Author: তরঙ্গ টিভি

  • পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম, নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

    পোস্টাল ব্যালটে অনিয়ম, নির্দিষ্ট দলের পক্ষপাতের অভিযোগ সালাহউদ্দিনের

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, পোস্টাল ব্যালট প্রণয়ন, প্রেরণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বাংলাদেশে প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে এটি প্রথম উদ্যোগ। ফলে কিছু ভুলভ্রান্তি হতে পারে। তবে যেসব অনিয়মের অভিযোগ আসছে, তাতে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পক্ষে কিছু কিছু কাজ হয়েছে বলে আমাদের ধারণা।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিবের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

    সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বৈঠকে নির্বাচন সংক্রান্ত কিছু আইনগত বিষয় ও আচরণবিধি নিয়ে আলোচনা করা হয়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কোনো কোনো বাসায় ২০০ থেকে ৩০০টি করে ব্যালট পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও ব্যালট জব্দ করা হয়েছে, কোথাও ভোটগ্রহণ শুরু হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কোথাও একজনের নামে পাঠানো ব্যালট অন্য কেউ গ্রহণ করছে এমন ঘটনাও সামনে এসেছে।

    তিনি আরও বলেন, কোন প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের কাছে ব্যালট পাঠানো হয়েছে, কীভাবে তারা ভোট দেবেন, কোথায় স্ক্যান করবেন এবং এক জায়গায় বিপুলসংখ্যক ব্যালট পাওয়া গেলে তার দায় কার—এসব বিষয়ে নির্বাচন কমিশন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে পরিষ্কার ব্যাখ্যা দিতে হবে। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তারা বিষয়গুলো বিবেচনা করে ব্যাখ্যা দেবে, প্রয়োজনে আজই দিতে পারে।

    আচরণবিধি প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ভোটার অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যে ভোটার স্লিপে ভোটারের নম্বর, প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকা প্রয়োজন। বর্তমানে আচরণবিধিতে ভোটার স্লিপে কোনো দলের নাম বা প্রার্থীর ছবি না দেওয়ার বিধান রয়েছে, যা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নির্বাচন কমিশন চাইলে নিজেরাই এই বিধান পরিবর্তন করতে পারে।

    তিনি বলেন, ভোটার স্লিপ দেওয়া মানেই ভোটে প্রভাব নয়। ভোটার নিজেই সিদ্ধান্ত নেবে কাকে ভোট দেবে। নির্বাচনকে কঠিন না করে ভোটারদের সহযোগিতা করা উচিত।

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই সদস্য বলেন, আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আগে নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একটি সফর স্থগিত করা হয়েছিল। সেটি রাজনৈতিক প্রচার ছিল না। কিন্তু বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ডে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকলেও নির্বাচন কমিশনের নীরবতা বিএনপির নজরে এসেছে।

    পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থার বিষয়ে একটি সুস্পষ্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় যেসব প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন, তাদের নাম ও প্রতীকসহ যে সাধারণ ব্যালট ব্যবহার করা হয়, সেই একই ব্যালট সংশ্লিষ্ট এলাকার পোস্টাল ব্যালট হিসেবেও ব্যবহার করা উচিত। এতে সব নির্বাচনী এলাকার জন্য আলাদা আলাদা প্রতীকসংবলিত ব্যালট ছাপানোর প্রয়োজন হবে না এবং জটিলতাও কমবে।

    নির্বাচন কমিশন এ বিষয়ে ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।

    এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া এবং বিএনপির আইন সহায়তা উপকমিটির প্রধান ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল।

  • তিনদিনের ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন করবে ডিএনসিসি

    তিনদিনের ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন করবে ডিএনসিসি

    ঈদের আনন্দ নগরবাসীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে ঈদ জামাত, ঈদ আনন্দ মিছিল ও ৩ দিনব্যাপী ঈদ মেলা আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) ডিএনসিসি নগরভবনে প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ঈদ আনন্দ মেলা আয়োজন সম্পর্কিত এক সভায় ৩ দিন ব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলা আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    সভায় জানানো হয়, ঢাকার শেরেবাংলানগরের পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে তিন দিনব্যাপী ঈদ আনন্দ মেলার আয়োজন করা হবে। মেলায় শিশুদের জন্য থাকবে বিভিন্ন রাইড, খাবারের স্টল এবং উৎসবকেন্দ্রিক নানা পণ্যের স্টল।

    ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন
    প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক সন্ধ্যায়

    নেই ইসলামী আন্দোলন, জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতারা
    ঈদ জামাত শেষে ঈদগাহ প্রাঙ্গণ থেকে ঈদ আনন্দ মিছিল শুরু হবে। মিছিলটি আগারগাঁওয়ের প্রধান সড়ক হয়ে খামারবাড়ি মোড় অতিক্রম করে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে গিয়ে শেষ হবে। মিছিল শেষে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে।

    অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের জন্য ঈদের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খাবারের ব্যবস্থাও রাখা হবে।

    ঈদ আনন্দ মিছিলে বিভিন্ন ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করবেন। মিছিলে শতাধিক ব্যান্ড পার্টি, ঘোড়ার গাড়ি ও গরুর গাড়ি অংশ নেবে। পাশাপাশি রঙিন ব্যানার ও ফেস্টুনের মাধ্যমে মিছিলকে বর্ণিল করে তোলা হবে। এছাড়া মোগল ও সুলতানি আমলের ইতিহাসভিত্তিক পাপেট শোর আয়োজন থাকবে।

    সভায় ডিএনসিসি প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, অঞ্চল ৫ এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা সহ ডিএনসিসির সকল বিভাগীয় প্রধান উপস্থিত ছিলেন।

  • ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন

    ইসির সীমানা অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিই পাবনার দুটি আসনে নির্বাচন

    গত ৪ সেপ্টেম্বর সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে নির্বাচন কমিশনের জারি করা গেজেটের সীমানা অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনের নির্বাচন করতে বাধা নেই বলে আদেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ। অর্থাৎ সাথিয়া উপজেলাকে পাবনা-১ আসন এবং সুজানগর ও বেড়া মিলে পাবনা-২ আসন বলে গণ্য হবে।

    পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণার রায় স্থগিত করে সর্বোচ্চ আদালত এ আদেশ দেন।

    বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন।

    আদালতে ইসির পক্ষে ছিলেন ভারপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক। জামায়াতের প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী। বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

    এর আগে, বুধবার (১৪ জানুয়ারি) পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেট অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানির জন্য বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করা হয়।

    গত ১৩ জানুয়ারি পাবনা-১ ও ২ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়। আবেদনে পাবনা-১ ও ২ আসনে যথাসময়ে নির্বাচন ও নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর করার নির্দেশনা চাওয়া হয়।

    পাবনা-১ আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন এ আবেদন দায়ের করেন।

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সীমানা সংক্রান্ত আপিল বিভাগের আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে পাবনা-১ ও পাবনা-২ সংসদীয় আসনের নির্বাচন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই দুটি আসনের নির্বাচন স্থগিত থাকবে বলে জানানো হয়।

    গত ৫ জানুয়ারি পাবনার-১ ও ২ সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ করে ২৪ ডিসেম্বরের জারি করা গেজেট স্থগিত করেন আপিল বিভাগ। এ সংক্রান্ত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের শুনানি শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই স্থগিতাদেশ দেওয়া হয়।

    প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।

    গত ২৪ ডিসেম্বরের গেজেটের তথ্যানুযায়ী, পাবনা-১ (নির্বাচনী এলাকা : ৬৮) আসনের সীমানায় সাঁথিয়া উপজেলা এবং বেড়া উপজেলার বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পাবনা-২ (নির্বাচনী এলাকা : ৬৯) আসনের সীমানায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে—সুজানগর উপজেলা এবং উল্লিখিত একটি পৌরসভা ও চারটি ইউনিয়ন (বেড়া পৌরসভা, হাটুরিয়া নাকালিয়া ইউনিয়ন, নতুন ভারেঙ্গা ইউনিয়ন, চাকলা ইউনিয়ন ও কৈটোলা ইউনিয়ন) ব্যতীত বেড়া উপজেলা। এই গেজেটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়

    এর আগে গত ১৮ ডিসেম্বর পাবনা-১ আসন থেকে বেড়া উপজেলার চারটি ইউনিয়ন ও পৌরসভা বাদ দিয়ে পাবনা-২ আসনের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া–সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গেজেটের অংশটুকু আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে পাবনার সংসদীয় আসন দুটি আগের মতো পুনর্বহাল করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গেজেট প্রকাশ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। এই রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়।

  • ছাত্র নেতা থেকে ব্যবসায়ী, ভিপি নুরের বার্ষিক আয় কত

    ছাত্র নেতা থেকে ব্যবসায়ী, ভিপি নুরের বার্ষিক আয় কত

    এক সময় দুর্নীতিবিরোধী রাজনীতির প্রতীক হিসেবে পরিচিত ছিলেন তিনি। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে জাতীয় রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসা ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর এখন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পটুয়াখালী-৩ আসনের বিএনপি সমর্থিত প্রার্থী।

    সময়ের ব্যবধানে বদলেছে তার রাজনৈতিক পরিচয়ও। ছাত্রনেতা থেকে তিনি এখন একজন ব্যবসায়ী রাজনীতিক।

    নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুরের ঘোষিত মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৯ লাখ ৮২ হাজার ৮৪১ টাকা। বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২০ লাখ ৪০ হাজার ৪৮ টাকা। পেশা হিসেবে তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    হলফনামা অনুযায়ী, নুরুল হক নুরের স্ত্রী মারিয়া আক্তারের মোট সম্পদের পরিমাণ দুই লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা। তার পেশা শিক্ষকতা। দম্পতি উভয়েই নিয়মিত আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

    আয়কর রিটার্ন অনুযায়ী নুরের মোট সম্পদের পরিমাণ দেখানো হয়েছে ৯০ লাখ ৪৩ হাজার ৮৪১ টাকা এবং তার স্ত্রীর মোট সম্পদ ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৮১৮ টাকা।

    সম্পদ বিবরণে দেখা যায়, নুরুল হক নুরের হাতে নগদ অর্থ রয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার ২১৭ টাকা। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা রয়েছে দুই লাখ ৮৯ হাজার ৩১৩ টাকা। কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ দেখানো হয়েছে দুই লাখ ৭৫ হাজার টাকা।

    সবচেয়ে বড় অংশ হিসেবে উল্লেখ রয়েছে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত অন্যান্য আমানত—৫৫ লাখ ৮০ হাজার ৩১১ টাকা। তবে হলফনামায় স্বর্ণালংকার বা গহনার কোনো বিবরণ উল্লেখ করা হয়নি।

    স্থাবর সম্পদের হিসাবে নুরুল হক নুরের নামে রয়েছে ৮২ ডেসিমেল কৃষিজমি, যার অর্জনকালীন মূল্য দেখানো হয়েছে ৬২ হাজার টাকা। তার স্ত্রী মারিয়া আক্তারের নামে রয়েছে তিন একর কৃষিজমি, যার মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা।

    দায় সংক্রান্ত তথ্যে বলা হয়েছে, নুরুল হক নুরের নামে পাওনাদারের কাছে দেনা রয়েছে তিন লাখ ৮৮ হাজার ১৬০ টাকা।

    হলফনামায় আরও উল্লেখ করা হয়, নুরুল হক নুরের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে বর্তমানে ছয়টি মামলা চলমান। এসব মামলার মধ্যে কয়েকটি তদন্তাধীন এবং কয়েকটিতে তিনি এজাহারভুক্ত ও অভিযুক্ত। তবে তিনি আটটি মামলা থেকে অব্যাহতি পেয়েছেন বলেও হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।

    ৩১ ডিসেম্বরের দাখিলকৃত তার নির্বাচনি হলফনামা বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

    জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় প্রার্থিতা যাচাই-বাছাইয়ের দিনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নিজের সম্পদ নিয়ে ভিপি নুরুল হক নুর বলেন, একজন শ্রমজীবী মানুষও এখন বছরে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা আয় করে। আমি হলফনামায় যে আয় ও সম্পদের তথ্য দিয়েছি, তা সঠিকভাবেই দেখানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

    তিনি বলেন, কেউ কেউ হলফনামায় ২০ ভরি স্বর্ণের মূল্য দুই লাখ টাকা দেখিয়েছেন, আবার পাঁচতলা ভবনের মূল্য দেখানো হয়েছে ৩০ লাখ টাকা—যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এসব তথ্য যদি প্রকৃতভাবে যাচাই করা হয়, তাহলে ৫০ শতাংশের বেশি প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়ে যাবে। অন্যদের সঙ্গে তুলনা করলে কারও সম্পদ আমার চেয়ে বেশি, কারও আরও বেশি; তবে আমার যতটুকু সম্পদ আছে, তা সৎভাবেই হলফনামায় উল্লেখ করেছি।

  • কার পথের কাঁটা ছিলেন মুছাব্বির, নেপথ্যে যে কারণ

    কার পথের কাঁটা ছিলেন মুছাব্বির, নেপথ্যে যে কারণ

    স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর উত্তরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান ওরফে মুছাব্বির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় চার আসামি গ্রেফতার হয়েছেন। আসামিদের কাছ থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ‘ক্লু’ বের হয়েছে। এছাড়াও দলের নেতাকর্মীদের কাছ থেকে পাওয়া গেছে বিস্ফোরক তথ্য। তদন্তের স্বার্থে এ মুহূর্তে সবকিছু প্রকাশ করতে চাচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বহুল আলোচিত এই খুনের ঘটনায় ‘প্রভাবশালী’ এক ব্যক্তির গোপন আস্তানা থেকে বের হয় ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র। ঘটনার অন্তত ১৫ দিন আগে এসব অস্ত্র বের করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হয় দুটি। আর তিনটি অস্ত্র রাখা হয়েছিল ব্যাকআপ হিসাবে।

    ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এসব অস্ত্রের কোনো হদিস পাচ্ছেন না আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে এসব তথ্য। আরও জানা যায়, আস্তানা থেকে অস্ত্রগুলো বের হয় ‘কাটআউট’ পদ্ধতিতে। মিশন শেষে সেগুলো ফেরত যায় একইভাবে। কাটআউট পদ্ধতিতে অস্ত্র যায় কয়েক হাত ঘুরে এবং অস্ত্রের বাহকরা কেউ কাউকে চিনতে পারে না। যে কারণে বারবার অভিযান চালিয়েও এ পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারে সুফল পায়নি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

    সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রভাবশালীর আস্তানা থেকে অস্ত্রগুলো বের করার পর বেশ কয়েকটি হাতবদল করে কিলিং মিশনের আগে দেওয়া হয় শুটারদের কাছে। কাজ শেষে অত্যন্ত গোপনীয়তার সঙ্গে অস্ত্রগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয় আস্তানায়। কাটআউট পদ্ধতিতে হাতবদল হওয়ায় অস্ত্রগুলো উদ্ধারে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছেন গোয়েন্দারা। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তাদের বেশ কয়েকটি অভিযান কার্যত ব্যর্থ হয়।

    সূত্র আরও জানায়, মুছাব্বির হত্যায় সায় ছিল শীর্ষ পর্যায়ের এক রাজনৈতিক নেতারও। হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনার বিষয়টি তিনি আগে থেকে জানলেও এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেননি। প্রকারান্তরে সহযোগিতা করেছেন প্রভাবশালীকেই। কাওরান বাজারসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, দখলসহ একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারে প্রভাবশালীর গলার কাঁটা হয়ে উঠেছিলেন মুছাব্বির। আড়ালে থাকা ওই প্রভাবশালীর যাবতীয় কর্মযজ্ঞের নেতৃত্ব দেন স্থানীয় এক ব্যক্তি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সিদ্ধহস্ত অপর ব্যক্তি। এ দুজন হলেন প্রভাবশালীর বিশ্বস্ত সহচর। এছাড়াও মিশন বাস্তবায়নে বিভিন্ন স্তরে প্রকাশ্যে ও গোপনে সক্রিয় ছিল অনেকেই।

    প্রভাশালী ব্যক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ওই ব্যক্তি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় পর্যবেক্ষণ করে টার্গেটকে ঘায়েল করে থাকেন। মিশনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত কোনো ক্লু রাখতে চান না। অস্ত্র হাতবদলে তিনি সব সময়ই অনুসরণ করেন কাটআউট পদ্ধতি। গোপন আস্তানা থেকে শুটার পর্যন্ত কয়েক হাত ঘুরে অস্ত্রগুলো আসে। অস্ত্র হাতবদলের সময় সংশ্লিষ্টদের চেহারা ঢেকে রাখা হয়।

    এ কারণে একজন আরেকজনকে চিনতে পারে না। বাহকরা অস্ত্রের গন্তব্য বা ব্যবহারের উদ্দেশ্যও টের পান না। মুছাব্বির হত্যায়ও একই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয়েছে। একইভাবে তার ‘সিদ্ধহস্ত’ পরিচয় রেখেছেন। কিলিং মিশন শেষে অস্ত্রগুলো ফের ফিরে গেছে আস্তানায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এখনো এর জট ভাঙতে পারেননি।

    গোয়েন্দারা প্রভাবশালীর গোপন আস্তানার হদিস এখনো না পেলেও একাধিক সূত্র যুগান্তরকে জানিয়েছে, রাজধানীর পার্শ্ববর্তী একটি এলাকায় প্রভাবশালীর এক সহযোগীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তিনি সেখানে বিভিন্ন সময়ে রাত্রিযাপন করেন। বেশির ভাগ সময়ই তিনি বিদেশে অবস্থান করেন। যখন দেশে বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে, ওই সময় তিনি কখনো দেশে থাকেন না। ঘটনা ঘটার পর যেন কেউ তাকে সন্দেহ করতে না পারে, সেজন্য তিনি ওই সময় দেশের বাইরে অবস্থান করেন। দেশের বাইরে যাওয়ার আগেই তিনি সব পরিকল্পনা চূড়ান্ত করে যান। মুছাব্বির হত্যার সময়ও তিনি সম্ভবত বিদেশে ছিলেন। তিনি দেশে থাকলে রাজধানীর অদূরে অবস্থিত তার সহযোগীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেই বেশির ভাগ সময় কাটান।

    গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাওরান বাজারের বিপরীতে স্টার কাবাবের গলিতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মুছাব্বির। এ ঘটনায় কাওরান বাজার ভ্যানচালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান ওরফে মাসুদও গুলিবিদ্ধ হন। তিনি বর্তমানে গুরুতর অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

    জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম বুধবার সন্ধ্যায় যুগান্তরকে বলেন, আমাদের তদন্তে দুজন শুটারের মাধ্যমে দুটি অস্ত্র ব্যবহারের তথ্য পাওয়া গেছে। অস্ত্রগুলো উদ্ধার এবং জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

  • নাজমুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল বিসিবি

    নাজমুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিল বিসিবি

    বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক নাজমুল ইসলামের একটি মন্তব্যে ক্রিকেটপাড়ায় তোলপাড় চলছে। ক্রিকেটারদের সংস্থা কোয়াব তো জানিয়েই দিয়েছে, নাজমুল পদত্যাগ না করলে সব ধরনের ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াবেন তারা। অবশেষে বিসিবির টনক নড়েছে। সেই নাজমুলের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিসিবি।

    বিশ্বকাপে খেলতে না গেলে ক্রিকেটারদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না, এই প্রশ্ন করা হয়েছিল এম নাজমুলকে। জবাবে বিস্ফোরক মন্তব্য করে উলটো তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ক্রিকেটারদের পেছনে যে খরচ হয়, তার প্রতিদান ক্রিকেটাররা কী দিতে পেরেছেন? কেন? ওরা যদি কিছুই না করতে পারে, ওদের পেছনে যে আমরা কোটি কোটি টাকা খরচ করছি, ওই টাকা কি আমরা ফেরত চাই? উত্তর দেন আমাকে। তাহলে বিশ্বকাপে না খেললে ক্ষতিপূরণ কেন দেব!’

    আরও পড়ুন
    যে দেশের টুর্নামেন্ট, তাদেরই নিয়ম চলে, আইসিসির কিছু করার নেই: সাকিব
    যে দেশের টুর্নামেন্ট, তাদেরই নিয়ম চলে, আইসিসির কিছু করার নেই: সাকিব
    ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন ক্রিকেটাররা তুলতে পারবেন না বলে মন্তব্য করেছেন নাজমুল। তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো ব্যাখ্যা নেই। ক্ষতিপূরণের প্রশ্ন তুলতেই পারবে না ওরা। কারণ আমরা যে প্লেয়ারদের পেছনে এত খরচ করছি, বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ওরা কিছুই করতে পারছে না। একটা বৈশ্বিক কাপ আনতে পেরেছে? তাহলে তো এটাও বলতে পারি যে, তোমাদের পেছনে যা খরচ করেছি তা তোমাদের কাছ থেকে নিতে থাকি।’

    এর আগে তামিম ইকবালকে নিয়েও বাজে মন্তব্য করেন এই পরিচালক। তিনি তামিমকে ভারতীয় দালাল বলেন। তখনো কোয়াব কড়া সমালোচনা করেছিল। তবে গতকাল নাজমুল যা বলেছেন, এরপর সরাসরি সব ধরনের খেলা বন্ধ করার ঘোষণা দেয় কোয়াব। সভাপতি মিঠুন বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে একজন পরিচালক যেভাবে মন্তব্য করছেন, একজন দায়িত্বরত বোর্ড পরিচালক যেভাবে মন্তব্য করছেন। কখনোই তিনি খেলোয়াড়দের নিয়ে এভাবে কথা বলতে পারেন না। আমরা দ্রুত তার পদত্যাগ চাই। উনি কাল (আজ) বিপিএলের প্রথম ম্যাচের আগে যদি পদত্যাগ না করেন, তাহলে আমরা সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ ঘোষণা করছি।’

    এরপরই টনক নড়েছে বিসিবি। নাজমুলের সাম্প্রতিক আপত্তিকর মন্তব্যের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বোর্ড। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বিসিবি বিষয়টি নিশ্চিত করে। বোর্ড জানায়, ওই মন্তব্যে সৃষ্ট উদ্বেগ তারা বুঝতে পারছে। বিসিবি আবারও পেশাদারিত্ব, ক্রিকেটারদের প্রতি সম্মান এবং ক্রিকেটের মূল্যবোধের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের কথা জানায়।

    ইতোমধ্যেই নাজমুলের কাছে একটি শোকজ নোটিশ চলে গেছে। যার জবাব ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দিতে হবে। বিসিবি জানায়, ‘একটি সাংবিধানিক সংস্থা হিসেবে বিসিবি তাদের নিজস্ব নিয়ম ও নীতিমালা অনুযায়ী বিষয়টি দেখছে। এই দায়িত্বের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট বোর্ড সদস্যের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ওই সদস্যকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। প্রক্রিয়ার ফল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    বিপিএলের ঢাকা পর্ব শুরু হওয়ার কথা আজ থেকে। তবে এই ঘটনায় সে ম্যাচ দুটি নিয়েও জেগেছে শঙ্কা। বিসিবি আহ্বান জানিয়েছে, বিপিএলের প্রতি যেন ‘পেশাদার’ মনোভাব বজায় রাখেন তারা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিসিবি মনে করে, ক্রিকেটাররাই বিপিএল এবং বোর্ডের সব কার্যক্রমের প্রধান অংশীদার। ক্রিকেটাররাই এই টুর্নামেন্টের প্রাণ। বোর্ড আশা করছে, খেলোয়াড়রা তাদের পেশাদার মনোভাব বজায় রাখবেন। তারা টুর্নামেন্ট সফলভাবে শেষ করতে সহযোগিতা করবেন। এতে বিপিএল ২০২৬ নির্বিঘ্নে শেষ হবে।’

  • অটোরিকশার জন্য লাইসেন্স-রুট পারমিট প্রদানসহ ১২ দফা দাবি

    অটোরিকশার জন্য লাইসেন্স-রুট পারমিট প্রদানসহ ১২ দফা দাবি

    অটোরিকশার জন্য লাইসেন্স-রুট পারমিট প্রদান, লাইসেন্স প্রদান না করা অবধি রিকশা আটক বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করাসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবে রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিক ইউনিয়ন আয়োজিত ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন: রিকশা শ্রমিকদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক দল-প্রার্থীদের অঙ্গীকার’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এ দাবি জানানো হয়।

    সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি আব্দুল কুদ্দুস, সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম নাদিম, সংগঠক ফয়সাল হায়দার, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন, বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক পার্টির সভাপতি আব্দুল আলী প্রমুখ।

    লিখিত বক্তব্যে ফয়সাল হায়দার বলেন, আপনারা জানেন বাংলাদেশের ৭০ লাখ মানুষ রিকশা ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের মাধ্যমে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু বিভিন্ন সময়ের সরকারগুলোর উদাসীনতা ও যৌক্তিক নীতিমালা না থাকায় তাদের জীবিকা আজও নিরাপদ হয়নি। ফলে ৭০ লাখ শ্রমিক ও তাদের পরিবারসহ দেশের সাড়ে ৩ কোটিরও অধিক মানুষ রুটি-রুজির অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছেন।

    তিনি বলেন, রিকশাকে যান্ত্রিকীকরণ করতে হবে বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রাংশ দিয়ে, যা জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। বিদ্যুৎ জাতীয় সম্পদ। সুতরাং বৈধ পথে বিদ্যুৎ ব্যবহার করার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকেরই আছে। তা ছাড়া রিকশা কোনো ব্যক্তিগত বাহন নয়, এটি গণপরিবহনেরই একটি অংশ। গণপরিবহনে বিদ্যুৎ ব্যবহার তার গণস্বার্থকে উপকৃত করবে। কারো ব্যক্তিগত আরাম বা বিলাসিতায় এই বিদ্যুৎ ব্যবহার করা হবে না। ব্যাটারিচালিত প্রত্যেক যানবাহনের চালক তার ব্যবহৃত বিদ্যুতের জন্য বাণিজ্যিক মূল্য নিয়মিত পরিশোধ করে আসছে।

    ফয়সাল হায়দার বলেন, আমরা ২০১২ সাল থেকে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স প্রদানের দাবি করছি। কিন্তু আমাদের দাবিতে কর্ণপাত করা হচ্ছে না। আমরা প্রত্যাশা করছি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পরবর্তী সময়ে দ্রুততার সঙ্গে বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহনের লাইসেন্স প্রদান এবং লাইসেন্স প্রদান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা ও রাজনৈতিক দলসমূহ কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

    তিনি আরও বলেন, ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন আইন), ২০০৯’-এর অধিকতর সংশোধনকল্পে প্রণীত অধ্যাদেশটি বাতিল করে ব্যাটারিচালিত যানবাহন চলাচলের নীতিমালা প্রণয়ন ও তদারকির পূর্ণ এখতিয়ার বিআরটিএর কাছে অর্পণ করা আবশ্যক। একইসঙ্গে বিআরটিএ কর্তৃক এই বাহন সংক্রান্ত প্রণীত খসড়া নীতিমালাটি অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার মধ্য দিয়ে যৌক্তিকভাবে প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন।

    সভায় যেসব দাবি উপস্থাপন করা হয় সেগুলো হলো—

    ১. আধুনিকায়নের জন্য পর্যাপ্ত সময় বরাদ্দ করে দেশের সড়ক উপযোগী মডেলে আধুনিকায়নসহ বিআরটিএ কর্তৃক লাইসেন্স-রুট পারমিট প্রদান ও যৌক্তিক নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। আধুনিকায়নের জন্য আর্থিক প্রণোদনা দিতে হবে।

    ২. বিআরটিএ কর্তৃক ব্যাটারিচালিত যানবাহন চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করতে হবে ও লাইসেন্স প্রদান সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত ব্যাটারিচালিত যানবাহন আটক বন্ধে নির্বাহী আদেশ জারি করতে হবে।

    ৩. অবিলম্বে জরিপের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক অটোরিকশার সংখ্যা ও মালিকানা নির্ধারণ করে আনুপাতিক হার পদ্ধতিতে সকলের লাইসেন্স প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

    ৪. দেশের সড়ক উপযোগী মডেল সকলের জন্য উন্মুক্ত করে বাহনগুলোর আধুনিকায়ন ত্বরান্বিত ও বাহন বিনিময় নীতি শ্রমিক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে নির্ধারণ করতে হবে।

    ৫. শ্রমিক প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে সড়ক ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনা কমিটি গঠন করতে হবে।

    ৬. ব্যাটারিচালিত যানবাহন শ্রমিকদের ওপর জুলুম-নির্যাতন-চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে। অবৈধ কার্ড-টোকেনের নামে চাঁদাবাজি যেন পুনরায় ফিরে না আসে তার জন্য কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।

    ৭. ব্যাটারিচালিত যানবাহন গ্যারেজের ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করতে হবে।

    ৮. বিভিন্ন রাস্তায় রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করতে হবে। রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক ও সাইকেলের জন্য সকল সড়কে সার্ভিস লেন নির্মাণ করতে হবে। বাস্তবসম্মত পরিকল্পনার ভিত্তিতে রাস্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থা আধুনিকায়ন ও ব্যাটারিচালিত যানের জন্য র‍্যাকার বিল কমিয়ে যৌক্তিক করতে হবে।

    ৯. নিত্যপণ্যের ভ্যাট কমাও-শ্রমিকদের জন্য রেশন চালু করতে হবে। বাসস্থান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ও সন্তানের শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। সর্বজনীন পেনশন স্কিম কার্যকর করতে হবে। অসৎ বাজার সিন্ডিকেট ভেঙে রিকশার যন্ত্রাংশসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম কমাতে হবে।

    ১০. ব্যাটারিচালিত যানবাহনকে গণপরিবহন হিসেবে শিল্পের স্বীকৃতি দিতে হবে। শিল্পের বিকাশে সহায়তার জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় এক অঙ্কের সুদে জামানতবিহীন ঋণ দিতে হবে।

    ১১. ‘জীবিকা সুরক্ষা আইন’ প্রণয়ন করতে হবে। ব্যাটারিচালিত যানবাহন সংক্রান্ত সকল রিট দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে। শ্রম সংস্কার সুপারিশ— জীবিকার মাধ্যম বিনষ্ট না করার সুপারিশ বাস্তবায়ন করতে হবে।

    ১২. রিকশা-ভ্যান-ইজিবাইক শ্রমিকদের মানুষ হিসেবে নাগরিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করতে হবে। মানবিক ও দেশের অর্থনীতির বিবেচনায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের পুঁজিকে নিরাপদ করে পর্যায়ক্রমে প্যাডেলচালিত যানবাহনের শ্রম থেকে মানুষকে মুক্ত করতে হবে।

  • ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ দাবিতে সায়েন্সল্যাব অবরোধ

    ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ দাবিতে সায়েন্সল্যাব অবরোধ

    প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে এসে অবরোধ কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে করে সায়েন্সল্যাব এলাকার যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। 

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫ এর হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদন দিতে হবে। একইসঙ্গে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করতে হবে।

    এর আগে মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে শিক্ষার্থীরা জানান, সাত কলেজের সমন্বয়ে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে প্রণীত ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন–২০২৫’-এর খসড়া গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। পরে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে একাধিক পরামর্শ সভার মাধ্যমে খসড়াটি হালনাগাদ করা হয়।

    শিক্ষার্থীদের দাবি, গত ৭ ও ৮ ডিসেম্বর শিক্ষা ভবনের সামনে টানা অবস্থান কর্মসূচির সময় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকে জানুয়ারির প্রথম দিকেই অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে এখনো সে বিষয়ে কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে অবরোধ কর্মসূচিতে নেমেছেন।

    তবে এরইমধ্যে অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে বলে জানিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

    মঙ্গলবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রশাসনিক উৎকর্ষ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেই এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে দ্রুততম সময়ের মধ্যে মন্ত্রীপরিষদ বিভাগের নীতিগত সম্মতি গ্রহণ এবং লেজিসলেটিভ বিভাগের ভেটিং শেষে এটি উপদেষ্টা পরিষদের চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

  • ফার্মগেট ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ, স্থবির যান চলাচল

    ফার্মগেট ও এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে অবরোধ, স্থবির যান চলাচল

    সহপাঠী সাকিবুল হত্যার বিচার ও আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের পর এবার রাজধানীর ব্যস্ততম ফার্মগেট মোড়ও অবরোধ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এতে করে গুরুত্বপূর্ণ এই দুই সড়কেই যানচলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। 

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা পৌনে বারোটার দিকে প্রথমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে ফার্মগেট খামারবাড়ি অভিমুখের অংশ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। পরে সাড়ে বারোটার দিকে ফার্মগেট মোড়ও অবরোধ করেন তারা।

    দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে এই দুই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। একইসঙ্গে আশপাশের সড়কেও তীব্র যানজট সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ঘটনাস্থলে অবস্থান নিতে দেখা গেছে

    আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানান, সাকিব হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনো দৃশ্যমান বিচারিক অগ্রগতি নেই। খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। অবরোধ চলাকালে তারা ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’, ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা গেছে।

    প্রসঙ্গত, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত তিনজন শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত হন উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা। তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।

  • গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার চিকিৎসায় উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড

    গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার চিকিৎসায় উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড

    মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ টেকনাফের শিশু হুজাইফা আফনানের চিকিৎসায় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। শিশুটির সংকটাপন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী চিকিৎসা কৌশল নির্ধারণ করতেই এ বোর্ড গঠন করা হয়।

    বুধবার (১৪ জানুয়ারি) হাসপাতালটির ইন্টারভেনশনাল নিউরোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু ঢাকা পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, মেডিকেল বোর্ডের নেতৃত্বে রয়েছেন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতালের পরিচালক ডা. কাজী গিয়াস উদ্দিন আহমেদ। বোর্ডের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের যুগ্ম পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. বদরুল আলম মন্ডল, অধ্যাপক মাহফুজুর রহমান, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক মনিরুল ইসলাম, সহযোগী অধ্যাপক হুমায়ুন কবীর হিমু, সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ্ত কুমার মুখার্জি, সহযোগী অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম এবং সহযোগী অধ্যাপক ফরহাদ হোসেন চৌধুরী।

    মেডিকেল বোর্ডে নিউরোসার্জারি, নিউরোলজি, আইসিইউ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিভাগের অভিজ্ঞ চিকিৎসকেরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। বোর্ডে শিশুটির বর্তমান শারীরিক অবস্থা, গুলির আঘাতে সৃষ্ট নিউরোসার্জিক্যাল জটিলতা এবং সম্ভাব্য চিকিৎসা ধাপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হচ্ছে।

    ডা. হুমায়ুন কবীর হিমু জানান, মেডিকেল বোর্ডের বৈঠক চলমান রয়েছে। বোর্ড মিটিং শেষে শিশু হুজাইফার চিকিৎসা বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত তাকে আইসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

    এর আগে গুলির আঘাতে হুজাইফার মস্তিষ্কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে জরুরি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার মাথার খুলির একটি অংশ খুলে রাখা হয়। বর্তমানে শিশুটি লাইফ সাপোর্টে রয়েছে বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। চিকিৎসকেরা বলছেন, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রতিটি চিকিৎসা সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে।