Author: তরঙ্গ টিভি

  • মানবিকতার আলোকবর্তিকা ডা. অমিতাভ তরফদার।।

    মানবিকতার আলোকবর্তিকা ডা. অমিতাভ তরফদার।।

    চিকিৎসা যখন পেশার গণ্ডি পেরিয়ে মানবিক দায়বদ্ধতায় রূপ নেয়, তখনই জন্ম নেয় ডা. অমিতাভ তরফদারের মতো মানুষ

    । আন্তরিক ব্যবহার, সততা ও গভীর সহমর্মিতায় তিনি প্রান্তিক মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন। রোগীর সঙ্গে তার বন্ধুসুলভ আলাপন অনেক সময় ওষুধের আগেই কাজ করে—ভরসা জাগায়, সুস্থতার মনোবল বাড়ায়।

    একজন আদর্শ চিকিৎসকের প্রধান দায়িত্ব রোগীকে সম্মান করা—এই নীতিতেই বিশ্বাসী ডা. অমিতাভ। কোনো তুচ্ছতা নয়, বরং ধৈর্য ও মানবিক মমতায় তিনি রোগীর কষ্ট অনুভব করেন। ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই তার কাছে পান সমান মনোযোগ ও যত্ন। মানুষকে আপন করে নেওয়ার যে সহজাত ক্ষমতা তার আছে, সেটাই তাকে আলাদা করে তুলে ধরেছে।শহরের আরামদায়ক জীবন ছেড়ে মানবসেবার টানে তিনি গ্রামাঞ্চলে আসেন। লক্ষ্য ছিল সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়া। বর্তমানে তিনি দুমকি উপজেলার বিশেষায়িত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান লুথ্যরান হেলথ কেয়ার-এ আবাসিক মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অল্প সময়েই তিনি এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন এবং “মানবিক ডাক্তার” হিসেবে জেলা জুড়ে পরিচিতি লাভ করেন।

    ডা. অমিতাভ তরফদার ২০১৩ সালের জুলাই মাসে এমবিবিএস পাস করেন এবং ২০১৪ সালে ইন্টার্নশিপ সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি নাইটিঙ্গেল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতালে ইমার্জেন্সি, মেডিসিন, সার্জারি ও শিশু বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

    ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে তিনি লুথ্যরান হেলথ কেয়ারে যোগ দেন এবং তখন থেকেই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হন।রোগীদের সঙ্গে সদাচরণ, সেবার মানোন্নয়ন এবং আন্তরিকতার মাধ্যমে তিনি লুথ্যরান হেলথ কেয়ারের হারানো বিশ্বাস পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া ও নিজ খরচে ওষুধ সরবরাহ—এমন মানবিক উদ্যোগে বহু অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।
    লুথ্যরান হেলথ কেয়ারে চিকিৎসা নেওয়া রোগী মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ডিগ্রি নয়, গুণই একজন মানুষকে ভালো চিকিৎসক বানায়—ডা. অমিতাভ তার প্রমাণ।” শিশুর মা সোনিয়া আক্তার বলেন, “তার সঙ্গে কথা বললেই মনের ভয় কেটে যায়, রোগও যেন অর্ধেক কমে যায়।”

    ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর খুলনায় জন্ম নেওয়া ডা. অমিতাভ তরফদার একজন অবসরপ্রাপ্ত নার্সিং সুপারভাইজারের সন্তান। ব্যক্তিজীবনে তিনি সদালাপী ও হাস্যোজ্জ্বল মানুষ। মানবসেবাকে জীবনের মূল লক্ষ্য হিসেবে নিয়ে আজ তিনি দুমকি ও আশপাশের অঞ্চলে একজন সত্যিকারের মানবিক চিকিৎসক হিসেবে ব্যাপক সম্মান ও ভালোবাসা অর্জন করেছেন।

  • দুমকি উপজেলায়,  মুরাদিয়াতে ট্রলি-অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু।।

    দুমকি উপজেলায়, মুরাদিয়াতে ট্রলি-অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবকের মৃত্যু।।

     

    পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ট্রলি ভ্যান ও যাত্রীবাহী অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে সিয়াম (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমির হোসেনের রাস্তার মাথা এলাকার গ্রামীণ ব্যাংকের পাশের সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

    নিহত সিয়াম বাউফল উপজেলার বামনীকাঠী এলাকার দেওয়ান বাড়ী তার স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের পর অটোটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের পুকুরে উল্টে পড়ে যায়।

    তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে যাত্রীদের উদ্ধার কাজ শুরু করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শুরুতে অটোর চালক জানান যে ভেতরে আর কেউ নেই।

    পরে পানি পরিষ্কার হলে স্থানীয় এক নারী পানির নিচে পড়ে থাকা সিয়ামের প্যান্ট দেখে চিৎকার করেন এবং তাকে উদ্ধার করা হয়। গুরুতর অবস্থায় সিয়ামকে দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ সেলিম উদ্দিন বলেন, বালুবোঝাই একটি টমটমের সঙ্গে অটোর মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোটি রাস্তা থেকে ছিটকে পুকুরে পড়ে যায়।

  • তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে

    তেঁতুলিয়ায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, তাপমাত্রা ৯ ডিগ্রির ঘরে

    পঞ্চগড়ে শীতের তীব্রতা দিন দিন আরও বাড়ছে। টানা পাঁচ দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ঘরেই অবস্থান করার পর আজ বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ১০ ডিগ্রিরও নিচে। ভোর ৬টায় তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ। এতে এলাকায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে।

    শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে মানুষের দুর্ভোগও। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা উপেক্ষা করে নিম্নআয়ের মানুষদের মাঠে-ঘাটে বের হতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। রাস্তাঘাট, বাড়ির সামনে কিংবা চা-স্টলের পাশে খড়কুটো জ্বালিয়ে অনেকে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

    এর আগে গত পাঁচ দিনে তেঁতুলিয়ার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকাল ৯টায় পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৭৭ শতাংশ। দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৮ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে একই তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল, বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    এছাড়া, সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১০ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস ও আর্দ্রতা ৮৪ শতাংশ। সেদিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড হয় ২৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

    তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় বলেন, টানা পাঁচ দিন ধরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে অবস্থান করার পর আজ তা আরও কমেছে। এলাকাজুড়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। সামনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে।

    পঞ্চগড়ের জেলা প্রশাসক কাজী মো. সায়েমুজ্জামান বলেন, শীতের এই দুর্যোগে জেলা প্রশাসনের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। পঞ্চগড় জেলা প্রশাসন নিয়মিতভাবেই সেই দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এ অর্থে ৮ হাজার ৬৪০টি কম্বল ক্রয় করে জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৩টি ইউনিয়নে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৬৫ হাজার কম্বলের চাহিদা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

  • বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি বঞ্চনার অভিযোগ, জবাব দিলেন ডিপজল

    বোনদের পৈতৃক সম্পত্তি বঞ্চনার অভিযোগ, জবাব দিলেন ডিপজল

    পৈতৃক সম্পত্তিকে কেন্দ্র করে বিপাকে জড়িয়েছেন ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল। তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত রাখা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং জানমালের নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ এনেছেন অভিনেতার চার বোন। 

    গত বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) রাজধানীতে সংবাদ সম্মেলনে চার বোন দাবি করেন, প্রায় ৪০ বছর ধরে বাবার সম্পত্তিতে তাদের ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত করেছে ডিপজলসহ তাদের তিন ভাই। বহুবার আশ্বাস পাওয়ার পরও কোনো সমাধান হয়নি বলেও অভিযোগ তাদের।

    এ অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দীর্ঘ ফেসবুক স্ট্যাটাস দেন ডিপজল। সেখানে তিনি বোনদের অভিযোগকে ‘মিথ্যা অপবাদ’ বলে উল্লেখ করেন। লেখেন, ‘সম্প্রতি আমার কিছু বোন আমাকে নিয়ে যে মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে দিয়েছে, তার বিষয়ে আমি আপনাদের সামনে কিছু বাস্তবতা তুলে ধরতে চাই। প্রথমেই পরিষ্কার করে বলতে চাই, এই বক্তব্য দেওয়ার উদ্দেশ্য কাউকে অসম্মান করা নয়। বরং আমার প্রতি ছড়ানো ভুল ধারণা ও মিথ্যা অপবাদের বিষয়ে সত্য তুলে ধরা। মামলার আইনি জবাব আমি আইন অনুযায়ী দেবো, ইনশাআল্লাহ।’

    ডিপজল লিখেছেন, ‘আমার বোনদের আমি সবসময় সম্মান, ভালোবাসা ও সাধ্যমতো সহযোগিতা করে এসেছি, এ কথা আমার এলাকার মানুষ ও আশেপাশের পরিচিত সবাই জানেন। একজন বোন ক্যামেরার সামনে কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, তার অসুস্থ সন্তানের খোঁজ কেউ নেয়নি। অথচ, তার সন্তানের চিকিৎসার জন্য আল্লাহর দেওয়া সামর্থ্য অনুযায়ী আমি আমার পক্ষ থেকে একটি বড় অংকের সহায়তা করেছি এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা ভারতে পর্যন্ত করেছি। আজ ক্যামেরার সামনে তিনি যেন সব ভুলে গেলেন! পর্দায় অভিনয় আমি করি, বাস্তব জীবনে নয়। যদি জানতাম কোনোদিন বাস্তব জীবনে এমন অভিনয়ের সম্মুখীন হতে হবে, তাহলে হয়তো প্রতিটি কাজের প্রমাণ রেখে দিতাম।’

    ডিপজল লেখেন, ‘আরেক বোন বলেছেন, ১১ বছর ধরে নাকি আমার সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগ নেই। অথচ মাত্র দুই মাস আগেই তাকে ও তার সন্তানকে যথেষ্ট পরিমাণ অর্থ সাহায্য করা হয়েছে। আমার সাধ্যের মধ্যে সবসময়ই আমি তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। এতো কিছু লিখে শেষ করা সম্ভব নয়।’

    প্রশ্ন তুলে ডিপজল লেখেন, ‘৩৫ বছর পর আজ হঠাৎ তারা কেন এবং কার প্ররোচনায় এমন মিথ্যা বলছে, এ প্রশ্ন আমারও আছে। যদি সত্যিই কোনো দাবি থাকত, ভালোবাসার সম্পর্ক ধরে সরাসরি বললেই আমি তাদের ২-৩ গুণ বেশি দিয়ে দিতে প্রস্তুত ছিলাম। আমি ডিপজল, আমার সাধ্যের মধ্যে কাউকে ফিরিয়ে দেই না আল্লাহর রহমতে, আর তারা তো আমার আপন ভাইবোন।’

    স্ট্যাটাসে ডিপজল লেখেন, ‘যে বোন পর্দা করেন বলে প্রতিটি অনুষ্ঠানে আমি আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করেছি, সেই বোনের মুখেই আজ এমন কথা শুনতে হলো, এটা সত্যিই কষ্টের। আমি দেশবাসীকে অনুরোধ করছি, মামলার সব কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। আদালতেই সত্য প্রকাশ পাবে, ইনশাআল্লাহ।’

    নিজের অসুস্থতার কথাও উল্লেখ করেন এ অভিনেতা। লেখেন, ‘জীবনে যতটুকু পেরেছি তাদের জন্য করেছি। আরও সময় পেলে হয়তো আরও করতাম। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এমন আচরণ সত্যিই কষ্টদায়ক। সম্মান দেওয়ার মালিক আল্লাহ। আল্লাহই সবকিছুর উত্তম বিচারক।’

  • চুরিতে বাধা দেওয়ায় খুন হন মা ও মেয়ে

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে মা লায়লা আফরোজ (৪৮) ও মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশাকে (২০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ বলছে, চুরি করে পালানোর সময় বাধা দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।

    এর আগে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) ঝালকাঠির নলছিটি এলাকা থেকে মোহাম্মদপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।

    গ্রেপ্তারকৃত আয়েশা নরসিংদী সদর থানার সলিমগঞ্জ এলাকার রবিউল ইসলামের মেয়ে। বর্তমানে তিনি সাভারের হেমায়েতপুর পূর্বহাটি এলাকায় ভাড়া বাসায় স্বামী রাব্বি সিকদারকে নিয়ে থাকতেন।

    তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার পর থেকেই একাধিক টিম নিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় আমরা তদন্ত চালাচ্ছিলাম। প্রথমে তার বর্তমান বাসা খোঁজে পাই। এরপর তার মায়ের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে নিশ্চিত হই যে, সে ঝালকাঠির নলছিটি এলাকায় দাদা শ্বশুরবাড়িতে অবস্থান করছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত আসামি আয়েশাকে গ্রেপ্তার করি। তার স্বামী রাব্বিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আয়েশা জানিয়েছে- এক দিন আগে ওই বাসা থেকে কিছু মালামাল চুরি হয়। পরদিন সে বাসার ডেট নিয়ে বের হতে গেলে গৃহকর্ত্রী লায়লা আফরোজ তাকে বলেন, ‘তোমাকে চেক করবো, পুলিশ ডাকব।’ এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে লায়লা আফরোজকে হত্যা করে। এরপর তার মেয়ে নাফিসা এগিয়ে এলে তাকেও ছুরিকাঘাত করে। পরে বাসা থেকে দুটি ল্যাপটপ ও একটি মোবাইল নিয়ে পালিয়ে যায়।

    পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর সে স্বামীকে বিষয়টি জানায়। ঘটনা গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার হলে রাব্বি তাদের ছোট সন্তানের কথা ভেবে স্ত্রীকে নিয়ে দাদাবাড়িতে পালিয়ে যায়। আমরা সেখান থেকে তাদের গ্রেপ্তার করি। সে জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার বা নগদ টাকা নেয়নি। বাসা থেকে নেওয়া দুটি ল্যাপটপের মধ্যে একটি বিক্রি করেছে, আরেকটি উদ্ধার করা গেছে। বিক্রি করা ল্যাপটপও উদ্ধার করা হবে। মোবাইল ফোনটি সে পানিতে ফেলে দিয়েছে।

    তিনি বলেন, আয়েশা ও তার স্বামীকে নিয়ে আমরা ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছি। ঘটনার পেছনে আরও কোনো রহস্য আছে কিনা, পরবর্তী তদন্তে তা জানানো হবে।

    উল্লেখ্য, গত সোমবার মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসার সপ্তম তলায় ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় মা লায়লা আফরোজ ও মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে। ঘটনাস্থল থেকে লায়লাকে উদ্ধার করে পুলিশ এবং আহত অবস্থায় মেয়েকে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

    পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পায়, গৃহকর্মী আয়েশা সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরকা পরে বাসায় প্রবেশ করেন এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে মুখে মাস্ক ও স্কুল ড্রেস পরে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। পরে পুলিশ বাথরুমের বালতি থেকে হত্যায় ব্যবহৃত দুটি ছুরি উদ্ধার করে।

    এ ঘটনায় নিহতের স্বামী আ. জ. ম. আজিজুল ইসলাম মোহাম্মদপুর থানায় গৃহকর্মী আয়েশার নামে হত্যা মামলা করেন। এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন- চার দিন আগে নিরাপত্তাকর্মী মালেক আয়েশাকে বাসায় পাঠান। পরে তার স্ত্রী তাকে বাসায় কাজে নেন। পরে ওই গৃহকর্মী নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে পালিয়ে যায়।

    সুরতহাল প্রতিবেদনে লায়লা আফরোজের দেহে অন্তত ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৬টি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। ঘটনার তিন দিন পর মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

  • বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমিসহ দোকান দখলের অভিযোগ

    বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে জমিসহ দোকান দখলের অভিযোগ

    শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর দোকানের মালামাল লুট করে ঘর দখলের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবরের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীর দাবি, তিনি জমি কিনে সেখানে দোকানঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা করছিলেন। কয়েকদিন আগে ওই নেতা ও তার ছেলে দলীয় প্রভাব দেখিয়ে দোকানসহ পুরো সম্পত্তি দখল করে নিয়েছেন। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সুরুজ মাদবর বলছেন, দোকানের জমিটি তাদের ক্রয়কৃত।

    সোমবার (৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলা কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত এক মানববন্ধনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী সোবহান মাদবর।

    মানববন্ধনে ভুক্তভোগীরা জানান, জাজিরা উপজেলার ডুবিসায়বর বন্দর কাজীরহাট এলাকায় জমি কিনে গত ৮ বছর ধরে দোকানঘর নির্মাণ করে কাঠের ফার্নিচার ও টিনের ব্যবসা চালাচ্ছেন সোবহান মাদবর। তাদের অভিযোগ, ৫ আগস্টের পর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর ও তার ছেলে স্বাধীন মাদবর তাদের কাছে চাঁদা দাবি করে আসছেন। সোবহান মাদবর চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে গত মঙ্গলবার দিনগত রাতে দোকানের প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে দোকানটি দখল করে নেন সুরুজ মাদবর। দোকান ফেরত ও দোষীদের বিচারের দাবিও জানান তারা।

    ভুক্তভোগী সোবহান মাদবর বলেন, ৫ আগস্টের পর সুরুজ মাদবর বিএনপির প্রভাব দেখিয়ে আমার কাছে চাঁদা দাবি করেছেন। আমি টাকা না দিলে মঙ্গলবার রাতে লোকজন নিয়ে এসে আমার প্রায় ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। পরে তারা নিজেরাই দোকানে ব্যানার টানিয়ে দখল করে নেয়। বিএনপির নামে প্রভাব খাটিয়ে আমাকে এভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমি সুষ্ঠু বিচার চাই।

    এদিকে দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সুরুজ মাদবর জানান, দোকানের জমিটি তাদেরই। তিনি দাবি করেন, প্রকৃত মালিকের কাছ থেকে তারা জমিটি কিনেছেন। আওয়ামী লীগ সরকার আমলে কিছু লোক তাদের জায়গা দখলে রেখেছিল। এখন নিজেদের সম্পত্তিতে তারা ব্যবসা করছেন এবং কারো মালামাল লুট করেননি। তার কথায়, আমাদের জমির কাগজপত্র আছে। কেউ যদি কাগজ দেখাতে পারে, আমি জমি ছেড়ে দেবো।

    এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সভাপতি বজলু শিকদার জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তিনি বিষয়টি দেখেছেন, তবে এ নিয়ে তাদের কাছে কেউ অভিযোগ করেনি। তিনি আরও জানান, শুনেছেন জমিটি সুরুজ মাদবরের, যদি তার বিরুদ্ধে দখলের অভিযোগ থাকে, সেটি তার ব্যক্তিগত ব্যাপার, দলের প্রভাবের কোনো বিষয় নেই।

  • পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বখাটেদের গণধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী

    পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে বখাটেদের গণধর্ষণের শিকার শিক্ষার্থী

    শরীয়তপুর পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে এক শিক্ষার্থী। এ সময় তার সঙ্গে থাকা আরেক সহপাঠীকে আটকে রেখে মারধর করে আহত করে অভিযুক্ত বখাটেরা।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় জেলা শহরের বনবিভাগের কার্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই শিক্ষার্থীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

    ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী জানিয়েছেন, তিনি অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মঙ্গলবার বিকালে পরীক্ষা শেষে গাড়ির অপেক্ষা করতে করতে আরেক ছেলে বন্ধুর সঙ্গে তিনি হাঁটছিলেন। এ সময় তারা বনবিভাগের সামনের সড়কে আসলে তাদের গতিরোধ করে কয়েকজন যুবক। একপর্যায়ে তাদের বনবিভাগের মধ্যে নিয়ে ওই ছেলে শিক্ষার্থীকে মারধর করে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। অন্যদিকে তিন বখাটে যুবক পালাক্রমে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। পরে দীর্ঘ ২ ঘন্টা আটকে রাখার পর তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে সড়কে ছেড়ে দেয় অভিযুক্ত যুবকরা। এসময় স্থানীয়দের বিষয়টি খুলে বললে তারা তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

    ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, “আমাকে প্রথমে অনেক মারধর করা হয়। ওরা কমপক্ষে ১০ জন ছিলো। তাদের মধ্যে তিনজন আমার সঙ্গে খারাপ কাজ করেছে। আমি অনেক কান্নাকাটি করেছি, ওরা আমাকে ছাড়েনি। আমার সঙ্গে যেই অন্যায় হয়েছে তার বিচার চাই।”

    তার সঙ্গে ওই ছেলে শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা একসঙ্গে পড়াশোনা করি। আজ (মঙ্গলবার) আমাদের শেষ পরিক্ষা ছিলো। পরীক্ষা শেষে আমরা সবাই মিলে আড্ডা দিতে দিতে বিকাল হয়ে যায়। পরে আমি আর আমার ওই বন্ধু (ভুক্তভোগী মেয়ে) কিছুক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করি। বাস না পেয়ে সামনে হাঁটা শুরু করি। পরে বনবিভাগের সামনে আসলে দুজন ছেলে আমাদের থামিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে বনবিভাগে নিয়ে যায়। আমাকে আটকে রেখে মোবাইল নিয়ে গিয়ে অনেক মারধর করে টাকা দাবি করে। আর আমার ওই বান্ধবীকে জোর করে একটি ঝোপের দিকে টেনে নিয়ে যায়। কমপক্ষে ২ ঘন্টা আমাদের আটকে রাখা হয়।”

    ঘটনার পর প্রথম তাদের দেখা শাহাবুদ্দিন নামের এক স্থানীয় বলেন, “আমি বাসায় ফিরছিলাম। হঠাৎ দেখি কয়েকজন ছেলে এক মেয়েকে নিয়ে বনবিভাগের দিক থেকে আসছে। এলাকাটি নির্জন হওয়ায় মেয়েটিকে প্রশ্ন করলে সে উত্তর দিতে ভয় পাচ্ছিলো। পরে তার সঙ্গে থাকা একটি ছেলে আমাকে ইশারা করলে তাদের সমস্যায় পড়ার বিষয়টি বুঝতে পারি। তখন পাশে থাকা অন্য যুবকের পরিচয় জিজ্ঞেস করা মাত্রই তারা দৌঁড়ে পালিয়ে যায়। আমি তাদের ধরার চেষ্টা করলেও পারিনি। পরে মেয়েটি কান্নাকাটি করে আমাদের সব খুলে বলে।”

    সৈয়দ রাব্বি নামের আরেক স্থানীয় বলেন, “আমাকে দেখে মেয়েটি পায়ে পড়ে সাহায্য চায়। আমি দ্রুত তাকে একটি দোকানে নিয়ে বসাই। পরে সে অসুস্থ হওয়ায় লোকজন নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি ও পুলিশকে খবর দেই। ঘটনার তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের কঠিন থেকে কঠিনতর শাস্তির দাবি জানাই।”

    সদর হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক খন্দকার রাশেদ আহম্মেদ বলেন, “মেয়েটি আমাদের কাছে জানিয়েছে তাকে শারীরিকভাবে মারধর ও যৌন নিপীড়ন করা হয়েছে। আমাদের নারী চিকিৎসক আসার পর তার পরিক্ষা-নিরীক্ষা করা হবে।”

    এ ব্যাপারে পালং মডেল থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক হাফিজুর রহমান বলেন, “মেয়েটি অসুস্থ হওয়ায় এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কথা বলতে পারিনি। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা চলছে। তাদের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

  • ‘উপদেষ্টা আসিফ জোর করেই আমাকে কুমিল্লার দায়িত্ব দিয়েছেন’

    ‘উপদেষ্টা আসিফ জোর করেই আমাকে কুমিল্লার দায়িত্ব দিয়েছেন’

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাকে বলতে শোনা গেছে ‘উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অনেকটা জোর করেই আমাকে কুমিল্লা জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন।’ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হতে থাকে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কুমিল্লাজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। 

    ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার চাকরি জীবনের প্রায় ২০ বছরের মতো আমি কুমিল্লার বাইরে চাকরি করেছি। ২০ বছর পরে এসে কুমিল্লা জেলায় চাকরি করার সুযোগ হয়েছে। আমাদের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক রকম জোর করেই আমাকে কুমিল্লা জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি দেখলাম যে কুমিল্লা জেলায় এলজিইডিতে অনেক কাজ। সাড়ে পনেরোশোর ওপরে কন্ট্রাক্ট। মানে সাড়ে পনেরোশো ঠিকাদার। তার মানে সাড়ে পনেরোশো রাস্তা বা ব্রিজ। কিন্তু কাজ হয় না। বেশিরভাগ কাজ বন্ধ। যেগুলো হয় কোয়ালিটি খারাপ। আমি একটা কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম, তথ্য নেওয়া শুরু করলাম। কাজ খারাপ হইলে কী করা যায় করলাম। তিতাসের বাতাকান্দি ব্রিজ বানিয়ে ফেলেছে, কমপ্লিট ব্রিজ। আমি পরিদর্শন করতে গেলাম, গিয়ে দেখলাম যে ব্রিজের ঢালাই এর কাজ খারাপ হয়েছে, এই যে ব্রিজের ঢালাই কাজ হয়েছে আমি জানি না।’

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় এ বক্তব্য দেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন। ওই সভায় উপস্থিত কেউ একজন তারে বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    বক্তব্যের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মতিনকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে থাকা হোয়াটসঅ্যাপে একটি খুদে বার্তা পাঠালে তিনি সেখানে একটি গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপি পাঠান। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে ঢাকা পোস্টকে তার কোনো বক্তব্য জানাননি।

  • মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় সেই গৃহকর্মী গ্রেপ্তার

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ঝালকাঠির নলছিটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

    পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের মোহাম্মদপুর জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

    তিনি জানান, মা-মেয়ে হত্যার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত গৃহকর্মী আয়েশা ঝালকাঠি জেলার নলছিটিতে তার দাদা শ্বশুর বাড়িতে আত্মগোপনে ছিল। তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার, এডিসি এবং এসির সরাসরি তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহিদুল ওসমান মাসুম ও এস আই খোরশেদ আলম অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডে গত সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে আলোচিত এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে। তখন নিহত লায়লা আফরোজের (৪৮) স্বামী ও শিক্ষক আ জ ম আজিজুল ইসলাম তার কর্মস্থলে ছিলেন।

    dhakapost

    এ ঘটনায় নিহতরা হলেন লায়লা আফরোজ এবং তার মেয়ে নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজ (১৫), যে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

    ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের দুজনকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। লায়লা আফরোজের শরীরে প্রায় ৩০টি এবং নাফিসার দেহে ৬টি গভীর ক্ষতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

    শুরু থেকেই এই ঘটনার প্রধান সন্দেহভাজন ছিলেন তাদের বাসায় মাত্র চার দিন আগে কাজে আসা গৃহকর্মী, যার নাম আয়েশা বলে জানিয়েছিল সে।

    হত্যাকাণ্ডের দিন ওই বাসার সিসিটিভি ফুটেজে দেখতে পাওয়া যায়— অভিযুক্ত গৃহকর্মী সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করে এবং সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

  • সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি আজ, ঘরে বসেই দেখা যাবে ফল

    সরকারি-বেসরকারি স্কুলে ভর্তির লটারি আজ, ঘরে বসেই দেখা যাবে ফল

    দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি প্রক্রিয়ার অন্যতম ধাপ ডিজিটাল লটারি আজ অনুষ্ঠিত হবে। সরকারি ও বেসরকারি দুই পর্যায়ের স্কুলেই প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের ভাগ্য নির্ধারণ হবে এ লটারিতে। 

    বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে লটারি শুরু হলেও ফল জানতে শিক্ষার্থী বা অভিভাবকদের সেখানে যেতে হবে না।

    ঘরে বসেই অনলাইনে নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে দ্রুত ফল জানা যাবে বলে জানিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

    মাউশি জানায়, গত ২১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে স্কুলে ভর্তির আবেদন গ্রহণ শুরু হয়। যা শেষ হয় ৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফলভাবে আবেদন করেছে মোট ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৫৪ জন শিক্ষার্থী। ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে চার হাজার ৪৮টি সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রথম থেকে নবম শ্রেণিতে ভর্তি গ্রহণ করা হবে। এর মধ্যে সরকারি স্কুল ৬৮৮টি এবং বেসরকারি স্কুল তিন হাজার ৩৬০টি।

    অন্যদিকে, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মিলিয়ে শূন্য আসন রয়েছে মোট ১১ লাখ ৯৩ হাজার ২৮১টি। সরকারি স্কুলে শূন্য আসন ১ লাখ ২১ হাজার ৩০টি হলেও আবেদন জমা পড়েছে ৭ লাখ ১৯ হাজার ৮৫৪টি। প্রতি আসনে গড়ে প্রায় ছয়জন করে আবেদনকারী। অন্যদিকে বেসরকারি স্কুলে শূন্য আসন ১০ লাখ ৭২ হাজার ২৫১টি। এর বিপরীতে আবেদন করেছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ১৯৬ জন শিক্ষার্থী। ফলে সব শিক্ষার্থী সুযোগ পেলেও ৭ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি আসন শূন্যই থেকে যাবে।

    ফল জানা যাবে যেভাবে

    শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের লটারির ফল জানতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে যাওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে মাউশি। লটারির প্রক্রিয়া শেষ হলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা অনলাইনে নির্ধারিত আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে ফলাফল ডাউনলোড করতে পারবেন। ওয়েবসাইট থেকে ফল ডাউনলোড করার পর প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা তা জেলা ও উপজেলা ভর্তি কমিটির সভাপতি বরাবর ই-মেইলে পাঠিয়ে মাউশিকে অবহিত করবেন। এরপর ভর্তি কমিটির বৈঠক ডেকে নিয়ম মেনে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ভর্তি সম্পন্ন করা হবে।