Author: তরঙ্গ টিভি

  • বরগুনায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আ. লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

    বরগুনায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আ. লীগের ৫ নেতাকর্মী গ্রেপ্তার

    বরগুনায় সড়কের পাশে পার্কিং করে রাখা একটি যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দিবাগত রাতে ঘটনার পরপরই আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এর আগে, একইদিন রাতে আমতলী উপজেলার বাঁধঘাট চৌরাস্তা নামক এলাকায় পার্কিং করে রাখা স্বর্ণা পরিবহন নামের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

    আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ ঢাকা পোস্টকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

    গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—আমতলী উপজেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি মো. আতাউর রহমান রাসেল (২৯), গুলিসাখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. পারভেজ খান (২৮), পৌর যুবলীগ সদস্য মো. তম্ময় গাজী (৩৩), পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য মো. কাওছার আহমেদ রনি (৩৩) ও সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী মো. ছগির মল্লিক (২৩)।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আমতলী ফেরিঘাট-সংলগ্ন একটি সড়কের পাশে স্বর্ণা পরিবহন নামের বাসটি পার্কিং করে রাখা হয়েছিল। মধ্যরাতে হঠাৎ ওই বাসটিতে অগ্নিসংযোগ করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তেই আগুন পুরো বাসে ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজনের খবরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। তবে এ সময় বাসের মধ্যে কেউ না থাকায় হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। পরে এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে রাতেই আমতলীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আমতলী উপজেলা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

    এ বিষয়ে আমতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আমির হোসেন সেরনিয়াবাদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমতলীতে পার্কিং করে রাখা স্বর্ণা পরিবহন নামের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পরপরই অভিযান চালিয়ে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার কারা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

  • চীনের প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণে স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্ত রোবোটিক থেরাপি : হাঁটার আশা ফিরছে ‘শয্যাশায়ী’ রোগীদের

    চীনের প্রযুক্তি-প্রশিক্ষণে স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্ত রোবোটিক থেরাপি : হাঁটার আশা ফিরছে ‘শয্যাশায়ী’ রোগীদের

    বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার। চীনের প্রযুক্তি এবং বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পরিচালিত এই সেন্টারটি শুধু আধুনিক নয়, বরং পক্ষাঘাতগ্রস্ত বা দুর্ঘটনায় শয্যাশায়ী রোগীদের জন্য জীবন পরিবর্তনকারী সেবা প্রদান করছে।

    ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে সেবাপ্রাপ্তদের মধ্যে যারা বিছানা থেকে উঠতেও পারতেন না, তারা ধীরে ধীরে হাঁটার শক্তি ফিরে পাচ্ছেন। এমনকি এই অল্প কিছুদিনের আধুনিক ও উন্নতমানের সেবায় আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার নতুন ভোরের গল্প শোনাচ্ছেন রোগীদের অনেকেই।

    হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশের প্রথম এআইভিত্তিক এই রোবটিক সেন্টারের অগ্রণী সেবা দেশের হাজার হাজার রোগীর জন্য নতুন আশা তৈরি করবে। এমনকি জটিল এসব রোগের চিকিৎসায় বিদেশ নির্ভরতা কমবে।

    রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে রয়েছে ৬২টি রোবট, যার মধ্যে ২২টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর। এই রোবটগুলো রোগীর শরীরের নড়াচড়া, পেশির প্রতিক্রিয়া, ব্যথার মাত্রা ও ভারসাম্য বিশ্লেষণ করে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চিকিৎসা প্রক্রিয়া চালায়। এছাড়া প্রতিটি রোবটে সংযুক্ত রয়েছে সেন্সর-ভিত্তিক ফিডব্যাক সিস্টেম, যা চিকিৎসককে রিয়েল টাইম ডেটা দেয়। যেমন— কোনো স্ট্রোক রোগীর ডান হাতে কতটা শক্তি ফিরে এসেছে, পেশির স্পন্দন কীভাবে সাড়া দিচ্ছে, হাঁটার সময় ভারসাম্য কোথায় ভেঙে যাচ্ছে— সবকিছু তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপ করে রোবট নিজেই থেরাপির মাত্রা নির্ধারণ করতে পারে।

    চিকিৎসকরা জানান, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা বা দীর্ঘমেয়াদি ব্যথার মতো জটিল রোগে আক্রান্তদের জন্য ব্যক্তিনির্ভর ও নিখুঁত চিকিৎসা প্রদান সম্ভব হবে।

    বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এই রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারটি মোট ৬২টি রোবোটিক ইউনিট দ্বারা সজ্জিত, যার মধ্যে ২২টি সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা চালিত। প্রতিটি যন্ত্র নির্দিষ্ট শারীরিক পুনর্বাসন চাহিদার ওপর ভিত্তি করে ডিজাইন করা হয়েছে। এর আওতায় থাকবে রোবোটিক গেইট ট্রেইনিং সিস্টেম, এক্সোস্কেলিটন থেরাপি, রোবোটিক আর্ম রিহ্যাবিলিটেশন ডিভাইস, এআই-বেইজড নিউরোফিডব্যাক সিস্টেম এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (ভিআর) থেরাপি সিস্টেমসহ আরও অসংখ্য রোবোটিক যন্ত্রপাতি।

    রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে দায়িত্বরত এক ফিজিওথেরাপিস্ট ঢাকা পোস্টকে বলেন, এই রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে অন্যতম আকর্ষণ হচ্ছে রোবোটিক আর্ম এক্সোস্কেলেটন, যা ব্যবহৃত হবে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের হাঁটার ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে। রোগীর শরীরের বাইরের অংশে লাগানো হয় এই যন্ত্রটি, যা পায়ের চলাচলকে স্বাভাবিক করার চেষ্টা করে। এছাড়া আহতদের চিকিৎসায় মাল্টি-অ্যাংগেল মুভমেন্ট ট্রেইনার ব্যবহার করা হবে স্ট্রোক বা নার্ভ ইনজুরিতে আক্রান্তদের জন্য। এটি রোগীর হাত বা পা নড়াচড়ায় সহায়তা করে এবং থেরাপির মাধ্যমে নার্ভ সিস্টেমের পুনরুজ্জীবন ঘটায়।

    তিনি বলেন, সেন্টারটিতে থাকছে ইন্টেলিজেন্ট ব্যালান্স সিমুলেটর নামের একটি যন্ত্র, যাদের মেরুদণ্ড বা ব্রেইন ইনজুরির ফলে শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করতে সমস্যা হয়, এটি তাদের সাহায্য করবে। এই যন্ত্রটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ভিত্তিক, যেখানে রোগীরা ভার্চুয়াল ট্র্যাক অনুসরণ করে চলাফেরা শিখতে পারেন। এ ছাড়া, ফিঙ্গার মোবিলাইজার ও পাম-গ্লাভ থেরাপি ইউনিট ব্যবহার করে হাতের প্যারালাইসিস বা গিলিয়েন-ব্যারে সিনড্রোমে আক্রান্তদের হাতের শক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করা হয়।

    ১৩ জন রোগীর সফল চিকিৎসা, দ্রুত হাঁটার আশা ফিরছে তাদের

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার ইতোমধ্যে ১৩ জন রোগীর চিকিৎসা সম্পন্ন করেছে। এদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ এবং দুজন মহিলা, যাদের বয়স ১৭ থেকে ৬১ বছর পর্যন্ত। প্রতিটি রোগীকে দেওয়া হয়েছে ২০ থেকে ৪০ মিনিটের থেরাপি সেশন। চিকিৎসার সময়কাল ছিল দুই সপ্তাহ থেকে এক মাস পর্যন্ত। রোগীদের দৈনন্দিন কাজের ক্ষমতা ও চলাচলের উন্নতি ডাক্তাররা ফাংশনাল ইন্ডিপেনডেন্স মেজার (ফিম) স্কোরিং পদ্ধতি ব্যবহার করে নিয়মিত মূল্যায়ন করছেন।

    জানা গেছে, এসব রোগীদের রোবোটিক থেরাপির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে এআই-১, এআই-৩, এআই-৪, এআই-৫, এআই-৬ প্লাস, এআই-৭, এআই-৯, এআই-১৭ হ্যান্ড টেবিল, এসজিআই-১, ডিকে-২, ২০০০-ডি এবং ২০০০-ইসহ বিভিন্ন অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি।কর্তব্যরতরা জানিয়েছেন, এই রোবোটিক যন্ত্রগুলো রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী নিজেই প্রোটোকল নির্ধারণ করে, কতটা সাহায্য দরকার এবং কোন অংশে কতটা সহায়তা দিতে হবে, তা নিখুঁতভাবে ঠিক করে দেয়। থেরাপি চলাকালীন কোনো রোগীর শরীরে কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। এর ফলে ধীরে ধীরে শয্যাশায়ী রোগীরাও উঠতে, বসতে এবং কিছুটা হাঁটতেও পারছেন। বিশেষ করে যারা আগে সম্পূর্ণভাবে শুয়ে ছিলেন, তারা এখন রোবোটিক থেরাপির মাধ্যমে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জন করেছেন। চিকিৎসার এই উন্নতি শুধু রোগীর শারীরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে না, মানসিকভাবে তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস ও আশা ফিরিয়ে আনছে।

    কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এই চিকিৎসা পদ্ধতি শুধু স্ট্রোক বা দুর্ঘটনার কারণে পক্ষাঘাতগ্রস্ত রোগীদের জন্য নয়, বরং যারা দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক দুর্বলতায় ভুগছেন, তাদের জন্যও কার্যকর। তারা আশা করছেন, ধীরে ধীরে এই সেবা আরও বেশি রোগীর কাছে পৌঁছানো সম্ভব হবে এবং দেশের স্বাস্থ্যখাতে রোবোটিক থেরাপির অবদান সুদৃঢ় হবে।

    শয্যাশায়ী রিতা রানী আশা দেখছেন দ্রুত হাঁটার

    সিলেটের হবিগঞ্জ থেকে এসে রোবটিক সেন্টারে প্রথম সেবা নেওয়া ১৩ জনের একজন রিতা রানী দেব। শয্যাশায়ী হয়ে বিছানায় পড়ে থাকা এই রোগীর মা কিরণ রানী দেব ঢাকা পোস্টকে বলেন, রিতা পুকুর ঘাটে গোসল করতে গিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হয়েছিল। বাঁশের খুটিতে লাফ দেওয়ার সময় সামনের দাঁত ভেঙে যায় এবং ঘাড়ে আঘাত লাগে। এরপর ওসমানী মেডিকেল কলেজে প্রায় ছয় মাস চিকিৎসা চললেও দেশে আর কার্যকর কোনো সেবা পাওয়া যায়নি। করোনা পরিস্থিতির কারণে বাড়িতেই দীর্ঘ দুই বছর মেয়েটি শয্যাশায়ী অবস্থায় থাকেন।

    এরপর ঢাকায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানোর পর দুই মাস চিকিৎসা চললেও রিতা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিলেন না। অবশেষে রোবোটিক থেরাপি শুরু হলে তার জীবন বদলে যেতে শুরু করে।

    কিরণ রানী দেব বলেন, রোবোটিক থেরাপির মাধ্যমে রিতা এখন উঠে বসতে পারছে এবং ধীরে ধীরে ভর দিয়ে হাঁটতে পারছে। বিছানা থেকে উঠতেও পারতো না আগে। আমরা খুব আশা করছি, কয়েকটি থেরাপির পর সে স্বাভাবিকভাবে হাটতে পারবে।

    তিনি আরও বলেন, এত বড় উন্নতি আমরা কখনো ভাবিনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের আর্থিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে পুরো চিকিৎসা বিনামূল্যে করেছে। আমাদের কাছে এটি শুধুই চিকিৎসা নয়, এক জীবনের আশা।

    ‘ভিটা-মাটি বিক্রি করলেও এই চিকিৎসাসেবা পাওয়া সম্ভব ছিল না’

    রিতা রানী দেবের মতো আরেক সৌভাগ্যবান রোগী সুরমা আক্তার, যিনি দীর্ঘদিন পায়ের সমস্যা ও চলাচলের অক্ষমতার কারণে প্রতিদিনের জীবনযাপনে ভুগছিলেন।

    তিনি ঢাকা পোস্টকে জানান, রোবটিক থেরাপি শুরু করার পর মাত্র সাত দিনের মধ্যে তার জীবনে বড় পরিবর্তন এসেছে। আগে পায়ের কারণে সবসময় কাত হয়ে থাকতে হতো, হাঁটতে গেলে ব্যথা ও অক্ষমতার কারণে প্রায় কোনো সান্ত্বনা ছিল না। কিন্তু এখন রোবটের সাহায্যে তিনি সোজা হয়ে বসতে পারছেন এবং লাঠি ব্যবহার করে কিছুটা হাঁটতে সক্ষম হচ্ছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দেওয়া বিশেষ জুতার সাহায্যে আরও স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করতে পারছেন।

    তিনি আরও বলেন, এই চিকিৎসা পুরোপুরি বিনামূল্যে পেয়েছি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমার আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ফ্রি বেডের ব্যবস্থা করেছেন। শুধু তাই নয়, চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্যও আমি কৃতজ্ঞ।

    ‘চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা ও প্রশিক্ষণ ছাড়া এই সেবা সম্ভব হতো না’

    বিএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় আমরা একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছি। বিশেষ করে রিহ্যাবিলিটেশন ও রোবোটিক চিকিৎসার ক্ষেত্রে এটি যুগান্তকারী। রোগীদের নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী থেরাপি দেওয়া হচ্ছে, যা আগের যেকোনো পদ্ধতির তুলনায় নিখুঁত এবং কার্যকর। প্রচলিত ফিজিওথেরাপি পদ্ধতিতে রোগীরা সাধারণত একই প্রোটোকল অনুসরণ করেন, কিন্তু এখানে প্রতিটি রোগীর শারীরিক সক্ষমতা, দুর্বলতা এবং চলাফেরার সীমাবদ্ধতা অনুযায়ী রোবট নিজেই চিকিৎসার পরিমাণ এবং প্রোটোকল ঠিক করে দেয়।

    তিনি আরও বলেন, এখন পর্যন্ত আমাদের সেন্টারে ১৩ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। যারা আগে শুয়ে থাকত, তারা ধাপে ধাপে বসতে, দাঁড়াতে এবং কিছুটা হাঁটতেও সক্ষম হয়েছেন। রোগীদের মধ্যে যেমন কিরণ রানী দেবীর মেয়ের মতো শয্যাশায়ী অবস্থার মানুষ ধীরে ধীরে স্বনির্ভর হয়ে উঠেছে, তেমনই সুরমা আক্তারের মতো রোগীরাও লাঠি নিয়ে হাঁটতে সক্ষম হয়েছে। রোগীদের এই উন্নতি আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় সাফল্য।

    ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, চীনের প্রযুক্তিগত সহায়তা এবং প্রশিক্ষণ ছাড়া এই সেবা সম্ভব হতো না। চীনের বিশেষজ্ঞরা আমাদের ডাক্তার, নার্স ও ফিজিওথেরাপিস্টদের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন এবং প্রযুক্তি ব্যবহার শিখিয়েছেন। ভবিষ্যতেও তারা নিয়মিত সহায়তা দিয়ে যাবেন, যাতে এই আধুনিক সেবা পুরো দেশের রোগীদের কাছে পৌঁছাতে পারে। এটি শুধুই চিকিৎসা নয়, শিক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ— এখান থেকে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবল দেশের অন্যান্য হাসপাতালে এই প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেবে।

    সাশ্রয়ী খরচে বাংলাদেশে মিলবে রোবোটিক থেরাপি

    বিএমইউর ফিজিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. আব্দুস শাকুর জানিয়েছেন, রোবোটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারটি স্থাপন করা হয়েছিল জুলাই মাসের পরে। সেন্টারটি সাধারণ মানুষের জন্য পুরোপুরি চালু করতে বিলম্ব হয়েছে নানা প্রক্রিয়াগত কারণে, বিশেষ করে ডিজিডিএ-এর অনুমোদনের প্রয়োজন ছিল। এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় দেখাতে হয়েছিল প্রযুক্তির কার্যকারিতা এবং জটিলতা। এছাড়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ব্যবহার নৈতিকভাবে সঠিক কিনা— তাও বিবেচনার বিষয় ছিল।

    ডা. শাকুর বলেন, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি পরিচালনার জন্য দক্ষ জনবল তৈরি করতেও সময় লেগেছে। এখন পর্যন্ত ২৯ জন রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন থেরাপিস্ট প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, সঙ্গে ১৫–১৬ জন ফিজিয়াট্রিস্ট এবং ১০–১৫ জন ফিজিওথেরাপিস্ট। জনবল উন্নয়নের এই ধাপ শেষ হওয়ার পর ডিজিডিএ-এর কাছে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) তৈরি করে হিউম্যান ইউজের জন্য আবেদন করা হয়েছে। এখন অনুমোদন পাওয়ায় সাধারণ মানুষও সুবিধা পাবে।

    চিকিৎসা খরচ নিয়েও আশ্বস্ত করে ডা. শাকুর বলেন, বিদেশে প্রতি থেরাপি সেশনের খরচ প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা, কিন্তু বাংলাদেশে এই উচ্চ মূল্য ধার্য করা হবে না। জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধাদের জন্য সেবা বিনামূল্যে থাকবে, দরিদ্রদের জন্যও বিনামূল্যে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, এবং অন্যান্য রোগীদের জন্য হ্রাসকৃত মূল্যে সেবা দেওয়া হবে। বাইরের দেশের তুলনায় অন্তত ৫০ শতাংশ বা এক তৃতীয়াংশ থেকে দুই তৃতীয়াংশ কম খরচে রোগীরা এই আধুনিক থেরাপি পাবে।

    পুরোদমে চালু হলে স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে : উপাচার্য

    বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলম ঢাকা পোস্টকে জানান, রোবোটিক থেরাপি প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় গুণগত ও পরিমাণগতভাবে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রচলিত পদ্ধতিতে সব রোগীকে সাধারণ প্রোটোকল অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়, কিন্তু এই রোবোটিক মেশিন রোগীর শারীরিক অবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে মূল্যায়ন করে। মেশিনটি নির্ধারণ করে কতটুকু চিকিৎসা, কত সময় ধরে এবং কোন পরিমাণে সহায়তা প্রয়োজন। রোগীর উন্নতির হারের ভিত্তিতে পরবর্তী চিকিৎসার প্রোটোকলও স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক করে দেয়।

    তিনি বলেন, সেরিব্রাল পালসি, গিলিয়েন-ব্যারে সিনড্রোম, ফ্রোজেন শোল্ডার, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা অথবা শরীরের অস্বাভাবিক শক্ত হয়ে যাওয়া সমস্যার জন্য এই সেন্টারে থাকছে আলাদা সেশন এবং নিরীক্ষিত থেরাপি সিস্টেম। এই সেন্টার প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জন রোগীকে সেবা দিতে পারবে।

    শাহিনুল আলম বলেন, কেউ যদি ৫০ শতাংশ প্যারালাইসিসে ভুগে বা সম্পূর্ণ হাঁটতে না পারে, মেশিন স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠিক করে কোন অংশে সম্পূর্ণ সহায়তা, কোন অংশে আংশিক সহায়তা দিতে হবে। একই সঙ্গে এটি প্যাসিভ এবং অ্যাকটিভ মুভমেন্ট পরিচালনা করতে সক্ষম। প্যাসিভ মুভমেন্টের মাধ্যমে রোগী ধীরে ধীরে নিজের পা নাড়াতে সক্ষম হয় এবং প্রয়োজন অনুযায়ী মেশিন পরবর্তী চিকিৎসা প্রটোকলও ঠিক করে। এটি রোগীর ওজন বহন, ব্যায়ামের সময় ও শক্তি প্রয়োগের মাত্রা পর্যন্ত নির্ধারণ করে। এই প্রযুক্তি বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতে একেবারেই নতুন ও অনন্য।

    উপাচার্য আরও বলেন, দেশে রোবোটিক থেরাপির ফলে রোগীদের বিদেশে চিকিৎসার চাহিদা দ্রুতই কমে আসবে। অতীতে জুলাই আহতদের যারা বিদেশে চিকিৎসার জন্য গিয়েছে, তাদের পেছনে সরকারি ব্যয় প্রায় অর্ধ কোটি টাকার কাছাকাছি হয়েছে। বাংলাদেশে এই পরিষেবা পুরোদমে চালু হলে পুরো মাসের চিকিৎসা খরচ ১৫–২৫ হাজার টাকার মধ্যে রাখা হবে। এর বাইরেও দরিদ্র ও বিশেষভাবে জুলাই আন্দোলনের আহতদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।

  • আদেশের সারসংক্ষেপে স্বাক্ষর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    আদেশের সারসংক্ষেপে স্বাক্ষর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা

    জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণের পূর্বে আদেশের সারসংক্ষেপে স্বাক্ষর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার উপপ্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক বার্তায় বিষয়টি জানিয়েছেন।

    তিনি বার্তায় লেখেন, জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫ অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রেরণের পূর্বে আদেশের সারসংক্ষেপে স্বাক্ষর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস।

  • প্রধান উপদেষ্টা অর্থনীতিকে গভীর গহ্বর থেকে উদ্ধারের চ্যালেঞ্জে সফল হয়েছি

    প্রধান উপদেষ্টা অর্থনীতিকে গভীর গহ্বর থেকে উদ্ধারের চ্যালেঞ্জে সফল হয়েছি

    অভ্যুত্থানের পর দায়িত্ব গ্রহণ করে অর্থনীতিকে গভীর গহ্বর থেকে উদ্ধার করাকে একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ মন্তব্য করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, গত ১৫ মাসে আমরা সেই চ্যালেঞ্জ উতরাতে সফল হয়েছি। 

    তিনি বলেন, রপ্তানি, বৈদেশিক বিনিয়োগ ও রিজার্ভসহ অর্থনীতির সবগুলো সূচকে দেশ ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। লুট হয়ে যাওয়া ব্যাংকিং খাত ইতোমধ্যে ঘুরে দাঁড়িয়েছে, মানুষের আস্থা ফিরে এসেছে। ব্যাংকিং খাতকে আরও শক্তিশালী করতে নানামুখী পদক্ষেপ চলমান রয়েছে।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর আড়াইটায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে এসব কথা বলেন তিনি।

    জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত বছর আগস্ট মাসে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিবলে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করেছিলাম। এরপর আমরা এখন আমাদের মেয়াদে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে উপনীত হয়েছি।

    আমরা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের নির্দেশে সংগঠিত হত্যাকাণ্ডের বিচারকাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি। এই বিচারের উদ্দেশ্যে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাদের প্রথম রায় শীঘ্রই দিতে যাচ্ছে।

    তিনি বলেন, ট্রাইব্যুনালে আরও কয়েকটি মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সাধারণ ফৌজদারি আদালতগুলোতেও জুলাই হত্যাকাণ্ড সম্পর্কিত কিছু বিচারকাজ শুরু হয়েছে। আমরা একইসঙ্গে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গুমের মতো নৃশংস অপরাধের বিচারকাজ শুরু করেছি।

    ড. ইউনূস বলেন, আমি আনন্দের সঙ্গে আপনাদের জানাতে চাই যে সংস্কারের ক্ষেত্রেও আমরা ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। অন্তর্বর্তী সরকার নিজ উদ্যোগে বা বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবের ভিত্তিতে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করেছে। কিছু প্রস্তাবিত সংস্কারের কাজ এখনও চলমান আছে। অধ্যাদেশের মাধ্যমে বা বিদ্যমান আইন সংশোধন করে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিচার ব্যবস্থাপনা, আর্থিক খাতে স্বচ্ছতা, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ডিজিটালাইজেশন সম্প্রসারণ ও দুর্নীতি প্রতিরোধে বিভিন্ন সংস্কার সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সুশাসনের জন্য এসব সংস্কার বড় ভূমিকা রাখবে বলে আমরা মনে করি। আশা করি, আগামী নির্বাচিত সরকার সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এসব সংস্কার গ্রহণ করবে।

    দেশের অর্থনীতিকে সচল সরার চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে তিনি বলেন, অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক বিনিয়োগ হ্রাস পেলেও বাংলাদেশে গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী প্রথম বছরে বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ অর্থাৎ এফডিআই ১৯ দশমিক ১৩ শতাংশ বেড়েছে। এটি বৈশ্বিক প্রবণতার বিপরীতে এক অনন্য অর্থনৈতিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

    আগামী সপ্তাহে ডেনমার্কভিত্তিক মায়ার্স্ক গ্রুপের মালিকানাধীন এপিএম টার্মিনালস, বি ভি-এর সঙ্গে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল প্রকল্পে ৩০ বছরের কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে। এই চুক্তির আওতায় ইউরোপীয় এই কোম্পানি ৫৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে। এটি এযাবৎকালে বাংলাদেশে ইউরোপের সর্বোচ্চ একক বিনিয়োগ। লালদিয়া হবে দেশের প্রথম বিশ্বমানের গ্রিন পোর্ট।

  • মুন্সীগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

    মুন্সীগঞ্জে যুবককে কুপিয়ে হত্যা

    মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় রতন আহমেদ (২২) নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। গতকাল বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত ১১টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ভাটেরচর সেতু সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। 

    নিহত রতন আহমেদ বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামের ভাড়াটিয়া আব্দুল জলিলের ছেলে। তার বাড়ি বগুড়া জেলায়  হলেও দীর্ঘদিন ধরে তিনি বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামে পরিবার নিয়ে ভাড়া থাকতেন।

    খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিহত রতন আহমেদ ভাটেরচর বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন গজারিয়া জেনারেল হাসপাতালে দীর্ঘদিন ল্যাবরেটরি টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ করেছেন। সম্প্রতি তিনি এই হাসপাতাল ছেড়ে নারায়ণগঞ্জের মদনপুর এলাকার বারাকা হাসপাতালে যোগ দেন। পরিবার নিয়ে গজারিয়া উপজেলার বড়ইকান্দি ভাটেরচর গ্রামে ভাড়া থাকায় নিয়মিত এখান থেকে মদনপুরে যাতায়াত করতেন। রাত ১০টা পর্যন্ত ডিউটি শেষ করে প্রতিদিন রাত সাড়ে ১০টা-১১টার দিকে বাসায় ফিরতেন তিনি।ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বুধবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে ভাটেরচর সেতুর পশ্চিম দিকের ঢালে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান কয়েকজন। ছুরি জাতীয় কিছু দিয়ে কুপিয়ে তাকে জখম করা হয়েছিল। স্থানীয়দের মধ্যে একজন ৯৯৯ এ কল দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে তাকে উদ্ধার করে নিকটস্থ গজারিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

    গজারিয়া জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে নেওয়ার পর পরই তার মৃত্যু হয়। তার হাতে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

    নিহতের বাবা আব্দুল জলিল বলেন, আমার ছেলের সাথে মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সা যা যা ছিল কিছুই পাওয়া যায়নি। হামলাকারীরা তাকে কুপিয়ে তার সাথে থাকা জিনিসপত্র সব নিয়ে গেছে। তাকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে। আমরা এ বিষয়ে থানায় মামলা করব।

    এ ব্যাপারে গজারিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম বলেন, দুর্বৃত্তরা  সেতুর ঢালে একজনকে কুপিয়ে ফেলে রেখে যায়। রাত ১১টার পর ৯৯৯ থেকে একটি কল পেয়ে আমরা সেখানে ছুটে যাই। আমরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। কেউ তাকে ধারালো ছুরি জাতীয় কিছু দিয়ে আঘাত করে ফেলে গেছে বলে মনে হয়েছে। হাসপাতালে নেওয়ার পর তার মৃত্যু হয়। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে তাকে খুন করা হয়েছে। আমরা মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছি।

  • মাহফুজ আলম বিটিভি যেন কোনো রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে

    মাহফুজ আলম বিটিভি যেন কোনো রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে

    তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম বলেছেন, প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ধারাবাহিকতায় বিটিভিকে স্বায়ত্তশাসিত করা হচ্ছে। বিটিভি যাতে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য এবং মানুষের প্রতিনিধিত্ব করতে পারে, সেজন্য বিটিভিকে নতুন করে গড়ে তোলা হচ্ছে। বিটিভি যাতে কোনো দলের বা কোনো রাজনৈতিক শক্তির স্বার্থের হাতিয়ার না হয়ে ওঠে, সে দিকেও নজর রাখা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, বিটিভিতে নতুন করে আরও রিয়েলিটি শো এবং প্রতিযোগীদের নিয়ে নতুন কিছু অনুষ্ঠান আমরা চালু করে দিয়ে যাব। পরবর্তীতে এগুলো অব্যাহত থাকবে। এখন থেকে বিটিভি হবে সবার- সব দলের এবং সব মানুষের।

    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) সকালে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে বাংলাদেশ টেলিভিশনের ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

    তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নতুন বাংলাদেশে নতুন কুঁড়ির যাত্রা শুরু হয়েছে। আজকের এই আয়োজন শুধু একটি সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন বাংলাদেশের একটি নতুন দিগন্ত। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী বাংলাদেশের তরুণদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা এবং প্রতিভাকে সামনে আনার জন্য নতুন করে এক অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা হয়েছে। সারাদেশ থেকে নতুন কুঁড়িদের স্বচ্ছ ও ন্যায়সঙ্গত প্রক্রিয়ায় বাছাই করা হয়েছে। ধর্ম, বর্ণ, অঞ্চল বা অর্থনৈতিক অবস্থান নির্বিশেষে এই শিশু-কিশোর তরুণরাই নতুন বাংলাদেশের পতাকা বহন করবে। নিজেদের প্রতিভা ও পরিশ্রম দিয়ে আমাদের সংস্কৃতি, সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের কাঙ্ক্ষিত সেই বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক এবং সবার বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।

    মাহফুজ আলম বলেন, গত ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশকে একটি ভাষা, এক সংস্কৃতি এবং এক ঐতিহ্যের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশ বহু সংস্কৃতি, বহু ঐতিহ্য এবং বহু ভাষার দেশ। দীর্ঘদিন ধরে এই বৈচিত্র্যের পূর্ণ সৌন্দর্য আমরা উপভোগ করতে পারিনি, উপলব্ধি করতে পারিনি। অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, যাদের প্রান্তিক করা হয়েছে, তাদেরকে সাংস্কৃতিক পরিসর থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। যার কারণে সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এক ধরনের ফ্যাসিবাদ গেঁড়ে বসেছিল।

    তিনি বলেন, আমরা চাই এখন থেকে আমাদের সাংস্কৃতিক কাঠামোতে সবাই জায়গা করে নিক। জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে আমাদের সংস্কৃতি হবে শক্তি। অন্তর্ভুক্তি, বৈচিত্র্য ও মানবতার মিলনই হবে আমাদের সভ্যতা। এই বাংলার অববাহিকায় যে বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক সম্পদ আছে, যেই মিলনবিন্দুর কারণে বাংলাদেশ অনন্য, সেই অনন্যতার অনুসরণে প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আমরা এখন একটি নতুন বাংলাদেশের যাত্রায় আছি।

    ২০২৫ সালের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চল থেকে ধারাবাহিকভাবে যারা আজ এই মঞ্চে এসে পৌঁছেছেন, সবাইকে অভিনন্দন জানাই। নতুন কুঁড়িদের প্রতিভা, নিষ্ঠা ও উদ্ভাবনী শক্তি আমাদের সবাইকে অনুপ্রাণিত করে। গত দুই-তিন সপ্তাহ জুড়ে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষ নতুনভাবে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে আবিষ্কার করতে পেরেছে। আমরা আশা করি, তোমরা তোমাদের সৃজনশীল যাত্রা অব্যাহত রাখবে, নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং দেশের গৌরব বৃদ্ধি করবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা আজ যেখানে এসে পৌঁছেছি, সেই যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে- নতুন বাংলাদেশের যাত্রা যেন অব্যাহত থাকে, সেই কামনা করি।

  • আ. লীগের লকডাউন ঠেকাতে পিরোজপুরে জামায়াতের মহড়া

    আ. লীগের লকডাউন ঠেকাতে পিরোজপুরে জামায়াতের মহড়া

    ‎কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অনলাইনে ডাকা ‘লকডাউন’ কর্মসূচি ঠেকাতে পিরোজপুরে মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত ১১ টায় এ মহড়া দেয় দলটি।

    জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জহিরুল হকের নেতৃত্বে অর্ধ শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে পিরোজপুর সদর উপজেলায় এ মহড়া দেয় দলটির নেতাকর্মীরা। এসময় ‘আওয়ামী লীগের আস্তানা এই বাংলায় হবে না’ ‘আওয়ামীলীগের গুন্ডারা হুশিয়ার সাবধান’ ‘একশন একশন ডাইরেক একশন’ সহ নানা স্লোগান দেন তারা। এরপর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছে একটি পথসভায় মিলিত হন তারা।

    ‎সভায় জহিরুল হক বলেন, “আওয়ামী সরকারের ১৭ বছরের জুলুম নির্যাতন গুম খুনের প্রতিবাদের বহিঃপ্রকাশ হয়েছিল ৩৬ এর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে। বাঙালি জাতি একত্রিত হয়ে খুনী হাসিনাকে দেশ থেকে তাড়িয়ে দিয়েছিল। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা এখন দিল্লিতে বসে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য পাঁয়তারা করছে। বাংলাদেশের জনগণ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। বাংলাদেশের জনগণ তাদের গর্তে বসে দেওয়া কর্মসূচি প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা তাদের লকডাউনকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে রাজপথে থাকব।”

    ‎এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা সিদ্দিকুল ইসলাম, জেলা টিম সদস্য গোলাম মোস্তফা মুসা, পৌর আমির ইসাহাক আলী খান, পৌর সহকারী সেক্রেটারি আনসারুজ্জামান আবদুল হালীম, পৌর অর্থ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, পৌর যুব বিভাগীয় সভাপতি নকীব নাসরুল্লাহ, সদর উপজেলার শ্রমিক বিভাগের সভাপতি আল আমীন ফকির, জেলা ছাত্র শিবিরে অর্থ সম্পাদক আরিফিন আব্দুল্লাহ প্রমুখ।

    ‎উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ ১৩ নভেম্বর বৃহস্পতিবার লকডাউন কর্মসূচি ডেকেছে অনলাইনে। এদিন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করার কথা রয়েছে।

  • ধানমন্ডিতে চারটি ককটেলসহ একজন আটক

    ধানমন্ডিতে চারটি ককটেলসহ একজন আটক

    রাজধানীর ধানমন্ডির ঝিগাতলা এলাকা থেকে চারটি ককটেল উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ সময় ইয়াছিন নামে একজনকে আটক করা হয়।

    বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসব উদ্ধার করা হয়।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধানমন্ডি জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান।

    তিনি বলেন, ঝিগাতলা থেকে চারটি ককটেলসহ ইয়াছিন নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। ককটেলগুলো নিষ্ক্রিয় করতে বোম ডিসপোজাল ইউনিটকে খবর দেওয়া হয়েছে। আটককৃত ব্যক্তির বাড়ি পিরোজপুর জেলায়। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

  • মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ

    মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে ককটেল বিস্ফোরণ

    নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ঘোষিত ঢাকা লকডাউন কর্মসূচিকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে শহরজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে শহরের প্রবেশমুখে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ বিস্ফোরণ ঘটে।

    পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জেলা শহরের দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা একটি পিকআপ ভ্যান বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছে হঠাৎ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পরে গাড়িটি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক ধরে আরিচার দিকে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিরাপত্তা জোরদার করেন।

    স্থানীয়রা জানিয়েছেন, বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও শ্রমিকদলের নেতাকর্মীরা জড়ো হয়ে দুর্বৃত্তদের অপতৎপরতা রোধে অবস্থান নেন।

    মানিকগঞ্জ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ককটেল বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। এলাকায় পুলিশ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে।

  • পটকা ফুটানো হয়েছে বলছে পুলিশ পল্লবীতে জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর সময় বিকট শব্দ

    পটকা ফুটানো হয়েছে বলছে পুলিশ পল্লবীতে জুলাই ডকুমেন্টারি প্রদর্শনীর সময় বিকট শব্দ

    রাজধানীর পল্লবীতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত ‘জুলাই ডকুমেন্টারি’ প্রদর্শনী আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীর চলকালে সেখানে বিকট শব্দ হয়। ওই সময় সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ‌তবে পুলিশের দাবি প্রদর্শনীস্থলে কোনো কিছু বিস্ফোরিত হয়নি। সেখানে অজ্ঞাত কেউ পটকা ফুটিয়েছে।

    বুধবার (১২ নভেম্বর) রাত সাড়ে নটার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ‌প্রত্যক্ষদর্শী জানান, প্রদর্শনী চলাকালে হঠাৎ করে রা দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। ‌ অনেকে ধারণা করেন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।‌ খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্লবী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মফিজুর রহমান বলেন, সেখানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেনি। খবর পাওয়ার পরপর ঘটনাস্থলে যাই আমরা। পরে বিভিন্নভাবে তদন্ত করে জানা যায় সেখানে আসলে পটকা ফোটানো হয়েছে। কেউ একজন পটকা ফুটিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায়।