Author: তরঙ্গ টিভি

  • শরীয়তপুরে এনসিপি নেতার অফিসে ককটেল হামলা

    শরীয়তপুরে এনসিপি নেতার অফিসে ককটেল হামলা

    শরীয়তপুরে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ তালুকদারের অফিসে হাত বোমা নিক্ষেপ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (৩ নভেম্বর) রাতে সদর পৌরসভার ঈদগাহ মাঠের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

    স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গঠনের শুরু থেকেই সবুজ তালুকদার এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। সোমবার রাতে কয়েকজন দুর্বৃত্ত তার অফিসের সামনে একাধিক হাত বোমা নিক্ষেপ করে ও বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। বোমার বিকট শব্দে এলাকায় ও অফিসসংলগ্ন লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি বিস্ফোরিত ককটেলের আলামত উদ্ধার করে।

    এনসিপির জেলা সিনিয়র যুগ্ম সমন্বয়কারী সবুজ তালুকদার বলেন, গঠনের শুরু থেকেই আমি এনসিপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে আমাকে মোবাইলফোনে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবেই এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে।

    পালং মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হেলাল উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। সেখান থেকে একটি অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • রাজশাহীতে ৫ ঘণ্টা ধরে রেলপথ অবরোধ, দুর্ভোগে ৩ হাজারের বেশি যাত্রী

    রাজশাহীতে ৫ ঘণ্টা ধরে রেলপথ অবরোধ, দুর্ভোগে ৩ হাজারের বেশি যাত্রী

    ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। এর ফলে রাজশাহী-ঢাকা, চাঁপাইনাববাগঞ্জ ও পাবনার মধ্যে চলাচল করা চারটি ট্রেন আটকা পড়েছে বিভিন্ন স্টেশনে। এসব লোকাল, কমিউটার ও আন্তঃনগর ট্রেনের তিন হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়ে অলস সময় কাটাচ্ছেন বিভিন্ন স্টেশনে। 

    শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন স্টেশন বাজারে ৪৭তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে ও পুলিশ কর্তৃক সাধারণ শিক্ষার্থীর ওপর ন্যাক্কারজনক হামলার প্রতিবাদে রেললাইন অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন রাবি শিক্ষার্থীরা। রাত সাড়ে ৮টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অবরোধ চলছে বলে জানা গেছে।

    রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে কথা হয় যাত্রী সফিকুল ইসলামের সঙ্গে। পদ্মা এক্সেপ্রেসের এই যাত্রী বলেন, বিকেল ৪টা থেকে রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে উঠে বসে আছি। ট্রেন ছাড়ার কোনো খবর নেই। পরে জানতে পারি রাবি শিক্ষার্থীরা রেললাইনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছেন। তাই ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। এর ফলে হাজারো যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছে।

    আরেক যাত্রী শ্যামলী ইসলাম বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন ও কর্মসূচিগুলো আসলে আলোচনার মাধ্যমে শেষ করা দরকার। কিন্তু সেটি না হয়ে মানুষ সড়কে নেমে আন্দোলন করছে, প্রতিবাদ জানাচ্ছে। এতে করে হাজার হাজার মানুষ দুর্ভোগে পড়ছে। অনেক মানুষ কষ্ট করে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে বসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ট্রেন ছাড়ার অপেক্ষায় বসে আছে। আমরা চাই দ্রুত একটা সমাধান হোকরাজশাহী রেলওয়ের একটি সূত্র জানায়, রাজশাহী-ঢাকার মধ্যে চলাচল করা আন্তঃনগর বনলতা এক্সেপ্রেস ট্রেনটি হরিয়ান স্টেশনে থেমে আছে। ট্রেনটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে আসতে পারছে না। এই ট্রেনের যাত্রী প্রায় এক হাজার। এছাড়াও রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে পদ্মা এক্সেপ্রেস ট্রেনটিও নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। ট্রেনটি রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে হাজারখানেক যাত্রী নিয়ে আটকে আছে।

    এছাড়াও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা রহনপুর কমিউটার প্রায় ৬০০ যাত্রী নিয়ে শীতলাই স্টেশনে আটকে আছে। অপরদিকে, নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি ঢালারচর এক্সেপ্রেস ট্রেন। ট্রেনটি রাজশাহী-পাবনা রুটে চলাচল করে। এই ট্রেনের প্রায় ৬০০ যাত্রী রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান করছে।

    এ বিষয়ে পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল আওয়াল বলেন, চারটি ট্রেন আটকা পড়েছে বিভিন্ন স্টেশনে। কোনো ট্রেনের যাত্রা বাতিল করা হয়নি। এসব লোকাল, কমিউটার ও আন্তঃনগর ট্রেনের ৩ হাজারের বেশি যাত্রী আটকা পড়ে আছে বিভিন্ন স্টেশনে।

  • আমরা নির্বাচিত হলে খাদেম হবো, শাসক হবো না : বুলবুল

    আমরা নির্বাচিত হলে খাদেম হবো, শাসক হবো না : বুলবুল

    জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো. নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন, আমরা যদি নির্বাচিত হই, তাহলে আমরা চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীর খাদেম হবো, আমরা শাসক হবো না। আমরা যদি নির্বাচিত হই, তাহলে দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে প্রিয় চাঁপাইনবাবগঞ্জকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে জনগণের খাদেম হিসেবে ভূমিকা পালন করব। ভোটারদেরকে বিভ্রান্ত করার জন্য এআইকে (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) কাজে লাগিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার, চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র হচ্ছে- আমাদের কাছে খবর আছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

    শনিবার (২২ নভেম্বর) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জের নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ মাঠে চাঁপাইনবাবগঞ্জ উন্নয়ন ফোরাম আয়োজিত ঐতিহাসিক ছাত্র-যুব সমাবেশ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

    বুলবুল বলেন, আমরা কারও বক্তব্যে বিভ্রান্ত হবো না। আপনারা কারও প্রতারণায় পড়বেন না। চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ এক, দুই, তিন আসনেই বিপুল ভোটে জামায়াত ইসলামীর প্রার্থীদেরকে বিজয়ী করার জন্য আজকে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। তাদের কাছে প্রমাণিত হয়েছে নতুনভাবে যদি চাঁপাইনবাবগঞ্জকে ঢেলে সাজাতে হয়- তাহলে আগামী দিনে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে নীরব বিপ্লব ঘটাতে হবে।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ পরিবর্তন চায় উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা আওয়ামী লীগের সময় দেখেছি। আমরা জাতীয় পার্টি দেখেছি, আমরা বিএনপি দেখেছি। এইবার চাঁপাইনবাবগঞ্জের মানুষ দাঁড়িপাল্লাকে দেখতে চায়। যদি আগামী দিনে আমরা নির্বাচিত হতে পারি তাহলে তরুণ, যুবক ও ছাত্রদের নেতৃত্বে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে আমরা এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে পুরো বাংলাদের মধ্যে মডেল হয়ে থাকবে। আমরা দিয়ার এলাকার কয়েকটি অবহেলিত ইউনিয়ন নিয়ে দিয়ার উপজেলা গড়ে তোলার জন্য পদক্ষেপ গ্রহণ করব।

    বুলবুল বলেন, প্রিয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ একটা নিরাপদ নগরীতে পরিণত হবে। যে নিরাপদ নগরীতে গভীর রাতে ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ঘরে ফিরবে। আমাদের মা-বোনেরা, ছাত্র-ছাত্রীরা একাই নির্বিঘ্নে ঘর থেকে স্কুলে যেতে পারবে, আবার ফিরে আসবে। আমাদের তরুণ এবং যুবকদের দক্ষ করে গড়ে তোলার মধ্যে দিয়ে আগামী দিনে মানবসম্পদে সমৃদ্ধ এক নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য পরিকল্পনা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জে সদর-৩ আসনের এই প্রার্থী বলেন, আগামী দিনে চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটা মেডিকেল কলেজ দেখতে চাই। চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিজ্ঞান এবং প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, যাতে করে আমাদের চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাইরে গিয়ে উচ্চশিক্ষা নেওয়ার জন্য প্রয়োজন না হয়। আমরা আমাদের হসপিটালকে একটি পূর্ণাঙ্গ হসপিটালে পরিণত করতে চাই। এখানকার সুযোগ, সুবিধা আমরা বাড়িয়ে দিতে চাই।

    তিনি বলেন, আমরা বলেছি কৃষি প্রধান চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হওয়া উচিত। চাঁপাইনবাবগঞ্জে কৃষিভিত্তিক ইপিজেড হলে সেখানে হাজার হাজার যুবক ও তরুণদের কর্মসংস্থান হবে। আমরা প্রিয় চাঁপাইনবাবগঞ্জকে পরিবর্তন করতে চাই। এই পরিবর্তনের জন্য তরুণ প্রজন্মকে আগামী দিনে কর্মঠ করার লক্ষ্যে ম্যাংগো ইন্ডাস্ট্রিজ, আমের বহুবিধ ব্যবহার নিশ্চিত করার মধ্যে দিয়ে আম রপ্তানিকে আরও কার্যকরভাবে পরিকল্পনা করে তরুণ ও যুবকদের কর্মসংস্থানের আওতায় নিয়ে আসতে চাই।

    বুলবুল বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমরা সস্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্তি মানবিক বাংলাদেশ চাই। সস্ত্রাস, চাঁদাবাজ, দুর্নীতিমুক্তি একটা মানবিক বসবাস যোগ্য চাঁপাইনবাবগঞ্জ চাই। আমাদের তরুণ এবং যুবকরা জুলাই আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে যেভাবে নিজেরা নিজেদের জীবন দিয়ে আমাদের নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছে, রক্ত দিয়ে আহত হয়ে পঙ্গুত্ব বরণ করে যেভাবে আমাদের নতুন বাংলাদেশ এনে দিয়েছে। আগামী দিনে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ আমরা করতে চাই। সৎ দক্ষ, তরুণ এবং যুবকদের নেতৃত্বেই আগামী দিনে আমরা একটা বসবাস যোগ্য ন্যায় এবং ইনসাফের বাংলাদেশের অংশ হিসেবে এক টুকরো চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমরা গড়ে তুলতে চাই।

    চাঁপাইনবাবগঞ্জ উন্নয়ন ফোরামের সহসভাপতি আবু বাকরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, চাকসুর ভিপি ইব্রাহিম রনি, রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ড. মিজানুর রহমান প্রমুখ।

  • মাধবদী কীভাবে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রে পরিণত হলো?

    মাধবদী কীভাবে শক্তিশালী ভূমিকম্পের কেন্দ্রে পরিণত হলো?

    রাজধানী ঢাকার কাছে নরসিংদীর মাধবদীতে শুক্রবার যে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছিল, তাতে কেঁপে উঠেছিল রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ এবং ভূমিকম্পের জেরে এখন পর্যন্ত মারা গেছে অন্তত দশ জন, আর আহত হয়েছেন পাঁচশোর বেশি মানুষ।

    ঢাকা থেকে মাত্র ৩০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্ব দিকে নরসিংদীর জেলার মাধবদী উপজেলায় মাটির প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার ওই ভূমিকম্পের শক্তি জমছে বলে জানিয়েছে দেশি বিদেশি সংস্থা ও ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা।

    যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক সংস্থা ইউএসজিএসের মতে, বাংলাদেশের ৭ কোটির মতো মানুষ মৃদু বা হালকা ঝাঁকুনি অনুভব করেছেন। শুক্রবার সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী ভূমিকম্পটিকে স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ ভূমিকম্প হিসেবে বর্ণনা করেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভাগও।

    এরপর আজ শনিবার আবারও মৃদু ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অফিস বলেছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৩ দশমিক ৩, যার উৎপত্তিস্থল নরসিংদী জেলারই পলাশ উপজেলা।

    কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, মাধবদীর যেই ভূমিকম্প সারাদেশে, বিশেষ করে ঢাকায় যে তীব্র আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে তার কারণ কি? কিংবা ঢাকা শহরে ব্যাপক ঝাঁকুনি দেওয়া এই ভূমিকম্প সম্পর্কে আর কী জানা যাচ্ছে?

    ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-তত্ত্ব বিভাগের সাবেক অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, মাধবদী ভূমিকম্পের কারণ ভূগর্ভে ইন্ডিয়ান প্লেট ও বার্মিজ প্লেটের অবস্থান পরিবর্তন।

    • মাধবদীর ভূমিকম্প নিয়ে আর কী জানা যাচ্ছে

    বিশেষজ্ঞদের মতে, ভূতাত্ত্বিক চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পৃথিবীর ভূ-পৃষ্ঠ কয়েকটি টেকটনিক প্লেটে বিভক্ত, যেগুলো ভূগর্ভে তরল পদার্থের ওপর ভাসছে এবং এসব প্লেট গতিশীল; একে অপরের সাপেক্ষে অবস্থান পাল্টাচ্ছে।

    তবে এর বাইরে অনেক জায়গায় সাব-প্লেট ক্রিয়াশীল আছে। যেসব স্থানে একটি প্লেট এসে আরেকটি প্লেটের কাছাকাছি মিশেছে বা ধাক্কা দিচ্ছে বা ফাটল তৈরি হয়েছে, সেটাকে বলা হয় ফল্ট লাইন। বাংলাদেশে এমন কয়েকটি ফল্ট লাইন আছে।

    এসব প্লেট যখন সরে যায় বা নড়াচড়া করে কিংবা একটি অন্যদিকে ধাক্কা দিতে থাকে, তখন এক ধরনের শক্তি সঞ্চিত হয়। আর সেই শক্তি যখন সেখানকার শিলার ধারণ ক্ষমতার পেরিয়ে যায়, তখন আগে থেকে থাকা কিংবা নতুন তৈরি হওয়া ফাটল কিংবা শিলা ব্লক একটি আরেকটির ওপর উঠে গেলে সেখানে সঞ্চিত শক্তি বেরিয়ে আসলেই ভূ-পৃষ্ঠে কম্পন অনুভূত হয়। মূলত এটিই ভূমিকম্প।

    ইউএসজিএসের মতে, শুক্রবার বাংলাদেশের যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়েছে যে অঞ্চলে সেখানে ১৯৫০ সালের পর থেকে শুক্রবারের ভূমিকম্পের আগে ৫ দশমিক ৫ মাত্রা বা এর চেয়ে বড় আকারের ভূমিকম্প হয়েছে ১৪টি।

    বিশেষজ্ঞ মত অনুযায়ী, বাংলাদেশে বড় ধরনের ভূমিকম্পের প্রধান উৎস দুটি। এর একটি হলো ডাউকি ফল্ট’, যা ভারতের শিলং মালভূমির পাদদেশে বাংলাদেশের ময়মনসিংহ-জামালগঞ্জ-সিলেট অঞ্চলে বিস্তৃত; প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

    আরেকটি হলো, সিলেট থেকে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম, টেকনাফ পর্যন্ত যা সব মিলিয়ে ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই উৎসটিকে খুব ভয়ংকর বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

    টেকটনিক প্লেটে বাংলাদেশের যে অবস্থান তাতে দুটি প্লেটের সংযোগস্থল রয়েছে; পশ্চিমে ইন্ডিয়ান প্লেট আর পূর্ব দিকে বার্মা প্লেট। আর বাংলাদেশের উত্তরদিকে আছে ইউরেশিয়ান প্লেট।

    ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বলছেন, ভারতীয় প্লেটটি ধীরে ধীরে পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে বার্মা প্লেটের নিচে অর্থাৎ চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রামের নিচে তলিয়ে যাচ্ছে।

    ‘‘তলিয়ে যাওয়ার কারণে একটা সাবডাকশান জোনের তৈরি হয়েছে। আর নটরিয়াস (ভয়ংকর অর্থে) এই জোনের ব্যাপ্তি সিলেট থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত। পুরো চট্টগ্রাম অঞ্চল এর মধ্যে পড়েছে। এখানে বিভিন্ন সেগমেন্ট আছে। আমাদের এই সেগমেন্টে ৮.২ থেকে ৯ মাত্রার শক্তি জমা হয়ে আছে। এটা বের হতেই হবে।’’

    তার মতে, নরসিংদীর মাধবদীতে যে ভূমিকম্পের উৎস ছিল সেই এই সেগমেন্টেরই এবং নরসিংদীতে দুই প্লেটের যেখানে সংযোগস্থল, সেখানেই ভূমিকম্প হয়েছে।

    ‘‘এখানে প্লেট লকড হয়ে ছিল। এর অতি সামান্য ক্ষুদ্রাংশ খুললো বলেই শুক্রবারের ভূমিকম্প হয়েছে। এটিই ধারণা দেয় যে সামনে বড় ভূমিকম্প আমাদের দ্বারপ্রান্তে আছে। এই যে বড় একটি প্লেট বাউন্ডারির খুব ক্ষুদ্র শক্তি খুলে গেল, তার মানে হলো সামনে বড় বিপদ অপেক্ষা করছে। কারণ একটু খুলে যাওয়া কিছু শক্তি বের হওয়ায় সামনে এই শক্তির বের হওয়া আরও সহজ হয়ে গেছে,’’ মাধবদীর ভূমিকম্প প্রসঙ্গে বলছিলেন আখতার।

    তবে শুক্রবার মাধবদী ভূমিকম্পের পর আজ একই জেলার পলাশ উপজেলায় ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ৩ দশমিক ৩ বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রুবাইয়াত কবির।

    • ৮০০ বছর ধরে শক্তি জমছে

    ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, দুই প্লেটের সংযোগস্থলে শক্তি সঞ্চয় হচ্ছে আটশ বছরের বেশি সময় ধরে। সেখানে ৮ দশমিক ২ থেকে ৯ মাত্রার ভূকম্পন তৈরির মতো শক্তি জমা হয়ে আছে বলে বলছেন সৈয়দ হুমায়ুন আখতার।

    ‘‘এটা বের হবেই। মাধবদীর ভূমিকম্পের কারণে এখন সামনে সহজেই সেই শক্তি বের হয়ে আসতে পারে। আর সেটি হলে আমাদের ঢাকা নগরীর একটি মৃত্যুপুরী হয়ে ওঠার আশংকা আছে। সে কারণে আর অবহেলা না করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।’’

    প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের এই অঞ্চলে আগেও বড় মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে, এমনকি ভূমিকম্পে নদীর গতিপথ বদলে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তবে সেগুলো ছিল সিলেট ও চট্টগ্রাম এই দুটি উৎসের বাইরে।

    এ ধরনের ভূমিকম্পে ১৭৯৭ সালে ব্রহ্মপুত্র নদের গতিপথ বদলে গেছে। এখনকার মেঘনা নদী এক সময় লালমাই পাহাড়ের পাদদেশ দিয়ে প্রবাহিত হতো। বড় ধরনের ভূমিকম্পের ফলে এই নদীর গতিপথও পরিবর্তিত হয়ে ২০ থেকে ৪০ কিলোমিটার পশ্চিমে বর্তমান অবস্থানে সরে আসে।

    ১৭৬২ সালে টেকনাফ থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত ৮.৫ মাত্রার ভূমিকম্পে সেন্টমার্টিন দ্বীপ তিন মিটার ওপর উঠে আসে। সিলেটের মৌলভীবাজার, কিশোরগঞ্জ এই অঞ্চলে ১৯২২ সালে হয়েছিল ৭.৬ মাত্রার ভূমিকম্প। এর আগে ১৮৬৮ সালে ওই অঞ্চলে ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল।

    ডাউকি ফল্ট যে অঞ্চলে সেই জৈন্তাপুর-সুনামগঞ্জে ৮ দশমিক ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল ১৮৯৭ সালে। তবে ভূমিকম্পের উৎপত্তি হতে পারে এমন দুটিই অঞ্চলের যেখানেই বড় কোনো ভূমিকম্প হলে অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ঢাকাতেই বড় বিপর্যয়ের আশংকা প্রকাশ করে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। বিবিসি বাংলা।

  • ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, তীব্র ঝাঁকুনি

    ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, তীব্র ঝাঁকুনি

  • ঢাকায় ভূমিকম্পে বড় ধাক্কার ভয়, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    ঢাকায় ভূমিকম্পে বড় ধাক্কার ভয়, কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

    ভূমিকম্পের বড় ধাক্কা সামলানোর সক্ষমতা রাজধানী ঢাকার নেই। ঢাকা শহরে অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ভূমিকম্পে ক্ষতির ঝুঁকিও বেশি। তাই বড় কোনো ভূমিকম্প হলে বড় ধরনের ধাক্কা খেতে পারে ঢাকা। পড়তে পারে ভয়াবহ ক্ষতির মুখে। তাই যত দ্রুত সম্ভব জরুরি কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্টের অংশ হিসেবে রাজউক পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীতে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবন রয়েছে। ঢাকার নিকটবর্তী মধুপুর ফল্টে (টাঙ্গাইল) ৬.৯ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানলে ঢাকা শহরের কয়েক লাখ ভবন ধসে পড়তে পারে। এর অন্যতম কারণ– অধিকাংশ ভবন তৈরির ক্ষেত্রে জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড অনুসরণ করা হয়নি। বেশিরভাগ ভবন নির্মাণে সরকারি কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেই। ৯৫ ভাগ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে অনুমোদিত নকশার বাইরে।

    জানা গেছে, চলতি বছর প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অবৈধ ভবন চিহ্নিত করেছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এসব ভবনের বিরুদ্ধে অভিযানও পরিচালনা করছে সংস্থাটি। তাছাড়া কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই নগরীর বসিলা, ঢাকা উদ্যান ও কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের এলাকায় শত শত ভবন গড়ে উঠেছে।রাজধানীর মাস্টারপ্ল্যান ড্যাপের তথ্যমতে, ২০০৬ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৯৫ হাজার স্থাপনা গড়ে ওঠে। ওই সময় রাজউক থেকে মাত্র ৪ হাজার ১৪৭টি ভবন নির্মাণের অনুমোদন নেওয়া হয়। সে হিসাবে অনুমোদন ছাড়াই ৯৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে রাজধানীতে ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে আগে থেকেই সতর্ক করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

    ঢাকায় ভূমিকম্পে ক্ষয়ক্ষতির সম্ভাব্য ঝুঁকি বাড়ার পেছনে বেশকিছু কারণ চিহ্নিত করেছেন বিশেষজ্ঞরা। যার মধ্যে রয়েছে– বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ এ শহরে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠা বহুতল ভবন, বস্তি এবং সরু রাস্তা। তাছাড়া অনেক ভবনই ভূমিকম্প সুরক্ষা মানদণ্ড মেনে তৈরি হয়নি, যা এগুলোকে মৃত্যুফাঁদে পরিণত করেছে। এ ছাড়া বাংলাদেশের মাটির গঠনগত দুর্বলতাও ঝুঁকির একটি বড় কারণ। দেশের বড় অংশই আলগা ও জলাবদ্ধ পলিমাটির ওপর গঠিত। শক্তিশালী কম্পনে এই মাটি তরলীকৃত হয়ে যেতে পারে, যা ভবন ধসের কারণ হতে পারে।

    ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের আওতায় থাকা ভবনগুলোর ওপর করা এক জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ ভবনই ২০ থেকে ৩০ বছর আগে নির্মিত। অনেক জায়গায় রড-সিমেন্টের মান নিয়ন্ত্রণ করা হয়নি, আবার কোথাও অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে ভবন তৈরি করা হয়েছে। ফলে সামান্য কম্পনেও এসব ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে মনে করছেন নগর পরিকল্পনাবিদরা।

    dhakapost

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) হওয়া ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পে রাজধানীর ১৪টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে জানিয়েছেন ঢাকা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার মো. সালাহ উদ্দীন-আল-ওয়াদুদ। তার দেওয়া তথ্যমতে, মালিবাগ চৌধুরী পাড়ায় ১টি, আরমানিটোলায় ১টি, সূত্রাপুরের স্বামীবাগে ১টি, বনানীতে ১টি, কলাবাগানে ১টি, বসুন্ধরায় ১টি, নর্দ্দা এলাকায় ১টি, দক্ষিণ বনশ্রীতে ১টি, মোহাম্মদপুরে ১টি, খিলগাঁও এলাকায় ২টি, বাড্ডা এলাকায় ১টি, মগবাজারের মধুবাগে ১টি এবং হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় ১টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

    নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, রাজধানীতে গড়ে ওঠা ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় কি না সেটি নির্ণয়ের মতো প্রয়োজনীয় জনবল ও যন্ত্রপাতি নেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক)। ঢাকায় অনুমোদনহীন ভবনের সঠিক সংখ্যাও জানা নেই তাদের। খাল-বিল নদী দখল করে কত ভবন হয়েছে সেই সংখ্যাও জানা নেই। ঢাকায় লাখ লাখ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। এসব ভবন অপসারণ না করেই নতুন নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। ফলে ঢাকায় বসবাস করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিকল্পনা করে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন করা দরকার। তা না হলে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে দেশে ব্যাপক মানবিক বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। তাই সব নতুন ভবন নির্মাণে নকশা ও বাংলাদেশ জাতীয় বিল্ডিং কোড কঠোরভাবে অনুসরণ করা দরকার।

    বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বলেন, শুক্রবারের ভূমিকম্পটা বড় ভূমিকম্প আসার আগে যে ছোট ছোট ভূমিকম্প হয়, তার অন্যতম। রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রায় যে ক্ষতি হয়েছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে ৭ মাত্রার হলে ক্ষয়ক্ষতি অনেক বেড়ে যাবে, ভেঙে যাবে বহু ভবন, প্রচুর হতাহত হবে। ঢাকার ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে এমন ভূমিকম্প হলে ঢাকায় অনেক ক্ষয়ক্ষতি হবে।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আরবান রেজিলিয়েন্স প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক ড. আব্দুল লতিফ হেলালী বলেন, ঢাকা ও আশপাশের ভবনগুলো ন্যূনতম মান বজায় না রেখেই তৈরি হয়েছে, হচ্ছে। এ কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি আরও মারাত্মক। যদিও ঢাকার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করতে এরই মধ্যে মাটির গুণগতমান পরীক্ষা করে একটি রিস্ক সেনসিটিভ ল্যান্ড ইউজ প্ল্যান তৈরি করা হয়েছে। ভূমিকম্প সহনীয় ব্যবস্থা ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরীক্ষার জন্য ‘আরবান সেফটি অ্যান্ড রেজিলেন্স ইনস্টিটিউট’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় আছে।

    বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্স (বিআইপি) সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, ভূমিকম্প বার্তা দিচ্ছে যে আমাদের এখানে বড় আকারে ভূমিকম্প আসছে। যেটা অনেক দিন ধরে আমরা বলছিলাম। কিন্তু শুক্রবারের ভূমিকম্পে এত বড় ঝাঁকুনির পর এখন ঢাকা শহরের প্রতিটা অধিবাসী অনুভব করতে পারছে বিপদ নিকটে। ভূমিকম্পের মতো বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলায় ঢাকা শহরে জনসাধারণের আশ্রয় নেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপদ ও খোলা জায়গার মারাত্মক ঘাটতি রয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে মানুষ যখন হুড়োহুড়ি করে বের হয়ে একটু নিরাপদ বা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করে, তখন অধিকাংশ এলাকায় সেই খোলা জায়গা খুঁজে পাওয়া যায় না।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড (বিএনবিসি, ২০২০), ঢাকা মহানগরীর ইমারত নির্মাণ বিধিমালা ২০০৮, ডিটেইল্ড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ)সহ একাধিক পরিকল্পনাগত নীতি ও বিধান বিদ্যমান। কিন্তু এসব নীতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি দুর্বলতা, রাজনৈতিক প্রভাব, দুর্নীতি ও জবাবদিহির অভাব পরিস্থিতিকে অকার্যকর করে তুলেছে। সম্প্রতি ভবন নির্মাণ অনুমোদন প্রক্রিয়ায় স্থাপত্য নকশা, কাঠামোগত নকশা, অগ্নিনিরাপত্তা, বৈদ্যুতিক ও প্লাম্বিং নকশা বাধ্যতামূলকভাবে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এগুলো অবশ্যই ইতিবাচক পদক্ষেপ। তবে এগুলো কার্যকর ও স্বচ্ছ তদারকি ছাড়া বাস্তবে কোনো কাজে আসবে না।

    করণীয় নিয়ে এই নগরপরিকল্পনাবিদ বলেন, ভূমিকম্প প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়, তবে ক্ষয়ক্ষতি কমানো সম্ভব। জরুরি ভিত্তিতে কঠোরভাবে ভবন নির্মাণে বিল্ডিং কোড ও নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করতে হবে। বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ) গঠন করে দ্রুত বিল্ডিং কোড বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নিম্নাঞ্চলে নির্মাণ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। জলাধার, বেসিন এলাকা বা পানি ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন স্থান ভরাট করে কোনো সরকারি-বেসরকারি উন্নয়নই অনুমোদন করা যাবে না। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা প্রকাশ ও উচ্ছেদের পদক্ষেপ নিতে হবে। রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত সব বিপজ্জনক ভবন দ্রুত খালি করতে হবে।

    dhakapost

    নকশাবিহীন ভবন নিয়ে কী ভাবছে রাজউক?

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) আওতাধীন এলাকায় গড়ে ওঠা লাখ লাখ ভবনের অনুমোদিত কোনো নকশা নেই। এগুলো নকশাবিহীন এবং অবৈধ– বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের জানা থাকলেও এগুলো অপসারণ করা বা কঠোর কোনো পদক্ষেপে যেতে পারেনি রাজউক। তবে, শেষ পর্যন্ত এসব স্থাপনা ও ভবনের বিষয়ে একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করেছে সংস্থাটি।

    সেই নীতিমালায় প্রস্তাব ও সুপারিশ করা হয়েছে, যেসব ভবন ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুসরণ করে, রাজউকের মাস্টার প্ল্যানের ব্যত্যয় না ঘটিয়ে এবং ইমারত নির্মাণ বিধিমালা অনুসরণ করে গড়ে উঠেছে, সেগুলোকে বৈধতা দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে খসড়া নীতিমালার সুপারিশে বিদ্যমান নকশা অনুমোদন ফি’র তিন থেকে পাঁচ গুণ জরিমানা আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে।

    রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, খসড়া নীতিমালাটি নগর উন্নয়ন কমিটির কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। তারাও বেশকিছু সুপারিশ দিয়েছে।

    রাজধানীতে নকশাবিহীন ভবনের বিষয়ে খসড়া নীতিমালায় প্রস্তাব করা হয়েছে– আবাসন প্রকল্পগুলোর ক্ষেত্রে কেস-টু-কেস আবেদনের ভিত্তিতে রাজউকের নিয়ম মেনে বৈধতা দেওয়া যেতে পারে। আর ভবনগুলোর ক্ষেত্রে তিন থেকে পাঁচ গুণ জরিমানা করার পক্ষে মত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে, যেগুলো নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে গড়ে উঠেছে, সেগুলো এর আওতায় পড়বে না এবং সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

    সার্বিক বিষয় নিয়ে রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, ইতোমধ্যে বিধিবহির্ভূত ৩ হাজার ৩৮২টি ভবন চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে আমরা রাজউকের সবাইকে প্রতিটি কাজের জন্য জবাবদিহিতার আওতায় আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। শুক্রবারের ভূমিকম্পের পর এলাকাভিত্তিক কর্মকর্তাদের মাঠে নামানো হয়েছে। যেসব ভবনে ফাটল দেখা দিয়েছে তা প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

    ড্যাপ সংশোধনের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন

    রাজধানীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো কমিয়ে একটি পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য মহানগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে ২০২২ সালে রাজউক বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা (ড্যাপ) গেজেট আকারে প্রকাশ করেছিল। সম্প্রতি সরকার এই ড্যাপ সংশোধনের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন দিয়েছে। সংশোধিত ড্যাপে রাজধানীকে আগের ২৭৫টি ব্লকের পরিবর্তে ৬৮টি ব্লকে ভাগ করা হয়েছে। গাজীপুরের অংশ বাদ দিয়ে নতুন পরিকল্পনায় ঢাকাকে এক হাজার ৯৪ বর্গকিলোমিটার এলাকায় সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। এতে ভবনের উচ্চতা বাড়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ জনঘনত্ব ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ৩০০ করা হয়েছে।

    এ ছাড়া সংশোধিত ড্যাপ ও খসড়া ‘ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী, বহু এলাকায় ফ্লোর এরিয়া রেশিও (এফএআর) দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে আগে যেখানে সর্বোচ্চ পাঁচতলা ভবন নির্মাণের অনুমতি মিলত, সেখানে এখন ১০ থেকে ১১ তলা পর্যন্ত ভবন নির্মাণ করা যাবে।

    নতুন বিধিমালায় একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত যোগ করা হয়েছে। সেটি হলো– কোনো প্লটে যত বেশি খোলা জায়গা রাখা হবে, ভবনের উচ্চতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে সেই অনুপাতে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হবে।

    পাশাপাশি খসড়া ‘ঢাকা মহানগর ইমারত বিধিমালা-২০২৫’-এ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। অকুপ্যান্সি সার্টিফিকেট আগে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নবায়ন বাধ্যতামূলক থাকলেও নতুন বিধিমালায় একবার সার্টিফিকেট নিলেই তা আজীবনের জন্য কার্যকর থাকবে বলা হয়েছে। পাঁচ কাঠা বা তার বেশি জমির প্লটে স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (এসটিপি) স্থাপন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

    পুরোনো বিধিমালা অনুযায়ী, ভবন নির্মাণের আবেদন করার সময়ই অনুমোদন ফি দিতে হতো কিন্তু নতুন নিয়মে ভবন নির্মাণের সুপারিশ প্রাপ্তির পর ফি পরিশোধ করতে হবে। আগে আবেদন নিষ্পত্তির সময় ছিল ৪৫ দিন। এখন তা বাড়িয়ে ১৮০ দিন করা হয়েছে।

    ঢাকার কত কাছে কখন কয়টি ভূমিকম্প

    এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ঢাকার কাছে ফরিদপুরে গত ১৫ বছরে দুইবার ৪-এর বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছে বলে নথিবদ্ধ করেছে ভূমিকম্প শনাক্তকারী সংস্থা আর্থকোয়েক ট্র্যাক। গত ১৫-২০ বছরের মধ্যে ঢাকার কাছে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প হিসেবে নথিবদ্ধ করা হয়েছে ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে নারায়ণগঞ্জে হওয়া ৫.১ মাত্রার একটি ভূমিকম্পকে। এ ছাড়া ১৮২২ ও ১৯১৮ সালে ঢাকার অদূরে মধুপুর ফল্টে বড় ভূমিকম্প হয়েছিল। ১৮৮৫ সালে ঢাকার কাছে মানিকগঞ্জে ৭.৫ মাত্রার একটি ভূমিকম্পের ইতিহাস রয়েছে। সবশেষ শুক্রবার আঘাত হানা ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল ঢাকার কাছের নরসিংদীর মাধবদীতে।

  • ব্রাক্ষনবাড়ীয়া ২ সরাইল উপজেলার রাজনীতি,

    ব্রাক্ষনবাড়ীয়া ২ সরাইল উপজেলার রাজনীতি,

    এম বাদল খন্দকার ( বিশেষ প্রতিনিধি)
    ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইল এই এলাকাটা বিএনপির ঘাঁটি বলে পরিচিত এই নির্বাচনী এলাকা থেকে যতপ্রার্থী আজ পর্যন্ত বিএনপি থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করেছে কেউ ফেল করেনি,এবং সরাইল থেকে যারা বিএনপির হয়ে এমপি হয়েছেন প্রত্যেকবারই লক্ষ্য করলে দেখা যায় আনোয়ার মাস্টারের হাত ধরে এমপি হয়েছে আনোয়ার মাস্টার ছাড়া সরাইল বিএনপি’র বিকল্প নেই কারণ আনোয়ার মাস্টার হচ্ছে একটি ব্র্যান্ড  যারে ছাড়া বিএনপি করি বলা বোকামি।

    আমার এই ক্ষুদ্র জীবনে রাজনীতি যতটুকু বুঝতেপেরেছি আমি মনে করি সরাইল উপজেলা থেকে অনেকবার এমপি মন্ত্রী হয়েছে কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রত্যেক এমপি মন্ত্রী রায় সরাইলের সাধারণ মানুষের সাথে বেইমানি করেছে ধোকা দিয়েছে কারণ সরাইলের সাধারণ মানুষ আজও কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি ঘুরেনি সাধারণ মানুষের ভাগ্যের চাকা,, তাই সামনের নির্বাচনে সরাইলের সাধারণ মানুষ একটি সুন্দর পথ বেছে নিতে চেষ্টা করছে।

    যেমন সরাইল বাসি মনে করে বারবার ভোট দিয়ে প্রতারিত হয়েছি এবার আর নয়, তাই ভোটাররা তাদের পছন্দের প্রার্থীকে বেছে নিতে ইতিমধ্যেই ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে বেছে নিয়েছে ভোটাররা মনে করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা একজন শিক্ষিত লোক, তার মেধা আছে -আছে যোগ্যতা আবার সে সরাসরি বেগম খালেদা জিয়ার একেবারেই নিকট আত্মীয় বলা যায় বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারেরই একজন সদস্য,,,,, তাই সরাইলের সাধারণ মানুষ মনে করে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সরাইল থেকে নির্বাচিত হলে সে এমপি থেকে মন্ত্রী হবে।

    তাহলে আমার যোগফল মিলে গেল,,কারণ সামনে নির্বাচনে আল্লাহর রহমতে বিএনপি ক্ষমতায় আসবে এটা খুব সহজেই বুঝা যাচ্ছে, আর বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা নিঃসন্দেহে মন্ত্রী হবে, সুতরাং তিনি মন্ত্রী হলে সরাইলের রাস্তাঘাট, স্বাস্থ্য ব্যবস্থা, শিক্ষা ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধী ভাতা সহ বিভিন্ন ভাতা মানুষ যে খুব সহজেই পাবে এটা কিন্তু পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে। তাছাড়া সরাইলের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা আরো বেগমান করবে এটা তার জন্য কোন কঠিন বিষয় হবে না।

    কিন্তু দুঃখের বিষয় হল সরাইলে বিএনপি’র কমিটি নিয়ে কিছু লোক একটি ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তার ভিতরে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন রয়েছে বলেও পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে, উক্ত বিষয়টিও সাধারণ মানুষ সহজেই বুঝতে পারছে,এই বিষয়টি নিয়ে সরাইলের বিভিন্ন চায়ের দোকানে আলোচনা সমালোচনার ঝড় তুলছে এবং সাধারণ মানুষ একটি দাবিও করছে দাবিটি হচ্ছে এরকম সকলে এক কাতারে দাঁড়িয়ে কমিটি আনা উচিত কাউকে খেয় করে বা বাদ দিয়ে নয় বিএনপি করে এইরকম সকলকে নিয়ে কমিটি আনা উচিত।

    সরাইল উপজেলার রাজনীতি সকলকে নিয়ে সুন্দর একটি পরিষ্কার বিএনপি’র পরিবার তৈরি হবে এটা আমার প্রত্যাশা। সকলের জন্য রইল সর্বময় শুভকামনা।

  • দুমকি উপজেলায় জাইকা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ।।

    দুমকি উপজেলায় জাইকা প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ।।

    পটুয়াখালী জেলার দুমকি উপজেলায়, জাইকা সহায়তায় বাস্তবায়নাধীন বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
    স্থানীয়দের দাবি-প্রকল্পের নামে হরিলুট, ভাগবাটোয়ারা ও নিম্নমানের কাজের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।উপজেলা পরিষদ সূত্র জানায়, জাপান ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সি (জাইকা) স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে রাস্তাঘাট, কালভার্ট, সেতু, ড্রেন ও স্ট্রিট সোলার লাইট স্থাপনসহ নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।

    ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ইউজিডিপি প্রকল্পের আওতায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ৭৮টি স্ট্রিট সোলার লাইট, ৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকায় ১০টি ইউ-ড্রেন এবং ১০ লাখ টাকায় পাঁচটি পাওয়ার টিলার বিতরণের কার্যাদেশ দেওয়া হয়। কাগজে-কলমে এসব কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে অসামঞ্জস্য ধরা পড়ে-এমন অভিযোগ স্থানীয়দের।
    মাঠঘুরে দেখা যায়, ঘোষিত ৭৮টি সোলার লাইটের মধ্যে আঙ্গারিয়ায় ২৬টি, লেবুখালীতে ১৩টি, পাঙ্গাশিয়ায় ৯টি, শ্রীরামপুরে ১৭টি এবং মুরাদিয়া ইউনিয়নের ফেরিঘাট, বাজার, মসজিদ ও কয়েকজন প্রভাবশালীর বাড়ির সামনে লাইট বসানো হয়।
    এর বেশির ভাগই ৩-৪ মাসের মধ্যেই অচল হয়ে গেছে।

    ১০টি ইউ-ড্রেনের মধ্যে শ্রীরামপুরে নির্মিত ৭টির মান নিয়ে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। কৃষক গ্রুপের জন্য বরাদ্দ পাঁচটি পাওয়ার টিলার নিয়েও অভিযোগ-রিকন্ডিশন মেশিন কমদামে কিনে বরাদ্দের টাকা লোপাট করা হয়েছে।
    স্থানীয়দের অভিযোগ-উপজেলা চেয়ারম্যান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ ঠিকাদারদের যোগসাজশে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে ইউ-ড্রেন নির্মাণ এবং রিকন্ডিশন পাওয়ার টিলার সরবরাহের মাধ্যমে প্রকল্পে অনিয়ম করা হয়েছে। মুরাদিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা মোজাম্মেল হাওলাদার বলেন, রাস্তা নির্মাণের নামে টাকা দেখানো হলেও বাস্তবে অর্ধেক কাজও হয়নি। আরেক বাসিন্দা জানান, নিম্নমানের কাজে কয়েক মাসের মধ্যেই রাস্তায় ফাটল ধরে গেছে।

    দুমকি উপজেলা প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, জাইকার প্রকল্প সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলতে পারবেন। তবে অনিয়ম পাওয়া গেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবুজর মো. এজাজুল হক জানান, তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ে জাইকার কোনো প্রকল্প হয়নি। অভিযোগ পেলে খোঁজ নিয়ে অনিয়ম নিশ্চিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন তিনি।সচেতন মহলের অভিমত-উন্নয়ন প্রকল্পে সঠিক তদারকি না থাকলে সরকারি উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হয়। বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাটের হাতিয়ার হয়ে উঠলে স্থানীয় উন্নয়নও থমকে যায়।।#

     

  • মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খোরশেদ আলম রিন্টুকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

    মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খোরশেদ আলম রিন্টুকে সম্মাননা স্মারক প্রদান

    সমাজসেবায় বিশেষ ভূমিকার স্বীকৃতি হিসেবে মুন্সিগঞ্জ-১ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মোঃ খোরশেদ আলম রিন্টুকে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। তার নিজ গ্রামে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে একটি উঠান বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বিভিন্ন বয়সী ও পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

    উপস্থিত এলাকাবাসী রিন্টুর দীর্ঘদিনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক অঙ্গনে তার অবদানের প্রশংসা করেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে সবসময় দাঁড়ানোর জন্যও তাকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

    অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদের প্রেসিডেন্ট এডভোকেট পিকে আবদুর রব, সাংগঠনিক সম্পাদক অসিত চক্রবর্তী। পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন পুরান ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সদস্য সঞ্জয় মোদক, অনিক ইসলাম, দেবাশীষ মজুমদার এবং হাজী মোঃ জাহিদ।

    সম্মাননা গ্রহণ করে মোঃ খোরশেদ আলম রিন্টু বলেন,
    “জনগণের ভালোবাসাই আমার শক্তি। এলাকার উন্নয়ন, অধিকার ও কল্যাণে নিরলসভাবে কাজ করে যাবো ইনশাল্লাহ। এই সম্মাননা প্রদানের জন্য আইনজীবী সাংবাদিক ঐক্য পরিষদ, উপস্থিত সাংবাদিক এবং এলাকার মানুষকে আন্তরিক ধন্যবাদ।”

     

  • জানুয়ারিতে ঢাকায় আসছে বিশ্বকাপ ট্রফি

    জানুয়ারিতে ঢাকায় আসছে বিশ্বকাপ ট্রফি

    বিশ্বকাপে খেলা বাংলাদেশের জন্য এখনো স্বপ্নের মতো। এশিয়ান কাপেও দীর্ঘদিন ধরে জায়গা করে নিতে না পারলেও সম্প্রতি ভারতকে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ১–০ গোলে হারিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে আনন্দের সঞ্চার হয়েছে। এমন সময়েই জানা গেল, আগামী বছর বিশ্বকাপের বছর শুরুর দিকেই ঢাকায় আসছে ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের প্রতীক—বিশ্বকাপ ট্রফি। বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ করিম।

    ফিফা ও তাদের পৃষ্ঠপোষক কোকাকোলা প্রতি আসরেই বিশ্বকাপের আগে ট্রফি ট্যুরের আয়োজন করে থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। আগামী ১৪ জানুয়ারি ঢাকায় এসে ফুটবলপ্রেমীদের সামনে উন্মুক্ত করা হবে বিশ্বকাপ ট্রফি। তবে রাজধানীর কোন স্থানে ট্রফি প্রদর্শন করা হবে—তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

    ফাহাদ করিম বলেন, ‘ইনশা আল্লাহ জানুয়ারিতে ঢাকায় আসবে বিশ্বকাপ ট্রফি।’

    ঢাকার আগে ভারতের দিল্লি ও গুয়াহাটিতে বিশ্বকাপ ট্রফি প্রদর্শন করা হবে। এর আগেও, ২০২২ সালের বিশ্বকাপের আগে জুনে ঢাকায় আনা হয়েছিল ট্রফি। তখন সঙ্গে ছিলেন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী ফরাসি মিডফিল্ডার ক্রিস্তিয়ান কারেম্বু ও ফিফার সাত প্রতিনিধি। ৩৬ ঘণ্টার সেই সফরে ট্রফি প্রদর্শনের সঙ্গে বিভিন্ন আয়োজনও করা হয়েছিল, যার মধ্যে কনসার্টও ছিল। এছাড়া ২০১৩ ও ২০০২ সালেও ঢাকায় প্রদর্শন করা হয়েছিল বিশ্বকাপ ট্রফি।