Author: তরঙ্গ টিভি

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুরে র‍্যাব -৫ এর অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুরে র‍্যাব -৫ এর অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ১

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর রেবের অভিযানে থানাধীন রহনপুর পৌরসভার ভটভটি স্ট্যান্ডে পাকা রাস্তার

    উপর হতে ৪৭ পিচ ইয়াবাসহ ০১ জন মাদক কারবারী গ্রেফতার করেছে র‍্যাব-৫, সিপিসি-১। উক্ত সংবাদের ভিত্তিতে আভিযানিক টহল দল চাঁপাইনবাবগঞ্জ গোমস্তাপুর থানাধীন রহনপুর পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ডস্থ নুনগোলা ভটভটি স্ট্যান্ডে জনৈক টুটুল এর চায়ের দোকানের সামনে পাকা

    রাস্তার উপর হতে একই তারিখ ৯ ঘটিকায় মাদক কারবারী চাঁপাইনবাবগঞ্জ নাচোল উপজেলায় কসবা উজিরপুর গোলাবাড়ী স্টেশনে মৃত কুসুমুদ্দিনের ছেলে মোঃ শাহীন (৪০) কে ৪৭ পিচ অবৈধ মাদক ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামী ও উদ্ধারকৃত আলামত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গোমস্তাপুর থানায় হস্তান্তর করা হয়

  • খালেদা জিয়ার স্মরণে পবিপ্রবিতে শোকসভা ও দোয়া মোনাজাত।।

    খালেদা জিয়ার স্মরণে পবিপ্রবিতে শোকসভা ও দোয়া মোনাজাত।।

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব), জিয়া পরিষদ, ছাত্রদল ও জাতীয়তাবাদী কর্মচারী পরিষদের উদ্যোগে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোক সভা ও দোয়া মোনাজাত

    অদ্য ৫ জানুয়ারি সকাল ১১ ঘটিকায় বিশ্ববিদ্যালয় টিএসসি কনফারেন্স কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউট্যাব এর সাংগঠনিক সম্পাদক ড. এ বি এম সাইফুল ইসলাম

    এর সঞ্চালনায় উক্ত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এর ইউ ট্যাবের সম্মানিত সভাপতি প্রফেসর ডঃ মোঃ মামুন অর রশিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য ও ইউট্যাব এর সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর ড. এস এম হেমায়েত জাহান।

    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল এন্ড ল্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অনুষদের ডিন প্রফেসর মোহাম্মদ জামাল হোসেন, জিয়া পরিষদের সভাপতি মোঃ আবুবকর সিদ্দিক, সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ ড. হাচিব মোহাম্মদ তুষার। শোক সভায় দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোঃ আব্দুল কুদ্দুস। শোক সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দেশবাসীর নিকট দোয়া কামনা করেন এবং তার যোগ্য উত্তরসূরী জনাব তারেক রহমানের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ বিনির্মাণে দেশবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।

  • শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলে  টানা শীতের দাপটে বিপাকে প্রান্তিক মানুষ

    শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলে টানা শীতের দাপটে বিপাকে প্রান্তিক মানুষ

    যশোরের শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলে টানা শীতের দাপটে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরপর দুই দিন দেশের সর্বনিম্ন রেকর্ডের পর তাপমাত্রা যৎসামান্য বাড়লেও শীতের দাপট কমেনি। বরং কুয়াশা ও হিমেল হাওয়ায় জনজীবন দূর্বিষহ হয়ে উঠছে।

    গতকাল রোববার (০৪ জানুয়ারি) যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে টানা শীতের দাপটে সবচেয়ে দুর্বিষহ অবস্থায় জীবনযাপন করছেন ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ।

    যশোর বিমান বাহিনীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
    এর আগে শনিবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আর শুক্রবার ভোরে যশোরে সর্বনিম্ন ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই তাপমাত্রা ছিল ৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। পরপর দু’দিনই এই তাপমাত্রা ছিল দেশের সর্বনিম্ন।

    এর আগে গত শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) ও শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল যশোরে। শুক্রবার ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও শনিবার ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়।

    আবহাওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ, ৪ দশমিক ১ ডিগ্রি থেকে ৬ ডিগ্রি সেলসিয়ামের মধ্যে নেমে আসলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রি সেলসিয়ামের নিচে নেমে গেলে তাকে অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়।

    উপজেলায় শনিবার রাত থেকেই কুয়াশার জাল ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। রোববার ভোরে ঘন কুয়াশায় ঢাকা ছিল প্রকৃতি। সকালে কুয়াশা ভেদ করে সূর্য উঠলেও ক্ষীণ আলো কুয়াশাকে ভেদ করে গায়ে উষ্ণতা জাগাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে কুয়াশা সরে যায়। রোদের দেখা মেলে। কিন্তু থেকে যায় শীতের আবহ। ফলে মানুষজনের স্বাভাবিক কর্মকান্ড ব্যহত হয়। মোটা জ্যাকেট, মাফলারে ঢেকে মানুষজনকে জুবুথুবু হয়ে পথ চলতে দেখা যায়। হাড় কাঁপানো শীতে ঘর থেকে বের হননি অনেকে। বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয়েছে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোকে। প্রতিদিন বেনাপোল বাজারে শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বহর বসলেও, তা কমে এসেছে। এখন সকাল- বিকেলে শীতের দাপট অনুভূত হচ্ছে। আর সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হচ্ছে অসহ্য শীতের কাঁপুনি। রাস্তায় ভ্যান অটো রিক্সা কম থাকায় অফিস থেকে ঘরে ফেরা মানুষগুলোর অনেককেই ধীর পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে দেখা যায়। রাত বাড়ার সাথে সাথে আরও বাড়ে শীতের তীব্রতা।

    উপজেলা বাগআচড়া এলাকার ইজিবাই চালক তবিবুর রহমান জানান, শীতে রিকসা চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে সকাল ও রাতে শীত ও বাতাসে শরীর অবশ করে দেয়। আর যাত্রীও পাওয়া যায় না। কিন্তু রোজগার না হলে তো খাবার জুটবে না। তাই গ্রাম থেকে আটো নিয়ে বাজার আসতে হচ্ছে।

    শার্শা এলাকার শ্রমিক ইজ্জত আলী বলেন গত চারদিন কাজ পাননি। শনিবার আধবেলা কাজে যে সামান্য টাকা পেয়েছেন, তা দিয়ে বাজারঘাট করে খাবার জুটেছে। কিন্তু আজ কী হবে তিনি জানেন না।

    এদিকে, প্রচন্ড শীতের কারণে শুধু গরম কাপড়ে শীত মোকাবেলা করা যাচ্ছে না। তাই কাঠের টুকরো, কাগজ কিংবা খড়কুটো জ্বালিয়ে গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ সবখানে আগুনের ওম নেওয়ার চেষ্টার দৃশ্য নজরে পড়ছে। আর ছিন্নমূলের মানুষগুলো বাজার, রেলস্টেশন, বাসটার্মিনাল,স্কুল, কলেজ অফিস- বারান্দায় রাত কাটানো জন্য জুবুথুবু পড়ে থাকতে দেখা যায়।

  • আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম হওয়া অন্তত ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম হওয়া অন্তত ২৫১ জন এখনো নিখোঁজ

    আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুমের শিকার ব্যক্তিদের রাখার এমন গোপন বন্দিশালার ছবি পরে প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

    গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে আওয়ামী লীগের দেড় যুগের শাসনকালে ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন। এর মধ্যে অন্তত ২৫১ জন ব্যক্তি এখনো নিখোঁজ। তাঁদের মৃত বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে।

    এর বাইরে গুম থাকার নির্দিষ্ট সময় পর আরও ৩৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এসব ব্যক্তির অনেকেই তথাকথিত ‘ক্রসফায়ারের’ শিকার হয়েছেন অথবা নদীতে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে ছিলেন। তদন্ত কমিশন বলছে, এখনো নিখোঁজ এবং মরদেহ উদ্ধারের এই ঘটনাগুলোর অর্থ হলো, কমিশনে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়া সীমিতসংখ্যক অভিযোগ থেকেও অন্তত ২৮৭টি মৃত্যু সরাসরি গুমের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

    গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। গতকাল রোববার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয় কমিশন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, সদস্য বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, নূর খান লিটন, নাবিলা ইদ্রিস ও সাজ্জাদ হোসেন।

    গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন বলছে, ১১৩টি অভিযোগ তদন্তের পর দেখা গেছে যে সেগুলো গুমের আইনি সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে না। কিছু ক্ষেত্রে কথিত অপরাধী কোনো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছিল না। অন্য কিছু ক্ষেত্রে আটকটি ছিল নিয়মিত গ্রেপ্তার, যেখানে হেফাজতের সময় ২৪ ঘণ্টার কম ছিল।

    তবে মোট গুমের সংখ্যা জমা পড়া অভিযোগের চেয়ে অনেক বেশি হবে বলে ধারণা করছে তদন্ত কমিশন। চূড়ান্ত প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, তারা যে ১ হাজার ৫৬৯টি স্বতন্ত্র অভিযোগ পেয়েছে, তা সম্ভবত প্রকৃত ঘটনার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ বা এক-চতুর্থাংশ। মোট ঘটনার ওপর ভিত্তি করে হিসাব করলে সম্ভাব্য গুমের সংখ্যা আনুমানিক ৪ হাজার থেকে ৬ হাজারের মধ্যে হতে পারে।

    কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, গুমের ঘটনাগুলোয় র‍্যাব, পুলিশ, ডিজিএফআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার নাম উঠে এসেছে। বছরভিত্তিক ও বাহিনীভিত্তিক অভিযোগ বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোট অভিযোগের প্রায় এক-চতুর্থাংশে র‍্যাবের সংশ্লিষ্টতার কথা বলা হয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গতকাল রোববার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন
    প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে গতকাল রোববার চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয় গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশনছবি: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সৌজন্যে

    কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে গুম হওয়া ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয়ও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়েছে, গুমের ঘটনাগুলো ব্যাখ্যা করার জন্য রাজনৈতিক পরিচয় বোঝা অপরিহার্য। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা কেবল এটাই প্রকাশ করে না যে কারা ঝুঁকির মুখে ছিল; বরং সুনির্দিষ্টভাবে লক্ষ্যবস্তু করে দমন-পীড়নের বিষয়টিও বোঝায়।

    কমিশন বলছে, গুম হওয়া মোট ব্যক্তিদের মধ্যে রাজনৈতিক পরিচয় ছিল ৯৬ দশমিক ৭ শতাংশের (৯৪৮ জন)। এর বাইরে ক্ষমতাসীন দল সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সংখ্যা ছিল সামান্য।

    প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুম হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ৪৭৬ জন (৫০.২%), ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩৬ (২৪.৯%), বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ১৪২ (১৫%), জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের ৪৬ (৪.৯%) এবং জাতীয়তাবাদী যুবদলের ১৭ জন (১.৮%)।

    কমিশন বলছে, এই ধরন নির্দেশ করে যে গুম ও সংশ্লিষ্ট নির্যাতনগুলো রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ ছিল না। এই ঘটনাগুলো বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে আনুপাতিক হারে বেশি ঘটেছে। জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী ছাত্রশিবির ও বিএনপির মধ্যে ভুক্তভোগীদের এই আধিক্য ইঙ্গিত দেয় যে এটি কোনো যথেচ্ছ পদক্ষেপ ছিল না; বরং নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আদর্শকে সুসংগঠিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল।

    প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুক্তভোগীদের একটি বড় অংশ ছিল ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্য। এসব ঘটনা নির্দেশ করে যে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় তরুণেরা বিশেষভাবে ঝুঁকির মুখে ছিল। এই পরিসংখ্যান রাজনৈতিক সংঘাতের সময়কাল, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং বিরোধী দলকে দমনের সময়ের সঙ্গে মিলে যায়।

    কমিশনের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, নিশ্চিত রাজনৈতিক পরিচয় থাকা নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর নেতা–কর্মী আছেন প্রায় ৬৮ শতাংশ। এ ছাড়া এখনো নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রায় ২২ শতাংশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের গুমের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা শেখ হাসিনা

    গুমের উদ্দেশ্য রাজনৈতিক, কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি নির্দেশদাতা শেখ হাসিনাগুম হয়েছেন ২৩ জন নারী

    কমিশনের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করে লিঙ্গভেদে দেখা যায়, ১ হাজার ৫৪৬ জন ভুক্তভোগীর মধ্যে ছিলেন পুরুষ (প্রায় ৯৮.৫ শতাংশ), আর নারী ছিলেন ২৩ জন (প্রায় ১.৫ শতাংশ)। এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দেয় যে গুমের লক্ষ্যবস্তু মূলত পুরুষেরাই ছিলেন, যা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, নিরাপত্তাঝুঁকি বা সামাজিকভাবে নির্ধারিত পুরুষের ভূমিকার সঙ্গে যুক্ত। তবে নারীদের গুম হওয়ার যে সংখ্যা এসেছে, তা প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

    কমিশন বলছে, পরিবারগুলো প্রায়ই নারী গুমের ঘটনার ক্ষেত্রে তীব্র সামাজিক কলঙ্ক, ভয় ও চাপের কথা বর্ণনা করেছে। অনেক ক্ষেত্রে নারীরা অভিযোগ জমা দিতে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাই নারী ভুক্তভোগীদের এই কম সংখ্যাটিকে নীরবতা ও অনিচ্ছার প্রেক্ষাপট দিয়ে বিচার করতে হবে। তা সত্ত্বেও নারী ভুক্তভোগীদের উপস্থিতি তাৎপর্যপূর্ণ এবং তাঁদের বিশেষ ঝুঁকি ও দুর্বলতার কারণে তা নিবিড় মনোযোগের দাবি রাখে।

    গুমের বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত চায় জাতিসংঘ, ঢাকায় তদন্ত কমিশনের সঙ্গে বৈঠক
    গুমের বিচারপ্রক্রিয়া ত্বরান্বিত চায় জাতিসংঘ, ঢাকায় তদন্ত কমিশনের সঙ্গে বৈঠক

    কোন বছরে কত গুম

    কোন বছরে কত গুম হয়েছে, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে কমিশনের বিশ্লেষণ একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরেছে। সেখানে দেখা যায়, গুমের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বা তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ফল নয়; বরং রাজনৈতিক চাপ, নির্বাচন, নিরাপত্তার সংকট ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া।

    কমিশনের তথ্য বলছে, ২০০৯ সালে গুমের ঘটনা ঘটেছে ১০টি, ২০১০ সালে ৩৪, ২০১১ সালে ৪৭, ২০১২ সালে ৬১, ২০১৩ সালে ১২৮, ২০১৪ সালে ৯৫, ২০১৫ সালে ১৪১, ২০১৬ সালে ২১৫, ২০১৭ সালে ১৯৪, ২০১৮ সালে ১৯২, ২০১৯ সালে ১১৮, ২০২০ সালে ৫১, ২০২১ সালে ৯৫, ২০২২ সালে ১১০, ২০২৩ সালে ৬৫ ও ২০২৪ সালে ৪৭টি।

    কমিশনের তথ্য বলছে, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় যাওয়ার পর ২০০৯ সাল থেকে গুমের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করে। ২০১২ সালের পর এই বৃদ্ধি তীব্র হয় এবং দশকের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত উচ্চমাত্রায় থাকে। ২০১৮ সালের পর সংখ্যায় কিছুটা হ্রাস দেখা যায়।

    কমিশন সতর্ক করে বলেছে, এই বছরভিত্তিক চিত্রকে চূড়ান্ত ঐতিহাসিক নথি হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বিশেষ করে ২০১২ সালের আগের সময়ের তথ্য প্রকৃত ঘটনার সর্বনিম্ন প্রতিফলন হতে পারে। কারণ, অনেক ভুক্তভোগী, যাঁরা পরে ফিরে এসেছেন, ভয় ও মানসিক আঘাতের কারণে কমিশনের কাছে অভিযোগই করেননি।

    কমিশনের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৩ সালে গুমের ঘটনায় বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়, যা ২০১৪ সালের জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট অস্থিরতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে ২০১৮ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও। এমনকি জাতীয় নির্বাচন না থাকলেও ২০২২ সালে রাস্তায় আন্দোলন ও সংঘাতের সময় গুমের সংখ্যা আবার বাড়তে দেখা যায়।

  • সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার ৫ দিনের রিমান্ডে

    সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদার ৫ দিনের রিমান্ডে

    বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর শাহবাগ থানার চাঁনখারপুল এলাকায় ঝুট ব্যবসায়ী মনির হত্যা মামলায় পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী দীপঙ্কর তালুকদারের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। 

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল মিয়ার আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

    এদিন তাকে আদালতে হাজির করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাইনুল ইসলাম খান পুলক তার ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। পরে আদালত তার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

    মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলন চলাকালে গত বছরের ৫ আগস্ট শাহবাগ থানার চানখারপুল এলাকায় ছাত্র-জনতার সঙ্গে আন্দোলনে অংশ নেন ক্ষুদ্র ঝুট ব্যবসায়ী মো. মনির। দুপুরে আসামিদের ছোঁড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রোজিনা আক্তার গত ১৪ মার্চ শাহবাগ হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় ৩৫১ জনকে এজাহারনামীয় ও ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়।

  • নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্য অনেক লুটতরাজ, অর্থ পাচারকারী বিভিন্ন অফিসে গিয়ে সেজদা দেওয়া শুরু করেছ

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর মন্তব্য অনেক লুটতরাজ, অর্থ পাচারকারী বিভিন্ন অফিসে গিয়ে সেজদা দেওয়া শুরু করেছ

    ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশকে সব অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরাধীনতা থেকে আজাদ করার লড়াই অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা-৮ আসনে জোট মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

    তিনি বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় আমাদের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল- আজাদীর জোট এবং গোলামীর জোট। আমরা দেখতে পেলাম অনেক লুটতরাজ, যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করেছিল, যারা আমাদের পকেটের টাকা কেটে জনগণের সঙ্গে অন্যায় করেছিল, তারা বিভিন্ন অফিসে গিয়ে সেজদা দেওয়া শুরু করে দিয়েছে। তখন আমরা চিন্তা করলাম, আগামীর যে নির্বাচন হবে সেখানে আমরা কি গোলামীর পক্ষে যাবো নাকি আজাদীর পক্ষে যাব? এজন্য আমরা আজাদীর জোট পছন্দ করেছি।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকাল পৌনে ৮টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে আজাদী পদযাত্রার পূর্বে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

    নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, আমাদের সংস্কৃতির, অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক পরাধীনতা রয়েছে। এ জন্য আমরা আজাদীর জোট পছন্দ করেছি। আমাদের ১১ দলীয় জোট বাংলাদেশের আজাদ করার জন্য আজাদীর যে লড়াই, এটা হলো চালিয়ে যাবে ইনশা আল্লাহ।

    তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির বিচার নিশ্চিত করা এবং হাদি যে আজাদীর লড়াই শুরু করেছিলেন তা সম্পন্ন করাই এখন আমাদের প্রধান কর্তব্য। ওসমান হাদির কবর জিয়ারতের পর তার আকাঙ্ক্ষা ধারণ করেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা থেকে আজাদী যাত্রা নতুন করে শুরু করা হয়েছে।

    নাসিরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা-৮ আসনের রমনা, শাহবাগ, মতিঝিল ও শাহজাহানপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে কোনো চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসী কার্যক্রম বা দখলদারিত্ব হলে জনগণকে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

    আজাদী পদযাত্রা নিয়ে নির্বাচনি আচরণবিধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২১ জানুয়ারির আগে আজাদী যাত্রায় কোনো প্রতীক বা ভোট চাওয়ার কার্যক্রম থাকবে না। আচরণবিধি প্রত্যাহারের পর নিয়ম মেনে প্রচারণা চালানো হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনকে দলীয় দাসত্ব থেকে বেরিয়ে জনগণের পক্ষে থাকার আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী বলেন, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা জরুরি। অন্যথায় গণতান্ত্রিক সংগ্রাম আরও জোরদার হবে।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং জাতীয় ছাত্রশক্তির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

  • অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি

    অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অবিলম্বে অব্যাহতির দাবি

    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থিতা বাছাইয়ে কিছু রিটার্নিং কর্মকর্তার নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরাম। একইসঙ্গে নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত যেসব কর্মকর্তার, বিশেষত রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের, নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে তাদেরকে অনতিবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়াসহ ৮টি দাবি জানিয়েছে ফোরামটি।

    সোমবার (৫ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সদস্য-সচিব ও সরকাটের সাবেক সচিব প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শরিফুল আলম।

    সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসন ক্যাডারসহ সরকারের বিভিন্ন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরপেক্ষ ভূমিকা অপরিহার্য। বিগত তিনটি নির্বাচন ব্যর্থ ও জালিয়াতিপূর্ণ হওয়ায় শাসক শ্রেণির পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন এবং সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের দায়ী করা হয়েছে।

    শরিফুল আলম বলেন, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রার্থিতা বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

    তিনি বলেন, প্রার্থিতা বাছাই নির্বাচন প্রক্রিয়ার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। এই ধাপেই যদি নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়, তাহলে পরবর্তী ধাপগুলোতে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করা কঠিন হয়ে পড়বে। অতীতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা হারানোর ফলে প্রভাবশালী দল ও প্রার্থীরা প্রশাসনকে প্রভাবিত করার সুযোগ পেয়েছে।

    সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যেসব রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের ভূমিকা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। টেকনিক্যাল ব্যাখ্যার আড়ালে প্রার্থিতা বাতিলের কারণে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিলগুলো খোলা মনে ও নিরপেক্ষভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। বিগত অগণতান্ত্রিক শাসনামলে রাজনৈতিক কর্মীরা মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হয়েছেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে আপিল নিষ্পত্তি করা উচিত।

    নির্বাচন কমিশনের কাছে অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের দাবিগুলো হচ্ছে- নির্বাচনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেসব কর্মকর্তা, বিশেষ করে রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের অবিলম্বে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া; নির্বাচনি আইন প্রয়োগে নির্বাচন কমিশনের কঠোর ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা নিশ্চিত করা; ভোট কারচুপি ও অনিয়ম রোধে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা; নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সবার নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা ও স্বতন্ত্র গাইডলাইন প্রকাশ করা; নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তদন্তসাপেক্ষে সঙ্গে সঙ্গে তাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার, অভিযোগ প্রমাণিত হলে পদোন্নতিতে প্রভাব ও প্রয়োজনে চাকরিচ্যুতির ব্যবস্থা নেওয়া।

    এছাড়া কেন্দ্রীয়ভাবে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযোগ বক্স স্থাপন ও ২/৩ দিন পরপর ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা; সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী, বিশেষ সহকারী ও চুক্তিভিত্তিক শীর্ষ কর্মকর্তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিতে হবে যে তারা পরবর্তী সরকারের অংশ হবেন না এবং নির্বাচনকালে দায়িত্ব পালনকারী জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ সুপার ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্বাচন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে লটারির মাধ্যমে অন্যত্র বদলি করতে প্রজ্ঞাপন জারি করা।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত বিসিএস অফিসার্স ফোরামের সভাপতি ও সাবেক সচিব মোহাম্মদ আব্দুল কাইয়ুম, সরকারের অবসরপ্রাপ্ত সচিব মোতাহার হোসেন, সাবেক সচিব রেজাউল করিম, সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবদুল কাইয়ুম।

  • পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা, সৃষ্টি হচ্ছে ৬ হাজার পদ

    পূর্বাচলে পুলিশের মেগা প্রজেক্টের পরিকল্পনা, সৃষ্টি হচ্ছে ৬ হাজার পদ

    রাজধানীর অদূরে পরিকল্পিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে ঘিরে দেশের ইতিহাসে পুলিশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো ও জনবল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পূর্বাচলকে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ে রূপান্তরে এই বিশাল প্রস্তাবনা এখন বাস্তবায়নের অপেক্ষায়।

    পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পূর্বাচল এলাকাকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় এনে সেখানে চারটি থানা, ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্সসহ একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ পুলিশ কাঠামো গড়ে তোলা হবে। এই বিশাল কাঠামো পরিচালনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির, যা একক কোনো প্রকল্পে পুলিশের ইতিহাসে নজিরবিহীন।

    স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পরিকল্পনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ভবিষ্যতে ৩০ থেকে ৪০ লাখ মানুষের বসবাস হতে পারে। এখানে থাকবে সরকারি আবাসন, কূটনৈতিক এলাকা, আন্তর্জাতিক মানের বাণিজ্যিক হাব, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান। এ কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ শাখা থেকে প্রস্তাবনায় শুরু থেকে এলাকাটিকে ডিএমপির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে এনে আধুনিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

    এক্ষেত্রে বলা হয়েছে, পূর্বাচলে অপরাধ প্রতিরোধ, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, জরুরি সাড়া এবং ভবিষ্যৎ সন্ত্রাসঝুঁকি মোকাবিলায় এই বিশাল পুলিশ অবকাঠামো অপরিহার্য। পুরো এলাকা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় আনতে প্রশাসনিক অনুমোদন আবশ্যক।

    প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পূর্বাচল নতুন শহরে গড়ে তোলা হবে পুলিশের একটি অপরাধ বিভাগ, একটি গোয়েন্দা বিভাগ, একটি ট্রাফিক বিভাগ, একটি পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, একটি পরিবহন বিভাগ, একটি পুলিশ লাইনস, একটি এমআইএস বা আইটি ইউনিট, দুইটি অপরাধ জোন, চারটি ট্রাফিক জোন, চারটি থানা, ৬টি পুলিশ ফাঁড়ি ও ৪১টি পুলিশ বক্স। এই বিশাল কাঠামোর জন্য ডিএমপির সাংগঠনিক কাঠামোতে ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃজন এবং বিপুলসংখ্যক যানবাহন টিওঅ্যান্ডইভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।

    এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পকে শুরু থেকেই একটি পরিকল্পিত ও নিরাপদ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রস্তাবনা দেওয়া হয়েছে। রাজউকের মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী ভবিষ্যতে এখানে বিপুল জনসংখ্যার বসবাস হবে। সেই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এলাকাটিকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) আওতায় এনে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ কাঠামো গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে।”

    তিনি বলেন, এই কাঠামোর জন্য বিভিন্ন পদমর্যাদায় মোট ৬ হাজার ৫২৪টি নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি প্রস্তাবনায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রস্তাবটি বর্তমানে প্রশাসনিক পর্যায়ে পর্যালোচনার প্রক্রিয়ায় আছে। অনুমোদন পেলে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন হবে।

  • মানিকগঞ্জে ২৭ জন  মনোনয়ন পত্রের মাঝে ১৮ জন স্বীকৃতি ৯ জন বাদ

    মানিকগঞ্জে ২৭ জন মনোনয়ন পত্রের মাঝে ১৮ জন স্বীকৃতি ৯ জন বাদ

    কিছু দিন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে মানিকগঞ্জ জেলার ৩ টি আসন থেকে মোট ২৭ জন মনোনয়ন পত্র জমা দেয়।

    আজ সে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষ দিন। মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষ মোট ৯ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়। মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার নাজমুল আরা সুলতানা সভাপতিত্বে, সকাল থেকে যাচাই বাছাই কাজ শুরু হয়। যাচাই বাছাই শেষে, মোট ২৭ জন মনোয়ন পত্রের মধ্যে থেকে ৯ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল বলে ঘোষণা করে। আর ১৮ জনের মনোনয়ন পত্র জমা রাখেন বা স্বীকৃতি পায় । বাতিল মনোনয়ন পত্র গুলো হলো।
    মানিকগঞ্জ ১ আসনের সংসদ, ১) মো শাহজাহান খান তিনি জনতার দলের প্রার্থী, ২) আবদুল আলী ব্যাপারি স্বতন্ত্র প্রার্থী।
    মানিকগঞ্জ ২ আসনের সংসদ ১) এস এম আবদুল মান্নান সাবেক এমপি জাতীয় পার্টি, ২) আব্দুল আলী মোল্লা স্বতন্ত্র প্রার্থী, ৩) আবিদুর রহমান খান রোমান স্বতন্ত্র প্রার্থী।
    মানিকগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ ১) মো আতাউর রহমান আতা স্বতন্ত্র প্রার্থী,,২) মো রফিকুল ইসলাম জনি এবি প্রার্থী, ৩) ফারুক হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী, ৪) ড: রফিকুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র প্রার্থী।
    স্বীকৃতি প্রার্থীরা হলেন মানিকগঞ্জ ১ আসনের সংসদ বিএনপি এস এ জিন্নাহ কবীর, ২) জামায়াতে ইসলামী ডা: আবু বকর সিদ্দিক, ৩) স্বতন্ত্র মো মোজাম্মেল হক তোজা, ৪) বাংলাদেশ মাইনরিটি কমিউনিটির দিলীপ কুমার দাস, ৫) ইসলামী আন্দোলন মো খোরশেদ আলম, ৬) গন অধিকার আন্দোলন মো ইলিয়াস হোসেন, ৭) খেলাফত মজলিস হেদায়েত উল্লাহ।
    মানিকগঞ্জ ২ আসনের সংসদ ১) বিএনপি ও সাবেক এমপি ইন্জিনিয়ার মইনুল ইসলাম শান্ত, ২) খেলাফত মজলিস মো সালাউদ্দিন, ৩) ইসলাম আন্দোলন মোহাম্মদ আলী।
    মানিকগঞ্জ ৩ আসনের সংসদ ১) বিএনপি আফরোজা খানম রিতা, ২) জামায়াতে ইসলামী মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন, ৩) জেপির আবুল বাশার বাদশা, ৪) জাতীয় পার্টি মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলস ৫) ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশ শামসুদ্দিন, ৬)বাংলাদেশ জাসদ মো শাহজাহান আলী, ৭) স্বতন্ত্র মফিজুল ইসলাম খান কামাল, ৮) খেলাফত মজলিস মো সাঈদ নূর।
    পরে সকল স্বীকৃত প্রার্থীদের পরবর্তী নিয়ম ও কাজ সঠিক ভাবে অনুসরণ করতে বলা হ

  • ডব্লিউইএফ এর উদ্যোগে গরীব ও শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ।

    ডব্লিউইএফ এর উদ্যোগে গরীব ও শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায়, উইমেন এমপাওয়ারমেন্ট ফাউন্ডেশন – ডব্লিউইএফ এর উদ্যোগে ও হিউম্যান রিলিফ বাংলাদেশ এর সহযোগিতায় দুমকিতে দেড় শতাধিক গরীব, অসহায় শীতার্তদের মধ্যে কম্বল বিতরণ করা হয়েছে।রবিবার (৪জানুয়ারি) দুপুর ১২ টায় দুমকি ডব্লিউইএফ কার্যালয় চত্বরে এ কম্বল বিতরণ করা হয়।
    ডব্লিউ ইএফ এর নির্বাহী পরিচালক পারভিন আরা বেগম এর সভাপতিত্বে কম্বল বিতরণ অনুষ্ঠানে, প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছাঃ ফরিদা সুলতানা।
    পল্লী সেবা সংঘের পরিচালক হোসাইন আহমদ কবির হাওলাদারের সঞ্চালনায়
    বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুমকি উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহ. অলিউল ইসলাম, ডব্লিউইএফ এর প্রতিষ্ঠাতা একেএম হারুন অর রশিদ। মোঃ কামাল হোসেন।
    এসময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের দেড় শতাধিক বয়স্ক অসহায় গরীব শীতার্ত নারী পুরুষের মধ্যে কম্বল বিতরন করা হয়।।