Author: তরঙ্গ টিভি

  • ২২ দিন হয়ে গেছে পর্যন্ত থানায় মামলাটি নেওয়া হয়নি

    ২২ দিন হয়ে গেছে পর্যন্ত থানায় মামলাটি নেওয়া হয়নি

    থানায় হামলার অভিযোগে ডিএসসিসির ড্রাইভারদের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ

    ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) কয়েকজন ড্রাইভারের বিরুদ্ধে থানায় ঢুকে হামলা, মারধর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. সোহেল মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

    লিখিত অভিযোগে সোহেল মিয়া উল্লেখ করেছেন, গত ২৫ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে রাত প্রায় ৩টার দিকে ডিএসসিসির ড্রাইভার মো. রুবেল মিয়া, সাবেক ড্রাইভার শাহ আলম, আব্দুল মান্নান, মিজান, নুরু মিয়াসহ আরও কয়েকজন তার বাসায় ঢুকে তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করে। এ সময় হামলাকারীরা সাংবাদিক হোসেনের নাম ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখায় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

    অভিযোগে বলা হয়েছে, আহত সোহেল মিয়াকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। পরবর্তীতে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে হামলাকারীরা পুনরায় হুমকি দেয় বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

    তিনি বলেন,

    > “আমি থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তারা আবারও ভয় দেখায় যে, অভিযোগ দিলে আমাকে মেরে ফেলবে। আমি এখন জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”

    ভুক্তভোগী আরও দাবি করেছেন, তিনি ডিএসসিসির গাড়িচালক হিসেবে দীর্ঘদিন সৎভাবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কিছু অসাধু কর্মচারীর অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ায় তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে এমন হামলার ঘটনা ঘটেছে।

    সোহেল মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্তপূর্বক দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন,

    > “আমি চাই, যারা থানার ভেতরে গিয়ে সাংবাদিকের নামে ভয় দেখিয়ে হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

    এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে প্রক্রিয়া চল

  • চট্টগ্রামের রাউজান-সাতকানিয়ায় বিশেষ অভিযানে গুলি-আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

    চট্টগ্রামের রাউজান-সাতকানিয়ায় বিশেষ অভিযানে গুলি-আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার

    চট্টগ্রামের রাউজান ও সাতকানিয়া উপজেলা এলাকায় বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশ।

    বুধবার (১৯ নভেম্বর) দিবাগত রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত জেলা পুলিশ, র‌্যাব, নৌ-পুলিশ এবং এপিবিএন যৌথভাবে এই অভিযান চালায়।

    পুলিশ জানায়, রাউজান থানার নোয়াপাড়া, বাগোয়ান, পূর্ব ও পশ্চিম গুজরা, সুলতানপুর, কদলপুর, রাউজান ইউপি ও পৌরসভা এলাকায় পরিচালিত এই অভিযানে অংশ নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ১০টি টিম। একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে ১৭টি চেকপোস্ট বসানো হয়।

    অভিযানে উদ্ধার করা হয়– ৮টি এলজি, ৬ রাউন্ড কার্তুজ, ১৪টি ছোরা, ৩টি রামদা, ২টি চাপাতি, ২টি তলোয়ার, ১টি কিরিচ ও ১টি ইলেকট্রিক কাটার। এ ছাড়া চেকপোস্টে তল্লাশির সময় ২৮টি মোটরসাইকেল ও একটি ট্রাক আটক করা হয়। মোটরযান আইনে ৩৭টি মামলা করা হয় এবং বিভিন্ন অপরাধে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবার র‌্যাব আলাদা অভিযানে উদ্ধার করে ৩টি এলজি, ২টি তলোয়ার ও ১টি কিরিচ।

    এ দিকে সাতকানিয়া থানা পুলিশের অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, শর্টগানের দুটি কার্তুজ, একটি লোহার স্টিক, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ছয়টি বাটন মোবাইল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হন মো. তারেক ও মো. মিনারুল আলম। তারেকের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ চারটি মামলা রয়েছে। একই রাতে আরেক অভিযানে আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের সদস্য আয়ুবকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে তিনটি ডাকাতির মামলা চলছে।

    চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেল জানান, রাউজানের আলোচিত ব্যবসায়ী হাকিম হত্যা মামলার সূত্র ধরে অস্ত্র উদ্ধারে গতি এসেছে। এই মামলায় এ পর্যন্ত ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ঘটনায় উদ্ধার হয়েছে চারটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলভার, একটি চায়না রাইফেল, একটি শর্টগান, দুটি এলজি, মোট ৮৫ রাউন্ড গুলি, সাতটি ম্যাগাজিন, দুটি রামদা, পাঁচটি ছুরি এবং ঘটনার সময় ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল।

    তিনি আরও বলেন, নভেম্বর মাসে রাউজান থানায় অস্ত্র আইনে ১০টি মামলা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন আটজন। উদ্ধার হয়েছে ২৪টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৮৫ রাউন্ড গুলি এবং ৩২টি কার্তুজ। জেলা গোয়েন্দা শাখা ও বিভিন্ন থানার নিয়মিত অভিযানে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত জেলায় উদ্ধার হয়েছে ৫৭৭টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৪৬২টি গুলি ও ২০৬ রাউন্ড কার্তুজ। অস্ত্র আইনে ৯৬টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং গ্রেপ্তার হয়েছে ১৪০ জন।

  • ৩০০ আসনে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে জোট করছে বাম দলগুলো

    ৩০০ আসনে ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে জোট করছে বাম দলগুলো

    একসঙ্গে আন্দোলন এবং নির্বাচন’-এমন লক্ষ্য নিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনে ভোটের লড়াইয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাম দলগুলো। এ লক্ষ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে নতুন একটি জোট গঠন করছেন তারা।

    সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর যুক্তফ্রন্টের আদলে বাম ঘরানার কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে নতুন এ জোট গঠন হতে পারে।

    জনজীবনের সংকট মোকাবিলার ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণার কথাও রয়েছে তাদের। এজন্য ইতোমধ্যে যাবতীয় প্রস্তুতি শুরু করেছে বামপন্থি দলগুলো। নির্বাচন প্রস্তুতির অংশ হিসাবে জোটের সম্ভাব্য শরিক দলগুলো এরই মধ্যে নিজ নিজ দলের প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

    খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর উদ্ভূত রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বামপন্থিদের এই জোট গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়। ছয়টি বামদল নিয়ে গঠিত বাম গণতান্ত্রিক জোট এবং শরীফ নূরুল আম্বিয়ার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাসদ বৃহত্তর এ জোট গঠনের মূল উদ্যোক্তা।

    বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দলগুলোর মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ), গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি, বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলন এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল- বাসদ (মার্কসবাদী)।

    এছাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি, দলিত ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একাধিক সংগঠন এবং গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক ঐক্যসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক গণসংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠন নতুন এই জোটে শরিক হতে সম্মতি দিয়েছে। এর বাইরে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, ঐক্য ন্যাপ, জাতীয় গণফ্রন্ট, বামপন্থিদের আরেকটি জোট ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চা’র শরিক দলগুলোর সঙ্গেও জোট গঠন নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।

    আরও পড়ুন
    ‘হাসিনা ইস্যু’ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে?
    ‘হাসিনা ইস্যু’ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে কতটা প্রভাব ফেলবে?

    ফ্যাসিবাদবিরোধী বাম মোর্চার শরিক দলের মধ্যে রয়েছে-বাংলাদেশের সাম্যবাদী আন্দোলন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (মাহবুব) এবং গণমুক্তি ইউনিয়ন।

    নয়া এই জোটের উদ্যোক্তারা জানান, গত ৮-৯ মাস ধরে তারা একে অন্যের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে আলাপ-আলোচনা করে নতুন জোট গঠনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। অনেকেই এই জোটে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে একমত হয়েছেন।

    বামপন্থি কয়েকজন নেতা জানান, গত ১৫ নভেম্বর রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ‘কনভেনশনে’র মাধ্যমে নতুন জোটের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল। তবে ওইদিন অন্য একটি সংগঠন ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনসংলগ্ন সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ ডাকায় কনভেনশন স্থগিত করা হয়।

    এ অবস্থায় চলতি মাসের ২৯ নভেম্বর কনভেনশন করে জোটের আত্মপ্রকাশের ঘোষণা দেওয়া হবে। ওইদিন দিনব্যাপী ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এই কনভেনশন অনুষ্ঠিত হবে।

    তবে নতুন এই জোটের নাম কী হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। ‘নয়া যুক্তফ্রন্ট’ কিংবা ‘গণতান্ত্রিক যুক্তফ্রন্ট’ নামে জোটের যাত্রা শুরু করা যায় কিনা, এমন প্রস্তাব দিয়েছেন কোনো কোনো দলের নেতা। কেউ কেউ বলছেন, ১৯৫৪ সালে যে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ‘যুক্তফ্রন্ট’ গঠিত হয়েছিল, তার সঙ্গে বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। ফলে জোটের নাম কী হবে কিংবা কোন কাঠামোয় তা চলবে, সেটা সবার মতামত নিয়েই ঠিক করা উচিত। এ কারণে কনভেনশনেই নাম ঠিক করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

    পাশাপাশি একটি সনদ চূড়ান্ত করার দায়িত্বও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কনভেনশনের হাতে। এই সনদের নাম হবে ‘জনতার সনদ’। অনেকটা জুলাই জাতীয় সনদের অনুরূপ ‘জনতার সনদ’ নিয়ে মাঠে নামবে বামপন্থিদের এই জোট। একসঙ্গে আন্দোলন এবং নির্বাচনের লক্ষ্য নিয়ে জনজীবনের বিভিন্ন সংকট নিরসনের দাবিতে তারা মাঠে সোচ্চার থাকবেন।

    জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম প্রধান শরিক দল সিপিবির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ ক্বাফী রতন যুগান্তরকে বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর দেশে দক্ষিণপন্থি সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী গোষ্ঠীর উত্থান ঘটেছে। এ অবস্থায় বাম প্রগতিশীল অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিক শক্তিগুলোকে এক মঞ্চে আনার উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। একসঙ্গে নির্বাচন ছাড়াও জনজীবনের সংকট নিয়ে রাজপথে তারা কথা বলবেন এই জোটের ব্যানারে।

    বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক ও বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশিদ ফিরোজ যুগান্তরকে জানান, বিকল্প একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক জোট গঠন করতে যাচ্ছেন তারা। জোটের ব্যানারে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ এবং ৩০০ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেষ্টাও রয়েছে।

  • ইসি সংলাপে জাপা ও ১৪ দলকে না ডাকা নিয়ে যা বললেন রাশেদ খান

    ইসি সংলাপে জাপা ও ১৪ দলকে না ডাকা নিয়ে যা বললেন রাশেদ খান

    গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান জানিয়েছেন, জাতীয় পার্টি (জাপা) ও ১৪ দলকে নির্বাচন কমিশনের সংলাপে না ডাকতে তারা আগেই প্রধান নির্বাচন কমিশনার, অন্যান্য নির্বাচন কমিশনার এবং ইসি সচিব বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছিলেন।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপ শেষ হয়েছে। অথচ জাপা ও ১৪ দলকে সংলাপে না ডাকার ক্ষেত্রে গণঅধিকার পরিষদ ছাড়া অন্য কোনো দলের সক্রিয় ভূমিকা তিনি দেখেননি।

    আরও পড়ুন
    তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা
    তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা
    রাশেদ খান পোস্টে আরও বলেন, গতকালও আমি স্পষ্টভাবে বলেছি— জাপা ও ১৪ দলকে সংলাপে ডাকলে সেটি গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে বেইমানি হবে। জনগণ আপনাদের ফ্যাসিবাদের সঙ্গে আপোষ করার দায়িত্ব দেয়নি। মেরুদণ্ড সোজা করে গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তি হিসাবে কাজ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। অন্যথায় কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

    তিনি দাবি করেন, সংলাপে জাপা ও ১৪ দলকে বাদ রাখার বিষয়টি গণঅধিকার পরিষদের অবস্থান এবং চাপের প্রতিফলন বলেই তিনি মনে করেন।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ে যা বললেন আমীর খসরু

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহালের রায়ে যা বললেন আমীর খসরু

    বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের রায় দেশের রাজনীতিতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন এই রায়ের মাধ্যমে সফলতা পাবে।

    বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কমল মেডি এইড-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত ফ্রি মেডিকেল ও স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।

    আমীর খসরু বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অনুপস্থিতিতে মানুষকে অনেক ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। এখন এটি ফেরত এসেছে। কিভাবে গঠন হবে সেটা নিয়ে আলোচনা হবে। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। এই ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্য অনেক নির্বাচন ইতোমধ্যেই অনুষ্ঠিত হয়েছে।

    আরও পড়ুন
    তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা
    তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাংলাদেশের গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক ব্যবস্থা

    তিনি আরও বলেন, প্রতিটি দলের নিজস্ব দর্শন ও ভাবনা আছে। আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি সামনে রেখে দলগুলো জনগণের কাছে নিজেদের বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে। বিগত দিনের অপসংস্কৃতি থেকে বের হয়ে রাজনীতিতে ইতিবাচক সংস্কৃতি চালুর পক্ষে বিএনপি। অনির্বাচিত সরকারের অধীনে দেশ কতটা পিছিয়েছে তা মানুষ দেখেছে। জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা সহজ হয় না অনির্বাচিত সরকারের সময়। তাই তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পুনর্বহাল দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

    এর আগে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে আপিল বিভাগের সাতজন বিচারপতির বেঞ্চ ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে এবং নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করার রায় দেন। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চের অপর ছয় বিচারপতি হলেন মো. আশফাকুল ইসলাম, জুবায়ের রহমান চৌধুরী, মো. রেজাউল হক, এস এম ইমদাদুল হক, এ কে এম আসাদুজ্জামান ও ফারাহ মাহবুব।

  • ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় ছিল কলঙ্কিত ও ত্রুটিপূর্ণ’

    ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিলের রায় ছিল কলঙ্কিত ও ত্রুটিপূর্ণ’

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

    এই রায়ের পর্যবেক্ষণে আপিল বিভাগ বলেছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের অতীতের রায় ছিল কলঙ্কিত ও একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিক্রমে পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।

    বেঞ্চের অপর ৬ বিচারপতি হলেন—বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস. এম. ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ. কে. এম. আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, আদালত এই মর্মে সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন- পর্যালোচনাধীন আপিল বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায়টি নথি দৃষ্টে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান একাধিক ত্রুটিতে ত্রুটিপূর্ণ। এ কারণে আপিল বিভাগের অতীতের রায়টি সম্পূর্ণরূপে বাতিল করা হলো। এর ফলে ফলশ্রুতিতে সংবিধানের চতুর্থ ভাগের পরিচ্ছেদ ২(ক)-এর নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সম্পর্কিত বিধানাবলী, যা সংবিধান (ত্রয়োদশ সংশোধন) আইন, ১৯৯৬ (১৯৯৬ সনের ১ নং আইন) এর ধারা ৩ দ্বারা সন্নিবেশিত হয়েছিল, তা এই রায়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা হলো।

    রায়ে বলা হয়েছে, যদিও এইরূপ পুনরুজ্জীবন পরিচ্ছেদ ২(ক)-এ বর্ণিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলীর স্বয়ংক্রিয় পুনঃস্থাপন নিশ্চিত করে, তবে পুনরুজ্জীবিত অনুচ্ছেদ ৫৮(খ)(১) এবং অনুচ্ছেদ ৫৮(গ)(২)-এর বিধানাবলীর প্রয়োগ সাপেক্ষে তা কার্যকর হবে।

    রায়ে আরও বলা হয়েছে, পুনঃস্থাপিত ও পুনরুজ্জীবিত পরিচ্ছেদ ২(ক)-এ বর্ণিত নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারসংক্রান্ত বিধানাবলী কেবলমাত্র উক্তরূপ ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতেই কার্যকর হবে।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল
    তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল
    এর ব্যাখ্যায় আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আজকের রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরেছে। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে হবে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে। অর্থাৎ সংসদ ভেঙে দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা গঠিত হবে।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন।

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার শুরু যেভাবে
    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার শুরু যেভাবে
    এ রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দিয়েছেন।

    এর আগে গত ১১ নভেম্বর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফেরাতে আপিলের শুনানি শেষ হয়। এ বিষয়ে রায় ঘোষণার জন্য ২০ নভেম্বর দিন ধার্য করা হয়।

  • এশিয়া কাপে সিঙ্গাপুর সিঙ্গাপুর ম্যাচের বাংলাদেশ দলে নেই রাকিব-তপু

    এশিয়া কাপে সিঙ্গাপুর সিঙ্গাপুর ম্যাচের বাংলাদেশ দলে নেই রাকিব-তপু

    এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ‘সি’ গ্রুপে খেলছে। এই গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইতোমধ্যে এশিয়া কাপ খেলা নিশ্চিত হয়েছে সিঙ্গাপুরের। গতকাল (মঙ্গলবার) ২-১ গোলে হংকংকে হারিয়ে ‘সি’ গ্রুপে তাদের শীর্ষস্থান নিশ্চিত হয়েছে।

    পাঁচ ম্যাচ শেষে ১১ পয়েন্ট নিয়ে সিঙ্গাপুর গ্রুপে সবার ওপরে। হংকংয়ের পয়েন্ট আট। হংকং শেষ ম্যাচে ভারতকে আর বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরকে হারালে হংকং ও সিঙ্গাপুর দুই দলের সমান ১১ পয়েন্ট হবে। হংকংয়ের সঙ্গে হেড টু হেডে সিঙ্গাপুর এগিয়ে। দুই দলের প্রথম ম্যাচ ড্র হয়েছিল, গতকাল জিতেছে সিঙ্গাপুর। হংকংকে হারিয়েই সিঙ্গাপুরের এশিয়া কাপ নিশ্চিত করেছে।

    বাংলাদেশ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচে ১-২ গোলে হেরেছিল। শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে জিতলে ৮ পয়েন্ট নিয়ে হামজা-জামালরা এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশন শেষ করতে পারবে। তখন তিন পয়েন্ট দূরে থাকায় এশিয়া কাপ মিস হওয়ার আফসোস থাকবে বাংলাদেশের।

    ‘লজ্জার’ হার আখ্যা ভারতীয় গণমাধ্যমের, সমর্থকরা বলছেন ভারত ‘শেষ’!
    হামজা ইংল্যান্ডের পথে, সিলেটে সামিত
    ভারতকে হারিয়ে লেস্টারের চ্যাম্পিয়নের মতোই অনুভূতি হামজার
    ৩১ মার্চ সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে বাংলাদেশের শেষ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের ম্যাচ। ওই ম্যাচে দুই হলুদ কার্ডের কারণে খেলতে পারবেন না ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন ও ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। গতকাল ভারত ম্যাচে দুই জনই কার্ড দেখেছেন। এর আগেও তারা হলুদ কার্ড পেয়েছিলেন একটি করে। এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে দুটি হলুদ কার্ড হওয়ার পরের ম্যাচে খেলার অযোগ্য হন। যে কারণে ফাহমিদুল ভারত ম্যাচে খেলতে পারেননি।

    এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচে ১১ হলুদ কার্ড দেখেছে। ২৫ মার্চ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে প্রথম ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে হৃদয় ও মজিবুর রহমান জনি কার্ড দেখেছিলেন। ১০ জুন সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে হোম ম্যাচে সর্বাধিক চারটি কার্ড দেখে বাংলাদেশ। দুই ডিফেন্ডার শাকিল আহাদ তপু ও তপু বর্মণের পাশাপাশি দুই ফরোয়ার্ড ফাহিম ও ফাহমিদুল কার্ড দেখেন। ৯ অক্টোবর ঢাকায় হোম ম্যাচে রাকিব হোসেন, ১৪ অক্টোবর অ্যাওয়ে ম্যাচে ফাহমিদুল ও তারিক কাজী কার্ড দেখেছেন। গতকাল শেষ হোম ম্যাচে আরেক দফা কার্ড দেখেন রাকিব ও তপু।

  • তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসায় আজ ঈদের আনন্দ : জয়নুল আবেদীন

    তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরে আসায় আজ ঈদের আনন্দ : জয়নুল আবেদীন

    জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সভাপতি জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জয়নুল আবেদীন বলেছেন, আজকের দিনটি সারা বাংলাদেশের মানুষের জন্য ঈদের দিন। সর্বসম্মতিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহাল করে রায় দিয়েছেন আপিল বিভাগ। দেশের মানুষ এখন স্বাধীনভাবে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার কারণেই আজকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরে এলো।

    বৃহস্পতিবার (২০ নভেম্বর) নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এ কথা বলেন।

    বহুল আলোচিত নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের রায় অবৈধ ঘোষণা করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে ত্রয়োদশ সংশোধনী বৈধ ঘোষণা করে সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল করেছেন দেশের সর্বোচ্চ আদালত।

    বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে ৭ বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ আপিল বিভাগ ঐতিহাসিক এ রায় ঘোষণা করেন। বেঞ্চের অপর ৬ বিচারপতি হলেন— বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম ইমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।

    রায় ঘোষণার সময় আইনজীবী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে আপিল বিভাগের এজলাস কক্ষ কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।

    এ রায়ের মাধ্যমে সংবিধানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ফিরলেও আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে অন্তর্বর্তী সরকারে অধীনে। চতুর্দশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা কার্যকর হবে বলে রায়ে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতিসহ আপিল বিভাগের ৭ বিচারপতি সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দিয়েছেন।

  • রামপুরায় ভিক্টর ক্লাসিক বাসে আগুন

    রামপুরায় ভিক্টর ক্লাসিক বাসে আগুন

    রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টারের সামনে ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। সংবাদ পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

    বুধবার (১৯ নভেম্বর) রাত ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাকিবুল হাসান বলেন, রাত ১০টার দিকে বাসে আগুনের সংবাদ পাই। পরে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে এখনো কিছু জানা যায়নি। এ ছাড়া হতাহতের কোনো সংবাদ আসেনি আমাদের কাছে।

    বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তেজগাঁও বিভাগের পুলিশ কমিশনার মো. ইবনে মিজান। তিনি জানান, হাতিরঝিল থানা এলাকায় একটি ভিক্টর ক্লাসিক পরিবহনের বাসে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত নেই। আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। এটি নাশকতা না অন্য কিছু সে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে আমাদের পুলিশ উপস্থিত রয়েছে।

  • নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখছি না: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    নির্বাচন নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা দেখছি না: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

    বরিশালে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। বুধবার দুপুরে নগরের একটি হোটেলেছবি: প্রথম আলো

    দেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো অনিশ্চয়তা দেখছেন না সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ও নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচনের কোনো অনিশ্চয়তা দেখছি না, নির্বাচন ক্রমান্বয়ে অনিবার্য ঘটনায় পরিণত হচ্ছে।’

    আজ বুধবার দুপুরে বরিশালে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের প্রাক্‌-নির্বাচনী আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় এ কথা বলেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। এদিন সকালে বরিশাল নগরের বান্দরোডের একটি হোটেলে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা ও প্রত্যাশা পূরণের পদ্ধতি নিয়ে এই নাগরিক সংলাপের আয়োজন করা হয়।

    বিগত সময়ের দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বর্ণনা করতে গিয়ে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘ব্যবসায়ী, আমলা, রাজনীতিবিদদের ত্রিধারা দেশে অলিগার্ক সৃষ্টি করেছিল। এটা এমন একটি অর্থনীতি সৃষ্টি করেছিল, যাকে আমরা অভিহিত করি চামচা পুঁজিবাদ। সেখানে রাষ্ট্রতন্ত্র ব্যবহার করে চোরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। সংস্কার দিয়ে চোরতন্ত্রকে ভাঙতে হবে। আমাদের এমন ব্যবস্থা নিতে হবে, যাতে কেউ পেছনে না থাকে। কাউকে যদি পেছনে রাখি, সে–ও আমাদের পেছনে রাখবে।’

    বরিশালে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতবিনিময় সভায় আগত অতিথি ও আলোচকরা
    বরিশালে নাগরিক প্ল্যাটফর্মের মতবিনিময় সভায় আগত অতিথি ও আলোচকরাছবিধ প্রথম আলো

    নাগরিক প্ল্যাটফর্মের এই মতবিনিময় সভায় বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, বাসদ, গণ অধিকার পরিষদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্থানীয় নেতা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন পেশার ব্যক্তিরা অংশ নেন। সংলাপে উপস্থিত বক্তারা বলেন, জাতীয় বাজেট বরাদ্দ লোকসংখ্যাভিত্তিক না করে দারিদ্র্যভিত্তিক বা উন্নয়নবঞ্চিত এলাকা দেখে হওয়া উচিত।

    সংলাপে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন, বরিশালে কর্মসংস্থানের জন্য প্রথমে দরকার গ্যাস। ভোলার সঙ্গে পাইপলাইনের মাধ্যমে যদি বরিশালে গ্যাস সরবরাহ করা হয়, তাহলে এই অঞ্চলের অর্থনীতি গতি পাবে।

    সভায় ‘আগামী নির্বাচনে কী প্রত্যাশায় ভোট দেবেন?’, ‘নবনির্বাচিত সরকারের কাছে কী প্রত্যাশা?’—এই শিরোনামে মুক্ত আলোচনায় রাজনীতিবিদ, আইনজীবী, উন্নয়নকর্মী, শিক্ষক, সাংবাদিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী, কৃষকসহ নানা শ্রেণির মানুষ অংশ নেন।

    সভায় জননিরাপত্তা ও দুর্নীতি রোধে সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, দুর্নীতি, সুশাসন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে দারিদ্র্য, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন করা অসম্ভব। এটা নিশ্চিত করতে পারলেই দেশের সব ক্ষেত্রে স্থিতিশীলতা আসবে। সেদিকেই সবার আগে নজর দেওয়া দরকার। সেই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকা, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ, কৃষি ও শিল্পের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে কৌশল প্রণয়ন এবং ঢাকামুখী কর্মসংস্থানের বদলে স্থানীয় পর্যায়ের কর্মসংস্থানের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

    পরামর্শ সভায় নির্বাচনে জামানতের টাকা কমানো, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা, মান্তা সম্প্রদায়কে অর্থনীতির মূলধারায় আনতে বিশেষ প্রকল্প, ডিজিটাল লেনদেন, নদীভাঙন–কবলিত এলাকার জন্য বিশেষ প্রকল্প ও উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

    সংলাপে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর, বিএনপির মহানগর কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বরিশাল জেলার সমন্বয়ক মনীষা চক্রবর্তী, উন্নয়ন সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার জাহিদ, জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শাহ সাজেদা, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের বরিশাল বিভাগীয় সমন্বয়ক রফিকুল আলম, জেলা গণফোরামের সভাপতি হিরণ কুমার দাস, এনসিপির জেলা আহ্বায়ক আবু সাঈদ মুসা, বরিশাল-৫ আসনে এনসিপির মনোনয়নপ্রত্যাশী রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।