Author: তরঙ্গ টিভি

  • বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ১১ জন পাচারকারী আটক

    বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ১১ জন পাচারকারী আটক

    মায়ানমারে পাচারকালে বিপুল পরিমাণ সিমেন্টসহ ১১ জন পাচারকারীকে আটক করেছে কোস্ট গার্ড।

    রবিবার ১৮ জানুয়ারি বিকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

    তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৮ জানুয়ারি রবিবার মধ্যরাত ১টায় কোস্ট গার্ড জাহাজ তাজউদ্দিন কর্তৃক সেন্টমার্টিনের ছেড়াদ্বীপ সংলগ্ন দক্ষিণ-পূর্ব সমুদ্র এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযান চলাকালীন উক্ত এলাকায় সন্দেহজনক ১টি ফিশিং বোটে তল্লাশি করে অবৈধভাবে শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে মায়ানমারে পাচারের উদ্দেশ্যে বহনকৃত প্রায় ৩ লক্ষ ৩৭ হাজার টাকা মূল্যের ৭৫০ বস্তা সিমেন্ট ও পাচার কাজে ব্যবহৃত ফিশিং বোটসহ ১১ জন পাচারকারীকে আটক করা হয়।

    জব্দকৃত সিমেন্ট, পাচারকাজে ব্যবহৃত বোট ও আটককৃত ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, পাচার ও চোরাচালান রোধে কোস্ট গার্ড ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত রাখবে

  • যশোর৮৫ /২ আসন : প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদ

    যশোর৮৫ /২ আসন : প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদ

    শেষ মুহূর্তে নানা নাটকীয়তার পর প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যশোর ৮৫/ ( ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ।

    ১৮ জানুয়ারি রাত ৭টায় ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঝিকরগাছা-চৌগাছা উপজেলা দুটির ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে। গত ১ জানুয়ারি যশোর জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান যাচাই-বাছাইয়ে ডা. ফরিদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। ২৫ বছর আগের বন্ধ ক্রেডিট কার্ডের ৩০ হাজার টাকার বিল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। যদিও তিনি বিষয়টি জানার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের পরে কাগজপত্র জমা দেওয়ায় রিটারিং কর্মকর্তা আমলে নেননি। পরে তিনি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেন। ১১ জানুয়ারি আপিল শুনানিতে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নতুন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়ে আলাদা শুনানি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। শুনানির দিন ১৬ জানুয়ারি করা হয়। এদিন শুনানি হলেও ১৭ তারিখ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন ইসি। এদিন নির্বাচন কমিশনে হট্টগোলের কারণে তারিখ পিছিয়ে ১৮ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন নির্বাচন কমিশন। রবিবার সারাদিন যশোর-২ আসনের মানুষ ডা. ফরিদের প্রার্থিতা ফিরে পাবার খবরের অপেক্ষায় ছিলেন। অসংখ্য মানুষ দৈনিক নতুন সকালের বার্তায় ফোন করে খোঁজ নেন। অবশেষে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায়ও খবর না আসায় মানুষ অস্থির হয়ে পড়েন। নানা নাটকীয়তার পর রাত ৭টার দিকে নির্বাচন কমিশন ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ডা. ফরিদ গণমাধ্যমকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে লাখ কোটি শুকরিয়া যে আমরা প্রার্থিতা ফিরে পেলাম। যে চারটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে ১০ দলের ঐক্য হয়েছে, আমরা দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিতে সহযোগিতা করবো না, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবো এবং সবার জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। এই মুলনীতিগুলো বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য। তিনি প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন, আমি আমার ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকার জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভাই-বোনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। বর্তমানে যশোর-২ সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকলেন- বিএনপি মনোনীত সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির রিপন মাহমুদ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফুন্টের শামছুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) জহুরুল ইসলাম।

  • কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার বিতরণ

    কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার বিতরণ

    ঐতিহ্যবাহী কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের নিজস্ব ভবনে বেলা ১১ টার দিকে এ ক্যালেন্ডার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়।
    উক্ত ক্যালেন্ডার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সরকার আব্দুল আলীম, সিনিয়র সহ-সভাপতি,দৈনিক খবর, কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃমাইনুল সিকদার, সহ-সভাপতি সামান উদ্দিন,কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন উপজেলা প্রতিনিধি মানব কন্ঠ, এবং কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    আরও উপস্থিত ছিলেন, কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাছির উদ্দিন ও অপারেশন (ওসি) রবিউল ইসলাম।
    এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকেই ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন অফিস ও প্রতিষ্ঠানে এ ক্যালেন্ডার পৌঁছে দেওয়া হয়।

  • যশোর৮৫ /২ আসন : প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদ।

    যশোর৮৫ /২ আসন : প্রার্থিতা ফিরে পেলেন জামায়াত প্রার্থী ডা. ফরিদ।

    শেষ মুহূর্তে নানা নাটকীয়তার পর প্রার্থিতা ফিরে পেলেন যশোর ৮৫/ ( ঝিকরগাছা ও চৌগাছা) আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ। ১৮ জানুয়ারি রাত ৭টায় ঢাকায় নির্বাচন কমিশন ভবনে আপিলের দীর্ঘ শুনানি শেষে মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। খবর পাওয়ার সাথে সাথে ঝিকরগাছা-চৌগাছা উপজেলা দুটির ভোটার ও দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসে।

    গত ১ জানুয়ারি যশোর জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান যাচাই-বাছাইয়ে ডা. ফরিদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করেন। ২৫ বছর আগের বন্ধ ক্রেডিট কার্ডের ৩০ হাজার টাকার বিল সংক্রান্ত জটিলতার কারণে প্রাথমিকভাবে ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। যদিও তিনি বিষয়টি জানার সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে ঋণ পরিশোধ করে দিয়েছিলেন। নির্ধারিত সময়ের পরে কাগজপত্র জমা দেওয়ায় রিটারিং কর্মকর্তা আমলে নেননি। পরে তিনি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনে আপিল দায়ের করেন।

    ১১ জানুয়ারি আপিল শুনানিতে ক্রেডিট কার্ড সংক্রান্ত জটিলতার নিরসন হয়। কিন্তু তার বিরুদ্ধে নতুন করে দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত অভিযোগ তোলা হয়। এ বিষয়ে আলাদা শুনানি গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। শুনানির দিন ১৬ জানুয়ারি করা হয়। এদিন শুনানি হলেও ১৭ তারিখ রায়ের দিন নির্ধারণ করেন ইসি। এদিন নির্বাচন কমিশনে হট্টগোলের কারণে তারিখ পিছিয়ে ১৮ জানুয়ারি রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন নির্বাচন কমিশন। রবিবার সারাদিন যশোর-২ আসনের মানুষ ডা. ফরিদের প্রার্থিতা ফিরে পাবার খবরের অপেক্ষায় ছিলেন। অসংখ্য মানুষ দৈনিক নতুন সকালের বার্তায় ফোন করে খোঁজ নেন। অবশেষে বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যায়ও খবর না আসায় মানুষ অস্থির হয়ে পড়েন। নানা নাটকীয়তার পর রাত ৭টার দিকে নির্বাচন কমিশন ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। প্রার্থিতা ফিরে পেয়ে ডা. ফরিদ গণমাধ্যমকে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মহান আল্লাহর কাছে লাখ কোটি শুকরিয়া যে আমরা প্রার্থিতা ফিরে পেলাম। যে চারটি মূলনীতির উপর ভিত্তি করে ১০ দলের ঐক্য হয়েছে, আমরা দুর্নীতি করবো না, দুর্নীতিতে সহযোগিতা করবো না, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করবো এবং সবার জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করবো। এই মুলনীতিগুলো বাস্তবায়নই আমাদের লক্ষ্য। তিনি প্রতিক্রিয়ায় আরও বলেন, আমি আমার ঝিকরগাছা-চৌগাছা এলাকার জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে সকল ভাই-বোনদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

    এদিকে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার খবরে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বিরাজ করছে। বর্তমানে যশোর-২ সংসদীয় আসনে বৈধ প্রার্থী হিসেবে থাকলেন- বিএনপি মনোনীত সাবিরা সুলতানা, জামায়াতে ইসলামীর ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ইদ্রিস আলী, বাসদের ইমরান খান, আমার বাংলাদেশ পার্টির রিপন মাহমুদ, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফুন্টের শামছুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপি বিদ্রোহী) জহুরুল ইসলাম।

  • কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার বিতরণ

    কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার বিতরণ

    ঐতিহ্যবাহী কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার বিতরণ করা হয়েছে। রবিবার (১৮ জানুয়ারি) কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের নিজস্ব ভবনে বেলা ১১ টার দিকে এ ক্যালেন্ডার বিতরণী অনুষ্ঠান শুরু হয়।

    উক্ত ক্যালেন্ডার বিতরণী অনুষ্ঠানে ঐতিহ্যবাহী কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের সভাপতি দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার উপজেলা প্রতিনিধি সরকার আব্দুল আলীম, সিনিয়র সহ-সভাপতি,দৈনিক খবর, কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃমাইনুল সিকদার, সহ-সভাপতি সামান উদ্দিন,কালিয়াকৈর উপজেলা প্রতিনিধি দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকা মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক সেলিম হোসেন উপজেলা প্রতিনিধি মানব কন্ঠ, এবং কালিয়াকৈর প্রেসক্লাবের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ও সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
    আরও উপস্থিত ছিলেন, কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাছির উদ্দিন ও অপারেশন (ওসি) রবিউল ইসলাম।

    এ সময় উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলকেই ২০২৬ সালের বাৎসরিক ক্যালেন্ডার দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন অফিস ও প্রতিষ্ঠানে এ ক্যালেন্ডার পৌঁছে দেওয়া হয়।

  • পার্টিকে নিষিদ্ধ করেছে, ব্যক্তিকে তো নিষিদ্ধ করেনি— আইনজীবীকে ইসি মাছউদ

    পার্টিকে নিষিদ্ধ করেছে, ব্যক্তিকে তো নিষিদ্ধ করেনি— আইনজীবীকে ইসি মাছউদ

    জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার আব্দুল রহমানেল মাছউদ বলেছেন, সরকার একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করেছে কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে তো নিষিদ্ধ করেনি।

    রোববার (১৮ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশন ভবনের অডিটোরিয়ামে আপিলের শেষ দিনের শুনানিতে আইনজীবীর যুক্তিতর্কের এক পর্যায়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    টাঙ্গাইল-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বৈধতার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন এই আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. লিয়াকত আলী।   শুনানিতে লিয়াকত আলীর আইনজীবী যুক্তি দেন, নিষিদ্ধ দলের নেতা হওয়ায় আবদুল লতিফ সিদ্দিকী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। এ সময় নির্বাচন কমিশনার রহমানেল মাছউদ বলেন, পার্টিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে তো নিষিদ্ধ করা হয়নি। পরে সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর নির্বাচন কমিশন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর মনোনয়নের বৈধতা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত দেয়।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং অফিসারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শেষ দিনের আপিল আবেদনের শুনানি এদিন সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ আপিল শুনানি শুরু হয়।

    উল্লেখ্য, সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী নির্বাচন সময়সূচিতে আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ দেবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার, সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকাল সাড়ে চারটা পর্যন্ত।

  • ঢাকা-১৭ : গুলশান-বনানী-কড়াইল ভোটের মাঠে তারেক রহমান, পাল্টে যাচ্ছে আগের সমীকরণ

    ঢাকা-১৭ : গুলশান-বনানী-কড়াইল ভোটের মাঠে তারেক রহমান, পাল্টে যাচ্ছে আগের সমীকরণ

    গন্তব্যে ছুটে চলেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ট্রেন। ভোট যত এগিয়ে আসছে, তত উত্তাপ ছড়াচ্ছে বিভিন্ন আসনের নির্বাচনি আলাপ। গুলশান-বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ আসনেও চলছে ভোটের নানারকম হিসাব-নিকাশ। এখানে আকাশছোঁয়া অট্টালিকা যেমন আছে তেমনি আছে টিনের চালের বস্তি। সমাজের দুই প্রান্তের মানুষের অবস্থান এই আসনের নির্বাচনি আমেজে বৈচিত্র্য এনেছে। ভোটে জিততে হলে অভিজাত শ্রেণির সমর্থন যেমন লাগবে তেমনি লাগবে নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষের সমর্থনও।

    মাসখানেক আগ পর্যন্ত এই আসনে মনোনয়নের দৌড়ে ছিলেন বিএনপির একাধিক নেতা। কিন্তু ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে দলের কাণ্ডারি তারেক রহমান দেশে ফেরার পর বদলে গেছে সব সমীকরণ। এখানে এখন বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন দলের চেয়ারম্যান নিজে। এ খবরে ভোটের মাঠের দৃশ্যপট প্রায় পাল্টে গেছে। সরকার গঠন করতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেবেন তারেক রহমান, এমন নেতা এখানে নির্বাচন করছেন- এ খবরে নড়েচড়ে বসেছেন এলাকার ভোটাররাও।

    নির্বাচনী ডামাডোল বাজার আগ থেকে অবশ্য এই আসনের অলিগলি চষে বেড়ান জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামান। শুরুতে বিএনপি জোট থেকে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) সভাপতি আন্দালিব রহমান পার্থ এখানে প্রার্থী ছিলেন। তাকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পেয়ে অনেকটা ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন জামায়াত প্রার্থী। দাঁড়িপাল্লার জয় নিয়ে আশাবাদী হয়ে উঠেছিলেন তার নেতাকর্মীরাও।কিন্তু দৃশ্যপটে তারেক রহমানের আগমনের পর ধানের শীষের জোয়ারে কিছুটা খেই হারিয়েছে দাঁড়িপাল্লা। যদিও এখনও যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস নিয়ে সমানতালে লড়ে যাওয়ার চেষ্টায় আছেন জামায়াত প্রার্থী।

    dhakapost

    রাজধানীর গুলশান, বনানী ও বারিধারা- বিশ্বের বহু দেশের দূতাবাস এখানে অবস্থিত। এ কারণে এখানে রয়েছে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও বেশ শান্ত পরিবেশ। ফলে এলাকাটি পরিণত হয়েছে প্রভাবশালী রাজনীতিক, বিত্তশালী ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য শ্রেণির পছন্দের ঠিকানায়।

    ঠিক এর পাশেই মহাখালী, ভাষানটেকের বিশাল এলাকাজুড়ে বিভিন্ন বস্তিতে রয়েছে বহু স্বল্প আয়ের মানুষের বসবাস। কড়াইল, সাততলা ও ভাষানটেক বস্তি এ আসনের অংশ। এজন্য ভোট এলে এসব বস্তির বাসিন্দারা হয়ে ওঠেন গুরুত্বপূর্ণ। অভিজাত আর সাধারণ শ্রেণির ভোট সমানভাবে যে টানতে পারবে, সে-ই হাসবে বিজয়ের হাসি।

    এখানে এবারের নির্বাচনি হিসাব একেবারেই ভিন্ন হতে চলেছে। কারণ, প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে এসে নিজের ও প্রয়াত মায়ের বাসার ঠিকানায় অর্থাৎ গুলশান-বনানীর এই আসনেই প্রার্থী হয়েছেন তারেক রহমান।

    dhakapost

    অভিজাত আসনটিতে তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় বেশ উচ্ছ্বসিত এখানকার বিএনপি নেতাকর্মীরা। রাত-দিন এক করে দলের চেয়ারম্যানের হয়ে ভোটের মাঠে কাজ করছেন তারা। সময়ে সময়ে বৈঠক করে তারেক রহমানও প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দিচ্ছেন তাদের। এছড়া এখানেই চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয় হওয়ায় প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন হাজারো কর্মী-সমর্থক।

    আগামীর প্রধানমন্ত্রীকে কাছে পাওয়ার আশায় এখানকার ভোটারদের মাঝে তারকে রহমানকে নিয়ে অন্যরকম উৎসাহ-উদ্দীপনা কাজ করছে। বিশেষ করে আশায় বুক বাঁধছেন এখানকার বস্তিবাসীরা। তাদের আশা, তারেক রহমান নির্বাচিত হওয়ার পর কড়াইল ও সাততলা বস্তির মানুষের জন্য এমনকিছু করবেন যা তাদের জীবন মান উন্নয়নে সহায়ক হবে।

    কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ হয় ঢাকা পোস্টের। তারা সবাই তারেক রহমানের প্রার্থী হওয়ার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন।

    dhakapost

    কড়াইল বস্তির বাসিন্দা রিকশাচালক শাহজাহান মিয়া ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুনেছি তারেক রহমান এখান থেকে ভোট করবেন। তিনি নির্বাচিত হলে ভালোই হবে। কারণ খালেদা জিয়া মারা যাওয়ায় বাংলাদেশের আগামীর প্রধানমন্ত্রী তো তিনিই হবেন। আমরা তাকে ভোট দেবো। তার কাছ থেকে আমরা আশা-ভরসাও বেশি করব।

    একই সুরে কথা বলেন বস্তির চা দোকানদার আবদুস সামাদও। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চা বিক্রি করি। আমার দোকানের বেশিরভাগ ক্রেতাই দিনমজুর বা বস্তির বাসিন্দা। তাদের সবার মুখেই এখন নির্বাচনি আলাপ। ভোটে কে জিতবে তা নিয়ে সারাক্ষণ কথা হয়। তবে বিএনপির সঙ্গে কেউ পাল্লা দিতে পারবে না। কারণ এখানে তারেক রহমানকে প্রার্থী বানানো হয়েছে। তিনিই এমপি হবেন।

    dhakapost

    প্রায় ২০ বছর ধরে কড়াইল বস্তিতে থাকেন রিকশাচালক আব্দুল আলিম। তিনি বলেন, কেউ তো আমাদের কথা ভাবে না। অথচ বারবার ভোট দিয়ে আমরা জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করি। এবার এমন প্রার্থীকে ভোট দেব, যারা আমাদের জন্য কাজ করবে। আমাদের সুখে দুখে পাশে থাকবে, বস্তির উন্নয়নসহ বারবার আগুন লাগা- এসব বিষয় দূর করতে উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

    নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছে তেমন কিছু চান না বস্তিবাসীরা। শুধু ভোটে জেতার পর একটু খোঁজখবর নিলেই খুশি তারা। আগে যারা নির্বাচিত হয়েছেন তারা অনেক কিছু কথা দিলেও শেষে রাখেননি। এজন্য এবার যিনি তাদের দেওয়া কথা রাখতে পারবেন তাকেই তারা ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন বস্তির বাসিন্দারা।

    dhakapost

    কী বলছেন অন্য এলাকার ভোটাররা 

    নির্বাচন নিয়ে এই মুহূর্তে কী ভাবছেন গুলশান-বনানী-বারিধারার বাসিন্দারা? কথা হয় স্থানীয় কয়েকজন তরুণ ও প্রবীণ ভোটারের সঙ্গে। তাদেরই একজন জাহিদুর রহমান। লেখাপড়ার পাশাপাশি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করেন তিনি।

    ঢাকা পোস্টকে এই তরুণ বলেন, এবার তাকেই ভোট দেবো যিনি তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে কাজ করবেন। কেননা বর্তমানে প্রাতিষ্ঠানিক লেখাপড়া শেষে চাকরির পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে অর্ধেক সময় চলে যায়। আবার চাকরি পেলেও নিজের অর্জিত সনদের সঙ্গে বেতন কাঠামো মেলে না। এতে অনেকেই বিদেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে আমাদের মেধাগুলো কাজে লাগান বিদেশিরা। তাই প্রার্থী যে দলেরই হোক, কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দিলে আমরা তাকে ভোট দেবো।

    গুলশান এলাকার একটি বাড়ির মালিক এবং ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, এবার আমরা চাই এমন এক প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিতে, যিনি এই গুরুত্বপূর্ণ এলাকার নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রাখবেন, কর্মসংস্থানের বিষয়ে কাজ করবেন। সেই সঙ্গে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতি গুলো দেখতে চাই। যার প্রতিশ্রুতি বেশি ভালো মনে হবে, কার্যকর করতে পারবে বলে মনে হবে- আমরা তাকেই ভোট দেব।

    dhakapost

    এরই মধ্যে এ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বানানো হয়েছে দলটির নেতা আবদুস সালামকে। তার নেতৃত্বে সব থানা-ওয়ার্ডে নির্বাচনী ক্যাম্প পরিচালনা করবে দলটি। নির্বাচনী বিধিমালা মেনে শিগগিরই তারেক রহমানও ভোটের মাঠে প্রচারে নামবেন বলে জানা গেছে।

    এ ব্যাপারে আবদুস সালাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। এর পরদিন থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তখন শুরু করবেন। তিনি আগে সিলেটে যাবেন। সেখান থেকেই তার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।

    এবারের নির্বাচনে তারেক রহমান জিতবেন আশা রেখে কমিটির এই প্রধান সমন্বয়ক বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান। তার হাত ধরে বাংলাদেশের পরিবর্তন চান মানুষ। এজন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে আগামীর কাণ্ডারি বানাতে চান ভোটাররা। শুধু ঢাকা-১৭ আসনের ভোটাররাই নন, গোটা বাংলাদেশের মানুষই তার জয় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আমরা আশা করছি। কেননা জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী একটা পরিবর্তন দেখতে চান মানুষ। তারেক রহমানের হাত ধরে এ পরিবর্তনটা আরও বেশি হবে ইনশাআল্লাহ।

    এ আসনে স্বতন্ত্র মোড়কে নেমে ভোটের লড়াইয়ে শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত বদলেছেন তপু রায়হান। জাতীয় পার্টির (জেপি) পতাকাতলে শামিল হয়ে বাইসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তিনি। হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার জটিলতায় প্রার্থিতা আটকে যাওয়া কামরুল হাসান নাসিমেরও আর বাধা রইল না। অভিজাত এ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন কাজী এনায়েত উল্লাহও। প্রবাসীদের সংগঠন অল ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশনের (আয়েবা) এই মহাসচিবও স্বতন্ত্র হিসেবে যেতে চান সংসদে। এছাড়া ঢাকা-১৭ আসন থেকে মনোনয়ন কিনেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক তাসনুভা জাবীন। যদিও দলটি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোট করায় নিজের পদ ছাড়েন তিনি। বিএনপির সমর্থনে এ আসন থেকে শুরুতে মনোনয়ন নিয়েছেন আন্দালিব রহমান পার্থ। তবে তারেক রহমানকে দিয়ে ভোলা-১ আসনে চলে যান বিজেপির এই চেয়ারম্যান। সবমিলিয়ে ২১ জানুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এরপরই জানা যাবে ঢাকার সবচেয়ে ধনাঢ্য আসনে কারা থাকবেন মাঠে।

    এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী। তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় ভোটের লড়াইয়ের সমীকরণে দেখা দিয়েছে নতুন জটিলতা। বাড়ছে উত্তাপও। এজন্য কৌশলে কিছুটা পরিবর্তন এনেছে জামায়াত। যদিও ডা. খালিদুজ্জামানই এ আসনের কাণ্ডারি হবেন বলে আশাবাদী কর্মী-সমর্থকরা।

    উচ্ছ্বসিত স্থানীয় বিএনপি, নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন

    তারেক রহমান প্রার্থী হওয়ায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা দারুণ উচ্ছ্বসিত। তারা বলছেন, দলের চেয়ারম্যান দেশে ফেরার পর সব সমীকরণই পাল্টে গেছে। ভোটের মাঠে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন বিএনপিকে চায়। তারা ভোট দিতে অধীর আগ্রহে বসে আছে। আশা করি ঢাকা-১৭ আসনে অন্তত ৯০ শতাংশ ভোট নিয়ে জিতবেন তারেক রহমান।

    এরই মধ্যে এ আসনে নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করেছে বিএনপি। কমিটির প্রধান সমন্বয়ক বানানো হয়েছে দলটির নেতা আবদুস সালামকে। তার নেতৃত্বে সব থানা-ওয়ার্ডে নির্বাচনি ক্যাম্প পরিচালনা করবে দলটি। নির্বাচনি বিধিমালা মেনে শিগগিরই তারেক রহমানও ভোটের মাঠে প্রচারে নামবেন বলে জানা গেছে।

    dhakapost

    এ ব্যাপারে আবদুস সালাম বলেন, ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করবে নির্বাচন কমিশন। এর পরদিন থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন প্রার্থীরা। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানও তখন থেকে প্রচার শুরু করবেন। তিনি আগে সিলেটে যাবেন। সেখান থেকেই তার আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হবে।

    এবারের নির্বাচনে তারেক রহমান বিপুল ভোটে জিতবেন আশা রেখে বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছেন তারেক রহমান। তার হাত ধরে দেশের পরিবর্তন চান সাধারণ মানুষ। এজন্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তাকে ভোট দিয়ে আগামীর কাণ্ডারি বানাতে চান ভোটাররা। শুধু ঢাকা-১৭ আসনের ভোটাররাই নন, গোটা বাংলাদেশের মানুষই তার জয় দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন। তিনি বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আমরা আশা করছি। কেননা জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী একটা সুন্দর পরিবর্তন দেখতে চান মানুষ। তারেক রহমানের হাত ধরে এ পরিবর্তনটা আরও বেশি হবে ইনশাআল্লাহ।

    dhakapost

    আশা ছাড়ছে না জামায়াত

    এদিকে, জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা আশা করছেন তাদের প্রার্থী ডা. খালিদুজ্জামানই এ আসনের কাণ্ডারি হবেন।

    তারা বলছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর দেশে জামায়াতের ভোট অনেক বেড়েছে। এখন সব জায়গায় দাঁড়িপাল্লার নাম শোনা যায়। এই জোয়ারে ঢাকা-১৭ আসনে এমপি নির্বাচিত হবেন ডা. খালিদুজ্জামান।

    জামায়াত নেতারা বলছেন, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হলেও কোনো চিন্তা নেই। তিনি তার মতো কাজ করছেন। আমরা আমাদের মতো কাজ করব। আমরা ভোটের মাঠে তারেক রহমানকে সাধুবাদ জানাই। তিনি এলেও ভোটের সমীকরণে কোনো পরিবর্তন ঘটেনি। কারণ ভোটাররা দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিতে উন্মুখ হয়ে আছেন। আশা করি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমরা বিজয়ী হবো ইনশাআল্লাহ।

    জামায়াত প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগামীতে একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করতে চায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। অতীতে বিভিন্ন অপপ্রচারের মাধ্যমে মানুষের কাছ থেকে আমাদের দূরে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু আমরা দমে যাইনি। বাধা-বিপত্তির মধ্যেও মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি।

    তিনি বলেন, চব্বিশের গণঅভুত্থানের পর আমাদের সেই পথটি আরও উন্মোচিত হয়েছে। সব শ্রেণিপেশার মানুষই এখন আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। নতুন প্রজন্মের কাছেও জামায়াতের ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে।

    ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার। নারী-পুরুষ ভোটার সংখ্যা প্রায় সমান। পুরুষের চেয়ে নারী ভোটার ১৬ হাজার কম।

    বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী ছাড়া আরও কয়েকজন এই আসনে প্রার্থী হয়েছেন। তবে তাদের কারও বিষয়ে সাধারণের মধ্যে তেমন কোনো আলাপ-আলোচনা নেই। জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপির হয়ে এখানে প্রার্থী হতে চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছিলেন তাজনূভা জাবীন। পরে তিনি দল থেকেই পদত্যাগ করেন এবং নির্বাচনে অংশ নেবেন না বলে জানান।

    এ ছাড়া আসনটিতে প্রথমে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে চেয়ে পরে জাতীয় পার্টির (জেপি) প্রার্থী হয়েছেন জহির রায়হানের ছেলে তপু রায়হান। তিনি বাইসাইকেল প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর বাইরে এখন পর্যন্ত আর দুজন এখানে প্রার্থী হিসেবে আছেন। তারা হলেন কামরুল হাসান নাসিম (বিজেপি) ও কাজী এনায়েত উল্লাহ (স্বতন্ত্র)।

  • গুম কমিশনের প্রতিবেদন ভোট এলে বেড়ে যেত গুম

    গুম কমিশনের প্রতিবেদন ভোট এলে বেড়ে যেত গুম

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাখার এমন গোপন বন্দিশালার ছবি পরে প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে ২০১২ সালে গুমের ঘটনা ঘটেছিল ৬১টি, তার পরের বছরে এই সংখ্যা দ্বিগুণের বেশি হয়ে যায়। আবার ২০১৮ সালে গুমের ঘটনা তার পরের বছরের চেয়ে বেশি ছিল।

    বছরভিত্তিক ঘটনা তুলে ধরে গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যেত, বেছে বেছে লক্ষ্যবস্তু করা হতো বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা–কর্মী, সমর্থকদের।

    আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনে গুম নিয়মিত ঘটনা হয়ে উঠেছিল। ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালে এই সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার গুম–সংক্রান্ত তদন্ত কমিশন গঠন করে। বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের এ কমিশন ৪ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

    আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বিরোধীদের ওপর দমন–পীড়ন চলার মধ্যে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে যে তিনটি নির্বাচন হয়েছিল, তার সব কটি ছিল প্রশ্নবিদ্ধ। ২০১৪ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন অধিকাংশ দল বর্জন করেছিল। ২০১৮ সালের নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ থাকলেও ভোটের আগেই ব্যালট বাক্স ভর্তি করে রাখায় তা ‘রাতের ভোট’ নামে পরিচিতি পায়।

    প্রতিবেদন বলা হয়, গুমের ঘটনা বাড়া আর কমার সঙ্গে ঘটনাবহুল রাজনৈতিক সন্ধিক্ষণ, নিরাপত্তা–সংকট ও নির্বাচনের সংযোগ ছিল। ২০১৩ সালে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে পরের বছর (২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি) নির্বাচনের একটা সম্পর্ক আছে। একই প্রবণতা দেখা যায় ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ঘিরে।

    আরও পড়ুন

    গুমের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা

    গুমের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা

    ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪–এর নির্বাচনের আগে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা–কর্মীরা গুমের শিকার বেশি হয়েছিলেন। কমিশন বলেছে, এ ছাড়া বড় কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ ও বিক্ষোভের আগে বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের তুলে নিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ে গুম হয়েছেন ৯৪৮ জন। আর নিখোঁজের মোট সংখ্যা ১৫৭।

    গুমের পর যাঁরা নিখোঁজ রয়েছেন এবং যাঁরা ফিরে এসেছেন, সবাইকে মিলিয়েই ৯৪৮ জন। গুমের শিকারদের মধ্যে জামায়াত এবং এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সংখ্যা বেশি। তবে গুমের পর ফিরে না আসা অর্থাৎ নিখোঁজ বেশি বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা–কর্মী।

    মোট নিখোঁজের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি ও যুবদলের নেতা–কর্মী, আর ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের নেতা–কর্মী।

    গুমের ঘটনা বুঝতে রাজনৈতিক পরিচয়টা জরুরি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, কাদের ঝুঁকি বেশি ছিল। গুম কি সাধারণ কোনো আইনশৃঙ্খলাজনিত বিষয় ছিল, নাকি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য–উদ্দেশ্যে এটি পরিচালিত হয়েছে।

    আরও পড়ুন

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম হওয়া অন্তত ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম হওয়া অন্তত ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ

    কোন বছরে কত গুম

    আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় যাওয়ার পর বিরোধী মত দমনে গুমকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার শুরু করে বলে অভিযোগ রয়েছে। কমিশন ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৬৪টি গুমের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুমের ঘটনা ঘটেছে ২০১৬ সালে।

    ২০১৬ সালে গুমের ২১৫টি ঘটনা ঘটে। দ্বিতীয় স্থানে আছে ২০১৭ সাল, ওই বছর গুমের ঘটনা ছিল ১৯৪টি। ২০১৮ সালে গুমের সংখ্যা ১৯২টি। ২০১৯ সালে ১১৮টি। ২০২০ ও ২০২১ সালে গুমের সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫১ ও ৫৬। পরের বছর ২০২২ সালে এটি আবার বেড়ে দাঁড়ায় ১১০টি। ২০২৩ সালে তা কমে এসে দাঁড়ায় ৬৫টিতে, ২০২৪ সালে সংখ্যাটি ছিল ৪৭। এই বছরের আগস্টেই ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।

    আওয়ামী লীগ যে বছর ক্ষমতায় ফিরেছিল, সেই ২০০৯ সালে গুমের ঘটনা ছিল ১০টি। এর পর থেকে তা বাড়তেই থাকে।

    ২০১০ সালে গুমের ঘটনা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৪টি। ২০১১ সালে সংখ্যাটি হয় ৪৭টি। ২০১২ সালে ৬১টি। এর পরের বছর ২০১৩ সালে ১২৮টি গুমের ঘটনা ঘটে। ২০১৪ সালে কিছুটা কমে গুমের ঘটনা দাঁড়ায় ৯৫টি। ২০১৫ সালে আবার বেড়ে হয় ১৪১টি।

    তদন্ত কমিশনে মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি অভিযোগ সংজ্ঞা অনুযায়ী গুম হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি অভিযোগ ‘মিসিং অ্যান্ড ডেড’ ক্যাটাগরিতে পড়েছে।

    ব্যক্তির সঙ্গেও গুমের সম্পর্ক

    বিভিন্ন সংস্থায় নেতৃত্ব বদলের সঙ্গেও গুমের হ্রাস–বৃদ্ধির সম্পর্ক খুঁজে বের করেছে কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, গুমের সঙ্গে জড়িত সংস্থাগুলোর প্রাতিষ্ঠানিক ও নেতৃত্বে পরিবর্তনের সঙ্গে গুমের সংখ্যা কমে আসত।

    উদাহরণ দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সালে র‍্যাবের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অপারেশন্স) থেকে মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানকে সরানো হলে গুমের সংখ্যা কমেছে।

    তার মানে এটা নয় যে এসব চর্চা বন্ধ হয়েছে। বরং এ সময় অল্পসংখ্যক মানুষ স্থায়ীভাবে নিখোঁজ হয়েছেন এবং অনেককে পরে হাজতে ও আদালতে পাওয়া গেছে, বলা হয় প্রতিবেদনে।

    আরও পড়ুন

    গুম-খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

    গুম-খুনের মামলায় জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন

    কমিশন বলছে, ২০২১ সালের ডিসেম্বরে অব্যাহত গুমের ঘটনায় র‍্যাবের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর গুমের ঘটনায় কিছুটা ব্যাঘাত তৈরি করে। কিন্তু সেটি বেশি দিন দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। সন্ত্রাসবাদ দমন ও অপরাধ প্রতিরোধমূলক আটক আইনকে আওয়ামী লীগ সরকার বিরোধী মত দমনের অস্ত্রে পরিণত করেছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে সমালোচনার মুখে পড়ে। একই বছর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রের মানবাধিকার পরিস্থিতি মূল্যায়ন করতে ‘ইউনাইটেড নেশন ইউনিভার্সাল পিরিওডিক্যাল রিভিউ’তে অংশ নেয় বাংলাদেশ। মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে আন্তর্জাতিক নজরদারির কারণে সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডশূন্য সহনশীলতা নীতি গ্রহণ করুক, এমন চাপ তৈরি হতে থাকে। আন্তর্জাতিক এ চাপ কমাতে কৌশল পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ সরকার। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পরিবর্তনে ভিন্নমতকে দমনে গুমকে বেছে নেয় তারা।

  • ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি, কর্মবিরতি অব্যাহত

    ওসমানী হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি, কর্মবিরতি অব্যাহত

    সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (সিওমেক) হাসপাতালে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের ওপর হামলার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট সিওমেক হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পরিচালক উমর রাশেদ মুনির।

    হামলার পর থেকে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকরা নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে রয়েছেন। তবে মিড লেভেলের ডাক্তারসহ সংশ্লিষ্টরা হাসপাতালের সেবা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছেন।

    হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৪ নম্বর সার্জারি ওয়ার্ডে রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে অন্তত পাঁচজন আহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

    কর্মবিরতিতে যাওয়ার পর দুপুর ১২টার দিকে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনা করেন হাসপাতালের পরিচালকসহ অন্যান্যরা। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী আলোচনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।

    বৈঠক থেকে বের হয়ে হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক মিজানুর রহমান বলেন, আমরা বেশ কিছু দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরেছি। কার্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাসহ তুলে ধরা দাবিগুলো সমাধান হলে আমরা যে কোনো মুহূর্তে আবারও কাজে যোগ দেবো।

    এ ব্যাপারে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল পরিচালক উমর রাশেদ মুনির বলেন, হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। আমরা ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। তদন্ত কমিটি ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখছে এবং শিগগিরই সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে।

  • মিরপুরে বাসা থেকে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    মিরপুরে বাসা থেকে কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

    রাজধানীর মিরপুর এলাকার একটি বাসায় সানজিদা ইসলাম মিম (১৯) নামে এক কলেজছাত্রীর গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তিনি মিরপুর ইংরেজি ভার্সন স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

    শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে অচেতন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে এলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    নিহত মিম বরগুনার চাঁদ খালি এলাকার সাখাওয়াত মৃধার মেয়ে। বর্তমানে তিনি পরিবারের সঙ্গে মিরপুর ১০ নম্বর এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

    নিহতের ভাই সাখাওয়াত হোসেন বলেন, আমার বোন মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। আমাদের সবার অগোচরে একটি ছেলের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়েছিল। ওই ছেলের সঙ্গে অভিমান করে আজ সকালের দিকে নিজের ঘরে গিয়ে দরজা বন্ধ করে রাখেন। এরপর বেশ কিছু সময় পেরিয়ে গেল তার কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে আমরা দরজা ভেঙে দেখি ফ্যানের সঙ্গে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ঝুলে আছে আমার বোন। পরে দ্রুত অচেতন অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক জানান আমার বোন আর বেঁচে নেই।

    তিনি আরও বলেন, আমার বোন ইংরেজি ভার্সন স্কুল ও কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিল। তার মরদেহ বর্তমানে হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

    ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক চিকিৎসকের বরাত দিয়ে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে অবহিত করা হয়েছে।