Author: তরঙ্গ টিভি

  • শরীয়তপুর ডামুড্যা ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস হত্যার ৩ আসামী গ্রেফতার।

    শরীয়তপুর ডামুড্যা ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস হত্যার ৩ আসামী গ্রেফতার।

    শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী খোকন দাস হত্যার ঘটনায় ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব।

    রোববার প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর বলছে র‍্যাব-১৪, সিপিসি-২, কিশোরগঞ্জ ক্যাম্পের একটি দল কোম্পানি কমান্ডার এএসপি শাহজাহানের নেতৃত্বে শনিবার রাত ১টায় কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর এলাকা তাদের গ্রেপ্তার করে।
    উল্লেখ্য ৩ আসামি হলেন- কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
    শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার রওনক জাহান জানিয়েছেন, মারা যাওয়ার আগে খোকন দাস এই তিন জনের নাম বলে গেছেন।
    তিনি বলেন, “গ্রেপ্তারকৃতরা স্থানীয়ভাবে বখাটে হিসেবে পরিচিত। তারা নানা ধরনের মাদক সেবন করে বলেও জানা যায়।”
    ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই বাজারের কাছে বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে খোকন চন্দ্র দাসকে কুপিয়ে পিয়ে ও শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয় বলে জানান শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন তিনি বলেন বলেন ভিকটিম খোকন চন্দ্র দাস মারা যাবার আগে আসামিদের নাম বলে দিয়েছেন ।
    খোকন চন্দ্র দাস (৪৫) তিলই এলাকার পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। স্থানীয় বাজারে তিনি ওষুধ ও বিকাশের এজেন্টের ব্যবসা করতেন।
    মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছিলেন চিকিৎসক। এরপর শনিবার সকাল ৮টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় খোকন চন্দ্র দাস মারা যান।
    এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে খোকন দাসের বাবা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন মৃত খোকন চন্দ্র দাসের পরিবার ও স্থানীয় লোকজন

  • যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যায় জামাই পরশসহ দুজন আটক

    যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যায় জামাই পরশসহ দুজন আটক

    যশোরে বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিদের মধ্যে তার জামাই বাসেদ আলী পরশ ও আমিনুল ইসলাম সাগরকে আটক করেছে পুলিশ। রোববার বেলা সাড়ে ১২টায় কোতোয়ালি থানার পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান।

    পুলিশ সুপার জানান, জামাই পরশের শ্বশুরের সম্পত্তি ও গাড়ির প্রতি লোভ এবং মেয়ের প্রতি দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে হত্যার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এছাড়া আমিনুল ইসলাম সাগরের সঙ্গেও আলমগীরের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ ছিল। তাদের দুজনের পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। তবে কেউ সরাসরি হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি।

    এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় জামাই পরশ ও আমিনুল ইসলাম সাগরসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। আটক আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে পুলিশ জানায়।

    উল্লেখ্য, গত শনিবার সন্ধ্যায় যশোর শহরের শংকরপুর এলাকায় মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার সময় পাশ থেকে আসা আরেকটি মোটরসাইকেলে থাকা সন্ত্রাসীরা আলমগীর হোসেনকে মাথায় গুলি করে দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে মূল আসামিসহ অন্যান্যদের গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে।

  • যুক্তরাজ্যে প্রবাসী নূরুল আমিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জেএসডি পদপ্রার্থী

    যুক্তরাজ্যে প্রবাসী নূরুল আমিন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জেএসডি পদপ্রার্থী

    নিউজ পোর্টাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন এবং আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের উপদেষ্টা দীর্ঘদিন ইটালী প্রবাসী বর্তমানে যুক্তরাজ্যের লন্ডন প্রবাসী নূরুল আমিন এয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল(জেএসডি)মনোনিত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি দীর্ঘদিন ইটালি থাকাকালীন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক,পেশাজীবী সংগঠনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন ।তিনি বহু প্রবাসী বাংলাদেশীসহ অন‍্যান‍্য মানুষের কল্যাণে নিবেদিত ভাবে কাজ করেছেন ।তিনি একজন প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেবক হিসেবে জনগণের সেবা করার লক্ষ্যে এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।খবর আইবিএননিউজ ।
    ​তিনি কেবল একজন প্রবাসী নন; তিনি দীর্ঘ প্রবাস জীবনে ইটালী বর্তমানে লন্ডনসহ আন্তর্জাতিক কর্মপরিবেশে কাজ করার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা এবং সফলতা অর্জন করেছেন। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, প্রবাস জীবনে অর্জিত এই বৈশ্বিক জ্ঞান, কর্মদক্ষতা এবং নেতৃত্বের গুণাবলীকে তিনি তাঁর নির্বাচনী এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সফলভাবে কাজে লাগাতে পারবেন।

    ​নূরুল আমিন এর রাজনৈতিক ও সামাজিক ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ়। ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন, যা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পৃক্ততা এবং জনগণের প্রতি তাঁর লড়াকু মানসিকতার প্রমাণ দেয়।
    এই অভিজ্ঞতা তাঁকে স্থানীয় সমস্যাগুলো গভীর থেকে অনুধাবন করতে সাহায্য করে।

    নুরুল আমিন এর প্রবাস জীবনের সুদূরপ্রসারী অভিজ্ঞতা এবং ছাত্ররাজনীতির নির্ভীক, লড়াকু মানসিকতার এক অনন্য সমন্বয়।
    তিনি নিজেকে ঢাকা-১৪ আসনের জনগণের কাছে এমন একজন যোগ্য প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করছেন, যিনি প্রগতিশীল চিন্তা ও স্থানীয় রাজনৈতিক ভিত্তির মাধ্যমে এই এলাকার উন্নয়নে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে সক্ষম।
    ​ঢাকা-১৪ আসনের জনগণের জন্য একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ নির্মাণে তিনি অঙ্গীকারবদ্ধ। নূরুল আমিন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা কারার সিদ্ধান্তের জন‍্য নিউজ পোর্টালে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন এবং আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক হাকিকুল ইসলাম খোকন ও আমেরিকান প্রেসক্লাব অব বাংলাদেশ অরিজিনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক হেলাল মাহমুদ,নিউজ পোর্টাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আরিফুর রহমান আরিফ এবং জেএসএফ- বাংলাদেশ এর সংগঠক হাজী আনোয়ার হোসেন লিটন এক বিবৃতিতে অভিনন্দন জানিয়েছেন

  • তিব্র শীতের কারণে জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তন

    তিব্র শীতের কারণে জীবন ব্যবস্থার পরিবর্তন

    তিব্র শীত ও ঘন কুয়াশার কারণে সাধারণ মানুষের জীবন ব্যবস্থা পরিবর্তন হয়ে গেছে।

    সাধারণ খেটেও খাওয়া মানুষ গুলো বিভিন্ন পেশা বেছে নিচ্ছে। যারা রিক্রাশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত, তারা এখন রাস্তার মোরে বিভিন্ন রকমের ছোট দোকান দিয়ে বসে পড়ছে।

    যেমন কেউ শীতের পোশাক বিক্রি করে, শীতকালিন সবজি বিক্রি করছে, কেউ পিঠার তৈরি করে বিক্রি করছে, অনেকে আবার ঝালমুরীর দোকান দিয়েছে। শীত আসলে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকার ধরন পালটিয়ে যায়। বর্তমানে মানিকগঞ্জ শহরের অলি গলি তে দেখা যায় বিভিন্ন পিঠার দোকান। ঐ সব পিঠার দোকানে তৈরি হয় তিন ধরনের পিঠা, তবে ক্রেতার চাহিদা অনুযায়ী বিভিন্ন পিঠা তৈরি করে দেওয়া হয়।

    সাধারণ তো অনেক পরিবারের লোকজন কম, তাই পিঠা তৈরি করতে মনে চায়না। তার ঐসব পিঠা দোকান দার দের কাছ থেকে পাইকারি কিনে নিয়ে যায়।

    এছাড়াও ঘূরতে বের হলে ঝালমুরি তো খেতে হবে। সাধারণ মানুষের পরিবার সদস্য মিলে শীতের সময় বাড়ি হাল ধরে, বিভিন্ন ভাবে অর্থ উপার্জনের মাধ্যমে।

    কিছু কিছু মানুষ যেমন নিজ কর্ম ছেড়ে নতুন কর্ম বেছে নিচ্ছে,আবার কিছু কিছু মানুষ কর্ম না থাকার কারণে অপরাধের পথ বেছে নিচ্ছে। রাতের আঁধারে চুরি, ছিনতাই, মত কাজ করছে।

    শীত তীব্র মানুষ কে সুন্দর কিছু শিক্ষা দেয়। তেমন অনেক কষ্টের মাঝে বিপদ ডেকে আনে। ঋতু পরিবর্তন সাথে সময় ও প্রকৃতি যেমন পরিবর্তন হয় তেমন মানুষ ও তার অবস্থান পরিবর্তন করে আর করবে

  • যশোরে বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

    যশোরে বিএনপি নেতা নিহতের ঘটনায় সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

    যশোরে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেন (৫৫) এর হত্যাকারীরা যাতে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষে যশোর সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

    শনিবার (৩ জানুয়ারী) সন্ধ্যা ৭টার দিকে যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার সাবেক কাউন্সিলর নয়নের অফিসের সামনে দুর্বৃত্তদের গুলিতে আলমগীর হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়ায় ঘটনার পর পরই যশোর সীমান্ত এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়ন।

    এই ঘটনায় জড়িত পলাতক আসামিরা যেন বাংলাদেশ থেকে ভারতে পালিয়ে যেতে না পারে, সে লক্ষ্যে যশোর সীমান্তে ব্যাপক নজরদারি ও অতিরিক্ত চেকপোষ্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

    বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই, সেগুলো কার্যত সিলগালা করা হয়েছে। একই সঙ্গে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

    এ ব্যাপারে যশোর ৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানান, আলমগীর হোসেন নিহতের ঘটনায় জড়িত আসামীরা যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে পালাতে না পারে, সে জন্য বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। সীমান্তের প্রতিটি পয়েন্টে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার রয়েছে।

  • বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের ইঙ্গিত দুই উপদেষ্টার

    বাংলাদেশে আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের ইঙ্গিত দুই উপদেষ্টার

    মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি কলকাতা নাইট রাইডার্স থেকে বাদ দেওয়ার ঘোষণায় ক্রিকেটীয় সম্পর্কেরও অবনতি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের। যা নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন টাইগার ক্রিকেট ভক্তরা। যেখানে ভারতের মাটিতে বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার পাশাপাশি আইপিএল বয়কটের ডাক দিচ্ছেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, আইপিএলের সম্প্রচার বন্ধের ইঙ্গিত দিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই উপদেষ্টা।

    এর আগে আইপিএলের ৮ আসরে ৫টি দলের হয়ে খেলেছেন মুস্তাফিজ। কিন্তু এবার ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী নেতাদের বিক্ষোভের মুখে ৩০ বছর বয়সী এই তারকার জন্য আইপিএলের দরজা বন্ধ হয়ে গেছে। প্রথমে কট্টর সংগঠনগুলো আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে, এরপর বিসিসিআইয়ের নির্দেশনা মেনে সেই পথে হেঁটেছে কলকাতা। যদিও তারা এবারই প্রথম বাংলাদেশি এই তারকাকে ৯.২০ কোটি রুপিতে কিনেছিল।

    মুস্তাফিজকে আইপিএলের স্কোয়াড থেকে বাদ দেওয়া নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। গতকাল (শনিবার) এক ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর কাছে নতি স্বীকার করে বাংলাদেশের ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দিয়েছে ভারতের ক্রিকেট বোর্ড। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’

    ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিয়ে তার অভিমত– ‘ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে আমি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডকে (মূলত বিসিবি) বলেছি, তারা যেন আইসিসির কাছে পুরো বিষয়টি ব্যাখ্যা করে লেখে। বোর্ড যেন জানিয়ে দেয় যে, যেখানে বাংলাদেশের একজন ক্রিকেটার চুক্তিবদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ভারতে খেলতে পারেন না, সেখানে বাংলাদেশের গোটা ক্রিকেট টিম বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়া নিরাপদ মনে করতে পারে না। বোর্ড থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপের খেলাগুলো শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত করার অনুরোধ জানানোর নির্দেশনাও আমি দিয়েছি।’

    এ ছাড়া বাংলাদেশে আইপিএল সম্প্রচারও বন্ধ করতে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ আসিফ নজরুলের, ‘আমি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীকে অনুরোধ করেছি, বাংলাদেশে যেন আইপিএল খেলার সম্প্রচারও বন্ধ করে দেওয়া হয়! আমরা কোনো অবস্থাতেই বাংলাদেশের ক্রিকেট, ক্রিকেটার ও বাংলাদেশকে অবমাননা মেনে নেব না।’পরবর্তীতে একই বিষয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে অবগত করার কথা জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরোয়ার ফারুকি, ‘আপনারা যারা আমাকে উদ্দেশ‍্য করে বাংলাদেশে সব রকম প্লাটফর্মে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করতে বলছেন, তাদের প্রতি আমার বিনীত উত্তর– এটা আসলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিষয়। আমি আপনাদের এই উদ্বেগের বিষয় তথ‍্য উপদেষ্টা মহোদয়কে জানিয়েছি।’

    এ ছাড়া মুস্তাফিজকে দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘ন্যাক্কারজনক’ অভিহিত করে তিনি লিখেছেন, ‘আইপিএলে মুস্তাফিজকে নিয়ে যা হয়েছে সেটা ন‍্যাক্কারজনক। এর মধ্যে বাংলাদেশের নাগরিকেরা ঘৃণার রাজনীতি দেখতে পেয়েছেন এবং ব‍্যথিত হয়েছেন। আপনারা জানেন গত কিছুদিন ধরে ভারতে সংখ্যালঘু মানুষের ওপর নির্যাতনের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে উদ্বেগ জানিয়েছে। এই ঘটনাও একই মোটিভ দ্বারা প্রভাবিত কি না সেটা নিশ্চয়ই সংশ্লিষ্ট মহল খতিয়ে দেখবে। ভবিষ্যতে আমাদের ক্রিকেট বা ফুটবল টিম সেখানে কতটা নিরাপদ এটাও দেখা হবে নিশ্চয়ই।

  • তথ্য উপদেষ্টা আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাবের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে

    তথ্য উপদেষ্টা আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের প্রস্তাবের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে

    ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) সম্প্রচার বাংলাদেশে বন্ধ রাখার প্রস্তাবের আইনগত ভিত্তি পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। প্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করার পরে একটি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

    রোববার (০৪ জানুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে ‘বিএসআরএফ মতবিনিময়’ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

    সচিবালয় বিট কাভার করা সাংবাদিকদের সংগঠন ‘বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম’ (বিএসআরএফ) এ মতবিনিময়ের আয়োজন করেছে।

  • কালো অধ্যাদেশ’ বাতিলের দাবি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীদের

    কালো অধ্যাদেশ’ বাতিলের দাবি ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসায়ীদের

    ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার স্বার্থবিরোধী ‘ট্রাভেল এজেন্সি নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ-২০২৬’ বাতিলের জোর দাবি জানিয়েছেন এই খাতের শীর্ষ নেতা ও ব্যবসায়ীরা। তারা এই অধ্যাদেশকে ‘কালো অধ্যাদেশ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।

    রোববার (৪ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম হলে ‘আটাব সদস্য কল্যান ঐক্য জোট’ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

    সংবাদ সম্মেলনে আটাবের সাবেক সভাপতি মনজুর মোর্শেদ মাহবুব বলেন, নতুন অধ্যাদেশের একাধিক ধারা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসার পরিপন্থি। এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে দেশে প্রায় পাঁচ হাজার ট্রাভেল এজেন্সি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে এই অধ্যাদেশের গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। এতে সংযোজিত কয়েকটি ধারা, উপধারা ও দফা ট্রাভেল এজেন্সি ব্যবসাকে কার্যত অচল করে দেবে।

    তিনি উল্লেখ করেন, ২০১৩ সালের ৬১ নম্বর আইনের ধারা ৪-এর উপধারা (খ)-এর দফা (ঙ) অনুযায়ী হলফনামায় অন্য কোনো ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রায় ৫ হাজার ৮০০ ট্রাভেল এজেন্সির মধ্যে মাত্র ৮০০টি আন্তর্জাতিক বিমান পরিবহন সংস্থা ‘আয়াটা’-এর সদস্য। বাকি প্রায় পাঁচ হাজার এজেন্সির নিজস্বভাবে এয়ারলাইনস টিকিট ইস্যুর সক্ষমতা নেই। অন্য এজেন্সি থেকে টিকিট কিনতে না পারলে তারা যাত্রীসেবা দিতে পারবে না এবং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় বার্ষিক ৫০ লাখ টাকার বিক্রয় বিবরণী দেখাতেও ব্যর্থ হবে।

    মনজুর মোর্শেদ মাহবুব বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৪-এর উপধারা (গ)-এর দফা (ছ)-এ অফলাইন ট্রাভেল এজেন্সির জন্য ১০ লাখ টাকা ব্যাংক গ্যারান্টির বিধান রাখা হয়েছে। আর্থিক সামর্থ্যের অভাবে যেসব এজেন্সি আয়াটা সদস্য হতে পারেনি, তাদের পক্ষে ১০ লাখ টাকা জামানত দেওয়া সম্ভব নয়।

    এ ছাড়া একই ধারায় ট্রাভেল এজেন্সির ঠিকানায় রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবসা পরিচালনা নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো বিদেশগামী অভিবাসী কর্মীদের সেবা সহজ করতে একই ঠিকানায় ট্রাভেল এজেন্সি পরিচালনা করছে। পৃথক অফিস বাধ্যতামূলক হলে খরচ বাড়বে, যার প্রভাব পড়বে অভিবাসী কর্মীদের ব্যয়ের ওপর।

    সংবাদ সম্মেলনে শুনানি ছাড়াই লাইসেন্স স্থগিতের বিধান নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। আটাবের সাবেক সভাপতি বলেন, অধ্যাদেশের ধারা ৯-এর উপধারা (আ)-এর নতুন দফা ৩ অনুযায়ী শুনানি ছাড়াই সরকার সাময়িকভাবে নিবন্ধন সনদ স্থগিত করতে পারবে। এতে এজেন্সিগুলো হয়রানির শিকার হবে। যেকোনো সিদ্ধান্তের আগে তাঁরা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দাবি করেন।

    একই সঙ্গে নতুন অধ্যাদেশে শাস্তির মেয়াদ ও জরিমানা বৃদ্ধির বিরোধিতা করে জানানো হয়, ধারা ১১-এর উপধারা ১ অনুযায়ী সাজা ৬ মাসের কারাদণ্ড থেকে বাড়িয়ে ১ বছর এবং জরিমানা ৩ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যবসায়ীরা আগের মতো ৬ মাসের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ টাকা জরিমানার বিধান বহাল রাখার আহ্বান জানান।

    সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন আটাব সদস্য কল্যাণ ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন টিপুসহ অন্যান্য নেতা ও ব্যবসায়ীরা।

  • মনোনয়নপত্র বাতিল, সপরিবারে দেশ ছাড়ার ঘোষণা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

    মনোনয়নপত্র বাতিল, সপরিবারে দেশ ছাড়ার ঘোষণা স্বতন্ত্র প্রার্থীর

    ১ শতাংশ ভোটারের তথ্যে অসংগতি ও গরমিলের কারণে কক্সবাজার সদর, রামু ও ঈদগাঁও উপজেলা নিয়ে গঠিত কক্সবাজার-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মোহাম্মদ ইলিয়াছ মিয়ার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। 

    শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকালে কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আসনটির মনোনয়ন যাচাই-বাছাই অনুষ্ঠিত হয়। জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান স্বতন্ত্র প্রার্থী  ইলিয়াছ মিয়ার মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। সেখানে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ হয়েছে।

    প্রার্থিতা বাতিলের পর মানবাধিকার ও পরিবেশ কর্মী হিসেবে পরিচিত এই তরুণ নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে
    এক পোস্টে দেশ ছেড়ে পরিবারসহ কানাডা চলে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

    ইলিয়াছ মিয়া লিখেছেন, ‘পরিবার সমেত দেশ ছেড়ে কানাডা চলে যাব এই মাসের মধ্যে। ভালো থেকো বাংলাদেশ। আর পারলাম না। বড্ড ক্লান্ত!’

    মনোনয়ন বাতিল হলেও তফসিল অনুযায়ী ৫ জানুয়ারি থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রয়েছে।নির্বাচন করছেন না জানিয়ে তিনি বলেন, আমার মনোনয়ন প্রশাসন বাতিল করেছে। সিদ্ধান্ত নিয়েছি ইলেকশন করব না, বিদেশ চলে যাব। দেশ যেভাবে চলছে সেভাবে চলুক, গোলামি আমাদের গলার মালা।

    স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়ন বাতিল প্রসঙ্গে কক্সবাজার নাগরিক আন্দোলনের সদস্য সচিব এইচ এম নজরুল ইসলাম বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১% ভোটারের স্বাক্ষর নেওয়ার যে সিস্টেম, যে সংস্কৃতি চালু রয়েছে- এটি যতদিন থাকবে ততদিন মাফিয়া চক্রের সদস্য ছাড়া অন্য কেউ নির্বাচন করার সাহস শক্তি পাবে না।

    জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের জানান, জেলার ৪ টি আসনে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন ২৩ জন প্রার্থী। যাদের মধ্যে ১৮ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। মনোনয়ন বাতিল হওয়া ৫ প্রার্থী নির্বাচন কমিশনে আপিল করতে পারবেন।

  • খুলনায় বিএনপি প্রার্থীদের হলফনামা  সম্পদ বেশি লবীর, কম মঞ্জুর আলোচনায় হেলাল ও বকুল

    খুলনায় বিএনপি প্রার্থীদের হলফনামা সম্পদ বেশি লবীর, কম মঞ্জুর আলোচনায় হেলাল ও বকুল

    আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গন এখন সরগরম।

    বিশেষ করে খুলনার ৬টি সংসদীয় আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীদের জমা দেওয়া হলফনামা ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে কৌতূহলের শেষ নেই। প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতা, পেশা, মামলার সংখ্যা এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খতিয়ান বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে এক ভিন্ন চিত্র। কেউ যেমন সম্পদের পাহাড় গড়েছেন, কেউ আবার মামলার ভারে ন্যুব্জ। কারও নিজের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদ বেশি, আবার কেউ কোটিপতি হয়েও মাথায় বয়ে বেড়াচ্ছেন বিশাল ঋণের বোঝা।

     

    খুলনার এই ৬ প্রার্থীর হলফনামা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, অধিকাংশ প্রার্থীই উচ্চশিক্ষিত এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। তবে রাজনৈতিক কারণে মামলার জালে বন্দি প্রায় সবাই। বিশেষ করে খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী আলী আজগর লবীর রয়েছে বিশাল অঙ্কের সম্পদ এবং খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী রকিবুল ইসলাম বকুলের স্ত্রীর নামেও অনেক সম্পদ। সব থেকে আয় কম খুলনা-২ আসনের প্রার্থী সাবেক সংসদ-সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জুর এবং মামলায় এগিয়ে খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী আজিজুল বারী হেলাল।

     

    খুলনা-১ আসনের প্রার্থী আমীর এজাজ খানের আয়ের প্রধান উৎস ‘অন্যান্য খাত’ : খুলনা-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আমীর এজাজ খান শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিএ পাশ। পেশায় ব্যবসায়ী এই নেতার বিরুদ্ধে বর্তমানে ১৩টি মামলা রয়েছে। তার হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় মাত্র ৪ হাজার ৮০০ টাকা হলেও ‘অন্যান্য উৎস’ থেকে তিনি বছরে আয় করেন ৪০ লাখ ৩৪ হাজার ৭০০ টাকা। তার নিজের নামে নগদ ও ব্যাংকে ৬১ লাখ টাকা থাকলেও ৮৫ লাখ টাকার এফডিআর রয়েছে। তার অস্থাবর সম্পদের মোট মূল্য ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। তবে সম্পদের সঙ্গে সঙ্গে তার ৪৭ লাখ ৪৯ হাজার টাকার ব্যাংক ঋণও রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৮টি দোকান ও কৃষিজমি উল্লেখযোগ্য।

    খুলনা-২ আসনের প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু সাদামাটা ও ঋণমুক্ত : বর্ষীয়ান রাজনীতিক মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ-সদস্য নজরুল ইসলাম মঞ্জু খুলনা-২ আসনে দলের হাল ধরেছেন। এলএলবি পাশ এই নেতার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা রয়েছে। পেশায় ব্যবসায়ী হলেও তার বার্ষিক আয় ও সম্পদের পরিমাণ অন্য প্রার্থীদের তুলনায় বেশ কম। বছরে তার আয় ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমা মিলিয়ে তার ১৭ লাখ টাকা রয়েছে। তার ২৪ লাখ টাকার একটি যানবাহন থাকলেও কোনো ব্যাংক ঋণ নেই। ১ কোটি ১০ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের মালিক এই নেতা রাজনৈতিকভাবে বেশ সক্রিয় থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পদে নিজেকে অনেকটাই সংযত রেখেছেন।

    খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী বকুলের নিজের চেয়ে স্ত্রীর সম্পদই বড় শক্তি : খুলনা-৩ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলের হলফনামা যেন এক চমকের নাম। এমবিএ পাশ এই নেতার নামে ১২টি মামলা থাকলেও ব্যক্তিগত অস্থাবর সম্পদ ১৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার। অথচ তার স্ত্রী শামীমা পারভীনের (যিনি একজন পুলিশ কর্মকর্তা) নামে রয়েছে বিপুল সম্পদ। বকুলের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদের বাজার মূল্য ১ কোটি ৭৪ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার ওপরে। অর্থাৎ বকুলের চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদের পরিমাণ বহুগুণ বেশি। বকুলের নিজস্ব সম্পদের মধ্যে পৈতৃক সূত্রে পাওয়া ৭৩ লাখ টাকার ভবন এবং একটি শটগান ও একটি পিস্তল রয়েছে। ২০ লাখ টাকার ব্যাংক ঋণ থাকলেও স্ত্রীর বিপুল সঞ্চয়পত্র ও স্বর্ণালংকার বকুলের হলফনামাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

    খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী হেলাল জমিহীন, মামলার পাহাড় কাঁধে : বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক এসকে আজিজুল বারী হেলাল খুলনা-৪ আসনের প্রার্থী। বিএসসি পাশ এই নেতা পেশায় নিজেকে ‘রাজনৈতিক কর্মী’ হিসাবে পরিচয় দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে চলমান মামলার সংখ্যা ১৫টি, যা এই ৬ প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ। হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, হেলালের নিজের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি বা এক চিলতে জমিও নেই। তার ৫৩ লাখ ৯৩ হাজার টাকার অস্থাবর সম্পদের পুরোটাই ব্যাংকে জমা, এফডিআর ও নগদ টাকা। টেলিভিশন টক শো ও অনলাইন থেকে বছরে সম্মানী হিসাবে তিনি ৬ লাখ টাকা আয় করেন। মামলার বোঝা মাথায় নিয়েও তিনি মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।

    খুলনা-৫ আসনের প্রার্থী লবী সম্পদে ও ঋণে সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে : সাবেক সংসদ-সদস্য ও বিসিবির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী আজগর লবী খুলনা-৬ আসনের প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে ধনাঢ্য প্রার্থী। স্নাতক পাশ এই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা মাত্র ২টি। তার বার্ষিক আয় ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকা, যার বড় অংশ আসে শেয়ারবাজার থেকে। লবীর অস্থাবর সম্পদের বাজার মূল্য ৫২ কোটি টাকা, যার মধ্যে ৪০ কোটি টাকাই রয়েছে স্থায়ী বিনিয়োগে। তবে আশ্চর্যের বিষয় হলো, সম্পদের মতো তার ঋণের পাল্লাও সবচেয়ে ভারী। তার ব্যাংক ঋণের পরিমাণ ১৩ কোটি ৭১ লাখ টাকা। তার স্ত্রীর নামেও প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে।

    খুলনা-৬ আসনের প্রার্থী মনিরুল হাসান বাপ্পি ঠিকাদারি ও খামারে স্বাবলম্বী : খুলনা-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পি পেশায় ঠিকাদার ও মৎস্য খামারি। ৮ মামলার আসামি বাপ্পির আয়ের প্রধান উৎস ব্যবসা। বছরে তিনি ৩৫ লাখ টাকা ব্যবসা থেকে আয় করেন। তার নগদ ও ব্যাংক জমা মিলিয়ে ৮২ লাখ টাকা রয়েছে। ঢাকা ও খুলনায় তার দুটি বাড়ি ও কৃষিজমি রয়েছে। ৩ কোটি ১৪ লাখ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের বিপরীতে তার ব্যাংক ঋণ রয়েছে ১ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।