Author: তরঙ্গ টিভি

  • ১৮ বছরেও শুকায়নি সিডরের ক্ষত

    ১৮ বছরেও শুকায়নি সিডরের ক্ষত

    সিডরের ১৮ বছর পার হয়ে গেছে। কিন্তু বাগেরহাটের শরণখোলা–মোরেলগঞ্জের মানুষের চোখে আজও সেই রাতের আতঙ্ক একই রকম তাজা। ‘ঘূর্ণিঝড়’ শব্দটি শুনলেই তারা এখনো কেঁপে ওঠে। তার ওপর নতুন করে যোগ হয়েছে বেরিবাঁধ ধস, নদী ভাঙন আর প্রতিদিনের বেঁচে থাকার লড়াই। স্থানীয় বাসিন্দাদের একটাই আকুতি—‘বাঁধ টেকসই না হলে আমরা কোথায় গিয়ে বাঁচব?’

    শরণখোলা উপজেলার দক্ষিণ সাউথখালীর মো. দেলোয়ার হোসেন সেদিনের কথা বলতে গিয়েও থমকে যান। কথার ফাঁকে চোখ ভিজে ওঠে তার। তিনি বলেন, ‘সিডরের আগে সরকার কোনো সংকেত দেয়নি। আমরা ভাবছিলাম কিছু হবে না। তখন আমার ছেলে ছিল পাঁচ বছরের, মেয়ে চার মাসের। হঠাৎ এমন স্রোত এল—বাড়ির ভেতরেই পানি ঢুকে সব উলটপালট। পানির বেগে প্রথমে ছেলেটাকে নিয়ে গেল। তারপর মেয়েটাকেও মায়ের কোলে থেকে ছিনিয়ে নিলো। আমরা কত চেষ্টা করেছি, কিছুই করতে পারলাম না। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, ঘরবাড়ি কিছুই রইল না। সে দিনটা আজও ভুলতে পারিনি।’

    তিনি বলেন, ‘রাতে ঘুমাই, আবার লাফ দিয়ে উঠে যাই—ওই দিনের কথা মনে পড়ে। মনে হয় আবার পানি আসবে। মোটামুটি একটু স্বাভাবিক হচ্ছিলাম, এর মাঝে গত ২৩ সালের ঘূর্ণিঝড় রেমাল আবার সবকিছু শেষ করে দেয়।’

    এখন তারা বেরিবাঁধের ওপরে ছোট্ট একটা ঘর তুলে বাস করছেন। কিন্তু সেই বাঁধের অবস্থাও ভয়ংকর। বাঁধে বড় বড় ফাটল। সিমেন্ট ব্লক পড়ে গেছে নদীতে। দেলোয়ার বলেন, ‘আমরা চাই নদীকে ঠিকভাবে শাসন করা হোক। তাহলে পানির চাপ কমবে, ভাঙনও কমবে। আর যদি খাবার পানির ব্যবস্থা করে দেয় সরকার—তাহলে এখানে মানুষ থাকা সম্ভব।’

    দক্ষিণখালী ইউনিয়নের শাহজাহান মোল্লা আজও নিজের পরিবার হারানোর কথা মনে করলে স্থির থাকতে পারেন না। তিনি বলেন, ‘সিডর থেকে বাঁচতে ট্রলারে উঠেছিলাম। ট্রলার উল্টে গেল। মা-বাবা, ছোট বোন, সেজো ভাই, বড় ফুফু আমাদের ১৯ জন সদস্য মারা গেল সেদিন। আজও মনে পড়লে ঘুম হয় না। আল্লাহ যেন এমন দিন আর পৃথিবীতে না আনেন।’

    তিনি বলেন, ‘এখনো আমরা আতঙ্কে থাকি। যে ১৫ কিলোমিটার বেরিবাঁধ দিয়েছে, তা অনেক জায়গায় ভেঙে গেছে। যদি বাঁধটা শক্ত করে দিতো, তাহলে অন্তত একটু নিশ্চিন্তে বাঁচতে পারতাম।’

    সাউথখালী গ্রামের জাকির মুন্সি   বলেন, ‘সিডরের রাতে আমার ঘরের টিন উড়ে গেছিল। আমরা গাছ ধরে বেঁচেছিলাম। এরপর রেমাল এসে আবার সব ভাসিয়ে দেয়। এত বছর ধরে যে ভাঙন দেখি, মনে হয় নদীটা আমাদের পিছু নিয়েছে। বাঁধটা ঠিকমতো থাকলে এত কষ্ট হতো না। রাতে শুতে গেলেই ভয় লাগে, আবার যেন পানি এসে সব নিয়ে না যায়।’

    বগি গ্রামের আলামিন খান বলেন, ‘বাঁধের ফাটল দিনে দিনেই বড় হচ্ছে। আমরা নিজেরাই বালুর বস্তা ফেলে আটকানোর চেষ্টা করি। সরকার যদি আগে থেকেই নজর দিতো, এখন এই পরিস্থিতি হতো না। ঘূর্ণিঝড় এলেই মনে হয়—বাঁচব তো?’

    সাউথখালী গ্রামের ওমর মুন্সী বলেন, ‘শিশুরা স্কুলে মন বসাতে পারে না। ঝড়ের শব্দ বা আকাশ কালো হলেই তারা ভয় পায়। অভিভাবকরা অনেকেই বলেন, “বাঁধ ভাঙলে প্রথমেই আমাদের স্কুলটাই ডুবে যাবে।” তাই একটা টেকসই বেরিবাঁধ শুধু ঘরবাড়ি নয়, শিক্ষার ভবিষ্যতও বাঁচাবে।’

    ১৯৮৫ থেকে ২০২৫ চার দশক ধরে উপকূলবাসীর জীবনে ঘূর্ণিঝড় মানেই আতঙ্ক। কিন্তু ২০০৭ সালের সুপার সাইক্লোন সিডর যে ক্ষত রেখে গেছে, তা ১৮ বছরেও শুকায়নি। ১৫ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে হাজার হাজার মানুষ মারা যায়। গাছ, ঘরবাড়ি, রাস্তা সব ভেসে যায় মুহূর্তে। সেই ভয়ংকর স্মৃতি এখনো মানুষের মনে পাথরের মতো চাপা হয়ে আছে। এর ওপর আবার বেরিবাঁধ ভাঙনের নতুন সমস্যা।

    শরণখোলার বগী, গাবতলা, দক্ষিণখালী, আর মোরেলগঞ্জের আমতলা ও ফাসিয়াতলা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে—বাঁধের লম্বা ফাটল, কোথাও ধস, কোথাও সরে গিয়ে নদীতে পড়েছে ব্লক। যে বাঁধ মানুষের জীবন বাঁচানোর কথা, সেটাই এখন আতঙ্কের আরেক নাম।

    বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বিষয়টা একটু খোলাসা করে বললেন। তার ভাষায়, ‘শরণখোলার বেড়িবাঁধগুলো হঠাৎ টানা বৃষ্টিতে নরম হয়ে ভেঙে পড়েছে, আর নদীভাঙন তো আছেই, এক জায়গায় নয়, বহু স্থানে।

    তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত অংশগুলো মেরামতের জন্য ইতোমধ্যেই পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। একটি প্যাকেজের কাজ মাঠে নেমেছে, আর বাকিগুলো ধাপে ধাপে শুরু হবে।

    ২০০৭ সালের সিডর শুধু বাগেরহাটেই কেড়ে নেয় ৯০৮ জনের প্রাণ। শরণখোলা, মোরেলগঞ্জে তছনছ হয়ে যায় দেড় লাখেরও বেশি ঘরবাড়ি, রাস্তা, বাঁধ ও ফসল। সেই সময় থেকে উপকূলবাসীর একমাত্র দাবি একটি শক্তিশালী, টেকসই বেরিবাঁধ। ১৮ বছর পর সেই দাবি পূরণ হলেও এখন আবার সেই বাঁধই ভাঙনের মুখে।

  • বিহারে এনডিএ জোটের ভূমিধস জয়, মোদির পরবর্তী লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ

    বিহারে এনডিএ জোটের ভূমিধস জয়, মোদির পরবর্তী লক্ষ্য পশ্চিমবঙ্গ

    বিহারে সদ্যসমাপ্ত বিধানসভা নির্বাচনে বিশাল জয় পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ভারতের প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপির শীর্ষ নেতা নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বিহারের এই জয়ই পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপিকে বিজয়ের পথে নিয়ে যাবে।

    পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম প্রতিবেশী রাজ্য বিহারের বিধানসভায় আসনসংখ্যা মোট ২৪৩টি। নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়েছে দুই দফায়। গত ৬ নভেম্বর প্রথম দফায় ১২১ আসনে ভোট অনুষ্ঠিত হয়। এ দফায় ভোট পড়ে ৬৫ শতাংশের বেশি।

    পরে ১১ নভেম্বর দ্বিতীয় দফায় ভোট অনুষ্ঠিত হয় ১২২টি আসনে। এ দফায় ভোট পড়েছিল ৬৮ শতাংশের বেশি। দুই দফা মিলিয়ে প্রায় ৬৭ শতাংশ ভোট পড়েছে এই নির্বাচনে।

    গতকাল শুক্রবার স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয় ভোটগণনা। পরে রাতে ভোটের চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।

    এই নির্বাচনে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে বিজেপি-জনতা দল ইউনাইডেট (জেডিইউ) নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট এবং কংগ্রেস-রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতৃত্বাধীন জোট মহাগাঠবন্ধনের মধ্যে। ফলাফল ঘোষণার পর দেখা যায়, বিধানসভার ২৪২টি আসনের মধ্যে ২০২টিতে জয় পেয়েছেন এনডিএ জোটের প্রার্থীরা। বিরোধী মহাগাঠবন্ধন জোটের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন ৩৫টি আসনে।

    এনডিএ জোটের সবচেয়ে বড় শরিক দল বিজেপি জয় পেয়েছে ৮৯টি আসনে। জোটের দ্বিতীয় শরিক এবং বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমারের নেতৃত্বাধীন জেডিইউ ৮৫টি আসনে জয় পয়েছে। এছাড়া বিহারের রাজনীতিবিদ এবং ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রী চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি ১৯টি এবং আরেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন রাম মাঝির নেতৃত্বাধীন আওয়াম মোর্চা পার্টি জিতেছে ৫টি আসনে।

    এবারের নির্বাচনে ‘এক্স ফ্যাক্টর’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল ভোটকুশলী প্রশান্ত কিশোরের জন সুরাজ পার্টিকে। কিন্তু ভোটের ফল বলছে, ভরাডুবি ঘটেছে দলটির, একটি আসনও পায়নি জন সুরাজ পার্টি। অন্যদিকে ‘ডার্ক হর্স’ হিসেবে উঠে এসেছে তেলেঙ্গানার রাজনীতিবিদ এবং হায়দরাবাদের এমপি আসাদউদ্দিন ওয়েইসির দল মজলিস-ই ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (মিম)। বিহারের ৫টি আসনে জয় পেয়েছে মিম।

    ফলাফল প্রকাশের পর এক বার্তায় এনডিএ জোটকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, “এবারের নির্বাচনে কিছু রাজনৈতিক দল সংখ্যালঘু তোষণের ফর্মুলা অনুসরণ করেছে, কিন্তু বিহারের নারী ও তরুণরা এনডিএ-কে বিজয়ী করেছে।”

    আগামী ২০২৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে বিজেপির জয়ের প্রত্যাশা করে মোদি বলেন, “গঙ্গানদী বিহার থেকে বাংলায় (পশ্চিমবঙ্গ) প্রবাহিত হয়। বিহার পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির বিজয়ের পথ তৈরি করে দিয়েছে। বাংলার ভাইবোনদের আশ্বস্ত করছি যে আপনাদের সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গ থেকে জঙ্গলরাজকে উপড়ে ফেলবে।

  • দিল্লি যাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

    দিল্লি যাচ্ছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা

    ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের আমন্ত্রণে দু’দিনের সফরে দিল্লি যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। সেখানে তাদের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

    সূত্র জানিয়েছে, খলিলুর রহমানের সফর নিশ্চিত হয়েছে। তিনি আগামী ১৯ নভেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লি সফরে যাচ্ছেন। সেখানে তিনি ভারত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোর জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলনে অংশ নেবেন।

    দিল্লিতে সম্মেলনের ফাঁকে বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের মধ্যে বৈঠক হবে কি না, সে বিষয়ে শতভাগ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে বাংলাদেশের পরিবর্তনশীল ও অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে দুই দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারকদের সরাসরি আলোচনায় আগ্রহ রয়েছে। ফলে তাদের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সংক্ষিপ্ত বৈঠক হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

    গত বছরের আগস্টে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হতে যাচ্ছে দ্বিতীয় কোনো উপদেষ্টার দিল্লি সফর। এর আগে এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইন্ডিয়া এনার্জি উইকে অংশ নিতে জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান ভারত সফর করেন।

  • সংবাদ সম্মেলনে বিমান পরিবহণ উপদেষ্টা  টিকিটে বছরে পাচার ৬০ হাজার কোটি টাকা বিমান চলাচল ও ট্রাভেল এজেন্সি আইন পরিবর্তন * এয়ার টিকিটে আড়তদারি বন্ধ * এক বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    সংবাদ সম্মেলনে বিমান পরিবহণ উপদেষ্টা টিকিটে বছরে পাচার ৬০ হাজার কোটি টাকা বিমান চলাচল ও ট্রাভেল এজেন্সি আইন পরিবর্তন * এয়ার টিকিটে আড়তদারি বন্ধ * এক বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা

    বাণিজ্য এবং বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, গত বছর এদেশ থেকে এক কোটি ৩২ লাখ লোক বিদেশে গেছেন। এর ৮০ শতাংশ মধ্যপ্রাচ্যগামী। যখন ৪০ হাজার টাকার একটি টিকিট ৯০ হাজার বা এক লাখ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আমরা যদি ৫০ হাজার করে টিকিটের বাড়তি দাম ধরি তাহলে মাসে পাঁচ হাজার কোটি টাকা এবং বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা। এভাবে একটা সাগর পরিমাণ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে আদায় হয়ে দেশ থেকে পাচার হয়ে যাচ্ছে। আমরা সেটা বন্ধ করে দিতে চাই। এটার জন্য আমাদের যত ধরনের উদ্যোগ নিতে হয় নেব। বৃহস্পতিবার দুই অধ্যাদেশের সংশোধন নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে শেখ বশিরউদ্দীন এ কথা বলেন।

    দেশের বিমান পরিবহণ ও ট্রাভেল ব্যবসায় স্বচ্ছতা, সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিতে ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ ও ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-অনুমোদন দিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আইন সংশোধনে আমাদের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে যাত্রীর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষা করা। বিশেষ করে আমাদের যেসব শ্রমিক বিদেশে কাজ করে তাদের সংখ্যা দুই কোটির অধিক।

    বেসামরিক বিমান পরিবহণ উপদেষ্টা বলেন, ‘কোনো ট্রাভেল এজেন্সি অন্য এজেন্সির কাছে টিকিট বিক্রি করতে পারবে না। কারণ, এটা আড়তদারি ব্যবসা। টিকিটের নৈরাজ্যের সূচনা হয় এখান থেকেই, আমরা সেই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। এজন্য আড়তদারি ব্যবসা বন্ধ করতে চাই।’ গ্রুপভিত্তিক টিকিট বিক্রির প্রসঙ্গে উপদেষ্টা জানান, ‘ছুটি কাটাতে পরিবারভিত্তিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে গ্রুপ বুকিং থাকবে, তবে বিএমইটি কার্ডধারীদের নামে কোনো গ্রুপ বুকিং করা যাবে না।’ উপদেষ্টা জানান, নতুন আইন লঙ্ঘনের শাস্তি হিসাবে এক বছর কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা জরিমানা রাখা হয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশের আকাশপথে যাত্রীদের ৮০ শতাংশের বেশি অভিবাসী কর্মী। নতুন দুটি অধ্যাদেশ কার্যকর হলে এই বিশাল যাত্রীগোষ্ঠীসহ সাধারণ যাত্রীদের সেবা হবে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব। ২০১৭ সালের আইন সংশোধন করে এই অধ্যাদেশে বেশ কিছু যুগোপযোগী পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমবারের মতো প্রস্তাবনায় ‘যাত্রীসেবা নিশ্চিতকরণ’ শব্দগুচ্ছ যুক্ত করে যাত্রীদের নিরাপত্তা, সুবিধা ও অধিকার রক্ষায় আইনি বাধ্যবাধকতা সৃষ্টি করা হয়েছে। বিদেশি এয়ারলাইন্সের জন্য সাধারণ বিক্রয় প্রতিনিধি (জিএসএ) নিয়োগকে ঐচ্ছিক করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই সঙ্গে দেশীয় এয়ার অপারেটরদেরও জিএসএ নিয়োগে সুযোগ রাখা হয়েছে। টিকিট বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে গ্লোবাল ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম (জিডিএস), নিউ ডিস্ট্রিবিউশন ক্যাপাবিলিটি (এনডিসি) এবং এপিআইভিত্তিক ডিজিটাল ডিস্ট্রিবিউশন চ্যানেল নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এতে টিকিট ব্লকিং, কৃত্রিম সংকট বা অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধি রোধ হবে। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো এয়ার অপারেটরদের ট্যারিফ দাখিল ও মনিটরিংয়ের বিধান যুক্ত করা হয়েছে। পরিবেশবান্ধব নীতির আওতায় কার্বন নিঃসরণ কমানো, সাসটেইনেশন অ্যাভিয়েশন ফুয়েল (এসএএফ) ব্যবহার ও টেকসই নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা যুক্ত হয়েছে। অধ্যাদেশে সরকারকে একটি ‘বেসামরিক বিমান চলাচল অর্থনৈতিক কমিশন’ গঠনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা বিমানবন্দরের ফি, চার্জ, রয়্যালটি ও ভাড়ার হার নির্ধারণে অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে। এ ছাড়া সাইবার সুরক্ষা ও প্রযুক্তিগত উন্নয়নে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ব্লকচেইন ও ডিজিটাল সিস্টেমের ব্যবহারে উৎসাহিত করা হয়েছে।

    অন্যদিকে বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫-এ ট্রাভেল ব্যবসায় অবৈধ অর্থ লেনদেন, মানি লন্ডারিং, টিকিট মজুতদারি, প্রতারণা ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নতুন অধ্যাদেশে নিবন্ধন সনদ বাতিল বা স্থগিতের ১১টি নতুন কারণ যুক্ত করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে-অবৈধ টিকিট বিক্রয়, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, অননুমোদিত লেনদেন, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, তৃতীয় কোনো দেশ থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয়, গ্রুপ বুকিংয়ের পর যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন ইত্যাদি। এসব কর্মকণ্ডকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থদণ্ড এবং এক বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া সরকার প্রমাণসাপেক্ষে কোনো ট্রাভেল এজেন্সির নিবন্ধন সাময়িক স্থগিত করতে পারবে। প্রতারণা বা আর্থিক আত্মসাতের ঘটনায় নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ক্ষমতাও পাবে।

  • ইভ্যালির রাসেল-নাসরিনের ৫ বছর কারাদণ্ড

    ইভ্যালির রাসেল-নাসরিনের ৫ বছর কারাদণ্ড

    প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ রাসেল এবং প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিনকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

    কারাদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দশ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ডের আদেশ দেন আদালত। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাদের আরো তিন মাসের কারাভোগ করতে হবে।

    বুধবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা উপস্থিত না থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

    আদালতের বেঞ্চ সহকারি নাজমুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বাদী সাদিকুর রায়হান ২০২১ সালের ২০ মার্চ তিনটি মোটরসাইকেল অর্ডার করেন। নির্ধারিত সময় সীমার মধ্যে মোটরসাইকেলগুলো বাদীকে হস্তান্তর করতে ব্যর্থ হন। এরপর  বাদীকে সিটি ব্যাংকের দুইটি চেক প্রদান করেন।

    বাদী ২০২২ সালের ১২ এপ্রিল চেক দুইটি নগদায়ন করতে গেলে তা ফেরত আসে। এ ঘটনায় ২০২৩ সালের ২৬ নভেম্বর ঢাকার সিএমএম আদালতে সাদিকুর রায়হান বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামি করা হয় মোহাম্মদ রাসেল ও শামীমা নাসরিনকে।

  • সুভাষ সিংহ রায় ও তার স্ত্রীর ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

    সুভাষ সিংহ রায় ও তার স্ত্রীর ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ

    দুর্নীতির অভিযোগে তদন্তের মুখে থাকা সাংবাদিক ও ইউনিমেড ইউনিহেলথ ফার্মাসিউটিক্যালসের পরিচালক সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায় এবং তার স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক সংসদ খন্দকার মমতা হেনা লাভলীর ৯টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে থাকা ৪২ লাখ ৭৩ হাজার ৭০১ টাকা জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।
    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ দেন।
    দুদকের উপ-পরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    এদিন দুদকের সহকারী পরিচালক বিলকিস আক্তার তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (জব্দ) চেয়ে আবেদন করেন।
    আবেদনে বলা হয়, সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায়ের বিরুদ্ধে বিধিবহির্ভূতভাবে অর্থ উপার্জন করে নিজ ও স্বার্থ-সংশ্লিষ্টদের নামে পরিচালিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে এনে বৈধতা প্রদানের চেষ্টা ও বিদেশে টাকা পাচারের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে সম্পৃক্ত অপরাধ করার অভিযোগের অনুসন্ধান চলছে। সুভাষ চন্দ্র সিংহ রায় ও তার নামীয় প্রতিষ্ঠান এবং তার স্ত্রী মমতা হেনা লাভলীর নামীয় এসব ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে কোটি কোটি টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
    বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, তারা এসব অ্যাকাউন্টে রক্ষিত অর্থ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করছেন। অনুসন্ধান নিষ্পত্তির পূর্বে ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোতে রক্ষিত অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে অনুসন্ধানের ক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে।
    এর আগে গত ২০ অক্টোবর তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন একই আদালত।
  • বিটিআরসির ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আইওএফের ১২ জনের জামিন বাতিল

    বিটিআরসির ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ, আইওএফের ১২ জনের জামিন বাতিল

    বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের (এমডিএফ) ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গুলশান থানার মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পাওয়া ১২ আসামির জামিন বাতিল করেছেন আদালত।
    বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে এই আদেশ দেন।
    ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
    তিনি জানান, বিটিআরসির ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গত ২৭ অক্টোবর ১২ জনের জামিন মঞ্জুর করেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমানের আদালত। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তাদের জামিন বাতিল চেয়ে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। এখন আসামিদের গ্রেফতারে আর বাধা নেই।
    এর আগে গত ১০ নভেম্বর তাদের জামিন বাতিল চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। পরে আদালত এ বিষয়ে শুনানির জন্য ১৩ নভেম্বর ধার্য করেন।
    জামিন বাতিল হওয়া আসামিরা হলেন– আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) নির্বাহী কমিটির সদস্য সৈয়দ মঈনুল হক, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. আব্দুল হান্নান, আশিক আহমেদ, গাজী মো. সালাহউদ্দিন, হাফিজুর রহমান, খালিদ ইসলাম, মো. মাহতাবুল আমিন, সোহেল শরীফ, তাজিন আলম, নাদির শাহ কোরেশী, মীর নাসির হোসেন ও সিসিও মুসফিক মনজুর।
    আসামিরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বাণিজ্য উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের নেতৃত্বাধীন ইন্টারন্যাশনাল গেটওয়ে অপারেটর্সদের সংগঠন আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরামের (আইওএফ) নির্বাহী কমিটির সদস্য।
    এ মামলায় সালমান এফ রহমান ও তার ছেলে আহমেদ সোহেল ফসিহুর রহমান এবং সায়ান এফ রহমানসহ ২৭ জন এজাহারনামীয় আসামি।
    এর আগে বিটিআরসির পক্ষে সংস্থাটি সিনিয়র সহকারী পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় এ মামলা করেন।
    মামলার অভিযোগে বলা হয়, আইজিডব্লিউ অপারেটরস ফোরাম (আইওএফ) গঠনের পর প্রতিষ্ঠানগুলো লাইসেন্স এবং চুক্তির শর্ত ও বিশ্বাস ভঙ্গ করাসহ প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎ করে। নেটওয়ার্ক উন্নয়নে আদায় করা মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের টাকা আত্মসাতে জড়িত ছিল আইওএফ কার্যনির্বাহী কমিটির এসব সদস্য। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আন্তর্জাতিক কল পরিচালনায় নিয়োজিত আন্তর্জাতিক গেটওয়ে খাত কুক্ষিগত করেন সালমান এফ রহমান। তার প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে গড়ে ওঠে আইওএফ নামের এ সিন্ডিকেট।
    এতে আরও বলা হয়, সালমান এফ রহমানের নির্দেশনায় প্রতি মাসে আইজিডব্লিউ অপারেটরদের বিপুল অঙ্কের অর্থ জমা দিতে হতো তার মালিকানাধীন বেক্সিমকো কম্পিউটারস লিমিটেডে। অথচ এ প্রতিষ্ঠানটির নামে আইজিডব্লিউ পরিচালনার কোনো লাইসেন্স নেই। মার্কেট ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের নামে অর্থ সংগ্রহ করা হলেও এর প্রকৃত ব্যবহার সম্পর্কে অবগত নন খোদ আইজিডব্লিউ অপারেটররাই।
  • হাসিনা খালাস পাবেন, আশা আইনজীবীর

    হাসিনা খালাস পাবেন, আশা আইনজীবীর

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ক্ষমতাচ্যুত ও ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আগামী সোমবার (১৭ নভেম্বর)।

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বৃহস্পতিবার এ মামলার রায়ের এই দিন ধার্য করেন।

    এই মামলার প্রধান প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম অভিযুক্তদের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তির আবেদন করেন। অন্যদিকে, রাষ্ট্রনিযুক্ত শেখ হাসিনার আইনজীবী আমির হোসেন বলেন, তিনি আশা করছেন ট্রাইব্যুনাল তাদের খালাস দেবে। তিনি বলেন, তার ক্লায়েন্টদের অনুপস্থিতিতেও নিজের সর্বোচ্চ যুক্তি তুলে ধরেছেন।

    আজ এক সংবাদ সম্মেলনে আমীর হোসেন বলেন, আমি বিচারের কোনও অস্বস্তি দেখিনি। আমাকে কেউ বাধা দেয়নি, আমি আমার সীমাবদ্ধতার মধ্যে যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। মামলা পরিচালনায় যে সহযোগিতা লাগে যেমন দলিল-দস্তাবেজ, রাষ্ট্রপক্ষ থেকে আইন অনুযায়ী আমাকে দেওয়া হয়েছে। যে সব ডকুমেন্ট পেয়েছি তার আলোকেই আমাকে কাজ করতে হয়েছে।

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এই রায় ঘোষণা করবে। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারপতি সফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    আসামিদের মধ্যে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন একমাত্র গ্রেফতার হয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থিত ছিলেন। তবে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এখনও পলাতক রয়েছেন।

    ট্রাইব্যুনাল ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে। বর্তমানে হেফাজতে থাকা চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুন রাষ্ট্রপক্ষের সাক্ষী হিসেবে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

    মামলায় তিন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এই পাঁচ অভিযোগে তিন আসামির বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল।

    এর আগে ১২ মে আইসিটি তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী এবং গণহত্যার পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছিল।

  • জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ  মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনার মামলার রায় ১৭ নভেম্বর অন্য দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

    জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী অপরাধ মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনার মামলার রায় ১৭ নভেম্বর অন্য দুই আসামি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন

    আগামী ১৭ নভেম্বর জুলাই গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলার রায় দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর বিচারক প্যানেল জনাকীর্ণ আদালতে রায়ের এ দিন ধার্য করেন।

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। মামলায় শেখ হাসিনা ছাড়াও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জড়িত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এবং সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন আসামি। কামালও শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতে পলাতক।

    তৃতীয় আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন হাসিনার নির্দেশে পুলিশবাহিনীকে দিয়ে জুলাইয়ে গণহত্যার দায় স্বীকার করে রাজসাক্ষী হিসাবে আদালতে সাক্ষ্য দেন। ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার দিন এ মামলায় গ্রেফতার একমাত্র আসামি চৌধুরী মামুনকে আদালতে হাজির করা হয়।

    মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, উত্থাপিত অভিযোগ, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং বিচার শুনানির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রসিকিউশন বলছে, জুলাই আন্দোলনে দেশব্যাপী মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যাকাণ্ড ও লাশ পোড়ানোর মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডের প্রধান মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনা। প্রসিকিউশন তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে শেখ হাসিনাকে গণহত্যার নির্দেশদাতা হিসাবে প্রমাণ করতে পেরেছে বলে দাবি তাদের।

    শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে আনা পাঁচটি অভিযোগ হলো-গত বছরের ১৪ জুলাই গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য প্রদান; হেলিকপ্টার, ড্রোন ও প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের নির্মূল করার নির্দেশ প্রদান; রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যা; রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকায় ছয় আন্দোলনকারীকে গুলি করে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে পোড়ানো। মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

    ট্রাইব্যুনাল থেকে রায়ের তারিখ ঘোষণার পর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আশা করি, ১৭ নভেম্বর আদালত তার সুবিবেচনা ও প্রজ্ঞা প্রয়োগ করবেন। সঠিক রায়ের মাধ্যমে বাংলাদেশে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটা ইতি ঘটাবেন। তিনি বলেন, আসামি যত শক্তিশালী হোক না কেন, আইন অনুযায়ী তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে। শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় কোনো অস্বচ্ছতা দেখেননি বলে জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা খালাস পাবেন বলে প্রত্যাশা করেছেন।

    চলতি বছরের ১ জুন শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) দাখিল করে প্রসিকিউশন। আনুষ্ঠানিক অভিযোগে আসামিদের বিরুদ্ধে পাঁচটি অভিযোগ তুলে ধরা হয়। বিচার শুরুর পর থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ১০৩ দিনে এ মামলার বিচারিক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।

    শুনানিতে জুলাই আন্দোলনে শহীদপরিবারের সদস্য, আহত যোদ্ধা, প্রত্যক্ষদর্শী, চিকিৎসকসহ ৫৪ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। তাদের বক্তব্যে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতাকে নৃশংসভাবে হত্যা এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়কার গুম-খুনসহ নির্যাতনের লোমহর্ষক চিত্র উঠে আসে।

    ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা : বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা বেষ্টনী গড়ে তোলা হয়। ট্রাইব্যুনালে প্রবেশে সবার ক্ষেত্রেই আরোপ করা হয় কড়াকড়ি। সকাল ১০টার দিকে হাইকোর্ট মাজারসংলগ্ন ট্রাইব্যুনালের ফটকে দেখা যায়, সেখানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। বিজিবি ও ডিএমপির সাঁজোয়া যান রয়েছে সেখানে। সেনাবাহিনীর সদস্যদের টহল দিতে দেখা যায়। এদিন ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হয় বেলা ১২টায়। এ সময় বিপুলসংখ্যক আইনজীবী, গণমাধ্যমকর্মী এবং বিভিন্ন সংস্থার লোকজন উপস্থিত ছিলেন।

    অঙ্গীকার করেছিলাম, প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে : রায়ের তারিখ ধার্য করার আদেশের পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, আমরা অঙ্গীকার করেছিলাম যে যারাই বাংলাদেশে যত শক্তিশালী হোক না কেন, যদি কেউ অপরাধ করে, মানবতাবিরোধী অপরাধ করে, তাদের সঠিক পন্থায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে এবং তাদের আইন অনুযায়ী যে প্রাপ্য, সেটা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে। সেই প্রক্রিয়ায় আমরা একটা দীর্ঘ যাত্রা শেষ করেছি। ট্রাইব্যুনাল এখন চূড়ান্তপর্বে উপনীত হয়েছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘এই জাতির যে বিচারের জন্য আকাঙ্ক্ষা, যে তৃষ্ণা, সেটার প্রতি তারা সুবিচার করবেন এবং ভবিষ্যতের জন্য এই রায়টি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে-তেমন একটি রায় আমরা প্রত্যাশা করছি।

    চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘আসামিদের বিরুদ্ধে গত বছরের জুলাই ও আগস্টে সংঘটিত যে ম্যাসাকার (গণহত্যা) এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ, সেই অপরাধের দায়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়েছিল। দীর্ঘ পথপরিক্রমা শেষে, সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে, উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে, সেই মামলাটি এখন রায়ের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) আদালত এ মামলাটির রায় ঘোষণার জন্য ১৭ নভেম্বর সোমবার দিন নির্ধারিত করেছেন। ইনশাল্লাহ, ১৭ নভেম্বর সোমবার মামলাটির রায় ঘোষিত হবে। এ সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা দাবি করেন তিনি।

    রায় ঘোষণার দিন ধার্য ঘিরে দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, সরাসরি যদি কেউ বিচারপ্রক্রিয়াকে বানচালের জন্য কোনো হুমকি দেন কিংবা কোনো কার্যক্রম করেন, সেটা আদালতের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।

    বিচারকাজ নিয়ে জাতিসংঘে আওয়ামী লীগের অভিযোগ প্রসঙ্গে এক প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, যারা যা খুশি প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করতে পারেন। এই বিচার আমরা যে প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এসেছি, সেটা ট্রান্সপারেন্ট (স্বচ্ছ) ছিল। এখানে অকাট্য ও শক্তিশালী সাক্ষ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়েছে। জাতির সামনে এই বিচার হয়েছে। আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দুনিয়ার সামনে ক্রিস্টাল ক্লিয়ারভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। সুতরাং তারা যত খুশি প্রশ্ন করতে পারেন। আইন নিজস্ব গতিতে চলবে। ন্যায়বিচার নিজস্ব গতিতেই চলবে। ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদসহ অন্যরা। শেখ হাসিনা ও কামালের পক্ষে ছিলেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন। এছাড়া মামুনের আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদও ছিলেন।

    ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় প্রথম মামলাটি (মিসকেস বা বিবিধ মামলা) হয় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে। গত বছরের ১৭ অক্টোবর পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালের প্রথম বিচারকাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেদিনই এ মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

  • বিশেষজ্ঞ মতামত  ভারত হাসিনাকে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসাবে ব্যবহার করছে

    বিশেষজ্ঞ মতামত ভারত হাসিনাকে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসাবে ব্যবহার করছে

    ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথা বলার সুযোগ বন্ধ করতে ঢাকায় ভারতীয় উপহাইকমিশনার পবন ভাদেকে ইতোমধ্যে তলব করা হয়েছে। এ ধরনের সুযোগ যেন শেখ হাসিনা আর না পান সে বিষয়েও ভাদেকে অনুরোধ করা হয়েছে।

    বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক পর্যায়ে আসবে না। অন্তরায় হিসাবে বিষয়গুলো থেকেই যাবে। এসব বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তিরও কারণ। ভারত সরকার শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ‘ট্রাম্পকার্ড’ হিসাবে ব্যবহার করছে বলেও মন্তব্য করেন তারা।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির যুগান্তরকে বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এ ধরনের সাক্ষাৎকার অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তি তৈরি করে। তাই বাংলাদেশ সরকার ঢাকায় ভারতীয় উপহাইকমিশনার পবন ভাদেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করে সেই অস্বস্তির কথা জানিয়েছে। তাকে অনুরোধ করা হয়েছে এ ধরনের কর্মকাণ্ড যেন আর না ঘটে তার জন্য ভারত সরকার যেন সক্রিয় হয়। এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিক্রিয়া যে ভালো হয় না সেটিও হয়তো তারা জানিয়েছেন।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ আশা করে ভারত যেন বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব বুঝতে পারে। সে অনুযায়ী এই ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক নয়, এটি তারা উপলব্ধি করবেন এটাই প্রত্যাশা। হুমায়ুন কবির আরও বলেন, এই ধরনের কর্মকাণ্ড যদি চলতে থাকে তাহলে এটি একটি অন্তরায় হিসাবে কাজ করবে দুই দেশের সম্পর্ককে স্বাভাবিক অবস্থায় নিয়ে যেতে।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বিচারের সম্মুখীন। তার বিষয়ে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল বলেছেন, দুর্বল শাসন ব্যবস্থাই তার পতনের জন্য দায়ী। দোভাল আরও বলেছেন, দুর্বল শাসন ব্যবস্থা অনেক সময় সরকারের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশ, নেপাল ও শ্রীলংকাসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে অনানুষ্ঠানিক উপায়ে সরকার পরিবর্তনের পেছনে এই প্রশাসনিক দুর্বলতাই বড় ভূমিকা রেখেছে।

    এম শফিউল্লাহ বলেন, গত ১৫ বছরে শেখ হাসিনার সরকারকে ভারত সমর্থন দিয়ে এসেছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এমনও বলেছেন যে, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্কের সোনালি অধ্যায় চলছে এবং এটি অন্যান্য প্রতিবেশীদেরও অনুকরণীয়। তাহলে এখন যদি বলা হয়, হাসিনার দুর্বল সরকারের জন্য তার পতন হয়েছে, তাহলে এটি আসলে হাসিনা সরকারের প্রতি ভারতের অনাস্থার প্রকাশ। তার থেকে ভারত দূরত্ব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। তিনি অজনপ্রিয়। শেখ হাসিনার ওপর দোষারোপ করে তিনি যত অপকর্ম করেছেন তা থেকেও সরে আসতে চাইছে ভারত। দোভালের বিবৃতি সেটিই প্রমাণ করে।

    সাবেক রাষ্ট্রদূত এম শফিউল্লাহ আরও বলেন, হাসিনা এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের ট্রাম্পকার্ড। এখন আবার ভারত তার মানসম্মান রক্ষার জন্য এগিয়ে এসেছে। ভারতের সবচেয়ে তিনটি বড় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার লিখিত সাক্ষাৎকারের ব্যবস্থা করেছে। হাসিনা নজরবন্দি অবস্থায় আছেন। তার পক্ষে এসব গণমাধ্যমকে সরাসরি সাক্ষাৎকার দেওয়া সম্ভব নয়। ভারতের সক্রিয় ভূমিকায় এটি হয়েছে। যেসব প্রশ্ন তাকে পাঠানো হয়েছে সেগুলো ভারত সরকার দেখে দিয়েছে।

    এমনকি কী কী প্রশ্ন করা দরকার সেটাও গণমাধ্যমকে দিয়ে করিয়ে নিয়েছে। শেখ হাসিনা যেসব উত্তর দিয়েছেন সেটিও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা রিভিউ করে দেখেছে কোনটা যাওয়া উচিত, কোনটা যাওয়া উচিত নয়। ভারতের গোয়েন্দা সংস্থার সক্রিয় ভূমিকায় এটি হয়েছে বলে বিশ্বাস করি।

    তিনি আরও বলেন, এ ধরনের কার্যকলাপ দুই দেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটাবে বলে মনে করি। বাংলাদেশ চাইছে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে। অন্যদিকে ভারত একটার পর একটা এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে। এসব বাংলাদেশের জন্য অস্বস্তিকর। বাংলাদেশের সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচন দেশকে হাসিনার স্বৈরশাসন থেকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় রূপান্তরিত করার। বাংলাদেশ সে প্রক্রিয়ায় আছে। সেখানে হাসিনার মাধ্যমে ভারতের এ ধরনের বক্তব্য আসা আমাদের নিরাপত্তা, অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং নির্বাচন নষ্টের চেষ্টা বলে মনে করি।

    এম শফিউল্লাহ বলেন, ভারতের উচিত হবে শেখ হাসিনাকে বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া। কারণ শেখ হাসিনাই বলেছেন কোনো ব্যক্তি আইনের ঊর্ধ্বে নয়। তাহলে তিনি কেন আইনের ঊর্ধ্বে থাকবেন। ভারত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরত পাঠালে সঠিক বিচার যেমন হবে তেমনি বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেরও উন্নতি হবে।