Author: তরঙ্গ টিভি

  • এনসিপির শীর্ষ নেতারা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন

    এনসিপির শীর্ষ নেতারা কে কোন আসন থেকে নির্বাচন করবেন

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক তৎপরতায় পিছিয়ে নেই জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তীতে গড়ে ওঠা দলটি ভোটের মাঠে বেশ জোরেশোরে নেমেছে। 

    আসনকেন্দ্রিক মনোনয়ন সংগ্রহ করছেন দলটির নেতারা। ইতোমধ্যে শীর্ষ নেতারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। এ পর্যন্ত (শুক্রবার সন্ধ্যা) ১ হাজার ১১টি ফরম বিক্রি হয়েছে বলে জানা গেছে।

    ৬ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিতরণ করছে এনসিপি। ২০ নভেম্বর পর্যন্ত বিতরণ করার কথা রয়েছে। কেন্দ্রের পাশাপাশি বিভিন্ন জেলার কার্যালয় থেকেও ফরম বিরতণ করা হচ্ছে। এছাড়া মনোনয়ন ফরম নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে পূরণ ও জমা দেওয়া যাচ্ছে।

    দলটির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি ডা. তাসনিম জারা যুগান্তরকে বলেন, ‘আনন্দ-উল্লাসের মধ্য দিয়ে এনসিপির মনোনয়নপত্র বিক্রি ও জমা হচ্ছে। শীর্ষ নেতাদের অনেকে মনোনয়ন ফরম কিনছেন। বাকিরা দ্রুত সময়ের মধ্যে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করবেন। ফরম বিতরণের শুরু থেকে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল-সহকারে কার্যালয়ে আসছেন মনোনয়নপ্রত্যা  সূত্রে জানা যায়, দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ আসনে (বাড্ডা, ভাটারা ও রামপুরা) এবং সদস্য সচিব আখতার রংপুর-৪ আসনে প্রার্থী হবেন। উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম পঞ্চগড়-১, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম-আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব ঢাকা-১৪ আসনে প্রার্থী হবেন। আর এনসিপি ঘনিষ্ঠ সরকারে থাকা দুই উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ পদত্যাগ করে নির্বাচন করবেন বলে জানা যাচ্ছে। মাহফুজ আলম লক্ষ্মীপুর-১ এবং আসিফ মাহমুদ ঢাকা-১০ থেকে প্রার্থী হবেন বলে শোনা যাচ্ছে।

    এছাড়া ঢাকা-১৩ আসনে আকরাম হুসেইন, ভোলা-১ আসনে সামান্তা শারমিন, নরসিংদী-২ আসনে সারোয়ার তুষার, নোয়াখালী-৬ আসনে আবদুল হান্নান মাসউদ, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আবদুল্লাহ আল আমিন, কুমিল্লা-১০ আসনে জয়নাল আবেদীন শিশির, কুড়িগ্রাম-২ আসনে আতিক মুজাহিদ, ফেনী-২ আসনে সালেহ উদ্দিন সিফাত, চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে মোল্লা ফারুক এহসান, চট্টগ্রাম-১৬ আসনে মীর আরশাদুল হক, ঝালকাঠি-১ আসনে মশিউর রহমান, ঢাকা-৫ আসনে নিজাম উদ্দিন, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনে মাহিন সরকার, নওগাঁ-৫ আসনে মনিরা শারমিন, পটুয়াখালী-২ আসনে মুজাহিদুল ইসলাম শাহিন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে আশরাফ উদ্দীন মাহাদী, সিরাজগঞ্জ-২ আসনে এসএম সাইফ মোস্তাফিজ, বাগেরহাট-৩ আসনে মোল্যা রহমতুল্লাহ, ফেনী-১ আসনে এহসানুল মাহবুব জোবায়ের, নীলফামারী-৪ আসনে আবু সাঈদ লিয়ন, ঝালকাঠি-১ আসনে আরিফুর রহমান তুহিন এবং মেহেরপুর-২ আসনে সাকিল আহমাদ প্রার্থী হবেন বলে দলটির সূত্র জানিয়েছে।

     

    দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব ও মিডিয়া সেলের সম্পাদক মুশফিক উস সালেহীন বলেন, ‘দলের শীর্ষ নেতারা নির্বাচন করবেন। ইতোমধ্যে অনেকে মনোনয়ন ফরম কিনেছেন, বাকিরা কিছুদিনের মধ্যেই কিনবেন। তবে এখন পর্যন্ত মোট কতজন মনোনয়ন ফরম কিনেছেন তা বলতে চাচ্ছি না। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে জানাব।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিদিনই কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন জেলায় ও নির্ধারিত কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ফরম কেনার জন্য আসছেন।’

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, দলের শীর্ষ নেতা ছাড়াও সাবেক আমলা, অধ্যাপক, চিকিৎসক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ মনোনয়ন ফরম কিনছেন।

    দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করা হয়েছে মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে। কমিটির সেক্রেটারি করা হয়েছে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারাকে। গত বৃহস্পতিবার মনোনয়ন ফরম বিক্রির কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ওইদিন থেকেই প্রতিদিন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র কিনতে আসছেন মনোনয়নপ্রত্যাশীরা। প্রতিটি মনোনয়নপত্রের মূল্য ১০ হাজার টাকা করে রাখা হচ্ছে। তবে জুলাই যোদ্ধা ও স্বল্প আয়ের ব্যক্তিদের জন্য দাম রাখা হচ্ছে ২ হাজার টাকা।

  • লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়লো ৬ দোকান

    লক্ষ্মীপুরে আগুনে পুড়লো ৬ দোকান

    লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজারে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে অগ্নিকাণ্ডে ৬টি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) গভীর রাতে বাজারের তেমুহনীতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।

    ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয়রা জানায়, আজাদের সিএনজি অটোরিকশার গ্যারেজে বিদ্যুতের শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন আশে পাশের দোকান গুলোতে ছড়িয়ে পড়ে।

    খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয়দের সহায়তায় প্রায় ১ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই ৬টি দোকান পুড়ে গেছে।

    লক্ষ্মীপুর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার রঞ্জিত কুমার সাহা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বিদ্যুতের শটসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয় করা যায়নি।
  • সাভারে যুবলীগের ২ নেতা গ্রেফতার

    সাভারে যুবলীগের ২ নেতা গ্রেফতার

    সাভারের আশুলিয়ায় পৃথকস্থানে অভিযান চালিয়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন যুবলীগের দুই নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

    শুক্রবার (১৪নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান।

    এর আগে রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার ইউনিক এলাকা থেকে ও রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

    গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আশুলিয়ার মধ্য গাজীরচট এলাকার মৃত ওসমান আলীর ছেলে মো. আলী আজগর ওরফে জামাল হোসেন। তিনি আশুলিয়া থানা যুবলীগের সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন এবং অন্যজন হলেন, আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকার মৃত মোবারক আলীর ছেলে মো. জাকির হোসেন (৪০)। তিনি শিমুলিয়া ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন বলে জানা যায়।

    পুলিশ জানায়, গোপন সাংবাদের ভিত্তিতে রাত ৮টার দিকে আশুলিয়ার ইউনিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে আলী আজগর ওরফে জামাল হোসেন নামের এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। এরপরে রাত ৯টার দিকে আশুলিয়ার শিমুলিয়া কোনাপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাকির হোসেন নামের আরও এক যুবলীগ নেতাকে গ্রেফতার করা হয়।

    আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান জানান, গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আগামীকাল সকালে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হবে।
  • সবজিতে লেগেছে ‘লকডাউন’

    সবজিতে লেগেছে ‘লকডাউন’

    বিগত চার মাসের তুলনায় চলতি মাসের শুরুতে সবজির দাম কমেছিল, সেই সবজির দাম ফের বেড়েছে।

    গত সপ্তাহের তুলনায় প্রতিটি সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে বাজারে। বিক্রেতারা এর কারণ হিসেবে বলছেন, গতকালের রাজনৈতিক বিভিন্ন কর্মসূচির কারণে সবজির ট্রাক কম এসেছে ঢাকায়, ফলে সরবরাহ কমেছে। যে কারণে মূলত সবজির দাম বেড়েছে।

    আজ (শুক্রবার) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে।

    আজকের বাজারে প্রতি কেজি পটল ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে যা আগের সপ্তাহে ৬০ টাকার ঘরে ছিল। এ ছাড়া প্রতি কেজি শিম বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকায়, বেগুন প্রতি কেজি ১০০ টাকা, পেঁয়াজের ফুল প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, বরবটি প্রতি কেজি ১২০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

    এ ছাড়া প্রতি কেজি শসা ৮০ টাকা, আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকা, কচু প্রতি কেজি ৬০ টাকা, ফুলকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, বাধাকপি প্রতি পিস ৫০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচা টমেটো প্রতি কেজি ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৩০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৮০ টাকা, মূলা প্রতি কেজি ৬০ টাকা, টমেটো প্রতি কেজি ১৪০ টাকা, গাজর প্রতি কেজি ১৪০ টাকা।

    সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর বাড্ডা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, গত সপ্তাহে সবজি কম দামে কিনলাম, আজ সে সবই সবজি অতিরিক্ত ২০-৩০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আজ প্রতিটি সবজির দামই বাড়তি। শীতে মানুষ কম দামে সবজি খাবে অথচ আজ বাড়তি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে।

    সবজির দামের বিষয়ে গুলশান-বাড্ডা লিংক রোডের সবজি বিক্রেতা এরশাদ আলী বলেন, আজ কারওয়ানবাজারে গিয়ে দেখি সব সবজির দাম বাড়তি, সেই সঙ্গে আজকের বাজারে সবজি সরবরাহ অনেকটা কম। সব মিলিয়ে বাড়তি দামে সবজি কিনতে হয়েছে, যে কারণে এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে।

    কাওরান বাজারের সবজি ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম বলেন, গতকাল রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকার কারণে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তুলনামূলক সবজির ট্রাক কম এসেছে কাওরান বাজারে। মূলত শীতে শুরুতে এই সময় সবজির দাম এমন বাড়তি হওয়ার কথা না। গত সপ্তাহেও কম দাম ছিল, কিন্তু আজ মূলত সবজির সরবরাহ কম হওয়ায় সবজির দাম বেড়েছে খুচরা পর্যায়ে।

  • দেশি মুরগি ৬০০ রুই ৪০০, ব্রয়লারই এখন শেষ ভরসা!

    দেশি মুরগি ৬০০ রুই ৪০০, ব্রয়লারই এখন শেষ ভরসা!

    বাজারে চড়া দামের দেওয়াল তুলে দিয়েছে মাছ ও দেশি মুরগি। বিপরীতে ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলকভাবে অনেক কম।

    সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) রাজধানীর বাজারগুলোতে দেশি মুরগির দাম প্রতি কেজি ৬০০ টাকা আর সোনালি মুরগি ৩২০ টাকার ঘরে, অন্যদিকে ব্রয়লার মাত্র ১৭০ টাকায় কেজি বিক্রি হচ্ছে। এমন অবস্থায় মধ্যবিত্ত থেকে নিম্ন-আয়ের মানুষের প্রাণিজ প্রোটিনের একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে এটি।

    সকালে সরেজমিনে রাজধানীর উত্তরার সমবায় বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দেশি মোরগ-মুরগির দাম প্রতি কেজি প্রায় ৫৫০-৬০০ টাকা। সোনালি মুরগি বিক্রি হচ্ছে ৩২০ টাকা কেজি দরে। আর সোনালী ক্রসের দাম ২৯০ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগির বর্তমান বাজারদর কেজিপ্রতি ১৭০ টাকা। যা অন্য যেকোনো মুরগির চেয়ে প্রায় অর্ধেক বা তারও কম।

    অপরদিকে মুরগি বিক্রেতারাও জানালেন চাপে থাকার কথা। বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, ব্রয়লারের দাম কম, তাই বিক্রিও বেশি। কিন্তু আমাদের লাভের মার্জিন খুবই কম। পরিবহন ও অন্য খরচ বেড়ে যাওয়ায় মুনাফা থাকে না। তবুও চাহিদা থাকায় ব্যবসা ধরে রাখা যাচ্ছে।

    আলমগীর হোসেন নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, সোনালী-দেশি মুরগির খাবার ও রাখার খরচ অনেক বেশি। সেই তুলনায় ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ কম, বিক্রিও দ্রুত। তাই এখন অনেকেই দেশি মুরগির বদলে ব্রয়লার ফার্মে বিনিয়োগ করছেন। যার কারণে এর বাজারদর কিছুটা কম। সামনে শীতকাল আসছে। হয়তো দাম আরও কমে যাবে।

    এই বিক্রেতা আরও বলেন, ক্রেতারা আসেন, মুরগির দাম শুনে চলে যান। আবার ফিরে আসেন ব্রয়লার নিতে। মাছের চেয়ে ব্রয়লারের দাম কম থাকায় চাহিদাও বেশি।

    এর বিপরীতে ক্রেতারা বলছেন, সবকিছুর চড়া দামের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির দামই কিছুটা কম। যার কারণে অধিকাংশ মানুষই ব্রয়লার বেশি নিচ্ছেন।

    জাহাঙ্গীর আলম নামের এক ক্রেতা বলেন, পরিবারে প্রতি সপ্তাহে একবার মাংস তো চাই-ই। দেশি মুরগি কিংবা মাছ কেনার সামর্থ্য আমার নেই। ব্রয়লার দামে স্বস্তি থাকতেই আমি এটা কিনি। স্বাদ কম হলেও পেট ভরাতে পারছি এটাই বেশি।

    অন্যদিকে প্রোটিনের আরেক উৎস মাছের দামও এখন আকাশছোঁয়া। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় সব ধরনের মাছের দামই প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এর মধ্যে বড় রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, মাঝারি রুই ৩০০ থেকে ৩২০ টাকা ও ছোট রুই ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। কাতল মাছের দাম ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা, শিং মাছ ৫৫০ টাকা, মাগুর ৫০০ টাকা, চাষের কৈ ২০০ থেকে ২৫০ টাকা, পাঙাশ ১৮০ থেকে ২৩০ টাকা এবং তেলাপিয়া ১৫০ থেকে ২২০ টাকা, সিলভার কার্প মাছ ২৫০-৩০০ টাকা, বোয়াল মাছ ৫০০-৭০০ টাকা, কালিবাউশ মাছ ৪৫০ টাকা, আইড় মাছ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

    এছাড়া, অন্যান্য মাছের মধ্যে ছোট চিংড়ি ৩০০ টাকা, কাঁচকি মাছ ৪৫০ টাকা, মলা মাছ ৩০০ টাকা, পাবদা মাছ আকারভেদে ৩০০-৬০০ টাকা, গলদা চিংড়ি আকারভেদে ৬৫০-৭৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি করতে দেখা গেছে।

    একই বাজারের ফিশারিজ মার্কেটের বিক্রেতা আব্দুস সালাম বলেন, গত কয়েক মাস ধরে প্রায় সব মাছের দাম স্থির আছে, কিন্তু এটাই সমস্যা। পাইকারি দাম কমেনি, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়েছে। রুই-কাতলার দাম ৩৫০-৪৫০ টাকা, এটা সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। এখন শিং-মাগুর ৫০০ টাকার উপর, সেটাও মধ্যবিত্তের কেনার ক্ষমতায় নেই। পাঙাশ-তেলাপিয়াই এখন বিক্রি বেশি, কারণ সেটা ২০০ টাকার আশপাশে আছে।

    আরেকজন মাছ বিক্রেতা রেজাউল করিম জানান, মাছের চাহিদা কমেছে। মানুষ এখন ব্রয়লার মুরগির দিকে ঝুঁকছে। গলদা চিংড়ি ৭০০ টাকা কেজি, বোয়াল ৬০০ টাকা। এসব এখন শুধু উচ্চবিত্ত বা বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্যই কেনা হয়। সাধারণ দিনে ক্রেতারা ১৫০-২০০ টাকার তেলাপিয়া বা পাঙাশই দেখছেন।

  • ১০১১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে এনসিপি

    ১০১১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে এনসিপি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে এক হাজার ১১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত ৬ নভেম্বর থেকে আগ্রহী প্রার্থীদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বিক্রি শুরু করে দলটি।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর)  রাজধানীর বাংলামোটরে দলটির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

    তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ১ হাজার ১১টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছে। চিকিৎসক, শিক্ষক, আলেমসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ ফরম নিচ্ছে। মানুষের আগ্রহ দেখে মনোনয়ন ফরম বিক্রির সময় বাড়ানো হয়েছে। আমাদের ফরম বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ৩ হাজার।

    এদিকে দলটির মনোনয়ন প্রত্যাশীদের আবেদন সংগ্রহের সময়সীমা আগামী ২০ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পূর্বের ঘোষণা অনুযায়ী বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) মনোনয়ন সংগ্রহের শেষ সময় ছিলো। এর আগে, গত ৬ নভেম্বর থেকে মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করে দলটি।

    বৃহস্পতিবার দিনগত রাতে দলটির অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে সময় বাড়ানোর এই ঘোষণা দেওয়া হয়। এনসিপি জানায়, নতুন শিডিউল অনুযায়ী, এনসিপির মনোনয়নের জন্য আবেদন করার সর্বশেষ তারিখ আগামী ২০ নভেম্বর।

    যেভাবে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেবেন- 

    ১. অনলাইনে আবেদনের পদ্ধতি
    যে কেউ nomination.ncpbd.org ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে অনলাইনে ফর্ম পূরণ ও জমা দিতে পারবেন।

    ২. অফলাইনে আবেদনের পদ্ধতি
    মনোনয়ন আবেদন ফর্ম অফলাইনে সংগ্রহ করা যাবে দুইভাবে
    ক) সরাসরি এনসিপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে (২য় তলা)।
    খ) এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চল) অথবা বিভাগীয় ১০ জন সাংগঠনিক সম্পাদকদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে।

  • আওয়ামী লীগ ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে : শফিকুল আলম

    আওয়ামী লীগ ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে : শফিকুল আলম

    প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ফেসবুকভিত্তিক প্রতিবাদী দলে পরিণত হয়েছে; যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম।

    ‘আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলোর দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে, আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি।

    আজ (শনিবার) সকালে এক ফেসবুক পোস্টে তিনি এসব কথা লিখেছেন।

    পোস্টে তিনি লেখেন, তিনটি সাম্প্রতিক ঘটনা আমার বিশ্বাসকে আরও শক্তিশালী করেছে যে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে। বরং আমাদের সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

    ১. বিএনপির মনোনয়ন ঘোষণা শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে
    বিএনপি তাদের সংসদীয় প্রার্থীদের তালিকা ঘোষণা করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে—এমন একটি ব্যাপক আশঙ্কা ছিল। অনেকের ধারণা ছিল, শত শত বিদ্রোহী প্রার্থী দলের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন না। বিক্ষোভে নামবেন। এমনকি আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত প্রার্থীদের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষেও জড়াতে পারেন। কিন্তু এক-দুটি সামান্য ঘটনা ছাড়া ঘোষণাটি আশ্চর্যজনকভাবে শান্ত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ থেকে প্রমাণিত হয়, বিএনপি নেতৃত্ব যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়ে পরিকল্পিতভাবে কাজ করেছে। মনোনয়নের ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা ইঙ্গিত দেয়—প্রচারণা ও নির্বাচনের সময় দলের ভেতরে সংঘর্ষের সম্ভাবনা খুবই কম।

    ২. আওয়ামী লীগের সক্ষমতার সীমা স্পষ্টভাবে দেখছি এবং তা বেশ ছোট।

    বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে দাবি করে আসছে যে তাদের একটি বিস্তৃত তৃণমূল নেটওয়ার্ক রয়েছে, যা যেকোনো নির্বাচন ব্যাহত করার মতো শক্তিশালী। কিন্তু গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ প্রমাণ করে দিয়েছে—দলটির বাস্তব সংগঠিত শক্তি আসলে কতটা সীমিত। এখন তারা ক্রমেই ভাড়াটে টোকাই-ধরনের ক্ষুদ্র দুষ্কৃতকারী গোষ্ঠীর ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যারা ফাঁকা বাসে আগুন দিতে পারে, ৩০ সেকেন্ডের ‘ঝটিকা মিছিল’ করতে পারে, কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এআই শাটডাউনের মতো প্রচারণা চালাতে পারে।
    প্রকৃত অর্থে, যার মাঠে প্রকৃত সাংগঠনিক শক্তি খুব কম। আমার দীর্ঘদিনের পর্যবেক্ষণও তা-ই নির্দেশ করে, দলের তৃণমূল হয় ভেঙে গেছে, নয়তো প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক দলগুলির দ্বারা নিমজ্জিত হয়েছে। এই বাস্তবতা বিবেচনা করে,আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পক্ষে কোনো অস্থিরতা বা বিঘ্ন সৃষ্টি করার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে মনে করি।

    ৩. পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন এখন আরও সংগঠিত
    সাম্প্রতিক সময়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্থিতিশীলতা দেখেই বোঝা যায়—পুলিশ, নিরাপত্তা বাহিনী এবং স্থানীয় প্রশাসন (ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসি) এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী ও সংগঠিত। সবচেয়ে দক্ষ ও সক্ষম কর্মকর্তাদের নির্বাচন প্রক্রিয়া তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আমার দৃঢ় বিশ্বাস, তারা জাতির প্রত্যাশিত শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন সম্পন্ন করতে সক্ষম হবে।

  • ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অসুস্থ কয়েদির মৃত্যু

    ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের অসুস্থ কয়েদির মৃত্যু

    ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে শফিকুর রহমান (৮৪) নামে এক কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলের দিকে অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে আসলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    তিনি ফেনীর পরশুরাম উপজেলার গুতুমা গ্রামের সিরাজুল হকের ছেলে। তার কয়েদি নং -৪৫৫৬/এ। তবে তিনি কোন মামলায় কারাগারে ছিলেন সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।

    কারারক্ষী মনিরুল ইসলাম জানান, কয়েদি  শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় কারাগারে আজ বিকেলের দিকে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে  চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। ময়নাতদন্তের পর কারা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

     

  • ঢাকায় শীতের আমেজ, সকালের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

    ঢাকায় শীতের আমেজ, সকালের তাপমাত্রা ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস

    সারা দেশের মতো রাজধানীতেও শীতের আমেজ পাওয়া যাচ্ছে। আজ (শনিবার) (১৫ নভেম্বর) সকাল ৬টায় ঢাকার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; যা শীতের আগমনী বার্তাকে আরও স্পষ্ট করেছে। একইসাথে শেষ রাত থেকে অনুভূত হচ্ছে হালকা ঠান্ডা ও সামান্য কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ।

    এদিকে আজ সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার আকাশ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। তবে সকাল থেকে দিনের বাকি সময়টায় আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় উত্তর ও উত্তর–পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। দিনের তাপমাত্রা সাধারণত অপরিবর্তিত থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, আজ সকাল ৬টায় ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে ১৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৮৮ শতাংশ। আর গতকাল ঢাকা অঞ্চলে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২৯.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ১২ মিনিটে, আর আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ১৪ মিনিটে। গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় কোনো বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।

    অন্যদিকে, গতকাল রাতে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে প্রকাশিত পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। একই সময়ে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কক্সবাজারে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তেঁতুলিয়া ও চুয়াডাঙ্গায় ১৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

  • বিহারের ফলাফল বিস্ময়কর, নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠুভাবে হয়নি : রাহুল

    বিহারের ফলাফল বিস্ময়কর, নির্বাচন শুরু থেকেই সুষ্ঠুভাবে হয়নি : রাহুল

    বিহারের নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের পর ভোটের ফলাফল নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা এবং বর্তমানে দেশটির প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী।

    ভোট চুরির অভিযোগ সরাসরি না তুললেও এই নির্বাচনের সুষ্ঠুতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। সেই সঙ্গে যেসব ভোটার কংগ্রেস-আরজেডির জোট মহাগাঠবন্ধনের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন ভারতের প্রধান বিরোধীদলীয় নেতা।

    শুক্রবার রাতে ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক বার্তায় রাহুল গান্ধী বলেন, “বিহারের লাখ লাখ ভোটার, যারা মহাগাঠবন্ধন জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়েছেন— তাদের প্রতি অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিহারের এই ফলাফল সত্যিই বিস্ময়কর। আমরা এমন একটি নির্বাচনে জয় লাভ করতে পারিনি যা শুরু থেকেই সুষ্ঠু ছিলো না।”

    পরে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয় ১২২টি আসনে। এ দফায় ভোট পড়েছিল ৬৮ শতাংশের বেশি। দুই দফা মিলিয়ে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে এই নির্বাচনে।

    এই নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিজেপি-জনতা দল ইউনাইডেট (জেডিইউ) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবং কংগ্রেস-রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতৃত্বাধীন জোট মহাগাঠবন্ধনের মধ্যে। শুক্রবার রাতে ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, বিধানসভার ২৪২টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয় পেয়েছেনে এনডিএ জোটের প্রার্থীরা। বিরোধী মহাগাঠবন্ধন জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৩৫টি আসনে।

    এনডিএ জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল বিজেপি জয় পেয়েছে ৮৯ টি আসনে। জোটের দ্বিতীয় শরিক এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ ৮৫টি আসনে জয় পয়েছে। এছাড়া বিহারের রাজনীতিবিদ এবং ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি ১৯টি এবং আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন রাম মাঝির নেতৃত্বাধীন আওয়াম মোর্চা পার্টি জিতেছে ৫টি আসনে।

    বিহারে এর আগে লোকসভা নির্বাচন হয়েছিল ২০২০ সালে। সেই নির্বাচনের তুলনায় এবার কংগ্রেসের ফলাফল বেশ খারাপ। ২০২০ সালে বিহার বিধানসভার ৭০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল কংগ্রেস, জয় পেয়েছিল ১৯টি আসনে। এবার ৬১ আসনে প্রার্থী দিয়ে মাত্র ৬টিতে জয় পেয়েছে কংগ্রেস।

    মহাগাঠবন্ধনের আরেক শরিক আরজেডির ফলাফল কংগ্রেসের চেয়েও খারাপ। ২০২০ সালের নির্বাচনে ১৪৪ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৭৫টিতে জয় পেয়েছিল আরজেডি। এবার ১৪৩টি আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৫টিতে জয়ী হয়েছে দলটি।

    “আমাদের লড়াই সংবিধান ও গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াই। কংগ্রেস এবং ইনডিয়া জোট এই ভোটের ফলাফল গভীরভাবে পর্যালোচনা করবে গণতন্ত্রকে রক্ষার লড়াইকে অধিকতর কার্যকর করতে আরও বেশি সচেষ্ট হবে”, এক্সপোস্টে বলেছেন রাহুল গান্ধী।