Author: তরঙ্গ টিভি

  • আজ ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’, দূষণে শীর্ষে কলকাতা

    আজ ঢাকার বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’, দূষণে শীর্ষে কলকাতা

    সারা দেশে চলমান মৃদু শৈত্যপ্রবাহে বাতাসের স্বাভাবিক প্রবাহ কমে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকায় বায়ুদূষণ আবারও আশঙ্কাজনক রূপ নিয়েছে। শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়ায় বাতাসে ক্ষতিকর ধূলিকণার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় আজও বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় উপরের দিকেই রয়েছে ঢাকা। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী, আজ (শুক্রবার) ঢাকার বাতাসের মান ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

    আন্তর্জাতিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল সোয়া ১০টার দিকে রাজধানী ঢাকার বায়ুর মান সূচক বা একিউআই স্কোর ছিল ১৫৮। এই স্কোর নিয়ে বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় দ্বাদশ অবস্থানে রয়েছে এই মেগাসিটি।

    একই সময়ে দূষিত শহরের তালিকার শীর্ষ প্রথম ও দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারতের কলকাতা ও দিল্লি, শহর দুটির স্কোর যথাক্রমে ২৩০ ও ২১১। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইরাকের বাগদাদ শহর, যার স্কোর ১৯৬। তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভিয়েতনামের হ্যানয় (স্কোর ১৯৩) ও পাকিস্তানের লাহোর শহর (স্কোর ১৮৩)।

    দূষিত বাতাসে শীর্ষ দশে থাকা অপর শহরগুলোর বাতাসের মানের স্কোর ১৮১ থেকে ১৬৬-এর মধ্যে।

    আইকিউএয়ারের মানদণ্ড অনুযায়ী, স্কোর শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ বলে বিবেচিত হয়। ৫১ থেকে ১০০ হলে মাঝারি বা ‘সহনীয়’ ধরা হয় বায়ুর মান। ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরকে ‘সংবেদনশীল গোষ্ঠী’র (অসুস্থ বা শিশু-বৃদ্ধ) জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। আর স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত থাকলে সে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়।

    স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ হলে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ বলে বিবেচনা করা হয় এবং ৩০১ এর বেশি হলে তা ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বলে বিবেচিত হয়।

  • চট্টগ্রামে চকচকে ডিসি হিলের গেট ও সড়ক  ভাঙাচোরা ও মলিন কবি নজরুলের ‘চরণচিহ্ন’ জাতীয় কবির প্রতি অবহেলায় চট্টগ্রামে সুশীল সমাজে ক্ষোভ

    চট্টগ্রামে চকচকে ডিসি হিলের গেট ও সড়ক ভাঙাচোরা ও মলিন কবি নজরুলের ‘চরণচিহ্ন’ জাতীয় কবির প্রতি অবহেলায় চট্টগ্রামে সুশীল সমাজে ক্ষোভ

    চট্টগ্রামের ডিসি হিল বা ডিসির পাহাড় ‘নজরুল স্কয়ার’ নামে পরিচিত। এই পাহাড়ের শীর্ষ চূড়ায় রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকের (ডিসি) সরকারি বাসভবন। প্রতিবছর পহেলা বৈশাখে এখানে আয়োজন করা হতো বাংলা নববর্ষ বরণে বাঙালির প্রাণের উৎসব। এর মধ্য দিয়ে ডিসি হিল ঐতিহাসিক গুরুত্ব ধারণ করেছে।

    এখানকার মুক্তমঞ্চে আয়োজন করা হতো নানা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও। কিন্তু ডিসি হিলসংলগ্ন আওয়ামী লীগের সাবেক এক মন্ত্রীর বাসভবন যেন এই আয়োজনে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। ওই মন্ত্রীর অনীহার কারণে ধীরে ধীরে ডিসি হিল বা নজরুল স্কয়ারকেন্দ্রিক ঐতিহ্যবাহী সব অনুষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়া হয়।

    সাংস্কৃতিক কর্মীদের কার্যক্রম না থাকায় ডিসি হিল পুরোপুরি ডিসির কবজায় চলে যায়। সম্প্রতি ডিসি হিলের প্রবেশ গেট, সড়ক ও সীমানা প্রাচীরসহ বিভিন্ন অবকাঠামো সংস্কার করা হয়েছে। কিন্তু ভাঙাচোরা ও মলিন অবস্থায় রয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‘চরণচিহ্ন’। এ নিয়ে চট্টগ্রামে সুশীল সমাজে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

    শনিবার সরেজমিন নগরীর ডিসি হিলে গিয়ে দেখা যায়, নতুন করে তৈরি করা ডিসির গেট চকচক করছে। করা হয়েছে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা। ভেতরে যেতেই দেখা যায়, সড়কের পাশে নতুন করে রঙ দিয়ে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে পুরো পথ। ভেতরের সবকটি গাছের গোড়ায়ও দেওয়া হয়েছে সাদা ও লাল রঙ। কিন্তু প্রবেশ গেটের উভয় পাশে বাংলাদেশ সংস্কৃতি ফোরামের সৌজন্যে তৈরি করা নজরুলের কবিতার সেই পঙ্তিগুলো হয়ে আছে বিবর্ণ।

    ডিসি হিলের ভেতরে কবি নজরুলের ‘বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি’ কবিতার ১২ লাইন যে দেওয়ালে লেখা, সেখানের অবস্থাও নাজুক। ময়লা-আবর্জনায় ঢেকে আছে স্থানটি। শুধু তাই নয়, ভেঙে গেছে সিঁড়ির একপাশ। এই জায়গাটুকু দেখলে যে কারও মনে হবে-কবি নজরুলকে ইচ্ছাকৃতভাবে অযত্ন করা হচ্ছে। কিন্তু এর কারণ কী হতে পারে, এমন প্রশ্ন সেখানে বেড়াতে যাওয়া সচেতন নাগরিকদের মনেও। গত বছরের জুন থেকে পরবর্তী তিন মাস ধরে ডিসি হিলের অবকাঠামো সংস্কার হয়েছে।

    জানা যায়, ১৯২৬ সালের জুলাইয়ে প্রথম চট্টগ্রামে এসেছিলেন কবি কাজী নজরুল ইসলাম। কলকাতা থেকে এসে কবি তৎকালীন জেলা প্রশাসকের ডাকবাংলোতে ওঠেন। চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্র সংসদের নেতা কবির বন্ধু হবিবুল্লাহ বাহারের দাওয়াতে কলেজের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। হবিবুল্লাহ বাহার ও তার বোন শামসুননাহার মাহামুদ কবিকে তাদের বাসায় নিয়ে যান। নগরীর আন্দরকিল্লায় শাহী জামে মসজিদে এক সভায়ও যোগ দেন কবি নজরুল। অনুষ্ঠানে তাকে ‘কবি সম্রাট’ উপাধি দেওয়া হয়।

    পাঠ করা হয় একটি ঘোষণাপত্র-‘এই সভা ঘোষণা করিতেছে যে, কবি নজরুল ইসলাম বাংলার মুসলমান সমাজের রত্নস্বরূপ’। এরপর নগরীর জেএমসেন স্কুল ও সীতাকুণ্ডে কবিকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ওই সময় কবি মুসলিম হল, সীতাকুণ্ড পাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। চট্টগ্রামে বসে কবি লিখেছিলেন অনেক জনপ্রিয় কবিতা। যে কয়দিন ছিলেন তার কবিতায়, কথায়, বক্তৃতায় বিমুগ্ধ হন মানুষ। এভাবেই চট্টগ্রামের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল জাতীয় কবির।

    নজরুলের স্মৃতিবিজড়িত ডিসি হিল স্মরণীয় করে রাখতে ২০০৪ সালে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নির্মাণ করেছিল ‘চরণচিহ্ন’। ২০০৫ সালের ১০ এপ্রিল সেই চরণচিহ্ন উদ্বোধন করেন তৎকালীন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির। তবে সেই চরণচিহ্ন এখন বিবর্ণ হয়ে গেছে। অনেক স্থানে নেই স্মৃতি চিহ্নটুকুও।

    সূত্র আরও জানায়, ২০১৭ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর এক অনুষ্ঠানে ‘অপরিচ্ছন্নতার’ কারণ দেখিয়ে সে সময়কার মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন ডিসি হিলে বছরে তিনটি অনুষ্ঠান ছাড়া অন্য আয়োজন ‘না করার’ আহ্বান জানান। এই তিন অনুষ্ঠান হলো-পহেলা বৈশাখ এবং রবীন্দ্র ও নজরুলজয়ন্তী। সাবেক মন্ত্রীর এই আহ্বানের পর থেকে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন নজরুল স্কয়ারে সামাজিক-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি দেওয়া বন্ধ রাখে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে চট্টগ্রামের একটি আবৃত্তি সংগঠন নজরুল স্কয়ারে অনুষ্ঠান আয়োজনের অনুমতি পায়। তবে এরপর আর উল্লেখযোগ্য কোনো অনুষ্ঠান হয়নি।

    নজরুল গবেষক ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, নগরীর নন্দনকানন ডিসি হিলে বসে কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন কবিতা-‘বাতায়ন পাশে গুবাক তরুর সারি।’ তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি, নজরুল স্কয়ারে নানাভাবে শোভাবর্ধন হচ্ছে। এমনকি সেখানকার গাছগুলোও রঙ দিয়ে রাঙিয়ে তোলা হয়েছে। কিন্তু নজরুলের সব স্মৃতি উপেক্ষিত। আমাদের আমলা বলেন, কবি আর সাহিত্যিক বলেন কিংবা রাষ্ট্র, সব সময় নজরুল তাদের কাছে অবহেলার শিকার হয়েছেন, হচ্ছেন। এটি নতুন করে নয় বরং এটি চলমান ধারাবাহিকতা। এই উপেক্ষার মূল হলো, নজরুলের প্রতি তাদের গভীরতা না থাকা, সেভাবে ধারণ না করা। অথচ নজরুলকে ধারণ করে আমরা বরং নিজেরাই সম্মানিত হতে পারতাম।

    চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা যুগান্তরকে বলেন, সংস্কার কাজ এখনো শেষ হয়নি। নজরুল স্কয়ার নতুন করে রাঙিয়ে তোলা হবে। যেখানে অন্ধকার রয়েছে সেখানে আলোকসজ্জা করা হবে।

  • ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল ভোলা

    ভোরে ভূমিকম্পে কাঁপল ভোলা

    ভোলার মনপুরায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। এতে পুরো দ্বীপের বাসা-বাড়ি, মসজিদ-বাড়ি, উপজেলার দালান-কোঠা, হাসপাতালের বিল্ডিং কাঁপতে থাকে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় এই ভূকম্পন অনুভূতির ঘটনা ঘটে।

    মনপুরা উপজেলার ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি ও দারুস সুন্নাহ ফজলুল উলুম কওমী মাদ্রাসার মোহতামীম এনায়েত উল্লাহ নুরনবী জানান, মসজিদে ফজরের নামাজের সময় পুরো মসিজদ কাঁপতে থাকে।

    স্থানীয় সাংবাদিক সজিব মোল্লা ও মো. রাকিব জানান, ভোরে ভূকম্পন অনুভত হয়। এই সময় বাসা-বাড়ি কাঁপতে থাকে।

    উপজেলার মাদ্রাসার রোডের বাসিন্দা আয়শা ছিদ্দিকা বিথী, হুমায়ার আবদুল্লাহ, আকলিমা, মোস্তাফিজ, সাউদা, নুসাইবা ও আরওয়া সহ অনেকে জানান, বাসা-বাড়ি কাঁপতে থাকে। এছাড়া পুকুরের পানি টলমল করতে থাকে।

    এছাড়াও হাজিরহাট মার্কাজ জামে মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মোঃ ইউসুফ জানান, ফজেরর নামাজের সময় পুরো মসজিদ কাঁপতে থাকে।

    জানা যায়, ভারতের মনিপুর ও আসম সহ অন্যান্যস্খানে ভূমিকম্পনের কারনে ভোলার মনপুরা উপকূলে এই ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। তবে এখন পর্যন্ত কোন ক্ষয়-ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে ভারতে মণিপুর ভূকম্পনের ফলে বাংলাদেশর বিভিন্ন স্থান সহ ভোলার মনপুরায় ভূ-কম্পন অনুভূত হয়। যা রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৫ মাত্রার ছিল।

  • হঠাৎ উধাও এলপিজি ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না ২ হাজারেও, দায় কার?

    হঠাৎ উধাও এলপিজি ১৩০০ টাকার সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না ২ হাজারেও, দায় কার?

    সরকারের পক্ষ থেকে ‘সংকট নেই’ বলে আশ্বস্ত করা হলেও বাস্তবে চরম হাহাকার চলছে এলপিজি গ্যাসের বাজারে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসের ঠিক উল্টো চিত্র ফুটে উঠেছে রাজধানীসহ সারা দেশে। গুটিকয়েক কোম্পানি ছাড়া অধিকাংশের সরবরাহ বন্ধ থাকায় ১ হাজার ৩০০ টাকার সিলিন্ডার এখন বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে ২২০০ টাকায়। নির্ধারিত দামের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি অর্থ গুনেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি এখন চরমে।

    গত ৪ জানুয়ারি বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন এলপি গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করে। এক হাজার ২৫৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে এক হাজার ৩০৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু বাজারে এর কাছাকাছি দামেও কোনো সিলিন্ডার নেই। প্রতিটি সিলিন্ডার বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ২০০ টাকায়।

    ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাসে ৩০ কোটি টাকার গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি

    শীতকাল আসার সঙ্গে সঙ্গে পাইপলাইনে গ্যাসের চাপও আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। ফলে, সবমিলিয়ে গ্রাহকদের ভোগান্তি পৌঁছেছে তুঙ্গে।

    বাজারে নেই সিলিন্ডার, পেলেও দাম ২২০০!

    রাজধানীর রামপুরা এলাকায় বসবাস করেন বেসরকারি চাকরিজীবী জান্নাতুল ফেরদৌস। তার বাসায় পাইপলাইন গ্যাসের সংযোগ থাকলেও ইদানীং দিনের অধিকাংশ সময় গ্যাস থাকে না। বিকল্প হিসেবে বাসায় থাকা এলপিজি সিলিন্ডারটি রিফিল করতে গিয়ে তিনি পড়েছেন চরম বিপাকে। একে তো বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না, আর পাওয়া গেলেও দাম চাওয়া হচ্ছে ২১০০ থেকে ২২০০ টাকা।

    জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “প্রতি মাসে আমাকে পাইপলাইন গ্যাসের জন্য নির্দিষ্ট বিল পরিশোধ করতে হয়। কিন্তু লাইনে গ্যাস থাকে না বললেই চলে, বিশেষ করে শীতকালে অবস্থা আরও নাজুক হয়। ফলে বাধ্য হয়ে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতে হয়। কিন্তু এখন সেটিও পাওয়া যাচ্ছে না। আজ বেশ কিছু দোকান ঘুরেও সিলিন্ডার পাইনি, আর যেখানে আছে সেখানে রাখা হচ্ছে গলাকাটা দাম। আমাদের খরচ ও ভোগান্তি— দুটিই সমানতালে বেড়েছে। গ্যাসের সংকট এভাবে চলতে থাকলে স্বাভাবিক জীবনযাপন ও খাওয়া-দাওয়া কষ্টকর হয়ে পড়বে।”

    অতিরিক্ত দামে গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, এক লাখ টাকা জরিমানা

    অন্যদিকে, মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সুমনের বাসায় পাইপলাইনের গ্যাস নেই, সিলিন্ডারই তার একমাত্র ভরসা। তিনি বলেন, “১২ কেজির একটি সিলিন্ডারে আমার মোটামুটি এক মাস চলে যায়। বর্তমান সিলিন্ডারটি আর কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। বাজারে যেভাবে এলপিজির সংকট তৈরি হয়েছে, তাতে সামনে নতুন সিলিন্ডার পাব কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”

    এদিকে বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় অনেকে এখন হোটেল থেকে খাবার কিনে খাচ্ছেন। তবে, গ্যাস সংকটের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে হোটেলগুলোতেও; সেখানে রান্নার স্বাভাবিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

    গ্যাস সংকটের এই সময়ে বাজারে ইলেকট্রিক বা বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা ব্যাপক বেড়েছে। তুলনামূলক কম খরচে দ্রুত রান্নার কাজ সেরে নেওয়া যায় বলে গ্রাহকরা এখন এই প্রযুক্তির দিকে বেশি আগ্রহী হচ্ছেন। বিক্রেতারাও নিশ্চিত করেছেন যে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলার বিক্রি বহুগুণ বেড়েছে। বর্তমানে মান ও ব্র্যান্ডভেদে এসব চুলা আড়াই হাজার থেকে শুরু করে ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে।

    মোহাম্মদপুরের জুবায়ের ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী জুবায়ের বলেন, “বৈদ্যুতিক চুলায় সব ধরনের রান্না অনায়াসে করা যায়। রান্নার পরিমাণ অনুযায়ী মাসিক বিদ্যুৎ বিল গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকার মতো আসে। খরচ সাশ্রয়ী হওয়ায় গ্রাহকরা এখন সিলিন্ডার গ্যাসের বিকল্প হিসেবে ইলেকট্রিক চুলা কিনছেন।”

    শিল্পে গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির গণশুনানি চলছে

    গ্যাসের ভোগান্তি থেকে বাঁচতে সম্প্রতি ইলেকট্রিক চুলা কিনেছেন গৃহিণী পারভীন আক্তার। তিনি বলেন, “বাজারে কোথাও এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। আবার দিনের পর দিন হোটেল থেকে খাবার কিনে আনাও সম্ভব না। তাই নিরুপায় হয়ে ইলেকট্রিক চুলা কিনলাম। এটি বেশ সুবিধাজনক। যেখানে গ্যাসের পেছনে মাসে দুই হাজার টাকার বেশি খরচ করতে হচ্ছিল, সেখানে এই চুলায় বিল আসবে বড়জোর ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এটি আমাদের জন্য অনেক সাশ্রয়ী।”

    কী বলছেন বিক্রেতারা?

    দেশের বাজারে বর্তমানে ২৮টি প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে এলপিজি বিক্রির সাথে যুক্ত থাকলেও, সাম্প্রতিক সংকটের মধ্যে মাত্র ৪ থেকে ৫টি কোম্পানি বাজারে গ্যাস সরবরাহ করছে। এর মধ্যে ওমেরা, পেট্রোম্যাক্স, ইউনিগ্যাস এবং ফ্রেশ এলপিজি অন্যতম।

    তবে, বর্তমানে ঢাকার অধিকাংশ এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার কার্যত দুষ্প্রাপ্য হয়ে পড়েছে। এরই মধ্যে সরবরাহ সংকট ও লোকসানের কারণ দেখিয়ে আজ খুচরা পর্যায়ে এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রি বন্ধের ঘোষণা দিয়েছিল ‘এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতি লিমিটেড’। যদিও কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সেই ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়। সরবরাহ সংকট আর সমিতির এই আকস্মিক ঘোষণায় নগরজুড়ে এলপিজির হাহাকার আরও তীব্র আকার ধারণ করে।

    সরেজমিনে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার নেই। আর কোথাও পাওয়া গেলেও তার দাম রাখা হচ্ছে ২,২০০ টাকা। মোহাম্মদপুর টাউন হলে অবস্থিত বেশ কয়েকটি এলপিজি বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠান বন্ধ দেখা গেছে।

    এলপি গ্যাস আমদানি ও উৎপাদনে ভ্যাট-ট্যাক্স পুনর্নির্ধারণে এনবিআরকে চিঠি

    সেখানে খোলা থাকা ‘বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স’-এর রুবেল আহমেদ বলেন, “বাজারে এখন গ্যাস নেই বললেই চলে। যে দু-একটি কোম্পানির গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, আমাদেরই কিনতে হচ্ছে ২ হাজার টাকায়, আর বিক্রি করতে হচ্ছে ২,২০০ টাকায়। কিন্তু এখানেও বিপদ আছে। অনেক ক্রেতা অতিরিক্ত দামে কিনে ভোক্তা অধিকার দপ্তরে অভিযোগ করেন। তখন ম্যাজিস্ট্রেট এসে আমাদের জরিমানা করেন। অথচ এখানে আমাদের কোনো দোষ নেই, কারণ কেনাই বেশি দামে।”

    মুগদা এলাকার ‘জলিল স্যানিটারি অ্যান্ড ইলেকট্রিক’-এর স্বত্বাধিকারী মো. জলিল মিয়া বলেন, “কয়েক দিন ধরে আমরা এলপিজি পাচ্ছি না। ৩-৪ দিন আগেই দোকানের সব সিলিন্ডার শেষ হয়ে গেছে। আজ থেকে তো আনুষ্ঠানিকভাবে বিক্রি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ডিস্ট্রিবিউটররা বলছেন, কোম্পানি থেকে গ্যাসের গাড়ি আসছে না।”

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সমিতির ঘোষণাকে অনুসরণ করে অনেকে প্রকাশ্যে বিক্রি বন্ধ রাখলেও কেউ কেউ গোপনে চড়া দামে গ্যাস বিক্রি করেছেন। আর নিরুপায় হয়ে সাধারণ ক্রেতারা সেই দামেই সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মোহাম্মদপুর এলাকার একজন ডিস্ট্রিবিউটর ঢাকা পোস্টকে বলেন, “কোম্পানি থেকে সরবরাহ অনেক কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আমাদের কাছ থেকেও দাম অনেক বেশি রাখা হচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী, চলতি মাসের মধ্যে এই সংকট কাটার সম্ভাবনা খুব কম।”

    দেশে এলপিজির এই সংকটের কারণ হিসেবে বিভিন্ন বিষয়কে তুলে ধরছেন সংশ্লিষ্টরা। আমদানিকারক অনেক কোম্পানি এলসি খুলতে গিয়ে জটিলতায় পড়েছে, আবার কেউবা আমদানি বৃদ্ধির অনুমোদন পায়নি। এ ছাড়া, বাংলাদেশের এলপিজি আমদানির প্রধান উৎস মধ্যপ্রাচ্যের এলপিজি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এবং তাদের জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাও সংকট তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ বলে উল্লেখ করছেন তারা।

    এলপিজি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির তথ্যমতে, দেশের বাজারে সাড়ে পাঁচ কোটি সিলিন্ডার থাকলেও বর্তমানে রিফিল হচ্ছে এক কোটি ২৫ লাখের মতো। বড় আকারের বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান এলপিজি আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় এই ঘাটতি পূরণের সুযোগ তৈরি হচ্ছে না। এর মধ্যে অনেক কোম্পানির ব্যাংক ঋণ রয়েছে, আবার কেউ কেউ আমদানি বৃদ্ধির অনুমতি চেয়েও তা পাননি।

    লোয়াব-এর সহ-সভাপতি ও এনার্জিপ্যাকের সিইও হুমায়ুন রশিদ ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আন্তর্জাতিকভাবে এলপিজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এলসি খোলা থাকলেও জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকায় পণ্য আসতে পারছে না। এ ছাড়া বর্তমানে ইউরোপেও এলপিজির চাহিদা অনেকটা বেড়ে গেছে। ফলে সার্বিকভাবে বাংলাদেশেও তার প্রভাব পড়েছে।”

    তিনি বলেন, “স্যাংশন (নিষেধাজ্ঞা) না থাকলে এবং জাহাজগুলো বাংলাদেশে চলে আসলে আর কোনো সমস্যা থাকত না। তবে এখন অনেক পরিবেশক বিভিন্ন উৎস থেকে এলপিজি আমদানিতে কাজ করছেন। আশা করছি, দ্রুত এই সংকট কেটে যাবে।”

    ডেল্টা এলপিজির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক ঢাকা পোস্টকে বলেন, “এই সংকট তৈরি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হলো সরকার কর্তৃক আমদানি বৃদ্ধির অনুমোদন না দেওয়া। আমরা যখন অনুমোদন চেয়েছিলাম, তখন সেটি পেলে আজ এই সমস্যা হতো না। তবে সরকার বর্তমানে অনুমতি দিয়েছে, ফলে আমদানি বাড়বে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কিছুদিন সময় লাগবে।”

    ২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হলো জাতীয় গ্রিডে

    ইতোমধ্যে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ক্রমবর্ধমান সংকট ও মূল্য অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে আমদানি ও স্থানীয় উৎপাদন পর্যায়ে ভ্যাট ও ট্যাক্স পুনঃনির্ধারণের উদ্যোগ নিয়েছে জ্বালানি মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত একটি চিঠি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) পাঠানো হয়েছে।

    সার্বিক বিষয়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সদস্য (গ্যাস) মিজানুর রহমান ঢাকা পোস্টকে বলেন, “আমরা আজ এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছি। এলপিজির যে সংকট চলছে, রমজানের মধ্যে তার সার্বিক সমাধান হয়ে যাবে। আমদানি যাতে বাড়ানো যায়, তা নিয়ে কাজ করছি।”

    তিনি বলেন, “গত ডিসেম্বরে এক লাখ ২৬ হাজার টন এলপিজি আমদানি করা হয়েছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট। কিন্তু পরিবেশকরা বলছেন, চাহিদার পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পেয়েছে। বিইআরসি ও মন্ত্রণালয়— সবাই এ বিষয়ে অবগত আছে।”

  • জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি: আসিফ নজরুল

    জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দিতে অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি: আসিফ নজরুল

    জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

    বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বিকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকের এক পোস্টে এসব কথা বলেন তিনি।

    ‘জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি’ শীর্ষক ওই পোস্টে আইন উপদেষ্টা লিখেছেন, ‘জুলাই যোদ্ধারা জীবন-বাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছিল। অবশ্যই তাদের দায়মুক্তির অধিকার রয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানকালে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার খুনিদের বিরুদ্ধে তারা যে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম করেছিল সেজন্য তাদের দায়মুক্তি দিয়ে আইন প্রণয়নের প্রয়োজনও রয়েছে।’

    পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘এ ধরনের আইন প্রণয়ন সম্পূর্ণ বৈধ। আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব (বা গণঅভ্যুত্থানে) জনধিকৃত সরকারগুলোর পতনের পর বিভিন্ন দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদে দায়মুক্তির আইনের বৈধতা রয়েছে এবং ১৯৭৩ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের পর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য দায়মুক্তি আইন হয়েছিল।’

    আইন উপদেষ্টা আরও লিখেছেন, ‘এসব নজীর ও আইনের আলোকে আইন মন্ত্রণালয় দায়মুক্তি অধ্যাদেশের একটি খসড়া তৈরি করেছে। ইনশাআল্লাহ্ আগামী উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে তা অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। জুলাইকে নিরাপদ রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব।’

  • সীমান্তে আটককৃত ২ জন ভারতীয়কে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি

    সীমান্তে আটককৃত ২ জন ভারতীয়কে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ফেরত দিল বিজিবি

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে আটককৃত ২ ভারতীয়কে বিএসএফ হাতে হস্তান্তর করল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ( বিজিবি)
    চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার চাড়ালডাঙ্গা সীমান্ত থেকে আটক দুই ভারতীয় নাগরিককে ফেরত দিয়েছে বিজিবি। বিজিবি ও বিএসএফের পতাকা বৈঠকের পর তাদেরকে হস্তান্তর করা হয়।

    বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকালে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিজিবির ১৬ ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর তানিম হাসান খান। বিজিবি ফেরত দেওয়া দুই ভারতীয় নাগরিক তারা হলেন. মালদা জেলার হবিপুর থানার টিলাশন গ্রামের দেবেন মোহলদারের ছেলে বাচ্চন মোহলদার ও সন্তোষ মহোলদারের ছেলে রাজু মোহলদার। বিজিবি পরে নিশ্চিত করে তারা দুজনেই মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিজিবির তাদের এই উদারতা নজির হয়ে থাকবে।

  • কালিয়াকৈরে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর নিহত

    কালিয়াকৈরে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে শিক্ষার্থীর নিহত

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার সফিপুর এলাকায় একটি মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে আলিফ নামের এক শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সকালে সাফিয়াতুল উম্মাহ হিফজ মডেল মাদ্রাসায় এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সকালে মাদ্রাসার ছাদে অবস্থানকালে আলিফ অসাবধানতাবশত নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে সহপাঠী ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে দ্রুত নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
    নিহত আলিফ হাসান, কালিয়াকৈর উপজেলার কৌসাগুড়ি এলাকার বাসিন্দা, শহীদ শাহর আলী ছেলে।এ ঘটনার পর নিহত শিক্ষার্থীর পরিবার ও অন্য অভিভাবকরা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাদের দাবি, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব ছিল।
    কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আলিফ হাসানকে তা বাবা–মা মাদ্রাসায় ভর্তি করেন। এর আগে সে কয়েকবার মাদ্রাসা থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিল। বুধবার সকালে ছাদ থেকে একটি পাইপ ধরে নামার চেষ্টা করার সময় সে নিচে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

  • বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যাবে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন করা যাবে: মন্ত্রিপরিষদ সচিব

    বর্তমান প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব শেখ আব্দুর রশীদ। তিনি জানিয়েছেন, কোথাও বিচ্যুতি পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
    বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে সচিব এ কথা বলেন।
    মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে সাংবাদিকরা জানতে চান যে, তফশিলের আগে নিয়োগ দেওয়া জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন আছে। এই প্রশাসন নিয়ে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে আপনি কি আশাবাদী?
    জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘আমি তো এখনো আশাবাদী। করা যাবে, ইনশাআল্লাহ।’
    শেখ আব্দুর রশীদের ভাষ্য, ‘অভিজ্ঞতা তো সবাই নিয়ে আসে না। অভিজ্ঞতা তো তৈরি হয়। অবস্থায় পড়লে অভিজ্ঞতা তৈরি হয়। তারা সঠিক পথে চলবেন, চলতে পারবেন— এটি যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি, তাদের মনোভাব যদি সঠিক থাকে, তাহলে তারা সফল হবেন, ১০০ ভাগ সফল হবেন, ইনশাআল্লাহ।’
    সচিব বলেন, ‘আমরা যদি কোনো বিচ্যুতি দেখতে পাই, তাহলে আমরা সেভাবে ব্যবস্থা নেব। ঢালাওভাবে তো কিছু না। আমরা সাধারণভাবে মনে করছি তারা (মাঠ প্রশাসন) প্রস্তুত আছেন, যোগ্য আছেন। যদি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, আমরা অবশ্যই তাৎক্ষণিকভাবে বিবেচনা করব।’
  • ‘আ.লীগ পতনের পর জাতিকে বিনির্মাণ করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি’

    ‘আ.লীগ পতনের পর জাতিকে বিনির্মাণ করার সুযোগ কাজে লাগাতে পারিনি’

    আওয়ামী লীগের পতনের পর আমাদের সামনে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ তৈরি হয়েছিল— রাষ্ট্র ও জাতিকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করার। সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি। আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত ছিল স্বাধীন বিচার বিভাগের মাধ্যমে, স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায়। কিন্তু তার বদলে আমরা এক ধরনের স্থায়ী ফোবিয়ায় ঢুকে পড়েছি।

    বৃহস্পতিবার (৮ ডিসেম্বর) সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজের আয়োজনে এক পলিসি ডায়ালগে এসব কথা বলেন বক্তারা।

    পলিসি ডায়ালগে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “নির্বাচনী অঙ্গীকার একটি চুক্তি, দলের পক্ষ থেকে জনগণের কাছে চুক্তি। এটা মানা বাধ্যতামূলক। রাজনৈতিক দলগুলো যে ইশতেহার দেবে সেটা যেন জাস্টিসিয়েবল (আইনত বাধ্যকর) হয়। নাগরিকদের আদালতে গিয়ে কী কী বাস্তবায়ন হয়েছে, সেটা দেখার সুযোগ থাকে। আমি জানি না এটা আদালত গ্রহণ করবে কি না।”

    তিনি বলেন, “নির্বাচনের পুরো প্রক্রিয়া হতে হবে স্বচ্ছ, কারসাজিমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য। শুধু এগুলো হলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে না। নির্বাচিত সরকার কী করে তার ওপর নির্ভর করে গণতন্ত্র কতটা প্রতিষ্ঠিত হলো। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সংস্কার দরকার। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক দলের অঙ্গসংগঠন থাকতে পারবে না এটা আইনে আছে। কিন্তু ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন নাম দিয়ে তকমা রেখেছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে বুঝে-শুনে ইশতেহার করতে হবে। তাদেরকে স্পষ্টভাবে বলতে হবে গণভোটে তারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে নাকি ‘না’-এর পক্ষে।”

    রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. রওনক জাহান বলেন, “কোনো দেশের গণতন্ত্রের মান কেমন সেটা মূল্যায়ন করা যায় সে দেশের সংখ্যালঘুরা তাদের অধিকার নিয়ে কী ভাবছে তা থেকে; সংবিধানে যাই থাকুক না কেন। সবাই বলে আমরা এটা করব ওটা করব, কিন্তু এসব করার জন্য একটি পলিসি এবং টাইমলাইন দরকার।”

    তিনি বলেন, “আমি যখন হার্ভার্ডে যাই তখন নারী সদস্য বা অন্য বর্ণের উপস্থিতি কম ছিল। কিন্তু তারা পলিসি নিয়েছিল, যে কারণে ভর্তি করার সময় নারী কত, হোয়াইট বা ব্ল্যাক কত—এগুলোও দেখা হয়।”

    তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন সামনে। মাইনোরিটি তো বাদ দিলাম, সাধারণ মানুষও বলছে তারা নিরাপত্তা চায়। সবাই নিরাপত্তা চাচ্ছে, অধিকারের কথা ভুলেই গেছে— আমরা এই অবস্থায় আছি। প্রোটেকশন দেওয়া একটা চ্যারিটি হয়ে যাচ্ছে। সবার মনে চিন্তা— আমাকে নিরাপত্তা দাও, প্রোটেকশন দাও। নির্বাচন আসলে মাইনোরিটিরা ভয়ে থাকে। এক তো তারা চিহ্নিত যে তারা লীগকে ভোট দিয়েছে; তারা কাকে দিয়েছে সেটা যাচাই করারও সুযোগ নেই। আগের মতো যদি হয় যে—‘আমাদের ভোট দাওনি তাই জুলুম হবে’, এখন যদি আবার এমন হয় সেটার জন্য প্রস্তুতি কী সেটাও আমরা জানি না। এখন যে দ্বন্দ্ব হচ্ছে তা শুধু দলে দলে না, দলের অভ্যন্তরের কোন্দলের জন্যও হচ্ছে।”

    তিনি বলেন, “মাইনোরিটির যারা সহিংসতার শিকার হচ্ছে তাদের পাশে দাঁড়ানোর লোক নেই। রাজনৈতিক কর্মীদের শুধু ভোট টানা আর বিরিয়ানি খাওয়ানো নয়, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দিতে হবে। কখন আমরা ভালো নির্বাচনে যেতে পারব এই নিশ্চয়তা কেউ দিতে পারছে না। অনেকে বলছে যা হচ্ছে একটা হয়ে যাক। মানুষ অন্ধ বিশ্বাস রাখছে নির্বাচনের পর সংকট কাটবে, কিন্তু আসলে সেটা মনে করার কোনো কারণ নেই।”

    জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “আওয়ামী লীগের পতনের পর আমাদের সামনে একটি ব্যতিক্রমী সুযোগ তৈরি হয়েছিল— রাষ্ট্র ও জাতিকে নতুনভাবে বিনির্মাণ করার। সুযোগ ছিল, কিন্তু আমরা তা কাজে লাগাতে পারিনি। আওয়ামী লীগের বিচার হওয়া উচিত ছিল স্বাধীন বিচার বিভাগের মাধ্যমে, স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায়। কিন্তু তার বদলে আমরা ঢুকে পড়েছি এক ধরনের স্থায়ী ফোবিয়ায়—‘আওয়ামী লীগ ফিরে আসছে’, ‘সব দোষ আওয়ামী লীগের’, ‘ভোট হলে তারা আবার ক্ষমতায় যাবে’। এই ভয় থেকেই দেশে তৈরি হয়েছে নব্য স্বৈরাচার, নব্য ফ্যাসিজম এবং একটি ভয়ংকর ভিকটিম সাইকোলজি। আজ যাদের বাদ দেওয়া হচ্ছে, তারাই একদিন প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে উঠবে—এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।”

    তিনি বলেন, “প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার গত ১৬–১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সাহসী ভূমিকা রেখেছে। শেখ হাসিনার সময় প্রথম আলো রাষ্ট্রীয় অনুকম্পা পায়নি, কিন্তু তখনও সেখানে আগুন দেওয়া হয়নি। অথচ ড. ইউনূসের সময় প্রথম আলোতে আগুন দেওয়া হলো। আমি পুরো ভিডিও দেখেছি। সেখানে স্পষ্ট রাষ্ট্রীয় ব্রেকডাউন দেখা যায়। পাঁচ মিনিটে ফোর্স পাঠানো সম্ভব ছিল, কিন্তু পাঠানো হয়েছে অনেক দেরিতে। ফোর্স এসে আবার সময় চায়—‘২০ মিনিট দেন’। এভাবে কি রাষ্ট্র চলে? এভাবে কি দেশ টিকে থাকে?”

    শামীম হায়দার পাটোয়ারী আরও বলেন, “আলাউদ্দিন খিলজির গল্প এখানে প্রাসঙ্গিক। তিনি মঙ্গোল আক্রমণের ভয়ে দিল্লিতে থাকা ৩০০ মঙ্গোলকে এক নির্দেশে হত্যা করেছিলেন। পরে দেখা গেল, আক্রমণই হয়নি। এই ভয়—‘ওরা আসবে’—এই ফোবিয়া থেকেই ইতিহাসে সবচেয়ে বড় গণহত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে। আজও আমরা সেই একই জায়গায় দাঁড়িয়ে আছি। সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা অর্গানিকভাবে হবে না। সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা স্বাভাবিকভাবে বা অর্গানিকভাবে হবে—এটা একটি বিভ্রম। সুষ্ঠু ভোট হলেই তৃতীয় লিঙ্গের কেউ সংসদে যাবে—এটা বাস্তব নয়। সুষ্ঠু ভোট হলেই আদিবাসী প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে—এটাও বাস্তব নয়। এর জন্য দরকার স্পেসিফিক ও কাঠামোগত ব্যবস্থা।”

  • এবার পূর্ব জেরুজালেমে ৩ হাজারের বেশি সেটলার-বাড়ি বানাচ্ছে ইসরায়েল

    এবার পূর্ব জেরুজালেমে ৩ হাজারের বেশি সেটলার-বাড়ি বানাচ্ছে ইসরায়েল

    প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের রাজধানী পূর্ব জেরুজালেমে ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ৩ হাজার ৪০১টি নতুন বাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করতে যাচ্ছে ইসরায়েল। এই নির্মাণকাজের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডারও আহ্বান করেছে ইসরায়েলের সরকার।

    ফিলিস্তিনের সরকারি সংস্থা ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের পক্ষ থেকে গতকাল বুধবার দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে বলা হয়েছে, পূর্ব জেরুজালে ই-ওয়ান এলাকায় নতুন বাড়িগুলো নির্মাণ করা হবে। এই এলাকাটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ইসরায়েরের মূল ভূখণ্ড থেকে পশ্চিম তীরের ইসরায়েলি শহর মারে আদুমিমে যাতায়াতের ক্ষেত্রে করিডোর হিসেবে কাজ করে ই-ওয়ান এলাকা।

    ফলে ই-ওয়ান এলাকায় বসতিস্থাপনকারীদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করা হলে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব আরও পাকাপোক্ত হবে।

    ইসরায়েলের ভূমি কর্তৃপক্ষ এই টেন্ডার আহ্বান করেছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের প্রধান মুআয়াদ শাবান তুরস্কের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তাসংস্থা আনাদোলু এজিন্সিকে বলেন, আন্তর্জাতিক চাপের কারণে পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব কার্যক্রম প্রায় ৩ দশক বন্ধ ছিল; কিন্তু গাজা যুদ্ধ সব ওলট-পালট করে দিয়েছে। ই-ওয়ান এলাকায় ইহুদি বসতি স্থাপনকারীদের বাড়ি নির্মাণ সংক্রান্ত এই প্রকল্পটি ইসরায়েলের মন্ত্রিসভায় পাস হয়েছিল ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে।

    প্রসঙ্গত, ১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় জাতিসংঘ ঘোষণা দিয়েছিল যে মধ্যপ্রাচ্যের আল আকসা অঞ্চলে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন নমের দুটি পৃথক স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে। আরও বলা হয়েছিল, গাজা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমের সমন্বয়ে গঠিত হবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র এবং এই রাষ্ট্রের রাজধানী হবে পূর্ব জেরুজালেম।

    ঐতিহাসিক শহর জেরুজালেম ২ অংশে বিভক্ত। এর পূর্বভাগটি পড়ে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশে এবং পশ্চিম ভাগ পায় ইসরায়েল। এই অংশটি শুধু জেরুজালেম নামে পরিচিতি পায়।

    ১৯৬৭ সালের আরব ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্ব জেরুজালেম দখল করে ইসরায়েল। তারপর থেকে এখনও এই শহর ইসরায়েলের দখলেই আছে।

    মুআয়াদ শাবান বলেন, “পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি জনসংখ্যা বৃদ্ধি ঠেকাতে তারা শহরটিকে ফিলিস্তিনের ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন করে পশ্চিম জেরুজালেমের সঙ্গে যুক্ত করতে চায়। তাদের সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই আবাসিক প্রকল্পের কাজ শুরু হচ্ছে।”

    প্রসঙ্গত, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে একটু একটু করে প্রস্তাবিত ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের ভূখণ্ড দখল করছে ইসরায়েল এবং গাজা উপত্যাকয় হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ এই দখলদারি কার্যক্রমে উল্লম্ফন ঘটিয়েছে। ওয়াল অ্যান্ড সেটলমেন্ট কমিশনের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের জন্য ১০ হাজার ৯৮টি বাড়ি নির্মাণের টেন্ডার পাস করেছে ইসরায়েল।