমুন্নত রাখার এবং রক্ষা করার শপথ নিয়েছিলাম, তা আর নেই’ – বিচারপতি আতহার মিনাল্লাহ তার পদত্যাগপত্রে বলেছেন। বিচারপতি মনসুর আলী শাহ বলছেন, বিচার বিভাগকে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে এবং ২৭তম সংশোধনী ‘সুপ্রিম কোর্টকে টুকরো টুকরো করে ফেলেছে’।

    প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ অবশ্য এই পদত্যাগ সম্পর্কে বলছেন, ‘তাদের বিবেক জেগে উঠেছে কারণ এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের ওপর তাদের একচেটিয়া কর্তৃত্ব ক্ষুণ্ন করা হয়েছে এবং সংবিধানের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার চেষ্টা করেছে সংসদ।’

    বিচারকদের এখন তাদের সম্মতি ছাড়াই বিভিন্ন আদালতে বদলি করা যেতে পারে। যদি তারা বদলিতে রাজি না হন, তাহলে বিচার বিভাগীয় কমিশনে আপিল করতে পারবেন বিচারকরা। তবে, বদলি না করার কারণ অবৈধ বলে প্রমাণিত হলে, ওই বিচারককে অবসর গ্রহণ করতে হবে।

    যারা এই সিদ্ধান্তের পক্ষে আছেন তাদের যুক্তি, এর ফলে দেশের সকল এলাকার আদালতে কর্মী নিয়োগ নিশ্চিত হবে। তবে কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন যে এটি হুমকি হিসেবেও ব্যবহার হতে পারে।

    ‘যে প্রদেশে কর্মরত আছেন সেখান থেকে একজন বিচারককে সরিয়ে অন্য কোথাও নিয়ে যাওয়ার এই সিদ্ধান্ত, সরকারের কথা মেনে নিতে ওই বিচারকের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করবে’ – আহমেদ বলেন। তিনি উদ্বিগ্ন যে এই পরিবর্তন পাকিস্তানের ভারসাম্য নষ্ট করবে।

    ‘আমাদের বিচার বিভাগ অতীতে স্বৈরশাসকদের সাথে সহযোগিতা করেছে, কিন্তু তারা নির্বাহী বিভাগকে কখনও কখনও ধাক্কা দিয়েছে। আমার মনে হয় যদি আপনি মানুষের কাছ থেকে সেই আশাও সম্পূর্ণরূপে কেড়ে নেন, তাহলে সেটি তাদেরকে অন্য, আরও কুৎসিত দিকে ঠেলে দেবে।’

    মি. কুগেলম্যান একমত যে, ‘অবরুদ্ধ পরিস্থিতি সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্যও ভালো লক্ষণ নয়।’ এটি কর্তৃত্ববাদের দিকে ঝুঁকে পড়ার ইঙ্গিত দেয়’ বলে মনে করেন আরিফা নূর তিনি বলছেন, সর্বশেষ সংশোধনী গত বছর করা ২৬তম সংশোধনীর ওপর ভিত্তি করে তৈরি, যেখানে আইন প্রণেতাদের পাকিস্তানের শীর্ষ বিচারক নির্বাচনের ক্ষমতা দিয়েছিল। ইতোমধ্যেই ২৮তম সংশোধনীর জল্পনাও চলছে।

  • রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যা  বিরোধ আর অতি লোভেই খুন

    রাজশাহীতে বিচারকের ছেলে হত্যা বিরোধ আর অতি লোভেই খুন

    অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তৌসিফের মৃত্যু * হামলাকারী সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর তথ্য

    রাজশাহীতে মহানগর দায়রা জজ মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের বাসায় ঢুকে স্কুল পড়ুয়া ছেলে হত্যা ও স্ত্রীকে হত্যা চেষ্টার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের একাধিক টিমসহ গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরোধ ও খুনি লিমন মিয়ার অতি লোভ এ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য দুটি কারণ হতে পারে। এর পেছনে আরও কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরও পুলিশ খুঁজছে। তবে ভিকটিম ও হামলাকারী উভয়েই সুস্থ হয়ে উঠলে তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদে এ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। তবে লিমন মিয়ার বয়ানে ভাইরাল ভিডিওতে পরকীয়ার যে বিষয়টি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়েছে সেটিকে পুলিশ এখনই আমলে নিচ্ছে না।

    এদিকে নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় শুক্রবার নিজে বাদী হয়ে লিমন মিয়াকে একমাত্র আসামি করে আরএমপির রাজপাড়ায় থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন বিচারক আব্দুর রহমান। আসামি এই হত্যাকাণ্ড পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটিয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলার পর বিচারক দুপুরের পর তাওসিফ রহমান তৌসিফের (১৫) লাশ নিয়ে গ্রামের বাড়ি জামালপুরের সরিষাবাড়ি উপজেলার পুবলদিঘা ইউনিয়নের রুদ্রবয়রা চকপাড়া গ্রামের উদ্দেশে যাত্রা করেন। রাত ৮টায় তৌসিফের লাশ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এর আগে সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ মর্গে বিচারকের ছেলের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। চিকিৎসক, পুলিশ ও বিচারকের পারিবারিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    বৃহস্পতিবার বিকালে রাজশাহী মহানগরীর ডাবতলার একটি বহুতল ভবনের ভাড়া বাসায় বিচারক পুত্র তৌসিফের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসি (৪৪) ও হামলাকারী লিমন মিয়াও আহত হয়। তাদের মধ্যে বিচারকপত্নী লুসি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৩নং কেবিনে ও হামলাকারী লিমন মিয়া ৪নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ অবস্থায় লিমন মিয়াকে অবশ্য পুলিশ গ্রেফতার করেছে।

    এদিকে তৌসিফ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রাজপাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম জানিয়েছেন, তদন্ত শুরু হলেও গণমাধ্যমকে বলার মতো কোনো কিছু এখনো তাদের হাতে আসেনি। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিসহ কিছু আলামত তারা জব্দ করেছেন। ভবনের কেয়ারটেকার ও গৃহকর্মীর কাছ থেকেও প্রাথমিক জবানবন্দি নিয়েছেন। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো জানা যায়নি। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুল লাশের সুরতহাল তৈরি করেন।

    অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তৌসিফের মৃত্যু : অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তৌসিফের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. কফিল উদ্দিন। শুক্রবার সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের মর্গে লাশের ময়নাতদন্ত হয়। ডা. কফিল উদ্দিন আরও জানান, তৌসিফের ডান ঊরু, ডান পা, বাম বাহুতে ধারালো ও চোখা অস্ত্রের আঘাত পাওয়া গেছে। এই তিনটি জায়গায় রক্তনালি আছে। সেগুলো কেটে গিয়েছিল। এ কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণও ছিল শরীরে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণেই তৌসিফের মৃত্যু হয়েছে।

    পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিচারক আব্দুর রহমান দুই সন্তানের জনক। এর মধ্যে নিহত তৌসিফ ছিল তার একমাত্র পুত্র সন্তান। তার বড় সন্তান লাবিবা আক্তার মুগ্ধ সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মুগ্ধর স্বামী খোকন জীবন বিমা করপোরেশনের কর্মকর্তা। তারা সিলেটেই থাকেন।

    বিচারকের স্ত্রী লুসি ও হামলাকারী লিমন শঙ্কামুক্ত : রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস বলেন, বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহার লুসির ডান হাতের কবজির রগ কেটে গেছে। এছাড়া তার শরীরের তিনটি অংশে ধারালো অস্ত্রের আঘাতজনিত গভীর ক্ষত রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতেই তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। তার শারীরিক পরিস্থিতি উন্নতির দিকে রয়েছে। অন্যদিকে লিমন পুলিশ হেফাজতেই চার নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে গণমাধ্যমকর্মীদের সেখানে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তার দুই হাতে কিছুটা আঘাত ছিল। তবে লিমন এখন পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত।

    যেভাবে সংঘটিত হয় হত্যাকাণ্ড : শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থল নগরীর ডাবতলা স্পার্ক ভিউ ভবনে গিয়ে বিচারকের স্বজনদের কেউ আছেন কিনা জানতে চাইলে কেয়ারটেকার মেসের আলী জানান, ঘটনার পর জজ সাহেবের ফ্ল্যাটে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি আরও বলেন, বৃহস্পতিবার দুপুরে একটা ব্যাগ হাতে নিয়ে এক ব্যক্তি প্রধান ফটক দিয়ে ঢুকে সরাসরি লিফটের দিকে এগিয়ে যায়। এ সময় আমি তাকে বাধা দিই। এ কারণে সে আমার ওপর ভীষণ ক্ষিপ্ত হয়। কার বাসায় যাবেন জানতে চাইলেই সে আমার সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে লিমন অতিথি রেজিস্টার খাতায় স্বাক্ষর করে লিফট দিয়ে পাঁচ তলায় জজ স্যারের ফ্ল্যাটে চলে যান। এর আধা ঘণ্টা পর ফ্ল্যাটের কাজের মেয়ে নিচে এসে আমাকে জানায় স্যারের বাসায় ঘটনা খুব খারাপ। আপনারা তাড়াতাড়ি উপরে চলেন। এ সময় আমি ভবনের লিফট এবং প্রধান ফটক বন্ধ করে দিয়ে উপরে উঠে জজ স্যারের ছেলেকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। কিছুটা দূরেই মরার মতো হয়ে পড়ে ছিল সেই লিমন। ঘরের ভেতরে স্যারের সহধর্মিণী রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে ছিলেন। আশপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন এসে তাদের হাসপাতালে নিয়ে যান।

    এদিকে লিমন মিয়াকে ফ্ল্যাটে যেতে দেওয়ার আগে জজের বাসার কারও অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা জানতে চাইলে কেয়ারটেকার বলেন, এই ভবনে এখনো সেই ধরনের নিয়ম চালু হয়নি। ভবনে এখনো ইন্টারকম লাগানো হয়নি। ফলে কেউ এলে আমরা তাদের নাম, ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর লিখে দিয়ে চলে যেতে বলি। লিমনও সেভাবেই বিচারকের ফ্ল্যাটে চলে গিয়েছিল। তবে তাকে আগে কখনো জজের বাসায় আসতে দেখিনি।

    পুলিশের তদন্ত সংশ্লিষ্ট ও তদারকিতে নিয়োজিত একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ হত্যাকাণ্ডের প্রাথমিক একটা চিত্র পাওয়া গেছে। বিচারকের কাজের মেয়েসহ সংশ্লিষ্টদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের কথা উল্লেখ করে তারা জানান, লিমন মিয়া কলিংবেল দিলে কাজের মেয়েই দরজা খুলে দিয়ে রান্নাঘরে চলে যায়। তখন তৌসিফ নিজের ঘরে ঘুমাচ্ছিল। বিচারকের স্ত্রী ঘর থেকে বেরিয়ে দেখেন লিমন মিয়া ড্রয়িংরুমের সোফার সামনে দাঁড়িয়ে আছে। ম্যাডাম জানতে চান তুমি এখানে এলে কী করে। ম্যাডাম তখন সোফার আরেক কোণায় বসেন। দুজনেই কিছুটা উত্তপ্তভাবে কথাবার্তা বলা শুরু করেন। বিচারকের স্ত্রী এ সময় জোরে লিমন মিয়াকে চুপ করে বসো বলে ঘরের ভেতরে গিয়ে দরজা লাগিয়ে দেন। কিছুক্ষণ চুপচাপ বসে থাকার পর হঠাৎ করেই লিমন শব্দ করে বলতে থাকেন বেরিয়ে আসেন, আপনি বেরিয়ে আসেন। একটা রফাদফা করেই তবে যাব।

    সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, বিচারকের স্ত্রী দরজা খুলছে না দেখে লিমন উদভ্রান্তের মতো দরজায় লাথি মারতে থাকে। লাথি মারতে মারতে সে বলতে থাকে, আমি বুঝতে পারছি, আজ আমাকে আবার পুলিশে ধরিয়ে দিবি তোরা। তোদের কাউকে বাঁচিয়ে রাখব না। একপর্যায়ে জোরে জোরে লাথি দিতে দিতে ঘরের দরজা ভেঙে যায়। লিমন একটা চাকু হাতে নিয়ে বিচারকের স্ত্রীকে আঘাত করার চেষ্টা করে। চিৎকার ও শব্দে নিজের ঘর থেকে বেরিয়ে এসে তৌসিফ তখন মাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল। একপর্যায়ে একটা ওড়না টেনে নিয়ে তৌসিফের গলায় প্যাঁচিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার চেষ্টা করে লিমন। ছেলেকে বাঁচাতে মা এগিয়ে এলে লিমন তাকে চাকু দিয়ে আঘাত করতে থাকে। একপর্যায়ে মা ও ছেলে একযোগে লিমনকে নিবৃত করার চেষ্টা করলে সে মাটিতে পড়ে গিয়ে ছেলের পায়ে ও শরীরে চাকু দিয়ে কয়েকটি আঘাত করে। এতে তৌসিফ অচেতন হয়ে পড়ে যায়। আহত লিমনও অচেতন হয়ে ঘরের ভেতরেই পড়ে যায়। পরে তিনজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তৌসিফকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

    পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, ঘটনার সময় ধস্তাধস্তি করতে গিয়ে লিমন মিয়ার দুই হাত কিছুটা কেটে রক্ত পড়েছে। তবে সে হাতের ওই চাকুটা জানালা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়ে মরার ভান করে মেঝেতে শুয়ে পড়ে। ঘটনার পর সিআইডির ক্রাইম সিনের টিম লিমনের চাকুটি খোঁজার চেষ্টা করে। কিন্তু ফ্ল্যাটের কোথাও না পেয়ে জানালা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে সন্দেহ করেন। পরে ভবনের পেছনের দিকের একটা ঝোপ থেকে রক্তাক্ত চাকুটি আলামত হিসাবে উদ্ধার করেন। এই চাকু হত্যা মামলার আলামত হিসাবে তদন্ত কর্মকর্তা জব্দ করেছেন।

    লিমন সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য : তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, লিমন পূর্বপরিচয়ের সূত্রে ঘটনার দিন বিচারকের বাসায় এসেছিল। প্রাথমিক তদন্তে তারা জানতে পেরেছেন লিমন গাইবান্ধার ফুলছড়ির মদনেরপাড়া ভবানীগঞ্জ গ্রামের এসএম সোলায়মান শহিদের ছেলে। লিমনের বাবা ফুলছড়ি উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। লিমন এইচএসসি পাশ করে সেনাবাহিনীতে সৈনিক পদে যোগ দিয়েছিলেন। ২০১৮ সালে তার চাকরি চলে যায়। এরপর থেকে তিনি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। সংশোধনের জন্য পরিবার তাকে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে পাঠিয়েছিল। বিচারকের স্ত্রীও কোয়ান্টামে যেতেন। ওই সময় বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। লিমন বিয়ে করলেও সংসার টেকেনি। নিজের দুঃখ-কষ্টের কথা বলে লিমন বিচারকপত্নীর সহানুভূতি পান। অর্থকষ্টের কথা বলে টাকা-পয়সা নিতেন। বিচারক আব্দুর রহমান তখন গাইবান্ধায় নারী ও শিশু আদালতের বিচারক ছিলেন। এরপর লিমন বিচারকের বাসাতেও আসা-যাওয়া করতে শুরু করেন। কিন্তু দিন দিন তার টাকা-পয়সার চাহিদা বাড়তে থাকে। এক সময় যোগাযোগ বন্ধ করেন বিচারকপত্নী।

    পুলিশ কর্মকর্তারা আরও জানান, বিচারকপত্নী গাইবান্ধা শহরের সবচেয়ে ধনী হাক্কানী পরিবারের মেয়ে। এই পরিবার গরিব-দুঃখী মানুষদের সাহায্য করে থাকেন। বিচারকের স্ত্রীর সঙ্গে পরিচয় সূত্রে লিমনও সেখান থেকে অর্থ সাহায্য নিতেন। ক্রমেই তাদের সম্পর্ক তিক্ত হতে থাকে। ৩ নভেম্বর বিচারকপত্নী সিলেটে মেয়ের বাসায় গেলে সেখানে চলে গিয়েছিল লিমন। একপর্যায়ে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়। তখনই সে পরিবারকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। ৬ নভেম্বর বিচারকের স্ত্রী সিলেটের জালালাবাদ থানায় একটি জিডিও করেছিলেন।

    আরএমপির মুখপাত্রের বক্তব্য : আরএমপির মুখপাত্র উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, বিচারকের ছেলে হত্যাকাণ্ড ও স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা মামলাটি পুলিশ একাধিক বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করছেন। লিমনের বয়ানে ভাইরাল ভিডিওতে বিচারকপত্নীর সঙ্গে পরকীয়ার দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লিমনের এই বয়ানকে সতর্কতার সঙ্গে দেখছে পুলিশ। লিমনকে কিছুটা উদভ্রান্ত ও ধুরন্ধর মনে হয়েছে। সে অপরাধের দায় থেকে বাঁচার জন্য এমন কৌশল নিতে পারে। তবে বিষয়টিকে পুরোপুরি উড়িয়ে না দিলেও এখনি আমলে নিতে পারছে না। পরিস্থিতির কারণে বিচারকের সঙ্গে পুলিশ কথা বলতে পারেনি। এছাড়া ভিকটিম লুসি ও হামলাকারী লিমন উভয়েই চিকিৎসাধীন। তারা সুস্থ হয়ে উঠলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করবে। তখন পুরো ঘটনাটি পরিষ্কার হবে। তবে লিমন যে হত্যার হুমকি দিয়েছিল এবং সে শেষ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সেটা থেকে পুলিশ ধারণা করছে এটি পরিকল্পিত। হত্যাকাণ্ড ঘটাতে সে চাকুও সঙ্গে এনেছিল। তদন্তের অগ্রগতিতে হত্যাকাণ্ডের পুরো রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে তিনি মনে করছেন।

  • এবার সামনে এলো আশরাফুল হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য, নেপথ্যে যে কারণ

    এবার সামনে এলো আশরাফুল হত্যার চাঞ্চল্যকর তথ্য, নেপথ্যে যে কারণ

    রাজধানীতে কাঁচামাল ব্যবসায়ী আশরাফুল হকের ২৬ খণ্ড লাশ উদ্ধারের পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের গেটের কাছে দুটি নীল রঙের ড্রামে তার লাশ পাওয়া যায়। এমন নৃশংস হত্যার ঘটনায় আসামি করা হয় তার বন্ধু জরেজুল ইসলামকে।

    জানা গেছে, শামীমা আক্তার নামে বিবাহিত এক নারীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়েন আশরাফুল ও জরেজ। এ নারীর সঙ্গে দুজনের ছিল ত্রিভুজ প্রেম। কিন্তু এই প্রেম তাদের বন্ধুত্বে ফাটল তৈরি করেছিল। যার জেরে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয় আশরাফুলকে।

    ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) স্বল্প সময়ের মধ্যে ভয়াবহ এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করেছে। ডিবি সূত্রে জানা গেছে, আশরাফুলকে প্রথমে বালিশ চাপা দিয়ে মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। ‌মৃত্যুর দুই দিন পর তার লাশ কেটে ২৬ টুকরো করা হয়। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন জরেজ ও পরকীয়া প্রেমিকা শামীমা আক্তার।

    এ ঘটনায় আশরাফুলের বন্ধু এবং হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামি জরেজুলকে গ্রেফতার করেছে ডিবি। গতকাল শুক্রবার রাত ১০ টার দিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয় তাকে। ‌অন্যদিকে র‍্যাব-৩ এর  একটি দল লাকসাম থেকে হত্যাকাণ্ডের আরেক আসামি পরকীয়া প্রেমিকা শামীমাকে গ্রেফতার করেছে।

    ডিবি সূত্রে জানা গেছে, শামীমা আক্তার কুমিল্লার বাসিন্দা। তার এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। শামীমার স্বামী সৌদি আরবে থাকেন। তিন বছর আগে ফেসবুক ও মেসেঞ্জারে তার সম্পর্ক হয় মালয়েশিয়া প্রবাসী জরেজুল ইসলামের সঙ্গে। ছুটিতে দেশে ফেরার সময় শামীমার সঙ্গে জরেজুলের শারীরিক সম্পর্ক হয়।

    যেভাবে হত্যা করা হয় করা আশরাফুলকে

    রংপুরে একই এলাকায় থাকা জরেজুল ও আশরাফুলের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ছিল। জরেজুলের মাধ্যমে আশরাফুলের সঙ্গে শামীমার পরিচয় হয়। এর পর আশরাফুল ও শামীমার মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জরেজুল ঢাকায় আসার পর দক্ষিণ ধনিয়ায় একটি বাসা ভাড়া নেন। শামীমা তার ছেলে-মেয়েকে কুমিল্লায় রেখে সেখানে ওঠেন। পরে আশরাফুল ও জরেজুল বাসায় একসঙ্গে যান। ওই সময় জরেজুলের সঙ্গে শামীমার শারীরিক সম্পর্ক হয়। এটি জেনে আশরাফুলও শামীমার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে চান এবং তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়।

     

    পরকীয়ায় বলি আশরাফুল, গুরুত্বপূর্ণ আলামত পেয়েছে র‍্যাব

    পরকীয়ায় বলি আশরাফুল, গুরুত্বপূর্ণ আলামত পেয়েছে র‍্যাব

     

    এ বিষয়টি টের পেয়ে যান জরেজুল। তখন ক্ষিপ্ত হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যান তিনি। বের হওয়ার সময় ভুলে আশরাফুলের মোবাইলও সঙ্গে নিয়ে যান তিনি। পরে মোবাইল নিতে ফিরে এসে জরেজুল দেখেন শামীমা ও আশরাফুল একসঙ্গে ঘুমিয়ে আছেন। ওই সময় তিনি বাসার ভেতরে লুকিয়ে রাতের জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন।

    ডিবি সূত্রে আরও জানা গেছে, রাত হলে শামীমা ও আশরাফুল আবার শারীরিক সম্পর্ক করলে জরেজুল তা মেনে নিতে পারেননি। পরে আশরাফুলকে বালিশ চাপা দিয়ে ধরেন জরেজুল। ওই সময় শামীমাও সেখানে ছিলেন। এক পর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করলে আশরাফুল মারা যান।

    হত্যার পর লাশ দুই দিন বাসার ভেতরে রাখা হয়। পরে দুজন লাশ ২৬ টুকরো করে দুটি ড্রামে ভরে গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে ফেলে দেন এবং কুমিল্লায় পালিয়ে যান।

    ঈদগাহর সামনে ড্রাম পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন স্থানীয়রা। তখন পুলিশ এসে খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে।

    জানা গেছে, আশরাফুল একটি মামলার বাদী ছিলেন। সে কারণে তার ডাটাবেজ পুলিশের কাছে ছিল। পরে সিআইডি এসে তার ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিলে তার পরিচয় শনাক্ত হয়। পরিচয় শনাক্ত হওয়ার পর থেকেই ডিবি হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু করে।

    এ ব্যাপারে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ত্রিভুজ পরকীয়া প্রেমের জের ধরে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। আশরাফুল ও জরেজুল ইসলাম একে অপরের বন্ধু হলেও শামীমা নামে এক নারীর সঙ্গে তাদের দুজনেরই পরকীয়ার সম্পর্ক গড়ে উঠে। ‌ এই সম্পর্ককে কেন্দ্র করে আশরাফুল তার বন্ধু ও তার প্রেমিকার হাতে খুন হয়। লাশ উদ্ধারের পর থেকে এ বিষয়ে ডিবি তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি সহযোগিতায় শুক্রবার রাত ১০ টায় কুমিল্লা থেকে জরেজুল ইসলামকে গ্রেফতার করে ডিবি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

  • সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে জনতার ঢল

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে জনতার ঢল

    রাজধানীর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত পরিষদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক খতমে নবুয়ত মহাসম্মেলন’। শনিবার সকাল ৯টায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ সম্মেলন শুরু হয়। এতে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের শীর্ষ আলেমদের যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। 

    মহাসম্মেলনকে কেন্দ্র করে এদিন দেশের বিভিন্ন স্থানের আলেম-ওলামা ও ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের ভোর থেকেই সম্মেলনস্থলে আসতে দেখা যায়।

    আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে অংশ নিতে এসেছেন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম পাকিস্তানের সভাপতি মাওলানা ফজলুর রহমান, জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (ভারত) সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি, বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তানের মহাসচিব মাওলানা হানিফ জালন্দরি, ইন্টারন্যাশনাল খতমে নবুওয়ত মুভমেন্টের ওয়ার্ল্ড নায়েবে আমির শায়খ আব্দুর রউফ মক্কি,পাকিস্তানের ইউসুফ বিন্নুরী টাউন মাদ্রাসার নায়েবে মুহতামিম ড. আহমাদ ইউসুফ বিন্নুরী, পাকিস্তানের মাওলানা ইলিয়াছ গুম্মান, মিসরের আল আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শায়খ মুসআব নাবীল ইবরাহিম।

    সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মিলিত খতমে নবুওয়ত মহাসম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের (ভারত) সভাপতি মাওলানা সাইয়্যিদ মাহমুদ মাদানি। 

    আয়োজক কমিটি জানিয়েছে, খতমে নবুওয়তের পবিত্র আকিদা রক্ষায় বৈশ্বিক ঐক্যের এ সম্মেলনে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এক ঐতিহাসিক দৃশ্যে পরিণত হবে। দেশের অন্যতম বড় দুই রাজনৈতিক দল—বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর পাশাপাশি ইসলামপন্থী দলগুলোর নেতাদেরও সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    সম্মেলনে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেবেন হেফাজতে ইসলামের আমির মাওলানা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আল হাইয়াতুল উলিয়া ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাওলানা মাহমুদুল হাসান, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আব্দুল মালেক, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হকসহ দেশের খ্যাতিমান শতাধিক আলেম।

    মহাসম্মেলনে সভাপতিত্ব করছেন সম্মিলিত খতমে নবুয়ত পরিষদের আহ্বায়ক ও খতমে নবুয়ত সংরক্ষণ কমিটি বাংলাদেশের আমির মধুপুরের পীর মাওলানা আবদুল হামিদ।

  • কবরস্থান লিজ নিয়ে চাঁদাবাজি  ঠিকাদার অপহরণের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

    কবরস্থান লিজ নিয়ে চাঁদাবাজি ঠিকাদার অপহরণের মামলায় প্রধান আসামি গ্রেফতার

    পুরান ঢাকার আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানকে কেন্দ্র করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের মালিক সুমন চৌধুরীকে (৪৯) অপহরণ, মারধর, চাঁদাদাবি এবং অর্থ লুটের অভিযোগে লালবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। এ ঘটনায় সরাসরি জড়িত মামলার ১ নম্বর আসামি মো. আরমানকে (৪৫) গ্রেফতার করেছে আজিমপুর সেনা ক্যাম্পের টহলরত দল। 

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকাল ৪টা ৩০মিনিটে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযানে আজিমপুর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টার থেকে তাকে করে গ্রেফতার করা হয়।

    সেনা সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আজিমপুর সেনা ক্যাম্পে নিয়ে যান। পরবর্তীতে রাতে তাকে আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে লালবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।

    এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স সুজন ভূইয়া অ্যান্ড ব্রাদার্সের মালিক সুমন চৌধুরী ২০২৪–২৫ অর্থবছরের জন্য ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) থেকে আজিমপুর পুরাতন কবরস্থানে বাঁশ, চাটাই ও কবর খননের কাজের এক বছরের সরকারি লিজ নেন। তিনি কবরস্থান সংলগ্ন নিজস্ব অফিস থেকে কাজ পরিচালনা করছিলেন। তার সঙ্গে এজাহারে উল্লেখিত দুই কর্মী কামাল খাকি ও সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন কাজ করেন।

    বাদীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার চাঁদাবাজ চক্র হিসেবে পরিচিত আরমান, মাকসুদ, রানা, বাঙ্গি, শাহানুর, রাজন, বড় ফারুক, মনির, হেলাল, জয়সহ আরও ১০–১৫ জন তার কাছে নিয়মিত ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা ব্যবসা বন্ধ করে এলাকা ছেড়ে দিতে হুমকি দেন এবং নানা সময় প্রাণনাশের ভয়ও দেখান।

    ঘটনার ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবর বিকাল ৩টা ৩০মিনিটে বাদী তার অফিসে থাকা অবস্থায় উল্লিখিত আসামিরা সেখানে প্রবেশ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পরে তারা তাকে জোরপূর্বক টেনে–হিঁচড়ে নিয়ে যান আজিমপুর সুপার মার্কেটের নিচতলায় ১ নম্বর আসামি আরমানের অফিসে। সেখানে তারা পরস্পর যোগসাজশে তাকে এলোপাথাড়ি মারধর করেন এবং ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। অফিসে ব্যবসা চালাতে হলে চাঁদা দিতে হবে, নইলে এলাকা ছাড়তে হবে—এমন হুমকিও দেওয়া হয়।

    এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ঘটনার সময় আসামি আরমান, মাকসুদ ও বাঙ্গি ভয়ভীতি দেখিয়ে সুমন চৌধুরীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা আদায় করেন। একই সঙ্গে পরবর্তী টেন্ডারে তার নাম ও কাগজপত্র বাতিল করে দেওয়ার হুমকিও দেন। ঘটনার এক পর্যায়ে ভুক্তভোগীর অভিযোগ পেয়ে আজিমপুর সেনা ক্যাম্পের টহল দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেলে আসামিরা দ্রুত সরে পড়েন। পরে পরিবার–স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে ভুক্তভোগী কিছুটা বিলম্বে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন।

    লালবাগ থানার ওসি মো. মোস্তফা কামাল খান যুগান্তরকে বলেন, সেনাবাহিনী একজনকে গ্রেফতার করে থানায় দিয়েছে। অভিযোগটি তদন্ত করা হচ্ছে, এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ‘আ.লীগ ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে’

    ‘আ.লীগ ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে’

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে; যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম।

    শনিবার সকালে শফিকুল আলম নিজের ফেসবুক পোস্টে এসব কথা বলেন।

    পোস্টে তিনি লেখেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা আমার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বরং আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    শফিকুল আলম লেখেন, বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। দলটি তাদের সংসদীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে—এমন একটি ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, শত শত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। বিক্ষোভে নামবেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াতে পারেন। কিন্তু এক-দুটি সামান্য ঘটনা ছাড়া ঘোষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। মনোনয়নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ইঙ্গিত দেয়—প্রচারণা ও নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম।

    তিনি লেখেন, আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে দেখছি এবং তা বেশ ছোট। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের একটি বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যেকোনো নির্বাচন ব্যাহত করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে—দলটির বাস্তব সংগঠিত শক্তি আসলে কতটা সীমিত। এখন তারা ক্রমেই ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, ৩০ সেকেন্ডের ‘ঝটিকা মিছিল’ করতে পারে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই শাটডাউনের মতো প্রচারণা চালাতে পারে।

     

    ‘প্রকৃত অর্থে, যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে,আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি।’

  • ঊর্ধ্বমুখী ভোজ্যতেলের বাজার, লাগামহীন পেঁয়াজের দাম

    ঊর্ধ্বমুখী ভোজ্যতেলের বাজার, লাগামহীন পেঁয়াজের দাম

    চট্টগ্রামে লাগামহীনভাবে বাড়ছে পেঁয়াজের দাম। দুই সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতিকেজি পেঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। অর্থাৎ দাম বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশের বেশি। খুচরা বাজারে ভালোমানের পেঁয়াজ ১২০-১২৫ টাকার কমে মিলছে না। চাক্তাই-খাতুনগঞ্জের আড়তদাররা বলছেন, সরবরাহ সংকট বা বিদেশ থেকে পেঁয়াজের আমদানি না থাকায় হু হু করে বাড়ছে দাম। পেঁয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভোজ্যতেলের দামও। সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া দাম বেড়েছে মাছেরও। তবে কিছুটা স্বস্তিতে সবজির বাজার। বাজারে শীতকালীন সবজি আসায় দাম কিছুটা কমেছে।

    চট্টগ্রামে বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে দিন দিন অস্থির হয়ে পড়ছে ভোগ্যপণ্যের বাজার। কোনো পণ্যের দাম কমার লক্ষণ নেই। সরকার নির্ধারিত দাম কাগজে-কলমে থাকলেও বাজারের কোথাও এ দামে পণ্য বিক্রি হচ্ছে না। এছাড়াও আটাসহ নানা পণ্যের দাম বেড়েছে। বাড়তি দামে এসব পণ্য কিনতে ক্রেতাদের নাভিশ্বাস উঠছে। এ অবস্থায় বেকায়দায় নিম্ন আয়ের লোকজন।

    চাক্তাই খাতুনগঞ্জে পেঁয়াজের দাম হু হু করে বাড়ছে। পাইকারি বাজারে ভালোমানের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১২ টাকা। দুই সপ্তাহ আগে এই দাম ছিল ৭৫-৮০ টাকা। এই মানের পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১২০-১২৫ টাকায়। মাঝারি মানের দেশি পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১০৫ থেকে ১০৮ টাকায়। আগে ছিল ৭০ টাকার কমে। এই মানের পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১১০-১১৫ টাকায়। খুচরা বাজারে আগে ছিল ৮০ টাকার কমে। আরও নিম্নমানের পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকায়। ১৫ দিন আগে এই পেঁয়াজের দাম ছিল ৬০ টাকার কমে। এই মানের পেঁয়াজ খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকার বেশি দামে।

    ব্যবসায়ীরা জানান, দেশের বৃহত্তম ভোগ্যপণ্যের বাজার খাতুনগঞ্জের আড়ত থেকে খুচরা বাজার-সবখানেই ঊর্ধ্বমুখী পেঁয়াজের বাজার। অক্টোবর মাসজুড়ে খুচরা পর্যায়ে মানভেদে ৬০-৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল পেঁয়াজ। কিন্তু চলতি নভেম্বরের শুরু থেকেই মানভেদে খুচরা বাজারে পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে এই মুহূর্তে আমদানি পেঁয়াজ নেই বললেই চলে। অক্টোবর পর্যন্ত বাজারে দেশি পেঁয়াজের সরবরাহ থাকলেও এখন কমে গেছে। দেশি পেঁয়াজের মৌসুমও শেষ। এ কারণেই বেড়েছে দাম। নভেম্বর জুড়ে দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে। কেননা ডিসেম্বরে বাজারে আগাম পেঁয়াজ আসা শুরু হবে। বিভিন্ন সময়ে দেশের অন্তত ৩শ ব্যবসায়ী পেঁয়াজ আমদানি করলেও বর্তমানে অনুমতি না থাকায় তারা প্রস্তুতি নিয়েও আমদানি করতে পারছেন না।

    খাতুনগঞ্জের হামিদুল্লাহ মিঞা মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইদ্রিস যুগান্তরকে জানান, এখনো দেশি পেঁয়াজ দিয়ে বাজার চলছে। বাজারে আমদানি করা পেঁয়াজ নেই। দেশি পেঁয়াজই বিক্রি হচ্ছে। আমদানির অনুমতি মিললে পেঁয়াজের সরবরাহ বাড়বে। দামও কমবে। তবে নভেম্বরজুড়ে পেঁয়াজের দাম কমার সম্ভাবনা খুব কম।

    চট্টগ্রামে নির্ধারিত দামের চেয়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে ভোজ্যতেল। সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি ১৯৫ টাকায় বিক্রি করার কথা থাকলেও বিক্রি হচ্ছে ২০০ বা তারও বেশি দামে। এছাড়া খোলা সয়াবিন তেলও নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।

    ১৩ অক্টোবর ভোজ্যতেলের দাম বাড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন। প্রতি লিটার সয়াবিন তেলে ব্যবসায়ীরা ১০ টাকা দাম বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তাদের মাত্র এক টাকা বাড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল। পরে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয় নতুন দাম। নতুন দাম অনুযায়ী প্রতি লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের মূল্য ৬ টাকা বাড়িয়ে ১৮৯ থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকা, খোলা সয়াবিনের দাম ৩ টাকা বাড়িয়ে ১৭৭ এবং পাম তেলের দাম ১৩ টাকা বাড়িয়ে ১৬৩ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৯৪৫ টাকা। এটা ১৪ অক্টোবর কার্যকর হয়। এখন ব্যবসায়ীরা এই নির্ধারিত দামও মানছেন না। বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন লিটারপ্রতি ২০০ থেকে ২০৩ টাকায়। খোলা সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন ১৮০ টাকার বেশি দামে। ৫ লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল বিক্রি করছেন ৯৫৫ টাকার বেশি দামে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় আরও বেশি দামে বিক্রি করছেন।

    দুই সপ্তাহ বাজারে খোলা আটার দাম বেড়ে খুচরায় প্রতি কেজি ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। যা আগে ছিল কেজিপ্রতি ৪৮ থেকে ৫০ টাকায়। প্যাকেট আটা এখনো আগের দরই রয়েছে। দাম বেড়ে দেশি মসুর ডাল বিক্রি হচ্ছে ১৬০ টাকা কেজি দরে, যা বাজারে দীর্ঘদিন ১৪০ টাকায় স্থির ছিল। বাজারে রসুনের দাম এখন কিছুটা কম। আমদানিকরা রসুন প্রতি কেজি ১৬০-১৮০ টাকা এবং দেশি রসুন ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট দেশি রসুন ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। সরু মসুর ডাল ১৩০ থেকে ১৭০, নেপালি মসুর ১৪০, ছোট মুগডাল ১৩০-১৪০, খেসারির ডাল ১০০, বুটের ডাল ১১০, মাষকলাই ডাল ১৮০, ডাবলি ৬০, ছোলা ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

    বাজার দর

    চট্টগ্রামে কাঁচাবাজারগুলোতে শীতকালীন সবজি আসতে শুরু করেছে। ফলে কিছুটা কমেছে সবজির দাম। শিম, ফুলকপি-বাঁধাকপি ৭০ থেকে ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকায় প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন ৮০ টাকা, সাদা গোল বেগুন ৮০-১০০ টাকা, কালো গোল বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাজারে প্রতিকেজি ভারতীয় টমেটো ১২০, দেশি টমেটো ১২০-১৪০ টাকা, দেশি গাজর ৮০, চায়না গাজর ১৫০-১৬০ টাকা, দেশি শসা ৫০ টাকা, করলা, কাঁকরোল, ঢেঁড়স, পটোল, ৮০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। চিচিঙ্গা ৬০, ধুন্দল ৮০, ঝিঙা ৮০, বরবটি ৬০, কচুর লতি ৬০, কচুরমুখী ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাছের দাম কিছুটা বেড়েছে। বাজারে লইট্যা ১৮০- ২০০, কোরাল ৭০০-৯০০ টাকা, আইড় ৬০০-৭৫০, চিংড়ি প্রকারভেদে ৭৫০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এছাড়া, খাল-নদী ও চাষের মাছের মধ্যে রুই ও কাতলা ৩৫০-৪৫০ টাকা, ছোট আকারের পাবদা ৪০০, মাঝারি সাইজের ৫০০ থেকে ৬০০, শিং ৪০০-৫০০ টাকা, টেংরা ৬০০-৭০০, পুঁটি ২০০-২৫০, সরপুঁটি ৩০০-৪৫০, তেলাপিয়া বড় সাইজের ২৫০-৩০০, নাইলোটিকা ২২০-২৮০, কৈ ২০০-২২০ এবং পাঙাশ ও সিলভার কার্প ১৮০-২৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়েছে।