Author: তরঙ্গ টিভি

  • শরীয়তপুরে ৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী যারা

    শরীয়তপুরে ৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থী যারা

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি দেশের ২৩৭টি আসনে প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে শরীয়তপুরের ৩টি আসনের সবগুলোতেই ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

    সোমবার (৩ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।

    শরীয়তপুর-১ আসনে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদ আহমেদ আসলাম, শরীয়তপুর-২ আসনে জেলা বিএনপির সভাপতি শফিকুর রহমান কিরণ, শরীয়তপুর-৩ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাবেক একান্ত সচিব মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপুর নাম ঘোষণা করা হয়েছে।প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকায় ব্যাপক জনসংযোগ শুরু করেছেন। সোমবার বিকেলে প্রার্থীদের নাম ঘোষণার পর চায়ের দোকান, বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে সাধারণ জনগণসহ সব স্তরের নেতাকর্মীদের মধ্যে বইছে আনন্দধারা।

  • পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বনবিভাগের কর্মচারী গ্রেপ্তার

    পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় বনবিভাগের কর্মচারী গ্রেপ্তার

    ফেনীর পরশুরামে অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে তিন পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় ফারুক মজুমদার (৬৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    ‎বুধবার (১৯ নভেম্বর) সকালে ফুলগাজীর খেজুরিয়া এলাকা থেকে পুলিশের বিশেষ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    গ্রেপ্তার ফারুক মজুমদার পরশুরাম পৌরসভার দক্ষিণ কোলাপাড়া এলাকার মৃত মাদু মিয়া মজুমদারের ছেলে। তিনি পরশুরাম উপজেলা বনবিভাগে ওয়াচার পদে কর্মরত।

    পুলিশ সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরশুরাম থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক মো. মোস্তফার নেতৃত্বে ফুলগাজীর খেজুরিয়া গ্রামে বেলাল মেম্বার বাড়ির দেলোয়ার হোসেনের বসতঘরে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় সেই বাড়িতে লুকিয়ে থাকা ফারুক মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়।

    এর আগে, গত ১৪ নভেম্বর দক্ষিণ কোলাপাড়া গুনাগাজী মজুমদার বাড়ির নাসির উদ্দিনের স্ত্রী শেফালি আক্তার পারিবারিক বিরোধ ও মারধরের অভিযোগ তুলে তার প্রতিবেশী বনবিভাগের উপজেলা রেঞ্জ অফিসে কর্মরত ফারুক মিয়া, তার ছেলে যুবদল নেতা রাজিব মজুমদার ও পৌর ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সদস্য সচিব এমাম হোসেন ফয়সালের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেন। এ বিষয়ে তদন্ত করতে সেদিন সকালে তিন পুলিশ সদস্য সেখানে উপস্থিত হন। এ সময় অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়ান ফারুক। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে ফারুক ও তার ছেলেরা পুলিশকে ‘তোরা গুন্ডা নাকি’ বলে লাঠি ও ছুরি নিয়ে আক্রমণ করে।

    এ সময় পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল ইসলামকে পিঠে ছুরিকাঘাতসহ তাদের পোশাক ছিঁড়ে অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্তরা। খবর পেয়ে থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে ঘটনাস্থল থেকে আহত তিন পুলিশ সদস্যকে উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে যান।

    ‎পরে এ ঘটনায় আহত পরশুরাম মডেল থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক মুন্না দে বাদী হয়ে ফারুক ও তার দুই ছেলেকে আসামি করে একটি মামলা করেন। একই ঘটনায় ভুক্তভোগী শেফালি আক্তারও ফারুকের দুই ছেলেকে আসামি করে আরও একটি মামলা করেন।

    ‎পরশুরাম মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় করা মামলার আসামি ফারুক মজুমদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য দুই আসামিকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

  • শততম টেস্টে শতকের সামনে মুশফিক, বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

    শততম টেস্টে শতকের সামনে মুশফিক, বড় সংগ্রহের পথে বাংলাদেশ

    মিরপুর টেস্টে খেলতে নেমেই একটা মাইলফলক ছুঁয়েছেন মুশফিকুর রহিম। দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে শততম টেস্ট খেলছেন তিনি। ইতিহাস গড়া টেস্টে ব্যাট হাতেও দারুণ এক ইনিংসের সামনে দাঁড়িয়ে এই উইকেটকিপার ব্যাটার। নিজেদের প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে আছেন মুশফিক। ৯৯ রানে অপরাজিত থেকে দিনের খেলা শেষ করেছেন। তার এমন দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করে বড় সংগ্রহের পথে হাঁটছে বাংলাদেশ।

    প্রথম দিনের খেলা শেষে প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪ উইকেট হারিয়ে ২৯২ রান। মুশফিক ৯৯ রানে অপরাজিত আছেন, অপর অপরাজিত ব্যাটার লিটন দাসের সংগ্রহ ৪৭ রান।

    বিস্তারিত আসছে…

  • ভারতকে তো হারানো গেল, কোন পথে হামজার বাংলাদেশ

    ভারতকে তো হারানো গেল, কোন পথে হামজার বাংলাদেশ

    রাত ১১টার কাঁটা ছুঁই ছুঁই। সাংবাদিকদের ভরা কক্ষে হামজা চৌধুরী প্রবেশ করতেই করতালিতে ফেটে পড়লেন সবাই। ভারতকে হারানোর আনন্দে মাতোয়ারা সংবাদ সম্মেলন কক্ষ। সামনে বসতেই অভিনন্দন জানানো হলো হামজা চৌধুরীকে, গত রাতে ১–০ গোলে বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম নায়ককে।

    ২২ বছর পর ভারতের বিপক্ষে জয়ে জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারি তখনো কাঁপছে। লাল-সবুজের ঢেউয়ে ভেসেছে দেশের ফুটবলতীর্থ। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় শুধুই একটা জয় নয়, এর চেয়েও বেশি কিছু। যখন আপনি জানবেন ভারতের কাছে হারের বা ড্র করার একের পর হতাশার গল্প, যখন জানবেন জিততে জিততে ড্র কিংবা হেরে মন খারাপ করে মাঠ ছাড়ার কাহিনি আছে অনেক, তখন এই জয় শুধু একটি জয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না—হয়ে ওঠে অনেক আবেগময়।

    এমন উৎসবের রাতেই আরেকবার আলোয় উঠে এলেন ইংল্যান্ডে জন্ম নেওয়া, লেস্টার সিটির হয়ে এফএ কাপ জেতা ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার হামজা চৌধুরী। গতকাল ভারতের বিপক্ষে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের এই ম্যাচে গোল করে হয়তো নায়ক শেখ মোরছালিন, তবে দুরন্ত হেডে নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে হামজাও কেড়ে নেন আলো। অবশ্য হাজমার জন্য এ আর নতুন কি! বাংলাদেশের হয়ে আগের ছয় ম্যাচে চার গোল করে আলো ছড়িয়েছেন তো আগেই।

    ভারতের বিপক্ষে নিজেকে নিংড়ে দেন হামজা
    ভারতের বিপক্ষে নিজেকে নিংড়ে দেন হামজাপ্রথম আলো

    শিলংয়ে ভারতের বিরুদ্ধে দারুণ পারফরম্যান্স, ঢাকায় দ্বিতীয় ম্যাচেই গোল—তারপর হামজা বাংলাদেশ দলের শক্তির নিয়মিত উৎস। ভুটানের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে দুর্দান্ত হেড, হংকং চায়নার বিপক্ষে ফ্রি–কিক, নেপালের বিপক্ষে পেনাল্টি ও অবিস্মরণীয় বাইসাইকেল কিকে গোল। প্রতিটি গোলেই নতুন করে স্বপ্ন দেখানো। হামজা যেন নেমে এসেছেন নতুন আলোর মতো। তাঁকে অনুসরণ করতে, তাঁকে নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র তৈরি করতে লেস্টার সিটির ইউটিউব থেকে প্রতিনিধি এসেছেন ঢাকায়, সঙ্গে নিরাপত্তাকর্মী। তাঁরা ঢাকায় এসে ছায়ার মতো অনুসরণ করেছেন হামজাকে। আর এতে বাংলাদেশের ফুটবলের বিজ্ঞাপন হচ্ছে বিদেশে।

    ভারতকে হারানোয় ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা ক্রীড়া উপদেষ্টার

    ভারতকে হারানোয় ২ কোটি টাকা পুরস্কার ঘোষণা ক্রীড়া উপদেষ্টার

    শুধু ‘পোস্টার বয়’ হামজা নন, আজ জাতীয় দলে প্রবাসী ফুটবলার সাতজন—জামাল ভূঁইয়া, তারিক কাজী, কাজেম শাহ, হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শমিত সোম এবং সর্বশেষ যোগ দিয়েছেন কিউবা মিচেল। তাঁদের আগমন এক নতুন সম্ভাবনার আভাস দিচ্ছে নিঃসন্দেহে। দল হয়েছে শক্তিশালী। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এই বাংলাদেশ প্রতিপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি সমীহ পাচ্ছে। সেটি শুধু হামজার মতো বিশ্বমানের ফুটবলার আছেন বলেই নয়, একটা দল হয়ে খেলতে পারার কারণেও।

    এটিকে বাংলাদেশে ফুটবল–বিপ্লবের পূর্ণতা দেওয়ার প্রথম পদক্ষেপ বলছেন অনেকে। বলতেই পারেন। বাংলাদেশ নিজেদের শক্তিটা দেখিয়েছে। মানুষের মধ্যে এই আত্মবিশ্বাস ছড়িয়ে দিতে পেরেছে যে আরও কিছুটা সামনে এগোনো সম্ভব। যদিও বাংলাদেশের আপাতত কোনো ম্যাচ নেই। আগামী ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে শেষ ম্যাচ। তারপর বাংলাদেশ কোথায় খেলবে, কোন প্রতিযোগিতায় খেলবে, তা এখনো অজানা।

    বাংলাদেশ জাতীয় দলটা দেখতে এখন সুখি পরিবারের মতো
    বাংলাদেশ জাতীয় দলটা দেখতে এখন সুখি পরিবারের মতোপ্রথম আলো

    তবে এটা জানা যে এই বাংলাদেশ লড়াকু—যারা গোল করে ৭৯ মিনিট তা ধরে রাখার দৃঢ়তা দেখাতে পারে। এই বাংলাদেশের খেলা দেখতে মাঠে ছোটেন দর্শক। কালোবাজারিতে ৬০০ টাকার টিকিট বিক্রি হয় ২ থেকে ৩ হাজার টাকায়। যাঁরা কখনো ফুটবল দেখতেন না, তাঁদের কাছেও ফুটবল এখন বেশ আকর্ষণীয়। ঢাকার রাস্তায় ফুটবল জনতার মিছিল হচ্ছে। কাল ভারত ম্যাচের আগে স্টেডিয়াম এলাকায় তেমন মিছিল দেখে মুগ্ধ হতে হয়েছে। অনেক নারী দর্শক মাঠে যাচ্ছেন ফুটবল দেখতে। সবার মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা, স্বপ্ন আর বিশ্বাস; বাংলাদেশ পারবে।

    আরও পড়ুন

    ‘গোলকিপার’ হামজাকে কেমন দেখলেন

    ‘গোলকিপার’ হামজাকে কেমন দেখলেন

    কিন্তু স্বপ্নের আড়ালে লুকিয়ে আছে কঠিন বাস্তবতা। এই উৎসব সত্ত্বেও কড়া সত্যটি হলো, বাংলাদেশ উঠতে পারেনি ২০২৭ এশিয়ান কাপের মূল পর্বে। চার দলের গ্রুপে সেরা হতে পারলে তবেই যাওয়া যেত। কিন্তু ঘরের মাঠে হংকং ও সিঙ্গাপুরের সঙ্গে ভালো খেলেও হার, ভারতে অ্যাওয়ে ম্যাচে সুযোগ পেয়েও ড্রয়ের কারণে হয়নি।

    কালকের জয় স্বস্তি দিলেও বড় লক্ষ্য পূরণ হয়নি। হামজা-শমিতের মতো খেলোয়াড় নিয়েও অনেকটা আগেই এশিয়ান কাপের লড়াই থেকে ছিটকে যাওয়া ব্যর্থতাই। ইতিহাসে সেরা শক্তির দল নিয়েও পারল না বাংলাদেশ। যদিও দশ ম্যাচ পর এই প্রথম এশিয়ান কাপের বাছাইয়ে জয় এসেছে।

    বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছেন হামজা
    বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছেন হামজাপ্রথম আলো

    সেই আনন্দ নিয়ে কাল রাতে সংবাদ সম্মেলনে হামজা যখন বললেন, সামনে কোনো টুর্নামেন্ট জিততে চান, তবেই ‘পুরোপুরি তৃপ্ত’ হবেন, তখন দেশের ফুটবলের বাস্তব ছবিটা সামনে আসে। সেই বাস্তবতার নাম ঘরোয়া ফুটবলের ভয়াবহ অবস্থা। জাতীয় দল ২২ বছর ধরে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জেতে না। এই লম্বা সময়ে দেশে ফুটবল অবকাঠামো সেভাবে গড়ে ওঠেনি। ভেঙে পড়া ঘরোয়া কাঠামোই বাংলাদেশ ফুটবলের আসল সমস্যা আজও। দেশের প্রিমিয়ার লিগের বেশির ভাগ ক্লাবের নেই নিজস্ব মাঠ, নেই সমর্থক, নেই পৃষ্ঠপোষকতা। ক্লাবগুলো দিন দিন দুর্বল হচ্ছে। ভালো বিনিয়োগ করতে পারছে না। ৯০ শতাংশ ক্লাবে নেই পেশাদারত্ব। ন্যূনতম একটা ওয়েবসাইট পর্যন্ত নেই ক্লাবের। ফুটবলাররা বেতন পান না নিয়মিত। নিচের লিগগুলো অনিয়মিত, অনেক জেলায় ঘরোয়া ফুটবল প্রায় মৃত।

    আরও পড়ুন

    ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষকে খুশি করেছি’—ভারতকে হারিয়ে হামজা

    ‘আমরা ১৮ কোটি মানুষকে খুশি করেছি’—ভারতকে হারিয়ে হামজা

    তাই প্রশ্ন আসে, হামজাসহ শুধু প্রবাসীদের আলোয় ভর করে কত দূর যাবে জাতীয় দল? এক-আধ ম্যাচ জয় উৎসব আনে, কিন্তু ঢেকে রাখতে পারে না কাঠামোগত বিপর্যয়। ফুটবল এক দিনের খেলা নয়, এটা দীর্ঘমেয়াদি নির্মাণ। যেখানে প্রয়োজন অবকাঠামো, পরিকল্পনা, তৃণমূল লিগ, কোচিং, রেফারিং আর একটি সুদৃঢ় ক্লাব কাঠামো। এর কোনোটিই শক্তিশালী অবস্থানে নেই।

    গত বছর দেশে সরকারবদলের পর প্রিমিয়ার লিগ থেকে বিদায় নিয়েছে দুই ক্লাব। ফুটবলারদের বাজারে ধস নেমেছে। কোটি টাকার ফুটবলারের দাম নেমে এসেছে ৪০ লাখে। বহু খেলোয়াড় মাসে ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পান, তা–ও নিয়মিত নয়। কান পাতলেই শোনা যায় ফুটবলারদের হাহাকার। তাই হামজা, জামাল, তারিকরা যতই আলো আনুন, সেই আলো আরও স্পষ্ট করে ঘরোয়া ফুটবলের অন্ধকার। ইংল্যান্ড-ডেনমার্ক-কানাডা-ইতালি থেকে আসা প্রতিভারা দলকে শক্তি দিচ্ছেন, কিন্তু দেশের ফুটবলে পায়ের নিচে মাটি নেই।

    একটা ফুটবল দল শুধু ফরোয়ার্ড লাইনের ওপর দাঁড়ায় না, দেশের ফুটবলও দাঁড়ায় না শুধু প্রবাসীদের ওপর। কিশোর লিগ, অঞ্চলভিত্তিক প্রতিযোগিতা, রেফারিদের সম্মান, কোচিংয়ে উন্নয়ন, সঠিক লাইসেন্সিং—এসবই ফুটবল উন্নয়নের আসল ভিত। এই ভিত না থাকলে জাতীয় দলের আলো ক্ষণিকের, যা দীর্ঘদিন টেকে না।

    ঘরোয়া লিগ নিয়ে বাফুফের টনক নড়বে কবে
    ঘরোয়া লিগ নিয়ে বাফুফের টনক নড়বে কবেপ্রথম আলো

    বাফুফে বড় ম্যাচের আগে চাকচিক্যের ঝড় তোলে। ব্যানার, কনসার্ট, ফুলের সংবর্ধনায় ভাসায় চারপাশ। কিন্তু ভেতরের হালটা রুগ্‌ণই থেকে যায়। এ দেশে রেফারিরা নিয়মিত ধর্মঘটে যান সময়মতো পারিশ্রমিক না পেয়ে। এ–ই যদি হয় আসল ছবি, তাহলে হামজাদের নিয়ে স্বপ্ন দেখতে ভয় লাগবেই।

    দেশের সব জেলায় নিয়মিত লিগ চালু করতে হবে। মাঠ সংস্কার, কোচিং সেন্টার, রেফারিদের সম্মান ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে। ক্লাব লাইসেন্সিং কঠোর করা জরুরি। বাফুফেকে দায়িত্বশীল হতে হবে। জাতীয় দলকে শুধু সাজিয়ে রাখা নয়, নিচের কাঠামোকে বাঁচাতে হবে। লিগের ভিত্তি শক্ত করতে হবে। চালচুলোহীন ক্লাবগুলোকে উঠে দাঁড়াতে হবে। না হলে জাতীয় দলের উজ্জ্বলতা শুধু মরীচিকা হয়ে থাকবে। এই সত্য বাফুফে ও দেশের ক্রীড়া প্রশাসন যত দ্রুত বুঝবে, ততই ভালো।

    দেশের ফুটবলে এই জোয়ার ধরে রাখা জরুরি
    দেশের ফুটবলে এই জোয়ার ধরে রাখা জরুরিপ্রথম আলো

    হাজমা চৌধুরীর পেছনে নামীদামি ব্র্যান্ডগুলো লাইন দিয়েছে। যদিও হামজার বাবা বলেছেন, ‘হামজা এই দেশকে দিতে এসেছে, নিতে নয়।’ এই আলোর মাঝে নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে, কদিন আগে প্রথম বিভাগ ফুটবল লিগ শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক স্পনসর ছাড়াই। দেশের শীর্ষ লিগ বাংলাদেশ লিগে স্পনসর, লোগো কোনো কিছুই এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান নয়। অথচ লিগ শুরু হয়েছে প্রায় দুই মাস।

    এই যদি হয়ে দেশের শীর্ষ লিগের অবস্থা, তখন ভারতকে হারানোর পরও বাস্তবতার জমিনে পা রাখাই

  • অটোরিকশার মোটরে ওড়না পেঁচিয়ে নারীর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন

    অটোরিকশার মোটরে ওড়না পেঁচিয়ে নারীর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন

    শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার মোটরের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে নাসিমা বেগম (৩২) নামে এক পোশাক শ্রমিক নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় ওই নারীর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) সকালে উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার ডামুড্যা-শরীয়তপুর সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

    নিহত নাসিমা বেগম ডামুড্যা উপজেলার দাইমিচর ভয়রা এলাকার আসাদ হাওলাদারের স্ত্রী। তিনি ঢাকায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন।

    স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নাসিমা তার ছেলে আয়মানের (৮) আকিকা অনুষ্ঠানের জন্য ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। আজ সকালে নাসিমা বেগম ঢাকার উদ্দেশ্যে অটোরিক্সায় করে ছেলেকে নিয়ে শরীয়তপুর সদরে যাচ্ছিলেন। এসময় কুতুবপুর এলাকায় পৌঁছালে নাসিমার শরীরে থাকা ওড়না অটোরিকশার পেছনের মোটরের সঙ্গে পেঁচিয়ে শরীর থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। ডামুড্যা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি। তবে এ দুর্ঘটনায় ছেলে আয়মান অক্ষত রয়েছে।

    ইসলামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মোল্লা বলেন, আমি সকালে বাজারে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনার খবর পাই। ঘটনাস্থলে এসে দেখি, অটোরিকশার ভেতরে এক নারীর দেহ এবং পাশে রাস্তায় মাথা পড়ে আছে। আমি সঙ্গে সঙ্গে ডামুড্যা থানায় খবর দেই।

    নিহতের স্বামী আসাদ হাওলাদার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ছেলের আকিকার জন্য গত পরশু সে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। আজ সকালে আমার শ্বশুরবাড়ি মুন্সীগঞ্জ যাওয়ার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটল। পরে একজনের ফোন পেয়ে এসে দেখি আমার স্ত্রী আর নেই। আমি এই ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে বিচার চাই।

    ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন, আমরা খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি। অটোরিকশার মোটরের সঙ্গে বোরকার ওড়না পেঁচিয়ে ওই নারীর দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আমরা মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছি।

  • শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় নিয়ে যা বলল ভারত

    শেখ হাসিনার ফাঁসির রায় নিয়ে যা বলল ভারত

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ফাঁসির রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। 

    সোমবার এক বিবৃতিতে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, নির্বাসনে থাকা হাসিনার রায় নজরে নিয়েছে ভারত এবং ‘‘বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ’’ রয়েছে (ভারত)।

    বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘আমরা সর্বদা সকল অংশীদারদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে এই লক্ষ্যে কাজ করব।’’

    তবে বিবৃতিতে শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে হস্তান্তরে বাংলাদেশ সরকারের আহ্বানের কোনও জবাব দেয়নি দিল্লি।

    বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেছে। রায় ঘোষণার সময় জনাকীর্ণ আদালতে আইনজীবীরা ছাড়াও জুলাই আগস্টে নিহতদের কয়েকজনের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

    রায়ে আদালত বলেছেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তিনটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। একটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অন্য দুটি অপরাধে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই দিনে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে ভারতের কাছ থেকে ফেরত চেয়ে বিবৃতি দিয়েছে।

    বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আজকের রায়ে পলাতক আসামি শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামাল জুলাই হত্যাকাণ্ডের জন্য অপরাধী সাব্যস্ত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত এই ব্যক্তিদের দ্বিতীয় কোনও দেশ আশ্রয় দিলে তা হবে অত্যন্ত অবন্ধুসুলভ আচরণ এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞার শামিল।

    বিবৃতিতে আরও বলা হয়, আমরা ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাই, তারা যেন অনতিবিলম্বে দণ্ডপ্রাপ্ত এই দুই ব্যক্তিকে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। দুই দেশের মধ্যে বিরাজমান প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুসারে এটি ভারতের জন্য অবশ্য পালনীয় দায়িত্বও বটে।

    • হাসিনাকে ফেরত দেবে ভারত?

    আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় ঘোষণার পর শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নতুন করে আলোচনায় শুরু হয়েছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীকে ভারত ফেরত দেবে কি না, সেই প্রশ্ন করছেন অনেকে।

    রায় ঘোষণার পর কাতার-ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভারতের জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেছেন, ‘‘হাসিনার বিরুদ্ধে আদালতের রায় প্রত্যাশিত ছিল। তবে ভারত বাংলাদেশের এই পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে প্রত্যর্পণ করবে না।’’

    তিনি বলেন, ‘‘ভারত কোনও অবস্থাতেই তাকে প্রত্যর্পণ করবে না। গত দেড় বছরে আমরা দেখেছি, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না এবং অনেক সময়ই তা ভঙ্গুর মনে হয়েছে।’’

    শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘‘হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় প্রত্যাশিতই ছিল।’’

    তিনি বলেন, দেশের ভেতরের পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছিল, তার বেশ কঠিন বিচার হবে, এটা প্রত্যেকেই আশা করেছিলেন। ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম বাংলাদেশের আইনি প্রক্রিয়া অনুসারেই পরিচালিত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পর্যবেক্ষকরা একমত হয়েছেন।

    ‘‘নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ নিয়ে কারও কোনও সন্দেহ নেই। প্রধানমন্ত্রী সরাসরি গুলি করার নির্দেশ দিয়েছিলেন, এমন প্রমাণও রয়েছে।’’

    জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ এশিয়া-বিষয়ক এই বিশেষজ্ঞ বলেন, ‘‘আওয়ামী লীগ একটি পাল্টা-বয়ান তৈরির চেষ্টা করবে। কিন্তু সার্বিকভাবে বাংলাদেশিরা মনে করেন, হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন।’’

    সূত্র: এমইএ, আল জাজিরা।

  • রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ‘বিচার স্বচ্ছ হয়েছে, শেখ হাসিনা খালাস পেলে খুশি হতাম

    রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ‘বিচার স্বচ্ছ হয়েছে, শেখ হাসিনা খালাস পেলে খুশি হতাম

    পলাতক ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচার ভালোভাবে হয়েছে, স্বচ্ছ হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে শেখ হাসিনা খালাস পেলে আমি সবচেয়ে খুশি হতাম।’

    সোমবার (১৭ নভেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্টাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনজীবী আমির হোসেন এসব কথা বলেন।

    তিনি বলেন, ‘আমি আমার মক্কেলের খালাস চাই। এই চাওয়াটা তো স্বাভাবিক। এটা প্রত্যেকেই চাইবে।’

    শেখ হাসিনার সঙ্গে আপনি কোনোরকম যোগাযোগ করার চেষ্টা করেছেন কী না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চেষ্টা করি নাই। চেষ্টা করার কোনো বিধানও নাই। উনারাও আমার সঙ্গে কোনো যোগাযোগের চেষ্টা এবং কোনো রকমের কোনো সহায়তাও করে নাই। প্রচ্ছন্নভাবেও যদি কোনো সহায়তা করতো সেটা আমার জন্য আরও ভালো হতো, কিন্তু সেটা কেউ কিছু করে নাই। আইনগতভাবে বিধানও নাই।’

    ‘আমি তো সবসময় আশা করি আমার মক্কেল (শেখ হাসিনা) খালাস পাবে। এটা আমার আশা, এটা আমার প্রত্যাশা। এটাই স্বাভাবিক কথা, আমার তো প্রত্যাশা থাকতেই হবে। এটা হৃদয় থেকেই বলছি। আমি একজনের জন্য এত এত মাস ধরে মামলা করেছি, তা সে যদি খালাস পায় তা আমার চাইতে বেশি খুশি আর কে হবে।’

    ট্রাইব্যুনালে বিচার প্রক্রিয়া ভালোভাবে হয়েছে, স্বচ্ছ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

    রাজসাক্ষী আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি আমার মক্কেল না। উনার সম্পর্কে আমার কোনো কথা বলাও ঠিক না। কারণ আমি যাদের পক্ষে মামলা লড়ি তাদের পক্ষেই আমার বলা উচিত। যারা আমার আসামি না তার পক্ষে আমি কেন বলবো, এটা বলা ঠিক না, এটা সমীচীন না।’

    আসামি পক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী বলেন, ভালোভাবেই বিচার হয়েছে বলে আমি মনে করি।‘আপনার সাবমিশনের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারে একটা জায়গায় মিলে গেছে। আপনি বলছিলেন যে এইভাবে নির্বিচারে গুলির নির্দেশ তিনি দেননি, গণমাধ্যমে দেখলাম তিনিও তাই দাবি করেছেন, প্রসিকিউটার বলছে ভিন্ন কথা। তথ্য প্রমাণ কিন্তু তা বলে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘উনারা (প্রসিকিউট) তো ওনাদের কথা বলবেনই। আমি আমার কথা বলবো। এটাই স্বাভাবিক। বিচার বিবেচনা করবে মাননীয় ট্রাইব্যুনাল।’

    এদিকে, শেখ হাসিনার রায়কে কেন্দ্র করে ট্রাইব্যুনাল ও সুপ্রিম কোর্ট এলাকায় বাড়ানো হয়েছে কয়েক স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুলিশ-র‌্যাব, এপিবিএন-বিজিবির পাশাপাশি নিয়োজিত রয়েছে সেনাবাহিনী। তৎপর গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও। নিরাপত্তার স্বার্থে রোববার সন্ধ্যার পর থেকেই দোয়েল চত্ত্বর হয়ে শিক্ষাভবনমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সীমিত করা হয়েছে জনসাধারণের চলাচলও।

    গত ১৩ নভেম্বর এ মামলার রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়। ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ দিন নির্ধারণ করেন। ট্রাইব্যুনালের বাকি সদস্যরা হলেন— বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারপতি মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

    শেখ হাসিনার এ মামলায় মোট ২৮ কার্যদিবসে ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য-জেরা শেষ হয়। আর ৯ কার্যদিনে চলে প্রসিকিউশন-স্টেট ডিফেন্সের যুক্তিতর্ক পাল্টা যুক্তিখণ্ডন। ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রের প্রধান আইনকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের সমাপনী বক্তব্য এবং চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ও রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেনের যুক্তিখণ্ডন শেষে রায়ের তারিখ নির্ধারণে সময় দেওয়া হয়।

    যুক্তিতর্কে শেখ হাসিনা ও কামালের সর্বোচ্চ সাজা চেয়েছে প্রসিকিউশন। তবে রাজসাক্ষী হওয়ায় মামলার অন্যতম আসামি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের ব্যাপারে ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। যদিও তার খালাস চেয়েছেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। হাসিনা-কামালও খালাস পাবেন বলে দৃঢ় বিশ্বাস রাষ্ট্রনিযুক্ত আমির হোসেনের।

    এ মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনে প্রসিকিউশন। এর মধ্যে রয়েছে উসকানি, মারণাস্ত্র ব্যবহার, আবু সাঈদ হত্যা, চানখারপুলে হত্যা ও আশুলিয়ায় লাশ পোড়ানো। আনুষ্ঠানিক অভিযোগ মোট আট হাজার ৭৪৭ পৃষ্ঠার। এর মধ্যে তথ্যসূত্র দুই হাজার ১৮ পৃষ্ঠার, জব্দতালিকা ও দালিলিক প্রমাণাদি চার হাজার পাঁচ পৃষ্ঠার ও শহীদদের তালিকার বিবরণ দুই হাজার ৭২৪ পৃষ্ঠার। সাক্ষী করা হয়েছে ৮৪ জনকে। গত ১২ মে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ মামলার প্রতিবেদন জমা দেয় ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।

  • ক্লাউডফ্লেয়ার ডাউন হঠাৎ বাংলাদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ বিশ্বের বহু ওয়েবসাইটে বিপর্যয়

    ক্লাউডফ্লেয়ার ডাউন হঠাৎ বাংলাদেশি বিভিন্ন গণমাধ্যমসহ বিশ্বের বহু ওয়েবসাইটে বিপর্যয়

    বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইন্টারনেট অবকাঠামো প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ক্লাউডফ্লেয়ারে প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দিয়েছে।

    আজ মঙ্গলবার বিশ্বজুড়ে বেশ কিছু ওয়েবসাইট হঠাৎ করেই অচল হয়ে পড়ে। দেশি-বিদেশি গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার), চলচ্চিত্র পর্যালোচনাভিত্তিক সাইট লেটারবক্সডসহ অসংখ্য সাইটে প্রবেশ করতে গিয়ে ব্যবহারকারীরা একটি ত্রুটিপূর্ণ বার্তা দেখতে পান। এতে উল্লেখ করা হয়, ক্লাউডফ্লেয়ারের সমস্যার কারণে পৃষ্ঠাটি লোড করা সম্ভব হয়নি।

    একাধিক আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, ইন্টারনেটের অবকাঠামো হিসেবে কাজ করা ক্লাউডফ্লেয়ার ওয়েবসাইটগুলোতে সাইবার আক্রমণ প্রতিরোধ, উচ্চমাত্রার ট্র্যাফিক সামলানো এবং দ্রুত কনটেন্ট পৌঁছে দেওয়াসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ সেবা দিয়ে থাকে। যেহেতু ইন্টারনেটের একটি বিশাল অংশ এই প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরশীল, তাই তাদের সিস্টেমে সামান্য ত্রুটিও একসঙ্গে একাধিক ওয়েবসাইটে মারাত্মক প্রভাব ফেলে।

    বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীরা যখন এই সাইটগুলোতে প্রবেশের চেষ্টা করেন, তখন ‘ক্লাউডফ্লেয়ারের নেটওয়ার্কে অভ্যন্তরীণ সার্ভার ত্রুটি দেখা দিয়েছে। কয়েক মিনিট পর পুনরায় চেষ্টা করুন’—এমন বার্তা পান ব্যবহারকারীরা।

    বিভ্রাটের বিষয়টি স্বীকার করে তাৎক্ষণিক এক বিবৃতিতে ক্লাউডফ্লেয়ার জানায়, তদন্ত চলছে এবং তথ্য পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আপডেট দেওয়া হবে। এর কিছুক্ষণ পর কর্তৃপক্ষ জানায়, তারা সমস্যাটি চিহ্নিত করেছে এবং দ্রুত সমাধানে কাজ চলছে।

    এদিকে, ওয়েবসাইট বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী প্ল্যাটফর্ম ডাউন ডিটেক্টরও শুরুতে এই একই সমস্যায় আক্রান্ত হয়েছিল। তবে কিছুক্ষণ পর সাইটটি লোড হলে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে ওয়েবসাইট বিভ্রাটের ঘটনায় রিপোর্টের সংখ্যা নাটকীয়ভাবে বেড়ে গেছে। এতে স্পষ্ট হয়, ক্লাউডফ্লেয়ারের সমস্যার কারণে বিশ্বজুড়ে হাজারো ওয়েবসাইট অচল হয়ে পড়েছিল।

    ঠিক কতগুলো ওয়েবসাইট এই বিপর্যয়ে আক্রান্ত হয়েছে, তা এখনো সুনির্দিষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্লাউডফ্লেয়ারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিসে বড় ধরনের ত্রুটি দেখা দিলে একযোগে বহু সাইট অচল হয়ে যাওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগেও এই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হয়েছে, যা ইন্টারনেট অবকাঠামোর এককেন্দ্রিক নির্ভরতার ঝুঁকিকে আবারও সামনে এনেছে।

  • ক্যাশ বিভাগে নিয়োগ দিচ্ছে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন

    ক্যাশ বিভাগে নিয়োগ দিচ্ছে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন

    আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি সিনিয়র অফিসার-ক্যাশ পদে জনবল নিয়োগের জন্য এ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে। গত ১৩ নভেম্বর থেকেই আবেদন নেওয়া শুরু হয়েছে। আবেদন করা যাবে আগামী ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত। আগ্রহী প্রার্থীরা অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। নির্বাচিত প্রার্থীরা মাসিক বেতন ছাড়াও প্রতিষ্ঠানের নীতিমালা অনুযায়ী আরো বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

    এক নজরে আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি ২০২৫

    প্রতিষ্ঠানের নাম
    আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন
    চাকরির ধরন
    প্রকাশের তারিখ
    ১৩ নভেম্বর ২০২৫
    পদ
    ১টি
    লোকবল
    নির্ধারিত নয়
    চাকরির খবর
    আবেদন করার মাধ্যম
    অনলাইন
    আবেদন শুরুর তারিখ
    ১৩ নভেম্বর ২০২৫
    আবেদনের শেষ তারিখ
    ৩০ নভেম্বর ২০২৫
    অফিশিয়াল ওয়েবসাইট
    আবেদন করার লিংক
    অফিশিয়াল নোটিশের নিচে

    প্রতিষ্ঠানের নাম: আদ-দ্বীন ফাউন্ডেশন
    পদের নাম: সিনিয়র অফিসার-ক্যাশ
    পদসংখ্যা: নির্ধারিত নয়

    শিক্ষাগত যোগ্যতা: অ্যাকাউন্টিংয়ে বিবিএ/এমবিএ
    অন্যান্য যোগ্যতা: এমএস এক্সেল এবং অ্যাকাউন্টিং সফটওয়্যারে (ট্যালি) দক্ষতা।
    অভিজ্ঞতা: কমপক্ষে ৩ থেকে ৫ বছর

    চাকরির ধরন: ফুলটাইম
    কর্মক্ষেত্র: অফিসে
    প্রার্থীর ধরন: শুধু পুরুষ
    বয়সসীমা: উল্লেখ নেই

    কর্মস্থল: ঢাকা (মগবাজার)
    বেতন: আলোচনা সাপেক্ষে
    অন্যান্য সুবিধা: ২টি উৎসব বোনাস, প্রভিডেন্ট-ফান্ড, গ্র্যাচুইটি।

    আবেদন যেভাবে: আগ্রহী প্রার্থীরা আবেদন করতে ও বিস্তারিত বিজ্ঞপ্তিটি দেখতে এখানে ক্লিক করুন
    আবেদনের শেষ সময়: ৩০ নভেম্বর ২০২৫

  • ‘তার মতো মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার’

    ‘তার মতো মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার’

    দেশের সীমানা পেরিয়ে ওপার বাংলাতেও সমান জনপ্রিয় জয়া আহসান। আবীর চট্টোপাধ্যায় সঙ্গে তার বন্ধুত্ব বহু পুরোনো এবং ইন্ডাস্ট্রিতে এই জুটির পর্দার রসায়নও দারুণ জনপ্রিয়। সম্প্রতি জয়া আহসানের কথায় আবীর চট্টোপাধ্যায়ের প্রতি তার মুগ্ধতা যেন এক অন্য মাত্রা পেল। 

     

    জয়া জানান, ইন্ডাস্ট্রিতে বহু মানুষের সঙ্গে কাজ করতে হলেও আবীর চট্টোপাধ্যায় তাদের মধ্যে অন্যতম ব্যতিক্রমী। তিনি একজন অত্যন্ত নির্ঝঞ্ঝাট মানুষ। জয়ার কথায়, ‘ওর সঙ্গে আমার সবচেয়ে বেশি কাজ। আর সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইন্ডাস্ট্রিতে আমার সবচেয়ে কমফোর্ট জোন আবীর।’

    ‘আমি কখনও দেখিনি ও কোনও আড্ডায় বা কখনও কোথাও কাউকে নিয়ে সমালোচনা করছে। কেউ কষ্ট পেতে পারে এরকম কথা আমি আবীরকে কখনও বলতে শুনিনি। তাই ওর জায়গা আমার জীবনে অনেকটা উপরে। একটু বেশিই সমালোচনাহীন মানুষ। যদিও মাঝেমধ্যেই একটু টক-ঝাল গল্প হলে সকলেরই খুব ভালোলাগে। তবে ওর মধ্যেও নিশ্চয়ই সেটা আছে, নয় সেটা কেউ খুঁজে পায় না। অথবা আমরা দেখতে পাই না।’

    অভিনেত্রীর ভাষ্যে, ‘পুতুল নাচের ইতিকথার জন্য আমরা কিছু দিন আগে যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে গিয়েছিলাম। ওরে বাবা! আবীর ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে সে যা হলো। আমাদের দিকে আর কে তাকাবে, আমাদের কথা কারও তখন কান দিয়ে মাথা পর্যন্ত পৌঁছাচ্ছে না। সকলে শুধু ওর দিকেই তাকিয়ে রয়েছে। মুগ্ধ নয়নে সকলে আবীরকে দেখছে। আমিও দেখছিলাম যে আহা কী অপূর্ব এই দৃশ্য। ওর জন্য অনুরাগীরা কতটা পাগল। এই ভক্তদের সামলে রাখা এবং সবটা এমন যত্নে রাখাও খুব কঠিন কাজ। আবীর খুব সুন্দর মেনটেন করে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আসলে আবীরের থেকে অনেক কিছু শেখার আছে। সংসার এবং কর্মজীবন পাশাপাশি চালিয়ে যাওয়া খুব সহজ কাজ নয়। আবীর খুব সুন্দর ভাবে পরিবারকে প্রাধান্য দিয়ে সংসার জীবনটা মেনটেন করে। শুধু তাই নয়, কাজের জায়গাটাও ব্যালান্স করে। আসলে তার মতো একজন মানুষকে বন্ধু হিসেবে পাওয়া খুব ভাগ্যের ব্যাপার।’

    জয়ার কথায়, ‘ওর অনুভূতি খুব মন থেকেই আসে সেটা যার জন্যই হোক। এবং এই বিষয়টা কিন্তু ফেক নয়। আমি চাইব ও যেন সারাজীবন এমনই থাকে। আমরা যা করতে পারিনি বা পারি না সেটাই ও অতি যত্নে করে দেখায়। কত অবলীলায় আমরা বলে ফেলি কর্মজীবন ও পরিবার একসঙ্গে সামলানো কঠিন, ও সেটা ভুল প্রমাণ করে দেখিয়েছে বার বার।’