Author: তরঙ্গ টিভি

  • কালিয়াকৈরে ৩১ দফা প্রচারণায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি খালেদা জিয়ার আদলে সাজিয়ে তোয়ামনির অংশগ্রহণে কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    কালিয়াকৈরে ৩১ দফা প্রচারণায় বর্ণাঢ্য র‌্যালি খালেদা জিয়ার আদলে সাজিয়ে তোয়ামনির অংশগ্রহণে কর্মীদের উচ্ছ্বাস

    বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা প্রচারণার অংশ হিসেবে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে কালিয়াকৈর পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে শুরু করে র‌্যালিটি ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়ক হয়ে উপজেলার লতিফপুর এলাকায় গিয়ে শেষ হয়।

    র‌্যালির অন্যতম আকর্ষণ ছিলেন পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর ফারুক হোসেনের মেয়ে তোয়ামনি, যিনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদলে সেজে র‌্যালিতে অংশ নেন। এ দৃশ্য দেখতে রাস্তায় উপস্থিত হাজারো নেতা–কর্মীর মাঝে উৎসাহের সৃষ্টি হয়।

    প্রধান অতিথি হিসেবে র‌্যালিতে নেতৃত্ব দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থায়ী সদস্য ও কালিয়াকৈর পৌরসভার সাবেক সফল মেয়র ও গাজীপুর ১ আসনের ধানের শীষের মনোনয় প্রত্যাশী জনাব মুজিবর রহমান।
    এ ছাড়া উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি ইরানি সরকার, পৌর মহিলা দলের সভাপতি শাহনাজ, পৌর মহিলা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক ইশরাত মনিসহ উপজেলা ও পৌর মহিলা দলের হাজারো নেত্রী ও কর্মী র‌্যালিতে অংশ নেন।

  • ৪২তম ঐতিহাসিক জেলা আন্দোলন ও শহীদ পলু দিবস পালিত

    ৪২তম ঐতিহাসিক জেলা আন্দোলন ও শহীদ পলু দিবস পালিত

    ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উন্নয়ন পরিষদের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আন্দোলনের অন্যতম শহীদ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী ছাত্র ওবায়দুল রউফ পলুর স্মরণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
    বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর ২০২৫) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ অডিটোরিয়ামে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি আলী মাউন (পিয়াস)। সঞ্চালনা করেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বাবুল মিয়া।

    আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আবু জাফর মোহাম্মদ আরিফ হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—

    মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, বিভাগীয় প্রধান, ব্যবস্থাপনা বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ

    মোঃ মোশাররফ হোসাইন, সহকারী অধ্যক্ষ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ

    মেহেরুন নিছা (মেহেরিন), প্রকল্প সমন্বয়কারী, সমাজসেবা সভাপতি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা; চেয়ারম্যান, আলোকিত নারী উন্নয়ন; সম্পাদক ও প্রকাশক, দৈনিক বাঙালির কণ্ঠ

    আবু শামীম মোঃ আরিফ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ

    আরমান উদ্দিন ও পলাশ, স্থায়ী কমিটির সদস্য, জেলা উন্নয়ন পরিষদ

    এডভোকেট শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর, সদস্য, জেলা উন্নয়ন পরিষদ

    আলোচনা সভায় বক্তারা শহীদ ওবায়দুল রউফ পলুর জীবন, সংগ্রাম এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা গঠনে তার অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। তার আদর্শ ও ত্যাগকে জেলার উন্নয়ন আন্দোলনের পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

    অনুষ্ঠানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের বিভিন্ন বিভাগের ছাত্র–ছাত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
    পরিশেষে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে শহীদ পলু দিবসের কর্মসূচি সমাপ্ত করা হয়

  • পটুয়াখালীর -২ বাউফলে  সংসদীয় আসনে।  ধানের শীষ মার্কাকে বিজয় করার লক্ষ্যে গনসংযোগে করেন একে লিটু ।

    পটুয়াখালীর -২ বাউফলে সংসদীয় আসনে। ধানের শীষ মার্কাকে বিজয় করার লক্ষ্যে গনসংযোগে করেন একে লিটু ।

    ২৬ নভেম্বর ২০২৫, বুধবার বিকাল ৩টায় পটুয়াখালী-২ (বাউফল) সংসদীয় আসনের পৌর শহরে ধানের শীষ মার্কাকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের আহ্বানে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ অনুষ্ঠিত হয়। পৌরপাড়া ও বিভিন্ন মহল্লার অলিগলিতে সাধারণ মানুষের মাঝে এসব প্রচার সামগ্রী বিতরণ করেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা।

    আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী-০২ বাউফল আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশী, বাউফল উপজেলা বিএনপির আগামী নেতৃত্বের কান্ডারী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষকদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ এ কে এম মিজানুর রহমান লিটু এ গণসংযোগে নেতৃত্ব দেন।

    গণসংযোগকালে তিনি বলেন, “বাউফল উপজেলায় সন্ত্রাসমুক্ত, মাদকমুক্ত, চাঁদাবাজিমুক্ত একটি শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে থাকতে হবে।

    এ সময় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন ইউনিট থেকে আগত নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য, যা পুরো এলাকায় নির্বাচনী উত্তাপ বাড়িয়ে তোলে।

  • দুমকি উপজেলায়,  জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী।।

    দুমকি উপজেলায়, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী।।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায়, জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ও প্রদর্শনী-২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশীয় জাত, আধুনিক প্রযুক্তি: প্রাণিসম্পদে হবে উন্নতি-এই প্রতিপাদ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ চত্বরে দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

    অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্রের উপপরিচালক শুভেন্দু সরকার। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. আলাউদ্দিন মাসুদ‘র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় দুমকি থানার অফিসার ইনচার্জ মো: জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো: সাইফুল আলম মৃধা, মুরাদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তারিকুল ইসলাম খান, যুবদল নেতা জসিম উদ্দিন প্রমূখ, বিশেষ অতিথি ছিলেন।

    প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ উপলক্ষে দেশীয় গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি, দুগ্ধজাত পণ্য, ডিম এবং প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনী প্রযুক্তির স্টল প্রদর্শনীতে স্থান পায়।
    উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের আয়োজনে এবং এলডিডিপি প্রকল্পের অর্থায়নে এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। প্রদর্শনীতে স্থানীয় খামারিরা উৎপাদন, প্রজনন, রোগ প্রতিরোধ ও আধুনিক খামার ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেন।আয়োজকরা জানান, আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগ ও দেশীয় জাতের উন্নয়নের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদে পিছিয়ে থাকা খামারিদের সামনে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। অনুষ্ঠানে , খামারি, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেন।

  • রূপগঞ্জের মাটি আজীবন ঋণী: শহীদ বকুলের ৫৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

    রূপগঞ্জের মাটি আজীবন ঋণী: শহীদ বকুলের ৫৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা

    জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শহীদ গোলাম রশীদ বকুলের ৫৪তম শাহাদাৎ বার্ষিকী বৃহস্পতিবার(২৭ নভেম্বর) সকালে
    অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শহীদ বকুলের শাহাদাৎ-স্থল তাঁর আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। সকাল থেকেই স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, রাজনৈতিক দল এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে শহীদ বকুলের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

    আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন
    সাবেক বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী মনিরুজ্জামান মনির,রূপগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শাহাজাদা,ডেপুটি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার চান মিয়া,ন্যাশনাল প্লেস সোসাইটির চেয়ারম্যান মাহাবুবুর ইসলাম,সাবেক কেন্দ্রীয় যুবদলের সহসাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন,শহীদ গোলাম রশিদ বকুল স্মৃতি ভোলাবো প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মনির হোসেন দেওয়ান,বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুনুর রশিদ,অদুত ভূঁইয়া প্রমুখ।

    বক্তারা বলেন, ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধরত অবস্থায় রূপগঞ্জের ২৭ নভেম্বর সম্মুখ সমরে শহীদ হন বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রশীদ বকুল। তিনি ছিলেন এ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক। তাঁর শাহাদাৎ বাংলার মুক্তিকামী মানুষকে আরও বেশি করে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে অনুপ্রাণিত করেছিল।

    বক্তারা জোর দিয়ে বলেন, শহীদ বকুলের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরার জন্য এক উজ্জ্বল উদাহরণ। শহীদ বকুলের স্বপ্ন ছিল একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়া। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। আগামী প্রজন্ম যেন এই বীরকে ভুলে না যায়, সেজন্য তাঁর স্মৃতি ও ইতিহাস সংরক্ষণের জন্য আরও বড় পরিসরে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি ওঠে।

    আলোচনা সভার শেষে শহীদ গোলাম রশীদ বকুল এবং মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী সকল শহীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে এক বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা কাদির ভূঁইয়া এরপর উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।

    শহীদ বকুলের পরিবারবর্গ, স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই স্মরণসভায় উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দিনটি ছিল গভীর আবেগ ও শ্রদ্ধার।

  • রূপগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতের দাবিতে স্মারকলিপি

    রূপগঞ্জে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১০ম গ্রেডে উন্নীতের দাবিতে স্মারকলিপি

    স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের দশম গ্রেডে উন্নীতের দাবিতে স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল ২৭নভেম্বর বৃহস্পতিবার রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টেকনোলজিস্ট ও ফার্মাসিস্টরা রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ সাইফুল ইসলামের কাছে এ স্মারকলিপি প্রদান করে।

    এসময় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট(ফার্মা) আব্দুল গাফ্ফার মোল্লা, মোঃ বাদল মিয়া, চন্দনা রাণী বিশ্বাস, শাহাজাদি হারুন, টেকনোলজিস্ট(ল্যাব) আলমগীর কবির, গোলাম মোস্তফা, টকনোলজিস্ট(ডেন্টাল) আব্দুল হামিদ মোল্লা, টকনোলজিস্ট(রেডিওগ্রাফী) সেলিনা সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।

    এসময় মেডিকেল টেকনোলজিস্ট(ফার্মা) আব্দুল গাফ্ফার মোল্লা বলেন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টরা স্বাস্থ্য সেবাদান কার্যক্রমে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে। স্বাস্থ্য সেবা একটি টিম ওয়ার্ক কাজ। এর তত্তাবধানে চিকিৎসক ও নার্সদের পাশাপাশি তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রোগ নির্ণয়ে তাদের ভূমিকা অপরিসীম। ইতিমধ্যে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী, ডিপ্লোমা নার্স ও ডিপ্লোমা কৃষিবিদদের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হয়েছে। কিন্তু মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্টদের ১১তম গ্রেড থেকে ১০ম গ্রেডে উন্নীত করা হচ্ছেনা।

    কোয়ারীর পর কোয়ারী হলেও তাদের ১০ম গ্রেডের উন্নীত ফাইল লাল ফিতার দৌড়াতেœ চাপা পড়ে আছে। মানুষের স্বাস্থ্য সেবার কথা বিবেচনা করে তারা আন্দোলন সংগ্রামে যাননি। অবিলম্বে তাদের দাবী মানতে হবে। অন্যথায় কর্ম বিরতিসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

  • শরীয়তপুরে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা, দুই ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা জরিমানা

    শরীয়তপুরে নিরাপদ খাদ্য আইনে মামলা, দুই ব্যবসায়ীর ৫ লাখ টাকা জরিমানা

    শরীয়তপুরে প্রথমবারের মতো নিরাপদ খাদ্য আইনে দায়ের হওয়া একটি মামলার রায় ঘোষণা করেছেন বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত। রায়ে জেলার রাইয়ান মিষ্টান্ন ভাণ্ডার ও দুলাল ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিককে মোট পাঁচ লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়।

    সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে শরীয়তপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কার্তিক চন্দ্র ঘোষ এ রায় দিয়েছেন।

    জেলা নিরাপদ খাদ্য কার্যালয় সূত্র জানায়, চলতি বছরের মার্চ মাসে সদর উপজেলার আংগারিয়া বাজারে অবস্থিত রাইয়ান মিষ্টান্ন ভাণ্ডার এ নিয়মিত মনিটরিং অভিযানে অনিয়ম ধরা পড়ে।

    অভিযানে দেখা যায়, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বাসি মিষ্টি সংরক্ষণ, অনুমোদনহীন রং (টেক্সটাইল ডাই) ব্যবহার, মিষ্টির পাত্রে মৃত পোকা পাওয়া এবং পোড়া-নষ্ট তেলে জিলাপি ভাজার মতো একাধিক অপরাধ। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ) নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ এর ২৩, ৩৩ ও ৩৫ ধারায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক বাবুল ফকিরের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে তাকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এর আগে একই আদালত লেবেলবিহীন দধি বিক্রির অপরাধে দুলাল ঘোষ মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের মালিক কার্তিক ঘোষকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন।

    এ বিষয়ে জেলা নিরাপদ খাদ্য কর্মকর্তা সুব্রত ভট্টাচার্য বলেন, শরীয়তপুরে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বিশুদ্ধ খাদ্য আদালত ও বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ একযোগে কাজ করছে। আজকের এ রায় ভোক্তা সাধারণের ন্যায়বিচার ও নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ভোক্তাদের নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের লক্ষ্যে জেলাব্যাপী আমাদের এই প্রচেষ্টা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

  • কড়াইল বস্তিতে কেন বারবার আগুন

    কড়াইল বস্তিতে কেন বারবার আগুন

    ভূমিকম্পের ট্রমা এখন কাটেনি রাজধানীবাসীর। এরইমধ্যে ঢাকার সবচেয়ে বড় ঘনবসতিপূর্ণ কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ আগুনের ঘটনা ঘটল। মহাখালী-গুলশানের আকাশচুম্বী অট্টালিকা আর কড়াইলের টিনের চালের জরাজীর্ণ খুপড়ি ঘরের মাঝখানে ব্যবধান শুধু একটি লেকের। তবে সামান্য দূরত্বের আড়ালে লুকিয়ে জীবন-মানের আসমান-জমিন পার্থক্য। ক্ষমতার অশুভ আঁতাত ও বেঁচে থাকার স্বপ্ন বেচা মানুষগুলোর বারবার জ্বলে-পুড়ে নিঃস্ব হওয়ার আখ্যান।

    কড়াই বস্তির আগুন যেন এক অনাহূত পুরোনো অতিথি, অপ্রত্যাশিত স্বত্ত্বেও ঘুরে ফিরে আসে, রেখে যায় ছাই, কান্না আর ক্ষত। সংগতকারণে কড়াইল বস্তির নিম্ন-আয়ের মানুষের হৃদয়ে আটকে থাকা আতঙ্কের নাম আগুন।

    সচেতন নাগরিক মহল বলছেন, যে শহরে একদিকে কাঁচের আড়ম্বর, আরেকদিকে মানুষ টিন-কার্ডবোর্ডে ঘনবসতিতে জীবন সাজায়, সেই শহরের আগুন শুধু ঘর পোড়ায় না! পোড়ায় সমতার স্বপ্ন, নিরাপত্তার অধিকার, আর বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিশ্চয়তাটুকুও।

    dhakapost

    কিন্তু কেন এই কড়াইল বস্তিতে বারবার আগুন লাগে? কারণ কী? কে বা কারা দায়ী? আগুনের খবর পেয়েও কেন ফায়ার সার্ভিস বার বার আটকে যায় পথে? আগুনের নেপথ্যে কারও কোনো গোপন উদ্দেশ্যও কি অমূলক? সরকারেরই বা কী উদ্যোগ? সব প্রশ্নের উত্তর মেলে না কখনোই। মোটাদাগে কারণগুলো উঠে আসে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের তদন্তে। কিন্তু তাতে আগুন লাগা বন্ধ হয়নি, নিঃস্ব হওয়া বাসিন্দারা কোমর সোজা করে দাঁড়াতেই আবারো নিঃস্ব হওয়ার করুণ পরিণতিও শেষ হচ্ছে না।

    মহাখালী-বনানী-গুলশানের মতো বাণিজ্যিক-অভিজাত এলাকার মাঝখানেই প্রায় ৯০ একর এলাকা জুড়ে ঘনবসতিপূর্ণ এক বস্তি কড়াইল। প্রায় লাখ খানেক মানুষের বসবাস এই বস্তিতে। এখানকার বাসিন্দাদের জীবিকা দিনমজুরি, ড্রাইভিং, ভাঙ্গারি ব্যবসা, গার্মেন্টস, রিকশা, ছোট ব্যবসা, ডে-লেবার, হকারি। কর্মজীবী নারী বাসিন্দাদের অধিকাংশরাই ছোট দোকানি, গার্মেন্টস ও বাসা-বাড়িতে কাজ করেন।

    dhakapost

    যেখানে আধুনিক নগর পরিকল্পনায় একজন মানুষের ন্যূনতম থাকা-খাওয়ার বন্দোবস্ত প্রধান প্রায়োরিটি, সেখানে কড়াইল বস্তিতে গড়ে প্রতি ৪০-৫০ বর্গফুটে একজন মানুষ বসবাস শুধু মানবিক সংকটই নয়, অগ্নিকাণ্ডের জন্যও যেন প্রস্তুত বারুদভাণ্ডারের ন্যায়।

    তারই যেন প্রমাণ দিতে হয় প্রতিবছর আগুনে। কখনো কখনো বছরের ২/৩ বারও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে কড়াইল বস্তিতে।

    সবশেষ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কড়াইল বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডের খবর জানায় ফায়ার সার্ভিস।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মিডিয়া কর্মকর্তা শাহজাহান শিকদার জানান, মঙ্গলবার বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে খবর পেয়ে মোট ১৯টি ইউনিট কাজ করে। রাত সাড়ে ১০টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ সম্ভব হয়।

    dhakapost

    কড়াইল বস্তির মূল বউবাজার এলাকার বাসিন্দা আব্বাস আলী জানান, বউবাজারের কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি ও ক- ব্লক এলাকায় আগুনের সূত্রপাত। ওই অংশে হাজারখানেক ঘর ছিল। আগুন লাগার পর তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নির্বাপনে অংশ নেওয়া ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা এবং বাসিন্দারা বলছেন অন্তত ১২০০ ঘর পুড়ে গেছে।

    আজ (২৬ নভেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে দেখা যায়, কড়াইল বস্তির অধিকাংশ ঘরই জোড়াতালি দেওয়া। টিন, বাঁশ, প্লাস্টিক, কাঠ, কার্ডবোর্ডে তৈরি ঘর। যেসব মূলত আগুনের বা অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড দাহ্য সব উপকরণ। যা আগুনকে থামতে না দিয়ে হাত ধরে দৌড়ানোর সুযোগ করে দেয়।

    সরেজমিনে দেখা যায়, টিনশেড ঘরকেই কোথাও কোথায় দ্বিতল, তিনতলায় রূপ দেওয়া হয়েছে। কোথাও ৫/৭টা বড় ঘর মিলে একটি করে ওয়াশ রুম ও রান্নাঘর। যেখানে পালা করে নিত্যদিন সেরে নিতে হয় গোসল, বাথরুম ও রান্নার কাজ। তবে বস্তিতে এমন কিছু নেই যা এখানে মেলে না। কী বৈধ আর কী অবৈধ। যেন টাকা হলে সবই মেলে বস্তিটিতে। তবে বার বার আগুনের কারণে গেল বছর বস্তিতে গ্যাসের লাইন সরকারিভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বস্তির বাসিন্দাদের।

    dhakapost

    কেন বারবার আগুন কড়াইল বস্তিতে? এমন প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে জানতে চাওয়া হয়, ক্ষতিগ্রস্তসহ বস্তি বাসিন্দাদের কাছে। এরমধ্যে উঠে আসে অন্তত আটটি কারণ। তারমধ্যে অন্যতম, প্রথমত : অস্থায়ী, ঘন, দাহ্য গঠনের অবকাঠামো। বস্তির রাস্তা প্রায় মানুষের কাঁধের চেয়েও সরু। ঘরগুলোর মধ্যবর্তী দূরত্ব এতটাই কম যে কোথাও কোথাও দেয়ালই যেন দেয়ালের সঙ্গে মিশে আছে। আগুন লাগলে বাতাস তাকে পাখির ডানার মতো ছড়িয়ে দেয়। দ্বিতীয়ত : অনুমোদনহীন বিদ্যুৎ সংযোগ। এখানে বেশির ভাগ বিদ্যুৎ লাইনই অবৈধ ও ঝুলন্ত তারবিশিষ্ট। সরবরাহের তুলনায় অতিরিক্ত লোড-শর্টসার্কিটের মতো সম্ভাব্যতাকে অবস্যম্ভাবী করে তুলেছে। তৃতীয়ত : বস্তির প্রায় ৭০ শতাংশ বাড়িতেই গ্যাস সিলিন্ডার। নিরাপত্তা মানহীন সিলিন্ডার, রেগুলেটর লিক, চুলার গ্যাস জমে থাকা— এগুলো নিয়মিত বিস্ফোরণের সূত্র।

    চতুর্থত : লেক ঘেঁষে ৯০ একর এলাকা জুড়ে গড়ে উঠা বস্তিটিতে সহজপ্রাপ্য পানির উৎস নেই। তারমধ্যে সরুর রাস্তার কারণে ফায়ার সার্ভিসসহ জরুরি সেবার গাড়িও ঢুকতে বেগ পেতে হয়। প্রতিবারই আগুন নির্বাপণের পর ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে বলা হয়- “আগুন নেভাতে সবচেয়ে বড় সমস্যা—পানি আর ঢুকতে না পারা।”

    dhakapost

    পঞ্চমত : আগুনের পর বড় ফায়ার ট্রাক ঢুকতে পারে না। পানি সরবরাহের হোস পাইপও অনেক সময় ফেটে যায়। সংকীর্ণ গলি, ভাঙাচোরা পথ সব মিলিয়ে ফায়ার সার্ভিসের জন্য কড়াইল বস্তির আগুন মানে দুঃস্বপ্ন। ষষ্ঠ কারণের অন্যতম হচ্ছে- বস্তিতে দখলদারিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাব-বিস্তার। বস্তির জমি সরকারি হলেও বছর বছর এ নিয়ে নানা সংঘর্ষ, স্বার্থ, উচ্ছেদ, পাল্টা-উচ্ছেদের ঘটনা যেন হরহামেশা। অনেকগুলো কারণের মধ্যে ভুক্তভোগীদের দাবি ও জোর সন্দেহে- ‘কারও না কারও লাভ হয় আগুনে’।

    সপ্তমত : সরকারি তদারকি নেই বসতিপূর্ণ বস্তিতে। একেক সময় একেক পরিকল্পনার কথা শোনো গেলেও আদতে বস্তির বসতি ও ঘনত্ব বেড়েছে, সেবা বা জীবন মান বাড়েনি। নিরাপত্তায় সাবস্টেশন হয়নি, ড্রেনেজ পরিকল্পনা নেই, নেই ফায়ার হাইড্রেন্টও।

    ফায়ার সার্ভিসের পর্যবেক্ষক দল ও বাসিন্দাদের মতে আগুনের ভয়াবহতা কিংবা আগুনের উৎপত্তির শুরুতেই ডিটেক্ট করতে না পারাও অন্যতম কারণ। তাছাড়া দিনের বেলায় ফাঁকা আর রাত্রিকালীন ঘন ভিড়। রান্নার বেশিরভাগ আগুন লাগে সন্ধ্যা বা রাতে— যখন রান্নার সময়, বিদ্যুতের চাপ বেশি।

    ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রাথমিকভাবে কড়াইল বস্তিতে সম্ভাব্য কারণ ৩টি- ১. বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, ২. গ্যাস সিলিন্ডার ফাটল ৩. অসাবধানতাজনিত আগুন। তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এটাও বলছেন, ‘ঘনবসতিতে আগুন স্বাভাবিকের চেয়েও দ্রুত ছড়ায়। প্রতিকার না করা হলে এটা আবারও ঘটবে। আগুনের উৎপত্তির প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া কঠিন, কারণ ঘরগুলো সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

    dhakapost

    ভুক্তভোগী কড়াইলবাসীর কণ্ঠে জীবনের নীরব আর্তি

    কড়াইল বস্তিতে লাগা আগুনে সব হারানো মানুষদের সাক্ষ্য যেন অভিন্ন। শুধু পার্থক্য আজ বস্তির উত্তর তো কদিন বাদেই দক্ষিণে আগুন।

    বস্তির বাসিন্দা গার্মেন্টস কর্মী রুবিনা আক্তার বলেন, ‘মরতে মরতে বাঁইচ্চা আইছি। বানের জলে সব হারাইছি বরিশালে। বাপের হাত ধরে এই বস্তিতে আইছি। কিন্তু এখানেও যেন শুধু বাঁইচ্চা আছি। আগে বানের জলে এখন আগুনে। গতরাতের আগুনে সব পুড়ে নিঃস্ব হয়ে গেছি। আমরা ক্লান্ত।’

    নিজে ড্রাইভার, স্ত্রী কিছু করেন না। এক ঘরে ৬ সদস্যের সংসার। ৯ ঘরের ভাড়া আর নিজের চাকরির টাকায় ভালোই চলছিল গিয়াস উদ্দিনের সংসার। কিন্তু আগুনই যেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু।

    গিয়াস উদ্দিন ঢাকা পোস্টকে বলেন, ১৯৯৯ সালে এই বস্তিতে আসছি। এখন পর্যন্ত ২০০৪, ২০১৭, ২০২৫ সালে তিনবার আগুনে সব হারাইছি। দুবার মরতে মরতে বেঁচে গেছি।

    ১৫ বছর ধরে বস্তির বাসিন্দা মর্জিনা বেগম। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করে বলেন, ‘আগুন লাগার সময় রান্না করছিলাম। স্বামী বাইরে রিকশার প্যাডলে পা চালাচ্ছিল, এদিকে আগুন। কোনো রকমে দুই মেয়ে আর ছেলে-নাতিরে নিয়ে বের হইছি।

    তবে তিনি বলেন, এবারই প্রথম, কিন্তু এটাই হয়তো শেষ, আর হয়তো সোজা হয়ে দাঁড়াতে পারবো না। একদম নিঃস্ব হয়ে গেছি।

    মেয়ে ইতি আক্তার বস্তির পাশেই বিদ্যাসাগর স্কুলের ক্লাস সেভেনে শিক্ষার্থী। ইতি বলেন, আগুনে সব বই-খাতা পুড়ে গেছে, এক কাপড়ে বের হইছি মায়ের লগে। স্কুল ড্রেসটাও নেই। এরমধ্যে ৭ ডিসেম্বর থেকে বার্ষিক পরীক্ষা। সব এলোমেলো দুঃস্বপ্নের মতো লাগছে।

    যেখান থেকে বস্তির আগুনের উৎপত্তি সেই বউ বাজারের কাছের বাসিন্দা রায়হান ঢাকা পোস্টকে বলেন, আগুন লাগে নাকি লাগানো হয়, এটা একটা বড় প্রশ্ন। অনেকবারই তো পুড়লো বস্তি। সব আগুন আমাদের কারণে না। বস্তি বলে তদন্ত হয় না। আমাদের নিঃস্ব হওয়াতে, জীবন যাওয়াতে কার কি আসে যায়!

    নাশকতার এমন সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দিচ্ছেন না ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক (অপারেশন্স) মেজর (অব.) একেএম শাকিল নেওয়াজ। তিনি ঢাকা পোস্টকে বলেন, শুধু আজকে নয় অনেক আগে থেকে কড়াইল বস্তি নিয়ে অনেক কাহিনি রয়েছে। জায়গা দখল থেকে শুরু করে বহুকিছু রয়েছে। রাজনৈতিক পট-পরিবর্তন, ক্ষমতাদখল অনেক কিছু। ৫ আগস্টের আগে ছিল এক গ্রুপ এখন আরেক গ্রুপ।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আলী আহমেদ খান ঢাকা পোস্টকে বলেন, এলপিজি গ্যাস যত্রতত্র ব্যবহার হচ্ছে। বস্তির ঘরগুলো খুব ঘিঞ্জি, একটার সঙ্গে আরেকটা লাগানো। ঘরগুলো কাঠ ও টিন আর কাগজের বক্স দিয়ে বানানো। যা দাহ্যবস্তু। ইলেকট্রনিক লাইনগুলো অনেক নিম্নমানের। রান্নার কাজে ব্যবহৃত গ্যাসের সিলিন্ডারের লিকেজ থেকে আগুন লাগলে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

    তিনি বলেন, বস্তিতে আধিপত্য বিস্তারের জন্য আগুন লাগাতে পারে। সেটার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। রাজনৈতিক কারণেও আগুন লাগানো হতে পারে। গোয়েন্দারা ভালো বলতে পারবেন।

    dhakapost

    আগুন নেভাতে দেরির কারণ ও সমাধানে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসে নতুন কোনো সদস্য কড়াইলের বস্তিতে গেলে সে রাস্তা খুঁজে পায় না। এজন্য অভিজ্ঞ এবং যারা কড়াইল বস্তি সম্পর্কে জানে শুধুমাত্র তারাই দ্রুত আগুন নেভাতে পারবে। কারণ কড়াইল বস্তি সম্পর্কে তাদের ধারণা রয়েছে। আমি যখন দায়িত্বে ছিলাম তখন আলাদা একটি ইউনিট ছিল কড়াইলের জন্য। সেখানে সাব স্টেশন করা, ফায়ার হাইড্রেন্ট স্থাপন ও অভিজ্ঞ জনবলকে মোতায়েন করার পরামর্শ দেন তিনি।

    এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল ঢাকা পোস্টকে বলেন, কড়াইল বস্তিতে গেলে দেখবেন যে ওখানে যত্রতত্র বিদ্যুতের লাইন, যার অধিকাংশই অবৈধ। বাড়িঘরগুলোও একটার পাশে আরেকটা লাগানো, ঘিঞ্জি এমনভাবে লাগানো যে, ছোটোখাটো আগুনও বড় হতে বেগ পায় না। মানে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে হয়ে যায়।

    ‘দিনের বেলা বাসা-বাড়িতে একজন দুজন লোক থাকে। এখানে বেশিরভাগ মানুষ কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকে। তখন আগুন লাগলে প্রাথমিকভাবে আনডেন্টিফাই করা সম্ভব হয় না। ঝিলের পাড়ের বসতি কড়াইলের। বাসিন্দারা খুব সহজেই পার হয়ে চলে যায় বিভিন্ন জায়গায়, চাকরিতে বা কাজে। ফলে ছোট আগুনেও দেখা যায় যে অ্যাটেন্ড করতে না পারার কারণে যথাসময়ে আগুনটা বড় হয়ে যায়।’

    তিনি গতকালকের আগুনের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘গতকালকেও প্রচুর সিলিন্ডারের সম্মুখীন বা বাধার মুখে পড়েছি আমরা, যেগুলো বিস্ফোরণ হচ্ছিল।

    তিনি বলেন, এখানে সচেতন হয়েও লাভটা কোথায়? সচেতন হলেও তো বস্তির বাসিন্দাদের যাওয়ার জায়গা নাই। কোথায় যাবেন তারা? একটা ছোট্ট একটা জায়গায় কত লোক একসঙ্গে বাস করছে! আমরা যতই বুঝাই না কেন কিছুদিন পর পর আগুন সেখানে লাগছে। আমরা সেখানে মহড়া করেছি, রেডক্রিসেন্টও নিয়মিত মহড়া সচেতনতামূলক কার্যক্রম করে সেখানে। কিন্তু আলটিমেটলি দিনের শেষে খুব বেশি ভালো ফলাফল পাওয়া যাচ্ছে না।

    কড়াইল বস্তিতে পানির সহজপ্রাপ্ততার জন্য ফায়ার হাইড্রেন্ট এখন জরুরি

    ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক আরও বলেন, বস্তিতে আগুন লাগলে আমরা পানি পাই না, পানি পেলেও আবার গাড়ি এমন জায়গায় রাখতে হয় যা স্পট থেকে দূরে। গতকালকেও এক কিলোমিটার দূরে গাড়ি রেখে আমাদের কাজ করতে হয়েছে। ফায়ার ফাইটাররাও পানি নিয়ে গিয়ে যে কাজ করবে সেক্ষেত্রেও অনেক প্রতিবন্ধকতা।

    যেহেতু বস্তি নিয়ে সরকারের ভিন্ন পরিকল্পনা নেই, সচেতনতামূলক কার্যক্রমেও বস্তিতে আগুন বন্ধ হচ্ছে না, সরু পথ প্রশস্ত করতে হবে। পানির সরবরাহ সহজপ্রাপ্ত করতে ফায়ার ডাইড্রেন্ট স্থাপন করতে হবে বস্তি জুড়ে। ফায়ার হাইড্রেন্ট পয়েন্টগুলো ব্যবহারে আমরা খুব সহজে আগুন কন্ট্রোলে নিয়ে আসতে পারবো। এই ধরনের বিষয়গুলো নিয়ে আমরা চিন্তা করছি।

  • কালিয়াকৈরে খামার ব্যবসায়ী কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা ছিনতাই

    কালিয়াকৈরে খামার ব্যবসায়ী কাছ থেকে ১৪ লাখ টাকা ছিনতাই

    গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার লতিফপুর এলাকায় জোড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে আরফিন নামে এক খামার ব্যবসায়ীর কাছ থেকে১৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে।

    মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল ৩:৩০টার দিকে উপজেলার লতিফপুর জোড়া ব্রীজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

    আরফিন হোসেন উপজেলার টালাবহ এলাকার আফসার উদ্দিনের ছেলে।

    অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আরফিন মঙ্গলবার সকালে জমি কেনার জন্য প্রায় ১৫ লাখ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে রওনা দেয়।পরে উপজেলা লতিফপুর দলিল লেখক সমিতির মতিয়ার রহমানের অফিসে আসেন। পরে জমি দলিল সম্পূর্ণ না হওয়ায়। আরফিন হোসেন, তার বড় ভাই আবির ও বোনের জামাতা আমিনুল ইসলাম মোটরসাইকেল যুগে তিনজন টাকা নিয়ে বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

    কালিয়াকৈর যাওয়ার পথে লতিফপুর জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে পিছন থেকে সাদা একটি প্রাইভেটকার যোগে করে মোটরসাইকেল চাপ দিয়ে মোটরসাইকেলটি পড়ে যায় এ সময় তাদের কাছ থাকা টাকার ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত প্রাইভেটকার ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তাদের ডাক চিৎকারে আশেপাশের লোকজন ছুটে আসলে ততক্ষণে প্রাইভেটকার নিয়ে ছিনতাইকারীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। তবে আরফিন হোসেন একজন পোল্ট্রি খামারী ব্যবসায়ী। পরে আরফিন হোসেন বাদী হয়ে মঙ্গলবার বিকেলে একটি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

    কালিয়াকৈর উপ-পরিদর্শক মোহাম্মদ জামিল হোসেন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • দুমকী উপজেলায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টেকনিশিয়ানের  অভাবে এক্স-রে বন্ধ।।

    দুমকী উপজেলায়, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টেকনিশিয়ানের অভাবে এক্স-রে বন্ধ।।

    দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টেকনিশিয়ানের অভাবে বন্ধ রয়েছে এক্সরে। এতে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা। প্রায়ই তাদেরকে বাইরের ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে বেশি টাকা দিয়ে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এছাড়াও বিকল হয়ে পড়ে আছে জেনারেটর। ফলে অনেক সময় অন্ধকারেই সেবা দিতে হচ্ছে চিকিৎসক ও নার্সদের। এর আগে মোমবাতি জ্বালিয়ে চিকিৎসা সেবা দেয়ার ছবি ভাইরাল হলেও হয়নি উল্লেখযোগ্য সমাধান। এদিকে হাসপাতালের আলট্রাপ্লেগ্রাম মেশিনটি সচল থাকলেও সব সময় তার কার্যক্রম চলছে না। প্রায়ই বাহির থেকে আলট্রা করাতে হচ্ছে রোগীদের। এতে বাড়তি টাকা দিতে হচ্ছে রোগীদের। ফলে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগীরা শিকার হচ্ছে নানা বিড়ম্বনায়। হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ চালু থাকলেও সব রক্তের পরীক্ষা করানো হয় না। অভিযোগ রয়েছে তাদের পছন্দমত প্যাথলজিতে পাঠিয়ে পরীক্ষা করানোর।
    সরেজমিনে দেখা যায়, গত ২৭/১/২০ ইং তারিখে হাসপাতালে একটি নতুন এক্স-রে মেশিন আসলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা তালাবদ্ধ রয়েছে। দুমকী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন সহ পার্শবর্তী বাকেরগঞ্জ ও বাউফল এবং পটুয়াখালী উপজেলার নিকটবর্তী এলাকারও শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে এখানে। কিন্তু হাসপাতালের বেহালদশার কারনে কাক্সিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তারা।
    হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা উপজেলার রাজাখালী গ্রামের পরি বেগম বলেন, আমার পায়ে সমস্যা তাই ডাক্তার আমাকে এক্সরে ও কিছু রক্তের পরীক্ষা দিয়েছে যা বাহিরে করাতে হচ্ছে। টাকার অভাবে রক্তের পরীক্ষা করাতে পারিনি, ৫০০ টাকা দিয়ে শুধু এক্স-রে করিয়েছি। এ বিষয়ে আক্ষেপ করে তার স্বামী সেরজন বলেন, সরকার স্বাস্থ্য খাতে কোটি টাকা ব্যয় করে কিন্তু আমরা সে সেবা পাইনা। আমাদের খেতে কষ্ট। এর মধ্যে ২ হাজার টাকার পরীক্ষা দিয়েছে ডাক্তার। হাসপাতালে এক্স-রে ও রক্তের পরীক্ষাগুলো ফ্রি করাতে পারলে আমরা উপকৃত হতাম।
    হাসপাতালের ল্যাবরেটরি বিভাগের ল্যাব টেকনিশিয়ান আরিফুর রহমান সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আমাদের এখানে সব ধরনের পরীক্ষা করানো সম্ভব হয় না।উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. শহিদুল হাসান শাহীন বলেন, আমি এক্স-রে টেকনিশিয়ানের চাহিদা দিয়ে কয়েক দফা চিঠি উদ্‌ধতন কর্তৃপক্ষের বরাবর পাঠিয়েছি। কিন্তু এখনও কোন সমাধান পাইনি। জেনারেটর সার্ভিসিংয়ের চেস্টা করছি। অনান্য সমস্যা গুলো পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে বলে আশা করছি। পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন এস এম কবির হাসান বলেন, এর আগে প্যাথলজি বিভাগ চালু ছিলো না এখন কিছু পরীক্ষা করানো হয়। আল্ট্রা করার জন্য উপযুক্ত ডাক্তার না থাকায় একটু সমস্যা হচ্ছে। এক্স-রে টেকনিশিয়ানের জন্য ঢাকা ডিজি অফিসে কথা বলেছি আশা করি অতি শীঘ্রই পেয়ে যাবো।