Author: তরঙ্গ টিভি

  • চট্টগ্রাম বন্দর  নিউমুরিং টার্মিনাল আপাতত বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর নয়

    চট্টগ্রাম বন্দর নিউমুরিং টার্মিনাল আপাতত বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর নয়

    চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) আপাতত বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, এই মর্মে জারি করা রুলের চূড়ান্ত শুনানির জন্য বুধবার দিন নির্ধারণ করেছেন হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি ফাতেমা নজীব ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ দিন ধার্য করেন।

    একই সঙ্গে, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল রুল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না বলে আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

    পরে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম বলেন, আদালত বুধবার রুলের বিষয়ে বিস্তারিত শুনবেন। আমরা আবেদন জানিয়েছিলাম রুল শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত যেন নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর না করা হয়।

    অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান আদালতকে আশ্বস্ত করেছেন রুল শুনানি শেষ না হওয়া হওয়া বিদেশিদের কাছে হস্তান্তর করা হবে না। ৩০ জুলাই এনসিটি পরিচালনায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ব বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন হাইকোর্ট।

  • আজকের আবহাওয়ার খবর: ১৪ নভেম্বর ২০২৫

    আজকের আবহাওয়ার খবর: ১৪ নভেম্বর ২০২৫

    অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সেই সঙ্গে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী ৬ ঘণ্টার জন্য ঢাকাসহ সারা দেশের পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়।

    এতে বলা হয়, ঢাকাসহ সারা দেশের আকাশ আজ পরিষ্কার থাকতে পারে। সেইসঙ্গে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। এ ছাড়া আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

    এ সময় দক্ষিণ/দক্ষিণপূর্বদিক থেকে ঘণ্টায় ৬ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে।

    এদিকে সকাল ৬টায় ঢাকায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৮৫ শতাংশ। গতকালের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    এদিকে সবশেষ সারা দেশের জন্য দেওয়া ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে—আজ অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারা দেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারা দেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

  • রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হলো

    রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হলো

    জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ আইনজীবী ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারির মাধ্যমে জনগণের সার্বভৌম ক্ষমতার প্রয়োগ (১০৬ নয়), সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, উচ্চ কক্ষে পিআর পদ্ধতি চালু, রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত হলো।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে আইনজীবী শিশির মনির এ মন্তব্য করেন।

    এর আগে বৃহস্পতিবার জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন করা হয়। এরপর জাতির উদ্দেশে ভাষণে আদেশের বিষয়বস্তু ও বাস্তবায়ন পদ্ধতির তথ্য তুলে ধরেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। চারটি বিষয়ে অনুষ্ঠিত হবে গণভোট। গণভোটের দিন এই চার বিষয়ের ওপর একটিমাত্র প্রশ্নে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়ে জনগণ মতামত জানাবেন।

    ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন ‘আমরা সব বিষয় বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোটের আয়োজন করা হবে। অর্থাৎ জাতীয় নির্বাচনের মতো গণভোটও ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এতে সংস্কারের লক্ষ্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত হবে না।’ গণভোট অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে উপযুক্ত সময়ে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

  • ‘আমাদের কেন একজন গণহত্যাকারীর সত্যায়ন দরকার হলো?’

    ‘আমাদের কেন একজন গণহত্যাকারীর সত্যায়ন দরকার হলো?’

    অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, অনেকেই এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য—জুলাই বিপ্লবে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পৃক্ততা ছিল না—এটি শেয়ার করছেন। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘কিন্তু আমরা কি এটা আগে জানতাম না? আমাদের নিজস্ব রাজনৈতিক ইতিহাস বোঝার জন্য কেন একজন গণহত্যাকারীর সত্যায়ন দরকার হবে?’

    তার মতে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর জুলাই বিপ্লব ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণগুলোর একটি। এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের সাজানো ঘটনা বলা জনগণের শক্তি, ভূমিকা ও বাস্তবতাকে অস্বীকার করার শামিল।

    শফিকুল আলম আরও বলেন, শেখ হাসিনা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যক্তিগত ট্রমার প্রভাব নিয়ে রাজনীতি করেছেন। তিনি জটিল পিটিএসডি (পোস্ট ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার)-এর এক উদাহরণ ছিলেন। তার টানা ১৬ বছরের শাসনামলে প্রায় প্রতিটি বড় বক্তৃতার তৃতীয় বা চতুর্থ প্যারাতেই তিনি পরিবারের হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলতেন। এটি তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিকে দীর্ঘ সময় প্রভাবিত করেছে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ক্ষমতা হারানোর পর শেখ হাসিনা প্রায়ই বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের গল্প সামনে আনতেন। ২০০১ সালের নির্বাচনের পর তিনি দাবি করেছিলেন, একটি মার্কিন কোম্পানিকে গ্যাস রপ্তানির অনুমতি না দেওয়ায় তিনি নির্বাচনে হেরেছেন। পরে সেন্ট মার্টিন নিয়ে আরেক দাবি করেন—যা নিয়ে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো মার্কিন কর্মকর্তা কখনো মন্তব্য করেননি।

    প্রেস সচিবের ভাষায়, শেখ হাসিনা অনেক সময় নিজেই নিজের তৈরি নানা বয়ানে আটকে পড়তেন। তবুও শেষ সময়ে তার চারপাশের কিছু সমর্থক—বিশেষ করে প্রো–আওয়ামী লীগ মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের একটি অংশ—তার প্রতি এক ধরনের আধ্যাত্মিক মর্যাদা আরোপ করেন। তাকে ‘জিন্দা পীর’ বলা হতো। শেষ সময়ে গণভবনে ‘কদম্বুসি’ যেন প্রকাশ্য ভালোবাসা-সম্মানের একটি রীতি হয়ে দাঁড়ায়।

    শফিকুল আলম জানান, এখনো অনেকে মনে করেন শেখ হাসিনা বিদেশি সমর্থনে আবারও নাটকীয়ভাবে ক্ষমতায় ফিরবেন। আশ্চর্যের বিষয়, বহু শিক্ষিত, ধর্মনিরপেক্ষ পরিচয়ের মানুষও এ বিশ্বাস আঁকড়ে ধরে আছেন। তাদের তিনি আখ্যা দেন ‘নীরব কদম্বুসিওয়ালা’—যারা প্রকাশ্যে আনুগত্য দেখাতে না পারলেও ব্যক্তিগতভাবে সুযোগ পেলে সেই রীতিই পালন করতে প্রস্তুত।

  • ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চাইল বিবিসি

    ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চাইল বিবিসি

    যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে ক্ষমা চেয়েছে যুক্তরাজ্যের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম বিবিসি। সংবাদমাধ্যমটি একটি প্রামাণ্যচিত্রে তার বক্তৃতা এমনভাবে সম্পাদনা করেছিল যাতে মনে হচ্ছিল ট্রাম্প সহিংসতার আহ্বান জানাচ্ছেন।

    এ ঘটনায় ট্রাম্প আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন। অবশ্য বিবিবি জানিয়েছে, তারা ক্ষমা চাইছে ঠিকই, কিন্তু ট্রাম্পের মানহানির অভিযোগের কোনও ভিত্তি তারা খুঁজে পায়নি। শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

    বিবিসি বলছে, সংস্থার চেয়ারম্যান সামির শাহ হোয়াইট হাউসে চিঠি পাঠিয়ে ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন— প্যানোরামা অনুষ্ঠানের জন্য তৈরি ওই প্রামাণ্যচিত্রে তার বক্তব্য যেভাবে কাটা ও সাজানো হয়েছিল, সেটির জন্য তারা দুঃখিত। একই সঙ্গে তারা বলেছে— এই প্রামাণ্যচিত্র আর কোনও প্ল্যাটফর্মে দেখানো হবে না।

    বিবিসির ভাষায়, “ভিডিও ক্লিপটি যেভাবে সম্পাদিত হয়েছিল তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত। তবে মানহানির অভিযোগ তোলার মতো কোনও কারণ আছে বলে আমরা মনে করি না।”

    মূলত ‘ট্রাম্প: আ সেকেন্ড চ্যান্স?’ নামে প্রামাণ্যচিত্রটি বানিয়েছিল তৃতীয় পক্ষের একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। সেখানে ২০২১ সালের ৬ জানুয়ারির ট্রাম্পের ভাষণ থেকে দুই ভিন্ন সময়ের তিনটি অংশ কেটে একত্র করা হয়। দুই অংশের ব্যবধান ছিল প্রায় এক ঘণ্টা। সমালোচকদের অভিযোগ— এইভাবে জোড়া লাগিয়ে এমন একটা দৃশ্য তৈরি করা হয়, যাতে মনে হয় ট্রাম্প সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে ও “ফাইট লাইক হেল” বলে উত্তেজিত করছেন।

    একইসঙ্গে ট্রাম্প সেসময় স্পষ্টভাবে তার সমর্থকদের শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানালেও ডকুমেন্টারি থেকে সেই অংশ বাদ দেওয়া হয়েছে।

    ট্রাম্পের সেই ভাষণের পর তার বহু সমর্থক ওয়াশিংটনের ক্যাপিটল ভবনের দিকে এগিয়ে যায় এবং ভবনে ঢুকে পড়ে। তাদের উদ্দেশ্য ছিল ২০২০ সালের নির্বাচনের ফল অনুমোদনের প্রক্রিয়া ব্যাহত করা। ওই নির্বাচনে ট্রাম্প হেরেছিলেন।

    এই প্রামাণ্যচিত্রটি প্রচারিত হয়েছিল ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের কয়েক দিন আগে। আর সেই নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত ট্রাম্প জিতেছিলেন।

    পরে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বিবিসিকে নোটিশ দিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রত্যাহার, প্রেসিডেন্টের কাছে ক্ষমা এবং সৃষ্ট ক্ষতির ক্ষতিপূরণ দিতে বলেছিলেন। না হলে কমপক্ষে ১ বিলিয়ন ডলারের মামলা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তাদের অভিযোগ, প্রামাণ্যচিত্রে ট্রাম্পকে নিয়ে “মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর” বক্তব্য দেখানো হয়েছে।

    এই ঘটনায় বিবিসির মহাপরিচালক টিম ডেভি এবং বার্তা বিভাগের প্রধান ডেবোরা টার্নেস পদত্যাগ করেছেন। টার্নেস বলেছেন, “বিবিসি নিউজ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্সের দায়িত্ব আমার কাঁধেই।”

    আর ডেভি তার বিদায়ী বক্তব্যে বলেন, ভুল হয়েছে ঠিকই, তবে বিবিসি এখনো সাংবাদিকতার “গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড” হিসেবে বিবেচিত।

    আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র— কোনো দেশেই ট্রাম্পের পক্ষে এই মামলা জেতা সহজ হবে না। কারণ, বিবিসি দেখাতে পারবে যে এই ঘটনার ফলে ট্রাম্পের আসলে কোনও ক্ষতি হয়নি। কারণ তিনি তো শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের নির্বাচনেই জয়ী হয়েছেন।

    এছাড়া যুক্তরাজ্যে মামলা করার সময়সীমা পেরিয়ে গেছে এক বছর আগে। আর সেখানকার মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণের অংক সচরাচর এক লাখ পাউন্ডের বেশি হয় না। যেহেতু প্রামাণ্যচিত্রটি যুক্তরাষ্ট্রে প্রচারিত হয়নি, তাই মার্কিন নাগরিকরা ট্রাম্প সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পেয়েছেন— এটা প্রমাণ করাও কঠিন হবে।

    যদিও অনেক বিশেষজ্ঞ ট্রাম্পের এসব অভিযোগকে তুচ্ছ মনে করেন, কারণ তিনি অতীতে বেশ কয়েকটি মার্কিন মিডিয়া হাউসের বিরুদ্ধে মামলা করে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ আদায় করেছেন। ফলে বিবিসির এই ভুলকে কাজে লাগিয়ে তিনি নতুন করে কোনও সমঝোতা চাইতে পারেন— সম্ভবত তার পছন্দের কোনও দাতব্য প্রতিষ্ঠানের জন্য।

    এর আগে ট্রাম্প এবিসি ও সিবিএস— এই দুই মার্কিন টিভি নেটওয়ার্কের সঙ্গে মামলা করে সমঝোতায় পৌঁছেছেন। সেসময়ও তার দাবি নিয়ে প্রশ্ন ছিল, কিন্তু তবুও এবিসি ১৫ মিলিয়ন ডলার এবং সিবিএসের মালিক প্যারামাউন্ট ১৬ মিলিয়ন ডলার দিয়ে মামলা মিটিয়ে নিয়েছিল।

  • খেলাফত যুব মজলিস নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা, ইসলাম ও জনগণের নিরাপত্তার বড় হুমকি

    খেলাফত যুব মজলিস নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা, ইসলাম ও জনগণের নিরাপত্তার বড় হুমকি

    কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতা, ইসলাম ও জনগণের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি বলে মন্তব্য করেছে বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস।বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) আওয়ামী লীগের দেশজুড়ে নাশকতা সৃষ্টির অপচেষ্টা প্রতিরোধ এবং জুলাইসহ অতীতের সব গণহত্যার বিচার দ্রুত কার্যকরের দাবিতে রাজধানীর পল্টনে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল শেষে বক্তারা এ মন্তব্য করেন।

    মিছিলের নেতৃত্ব দেন সংগঠনের মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মাদ মিজানুর রহমান।

    পল্টন ও প্রেসক্লাব এলাকায় অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন– বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা ফয়সাল আহমদ, কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, যুব মজলিস কেন্দ্রীয় সভাপতি পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল্লাহ আশরাফ এবং মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা ছানাউল্লাহ আমিনীসহ শতাধিক কর্মী।

    বিক্ষোভ-পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এখনও আগের মতোই নাশকতা, হত্যা ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি করছে। তারা দেশের স্বাধীনতা, ইসলাম ও জনগণের নিরাপত্তার সবচেয়ে বড় হুমকি। পলাতক ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে যাচ্ছে।

    বক্তারা আরও বলেন, জুলাইসহ অতীতের সব গণহত্যা ছিল পূর্বপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস। এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত কার্যকর না হলে দেশ আবারও একই অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে। বাংলাদেশ খেলাফত যুব মজলিস এসব হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকবে।

    সমাবেশে সতর্ক করে বলা হয়, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে জনগণই সেই অপশক্তিকে রাস্তায় প্রতিরোধ করবে। তরুণ প্রজন্ম প্রস্তুত আছে– দেশকে ফ্যাসিবাদী রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে।

    একই দাবিতে যুব মজলিসের উদ্যোগে ঢাকার উত্তর মহানগর, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদী, ফেনী, নোয়াখালী, কক্সবাজার, হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও বগুড়ায়ও বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

  • বরগুনায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আ. লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

    বরগুনায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আ. লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

    বরগুনায় সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনার পরপরই আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এর আগে, একইদিন রাতে আমতলী উপজেলার বাঁধঘাট চৌরাস্তা নামক এলাকায় পার্কিং করে রাখা স্বর্ণা পরিবহন নামের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ ঢাকা পোস্টকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. আতাউর রহমান রাসেল (২৯), গুলিসাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. পারভেজ খান (২৮), পৌর যুবলীগ সদস্য মো. তম্ময় গাজী (৩৩), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. কাওছার আহমেদ রনি (৩৩) ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী মো. ছগির মল্লিক (২৩)।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমতলী ফেরিঘাট-সংলগ্ন একটি সড়কের পাশে স্বর্ণা পরিবহন নামের বাসটি পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। মধ্যরাতে হঠাৎ ওই বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের খবরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ সময় বাসের মধ্যে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে রাতেই আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    এ বিষয়ে আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমতলীতে পার্কিং করে রাখা স্বর্ণা পরিবহন নামের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার কারা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছে ৩৫ পরিবার

    বাপ-দাদার পেশা ধরে রেখেছে ৩৫ পরিবার

    সংগীত জগতের বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরি হয় মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বালিয়াখোড়া ইউনিয়নের দাসপাড়া গ্রামে। এ কারণে গ্রামটিকে ঢোলের গ্রামও বলা হয়। বাপ-দাদাদের কাছ থেকে প্রাপ্ত বাদ্যযন্ত্র তৈরির কলাকৌশল, জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে জীবিকা অর্জনের পাশাপাশি নিজস্ব ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন দাসপাড়ার ৩৫টি পরিবারের সদস্যরা। ঢাক-ঢোলসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরি তাদের জীবিকা নির্বাহ ও জীবন ধারণের প্রধান মাধ্যম।

    তবে আগের মতো জারি, সারি, বিচার ও কীর্তনসহ বিভিন্ন ধরনের লোকসংগীত না হওয়ায় কমেছে এই বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজ। প্রতিমাসে ২০ থেকে ৩০টি ঢাক-ঢোল আর ৩০ থেকে ৪০টি তবলা-ডুগি তেরি করতে পারে একটি পরিবার।

    জানা গেছে, ঢোলের গ্রামের ঢাক-ঢোল, তবলা-ডুগিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের চাহিদা বাড়ে গান-বাজনার আয়োজন বেশি হলে। তবে বিভিন্ন উৎসব-পার্বণেও কাজের চাপ বেড়ে যায়। বিশেষ করে সনাতন ধর্মের বড় উৎসব দুর্গাপূজাতে ব্যস্ততা বাড়ে। ৭ থেকে ১৫ দিনে তৈরি করা একটি ঢাকের পেছনে খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। আর বিক্রি হয় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবলা-ডুগি সেট তৈরিতে খরচ হয় ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা আর বিক্রি হয় ৫ থেকে ৬ হাজার টাকায়। অন্যদিকে হারমোনিয়াম তৈরিতে খরচ হয় ৭ থেকে ৯ হাজার টাকা আর বিক্রি হয় ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকায়।

    সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত চলে বাদ্যযন্ত্র তৈরির কাজ। ঢোলের গ্রামে ঢাক-ঢোল, তবলা-ডুগি, খমক, হাত বায়া, খোল ও হারমোনিয়ামসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র তৈরি হয়। কেউ তবলা তৈরিতে ব্যস্ত, আবার কেউ ঢাক-ঢোল, কেউ আবার তবলা-ডুগিতে লাগাচ্ছেন মহিষের চামড়া। ঢাকা-ঢোল, তবলা-ডুগি, খমক, হাত বায়া, খোল ও হারমোনিয়ামসহ অন্যান্য বাদ্যযন্ত্রগুলো তৈরিতে উপকরণ হিসেবে ব্যবহার করা হয় সেগুন, বার্মটিক সেগুন, আম, নিম, কড়ই, কদম, জামরুল ও মেহগনি কাঠ। চামড়া হিসেবে ব্যবহার করা হয়, মহিষ, গরু ও ছাগলের।

    কারিগর সুমন দাস বলেন, বংশপরম্পরায় এই পেশায় জীবিকা ও সংসার চলছে। তবে সরকারিভাবে সহায়তা বা ক্ষুদ্র ঋণ পেলে ব্যবসাকে বাড়াতে পারবেন। তৈরিকৃত এসব বাদ্যযন্ত্র বিদেশে রপ্তানির ব্যবস্থা হলে আমাদের আয় রোজগার বাড়তো। এতে সরকার একদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতো আর অন্যদিকে আমাদের ভাগ্যের চাকাও বদলে যেত।

    দাসপাড়ার বাসিন্দা কারিগর প্রাণ কৃষ্ণ দাস বলেন, আগের মতো এখন গান-বাজনার অনুষ্ঠান না হওয়াতে কাজ অনেক কম হয়। তবে পালা, জারি, সারি বা সংগীতের অনুষ্ঠান বেশি হলে আমাদের কাজের ব্যস্ততা বেড়ে যায়। বছরের সবচেয়ে বেশি কাজের অর্ডার পাই দুর্গাপূজার সময়। এ ছাড়া সারা বছরই কম-বেশি আমাদের কাজ থাকে।

    ঢাক তৈরির কারিগর রাজ কুমার দাস বলেন, কাঠ, চামড়াসহ ঢাক-ঢোল তৈরির বিভিন্ন উপকরণের দামও আগের থেকে এখন বেশি দামে কিনতে হয়। একটি ঢাক-ঢোল তৈরি করতে আমাদের খরচ হয় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আর বিক্রি করি ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকায়। যা লাভ হয় তা দিয়েই আমাগো সংসার চলে। বাপ-দাদার কাছ থেকে এই কাজ শিখেছি, অন্যকাজ তো আর শিখতে পারি নাই। তবে নিজের তৈরি বাদ্যযন্ত্র যখন দেখি কোনো অনুষ্ঠানে বাজানো হচ্ছে, তখন খুব ভালো লাগে।

    ঘিওর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাশিতা-তুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, আপনার মাধ্যমেই বিষয়টি শুনলাম, ঢোলের গ্রাম হিসেবে পরিচিত দাসপড়া গ্রাম অবশ্যই পরিদর্শনে যাব। সরকারি নিয়মনীতির মধ্যে থেকে তাদেরকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

  • মানিকগঞ্জে মধ্যরাতে স্কুলবাসে আগুন, ঘুমন্ত চালক দগ্ধ

    মানিকগঞ্জে মধ্যরাতে স্কুলবাসে আগুন, ঘুমন্ত চালক দগ্ধ

    মানিকগঞ্জের শিবালয়ে মধ্যরাতে একটি স্কুলবাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ সময় বাসের ভেতরে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা চালক গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন। তাকে উদ্ধার করে ঢাকায় পাঠনো হয়েছে।

    শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) মধ্যরাতে উপজেলার ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ফলসাটিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

    দগ্ধ চালক তাবেজ খান (৪৫) সদর উপজেলার বারাইবিকুরা গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে। রাতে তিনি গাড়িতেই ঘুমিয়ে ছিলেন।পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, মানিকগঞ্জ শহরের দি হলি চাইল্ড স্কুল ও কলেজের একটি বাস ফলসাটিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পার্কিং করে রাখা ছিল এবং চালক তাবেজ খান বাসের মধ্যে ঘুমিয়ে ছিলেন। হঠাৎ রাত দেড়টার দিকে দুর্বৃত্তরা বাসটিতে আগুন দেয়। মুহূর্তেই বাসটিতে আগুন ছড়িয়ে পরে।

    খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে শিবালয় থানার পুলিশ বাসের চালককে উদ্ধার করে জেলার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠান। তবে চালকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের কর্মরত চিকিৎসক তাকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার্ড করেন। অন্যদিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    শিবালয় থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন চক্রবর্তী বলেন, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ফলসাটিয়া এলাকায় একটি বাসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা—এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের চালককে দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • জাতীয় ঈদগাহের সামনে ড্রামভর্তি খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় মিলেছে

    জাতীয় ঈদগাহের সামনে ড্রামভর্তি খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় মিলেছে

    রাজধানীর জাতীয় ঈদগাহের সামনে নীল রঙের দুটি ড্রামে থাকা খণ্ডিত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নিহতের নাম মো. আশরাফুল হক (৪৩)। রংপুরের বদরগঞ্জের শ্যামপুরে তার বাড়ি। তার বাবার নাম মো. আব্দুর রশিদ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাত সোয়া ৭টার দিকে সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে পরিচয় শনাক্ত করে। সিআইডির টিম মরদেহের ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে তার পরিচয় বের করে।

    তবে কারা কীভাবে তাকে হত্যা করে জাতীয় ঈদগাহের সামনের সড়কে রেখে গেছে তা এখনও বের করতে পারেনি পুলিশ।

    এ বিষয়ে ডিএমপির রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, আজ বৃহস্পতিবার দুপুর দুইটা থেকে আড়াইটার মধ্যে একটি ভ্যানে দুজন ব্যক্তি এসে ড্রাম দুটি রাস্তার পাশে রেখে যায়। স্থানীয়রা এতটুকু বলতে পারছে। সন্ধ্যার দিকে যখন দুর্গন্ধ ছড়ায় তখন পুলিশকে খবর দিলে ড্রাম খুলে চালের মধ্য থেকে কালো পলিথিনে মোড়ানো খণ্ডিত মরদেহ বের করা হয়।

    তিনি জানান, আশেপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে পরবর্তীতে জড়িতদের শনাক্তে চেষ্টা করা হবে।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ এসে ড্রাম দুটি খুলে অজ্ঞাত পরিচয় এক পুরুষের খণ্ডিত মরদেহ দেখতে পায়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, মরদেহ থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। দুটি নীল রঙের ড্রাম থেকে মরদেহ বের করা হয়। ড্রামের মধ্যে চাল ছিল এবং কালো পলিথিন দিয়ে মোড়ানো ছিল মরদেহের খণ্ডিত অংশ।

    শাহাদাত হোসেন নামের একজন ড্রাম দুটি খুলে মরদেহ বের করেন। তিনি জানান, পুলিশ এসে ড্রাম খুলতে বললে আমি ড্রাম খুলি। এরপর দুটি ড্রাম খুলে একজনের একাধিক খণ্ডে খণ্ডিত মরদেহ বের করি।

    পুলিশের ধারণা, দু-একদিন আগে হত্যার পর হত্যাকারীরা এখানে ড্রামে করে মরদেহ ফেলে গেছে।