Author: তরঙ্গ টিভি

  • মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ছে না

    মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় বাড়ছে না

    গত ১১ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফশিলের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণে ইচ্ছুক প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন।

    গুঞ্জন ছিল যে মনোনয়ন দাখিলের জন্য সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়ানো হতে পারে।

    কিন্তু আজ বিকালে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ জানান, না। সময় আর বাড়ানো হচ্ছে না। আমরা আর কোনো মনোনয়নপত্র জমা নেব না।

    শেষ দিন পর্যন্ত কতজন সম্ভাব্য প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা পড়ল জানতে চাইলে তিনি আরও বলেন, পুরোটা সংকলন হয়ে ইসিতে আসতে রাত ১০টা বেজে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা এরপর আপনাদের জানাতে পারব।

    দল ও প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল আজ।

    বিকাল ৫টা পর্যন্ত সারা দেশের আঞ্চলিক, জেলা নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের কাছে সম্ভাব্য প্রার্থীরা তাদের মনোনয়নপত্র জমা দেন।

    সংশোধিত তফশিলের নির্বাচন সময় সূচি অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল আজ। মনোনয়নপত্র বাছাই হবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়েরের ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি।

    আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত সময়ে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে প্রতীক বরাদ্দ করবেন ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি। প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত।

  • এনসিপির মুখপাত্র হলেন আসিফ মাহমুদ, নির্বাচন করবেন না

    এনসিপির মুখপাত্র হলেন আসিফ মাহমুদ, নির্বাচন করবেন না

    বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া জাতীয় নাগরিক কমিটিতে (এনসিপি) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছেন। তবে, তিনি নির্বাচন অংশ নিচ্ছেন না।

    তিনি এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন ও এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজেই এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

    সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আজ আনুষ্ঠানিকভাবে এনসিপিতে যোগ দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ, আমরা তাকে স্বাগত জানাচ্ছি। এনসিপি নির্বাচনি যাত্রায় পুরোপুরি ঢুকে পড়েছে। আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে অংশ নেবেন না। বরং এনসিপির মনোনীত প্রার্থীরা যাতে নির্বাচনে জিতে আসতে পারেন, সে জন্য তিনি কাজ করবেন। তাকে এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

    আসিফ মাহমুদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য আমি আজ এনসিপিতে যোগ দিয়েছি। আমি এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি না। আমি মনে করি, আমার একজনের সংসদে যাওয়ার চেয়ে আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানের বহু সহযোদ্ধাদের সংসদের যাওয়ার ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারি, এর চেয়ে বড় সাফল্য আর কিছু হতে পারে না।
    এর আগে, আসিফ মাহমুদ ঘোষণা দিয়েছিলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে লড়বেন তিনি।
  • দেশকে অস্থির করতে কিছু লোক পেছন থেকে কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

    দেশকে অস্থির করতে কিছু লোক পেছন থেকে কাজ করছে: মির্জা ফখরুল

    ঠাকুরগাঁওয়ে আলেম–ওলামাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরে বেসরকারি সংস্থা মানবকল্যাণ পরিষদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রেছবি: প্রথম আলো

    দেশে একটা ক্রান্তিকাল চলছে মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘এখন দেশে বিভিন্ন রকম কথাবার্তা উঠছে, বিভ্রান্তি সৃষ্টি করা হচ্ছে। আন্দোলন হচ্ছে। কেন জানি মনে হয়, দেশকে অস্থির করে তোলার জন্য কিছুসংখ্যক লোক পেছন থেকে কাজ করছে। এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে সাবধান থাকতে হবে।’

    আজ রোববার দুপুরে ঠাকুরগাঁও শহরে বেসরকারি সংস্থা মানবকল্যাণ পরিষদের প্রশিক্ষণকেন্দ্রে স্থানীয় আলেম–ওলামাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মির্জা ফখরুল এ কথাগুলো বলেন।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা যেন আবার অন্ধকারের দিকে চলে না যাই। আমরা যেন নিজেদের মধ্যে বিভেদ–অনৈক্য সৃষ্টি করে চক্রান্তকারীদের হাতে না পড়ি। এমনটা হলে দেশ আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’ তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনকে ভাঙার চেষ্টা করা হচ্ছে, বানচালের চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটা যেন করতে না পারে, আমাদের খেয়াল রাখতে হবে।’

    ‘কোরআন–সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেব না’

    আলেম–ওলামাদের উদ্দেশে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘অনেকে এটা ছড়িয়েছে, আমরা নাকি কোরআন ও সুন্নাহর আইন চাই না। নাউজুবিল্লাহ। আমরা সব সময় কোরআন ও সুন্নাহর মধ্যেই থাকতে চাই। আমরা কমিটেড, অঙ্গীকারবদ্ধ। এই দেশে আমরা কোরআন ও সুন্নাহর বাইরে কোনো আইন করতে দেব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। এই কমিটমেন্ট আমরা সব সময় করে এসেছি।’

    মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই নির্বাচনে আপনারা নির্ধারণ করবেন, আগামী পাঁচ বছরের জন্য এই দেশ কারা পরিচালনা করবে। তাই এই নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গত ১৫ বছর দেশের সব প্রতিষ্ঠানকে তারা (আওয়ামী লীগ) ধ্বংস করে দিয়েছিল। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছিল, অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছিল। শুধু কিছুসংখ্যক ব্যক্তিকে ধনী করার জন্য তারা ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে, বিদেশে টাকা পাচার করেছে। সামগ্রিকভাবে গোটা দেশের মানুষকে তারা বঞ্চিত করেছে।’

    বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) ক্ষমতা পেয়ে চিরস্থায়ী করার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্যাতন–নিপীড়ন করেছে। আলেম–ওলামাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে, নির্যাতন করা হয়েছে। এমনকি তাঁদের ফাঁসি দিয়ে শহীদ করা হয়েছে। সেই সময় আপনারা কেউ নিরাপদে ছিলেন না। রাস্তাঘাটে আপনারা ঠিকমতো চলাফেরা করতে পারেননি। আপনারা সব সময় ভয়ে ভয়ে থাকতেন, কখন আপনাদের জঙ্গি বলে ধরে নিয়ে যায়।’

    বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘আজ আমাদের সম্পর্কে ভুল বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু আমরা একটা কথা পরিষ্কার করে বলে দিতে চাই, আমাদের ধর্মবোধ, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি রক্ষা করার জন্য আমরাই সবচেয়ে বেশি ভূমিকা পালন করেছি।’ তিনি বলেন, ‘ইসলাম শান্তির ধর্ম। আমরা শান্তি চাই। আমরা চাই, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হোক।’

    সভায় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ জেলার আলেম–ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও বিএনপির স্থানীয় নেতা–কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন

  • ছায়ানটে হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি সাড়ে ৩০০

    ছায়ানটে হামলার ঘটনায় মামলা, আসামি সাড়ে ৩০০

    সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে হামলা, অগ্নিসংযোগ লুটপাটের ঘটনায় ধানমন্ডি থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ধানমন্ডি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম।

    তিনি জানান, ধানমন্ডি থানায় হামলা ভাঙচুর অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় ২০ ডিসেম্বর রাতে একটি মামলা দায়ের হয়। মামলায় ৩০০ থেকে ৩৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ছায়ানটের প্রধান ব্যবস্থাপক দুলাল ঘোষ।

    এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরিফ ওসমান হাদি মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ডেইলি স্টার, প্রথম আলো এবং ছায়ানটে হামলা হামলা-ভাঙচুর-লুটপাট ও অগ্নি সংযোগ করা হয়।

  • চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ‘আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট’ ব্যবসায়ী জসিম

    চট্টগ্রাম-১৪ আসনে বিএনপির প্রার্থী ‘আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট’ ব্যবসায়ী জসিম

    অবশেষে ফাঁকা আসন চট্টগ্রাম-১৪-তে (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন আহমদকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় তাঁকে দলের প্রার্থী ঘোষণার পর বিএনপির নেতা-কর্মীদের কেউ কেউ ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, জসিমের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে সখ্য ছিল।

    বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে থাকা জসিম উদ্দিনের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। ২০২৪ সালে মে মাসে অনুষ্ঠিত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র হিসেবে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। গত বছরের ৪ ডিসেম্বর বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডার একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন তিনি।

    জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, চন্দনাইশ আসনে জসিম উদ্দিনকে বিএনপির প্রার্থী করেছে দল। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, দলে জসিমের কোনো পদ নেই। আওয়ামী লীগের সঙ্গে জসিমের সংশ্লিষ্টতা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

    চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও ৩৪টি থানা এলাকা নিয়ে ১৬টি সংসদীয় আসন। এর মধ্যে নগরের ১৬টি থানা এলাকায় আসন রয়েছে ৪টি। অন্য ১২টি আসনের মধ্যে ৭টি উত্তর চট্টগ্রাম ও ৫টি দক্ষিণ চট্টগ্রামে।

    জসিমকে দলের প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এই আসনে মনোনয়নপ্রত্যাশী এবং চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল আনোয়ার চৌধুরী। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জসিম আওয়ামী লীগের পৃষ্ঠপোষক। ওই সরকারের আমলের পুলিশের এক আইজিপির ঘনিষ্ঠ ও ব্যবসায়িক সহযোগী ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে তাঁর ডানে-বাঁয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা সঙ্গে ছিলেন। আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম চৌধুরী সঙ্গেও তিনি কাজ করেছেন। তাঁর পক্ষে ভোট চেয়েছেন।’

    নুরুল আনোয়ার চৌধুরী আরও বলেন, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বিএনপি ছেড়ে যাওয়ার পর এলাকায় একটি কমিটিও ছিল না। এরপর নির্যাতন, জেল-জুলুম সহ্য করে বিএনপিকে সংগঠিত করেছেন তাঁরা। অথচ বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে জসিমকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। তাঁকে মেনে নেওয়ার প্রশ্নই আসে না। মনোনয়ন বাতিলের দাবি জানান এই বিএনপি নেতা।

    জসিমকে বাদ দিয়ে দলের যে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান মনোনয়নপ্রত্যাশী ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘জসিম আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান হয়েছিলেন। অথচ বিএনপি তখন নির্বাচন বর্জন করেছে। আওয়ামী লীগের লোকজনই তাঁকে চেয়ারম্যান নির্বাচিত করেন।’ দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে জসিমের মনোনয়ন বিবেচনারও অনুরোধ করেন এই বিএনপি নেতা।

    তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জসিম উদ্দিন আহমদের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। জসিম মনোনয়ন পাওয়ার পর গতকাল রাতে চন্দনাইশ উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সালাউদ্দিন চৌধুরীর নেতৃত্বে এলাকায় আনন্দমিছিল করা হয়। সালাউদ্দিন চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, ‘রাজনীতিতে শেষ বলে কিছু নেই। জসিম আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি সৌদি আরবের মক্কা বিএনপির সহসভাপতি ছিলেন।’ আওয়ামী লীগের বিভিন্ন মন্ত্রীর সঙ্গে সখ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জসিম একজন ব্যবসায়ী। তাঁর সঙ্গে বিভিন্ন ব্যক্তির সম্পর্ক থাকতে পারে।’

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডার এক হত্যাচেষ্টা মামলায় গত বছরের ৪ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন চন্দনাইশের সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জসিম উদ্দিন। ওই মামলার অভিযোগে বলা হয়, বাদী মো. দুর্জয় আহম্মেদ (২৮) গত বছরের ২০ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মিছিলে অংশগ্রহণ করে মধ্যবাড্ডা ইউলুপের নিচে পোস্ট অফিস গলি মাথায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় আওয়ামী লীগের ‘শীর্ষস্থানীয় নেতাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ নির্দেশনায়’ তাদের অনুসারীরা এলোপাতাড়ি গুলি করলে বাদীর দুই চোখ অন্ধ হয়ে যায়। এ ছাড়া মাথায় পেছনেও গুরুতর আঘাত পান। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৯০ জনের নামে মামলাটি দায়ের করা হয়। সেখানে জসিম উদ্দিন আহমেদকে ২১ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

    এর আগে গত বছরের ১০ জুলাই পদ্মা ব্যাংকের ঋণখেলাপির এক মামলায় চট্টগ্রামের অর্থঋণ আদালত জসিম উদ্দিন ও তাঁর স্ত্রী তানজিনা সুলতানাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেন। তারও আগে গত ৩০ এপ্রিল ঋণখেলাপির মামলায় জসিম ও তাঁর স্ত্রীকে পাঁচ মাসের কারাদণ্ড দিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

    এই আদেশের বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ আনতে জসিম উদ্দিন হাইকোর্টে যান। ঋণের ১৪ কোটি টাকা পরিশোধ করেছেন জানিয়ে সেখানে তিনি জাল পে-অর্ডারের ফটোকপি দেন। পরে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জামিন স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলে বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর তাঁর জামিন বাতিল করে হাইকোর্ট।

  • ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা

    ঢাকা-১৭ আসনে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা

    ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম। আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেন তিনি।

    এ সময় তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের ভোট বিএনপির পক্ষে হবে। নির্বাচনকে ঘিরে এখন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তারেক রহমান নির্বাচিত হয়ে সরকার গঠনকরতে পারলে দেশে গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠা করবে। তারেক রহমান দেশে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সব ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনবেন।

    এর আগে গতকাল রোববার সকালে ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপি চেয়ারপার্সনের একান্ত সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরীর কার্যালয় থেকে তারেক রহমানের পক্ষে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন।

    একই দিনে বগুড়া-৬ সংসদীয় আসন থেকেও তারেক রহমানের মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কর্মসূচি রয়েছে।

  • জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা  আবু সাঈদ হত্যায় সাবেক উপাচার্য হাসিবুর সম্পৃক্ত ছিলেন

    জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা আবু সাঈদ হত্যায় সাবেক উপাচার্য হাসিবুর সম্পৃক্ত ছিলেন

    জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় সম্পৃক্ত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়টির তৎকালীন উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদ। আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দ্বিতীয় দিনের মতো জবানবন্দিতে এ কথা বলেন।

    বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এ এই মামলার বিচার চলছে। এ ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, ২০২৪ সালের নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিলেন উপাচার্য হাসিবুর রশীদ। বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও অন্য আসামিদের বেআইনি কার্যক্রম প্রতিরোধে কোনোরূপ ব্যবস্থা নেননি তিনি। তিনিসহ মামলায় মোট আসামি ৩০ জন। এর মধ্যে হাসিবুরসহ ২৪ আসামি পলাতক। অন্য ছয় আসামি গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন।

    এ মামলার আরেক পলাতক আসামি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়কার রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান। তার বিষয়ে জবানবন্দিতে তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন বলেন, মনিরুজ্জামানও ২০২৪ সালের নিরীহ-নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার কোটা সংস্কার ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ছাত্রলীগ সদস্যদের সহযোগিতা ও ইন্ধনে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে নিয়োজিত পুলিশ কর্মকর্তাদের ওয়্যারলেসের মাধ্যমে আবু সাঈদকে নির্বিচার গুলি করে হত্যা এবং অন্যদের গুরুতর জখম করার নির্দেশ দেন।

    তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, আরপিএমপি কমিশনার ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার জন্য আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। অপ্রাপ্তবয়স্ক ও নিরীহ ছাত্র-জনতাকে মিথ্যা মামলায় গ্রেফতার করে নির্যাতনের মাধ্যমে হয়রানি করেন। ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনোরূপ ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি তিনি।

  • স্থলবন্দরে মাশুল বৃদ্ধি  বাড়বে আমদানি ব্যয়, চাপের শঙ্কা খুচরা বাজারে

    স্থলবন্দরে মাশুল বৃদ্ধি বাড়বে আমদানি ব্যয়, চাপের শঙ্কা খুচরা বাজারে

    দেশের সব স্থলবন্দরে সেবা মাশুল ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে নতুন করে ব্যয়চাপ তৈরির শঙ্কা দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ (বিএসপিএ) ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা আগামী ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে। অন্য স্থলবন্দরের তুলনায় সেবার পরিমাণ ও ব্যয় বেশি হওয়ায় বেনাপোল স্থলবন্দরের জন্য আলাদা প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
    দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দর বেনাপোলে বর্তমানে ২৭ ধরনের সেবার বিপরীতে মাশুল আদায় করা হয়। নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী যাত্রীদের জন্য মাশুল ২০২৫ সালের ৪৯ টাকা ৭৯ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২৬ সালের জন্য ৫২ টাকা ২৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। আমদানি করা বাস, ট্রাক ও লরি প্রবেশে মাশুল ১৭৫ টাকা ৯০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ১৮৪ টাকা ৭০ পয়সা। মোটরকার, জিপ, পিকআপ ও থ্রি-হুইলারের জন্য মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ১১০ টাকা ৮২ পয়সা এবং মোটরসাইকেল ও বাইসাইকেলের জন্য ৩৬ টাকা ৯৫ পয়সা।
    এছাড়া ট্রাক ও লরির ক্ষেত্রে ওজন মাপার যন্ত্র ব্যবহারে দিতে হবে ৮৮ টাকা ৬৫ পয়সা। কাগজপত্র প্রক্রিয়াকরণ মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৫ টাকা ৭ পয়সা। কোনো যানবাহন ইয়ার্ডে রাতযাপন করলে দিতে হবে ১১১ টাকা ৪৯ পয়সা। গুদামে পণ্য রাখার ক্ষেত্রেও সময়ভেদে মাশুল বৃদ্ধি করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বেনাপোল বন্দরের প্রতিটি সেবাতেই বাড়তি খরচ যুক্ত হচ্ছে।
    বেনাপোল ছাড়া দেশের অন্য স্থলবন্দরগুলোতেও একই হারে ৫ শতাংশ মাশুল বৃদ্ধি কার্যকর হবে। এসব বন্দরে যাত্রী মাশুল বেড়ে ৫২ টাকা ২৭ পয়সা হয়েছে। বাস, ট্রাক ও লরির জন্য মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫৯ টাকা ২২ পয়সা, মোটরকার ও জিপের জন্য ৯৫ টাকা ৫২ পয়সা এবং মোটরসাইকেল, স্কুটার, বেবি ট্যাক্সি ও থ্রি-হুইলারের জন্য ৪৭ টাকা ৮৩ পয়সা। পাশাপাশি পণ্যভেদে আমদানির ক্ষেত্রেও মাশুল ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।
    বাংলাদেশ স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) ও উপ-সচিব মো. শামীম হোসেন বলেন, স্থলবন্দরের আয়ের প্রধান উৎস মাশুল। জ্বালানি, রক্ষণাবেক্ষণ ও জনবল খাতে ব্যয় বাড়ছে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও মাশুল সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন হার ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
    ব্যবসায়ীরা বলছেন, মাশুল বৃদ্ধি আমদানি ব্যয় বাড়াবে এবং তার প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে গিয়ে পড়বে। বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। ভোগ্যপণ্যের দাম বাড়লে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
  • শৈত্যপ্রবাহের দাপটে কাঁপছে দেশ

    শৈত্যপ্রবাহের দাপটে কাঁপছে দেশ

    পৌষের মাঝামাঝিতে এসে ঘন কুয়াশা ও হাড়কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সারা দেশ। উত্তরের হিমেল হাওয়ার সঙ্গে ঘন কুয়াশা মিলিয়ে জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, কুয়াশাচ্ছন্ন পরিস্থিতির কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আরও কয়েক দিন এমন শীতের অনুভূতি থাকতে পারে।

    ঘন কুয়াশা ও ঠান্ডা বাতাসের প্রভাবে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও খেটে খাওয়া মানুষ। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। অনেক এলাকায় ভোরের দিকে যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত দেশজুড়ে কুয়াশার চাদর বিস্তৃত থাকতে পারে। এর প্রভাবে সড়ক, নৌ ও আকাশপথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

    রোববার (২৯ ডিসেম্বর) দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে—৯ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের তাড়াশে ১১, কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১ দশমিক ৩, কুমিল্লা ও যশোরে ১১ দশমিক ৫, পটুয়াখালীর খেপুপাড়ায় ১১ দশমিক ৮, মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল ও নীলফামারীর ডিমলায় ১২ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে দেশের কিছু এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও ১ থেকে ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে। এতে ভোর ও সকালের দিকে কুয়াশা আরও ঘন হবে এবং শীতের তীব্রতা বাড়বে।

    আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ডিসেম্বরের শেষ ভাগ থেকে জানুয়ারির শুরু পর্যন্ত শীতের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। জানুয়ারিতে দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তাপমাত্রা ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দরিদ্র, বয়স্ক ও খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

    সোমবার মধ্যরাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। কোনো কোনো এলাকায় তা দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে দৃষ্টিসীমা কমে গিয়ে উড়োজাহাজ, নৌযান ও সড়ক যোগাযোগ সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, বিশেষ করে নদী অববাহিকা অঞ্চলে।

    আরও পড়ুন

    আজ ঢাকার বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর, শীর্ষে দিল্লি

    আজ ঢাকার বাতাস খুবই অস্বাস্থ্যকর, শীর্ষে দিল্লি

     

    নতুন বছরের শুরুতে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে ঘন কুয়াশার মধ্যে সড়ক ও নৌপথে চলাচলের সময় হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে হাইওয়ে পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ। পাশাপাশি শীতে ছিন্নমূল মানুষ ও শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

    আবহাওয়াবিদরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শীতের ধরন বদলে যাচ্ছে—কখনো স্বল্প সময়ের তীব্র ঠান্ডা, আবার কখনো দীর্ঘ সময় ধরে শুষ্ক ও কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া দেখা যাচ্ছে। তাই শীতকালীন প্রস্তুতি ও সতর্কতা এখনই জরুরি।

  • আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজও সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা

    আবু সাঈদ হত্যা মামলায় আজও সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা

    চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ আসামির বিরুদ্ধে তৃতীয় দিনের মতো সাক্ষ্য দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন।

    সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ সাক্ষ্যগ্রহণ হবে। অপর দুই সদস্য হলেন- অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং জেলা ও দায়রা জজ নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

    এদিন জবানবন্দির শুরুতেই এ মামলার আসামিদের ব্যক্তিগত দায় তুলে ধরার কথা রয়েছে। এরপর একে একে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেবেন তদন্ত কর্মকর্তা রুহুল আমিন। যদিও গতকাল (রোববার) দেওয়া সাক্ষ্যে ১৬ আসামির দায় নিয়ে ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করেছেন তিনি।

    অবশিষ্ট আসামির বিরুদ্ধে আজ সম্পন্ন করবেন। ২৫ নম্বর সাক্ষী হিসেবে তার রেকর্ড করা হচ্ছে। তদন্তকালে কোথায় থেকে কবে, কীভাবে, কী জব্দ করেছেন; সবকিছু তুলে ধরছেন নিজের জবানবন্দিতে। গত ১৮ ডিসেম্বর তার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এরপর তাকে জেরা করবেন গ্রেফতার ও পলাতক আসামিদের আইনজীবীরা।

    এর আগে, ১০ ডিসেম্বর জবানবন্দি দেন বিশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা দেন। একই দিন তদন্ত সংস্থার রেকর্ড সংরক্ষণকারী এসআই মো. কামরুল হোসেনেরও জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। সবমিলিয়ে এ মামলায় ২৫ জনের জবানবন্দি নেওয়া হয়।

    ৯ ডিসেম্বর ২২ নম্বর সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। জবানবন্দিতে জুলাই-আগস্ট আন্দোলনের পুরো ঘটনা বর্ণনা দেন তিনি। সমন্বয়কদের তুলে নিয়ে কোথায় রাখা হয়েছিল তা বলতে গিয়ে নতুন এক সেইফ হাউজের কথাও জানান।

    এ মামলায় গ্রেফতার ছয়জন হলেন- এএসআই আমির হোসেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়, ছাত্রলীগ নেতা ইমরান চৌধুরী, রাফিউল হাসান রাসেল ও আনোয়ার পারভেজ। বাকিরা পলাতক রয়েছেন।

    চলতি বছরের ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্যের মাধ্যমে এ মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। ৬ আগস্ট ৩০ আসামির বিরুদ্ধে ফর্মাল চার্জ (আনুষ্ঠানিক অভিযোগ) গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

    তবে এ মামলায় বেরোবির সাবেক ভিসিসহ ২৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন। তাদের পক্ষে গত ২২ জুলাই সরকারি খরচে চারজন আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়। ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল। আর ২৪ জুন মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত সংস্থার কর্মকর্তারা। এ মামলায় মোট সাক্ষী ৬২ জন।