Author: তরঙ্গ টিভি

  • শরীয়তপুরের জাজিরায় কনকনে ঠান্ডা– সকালের কুয়াশায় ব্যাহত জনজীবন

    শরীয়তপুরের জাজিরায় কনকনে ঠান্ডা– সকালের কুয়াশায় ব্যাহত জনজীবন

    শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় আজ সকাল থেকে কনকনে ঠান্ডা ও কুয়াশার কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন কাজে ব্যাঘাত ঘটেছে। ভোর রাত থেকেই নদীবন্দর ও চরের এলাকাগুলোতে ঘন কুয়াশা নেমে আসায় সড়কে যান চলাচল ধীরগতিতে চলছে।

    সকাল ৮টার দিকেও সূর্যের দেখা মিলেনি। স্থানীয়রা জানান, গত কয়েক দিনের তুলনায় আজ শীতের তীব্রতা বেশি অনুভূত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের ভোগান্তি বেড়েছে। গ্রামের বাজার, ফেরিঘাট, স্কুল–কলেজমুখী মানুষজনকে গরম কাপড়ে মোড়ানো অবস্থায় চলাচল করতে দেখা গেছে।

    স্বাস্থ্যকর্মীরা বলছেন, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সর্দি–কাশি ও শ্বাসকষ্টের ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ কারণে প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

    কৃষকরা জানান, সকাল থেকে কুয়াশার কারণে মাঠে স্বাভাবিক কাজ করা সম্ভব হয়নি। সবজির জমিতে শিশিরের চাপ বেড়ে গেছে বলে দাবি করছেন তারা।

    বর্তমানে জাজিরায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের নিচে নেমে শীতল ও আর্দ্র আবহাওয়া বিরাজ করছে এবং সন্ধ্যার পর আরও ঠান্ডা বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন।

    সার্বিকভাবে, দিনের বেলায় রোদ উঠলেও শীতের প্রকোপ কাটবে না—এমন পূর্বাভাসে শীতবস্ত্র ও আগুন পোহানোর দৃশ্য দিনজুড়ে দেখা যাচ্ছে

  • ৫৯ বিজিবি অধীস্থ ভোলাহাট সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশে ২৭ জন আটক

    ৫৯ বিজিবি অধীস্থ ভোলাহাট সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশে ২৭ জন আটক

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ ভোলাহাট সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের দায়ে ২৭ জন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।

    গতকাল (২২ ডিসেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ০৪.০০ ঘটিকার সময় মহানন্দা ব্যাটালিয়নের (৫৯ বিজিবি) অধীনস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলাধীন ভোলাহাট উপজেলার সীমান্ত এলাকা দিয়ে ২৭ জন (পুরুষ-০৮, নারী-১২, শিশু-০৫, তৃতীয় লিঙ্গ-০২) ব্যক্তি পাসপোর্ট ব্যতীত অবৈধভাবে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে বিজিবি কর্তৃক আটক হয়।

    উক্ত ব্যক্তিবর্গ বিভিন্ন সময় পাসপোর্ট বিহীন সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে গমন করেছিল। পরবর্তীতে পাসপোর্ট ব্যতীত তারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে আন্তর্জাতিক সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক গ্রেফতার হয়। বর্তমানে তাদের ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র এবং বাংলাদেশী নাগরিকত্বসহ বিভিন্ন বিষয় নিশ্চিত করার লক্ষ্যে জিডির মাধ্যমে থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়াধীন!

    অনুপ্রবেশকারীরাকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা অবৈধভাবে সীমান্ত অতিকারের বিষয়টি স্বীকার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে

  • ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির ১৫তম চাঁপাই উৎসব উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

    ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির ১৫তম চাঁপাই উৎসব উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়

    ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত ১৫তম চাঁপাই উৎসব উপলক্ষে সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের শহীদ মিনার চত্বরে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় চাঁপাই উৎসবের উদ্দেশ্য, কর্মসূচি ও সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের অবহিত করা হয়। উক্ত মতবিনিময় উপস্থিত ছিলেন, ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট দেলোয়ার হোসেন, অত্র সমিতির দপ্তর সম্পাদক সৈয়দ নাজমুল ইসলাম মানিক ও সমিতির আজীবন সদস্য ইকবাল আহমেদ প্রমুখ ।

    এসময় বক্তারা বলেন, চাঁপাই উৎসবের মাধ্যমে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্ভাবনাকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন, সামাজিক সম্প্রীতি ও প্রবাসী চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীদের মধ্যে সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে এই উৎসব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। মতবিনিময় সভায় ঢাকাস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা সমিতির নেতৃবৃন্দ, উৎসব আয়োজক কমিটির সদস্য এবং জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

    সভা শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন আয়োজকরা এবং উৎসব সফল করতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন

  • বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা : ৩০ হাজার কিলোমিটার পথ, নেই কোনো ইউ-টার্ন!

    বিশ্বের দীর্ঘতম রাস্তা : ৩০ হাজার কিলোমিটার পথ, নেই কোনো ইউ-টার্ন!

    কল্পনা করুন এমন একটি রাস্তার কথা, যেখানে প্রতিদিন ৫০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিলেও পুরোটা শেষ করতে আপনার দুই মাসের বেশি সময় লেগে যাবে। এই বিশাল পথজুড়ে আপনাকে একবারও ইউ-টার্ন নিতে হবে না। এটি কোনো কাল্পনিক পথ নয়, বরং বাস্তবের প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে।

    টানা ১৪টি দেশের মধ্য দিয়ে বিস্তৃত এই সড়কটিকে বিশ্বের দীর্ঘতম মোটরযান চলাচলযোগ্য রাস্তা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।

    প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে উত্তর আমেরিকার আলাস্কার ‘প্রুডো বে’ থেকে শুরু হয়ে দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা পর্যন্ত বিস্তৃত। প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার লম্বা এই মহাসড়কটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার সংযোগস্থল হিসেবে কাজ করে।

    যেসব দেশের মধ্য দিয়ে এই পথ গিয়েছে : এই মহাসড়কটি মেক্সিকো, গুয়াতেমালা, এল সালভাদর, হন্ডুরাস, নিকারাগুয়া, কোস্টারিকা এবং পানামা হয়ে দক্ষিণ আমেরিকায় প্রবেশ করেছে। এরপর এটি কলম্বিয়া, ইকুয়েডর, পেরু, চিলি ও আর্জেন্টিনার ওপর দিয়ে চলে গেছে। যাত্রী ও পর্যটকদের সুবিধার জন্য যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর অংশে এই রুটের একাধিক বিকল্প পথও রয়েছে।

    dhakapost

    পাড়ি দিতে কত সময় লাগে?

    সাধারণত এই বিশাল পথটি অতিক্রম করতে একজন ভ্রমণকারীর প্রায় ৬০ দিন বা দুই মাস সময় লাগে। তবে এটি নির্ভর করে যানবাহনের গতি এবং যাত্রাপথে বিরতির ওপর। যেমন, কার্লোস সান্তামারিয়া নামের এক পর্যটকের এই পুরো পথটি শেষ করতে ১১৭ দিন সময় লেগেছিল।

    dhakapost

    বৈচিত্র্যময় পরিবেশ ও ভাষা

    এই দীর্ঘ যাত্রাপথে আপনি কখনও ঘন রেইনফরেস্ট, আবার কখনও ধূ ধূ মরুভূমির মতো বৈচিত্র্যময় ভূপ্রকৃতির দেখা পাবেন। এই মহাসড়কের একটি বড় অংশ স্প্যানিশভাষী দেশগুলোর ওপর দিয়ে গিয়েছে। তাই এই পথে রোমাঞ্চকর অভিযানে বের হওয়ার আগে সামান্য স্প্যানিশ ভাষা শিখে নেওয়া পর্যটকদের জন্য বেশ সহায়ক হয়।

    dhakapost

    ইতিহাসের পাতায় প্যান-আমেরিকান হাইওয়ে

    এই মহাসড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা শুরু হয় ১৯২০-এর দশকের গোড়ার দিকে। মূলত যুক্তরাষ্ট্রে পর্যটন বাড়ানোর লক্ষ্যেই এটি তৈরির চিন্তা করা হয়েছিল। ১৯৩৭ সালে ১৪টি দেশ এই রাস্তা নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণের বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতির পর ১৯৬০ সালে এটি জনসাধারণের চলাচলের জন্য পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়।

  • হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক এমপি বাদল

    হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাবেক এমপি বাদল

    বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় নিউমার্কেট থানা এলাকায় শিক্ষার্থী শামীমকে হত্যাচেষ্টার মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) ফয়জুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। 

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের শুনানি নিয়ে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মাহবুব আলমের আদালত এ আদেশ দেন।

    রাষ্ট্রপক্ষের প্রসিকিউটর মো. হারুন অর রশিদ জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিউমার্কেট থানার উপ-পরিদর্শক মো. ওমর ফারুক আসামি এমপি ফয়জুর রহমান বাদলকে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আজ শুনানির দিন ধার্য ছিল। তাকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে আদালত তাকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন।

    আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, তদন্তকালে এই মামলায় সাবেক এমপি ফয়জুর রহমান বাদলের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর আক্রমণ করার জন্য তিনি এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের প্ররোচনা এবং অর্থ দিয়ে সহায়তা করেছেন বলে প্রাথমিক সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে এবং আসামির নাম-ঠিকানা যাচাই করতে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।

    মামলার বিবরণ থেকে, বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সময় গত বছরের ১৬ জুলাই ঢাকা কলেজ এলাকায় আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে আন্দোলনকারীদের ওপর আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. শামীম গুরুতর আহত হন। পরে তিনি মামলা দায়ের করেন।

  • খুনিকে জীবিত গ্রেফতার চাই, বন্দুকযুদ্ধের নাটক চাই না: ইনকিলাব মঞ্চ

    খুনিকে জীবিত গ্রেফতার চাই, বন্দুকযুদ্ধের নাটক চাই না: ইনকিলাব মঞ্চ

    শরিফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চ বলেছে, খুনিকে দ্রুত জীবিত গ্রেফতার চাই, বন্দুকযুদ্ধের কোনো নাটক দেখতে চাই না।

    রোববার (২১ ডিসেম্বর) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে ইনকিলাব মঞ্চের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ দাবি জানানো হয়।

    এর আগে, ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত খুনিদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দেয় সাংস্কৃতিক সংগঠনটি।

    সোমবার (২২ ডিসেম্বর) বিকাল ৩টায় শহীদ হাদি চত্বর (শাহবাগ) থেকে শহীদ মিনার পর্যন্ত এ বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।

    এদিকে ওসমান হাদির হত্যা মামলায় প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান রাহুলের দেশত্যাগে আজ নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন আদালত।

    রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবে ১২৭ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।

  • স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আর বাকি ২ দিন  তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

    স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আর বাকি ২ দিন তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে নিরাপত্তার বিষয়টিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি দলীয়ভাবেও নিরাপত্তার ব্যবস্থা করবে বিএনপি। এর অংশ হিসাবে ঢাকায় ফেরার পর তারেক রহমানের নিরাপত্তায় চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স-সিএসএফ কাজ করবে। এ লক্ষ্যে সম্প্রতি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিরাপত্তায় নিয়োজিত সিএসএফ পুনর্গঠন করা হয়েছে। সিএসএফের সদস্য সংখ্যাও বাড়ানো হয়েছে। দলীয়ভাবেও দশ হাজারেরও বেশি স্বেচ্ছাসেবক প্রস্তুত করা হচ্ছে, তারাও শৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করবে। এদিকে তারেক রহমানের দেশে ফেরার জন্য নির্ধারিত লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইটের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে দুই কেবিন ক্রুকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। নিরাপত্তা ও ভিআইপি ব্যবস্থাপনার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বেশি সময় পর ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে সপরিবারে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।

    এদিকে স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। পুলিশ প্রশাসন জানিয়েছে, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন ঢাকা মহানগরজুড়ে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে সংবর্ধনা জানাতে রাজধানীতে যে বড় ধরনের জনসমাগম হবে, তা শৃঙ্খলাবদ্ধ রাখতে বিএনপির পক্ষ থেকে এরই মধ্যে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।

    সূত্রমতে, ঢাকায় অবতরণের পর হযরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অদূরে তিনশ ফিট সড়কে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়ার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। মূলত রাজধানীবাসীর দুর্ভোগ এড়াতে স্থানটি বেছে নেওয়ার চিন্তা করা হচ্ছে। জানা গেছে, তারেক রহমানকে স্বাগত জানাতে সারা দেশ থেকে ৫০ লাখ নেতাকর্মীকে ঢাকায় আনার পরিকল্পনা করছে বিএনপি। এছাড়া ঢাকা মহানগরী থেকেও ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষের সমাগম হবে। দলের নির্দেশনা অনুযায়ী, আগের দিন অর্থাৎ ২৪ ডিসেম্বর রাত থেকেই নেতাকর্মীরা ঢাকায় আসবেন।

    জানা গেছে, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের ঘোষণা পাওয়ার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের নির্দেশনায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু করেছে। ২৪ ডিসেম্বর থেকেই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে বিশেষ নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হবে। এছাড়া তারেক রহমানের চলাচলের প্রতিটি স্থানে থাকবে নিরাপত্তা বেষ্টনী। দেশে ফিরে তারেক রহমান উঠবেন গুলশান অ্যাভিনিউয়ের ১৯৬ নম্বর বাড়িতে। এর পাশেই ‘ফিরোজা’ নামের বাড়িটিতে থাকেন তার মা বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ১৯৬ নম্বর বাড়ির সামনে ইতোমধ্যে নিরাপত্তা চৌকি বসানো হয়েছে। সড়কের সামনে স্থাপন করা হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা।

    এদিকে তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষ্যে তার আগমনকে স্বাগত জানিয়ে রোববার রাজধানীতে মিছিল করে যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তর। মিছিলটি রাজধানীর বনানীর কাকলী ফুটওভার ব্রিজের নিচে থেকে মহাখালী কাঁচাবাজার গিয়ে শেষ হয়। এতে কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন। যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক শরিফ উদ্দিন জুয়েল ও সদস্য সচিব সাজ্জাদুল মিরাজের নেতৃত্বে স্বাগত মিছিলে ছিলেন মহানগর উত্তর যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরুল ইসলাম স্বপন, যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান, তসলিম হাসান মাসুম, তানভীর আহমেদ ইকরামসহ উত্তর যুবদলের আওতাধীন ২৬টি থানা ও ৭১ ওয়ার্ডের নেতারা মিছিলে অংশ নেন।

    নিরাপত্তা বিবেচনায় ফ্লাইটের দুই কেবিন ক্রু বদল : তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত লন্ডন-ঢাকা ফ্লাইটের বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট থেকে দুই কেবিন ক্রুকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। প্রত্যাহার করা কেবিন ক্রুরা হলেন জুনিয়র পার্সার মো. সওগাতুল আলম সওগাত এবং ফ্লাইট স্টুয়ার্ডেস জিনিয়া ইসলাম। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানায়, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসায় তাদের ওই ফ্লাইটের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। জানতে চাইলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালক বদরুল হাসান লিটন যুগান্তরকে বলেন, ভিআইপি ফ্লাইট পরিচালনার জন্য কেবিন ক্রুদের বিশেষ ভেটিং ও বাছাই প্রক্রিয়া থাকে। প্রাথমিকভাবে যাদের নাম নির্ধারণ করা হয়েছিল, তাদের বিষয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ও প্রশ্ন ওঠায় তাৎক্ষণিকভাবে বিকল্প ক্রু দিয়ে ফ্লাইটটি পুনর্গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট দুই কেবিন ক্রুকে কোথাও সরানো হয়নি বা চাকরি থেকে বাদ দেওয়া হয়নি; শুধু ওই নির্দিষ্ট ফ্লাইটের তালিকা থেকে নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। তিনি বলেন, ভিআইপি ও ভিভিআইপি যাত্রীর নিরাপত্তা ও প্রটোকল নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের বিতর্ক বা ঝুঁকি না থাকে।

    সূত্র জানায়, সম্প্রতি আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার সঙ্গে ওই দুই কেবিন ক্রুর ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা নতুন করে আলোচনা তৈরি করে। এ নিয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বিমান সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-২০২ ফ্লাইটটি বুধবার সন্ধ্যায় যুক্তরাজ্যের লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে আসার কথা রয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা পৌঁছাবে ফ্লাইটটি।

  • তারেক রহমানের সামনে যত চ্যালেঞ্জ  সামলাতে হবে অনেক পরিস্থিতি

    তারেক রহমানের সামনে যত চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে অনেক পরিস্থিতি

    প্রায় দেড় যুগ লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

    দীর্ঘদিনের অপেক্ষা, জল্পনাকল্পনা ও নানা সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তার এ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দেশের রাজনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হয়েছে। তবে তার সামনে নানা চ্যালেঞ্জও রয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে এবং ভোটে জয়ী হলে সরকার গঠনের পরও বিএনপিকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন। তাদের মতে, মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জায়গায় কোন্দল নিরসন এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি অন্যান্য দলের সঙ্গে বিএনপির সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। এছাড়া মব ভায়োলেন্স ও পতিত আওয়ামী লীগসহ একটি গোষ্ঠীর নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্র মোকাবিলাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়েছে দাঁড়াতে পারে। আবার জনগণের ভোটে জয়লাভ করে সরকার গঠন করলে ধ্বংস হয়ে যাওয়া রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সঠিকভাবে মেরামত করে শক্তিশালী করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতাসহ মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেওয়া হবে আরও বড় চ্যালেঞ্জ।

    রোববার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, তারেক রহমানের জন্য এটি একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সময়। কারণ, বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে গভীর। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এ মুহূর্তে একধরনের ধ্বংসপ্রায় অবস্থার মধ্যে আছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে পড়েছে, পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এও আশঙ্কা করছেন, তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পতিত ফ্যাসিবাদ ও বিএনপিবিরোধী মতের অপতৎপরতা আরও জোরালো হতে পারে; যা ইতোমধ্যে শুরুও হয়েছে। তারেক রহমানকে টার্গেট করে অপপ্রচার, বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা দেখা যাচ্ছে। তাদের মতে, দেশে ফেরার পর এসব অপতৎপরতা আরও সংগঠিত ও আগ্রাসী হতে পারে। ফলে দল হিসাবে বিএনপিকে আগেভাগেই ডিজিটাল পর্যায়েও সজাগ ও প্রতিরোধমূলক অবস্থান নিতে হবে। এছাড়া তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের পর বিএনপির অভ্যন্তরেও নতুন চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে প্রভাববিস্তার, দৌড়ঝাঁপ ও সিন্ডিকেট তৈরির প্রবণতা মাথাচাড়া দিতে পারে। এগুলো সামাল দিতে হবে তারেক রহমানকে। রোববার রাজধানীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় প্রথম আলোর সম্পাদক মতিউর রহমান বলেন, আগামী দিনে সরকার গঠনকারী দলের জন্য সময়টা হবে বাংলাদেশের গত ৫০ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে কঠিন সময়। বিএনপির কাছ থেকে আরও বেশি সহ্যশক্তি, আরও বেশি সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা দেখতে পাওয়া যাবে বলে আশা করছি। বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, যে দল ক্ষমতায় আসতে যাচ্ছে, তাদের নেতৃত্ব, আচরণ ও বিনয় আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তারেক রহমানও বিভিন্ন সভায় নিজেই বলেছেন, সামনে অনেক কাজ, অনেক চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশ একটি সম্ভাবনাময় দেশ। দেশের মানুষ বিএনপির দিকে তাকিয়ে আছে। তারা বিএনপিকে আস্থায় রাখতে চায়। আমাদের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। নাহলে আমরা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে পারব না। আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ জনগণের আস্থা অর্জন করার পাশাপাশি রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়ন করা। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে না পারলে দেশ পিছিয়ে যাবে। বিএনপির নেতারা মনে করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশে ফেরার পর বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় এক অভাবনীয় উদ্দীপনা সৃষ্টি করবে। ১৭ বছর ধরে দলের নেতাকর্মীরা কেবল প্রযুক্তির পর্দায় নেতাকে দেখেছেন; কিন্তু সশরীরে পাশে পাওয়ার যে মানসিক শক্তি, তা ছিল অনুপস্থিত। ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান যখন ঢাকার রাজপথে নামবেন, তখন তা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করবে।

    মাঠ পর্যায়ের রাজনীতি নিয়ে গবেষণা করা বিশ্লেষকরা বলছেন, দূর থেকে নির্দেশনা দেওয়া আর সেনাপতির মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। তারেক রহমানের উপস্থিতি বিএনপির ঝিমিয়ে পড়া বা দ্বিধাগ্রস্ত কর্মীদের মধ্যে যে ত্বরিত গতির জাগরণ তৈরি করবে, তা নির্বাচনের মাঠের চেহারাই বদলে দেবে। কর্মীরা জানবে, তাদের নেতা তাদের সঙ্গেই আছেন। সাধারণ ভোটার, বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের ভোটারদের ওপরও এর বিশাল প্রভাব পড়বে। গত দেড় যুগে যারা নতুন ভোটার হয়েছেন, তারা তারেক রহমানকে সরাসরি দেখবেন, তার পরিকল্পনা শুনবেন।

    বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি যুগান্তরকে বলেন, রাজনীতিতে গুণগত যে পরিবর্তন, তারেক রহমানের বক্তব্যে বোঝা যায়। তারেক রহমান যে কথাগুলো বলছেন, এ কথাগুলার মধ্য দিয়ে জিয়াউর রহমান জীবদ্দশায় যে স্বপ্ন দেখিয়েছেন, আজ তারেক রহমান সে স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তহীনতায় থাকা ভোটাররা সাধারণত বিজয়ী দলের দিকেই ঝুঁকতে পছন্দ করেন। তারেক রহমানের নির্বাচনকেন্দ্রিক কর্মকাণ্ড দেখে এই নীরব ভোটারদের ভোটের স্রোত ধানের শীষের দিকেই ধাবিত হতে পারে।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. মাহবুব উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, সামনে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বিএনপির বিরুদ্ধে অনেক কথাবার্তা ছড়ানো হচ্ছে, এগুলোর যুক্তিসংগত এবং বিশ্বাসযোগ্য জবাব দেওয়া। নির্বাচনের মনোনয়নকে কেন্দ্র করে নানা জায়গায় গোলযোগ হচ্ছে, প্রতিবাদ হচ্ছে, তা শান্ত করা। সব পার্টিকে ঐক্যবদ্ধ করে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া। সমর্থক এবং জনগণকে আশ্বস্ত করা যে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পথ থেকে বিএনপি বিচ্যুত হয়নি। এরপর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই অস্থির অবস্থায় আছে। এ অস্থিরতার মধ্যে তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা, দলের অন্যান্য নেতার নিরাপত্তা, সার্বিকভাবে দেশের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, এর জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া। তিনি আরও বলেন, ৫ আগস্টের পরপর যে ঐক্য ছিল, সেই ঐক্যে এখন ফাটল ধরেছে। সেই ঐক্য আবার ফিরিয়ে আনতে হবে। যাতে বাংলাদেশ যে কোনো বহিঃশক্তির হস্তক্ষেপ, আগ্রাসন ইত্যাদি মোকাবিলা করতে পারে। সার্বিকভাবে জাতীয় ঐক্য বজায় রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।

    রাজনৈতিক বিশ্লেষক ড. দিলারা চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনি এলাকার বিভিন্ন জায়গায় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপি দ্বন্দ্বে জড়িয়ে যাচ্ছে। তারেক রহমানকে দলের নিয়ন্ত্রণ তার হাতে নিতে হবে তৃণমূল পর্যন্ত। আর নির্বাচনের পরের চ্যালেঞ্জ হলো-আমাদের তরুণ প্রজন্ম চায় বাংলাদেশের যে মালিকানা, এটা জনগণের হাতে ফেরত দিতে হবে। সেই কাজটি করতে হবে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে। তিনি বলেন, এখানে নানারকমের ফোর্স আছে, বাইরের শক্তি আছে। নিজেদের ভেতরে ডিভিশন আছে। তারেক রহমানের একটা বড় পরিসরে ঐক্য তৈরি করতে হবে। ঐক্য মানে পার্টির ঐক্য না। জনগণের সাপোর্টের একটা ঐক্য করতে হবে। এটাও তার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। আরেকটা হলো দুর্নীতি। দুর্নীতি দূর করলে বাংলাদেশের সমস্যা অর্ধেক সমাধান হয়ে যাবে।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করেন, ভোটের আগের চ্যালেঞ্জ হলো বিএনপিকে সংগঠিত রাখা। দলকে পূর্ণ শক্তি নিয়ে নির্বাচনে যাওয়া। যারা দলে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে চান, তাদের নিবৃত্ত করা, বিদ্রোহী যাতে না হতে পারেন। নির্বাচনি প্রচারণাও যথাযথভাবে করতে হবে। ভোটের মাঠে অন্যান্য দলের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হলো বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ। খেয়াল রাখতে হবে বিএনপির প্রচারণা অন্যান্য দলের চেয়ে যেন দুর্বল না হয়। আর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রশাসনের ভূমিকা যেন নির্বাচনকালীন বিএনপির বিরুদ্ধে না যায়। কেউ যেন বিএনপিকে প্রশাসনিকভাবে দুর্বল করতে না পারে, এটা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানকে খেয়াল রাখতে হবে নির্বাচনের সময়।

    তিনি বলেন, আমার কাছে মনে হয়, তারেক রহমান ফিরে এলে একধরনের শৃঙ্খলা চলে আসবে। দলের পাশাপাশি দেশের অধিকাংশ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা দেবে। বিএনপি মাঠে-ময়দানে যে অঙ্গীকার করছে, এর বাস্তবায়ন করে দলটিকে দেখাতে হবে। সামাজিক শৃঙ্খলা এবং প্রশাসনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে যা যা করার প্রয়োজন, তা করতে হবে। এটা করতে পারাটাই বিএনপির জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বাংলাদেশের মানুষকে সুশাসন দিতে হবে।

    দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইতিহাস বিষয়ের গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, বাংলাদেশকে ঘিরে একটা অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ইতোমধ্যে স্পষ্ট। একটা ফেইল স্টেট বানানোর অপচেষ্টা আছে। নির্বাচনে জেতার আগেই তারেক রহমানের একটা দায়িত্ব হলো ফেইল স্টেটের ষড়যন্ত্র থেকে বাংলাদেশকে রক্ষা করা। আসলে বাংলাদেশের যে কোনো রাজনীতিক দেশপ্রেমিক মানুষেরই এটা কর্তব্য। তিনি যেহেতু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা দলের শীর্ষ নেতা, ফলে তার দায়িত্ব অন্যদের চেয়ে বেশি। এ মুহূর্তে এটা প্রধান চ্যালেঞ্জ।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে যদি একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হয়ও, পরদিন থেকে এখানে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্তই থাকবে; যা হবে অনেক কারণে। একটা কারণ হলো-আওয়ামী লীগ এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছে না। ফলে ওরা রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করবে। তারপর এখানে ইতোমধ্যে একটা দক্ষিণপন্থি রাজনীতির উত্থান ঘটে গেছে। তারা তো আর নির্বাচনপন্থি না। তাদের ক্ষমতায় যাওয়ার আলাদা একটা ধরন আছে। তারাও চাইবে তাদের রাজনীতি নিয়ে ক্ষমতায় যেতে। একদিকে আওয়ামী লীগের উত্থান বা ফিরে আসার চেষ্টা, আরেকদিকে দক্ষিণপন্থিদের উত্থান-এই দুটো তারেক রহমানের, মানে পরবর্তী সরকারের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ।

    তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, একটা মহল তো স্পষ্টই চেষ্টা করছে যে কোনোভাবে নির্বাচনকে বানচাল করতে এবং বিএনপিকে যেন ঠেকানো যায়। সেটা তারেক রহমানের ব্যক্তিগত এবং দলীয় চ্যালেঞ্জ। এখন এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে তারেক রহমানের অবশ্যই একটা দক্ষ ও দেশপ্রেমিক মধ্যপন্থি রাজনৈতিক টিম দরকার। আবার কূটনীতির ক্ষেত্রেও একটা নিরপেক্ষ অবস্থান নেওয়া উচিত হবে। সবার সঙ্গে ভালো সম্পর্ক, আমরা কাউকে শত্রু বানাব না-এই পলিসিতে ফিরে যেতে হবে।

  • তালা লাগিয়ে বিএনপি নেতার ঘরে আগুন ‘আব্বু আমাকে নাও, আমাকে নাও’, পুড়তে পুড়তে বলছিল ছোট্ট আয়শা

    তালা লাগিয়ে বিএনপি নেতার ঘরে আগুন ‘আব্বু আমাকে নাও, আমাকে নাও’, পুড়তে পুড়তে বলছিল ছোট্ট আয়শা

    আগুন আর ধোঁয়ার তীব্রতায় ঘুম ভেঙে যায় নাজমা বেগমের। রাত দুইটা বাজে তখন। ঘরের ভেতর আগুন জ্বলছিল। সেই আগুনে পুড়ছিল নাজমার বুকের ধন ৭ বছর বয়সী মেয়ে আয়শা আক্তার। দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকা আগুনের মধ্যে দাঁড়িয়ে ছোট্ট আয়শা চিৎকার করছিল, ‘আব্বু, আমাকে নাও, আমাকে নাও।’ চোখের সামনে সেই দৃশ্য দেখলেও কোনোভাবেই আয়শার কাছে যেতে পারেননি মা। পুড়ে যাওয়ার ঘরের পাশে বসে বিলাপ করে কেবল সেই কথাই বলছিলেন তিনি।

    পোড়া বাড়ির সামনে বসে বিলাপ করছিলেন নাজমা বেগম। চোখের জল শুকিয়ে গেলেও নাজমার আহাজারি থামেনি। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘আগুন লাগার পর বড় মেয়ে আর মেজ মেয়েকে টিনের ফাঁক দিয়ে ঘর থেকে বের করা হয়। ছোট মেয়েটা শুধু চিৎকার করছিল—আব্বু আমাকে নাও, আমাকে নাও বলে। কিন্তু আমরা কিছুই করতে পারিনি। আমার চোখের সামনে মেয়েটা পুড়ে গেল। ক্ষণে ক্ষণে মাটি চাপড়ে চিৎকার করে উঠছিলেন নাজমা বেগম,  ‘আয়েশা, মা রে। তুই কোথায় গেলি?’ একপর্যায়ে অচেতন হয়ে যান তিনি।

    লক্ষ্মীপুরের ভবানীগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক এবং সুতারগোপ্তা বাজারের সার ও কীটনাশক ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন এ ঘটনাকে নাশকতা বলে দাবি করেছেন। গতকাল দিবাগত রাত দুইটার দিকে তাঁর বাড়ির দরজায় তালা দিয়ে পেট্রল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় পুড়ে মারা যায় তাঁর ৭ বছর বয়সী মেয়ে আয়শা। গুরুতর দগ্ধ হয় দুই মেয়ে বীথি আক্তার (১৭) ও স্মৃতি আক্তার (১৪)। তাদের দুজনকে চিকিৎসার জন্য জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বেলালকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আগুনে বেলাল হোসেনের ঘরটিও পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন বেলাল নিজেও। তাঁকে জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আজ বিকেলে পারিবারিক কবরস্থানে আয়েশার লাশ দাফন করা হয়।

    ‘দরজায় তালা লাগিয়ে’ বিএনপি নেতার ঘরে আগুন, ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু, দগ্ধ আরও ৩

    আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর। আজ সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায়
    আগুনে পুড়ে যাওয়া ঘর। আজ সকালে লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামের সূতারগোপ্তা এলাকায়ছবি: স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত

    লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বেলাল হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘ঘরের দুই দরজায় তালাবন্ধ ছিল। এ জন্য দুই মেয়ে, স্ত্রী নিয়ে আমি নিজে ঘরের টিনের বেড়া ফাঁকা করে বের হয়েছি। এ সময় ছোট মেয়ে চিৎকার করছিল। কিন্তু আমি আগুনের তীব্রতা আর ধোঁয়ায় কিছুই দেখতে পারছিলাম না। একপর্যায়ে আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে ঘরে ঢুকতে পারিনি।’

    পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাতের খাবার খেয়ে বেলালের পরিবারের সদস্যরা সবাই ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। রাত দুইটার দিকে দরজায় তালা লাগিয়ে ঘরে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়া হয়, ফলে তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

    প্রতিবেশী আবদুল কাদের বলেন, ‘এমন নৃশংস ঘটনা এ এলাকায় কখনো ঘটেনি। আগুন লাগার সময় আমরা ছুটে আসি। কিন্তু আগুন এত তীব্র ছিল যে কেউ তার কাছে যেতে পারেনি।’

    জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাছিবুর রহমান বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এর আগে দরজায়ও তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। পরিকল্পিতভাবে এ কাজটি করেছে সন্ত্রাসীরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

    লক্ষ্মীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। এটি পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে কি না, সে বিষয়টি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। যদি পরিকল্পিত ঘটনা হয়, তাহলে আগুন লাগানোর পেছনে কারা জড়িত, কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে—সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বেলাল মেয়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নেন। শোকার্ত এই বাবা বলেন, ‘আমার বাড়িতে কারা আগুন দিয়েছে, তা খুঁজে বের করতে হবে পুলিশকে। মেয়ের হত্যার বিচারটুকু অন্তত নিশ্চিত হোক।’

  • দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার গাজীপুরে গ্রেফতার।

    দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান সিকদার গাজীপুরে গ্রেফতার।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকী উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান সিকদারকে পুলিশ। প্রেপ্তার করেছে।
    শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভোর রাত ৪টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় ছেলের বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান সিকদার অসুস্থতার কারণে চিকিৎসার জন্য কিছু দিন ধরে গাজীপুরে তাঁর ছেলের বাসায় অবস্থান করছিলেন। ভোর রাতে কাশিমপুর থানা পুলিশ সেখানে অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে। পরে তাঁকে পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়।
    মিজানুর রহমানের ছেলে জিহাদ সিকদার জানান, পুলিশ তাঁর বাবাকে গাজীপুর আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।এ বিষয়ে দুমকী খানার অফিসার ইনচার্জ মো. সেলিম উদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারের বিষয়টি তিনি। শুনেছেন, তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য পৌঁছায়নি।