Author: তরঙ্গ টিভি

  • যশোর-৮৫/-২ আসনে বিএনপির প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সাবিরা সুলতানা মুন্নী

    যশোর-৮৫/-২ আসনে বিএনপির প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সাবিরা সুলতানা মুন্নী

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যশোর–২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এর আগে তার প্রার্থিতা স্থগিত রেখেছিল কমিশন।

    শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের আপিল শুনানিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সাবিরা সুলতানা মুন্নী প্রার্থিতা গ্রহণের বিরুদ্ধে ইসিতে আপিল করেছিলেন যশোর–২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি নেতা জহরুল ইসলাম।

    দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শেষে আপিল শুনানিতে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। পরে আপিল নামঞ্জুর করে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রাখার কথা জানায় নির্বাচন কমিশন। এর ফলে সাবিরা সুলতানা মুন্নীর প্রার্থী হতে আর কোনো আইনগত বাধা রইল না।

    উল্লেখ্য, যশোর জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও ঝিকরগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ব্যবসায়ী নাজমুল ইসলাম ২০১১ সালে ঢাকায় অপহরণের পর নিহত হন। স্বামীর মৃত্যুর পর গৃহিণী জীবন থেকে বেরিয়ে এসে রাজনীতিতে সক্রিয় হন সাবিরা সুলতানা মুন্নী।

    তিনি স্বামীর নেওয়া একটি ব্যাংক ঋণের গ্যারান্টার ছিলেন। ওই ঋণ পরিশোধ না হওয়াকে কেন্দ্র করে তার প্রার্থিতা গ্রহণের বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছিল।

  • গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (জিবিএ)এর উদ্যোগে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

    গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (জিবিএ)এর উদ্যোগে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগ অনুষ্ঠিত

    গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স (জিবিএ)এর উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের ক্লোজড-ডোর পলিসি ডায়ালগ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত সোমবার,১২ জানুয়ারী ২০২৬,রাজধানীর গুলশানে অবস্থিত ঢাকার ঐতিহ্যবাহী হোটেল বেঙ্গল ব্লুবেরিতে আয়োজিত এই সেমিনারে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রবাসী বাংলাদেশি নীতিবিদ, গবেষক, পেশাজীবী, প্রযুক্তিবিদ এবং অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা অংশ নেন।খবর আইবিএননিউজ।

    অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিক ড. আবদুল মঈন খান। সম্মেলনের সভাপতি ছিলেন দেশ ও বিদেশে পরিচিত প্রবীণ রাজনৈতিক মাহিদুর রহমান। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীতিনির্ধারক, শিক্ষাবিদ, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
    অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে জিবিএ”র প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আহমেদ সোহেল বলেন,
    “গ্লোবাল বাংলাদেশি অ্যালায়েন্স একটি যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক, অরাজনৈতিক ও গবেষণাধর্মী সংগঠন, যা মাত্র তিন থেকে চার মাস আগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিজান চৌধুরী, কাওসার চৌধুরী, মোহাম্মদ এ. সালেহ, ড. গোলাম রব্বানীসহ একদল বাংলাদেশি-আমেরিকান আইটি ও প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের উদ্যোগে এই সংগঠনের যাত্রা শুরু হয়।”

    কি-নোট স্পিকারের বক্তব্য

    এই উচ্চপর্যায়ের পলিসি ডায়ালগে কি-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিবিদ ও জিবিএ-এর কো-চেয়ারম্যান মিজান চৌধুরী। তিনি জিবিএ-এর লক্ষ্য, উদ্দেশ্য এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

    প্রধান অতিথির বক্তব্য

    প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবদুল মঈন খান বলেন,
    “বাংলাদেশ আজ একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। টেকসই উন্নয়ন, শক্তিশালী গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং তরুণ প্রজন্মের দক্ষতা উন্নয়নে সুপরিকল্পিত নীতি প্রয়োজন।”

    সম্মেলন সভাপতির বক্তব্য

    সম্মেলনের সভাপতি মাহিদুর রহমান বলেন,
    “এই পলিসি ডায়ালগ কোনো রাজনৈতিক প্রচারণার মঞ্চ নয়। এটি একটি দায়িত্বশীল, গঠনমূলক ও ভবিষ্যতমুখী আলোচনা প্ল্যাটফর্ম।”

    প্যানেল আলোচনা ও মডারেশন

    অনুষ্ঠানে অ্যামাজন ইকোনমি, কর্মসংস্থান উন্নয়ন, ইউএস–বাংলাদেশ ককাস, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও বৈশ্বিক আউটসোর্সিংসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে একাধিক প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

    প্যানেল সেশনগুলোর নেতৃত্ব দেন জিবিএ-এর কো-চেয়ারম্যান কাওসার চৌধুরী। তাকে সহযোগিতা করেন ফায়েজ চৌধুরী ও মোহাম্মদ বিপ্লব।

    এ গুরুত্বপূর্ণ প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জীবিএ-এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্য আহমেদ সোহেল, নাভিদ, মো. মনিরুজ্জামান এবং মুনাফ—যাঁরা নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রবাসী অভিজ্ঞতা, প্রযুক্তি, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।

    অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে মডারেট করেন অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম মুনির এবং বিশিষ্ট মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মজলিস।

    অরাজনৈতিক ও নীতিকেন্দ্রিক আয়োজন

    আয়োজকরা জানান, জীবিএ একটি অরাজনৈতিক ও নন-পার্টিজান সংগঠন। এই সংলাপটি সম্পূর্ণভাবে তথ্যভিত্তিক ও নীতিকেন্দ্রিক এবং এতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক লবিং বা প্রচারণা নেই। যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও কমপ্লায়েন্স নীতিমালা অনুসরণ করেই এই আয়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।

    অনুষ্ঠান শেষে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ভবিষ্যতেও এ ধরনের পলিসি ডায়ালগ অব্যাহত থাকবে এবং প্রবাসী বাংলাদেশি ও দেশের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে গঠনমূলক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে।

  • এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে বেলাল হোসেন

    এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে বেলাল হোসেন

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন গত বুধবার প্রধান প্রকৌশলী (রুটিন দায়িত্ব) হিসেবে দায়িত্ব নেন। তিনি প্রধান প্রকৌশলী কাজী গোলাম মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের এক অফিস আদেশে এ দায়িত্ব নেন তিনি।

    বেলাল হোসেন ১৯৯২ সালে পিএসসির মাধ্যমে সহকারী প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডিতে যোগ দেন। তিনি উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে নির্বাহী প্রকৌশলী ও প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
    ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর বেলাল হোসেন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী হিসেবে এলজিইডির প্রশাসন শাখার দায়িত্ব নেন। গত ১২ অক্টোবর অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে সংস্থার সদরদপ্তরে মানবসম্পদ উন্নয়ন, মাননিয়ন্ত্রণ ও পরিবেশের শাখার দায়িত্ব পান।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, রাজশাহী (বর্তমানে রুয়েট) থেকে ১৯৮৯ সালে বেলাল হোসেন সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন।

  • জাতীয়তাবাদী আদর্শে গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম “দেশে-দশে” খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ     আব্দুস সালাম ভূঁইয়াঃজাতীয়তাবাদ একটি চেতনা।

    জাতীয়তাবাদী আদর্শে গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম “দেশে-দশে” খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ আব্দুস সালাম ভূঁইয়াঃজাতীয়তাবাদ একটি চেতনা।

    জাতীয়তাবাদী আদর্শে গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম “দেশে-দশে” খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ আব্দুস সালাম ভূঁইয়াঃজাতীয়তাবাদ একটি চেতনা।বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয়তাবাদী আদর্শকে ধারণ করে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উদার গণতন্ত্রের প্রবর্তক হিসাবে এদেশের সচেতন শিক্ষিত সৎ, আদর্শ লক্ষ কোটি মানুষের মনে চির স্মরণীয় হয়ে আছেন এবং এদেশের মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী নিপীড়িত নির্যাতিত কৃষক শ্রমিক, মুজুর ও মেহনতি মানুষের অধিকার আদায়ে দেশী-বিদেশী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সারা জীবন সংগ্রামের মাধ্যমে গণতন্ত্রকামী মানুষের হৃদয়ে রাজনৈতিক গুরু হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছেন যেখানে ছিল না কোন ভোগ বিলাস,ক্ষমতার দাপট বা পদ পদবীর লোভ ।

    এদেশের গণতন্ত্রকামী সৎ আদর্শ ও যোগ্য বড় একটা সংখ্যা তরুণ সমাজ এখনো শত ইচ্ছা থাকার সত্ত্বেও সমাজে ইনসাফ ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়ার কারণে সমাজ ও মানুষের কল্যাণ নিজেদেরকে পুরাপুরি সম্পৃক্ত করতে পারেনি ।

    তাই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর রাজনীতিকে অনুসরণ করে আধুনিক ও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যে বিএনপি’র চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে গনতন্ত্রকামী যুব সমাজকে সাথে নিয়ে ধর্ম, বর্ণ,শ্রেণী ভেদাভেদের ঊর্ধে ওঠে সকল মানুষের অধিকার রক্ষায় জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত জনাব আব্দুস সালাম ভূঁইয়ার আহব্বানে শহীদ জিয়ার প্রকৃত সৈনিকেরা দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে উদার গণতান্ত্রিক সমাজ নির্মাণে “দেশে-দশে গণতান্ত্রিক সংগ্রাম” নামে একটি সামাজিক ও গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।উক্ত প্লাটফর্মের(দেশে-দশে) মূল প্রতিপাদ্য হলো :
    “দেশের জন্য করব কাজ
    দশে মিলে শপথ আজ”। লেখকঃজাতীয়তাবাদী আদর্শে গণতান্ত্রিক প্ল্যাটফর্ম “দেশে-দশে” খুব শীঘ্রই আত্মপ্রকাশ।
    লেখক:আব্দুস সালাম ভূঁইয়া
    (মানবাধিকার ও সমাজকর্মী এবং একটিভিস্ট)

  • বেনাপোলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বেনাপোলে ৪৯,বিজিবি’র সংবাদ সন্মেলন।

    বেনাপোলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে বেনাপোলে ৪৯,বিজিবি’র সংবাদ সন্মেলন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত সুরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে বেনাপোলে দক্ষিন-পশ্চিম রিজিয়নাধীন যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক (সিও) লে.কর্ণেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী,এসপিপি,পিবিজিএম,পিএসসি সংবাদ সন্মেলন করেন।

    ​নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে বেনাপোল সহ শার্শা সীমান্ত এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (৪৯ বিজিবি)। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র ও মাদকের চোরাচালান রোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে।
    ​বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুরে বেনাপোল বিজিবি ক্যাম্পে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে সিও এসব কথা বলেন।

    ​সংবাদ সম্মেলনে অধিনায়ক জানান, নির্বাচনকালীন সময়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সীমান্তবর্তী ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি’র টহল কার্যক্রম কয়েক গুণ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গোপালগঞ্জ,নড়াইল এবং যশোর ৩টি জেলার ১১টি সংসদীয় এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ ৭০টি স্থানে অস্থায়ী চেকপোষ্টের মাধ্যমে তল্লাশী কার্যক্রম পরিচালনা এবং ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তায় টহলের মাধ্যমে ভোট কেন্দ্র রেকি করতঃ দায়িত্ব পালণ করবে। এর জন্য ৩টি জেলা ঘিরে সর্বমোট ২৯ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হবে। ইতোমধ্যেই স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে এবং সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে দিনরাত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    এ ছাড়াও কোনো প্রকার অবৈধ অনুপ্রবেশ বা সীমান্তের ওপার থেকে আসা কোনো অপশক্তি যাতে নির্বাচনী পরিবেশে বিঘ্ন ঘটাতে না পারে, সেজন্য বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য পাচার রোধে বিজিবি নিয়মিত তল্লাশি ও ব্লক রেইড পরিচালনা করছে।

    ​বিজিবি অধিনায়ক দৃড়ভাবে বিশ্বাস করেন,বিজিবি’র পক্ষে একা এই চ্যালেঞ্জসমূহ মোকাবিলা করা কস্টকর। এজন্য আমাদের প্রয়োজন স্থানীয় প্রশাসন,আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী,সাংবাদিক সমাজ,পরিবেশ কর্মী এবং সাধারণ জনগণের সক্রিয় অংশ গ্রহণ।

    উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। আমরা আশা করি, আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে গুজব প্রতিরোধ করবেন এবং সীমান্তে কোনো প্রকার অস্বাভাবিক কর্মকাণ্ড নজরে এলে দ্রুত বিজিবি-কে অবহিত করবেন”।

    ​শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে ​অধিনায়ক আরও উল্লেখ করেন যে, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী বেসামরিক প্রশাসনকে সহযোগিতার পাশাপাশি সীমান্ত এলাকায় সাধারণ মানুষ যাতে নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে সীমান্তের দুর্গম এলাকাগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ কোনো প্রকার ভয়ভীতির মুখে না পড়ে।

    বিঃ দ্রঃ- গত ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে তফসিল ঘোষণার পর যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ নির্বাচনী এলাকায় অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপনের জন্য রেকি সম্পন্ন করা হয়েছে এবং আগামী ২৯ জানুয়ারি ২০২৬ হতে ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখের মধ্যে নির্বাচনী দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় মোতায়েন সম্পন্ন করা হবে।

    এ ছাড়াও ২০২৫ ইং সনে ৪৯,বিজিবি কর্তৃক ৩৭৭ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য এবং বিভিন্ন প্রকার ভারতীয় চোরাচালান সামগ্রী উদ্ধার ও আসামী গ্রেফতার সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

    ​সংবাদ সম্মেলনে ৪৯ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক মেজর নুর উদ্দিন আহমেদ,সহকারী পরিচাল মো,মুজাহিদ, বেনাপোল কোম্পানী কমান্ডার সুবেদার আজিজুর রহমান সহ বিজিবি’র পদস্থ কর্মকর্তা এবং বেনাপোলে কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

  • তিন দিবসকে সামনে রেখে অনিশ্চয়তার মধ্যে গদখালীর ফুলচাষিরা

    তিন দিবসকে সামনে রেখে অনিশ্চয়তার মধ্যে গদখালীর ফুলচাষিরা

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন, পহেলা ফাল্গুন, বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে সামনে রেখে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন যশোর ঝিকরগাছায় গদখালির ফুলচাষিরা। তারা বলেছেন, আগামী সির্বাচন যদি সহিংসতামুক্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে তাদের বাজার ভালো হবে। আর যদি ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় তাহলে চাষিরা আর্থিকভাবে ভেঙে পড়বে।

    আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই রয়েছে পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। নির্বাচনে প্রার্থীদের বরণ, পথসভা ও বিজয় মিছিলে ফুলের চাহিদা থাকে উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে গাঁদা ও রজনীগন্ধার চাহিদা থাকে বেশি। এসব বিষয়কে সামনে রেখে বড় বাজারের আশায় দিনরাত পরিশ্রম করছেন ঝিকরগাছা উপজেলার গদখালীর ফুলচাষিরা। তবে উৎসবের মৌসুম এলেও কাঙ্খিত মুনাফা পাওয়া যাবে কি না-এই দুশ্চিন্তা কাটছে না চাষি ও ব্যবসায়ীদের। তাদের আশঙ্কা, নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ না হলে ফুলের বাজার বড় ধরনের ধসের মুখে পড়তে পারে। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে রমজানের শুরুতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পড়ে যাওয়ার বিষয়টি, যা লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। উপজেলার গদখালী ও আশপাশের এলাকা এখন রঙিন ফুলে ভরে উঠেছে। মাঠজুড়ে ফুটে আছে গোলাপ, রজনীগন্ধা, গ্লাডিওলাস ও জারবেরার নানা রঙের ফুল। বাতাসে ভাসছে ফুলের ঘ্রাণ। তবে এবারের ব্যস্ততা অন্য বছরের চেয়ে আলাদা। কারণ, ক্যালেন্ডারে এবার শুধু বসন্ত আর ভালোবাসা দিবস নয়, যুক্ত হয়েছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পরপরই রয়েছে পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস।

    নির্বাচনে প্রার্থীদের বরণ, পথসভা ও বিজয় মিছিলে ফুলের চাহিদা থাকে উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে গাঁদা ও রজনীগন্ধার চাহিদা থাকে বেশি। আবার বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে গোলাপের বাজার থাকে তুঙ্গে। সব মিলিয়ে তিনটি বড় উপলক্ষ ঘিরে ফুলের চাহিদা আকাশচুম্বী হওয়ার আশা করছেন এ অঞ্চলের হাজার হাজার ফুলচাষি। তবে সম্ভাবনার এই ছবি যতটা উজ্জ্বল, শঙ্কার দিকটাও ততটাই স্পষ্ট। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বাজার বসার দিন ও রমজানের সময়-সবকিছু মিলিয়ে হিসাব মেলাতে গিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষি ও ব্যবসায়ীরা। তাদের মতে, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে রঙিন স্বপ্ন ম্লান হয়ে যেতে পারে। গদখালির ফুলচাষি ইসমাইল হোসেন বলেন, ‘প্রতি বছর আমরা শীতের মৌসুমের বিশেষ দিবসগুলো ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়ে থাকি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের জন্য চাষিরা কয়েক মাস আগে থেকেই ক্ষেত পরিচর্যায় ব্যস্ত হয়ে পড়ে। এবার আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে ফুলের দামে ধস নেমেছে। বিশেষ দিবসগুলোতে ফুলের দাম বাড়বে কিনা সংশয় রয়েছে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে ফুলের বাজার। তবুও আশা করছি বাজার ভাল হবে।’ বেনাপোল-যশোর মহাসড়কের পাশে গদখালি বাজারে প্রতিদিন কাকডাকা ভোরে বসে ফুলের মোকাম। এলাকার চাষিরা তাদের খেতে উৎপাদিত ফুল নিয়ে হাজির হন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের খুচরা ও পাইকার ব্যবসায়ীরা এখানে আসেন। দরকষাকষির মাধ্যমে ফুল কিনে পৌঁছে দেন দেশ-দেশন্তরে। শীতের মৌসুমে ফুলের বাজার জমজমাট থাকে। দেশের অন্যতম বৃহত্তম ফুলের মোকাম গদখালিতে বছরে ৫শ’ থেকে ৬শ’ কোটি টাকার ফুল হাতবদল হয়। দেশের চাহিদার সিংহভাগ ফুল সরবরাহ করে এলাকার চাষিরা। বৃহস্পতিবার সকালে দেখা গেছে, কেউ বাইসাইকেল বা ভ্যানে করে বাহারি সব ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। শরীরে শীতের পোশাক পরিধান করা এসব চাষীরা গতকাল বিকালে নিজ ক্ষেত থেকে ফুল কেটে রাখে বিক্রির জন্য। কেউ কেউ খুব ভোরে ক্ষেত থেকে কেটেছেন এসব বাহারি ফুল। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় বাইরের পাইকারের সমগমে বাড়তে থাকে ফুলের দাম। দর ধামে ঠিক হলেই বাসের ছাঁদে বা ট্রাকে যায় ঢাকা চট্টগ্রাম, রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এদিন গোলাপ বিক্রি হয়েছে প্রতি পিচ ৫- ৭ টাকা, রজনিগন্ধা ৮ থেকে ১৫ টাকা, জারবেরা ৮-১০ টাকা, গাদা প্রতি হাজার ১০০ টাকা। গ্লাডিওলাস ৬-৮ টাকা, জারবেরা ৭-৮ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ২-৩ টাকা। কৃষকেরা জানান, এখন গোলাপ ও রজনিগন্ধা ছাড়া সব ফুলের দাম উর্দ্ধমুখি। আগামি সপ্তাহ থেকে এই দুটি ফুলের দামও বৃদ্ধি পাবে বলে জানান তারা। গদখালি মোকামে ফুল বিক্রি করতে আসা চাষি সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘শীতকালে ফুলের উৎপাদন ও বিক্রি বাড়ে। এবছরও আমরা ফুল বিক্রির প্রস্তুতি নিয়েছি। আজকে বাজারে গোলাপ ফুল বিক্রি হয়েছে সর্বোচ্চ ৭ টাকা পিস। বর্তমানে বাজারে গোলাপ ও গাঁদা সবচেয়ে কম। বাকি সব ফুলের দাম উর্ধ্বমূখী। আশা করছি বিজয় দিবস উপলক্ষে সবধরণের ফুলের দাম বাড়বে। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করছে ফুলের বাজার। দেশের পরিবেশ স্থিতিশীল থাকলে ফুলের বাজার চাঙা হবে।’ ঝিকরগাছার কুলিয়া গ্রামের চাষি রফিকুল ইসলাম বলেন, এক বিঘা জমিতে রাজনীগন্ধা ফুলের চাষ করেছি। প্রায় ৬০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রায় দুই লাখ টাকার ফুল বিক্রি করেছি। আশা করছি আরও প্রায় তিন লাখ টাকার ফুল বিক্রি করতে পারবো। মৌসুমের শুরুতেই রজনীগন্ধা ফুলের দাম ভাল পাচ্ছি। বর্তমানে ১০-১২ টাকা পিস বিক্রি করলেও এ মৌসুমে সর্বোচ্চ ২১টাকা পিস রজনীগন্ধা বিক্রি করেছি। যা রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। তবে সামনের নির্বাচন যদি সুষ্ঠুভাবে না হয় , তাহলে বিপাকে পড়তে হবে আমাদের। পানিসারা এলাকার ফুলচাষি রওশন আলী বলেন, মাঠে পর্যাপ্ত ফুল আছে এবং আবহাওয়াও অনুকূলে। নির্বাচন ও উৎসবকে সামনে রেখে পরিচর্যা ঠিকভাবেই চলছে। নির্বাচন আর উৎসব একসঙ্গে হওয়ায় ফুলের চাহিদা বাড়বে এবং দামও ভালো পাওয়া যাবে। তিনি জানান, বর্তমানে যে গোলাপ তিন টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে, তা ১৫ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত উঠতে পারে। তবে আশঙ্কাও রয়েছে। কারণ বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের মূল বাজার বসে ১০ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। কিন্তু ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ায় এবার ওইদিন বাজার বসবে না। ১১ ফেব্রুয়ারি বাজার কতটা জমবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা আছে। আর নির্বাচনের দিন কোনো গোলযোগ হলে পুরোপুরি লোকসানের মুখে পড়তে হবে। গদখালী এলাকার ফুলচাষি গোলাম মোস্তফা বলেন, প্রতি বছর বসন্ত উৎসব, ভালোবাসা দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের বাজারের জন্য চাষিরা অপেক্ষা করে থাকেন। এই সময়েই সবচেয়ে বেশি ফুল বিক্রি হয় এবং সারা বছরের লাভ-লোকসানের হিসাব মেলে। তবে চলতি বছর তিনটি উৎসবের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচন যুক্ত হওয়ায় চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তবে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে ও পরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে এবং পরিবহন ব্যবস্থা স্বাভাবিক থকলে গদখালীর ইতিহাসে এবার রেকর্ড পরিমাণ ফুল বিক্রি হতে পারে। অন্যথায় পরিস্থিতির অবনতি হলে তা চাষিদের জন্য বড় লোকসানের কারণ হবে। তারা আর্থিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন।

    গদখালী ফুল চাষি ও ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু জাফর জানান, চলতি মৌসুমের শুরু থেকে ফুলের বাজার ভালোই যাচ্ছে। আবহাওয়াও অনুকূলে এবং মাঠে প্রচুর ফুল রয়েছে। এ কারণে চলতি মৌসুমে শতকোটি টাকার বেশি ফুল বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে কি না, তা সংশয় রয়েছে। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আগে ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে পবিত্র মাহে রমজান শুরু হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, রমজানের কারণে অনেক অনুষ্ঠান সীমিত আকারে হবে, ফলে ফুলের চাহিদা কমতে পারে। পাশাপাশি বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের আগে নির্বাচন থাকায় বাজার ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তবুও সব আশঙ্কা কাটিয়ে ভালো দাম মিলবে এবং লাভবান হওয়া যাবে এমনটাই আশাই করেছেন চাষিরা।

    যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক মোশারফ হোসেন বলেন, যশোর অঞ্চলে প্রায় সাত হাজার চাষি ৬৪১ হেক্টর জমিতে ফুল চাষ করেন। এখানে ১৩ ধরনের ফুলের বাণিজ্যিক চাষ হয়, যা দেশের মোট ফুলের চাহিদার প্রায় ৭০ শতাংশ পূরণ করে। আগামী নির্বাচন ও অন্যান্য দিবসের দিকে ফুল চাষিরা চেয়ে আছেন। পরিস্থিতি ঠিক থাকলে এবার ফুলের ভালো বাজার পাওয়া যাবে। যেখানে লাভবান হবেন চাষিরা।

  • সৃজনশিখা’র পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নুরুজ্জামান লিটন এর অংশ গ্রহণ।

    সৃজনশিখা’র পরিচ্ছন্নতা অভিযানে নুরুজ্জামান লিটন এর অংশ গ্রহণ।

    বেনাপোল পৌর শহরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সামাজিক সংগঠন ‘সৃজনশিখা’-র উদ্যোগে এক বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালিত হয়েছে। শুক্রবার(১৬ জানুয়ারী) সকালে বেনাপোল বাজার ও সংলগ্ন এলাকায় এই কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়।

    ​উক্ত কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এবং সরাসরি পরিচ্ছন্নতা কাজে অংশ নেন যশোর-১ (শার্শা) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ও বিএনপি নেতা নুরুজ্জামান লিটন।

    ​সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বেনাপোল বাজার এলাকা থেকে পরিচ্ছন্নতা অভিযানটি শুরু হয়। এতে ‘সৃজনশিখা’ সংগঠনের সদস্যদের পাশাপাশি স্থানীয় বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং কাব-স্কাউট দলের সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। অভিযানকালে রাস্তার ধারের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে নির্দিষ্ট স্থানে আবর্জনা ফেলার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

    ​পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন বলেন:
    ​একটি আদর্শ ও সুস্থ সমাজ গঠনে পরিচ্ছন্নতার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব আমাদেরই। ‘সৃজনশিখা’র এই তরুণরা আজ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করল, তা বেনাপোলবাসীর জন্য অনুপ্রেরণা। আমি আশা করি, প্রতিটি নাগরিক নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন হবেন। ​তিনি আরো বলেন, রাজনৈতিক প্রচারণার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে তিনি এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজে সবসময় পাশে থাকবেন।

    ​কর্মসূচিটি পরিচালনা করেন সৃজনশিখা সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মোঃ মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম এবং “সৃজনশিখা’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি- নাজমুল হুমাইন জয়।

    কর্মসূচিতে অংশ নেন সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। অভিযানে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, শহরকে সুন্দর রাখতে তারা নিয়মিত এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজ চালিয়ে যেতে চান। ​বেনাপোলের ব্যবসায়ীরা এবং পথচারীরা এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন এবং পৌরসভাকে আরও পরিকল্পিতভাবে বর্জ্য অপসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।

  • আগামী প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে:  আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

    আগামী প্রজন্মকে কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে: আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী

    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আমাদের ছেলেমেয়েরা শুধু ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়। আমরা অভিভাবকরা সন্তানদেরকে গতানুগতিক ধারায় শিক্ষিত করে তুলতে চাই। কিন্তু বর্তমান পৃথিবীতে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব সবচেয়েই বেশি। আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তি আর কারিগরি শিক্ষা একে অপরের সাথে সম্পর্কিত। একজন কার্পেন্টার বা একজন ইলেকট্রিশিয়ানের আয় একজন ডাক্তারের সমতুল্য হতে পারে। সমাজে তাদের অবস্থান কারো তুলনায় কোন অংশে কম নয়।                           

    চীনে অধিকাংশ ছেলেমেয়েরা ম্যাট্রিকুলেশান শেষ করে ভোকেশনাল শিক্ষায় ভর্তি হয়। তারা প্লাম্বার, ইলেক্ট্রিশিয়ান, কার্পেন্টার এসমস্ত বিষয় নিয়ে লেখাপড়া করে ও গবেষণা করে জীবনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু আমাদের দেশে এধরণের সংস্কৃতি এখনো গড়ে উঠেনি বলা যায়। আমাদের মাঝে এখনো এমন মানসিকতা তৈরি হয়নি। একজন কার্পেন্টার বা ইলেক্ট্রিশিয়ানও একজন পেশাজীবী এবং সামাজিক মর্যাদাসম্পন্ম নাগরিক। তার সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করণে আমাদেরকে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করতে হবে এবং এগিয়ে আসতে হবে।                               

    আজ (শুক্রবার) ১৬ জানুয়ারি নগরের নাসিরাবাদ সরকারি স্কুল প্রাঙ্গনে সৈয়দ আহমদ উল্লাহ শাহ মাইজভান্ডারি ( ক:) এর দ্বিশত জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে মাইজভান্ডারি একাডেমি আয়োজিত ১৮তম শিশু কিশোর সমাবেশ ও মাঘ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

    এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আবদুল্লাহ আল মামুনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
    অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো শিক্ষার্থী – অভিভাবক অংশগ্রহন করেন।

  • ঈদে মেরাজ শরিফ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ  ঈদে মেরাজ শরীফ আলোকিত জীবন ও মানবতার মুক্তির উৎস –  আল্লামা ইমাম হায়াত

    ঈদে মেরাজ শরিফ উদযাপন উপলক্ষে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশ ঈদে মেরাজ শরীফ আলোকিত জীবন ও মানবতার মুক্তির উৎস – আল্লামা ইমাম হায়াত

    দয়াময় আল্লাহতাআলা স্থান কালের উর্ধ্বে মানব জ্ঞানের অতীত অচিন্তনীয় উর্ধ্ব জগতে তাঁর একান্ত সান্নিধ্যে দূরত্ত্বহীন নৈকট্যে উপনীত করে তাঁর প্রিয়তম মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামকে সাক্ষাত দান মেরাজ শরীফ। দয়াময় আল্লাহতাআলা তাঁর মহান রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামকে সাক্ষাত দানের মাধ্যমে সর্বসৃষ্টির উদ্দেশ্যে তাঁর প্রথম অতুলনীয় মহাপ্রকাশের চির গৌরবময় মহাউপলক্ষ পবিত্র ঈদে মেরাজ শরীফ।

    সত্য ও জীবনের উপলব্ধির জন্য অতি অপরিহার্য মৌলিক ঈমানী বিষয় ঈদে মেরাজ শরীফের মহান তাৎপর্য্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশ্ব সুন্নী আন্দোলনের উদ্যোগে আজ ১৬ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে ঢাকা প্রেসক্লাব সম্মুখে সমাবেশ ও সমাবেশ শেষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়।

    এ উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে বিশ্ব সুন্নি আন্দোলন ও বিশ্ব ইনসানিয়াত বিপ্লবের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দয়াময় আল্লাহতাআলার সাথে আমাদের প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের মোবারক প্রত্যক্ষ সাক্ষাত মহান মেরাজ শরীফ সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য আল্লাহতাআলার সংযোগ ও বন্ধন এবং অসীম করুনার উৎস।

    আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মহান মেরাজ শরীফ প্রিয়নবীর নিকট স্বয়ং আল্লাহতাআলার মহিমাময় প্রত্যক্ষ প্রকাশ এবং প্রিয়নবীর মাধ্যমে সমগ্র সৃষ্টির নিকট রহমতময় পরোক্ষ প্রকাশ। তিনি বলেন, আল্লাহতাআলা তাঁর অসীম ক্ষমতায় মহান প্রিয়নবীকে স্থান কালের উর্ধ্বে তাঁর পরম নৈকট্যে পৌঁছিয়ে তাঁর পবিত্র মহাসত্তার নূর ও তাজাল্লিতে মিলিত করে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য সত্যের আলো, জীবনের কেন্দ্র এবং সর্বজ্ঞান, সর্বগুণ ও সর্বকল্যাণের উৎসরূপে প্রকাশ করেছেন।

    আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, মেরাজ শরীফ মহান প্রিয়নবীর সাথে প্রত্যক্ষ সাক্ষাতের মাধ্যমে আল্লাহতাআলার স্বয়ং প্রকাশ যা সমগ্র সৃষ্টির জন্য সত্য ও মুক্তির উৎস। তিনি বলেন, সঠিক পথে মেরাজ শরীফের শোকরিয়া ও উদযাপন না হলে জীবন মিথ্যার আধাঁরে নিমজ্জিত হবে। তিনি বলেন, ঈদে আজম ও ঈদে মেরাজ হুকুমগত বিধিবদ্ধ ঈদ নয় কিন্তু ঈমানী হৃদয়ের ঈদ-ঈমানী প্রাণের ঈদ-অসীম প্রেমের ঈদ, যার সাথে অন্য কোন আমলগত বিষয়ের তুলনা চলেনা, যা অন্য সব ঈদের উৎস।

    আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাথে আল্লাহতাআলার প্রত্যক্ষ সাক্ষাত মেরাজ শরীফের মূল বার্তা আল্লাহতাআলার সাথে যুক্ত হওয়ায়ই অস্তিত্ব রক্ষা এবং সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য আল্লাহতাআলার সাথে যুক্ত হওয়ার মূল কেন্দ্র আল্লাহতাআলার প্রত্যক্ষ বন্ধন প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম।

    আল্লাহতাআলার প্রকাশ মেরাজ শরীফ প্রাণাধিক প্রিয়নবীর মাধ্যমে সমগ্র মানবমন্ডলীর জন্য আল্লাহতাআলার অসীম করুণা ও সুরক্ষা এবং ভালোবাসা উল্লেখ করে আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, দয়াময় আল্লাহতাআলা ও প্রাণাধিক প্রিয়নবীর ভালোবাসায় সব মানুষকে ভালোবাসা ও সব মানুষের দোজাহানের কল্যাণ ও মুক্তি সাধনাই ঈদে মেরাজ শরীফের অসীম শিক্ষা ও নির্দেশনা, যার বাস্তব রূপায়ণ সত্য ও মানবতার রাষ্ট্র ও অখন্ড মানবতার দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াত।

    আল্লামা ইমাম হায়াত বলেন, জীবনের দয়াময় স্রষ্টার গুণ-জ্ঞান-আলো রেসালাতের রহমতের ধারায় আলোকিত জীবন ও সকল মানুষের জন্য নিরাপত্তা-অধিকার-স্বাধীনতা-মর্যাদা-ভিত্তিক সর্বকল্যাণময় সর্বজনীন মানবতার রাষ্ট্র ও অখন্ড মানবতার মুক্ত দুনিয়া খেলাফতে ইনসানিয়াত (Authority of life & state & world of humanity) গড়ে তোলার দিকদর্শন মহান মেরাজ শরীফ।

    পরিশেষে তিনি দুনিয়াব্যাপী মিথ্যা ও অবিচারের ধারক নানাবিধ অপশক্তির গ্রাসে রূদ্ধ সত্য ও বিপন্ন জীবনের মুক্তি সাধনায় মহান ঈদে মেরাজুন্নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লামের শিক্ষা ও নির্দেশনার বাস্তবায়নে প্রাণাধিক প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম প্রদত্ত সর্বজনীন মানবিক সমাজ-রাষ্ট্র-বিশ্বব্যবস্থার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার জন্য সত্য ও মানবতায় বিশ্বাসী সকল মানুষের প্রতি আহ্বান জানান।

    সমাবেশে ঈদে মেরাজ শরীফ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় ছুটির দাবি জানান আল্লামা ইমাম হায়াত।

  • শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স চক্রের হাতে আবারও রোগীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

    শরীয়তপুরে অ্যাম্বুলেন্স চক্রের হাতে আবারও রোগীর মৃত্যু, গ্রেপ্তার ১

    শরীয়তপুরে রোগী পরিবহন এখন জীবনরক্ষার নয়, বরং জীবননাশের ঝুঁকি হয়ে উঠছে। একটি প্রভাবশালী অ্যাম্বুলেন্স চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনেরা। গত বছরের আগস্টে অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনায় এক নবজাতকের মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু পাঁচ মাস না যেতেই একই কায়দায় আবারও এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে।

    গত মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামের এক রোগীকে বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফায় দেড় ঘণ্টা আটকে রাখা হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঢাকা-শরীয়তপুর সড়কের কোটাপাড়া ও জামতলা এলাকায় স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চক্রের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সটি আটকে দেন। শেষ পর্যন্ত স্থানীয়দের সহযোগিতায় মুক্ত হলেও ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই অ্যাম্বুলেন্সেই মারা যান জমশেদ আলী।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেই একই চক্র এবারও সক্রিয়। জমশেদ আলীর পরিবারের অভিযোগ, ওই মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সুমন খানের নেতৃত্বেই এবারও অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখা হয়েছে। সুমনের সঙ্গে থাকা ৮-১০ জনও পেশায় অ্যাম্বুলেন্স মালিক ও চালক।

    গত বছরের ১৪ আগস্ট নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের, স্বাস্থ্য বিভাগের সাবেক গাড়িচালক আবদুল হাই মোল্লা এবং চালক রহিম ও বিল্লাল মুন্সিসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন নবজাতকের বাবা নূর হোসেন সরদার। পুলিশ তদন্ত শেষে গত ৩১ ডিসেম্বর আদালতে যে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেছে, তাতে এই চারজন ছাড়াও সুমন খানের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

    অভিযোগ রয়েছে, জেলায় বর্তমানে ২৭টি বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স একটি চক্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। এই চক্রটি নিয়ন্ত্রণ করেন নবজাতক মৃত্যুর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি আব্দুল হাই মোল্লা, আবু তাহের, চালক সুমন খান ও আবু তাহেরের ছেলে চালক রহিম।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সরকারি অ্যাম্বুলেন্স চালক বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সদর হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়ার ভাড়া চার হাজার টাকা। আর চক্রের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ভাড়া দিতে হয় ৭-৮ হাজার টাকা। অন্য কোনো অ্যাম্বুলেন্স নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে গেলে কিংবা চক্রের অনুমতি ছাড়া রোগী তুললে সেটি আটকে দেওয়া হয়।

    সর্বশেষ ঘটনায় নিহত জমশেদ আলী ঢালী শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। এ ঘটনায় বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাতে সদরের পালং মডেল থানায় চারজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও ৫-৬ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন নিহতের নাতি জুবায়ের হোসেন।

    মামলার আসামিরা হলেন– সদর উপজেলার কাচারি কান্দি এলাকার চালক সুমন খান (৩২), সজীব (২৮), হান্নান (২৫) ও নড়িয়া উপজেলার পারভেজ (২৬)। মামলার পরপরই প্রধান আসামি সুমন খানকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

    পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, ‘অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখার ঘটনায় জমশেদ আলী নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে; এমন অভিযোগে বুধবার রাতে মামলা হয়েছে। আমরা প্রধান আসামি সুমন খানকে গ্রেপ্তার করেছি। বাকিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’

    তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সিভিল সার্জনের গাড়িচালক আবু তাহের ও শরীয়তপুর অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির সভাপতি মো. আবদুল হাই মোল্লা। সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন জানান, গত বছরের ঘটনায় স্বাস্থ্য বিভাগের কোনো কর্মচারীর সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণে কোনো সরকারি নীতিমালা নেই। তবে তারা যাতে নিয়ম-নীতির মধ্যে থাকে, সে ব্যাপারে জেলা প্রশাসক সভা করে কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন।’