Author: তরঙ্গ টিভি

  • দুমকি উপজেলা সহ জেলায়  ৩ টি উপজেলায় যোগদান করলেন তিন নারী নির্বাহী কর্মকর্তা।

    দুমকি উপজেলা সহ জেলায় ৩ টি উপজেলায় যোগদান করলেন তিন নারী নির্বাহী কর্মকর্তা।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকি সহ ৩টি উপজেলায় ৩৭ তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ৩টি উপজেলায় তিন জন মহিলা নির্বাহী অফিসার একই সময়ে যোগদান করেছেন।

    ৩ রা ডিসেম্বর মঙ্গলবার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. শহীদ মোহাম্মদ হোসেন চৌধুরী এর দপ্তরে ৩৭ তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের নতুন তিনজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা যোগদান করেছেন।

    যোগদানকৃত তিন নির্বাহী অফিসার হলেন, পটুয়াখালী সদর উপজেলায় রওজাতুন জান্নাত, মির্জাগঞ্জ উপজেলায় মোছাঃ মলিহা খানম, দুমকি উপজেলায় মোছাঃ ফরিদা সুলতানা।জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে উক্ত তিন জন উপজেলা নির্বাহী অফিসারই ৩৭তম বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের অফিসার।

    এ ছাড়াও জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় মোঃ নাহিদ ভূঞা, বাউফল উপজেলায় সালেহ আহমেদ ও দশমিনা উপজেলায় মোঃ সাইফুল ইসলাম নতুন নির্বাহী অফিসার হিসেবে যোগদান করতে যাচ্ছেন বলে সংশ্লিস্ট সূত্রে জানাগেছে।

  • উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘পাথর কালী মিলন মেলা-২০২৫

    উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও জেলায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী ‘পাথর কালী মিলন মেলা-২০২৫

    ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার মিলনস্থল গোবিন্দপুর-কৌচল সীমান্ত এলাকায় আগামী ৫ ডিসেম্বর ২০২৫ (শুক্রবার) অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যবাহী ‘পাথর কালী মিলন মেলা’। বহু বছর বন্ধ থাকার পর আবারও প্রাণ ফিরে পাচ্ছে এই বহুল প্রতীক্ষিত লোকজ উৎসব।

    স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার আবারও হাজারো মানুষের পদচারণায় মুখরিত হবে মেলা প্রাঙ্গণ। চারদিকে বইবে উৎসবের আমেজ। থাকবে স্থানীয় খাবারের বিভিন্ন স্টল, লোকজ খেলাধুলা, নাগরদোলা, সার্কাস, জারি–সারি–ভাওয়াইয়া গান, বাউলের সুর, নাটক-যাত্রাসহ শিশু-কিশোরদের জন্য নানা আকর্ষণীয় আয়োজন।মেলাকে শুধু একটি সাংস্কৃতিক উৎসব নয়, বরং হিন্দু-মুসলিমসহ সব ধর্ম-বর্ণের মানুষের মিলনমেলাও বলা হয়। বহু বছর ধরে দুই দেশের এটি সম্প্রীতি, সহাবস্থান ও পারস্পরিক ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।আয়োজকরা জানিয়েছেন, সারাদিনব্যাপী এই মেলা দেখার জন্য সবাইকে উষ্ণ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।আয়োজকরা জানিয়েছেন, সারাদিনব্যাপী এই মেলা দেখার জন্য সবাইকে উষ্ণ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

    স্থান: গোবিন্দপুর-কৌচল সীমান্ত এলাকা (হরিপুর ও রানীশংকৈল উপজেলার সংযোগস্থল, ঠাকুরগাঁও)
    তারিখ: ০৫ ডিসেম্বর ২০২৫ ইং, রোজ: শুক্রবার

  • গাজীপুর ১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান  পথসভা দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু

    গাজীপুর ১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান পথসভা দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শুরু

    গাজীপুর-১ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার পর আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান।

    শুক্রবার সকাল থেকে কোনাবাড়ী, মৌচাক, সফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ মোড় ও কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ধারাবাহিকভাবে পাঁচটি পথসভায় অংশ নিয়ে তিনি প্রচারণার সূচনা করেন, এসব পথসভায় স্থানীয় নেতা-কর্মী, সাধারণ জনগণ ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। প্রতিটি পথসভাস্থলে মজিবুর রহমানকে প্রাণঢালা শুভেচ্ছা জানানো হয় ‘ধানের শীষ’ প্রতীককে বিজয়ী করার আহ্বান জানান দলীয় নেতা-কর্মীরা।

    পথসভাগুলোতে গাজীপুর-১আসনের বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী মজিবুর রহমান বলেন, বিএনপির এই মূল্যবান মনোনয়নটি আমি আমার গাজীপুর-১ আসনের সকল নিবেদিতপ্রাণ নেতা-কর্মীর প্রতি উৎসর্গ করলাম। আপনাদের ভালোবাসা ও সমর্থনই আমাকে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে শক্তি যোগায়। রাজনীতিকে আমি জনগণের সেবা মনে করি এ আসনের প্রতিটি মানুষের কাছে ন্যায়, সততা ও উন্নয়নের রাজনীতি পৌঁছে দিতে চাই।

    তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রিয় নেত্রী, বিএনপির চেয়ারপার্সন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা কামনা করছি। একই সঙ্গে দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইকে এগিয়ে নিতে আপনাদের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করছি।

    পথসভাগুলোতে তিনি বিএনপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার নানা দিক তুলে ধরেন। বিভিন্ন স্থানে বিপুল জনসমাগম তার প্রার্থিতা ঘিরে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উচ্ছ্বাস ও আশাবাদের প্রতিফলন ঘটায়।

    অবশেষে কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ডে সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে দিনের পথসভা কর্মসূচি উক্ত অনুষ্ঠানটি সমাপ্তি ঘোষনা করেন সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান।

  • হাসপাতালের হিমাগারে পড়ে থাকা ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ সৎকার

    হাসপাতালের হিমাগারে পড়ে থাকা ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ সৎকার

    শরীয়তপুর সদর হাসপাতালের হিমাগারে দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা রাজন (৬৩) নামের এক ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ অবশেষে সৎকার করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

    বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকালে পৌরসভার মনোহরবাজার শ্মশানঘাটে মরদেহটি সৎকার করা হয়। প্রায় ৭ মাস ধরে মরদেহটি সদর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছিল।

    রাজন ভারতের দিল্লি প্রদেশের দিলিপের ছেলে। তবে তার জেলার নাম জানা যায়নি।

    শরীয়তপুর কারা কর্তৃপক্ষ জানায়, রাজন নামের ওই ব্যক্তিকে ২০২২ সালে আগস্টের ২৫ তারিখে জেলার জাজিরা উপজেলার পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা এলাকা থেকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে অনুপ্রবেশের দায়ে মামলা হলে ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। সাজার মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি আরপি বন্দি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। গত ১৮ মে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে জরুরী বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর থেকেই তার মরদেহ সদর হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছিল। পরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে মরদেহটি সৎকারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

    এ ব্যাপারে শরীয়তপুর জেল সুপার বজলুর রশিদ বলেন, রাজন নামের ওই বন্দি আরপি বন্দি ছিলেন। হঠাৎ করে সে অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এরপর থেকে মরদেহটি ছয় মাসের অধিক সময় ধরে হিমাগারে রাখা ছিল। পরে দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ে সভার মাধ্যমে মরদেহটি দাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সৎকার শেষে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানিয়ে দেব।

  • আজ আসছে না এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা পেছাল

    আজ আসছে না এয়ার অ্যাম্বুলেন্স, খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা পেছাল

    কারিগরি ত্রুটির কারণে শেষ মুহূর্তে আটকে গেল বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য লন্ডন যাত্রার প্রক্রিয়া। তাকে বহন করার জন্য কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে বিশেষ যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আজ (শুক্রবার) ঢাকায় আসার কথা ছিল, সেটি নির্ধারিত সময়ে আসছে না। এর ফলে খালেদা জিয়ার বিদেশে যাওয়ার বিষয়টি এক দিন পিছিয়ে গেল।

    বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সবকিছু ঠিক থাকলে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আগামীকাল  (শনিবার) ঢাকায় পৌঁছাতে পারে।

    গতকাল বৃহস্পতিবার রাত থেকেই খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছিল। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন বলেও খবর পাওয়া যায়। কিন্তু শুক্রবার সকালে বিএনপি মহাসচিব গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন যে, যাত্রার পরিকল্পনায় পরিবর্তন এসেছে।

    মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, কারিগরি ত্রুটির কারণে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি আজ আসছে না। আমরা আশা করছি, সব ঠিক থাকলে সেটা আগামীকাল শনিবার পৌঁছাতে পারে।

    তিনি আরও যোগ করেন, বিমান কখন ছাড়বে তা নির্ভর করছে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর। মহাসচিব বলেন, ‘‘ম্যাডামের শরীর যদি যাত্রার উপযুক্ত থাকে এবং মেডিকেল বোর্ড যদি সিদ্ধান্ত দেয়, তাহলে ইনশাল্লাহ ৭ তারিখ ফ্লাই করবেন।’’

    খালেদা জিয়াকে লন্ডন নেওয়ার প্রক্রিয়া পিছিয়ে গেলেও গতকাল রাতেই ঢাকার উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন তার বড় ছেলে ও দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান। বিএনপির একটি সূত্র বলছে, ঢাকায় পৌঁছানোর পর সরাসরি এভার কেয়ার হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে দেখতে যাবেন জুবাইদা। তারপর তার কিছু শারীরিক পরীক্ষা-নীরিক্ষা করা হবে।

    গতকাল খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছিলেন, মেডিকেল বোর্ডের সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত এবং খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে তাকে কাতার রয়্যাল এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে লন্ডনের একটি নির্ধারিত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

    খালেদা জিয়ার বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি জানতে চাইলে জাহিদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শের বাইরে কিছু চিন্তা করা হচ্ছে না। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গতকাল তিনবার ভার্চ্যুয়ালি সভা হয়েছে। যুক্তরাজ্য ও চীনের চিকিৎসকেরা সশরীর দেখেছেন।

    বর্তমানে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, লিভার সিরোসিসসহ নানা জটিলতায় ভুগছেন। আওয়ামী লীগ শাসনামলে দলের পক্ষ থেকে বারবার তাকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে দেওয়ার অনুমতি চাওয়া হলেও শেখ হাসিনা সরকার সে অনুরোধ রাখেনি।

  • পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।বেগম খালেদা জিয়া: আপষহীনতা, ত্যাগ ও অনন্য নেতৃত্বের এক মহত্‍ মানবিক অধ্যায়।। প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম উপাচার্য

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।বেগম খালেদা জিয়া: আপষহীনতা, ত্যাগ ও অনন্য নেতৃত্বের এক মহত্‍ মানবিক অধ্যায়।। প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম উপাচার্য

    বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু ব্যক্তিত্ব আছেন, যাদের জীবনের পথচলা কেবল একটি দলের ইতিহাস নয়—একটি জাতির আত্মমর্যাদা, গণতান্ত্রিক সংগ্রাম, স্বাধীনতার চেতনা এবং মানুষের অধিকারের প্রতীক হয়ে ওঠে। তাঁদের পথচলার প্রতিটি বাঁকে ঝরে পড়ে জাতীয় জীবনের আবেগ, সংগ্রাম, ত্যাগ ও প্রত্যাশার রূপকথা।

    বিএনপি চেয়ারপারসন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী এবং বাংলাদেশের প্রথম ফার্স্ট লেডি বেগম খালেদা জিয়া সেইসব বিরল ব্যক্তিত্বের একজন—যাঁকে শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ করা যায় না। তিনি বাংলাদেশের দীর্ঘ গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার এক জীবন্ত দলিল, এক অদম্য নারী, যিনি প্রতিকূলতার পাহাড় ভেদ করে জনগণের হৃদয়ে ‘আপষহীন নেত্রী’ হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। আজ সেই নেত্রী গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালের সিসিইউতে শায়িত।

    মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে তাঁর বহু কষ্টসাধ্য জীবনের প্রতিটি শ্বাস। ব্যক্তিগতভাবে তাঁর প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা এবং আবেগ—তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। আমার কাছে তিনি কেবল একজন রাজনৈতিক নেতা নন, তিনি মায়ের মতো এক আপন মানুষ—যার সুস্থতার জন্য এখন দেশ-বিদেশের কোটি মানুষের বুক ভরা প্রার্থনা, অশ্রু এবং আর্তি।এক নারী, এক ইতিহাস : বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক জীবনকে যদি একটি নদীর স্রোতের সাথে তুলনা করি, তবে বলবো—এই স্রোত কখনো শান্ত ছিল না। প্রবল প্রতিকূলতার ঢেউ তাকে আঘাত করেছে বারবার।

    শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তিনি যখন রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন তাঁর সামনে ছিল পুরুষ-প্রধান রাজনৈতিক পরিমণ্ডল, ছিল অস্থিরতা, সামরিক প্রভাব, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা। কিন্তু অসাধারণ ধৈর্য, সাহস এবং দূরদর্শিতায় তিনি বিএনপিকে সংগঠিত করেন, শক্তিশালী করেন, এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন। তাঁর তিনবারের প্রধানমন্ত্রীত্ব শুধু প্রশাসনিক দক্ষতার গল্প নয়; এটি একটি নারীর সংগ্রামী যাত্রা—যিনি একদিন সংসারে আবদ্ধ ছিলেন, আবার পরদিন পুরো জাতির আস্থার কেন্দ্রে পরিণত হন।গণতন্ত্রের জন্য আপষহীন সংগ্রামের শক্ত প্রতীক : বাংলাদেশের রাজনৈতিক অভিধানে ‘আপষহীন’ শব্দটি আজ বেগম জিয়ার প্রতিশব্দ। কারণ, তিনি যখনই ক্ষমতায় ছিলেন, মানসিক দৃঢ়তা, নীতিগত অবস্থান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধে তিনি কোন আপষ করেননি।

    আর ক্ষমতার বাইরে থেকেও তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল একই রকম দৃঢ়। বিশেষ করে গত দেড় দশক ধরে একদলীয় স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে তাঁর লড়াই বাংলাদেশের ইতিহাসে অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। তিনি বারবার গ্রেপ্তার হয়েছেন, গৃহবন্দি থেকেছেন, রাজনৈতিকভাবে নিপীড়িত হয়েছেন, এমনকি ভয়াবহ অসুস্থতা নিয়েও বছরের পর বছর কারাগারে ছিলেন। কিন্তু তিনি ভাঙেননি। নতি স্বীকার করেননি। আপষ করেননি।

    এই দৃঢ়তা তাঁকে আজ ‘জাতির অভিভাবক’–এর আসনে বসিয়েছে—যা ক্ষমতার চেয়েও অনেক বড়।জেল, নিপীড়ন ও ষড়যন্ত্র—যা তাঁর জীবন সংকটে ফেলেছিল : ২০১৮ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত টানা দুই বছর তিনি কারাগারে ছিলেন, এমন অবস্থায় যা কোনো মানুষ—বিশেষ করে তাঁর বয়সে—সহ্য করা অসম্ভব।পর্যাপ্ত চিকিৎসা পাননি, বিষ মেশানোর ভয় ছিল সবসময়, উন্নত চিকিৎসার অধিকারও কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। তাঁর অসুখগুলো ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছায়। আজ তিনি যে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে—তার নেপথ্যে রয়েছে সেই কঠিন কারাজীবনের নির্মম প্রভাব। তাঁর লিভার, কিডনি, ফুসফুস, আর্থ্রাইটিসসহ জটিল রোগগুলো আরও বেড়ে যায়।

    আমি ব্যক্তিগতভাবে বিশ্বাস করি—এই কষ্টগুলো তিনি নিজের জন্য নয়;এই জাতির গণতন্ত্রের জন্য সহ্য করেছেন। এটাই তাঁকে আমাদের কাছে মায়ের মতো মহৎ করে তোলে।হাসপাতালে দীর্ঘ লড়াই এবং লন্ডনে নেয়ার প্রস্তুতি : ২৩ নভেম্বর থেকে তিনি রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি। ফুসফুসে ভয়াবহ সংক্রমণ, হার্টের জটিলতা এবং পুরোনো রোগগুলোর অবনতি তাঁকে এক সংকটজনক অবস্থায় ঠেলে দিয়েছে।

    দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড দিন-রাত তাঁর চিকিৎসা করছেন। যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা চিকিৎসক রিচার্ড বিয়েল ইতোমধ্যেই ঢাকায় পৌঁছেছেন তাঁকে পর্যবেক্ষণে। কাতার সরকারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্স এসে গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে মধ্যরাতের পরে বা আগামী ভোরে তাঁকে লন্ডনে নেওয়া হবে।

    এ এক জীবন-মৃত্যুর লড়াই, যেখানে দেশের মানুষ নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা করছে। হাসপাতালের সামনে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ—গ্রাম থেকে শহর, তরুণ থেকে বৃদ্ধ—এসে দাঁড়াচ্ছেন শুধু তাঁর জন্য। এটাই প্রমাণ করে—তিনি একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন, তিনি জাতির আস্থার শেষ আশ্রয়।তারেক রহমানের অশ্রুভেজা হৃদয়—এক সন্তানের ব্যথা : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারেক রহমানের পোস্টটি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, “মায়ের স্নেহ স্পর্শ পাবার তীব্র আকাঙ্খা যে কোনো সন্তানের মতো আমারও রয়েছে… কিন্তু এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করার সুযোগ আমার একার নিয়ন্ত্রণে নেই।

     

    একজন সন্তানের এর চেয়ে বেদনাদায়ক অভিঘাত আর কী হতে পারে! মা মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন, অথচ তিনি পাশে যেতে পারছেন না রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণে। এই ব্যথা বোঝার মতো হৃদয় এ দেশের মানুষের আছে, তাই আজ তারেক রহমানকে নিয়ে অযথা বিতর্ক নয়—সহানুভূতির ঢেউ বইছে সর্বত্র।জাতীয় ঐক্যের অনন্য দৃশ্য: দলমত নির্বিশেষে দোয়া : এ দেশের রাজনীতিতে ভিন্নমতের বিভাজন কত গভীর—তা আমরা জানি। কিন্তু আজ সেই বিভক্তির দেয়াল ভেঙে মানুষ এক হয়েছি খালেদা জিয়ার সুস্থতার প্রার্থনায়। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকী। এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহ। বিশিষ্ট টকশো বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান। বিদেশে অবস্থানরত কূটনীতিকরা। বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। সাধারণ মানুষ—বাড়িতে, মসজিদে, রাস্তায়, সোশ্যাল মিডিয়ায়। সবাই এক কণ্ঠে প্রার্থনা করছে—“মা, আপনি সুস্থ হয়ে ফিরে আসুন।” এ দৃশ্যই প্রমাণ করে—তিনি কেবল দলের চেয়ারপারসন নন; তিনি জাতির অভিভাবক, এক নীরব শক্তি, যাঁর উপস্থিতি দেশকে স্থিতি ও সমঝোতার দিকে নিয়ে যেতে পারে।

    খালেদা জিয়ার জীবনে ত্যাগ—এক অমর শিক্ষা : যে নারী তিনবার প্রধানমন্ত্রীর পদ অলংকৃত করেছেন, যিনি রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন দক্ষতার সাথে, তিনি চাইলে জীবনের শেষভাগটা সন্তান–স্বজনদের সঙ্গে কাটাতে পারতেন। চাইলে বিদেশে সুস্থ, নিরাপদ, সম্মানজনক জীবনে থাকতে পারতেন। কিন্তু তিনি তা করেননি। তিনি বেছে নিয়েছিলেন—কষ্ট, সংগ্রাম, জনগণের পাশে দাঁড়ানো, গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব, এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে অটল অবস্থান। এই ত্যাগই তাঁর জীবনকে মহিমান্বিত করেছে। আজকের সংকট—এক জাতির প্রার্থনার মুহূর্ত : আজ বেগম জিয়া শয্যাশায়ী। মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে তাঁর ক্ষয়ে যাওয়া শরীর।

    কিন্তু তাঁর মন, তাঁর আত্মা, তাঁর অদম্য শক্তি—এখনো জাতির জন্য আশার আলো। আজ আমি, একজন শিক্ষক, একজন উপাচার্য, একজন নাগরিক—ব্যক্তিগতভাবে গভীর আবেগ নিয়ে এই কথাটি বলতে চাই—বেগম জিয়া আমার কাছে মায়ের মতো। তাঁর জীবন, তাঁর সাহস, তাঁর সংগ্রাম আমাকে অনুপ্রাণিত করে প্রতিনিয়ত। আজ কোটি মানুষের মতো আমিও কাঁদছি, প্রার্থনা করছি—তিনি সুস্থ হয়ে আবার ফিরে আসবেন।দেশ-বিদেশের কাছে বিনীত আবেদন: তাঁর জন্য দোয়া করুন, আজ যেসব রাজনীতিবিদ, যেসব বিরোধী মতের মানুষ, যেসব তরুণ তাঁর বিরুদ্ধে সময়ের আবেগে কঠোর কথা বলেছেন—সেসব বিতর্ক, ভুল বোঝাবুঝি সব আজ তুচ্ছ হয়ে গেছে। কারণ— তিনি একজন মানবমহিয়সী নারী। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার ইতিহাস। তার সুস্থতা জাতির ভবিষ্যতের সাথে জড়িয়ে আছে।

    আমি দেশবাসীর কাছে হাত জোড় করে অনুরোধ করছি— আপনার নামাজে, আপনার তসবিহে। আপনার সন্তানদের দো’আয়, আপনার ঘরের আঙিনায়, আপনার ঈমানের গভীরতা থেকে। এই অসাধারণ নেত্রীটির জন্য দোয়া করবেন। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিও আহ্বান জানাই—মানবিকতার ভিত্তিতে তাঁকে সব ধরনের সহযোগিতা দিন। তিনি সুস্থ হলে বাংলাদেশ স্থিতিশীলতা, সমঝোতা ও গণতন্ত্রের পথে আরও দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাবে।পরিশেষে: একটি জাতির হৃদয় তাঁর সঙ্গে আজ আমরা সবাই অপেক্ষায়—একটি বিমান রাতের আকাশে উড়াল দেবে, সেটিতে থাকবে এই জাতির আশার প্রতীক, বেগম খালেদা জিয়া। সামনে দীর্ঘ চিকিৎসার পথ, সামনে অনিশ্চয়তা, ভয়, দুঃখ, আশা—সবকিছু মিলেমিশে এক আবেগমথিত সময়। কিন্তু আমার বিশ্বাস—যে নারী এত প্রতিকূলতা জয় করেছেন,তিনি এই লড়াইও জিতবেন। তিনি সুস্থ হয়ে ফিরবেন—জনগণের ভালোবাসায়, সন্তানের প্রার্থনায়, এ দেশের গণতন্ত্রের আহ্বানে, এবং কোটি মানুষের দোয়ায়। মহান আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁকে রহমত, আরোগ্য ও সুস্থতা দান করেন। আমিন।

    প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম উপাচার্য পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

  • দুমকি উপজেলায়,  খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া-মিলাদ

    দুমকি উপজেলায়, খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া-মিলাদ

    পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায়, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকালে উপজেলার লেবুখালী ইউনিয়ন বিএনপির পার্টি অফিসে পায়রা পয়েন্ট এলাকায় জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
    অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা কমিটির কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ও পটুয়াখালী জেলা মুক্তিযোদ্ধা সভাপতি মো. এস. জলিল হিরু। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন দুমকি উপজেলা জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি মো. আজিজ সরকার,বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, রহমান আকন, নজরুল ইসলাম ও আব্দুল মজিদ।এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মতিউর রহমান দিপু, উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. কবির শরিফ, ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. ইউনুস ফরাজি, যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সালাউদ্দিন আহমেদ, রিপন শরিফ ও উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য রিপন শরিফ, মো. সুমন শরিফ, মো. মহসিন, মো. মতি আকন ও নাসির সিকদার।দোয়া-মোনাজাতে খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করা হয়।

  • চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিলের বিকল্প চকো প্লাস সিরাপ আটক

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৫৯ বিজিবির অভিযানে ফেন্সিডিলের বিকল্প চকো প্লাস সিরাপ আটক

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহানন্দা ব্যাটালিয়ন ৫৯ বিজিবির বিভিন্ন সূত্র তথ্যের মাধ্যমে জানতে পারে, চলমান শীত মৌসুমে প্রতিবেশী দেশ ভারত হতে ফেন্সিডিল এর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত নেশাজাতীয় চকো প্লাস সিরাপ চোরাচালানে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সেই তথ্যের ভিত্তিতে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) কর্তৃক দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং টহল জোরদার করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিক সফলতা হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত (০৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা ৭ ঘটিকায় সোনামসজিদ বিওপি’র একটি বিশেষ টহল দল অভিযান পরিচালনা করে সীমান্ত পিলার ১৮৫/১৭-এস হতে আনুমানিক ৪০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে মালিকবিহীন ১৫০ বোতল ভারতীয় চকো প্লাস সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে প্রচলিত আইনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আটককৃত চকো প্লাস সিরাপগুলো শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। উল্লেখ্য, বিগত ০১ মাসে এই ব্যাটালিয়ন প্রায় ২০০ বোতল চকো প্লাস সিরাপ আটক করতে সক্ষম হয়েছে। এ ব্যাপারে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেঃ কর্নেল গোলাম কিবরিয়া, বিজিবিএম, বিজিওএম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবি’র জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত রয়েছে

  • পটুয়াখালী ভার্সিটিতে,  ইস্পাহানি প্রেজেন্টস ইপিএল-২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত।।

    পটুয়াখালী ভার্সিটিতে, ইস্পাহানি প্রেজেন্টস ইপিএল-২০২৬ এর উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত।।

    পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো ‘ইস্পাহানি প্রেজেন্টস ইএসডিএম প্রিমিয়ার লিগ (ইপিএল-২৬)’–এর উদ্বোধনী ম্যাচ। এ বছরের প্রিমিয়ার লিগের কো-স্পনসর হিসেবে যুক্ত রয়েছে ইএসডিএম ক্লাব, অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি এবং দেশবন্ধু গ্রুপ।৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের উদ্বোধন করা হয়।
    উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক মো: আবদুল লতিফ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন
    অধ্যাপক ড. মো. নুরুল আমিন,অধ্যাপক ড. মো. সামসুজ্জোহা,অধ্যাপক ড. রমন কুমার বিশ্বাস,সহযোগী অধ্যাপক মো. ফয়সাল,সহযোগী অধ্যাপক পাপড়ি হাজরা,সহকারী অধ্যাপক ড. তারিকুল ইসলাম সজীব,সহকারী অধ্যাপক মো. রাশেদুজ্জামান এবং সহকারী অধ্যাপক মোসা নুসরাত বিনতে নূর।অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো: মোহসীন হোসেন খান।সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মো: মোহসীন হোসেন খান বলেন, “পড়াশোনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে খেলাধুলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরও বলেন, টুর্নামেন্ট চলাকালে সকল অংশগ্রহণকারী যেন মিলেমিশে খেলায় অংশ নেয় এবং কোনো ধরনের সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে।
    প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক মো: আবদুল লতিফ বলেন, “পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ইএসডিএম প্রিমিয়ার লিগ ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের দলগত মনোভাব, নেতৃত্বগুণ ও শৃঙ্খলাবোধ গড়ে তোলে। এই আয়োজনের সফলতা কামনা করছি এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ।”উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হয় ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ। টসে জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দল। তারা নির্ধারিত ১০ ওভারে ৯৩ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ইনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স বিভাগ ৩ ওভার বাকী থাকতে ৯৭ রান তুলে ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে জয় অর্জন করে।
    উল্লেখ্য, ডিজাস্টার রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মোঃ ফয়সালও খেলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন, যা শিক্ষার্থীদের মাঝে অতিরিক্ত উৎসাহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে

  • নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

    নোয়াখালীতে ব্যবসায়ীকে গুলি করে মোটরসাইকেল ছিনতাই

    নোয়াখালীর সদর উপজেলায় গভীর রাতে এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে মোটরসাইকেল, মোবাইল ও টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।

    বুধবার ( ৩ ডিসেম্বর ) রাত ১২টার দিকে উপজেলার দাদপুর ইউনিয়নের বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

    গুলিবিদ্ধ সাদ্দাম হোসেন (২৭) একই গ্রামের মৃত শাহ আলম মেম্বারের ছেলে এবং স্থানীয় খলিফারহাট বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী।

    গুলিবিদ্ধ সাদ্দামের বড় ভাই মো.লিটন বলেন, আমাদের বাড়ির পাশে খলিফারহাট বাজারে আমার ছোট ভাই সাদ্দামের দুটি মোবাইল দোকান রয়েছে। প্রতিদিনের ন্যায় সে রাত সাড়ে ১১টার দিকে দোকান বন্ধ করে। এরপর মোটরসাইকেল নিয়ে শ্বশুর বাড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয়। যাত্রা পথে মোটরসাইকেল বারাইপুর গ্রামের লেদু মিয়ারগো বাড়ির সামনে পৌঁছলে সড়কে স্পিড ব্রেকার থাকায় সে মোটরসাইকেলের গতি কমিয়ে দেয়। ওই সময় দুর্বৃত্তরা তার দিকে এগিয়ে আসে। তাৎক্ষণিক সে মোটরসাইকেল রেখে পালাতে চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে পেছন থেকে পিঠে গুলি করে দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। শরীরে গুলি আটকে থাকায় সেখান থেকে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে।

    যোগাযোগ করা হলে সুধারাম থানার ভারপ্রাস্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.কামরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমার জানা নেই। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কেউ এ ঘটনায় অভিযোগ করেনি, তাই জানা নেই। অভিযোগ করলে জানা যাবে