Author: তরঙ্গ টিভি

  • মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা হত্যার পর গোসল করে স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী আয়েশা

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা হত্যার পর গোসল করে স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী আয়েশা

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় গৃহিনী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। এরপর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

    সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ বলছে, মাত্র চার দিন আগে বাসার দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে ওই মেয়েকে আনা হয়। পরে গৃহকর্মী হিসেবে নিহত মালাইলা আফরোজের বাসায় কাজ দেওয়া হয়। তখন নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়। পরে মা-মেয়েকে হত্যার পর নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায় সেই মেয়ে।

    ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত মালাইলা আফরোজ (৪৮) গৃহিণী। মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম পেশায় শিক্ষক। তিনি উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক।

    ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশ্যে সকাল ৭টার দিকে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসার লিফটে ওঠে সাত তলায় যায় গৃহকর্মী আয়েশা। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ড্রেস পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

    নিহত নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চারদিন আগে একটি মেয়ে আসে। বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়।

    পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর। জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তার শরীরেও আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মেয়েটা কাজ শুরুর পর প্রথম দুদিন সময়মতো এসেছে। গতকাল সে সাড়ে ৯টার দিকে আসে। আজ কী হয়েছে, এটা তো আর বলার অবস্থায় নেই।

    এদিকে ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ। বাসার আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা।

    পুলিশের আরেকটি সূত্র জানায়, মাকে হত্যার পর ওই মেয়েটি দৌড়ে রক্তাক্ত অবস্থায় হয়তো ইন্টারকমে সিকিউরিটি গার্ডকে ফোন দিতে চেয়েছিল। কিন্তু সেখানে গিয়ে ইন্টারকমের লাইনটি খোলা পাওয়া যায়। মেয়েটি খুব সুন্দরভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করে বাথরুমে গিয়ে গোসল করে শরীরের রক্ত পরিষ্কার করে নাফিসার স্কুলের ড্রেস পরে নির্দ্বিধায় গেট দিয়ে বেরিয়ে যায়।

    তল্লাশি করে বাথরুমে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করেছে গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে নেওয়ার পর মারা যায়। পরে লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে।

    গৃহকর্মীর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে-পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।

    বাসার ভেতরের অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে, মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় রয়েছে। যা মনে করছি, প্রাথমিকভাবে কিছু খোয়া যেতে পারে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনকেই দেখেছি, পরে দেখব আশপাশে আরও কেউ ছিল কি না?

    তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকারী ফ্রেশ হয়েছে বাথরুমে— এমন আলামত পাওয়া গেছে।

  • ‘উপদেষ্টা আসিফ জোর করেই আমাকে কুমিল্লার দায়িত্ব দিয়েছেন’

    ‘উপদেষ্টা আসিফ জোর করেই আমাকে কুমিল্লার দায়িত্ব দিয়েছেন’

    স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের একটি বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। যেখানে তাকে বলতে শোনা গেছে ‘উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ অনেকটা জোর করেই আমাকে কুমিল্লা জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন।’ মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুর থেকে ভিডিওটি ভাইরাল হতে থাকে। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর কুমিল্লাজুড়ে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। 

    ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিনকে বলতে শোনা যায়, ‘আমার চাকরি জীবনের প্রায় ২০ বছরের মতো আমি কুমিল্লার বাইরে চাকরি করেছি। ২০ বছর পরে এসে কুমিল্লা জেলায় চাকরি করার সুযোগ হয়েছে। আমাদের মাননীয় উপদেষ্টা জনাব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এক রকম জোর করেই আমাকে কুমিল্লা জেলার দায়িত্ব দিয়েছেন। এই দায়িত্ব নেওয়ার পরে আমি দেখলাম যে কুমিল্লা জেলায় এলজিইডিতে অনেক কাজ। সাড়ে পনেরোশোর ওপরে কন্ট্রাক্ট। মানে সাড়ে পনেরোশো ঠিকাদার। তার মানে সাড়ে পনেরোশো রাস্তা বা ব্রিজ। কিন্তু কাজ হয় না। বেশিরভাগ কাজ বন্ধ। যেগুলো হয় কোয়ালিটি খারাপ। আমি একটা কমিউনিটির সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলাম, তথ্য নেওয়া শুরু করলাম। কাজ খারাপ হইলে কী করা যায় করলাম। তিতাসের বাতাকান্দি ব্রিজ বানিয়ে ফেলেছে, কমপ্লিট ব্রিজ। আমি পরিদর্শন করতে গেলাম, গিয়ে দেখলাম যে ব্রিজের ঢালাই এর কাজ খারাপ হয়েছে, এই যে ব্রিজের ঢালাই কাজ হয়েছে আমি জানি না।’

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে কুমিল্লা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আন্তর্জাতিক দুর্নীতি প্রতিরোধ দিবসের আলোচনা সভায় এ বক্তব্য দেন নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল মতিন। ওই সভায় উপস্থিত কেউ একজন তারে বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।

    বক্তব্যের বিষয়ে জানতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল মতিনকে বেশ কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তার ব্যবহৃত সরকারি নম্বরে থাকা হোয়াটসঅ্যাপে একটি খুদে বার্তা পাঠালে তিনি সেখানে একটি গণমাধ্যমে পাঠানো প্রতিবাদলিপি পাঠান। কিন্তু ভাইরাল ভিডিওর বিষয়ে ঢাকা পোস্টকে তার কোনো বক্তব্য জানাননি।

  • আসিফ-মাহফুজকে প্রধান উপদেষ্টা অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যা দিয়েছ, তা জাতি কখনো ভুলবে না

    আসিফ-মাহফুজকে প্রধান উপদেষ্টা অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যা দিয়েছ, তা জাতি কখনো ভুলবে না

    স্থানীয় সরকার, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আজ (বুধবার) বিকেল ৫টায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। প্রধান উপদেষ্টা তাদের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন।

    এরপর এ দুই তরুণের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবসময় তোমাদের অবদান স্মরণ করবে। এত অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যা দিয়েছ, তা জাতি কখনো ভুলবে না।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে এক ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

    প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বিকেল পাঁচটা নাগাদ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উপদেষ্টারা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় উপস্থিত হয়ে পদত্যাগপত্র জমা দিলে প্রধান উপদেষ্টা গ্রহণ করেন। তাদের পদত্যাগ নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর হবে।
    প্রেস সচিব আরও বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সম্মুখ সারিতে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া এই দুই ছাত্রনেতার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা তাদের ভবিষ্যৎ জীবনের মঙ্গল কামনা করেন।

    তাদের উদ্দেশ্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়ে তোমরা যেভাবে জাতিকে ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে মুক্তির পথে অবদান রেখেছ, তা জাতি মনে রাখবে। আমি বিশ্বাস করি, ভবিষ্যতেও গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও বিকাশে তোমরা একইভাবে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

    প্রধান উপদষ্টা আরও বলেন, আজ একটি ঐতিহাসিক দিন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সবসময় তোমাদের অবদান স্মরণ করবে। আমি তোমাদের সুন্দর ও শুভ ভবিষ্যৎ কামনা করি। এত অল্প সময়ে তোমরা জাতিকে যা দিয়েছ, তা জাতি কখনো ভুলবে না।

    তিনি বলেন, এটি একটি রূপান্তর মাত্র। আমি আশা করি, আগামীতে বৃহত্তর পরিমণ্ডলে তোমরা আরও বড় অবদান রাখবে।

    নিজেদের কর্মের মাধ্যমে দেশের মঙ্গলে নিয়োজিত থাকার আহ্বান জানিয়ে দুই ছাত্রনেতার উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সরকারে থেকে যে অভিজ্ঞতা তোমরা অর্জন করেছ, তা ভবিষ্যৎ জীবনে অবশ্যই কাজে লাগাতে হবে।

     

  • ২৯ দলের বৈঠক, আসন নিয়ে বিএনপির প্রতি ক্ষুব্ধ মিত্ররা

    ২৯ দলের বৈঠক, আসন নিয়ে বিএনপির প্রতি ক্ষুব্ধ মিত্ররা

    আসন ভাগাভাগি নিয়ে মিত্রদের সঙ্গে দূরত্ব বাড়ছে বিএনপির। এর মধ্যেই আজ (১০ ডিসেম্বর) বৈঠক করেছেন মিত্ররা। বিকালে রাজধানীর পল্টনে নাগরিক ঐক্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ২৯টি দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে আসন নিয়ে বিএনপির প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন মিত্ররা। এছাড়া বিএনপির সঙ্গে শিগগিরই তাদের বৈঠকে বসার সিদ্ধান্ত হয়।
    বৈঠকে অংশ নেন ৫ দলীয় জোট গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট, গণঅধিকার পরিষদ, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, নেজামে ইসলামী পার্টি ও গণফোরামের শীর্ষ নেতারা। এসব দল ও জোট বিএনপির সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে ছিল। মিত্র রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে ছিলেন- মাহমুদুর রহমান মান্না, সাইফুল হক, জোনায়েদ সাকিসহ ৫ দলের শীর্ষ নেতারা।
    এছাড়া ছিলেন- ১২ দলীয় জোটের প্রধান জাতীয় পার্টির (জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, সমন্বয়ক জাতীয় দলের অ্যাডভোকেট এহসানুল হুদা, গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর, সমমনা জোটের প্রধান সমন্বয়ক ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, গণফোরামের অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, নেজামে ইসলামী দলের আশরাফুল ইসলামসহ মোট ২৯টি দলের শীর্ষ নেতারা।
    গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক যুগান্তরকে বলেন, ‘বিএনপি যেভাবে তীরে এসে তরী ডুবাতে চাচ্ছে, এই জায়গাগুলো নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। বিএনপি তার এই দীর্ঘ দিনের পরীক্ষিত বন্ধুদেরকে যেভাবে বেকার ও আধা বেকার করে দুই ধাপে আসন ঘোষণা করেছে, এটা আমাদের সংক্ষুব্ধ করেছে। আলোচনা হয়েছে বিএনপি তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসছে কিনা। আমাদের কাছে মনে হয়েছে বিএনপি একলা চলো নীতি গ্রহণ করেছে কিনা। আমরা বলেছি, বিএনপির সঙ্গে খুব দ্রুতই আমরা বসতে চাই। বসে বিষয়টা সমাধান করতে চাই। বিএনপি দুই-চারটা আসন বরাদ্দ নিয়েই কি বুঝ দেবে, নাকি সত্যিকার অর্থে যুগপতের দলগুলোকে মূল্যায়ন করবে।’
    তিনি বলেন, ‘জামায়াত যেখানে বন্ধু বাড়াচ্ছে, সেখানে বিএনপি মিত্রদের ছেটে ফেলছে। এটা পুরোপুরি একটা আত্মঘাতী জায়গা। বিএনপি যে পজিশনটা গ্রহণ করেছে, মনে হচ্ছে তা তাদের বড় ব্যত্যয়। সুতরাং এতে দলগুলোকে ক্ষুব্ধ করার পাশাপাশি অনাস্থা ও অবিশ্বাসের জায়গাটা জন্ম দিয়েছে। এটি বাড়তে দিলে ঝুঁকিপূর্ণ রাাজনৈতিক দূরত্ব বাড়িয়ে তুলতে পারে। যেটা আমরা কেউ চাই না। বিএনপিও নিশ্চয়ই তা চাইবে না। সেই জায়গা থেকে আমরা বিএনপির সঙ্গে কথা বলতে চাই।
    নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে আমাদের আলোচনাই হলো না। বিএনপি এর মধ্যে নিজেদের ২৭২ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তাহলে আমরা দাঁড়াচ্ছি কোথায়? বিএনপি বলেছে একসঙ্গে নির্বাচন করবে, একসঙ্গে সরকার করবে। এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
    মিত্র অন্তত ৭টি দলের শীর্ষ নেতা জানান, বৈঠকে তাদের নিজেদের মধ্যে একটা ঐক্যের কথা বলা হয়েছে। তারা বিএনপির কাছে মর্যাদা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে মূল্যায়ন চান। আপাতত দৃষ্টিতে তাদের মনে হচ্ছে যে প্রতিশ্রুতিতে বিএনপি ছিল, তা থেকে সরে গেছে। সে কারণে নির্বাচনের আসন নিয়ে এখন পর্যন্ত কারও সঙ্গে আলোচনা করেনি। এতে করে সবাই ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তবে বিএনপির সঙ্গে মিত্ররা সম্পর্ক ছিন্ন করতে চান না। আলোচনায় বসে এর দ্রুত সমাধান চান।
    নির্বাচন সামনে রেখে গত ৩ নভেম্বর প্রথম পর্যায়ে ২৩৭ আসনে দলের প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছিল বিএনপি। এর এক মাস পর গত ৪ ডিসেম্বর আরও ৩৬ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে মোট ২৭২ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছে দলটি। এখন ফাঁকা রয়েছে আরও ২৮টি আসন। বিএনপি থেকে বলা হয়েছে, এই ফাঁকা আসনগুলোর বেশিরভাগেই মূলত শরিকরাই নির্বাচন করবেন।
    তবে ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপির চাওয়া অনুযায়ী দল ও জোটের প্রার্থী তালিকা জমা দিলেও তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই ২৭২ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তারা বিস্মিত, অনেকে ক্ষুব্ধও। দুই দফায় ঘোষিত প্রার্থী তালিকায় অন্তত ছয়টি আসনে ‘অনিবন্ধিত’ মিত্ররা ধানের শীষের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন।
    বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে, মিত্রদের সঙ্গে কোনো ধরনের টানাপোড়েন চায় না বিএনপি। মিত্রদের যথাযথ মূল্যায়ন করবে দলটি। সেজন্য ঐক্য ঠিক রেখে এর সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও বিএনপির ওই সূত্র জানিয়েছে।
  • সচিবালয়ে অবরুদ্ধ অর্থ উপদেষ্টা

    সচিবালয়ে অবরুদ্ধ অর্থ উপদেষ্টা

    সচিবালয়ে কর্মরত সবার জন্য ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে নেমেছেন।

    বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় তলায় এই ঘটনা ঘটে। বিকাল ৪টায় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আন্দোলনকারীরা অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দিচ্ছিলেন।

    জানা গেছে, বুধবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিটের দিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে কর্মরত প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ নন-ক্যাডার কর্মকর্তা-কর্মচারী সচিবালয়ে জড়ো হন। পরে তারা মিছিল নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের তৃতীয় তলায় অর্থ উপদেষ্টার দপ্তরের সামনে অবস্থান নেন এবং তাকে অবরুদ্ধ করেন। এ সময় হ্যান্ড মাইকে তারা সচিবালয় ভাতার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

    আন্দোলনকারীরা জানান, এর আগে রেশনের দাবিতেও তারা অর্থ উপদেষ্টাকে অবরুদ্ধ করেছিলেন। তখন তিনি বিবেচনার আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এছাড়া সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য মহার্ঘ্য ভাতা চালুর ঘোষণা দিয়েও সরকার তা কার্যকর করেনি। নতুন পে-কমিশন গঠন করা হলেও বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়ন করবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা। এসব পুঞ্জীভূত ক্ষোভ থেকেই আজকের এই অবরোধ কর্মসূচি।

    আন্দোলনের কারণ ব্যাখ্যা করে একজন সচিবের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) বলেন, ‘সচিবালয়ে কর্মরত সব ধরনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ২০ শতাংশ সচিবালয় ভাতার দাবিতে এই আন্দোলন চলছে। উপদেষ্টা, মন্ত্রী ও সচিবরা রাতে যতক্ষণ অফিসে থাকেন, ততক্ষণ আমাদেরও থাকতে হয়। অথচ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা পে-স্কেলের বাইরে নানা ধরনের ভাতা পেলেও আমরা তা থেকে বঞ্চিত।’

  • পোস্টাল ব্যালটে থাকছে না নৌকাসহ ৪ প্রতীক

    পোস্টাল ব্যালটে থাকছে না নৌকাসহ ৪ প্রতীক

    আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালটে থাকবে না নৌকাসহ ৪ প্রতীক বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ নিজ দফতরে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, ‘চূড়ান্ত পোস্টাল ব্যালটে নিষিদ্ধ বা স্থগিত কোনো দলের প্রতীক থাকবে না।’

    সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ২০০৮ সালে বাধ্যতামূলক করা হয়। তখন থেকে এ পর্যন্ত ৫৯টি দল নিবন্ধন পেয়েছে। এর মধ্যে স্থগিত রয়েছে আওয়ামী লীগের নিবন্ধন; বাতিল হয়েছে ফ্রিডম পার্টি (কুড়াল), ঐকবদ্ধ নাগরিক আন্দোলন (চাবি) ও পিডিপির (বাঘ) নিবন্ধন।

    বাতিল হওয়া দলগুলোর প্রতীকের বিষয়ে ইসি ইসি আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘যেসব দলের নিবন্ধন বাতিল হয়েছে, তাদের প্রতীক ইসির অধীনে রয়েছে। তাই এসব প্রতীক পোস্টাল ব্যালটে রাখতে বাধা নাই।’

    ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এবার ১১৮টি প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে। পোস্টাল ব্যালট ভোটের আগেই পাঠানোর দরকার হওয়ায় তাতে সব প্রতীকই রাখা হচ্ছে।

    ইসি কর্মকর্তারা জানান, সংসদ নির্বাচনে আসনভিত্তিক দলীয় প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর নামসহ প্রতীক রাখা হয় ব্যালট পেপারে। তবে পোস্টাল ব্যালটে থাকবে কেবল প্রতীক থাকবে। অ্যাপে বা ওয়েবসাইটে সংশ্লিষ্ট আসনের প্রার্থী দেখে প্রতীকে টিক/ক্রস দিতে হবে।

  • জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ

    জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। ৮ খণ্ডের এই প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশ, জুলাই জাতীয় সনদ ছাড়াও ঐকমত্য গঠন প্রক্রিয়ার সময় রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর দেওয়া মতামত, দল ও জোটগুলোর সঙ্গে আলোচনার সারসংক্ষেপ, কমিশনের অন্যান্য নথিপত্র এবং কমিশনের করা জনমত জরিপের ফলাফল রয়েছে।

    মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদনের সব খণ্ড ঠিকানার ওয়েব পেজে দেওয়া হয়েছে। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ছাড়াও মোট ১১টি সংস্কার কমিশনের সব প্রতিবেদনও এই ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে।

    ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত বছরের অক্টোবর মাসে এবং পরবর্তী বিভিন্ন সময়ে সর্বমোট ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করে। এরমধ্যে প্রথম ধাপে গঠিত ৬টি সংস্কার কমিশনের কার্যক্রমের সমাপ্তিলগ্নে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সভাপতি এবং সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান প্রফেসর আলী রীয়াজকে সহ-সভাপতি করে গঠন করা হয় জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

    অপর ৫টি কমিশনের প্রধানদেরকে এই কমিশনের সদস্য হিসাবে রাখা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন ও জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধানগণের অপারগতার কারণে ওই দুই কমিশনের দুজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

    চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর পর রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সঙ্গে বিভিন্ন ধাপের ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে গত ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে চূড়ান্ত করা হয় জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫। এরপর গত ১৭ অক্টোবর রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে আনুষ্ঠানিকভাবে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। ইতোমধ্যেই জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশের আলোকে সরকার জুলাই ‘জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন (সংবিধান) আদেশ’ জারি করেছে।

  • কমেছে প্রাকৃতিক জলাশয়, আবাসস্থল হারাচ্ছে শামুকখোল

    কমেছে প্রাকৃতিক জলাশয়, আবাসস্থল হারাচ্ছে শামুকখোল

    এক সময় শীতের শুরুতে গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী পাখি শামুকখোলের দেখা মিলত। তবে প্রাকৃতিক জলাশয় কমে যাওয়া ও খাদ্যের অভাবে ক্রমেই আবাসস্থল হারাচ্ছে এই পাখি। জেলার বেশিরভাগ জলাশয় ভরাট করে শিল্পায়ন ও মাছের খামার নির্মাণের কারণে প্রাকৃতিক জলাশয় এখন অস্তিত্ব সংকটে। ফলে আগের মতো আর দেখা মিলছে না পরিযায়ী পাখির।

    সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চানপাত্তা বিল, মকস বিল, অলুয়া বিল, শালদহ, কাপাসিয়া ও কালিগঞ্জ উপজেলার বেষ্টিত বেলাই বিলসহ বিভিন্ন স্থানে শীতের শুরুতে বিপুল সংখ্যক শামুকখোলের আগমন ঘটত। গ্রামের বড় বড় গাছে রাতে তারা ঝাঁক বেঁধে বাস করত। আর দিনে বৃহৎ জলাশয়ে বিচরণ করে লম্বা ঠোঁট দিয়ে কাদামাটি থেকে শামুক কুড়িয়ে খেত। শুধু শামুকখোল নয়, শীতের শুরুতে জলাশয়গুলোতে ঝাঁকে ঝাঁকে বালিহাস, চকাচখি, গুলিন্দা, গাংচিলেরও অবাধ বিচরণ দেখা যেত।

    স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুই বছর আগেও জেলার কালিয়াকৈর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি শামুকখোলের বিচরণ ছিল। এ উপজেলার খালপাড়, দিঘিবাড়ী, বলিয়াদি জমিদারবাড়িসহ বিভিন্ন নিরাপদ স্থানে শামুকখোল চোখে পড়ত। তবে হঠাৎ করেই এসব এলাকায় এখন আর ওই পাখির দেখা মিলছে না।

    কালিয়াকৈর উপজেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার বেশিরভাগ প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট হয়ে মাছের খামারে রূপ নিয়েছে। এতে জলাশয়ের পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে এবং খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। যার ফলে শীতকালীন পরিযায়ী পাখির আগমন কমে গেছে।

    আমিনুল ইসলাম নামে এক পাখি গবেষক জানান, দুই বছর আগেও তিনি কালিয়াকৈর উপজেলার কয়েকটি স্থানে প্রচুর শামুকখোল পাখি দেখেছেন। তারা দলবেঁধে বিভিন্ন জলাশয়ের অল্প পানিতে খাদ্য সংগ্রহ করত। আর রাতে বড় বড় গাছে ঝাঁক বেঁধে আশ্রয় নিত। কিন্তু এ বছর তেমন পাখি চোখে পড়ছে না। এতে বোঝা যাচ্ছে, এ অঞ্চলের প্রকৃতিতে এখন খাদ্যের সংকট দেখা দিয়েছে।

    কালিয়াকৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ এইচ এম ফখরুল হোসাইন জানান, প্রাকৃতিক জলাশয় ও পাখির আবাসস্থল রক্ষার পাশাপাশি জনসাধারণকেও সচেতন হতে হবে। বিভিন্ন স্থানে পাখি শিকার ও কৃষিজমি-জলাশয়ে বিষাক্ত কীটনাশক ব্যবহারে সতর্ক থাকতে হবে। শীতকালীন পরিযায়ী পাখি প্রকৃতির জন্য আশীর্বাদ। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পাখি ও প্রকৃতি দুটিই রক্ষা করা সম্ভব।

  • মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা হত্যার পর গোসল করে স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী আয়েশা

    মোহাম্মদপুরে মা-মেয়ে হত্যা হত্যার পর গোসল করে স্কুলড্রেস পরে বেরিয়ে যায় গৃহকর্মী আয়েশা

    রাজধানীর মোহাম্মদপুরের শাহজাহান রোডের একটি বাসায় গৃহিনী মালাইলা আফরোজ (৪৮) ও তার মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজকে (১৫) হত্যার পর বাথরুমে গোসল করে গৃহকর্মী আয়েশা (২৩)। এরপর মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাফিসার ড্রেস পরে কাঁধে ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায়।

    সোমবার (৮ ডিসেম্বর) সকালে শাহজাহান রোডের ৩২/২/এ বাসার সপ্তম তলার ৭/বি ফ্ল্যাটে এ ঘটনা ঘটে।

    পুলিশ বলছে, মাত্র চার দিন আগে বাসার দারোয়ান মালেকের মাধ্যমে ওই মেয়েকে আনা হয়। পরে গৃহকর্মী হিসেবে নিহত মালাইলা আফরোজের বাসায় কাজ দেওয়া হয়। তখন নিজের নাম আয়েশা বলে পরিচয় দেয়। পরে মা-মেয়েকে হত্যার পর নিহত নাফিসার স্কুল ড্রেস পরে বের হয়ে যায় সেই মেয়ে।

    ভবনের বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নিহত মালাইলা আফরোজ (৪৮) গৃহিণী। মেয়ে নাফিসা বিনতে আজিজ মোহাম্মদপুরের প্রিপারেটরি স্কুলের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাফিসার বাবা এম জেড আজিজুল ইসলাম পেশায় শিক্ষক। তিনি উত্তরার সানবিমস স্কুলের পদার্থ বিজ্ঞানের শিক্ষক।

    ভবনের একাধিক সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, নাফিসার বাবা স্কুলের উদ্দেশ্যে সকাল ৭টার দিকে বের হয়ে যান। সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে বোরখা পরে ওই বাসার লিফটে ওঠে সাত তলায় যায় গৃহকর্মী আয়েশা। সকাল ৯টা ৩৫ মিনিটে কাঁধে স্কুল ব্যাগ নিয়ে ড্রেস পরে মুখে মাস্ক লাগিয়ে বের হয়ে যায়। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নাফিসার বাবা বাসায় ফিরে স্ত্রী ও মেয়েকে রক্তাক্ত অবস্থায় দেখতে পান।

    নিহত নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম বলেন, বাসায় একজন কাজের মহিলা দরকার ছিল। সাধারণত গেটে অনেকে কাজের সন্ধানে আসেন। চারদিন আগে একটি মেয়ে আসে। বোরকা পরিহিত মেয়েটি বাসার দারোয়ান খালেকের কাছে কাজের সন্ধান করলে সে আমাদের বাসায় পাঠিয়ে দেয়। এরপর আমার স্ত্রী মেয়েটির সঙ্গে কথা বলে কাজে রেখে দেয়।

    পরে স্ত্রীর মুখে শুনেছি, মেয়েটার নাম আয়েশা। বয়স আনুমানিক ২০ বছর। তার গ্রামের বাড়ি রংপুর। জেনেভা ক্যাম্পে চাচা-চাচির সঙ্গে থাকে। বাবা-মা আগুনে পুড়ে মারা গেছে। তার শরীরেও আগুনে পোড়ার ক্ষত রয়েছে।

    তিনি আরও বলেন, মেয়েটা কাজ শুরুর পর প্রথম দুদিন সময়মতো এসেছে। গতকাল সে সাড়ে ৯টার দিকে আসে। আজ কী হয়েছে, এটা তো আর বলার অবস্থায় নেই।

    এদিকে ঘটনাস্থল ফ্ল্যাটটিতে গিয়ে দেখা যায়, ফ্ল্যাটের প্রবেশমুখ থেকে শুরু করে বিভিন্ন স্থানে রক্তের দাগ। বাসার আলমারিসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তছনছ করা।

    তল্লাশি করে বাথরুমে একটি সুইচ গিয়ার ও একটি ধারালো অস্ত্র পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, ওই ছুরি দুটি দিয়ে মা-মেয়েকে হত্যা করেছে গৃহকর্মী আয়েশা। এ ঘটনায় ওই বাসার দারোয়ান মালেককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

    পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার ইবনে মিজান জানান, পুলিশ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খবর পায়। মেয়েটিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেখানে নেওয়ার পর মারা যায়। পরে লাশ দুটি সুরতহালের পর ময়নাতদন্তের জন্য সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায় পুলিশ।

    তিনি বলেন, আমরা প্রাথমিকভাবে কিছু তথ্য পেয়েছি, সেসব যাচাই-বাছাই চলছে।

    গৃহকর্মীর প্রসঙ্গে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করছি, হত্যার আগে-পরে তার উপস্থিতি ও অ্যাকটিভিটিজ বিশ্লেষণ করে পরবর্তী তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাব।

    বাসার ভেতরের অবস্থার বিষয়ে পুলিশ বলছে, বাসায় ধস্তাধস্তির আলামত রয়েছে, মেঝেতে এবং দেওয়ালে রক্তের দাগ রয়েছে। আলমারি ও ভ্যানিটি ব্যাগ তছনছ অবস্থায় রয়েছে। যা মনে করছি, প্রাথমিকভাবে কিছু খোয়া যেতে পারে। সিসি ক্যামেরা ফুটেজে আমরা একজনকেই দেখেছি, পরে দেখব আশপাশে আরও কেউ ছিল কি না?

    তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ দুটি ধারালো ছুরি উদ্ধার করেছে এবং হত্যাকারী ফ্রেশ হয়েছে বাথরুমে— এমন আলামত পাওয়া গেছে।

  • আইজিপিকে অপসারণের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

    আইজিপিকে অপসারণের দাবিতে শাহবাগ অবরোধ, যান চলাচল বন্ধ

    পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে অপসারণ এবং শাস্তির দাবিতে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করেছে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ।

    আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে ৩টার দিকে সড়ক অবরোধ করা হয়। এসময় ওয়ারী, গেন্ডারিয়া, পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার সহস্রাধিক মানুষ সেখানে জড়ো হয়। অবরোধের কারণে শাহবাগে যানচলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

    শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদের সভাপতি রফিক আহমেদ ডলার বলেন, শহীদ পিন্টু হত্যার বিচারের দাবিতে আমরা আজ শাহবাগ অবরোধ করেছি। আমরা এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। আমরা চাই দ্রুত আইজিপিকে তার পদ থেকে অপসারণ করতে হবে। এরপর তার বিষয়ে সরকার যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বর্তমানে শাহবাগ ব্লকড। পিন্টু সাহেবের হত্যার বিচারের দাবিতে পিন্টু স্মৃতি সংসদের ব্যানারে লোকজন শাহবাগ অবরোধ করে আন্দোলন করছে। আপাতত যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছি।

    এর আগে রোববার জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ পিন্টু স্মৃতি সংসদ আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক নাসির উদ্দিন আহাম্মেদ পিন্টুর মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিতভাবে হত্যা’ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার সহধর্মিণী সাবেক মহিলা কাউন্সিলর নাসিমা আক্তার কল্পনা।

    এ ছাড়া পিলখানা হত্যাকাণ্ড ও ৫৭ সেনা কর্মকর্তার নির্মম হত্যা মামলায় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের নাম প্রকাশের পর তিনি আইজিপি বাহারুল আলমকে অবিলম্বে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

    প্রতিবাদ সভায় নাসিমা আক্তার কল্পনা আরও বলেন, আমি বহুবার বলেছি– আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে। স্বাধীন তদন্ত কমিশন এখন প্রমাণ করেছে যে এটি ছিল পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। হাইকোর্টের চিকিৎসার নির্দেশ অমান্য করে তাকে রাজশাহী কারাগারে পাঠানো হয়। রিমান্ড ও নির্যাতনের কারণে তার চোখ নষ্ট হয়ে যায়। থেরাপির জন্য আদালতের আদেশ থাকলেও তা পালন করা হয়নি।