Author: তরঙ্গ টিভি

  • তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদের দাফন সম্পন্ন

    তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদের দাফন সম্পন্ন

    সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতা তোফায়েল আহমেদের স্ত্রী আনোয়ারা আহমেদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

     

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) জুমার নামাজের পর ভোলার উপশহর বাংলাবাজারে তোফায়েল আহমেদ প্রতিষ্ঠিত ফাতেমা খানম জামে মসজিদের মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

    জানাজা নামাজে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতাকর্মী জনসাধারণসহ বিভিন্ন শ্রেণি–পেশার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে তোফায়েল আহমেদের নিজ বাড়ি সদর উপজেলার দক্ষিণ দিঘলদী ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের  পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

    এর আগে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ২১ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুর পর রাতেই লঞ্চযোগে তার মরদেহ ঢাকা থেকে ভোলায় আনা হয়।

    পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আনোয়ারা আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কিডনিজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৬ বছর। স্বামী তোফায়েল আহমেদ, একমাত্র মেয়ে তাসলিমা আহমেদ, দুই ভাই, দুই বোনসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

    আনোয়ারা আহমেদ ভোলা সদর উপজেলা ধনিয়া ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ির মরহুম মফিজুল ইসলাম তালুকদারের বড় মেয়ে। ১৯৬৪ সালে তার সঙ্গে তোফায়েল আহমেদের বিয়ে হয়। সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য।

  • মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের দ্বন্দ্বে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক অবরোধ

    মনোনয়ন নিয়ে বিএনপির দুপক্ষের দ্বন্দ্বে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক অবরোধ

    পূর্ব নির্ধারিত সমাবেশে যোগ দিতে আসার পথে হামলার অভিযোগ তুলে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙ্গামাটি মহাসড়ক অবরোধ করেছেন বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা।

     

    এসময় তারা  চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী-বায়েজিদ আংশিক) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে সরিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুল হককে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান।

    শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে হাটহাজারী চৌধুরীহাট ফতেয়াবাদ ডিগ্রি কলেজের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন তারা। এসময় নানা স্লোগান দিতে দেখা যায় অবরোধকারীদের। যার ফলে দুই পাশে দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষসহ ওই সড়কে চলাচলকারীরা।

    এ সময় বিক্ষুব্ধরা দাবি করেন, শুক্রবার বিকেল ৪টায় ফতেয়াবাদ স্কুল মাঠে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। উত্তর হাটহাজারী এলাকা থেকে এই সমাবেশে আসার পথে ফজলুল হকের অনুসারীদের গাড়িবহরে হামলা চালানো হয়। এতে কয়েকজন আহত হন। ভাঙচুর করা হয় বেশ কয়েকটি গাড়ি। প্রতিবাদে সমাবেশ শেষে মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

    উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম চৌধুরী বলেন, ঘোষিত প্রার্থী জনগণের মনপুত নয় এবং এতে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের নেতা ফজলুল হককে মনোনয়ন দিলে জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরবে।

    উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ইলিয়াস আলী বলেন, ফজলুল হকের মনোনয়নের দাবিতে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলাকালীন প্রাথমিক প্রার্থী মীর হেলালের অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে। তিনি হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান। টায়ার জ্বালিয়ে সড়কে দেওয়া হয় আগুন। ছবি: সংগৃহীত

    ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব গিয়াস উদ্দিন ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, মীরের হাটে তাদের উপর কোনো প্রকারের হামলা হয় নি। আজ (শুক্রবার) হাটহাজারী মাদ্রাসা বার্ষিক সভা চলছে। এই সভায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাজার হাজার মুসল্লি এসেছে। এই সময়টাকে কাজে লাগিয়ে দলের দুঃসময়ে পাশে না থাকা ফজলুর হককে মনোনয়ন দেওয়ার অবান্তর দাবিতে আওয়ামী লীগ, যুবলীগকে সঙ্গে নিয়ে চৌধুরী হাটে এবং সরকার হাটে টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। এতে করে হাজার মুসল্লিসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। মুসল্লিরা তাদের লানত দিচ্ছেন। এই দুর্ভোগ থেকে রেহায় পেতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি জানিয়েছি।

    হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজ ইত্তেফাক ডিজিটালকে বলেন, বিকেলে হাটহাজারী ফতেয়াবাদ স্কুলের বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত এস. এম. ফজলুল হকের অনুসারীদের সমাবেশ ছিল। তাদের দাবি, সমাবেশে আসার পথে মীরের হাট এলাকায় নেতাকর্মীরা হামলার শিকার হয়। এর প্রতিবাদের তারা সড়ক অবরোধ করেন বলে জেনেছি। ৬টার দিকে অবরোধ তুলে নিয়েছেন তারা। এখন যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

    সড়ক অবরোধের বিষয়ে জানতে হাটহাজারী মডেল থানার ওসি মো. মনজুর কাদের ভূঁইয়ার মুঠোফোন ও হোয়াটস অ্যাপ নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

    উল্লেখ্য, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী–বায়েজিদ) আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিনকে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এ আসনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এস. এম. ফজলুল হক এবং সাবেক এমপি ও হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানাও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন।

  • সারাদেশে ভূমিকম্পনে নিহত ১০

    সারাদেশে ভূমিকম্পনে নিহত ১০

    ভূমিকম্পনে রাজধানীর বংশালের কসাইটুলীতে পাঁচতলা ভবনের রেলিং ভেঙে নিচে পড়ে মুহূর্তেই ঝরে গেল তিনটি প্রাণ। নিহতরা হলেন হাজি আব্দুল রহিম (৪৭) এবং তার ছেলে মেহরাব হোসেন রিমন (১৩)। একই ঘটনায় প্রাণ হারান সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের ৫২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী রাফি। রাফির মা নুসরাত গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন। বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

     

    রাজধানীর মুগদার মদিনা বাগেও একই রকম মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। নির্মাণাধীন ভবনের রেলিং ধসে পড়ায় প্রাণ হারিয়েছেন নিরাপত্তাকর্মী মাকসুদ (৫০)। রাজধানীর বাইরে চিত্র আরও হৃদয়বিদারক। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে ভূমিকম্পের সময় একটি টিনশেড বাড়ির দেয়াল ধসে পড়ে এক বছরের শিশু ফাতেমা মারা যায়। আহত হয়েছেন তার মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম। নিহত ফাতেমা গোলাকান্দাইল ইউনিয়নের ইসলামবাগ এলাকার আব্দুল হকের মেয়ে। রূপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

    নরসিংদীর গাবতলী এলাকার ঘটনা আরও বেদনাদায়ক। ভূমিকম্পের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির সানশেড ভেঙে প্রাণ হারায় শিশু ওমর (১০) এবং তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জ্বল। দেলোয়ার তিন সন্তানকে নিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করছিলেন ঠিক তখনই সানশেড ভেঙে পড়ে তাদের ওপর। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওমর ও তার বাবা। ওমরের চাচা জাকির হোসেন বলেন, ‘ভূমিকম্প শুরু হতেই দেলোয়ার তিন সন্তানকে নিয়ে ঘর থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল। ঠিক তখনই দুর্ঘটনা ঘটলো।’

    নরসিংদীর পলাশ উপজেলার মালিতা গ্রামে মাটির দেয়াল ধসে মারা গেছেন কাজেম আলী ভূঁইয়া (৭৫)। একই জেলার কাজীরচর নয়াপাড়ার নাসির উদ্দিন (৬৫) এবং শিবপুরের জয়নগর ইউনিয়নের ফোরকান মিয়াওও প্রাণ হারিয়েছেন।

  • ডাকসু সদস্য রাফিয়ার বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপের মামলায় গ্রেপ্তা‌র ৪

    ডাকসু সদস্য রাফিয়ার বাড়িতে ককটেল নিক্ষেপের মামলায় গ্রেপ্তা‌র ৪

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) কার্যনির্বাহী সদস্য উম্মা উসওয়াতুন রাফিয়ার ময়মনসিংহের বাসার গেটে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

     

    এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন।


    পুলিশ জানায়, হামলার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) এবং কোতোয়ালি মডেল থানার সমন্বয়ে একটি বিশেষ অভিযান শুরু করা হয়। এ অভিযানের মাধ্যমে ঘটনায় সরাসরি সংশ্লিষ্ট চারজন দুষ্কৃতিকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।

    গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. মাসুদ রানা (৪৫), আরিফ (৩০), বিপুল (২১) এবং মো. রাজন (১৯)।

    অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, এই হামলায় জড়িত অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীদের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি মডেল থানায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি মামলা করা হয়েছে। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

    এর আগে গত বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

  • জাতীয় গণতান্ত্রিক উত্তরণে আগামী জাতীয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    জাতীয় গণতান্ত্রিক উত্তরণে আগামী জাতীয় নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে: প্রধান উপদেষ্টা

    নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখ নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদেরকে দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।

    প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তোরণে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। একটি নির্বিঘ্ন ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানাচ্ছি।’

    প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদ, যুদ্ধাহত এবং অন্যান্য বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণ করেন এবং ২০২৪ এর জুলাই-আগস্ট মাসে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের সকল শহীদ, আহত এবং অংশগ্রহণকারী সর্বস্তরের জনগণের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান।

    তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর জন্ম ১৯৭১ সালে রণক্ষেত্রে। সেসময় ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনীর সাথে নৌ ও বিমান বাহিনী সম্মিলিতভাবে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়েছিল বলে ২১ নভেম্বরকে মুক্তিযুদ্ধের একটি মাইলফলক হিসেবে গৌরবের সাথে পালন করা হয়। তবে মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সংগ্রামের সূচনা ঘটে ২৫শে মার্চের রাত থেকেই। আমরা যদি বিজয় অর্জন না করতাম তাহলে এই বীর সেনাদের মৃত্যুদন্ড ছিল অনিবার্য, অসহনীয় হয়ে যেত তাঁদের পরিবারের সকল সদস্যের জীবন।

    অধ্যাপক ইউনূস আরও বলেন, মুক্তিকামী সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় বীর সেনানীরা জীবনের পরোয়া না করে, পরিবারের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা না করে এদেশের স্বাধীনতার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। তারাই এদেশের আপামর জনসাধারণকে সাহস জুগিয়েছেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জল-স্থল ও আকাশপথে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলে দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে এনেছেন। যুদ্ধ বেগবান ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে তখন বাংলাদেশ ফোর্সেস গঠন করা হয়েছিল। যার অধীনে ১১টি সেক্টরে দেশের বিভিন্ন অংশ থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের সামরিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি গেরিলা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

    এরই চূড়ান্ত রূপ আমরা দেখি ১৯৭১ সালের ২১ নভেম্বর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমান বাহিনীর সম্মিলিত অভিযানে। পাকিস্তানি সৈন্যদের বিরুদ্ধে এই যৌথ অভিযানই ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের চুড়ান্ত বিজয় এনে দিয়েছিল।

    তিনি উল্লেখ করেন, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

    অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষাসহ জাতীয় দুর্যোগ মোকাবেলায় সশস্ত্র বাহিনী সবসময় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে এবং ২০২৪ এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান ও চলমান দেশ পুনর্গঠনের কাজে সশস্ত্র বাহিনী মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আস্থার প্রতিদান দিয়েছে। তিনি গণতান্ত্রিক এবং সাংবিধানিক নেতৃত্বের প্রতি অনুগত থেকে বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে এই ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ন থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

    তিনি বলেন, একটি শান্তি প্রিয় জাতি হিসেবে আমরা সকল বন্ধু রাষ্ট্রের সাথে সম্মানজনক সহাবস্থানে বিশ্বাসী। তথাপি, যেকোন আগ্রাসী বহিঃশত্রুর আক্রমন থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমাদেরকে সদা প্রস্তুত এবং সংকল্পবদ্ধ থাকতে হবে। এ লক্ষ্যে আমাদের সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং উন্নত বিশে¡র সাথে তাল মিলিয়ে বাহিনীগুলোতে যুগোপযোগী প্রযুক্তি সংযোজনের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।

    প্রধান উপদেষ্টা আরও উল্লেখ করেন, বিগত ৩৭ বছরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা ৪৩ টি দেশে ৬৩ টি মিশন সম্পন্ন করেছে এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ১০টি মিশনে অংশগ্রহণকারী রয়েছে। তিনি বাংলাদেশী শান্তিরক্ষীদের সাফল্যের জন্য সশস্ত্র বাহিনীর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা যাতে বিশ্বের চ্যালেঞ্জিং ও বিপদজনক অঞ্চল সমূহে সৃষ্ট পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পারে সেজন্য তাদের সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রাপ্তির চেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

  • ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে হেলে পড়লো সাবেক মেয়র মনজুরের সাততলা ভবন

    ভূমিকম্পে চট্টগ্রামে হেলে পড়লো সাবেক মেয়র মনজুরের সাততলা ভবন

    চট্টগ্রামে ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে সাততলা একটি ভবন পাশেরটির দিকে হেলে পড়েছে। ওই ভবনটি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সাবেক মেয়র এম মনজুর আলমের মালিকানাধীন।

    ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে বলা হয়, খবর পেয়ে একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিল। ভবনটি আগেই হেলানো ছিল বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সাততলা ভবনটিতে ১০টি পরিবার বসবাস করে। নিচতলায় ডায়াবেটিস পরীক্ষা নিরীক্ষার একটি কেয়ার সেন্টার রয়েছে। পরিবারগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

    পাশের ভবনের মালিক আব্দুল্লাহ বিন আশরাফ বলেন, পাঁচ বছর আগে ভবনটি হেলে পড়েছিল। তখন সিডিএকে জানানো হয়েছিল। তারা পরিদর্শনের পর উপরের দুইতলা ভেঙ্গে ফেলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেটি ভবন মালিক মানেননি। এখন ভূমিকম্পে এটি আরও বেশি হেলে পড়েছে।

    জানতে চাইলে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্রধান প্রকৌশলী কাজী হাসান বিন শামস বলেন, ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত। মালিক নিজেরা না ভাঙলে, সিটি কর্পোরেশনকে ভেঙ্গে ফেলার জন্য তালিকা দেওয়া হবে।

    জানতে চাইলে ভবন মালিক ও সাবেক মেয়র মনজুর আলম বলেন, হেলে পড়ার কথা শুনে ভবনটি দেখা হয়েছে। প্রকৌশলীদের পরামর্শ অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

  • ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে মৃত্যু বেড়ে ৫

    ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে মৃত্যু বেড়ে ৫

    নরসিংদী সদরের চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার এই বাড়িতে ভূমিকম্পের সময় ছাদ ধসে দুজন মারা গেছেনছবি: সংগৃহীত
    নরসিংদী সদর, পলাশ ও শিবপুর উপজেলায় আজ শুক্রবার সকালে ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ছাদ ধসে বাবা-ছেলে মারা গেছেন।

    মৃত ব্যক্তিরা হলেন সদর উপজেলার চিনিশপুর ইউনিয়নের গাবতলী এলাকার মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৭) ও তাঁর ছেলে মো. ওমর ফারুক (৯), পলাশের ডাঙ্গা ইউনিয়নের কাজীরচর গ্রামের নয়াপাড়া এলাকার নাসির উদ্দীন (৬৫) ও চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকার কাজম আলী ভূঁইয়া (৭৫) এবং শিবপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের আজকিতলা গ্রামের ফোরকান মিয়া (৩৫)।

    ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে আতঙ্ক-হুড়োহুড়ি, হাসপাতালে ৬২ জন
    দেলোয়ার ও ওমর ফারুক একতলা ভবনের ছাদ ধসে আহত হন। পরে তাঁরা মারা যান। আর নাসির উদ্দীন ভূমিকম্পের সময় হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে এবং কাজম আলী মাটির ঘরের দেয়ালচাপা পড়ে মারা যান।

    বাবা-ছেলের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে নিহত দেলোয়ারের ভাই জাকির হোসেন বলেন, ‘আমার ভাই দেলোয়ার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মারা যান। এর আগে ঢাকায় নেওয়ার পথে ভাতিজা ওমর ফারুক মারা যায়।’

    নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় মাটির ঘরের ধসে পড়া দেয়ালের চাপায় কাজম আলী ভূঁইয়া নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আজ সকালে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায়
    নরসিংদীর পলাশ উপজেলায় মাটির ঘরের ধসে পড়া দেয়ালের চাপায় কাজম আলী ভূঁইয়া নামের এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। আজ সকালে উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নের মালিতা গ্রামের পশ্চিমপাড়া এলাকায়ছবি: সংগৃহীত
    পুলিশ ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভূমিকম্পের সময় পাশের একটি বহুতল ভবনের ছাদ থেকে নির্মাণসামগ্রী ছিটকে পড়ে তাঁদের একতলা ভবনে। এতে ভবনটির ছাদের কিছু অংশ ধসে পড়ে। এ সময় দেলোয়ার, তাঁর মেয়ে তাসফিয়া ও ছেলে ওমর ঘর থেকে বাইরে বের হচ্ছিল। ছিটকে পড়া নির্মাণসামগ্রী ও ধসে পড়া ছাদের টুকরা মাথায় পড়ে গুরুতর আহত হন তাঁরা। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় দ্রুত তিনজনকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দেলোয়ার ও ওমরকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

    নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনোয়ার হোসেন বলেন, শিশু ওমরের মৃত্যুর খবর জানতে পারলেও তাঁর বাবা দেলোয়ারের সর্বশেষ পরিস্থিতি তাঁদের জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

  • দুমকি উপজেলায়,আংগারিয়ায় মৎস্যজীবী দলের কর্মী সভা।

    দুমকি উপজেলায়,আংগারিয়ায় মৎস্যজীবী দলের কর্মী সভা।

    দুমকি উপজেলায়,আংগারিয়ায় দুমকি উপজেলায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলকে গতিশীল ও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে আংগারিয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া বাজারে শুক্রবার (২১ নভেম্বর) বিকেলে কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হয়।

    আংগারিয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ বশির খানের সঞ্চালনায় ও আংগারিয়া ইউনিয়ন মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মোঃ লিটন খানের সভাপতিত্বে।

     

    সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের সভাপতি হাবিবুর রহমান হাওলাদার,উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিয়াজ হাসান জাকির।

    অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আংগারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো, মোহিব্বুল্লাহ,সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম খান,মহিলা দলের দুমকি উপজেলা সভাপতি আমেনা বেগম,উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহবায়ক হাবিবুর রহমান(নান্নু),উপজেলা মৎস্য দলের প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, মুরাদিয়া ইউনিয়ন মৎস্য দলের সভাপতি আঃ সালাম, পাংগাসিয়া ইউনিয়ন সভাপতি মুছা, বিএনপি অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

     

  • ‘রাষ্ট্রসংস্কার হোক আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে’ শরিয়তপুরে হেযবুত তাওহীদের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    ‘রাষ্ট্রসংস্কার হোক আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে’ শরিয়তপুরে হেযবুত তাওহীদের সুধী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

    আল্লাহর হুকুমের ভিত্তিতে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তনের দাবি জানিয়ে সুধী সমাবেশ করেছে হেযবুত তওহীদ। আজ শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় হেযবুত তওহীদের শরিয়তপুর জেলা কার্যালয আয়োজিত সুধী সমাবেশে “তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা”র প্রস্তাবনা তুলে ধরে সংগঠনটি। সভায় সাংবাদিক, শিক্ষক, আইনজীবী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন।

    সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন হেযবুত তওহীদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি শফিকুল আলম ওখবাহ। তিনি সংগঠনের সর্বোচ্চ নেতা হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম রচিত ‘তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা’ গ্রন্থের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রকাঠামোর ধারণা দেন।

    তিনি বলেন, “স্বাধীনতার পর ৫৩ বছরে সংবিধানে ১৭ বার সংশোধনী আনা হয়েছে, অসংখ্য নতুন নতুন আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, কিন্তু জাতির কোনো মৌলিক সংকটের টেকসই সমাধান হয়নি। এর কারণ হলো মানবরচিত জীবনব্যবস্থা। এই ব্যবস্থা দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা দলের পক্ষে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। শান্তির জন্য অবশ্যই আল্লাহর দেয়া তওহীদভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রবর্তন করতে হবে। এর রূপরেখা কী হবে সেটাই আমাদের ইমাম জনাব হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম পুস্তক আকারে তুলে ধরেছেন।”

    তিনি বলেন, “ভোটের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের প্রক্রিয়ার সাথে ইসলামের বিরোধ নাই। ইসলামেও মুসল্লিদের অসন্তুষ্টি নিয়ে কেউ ইমামতি করতে পারে না, ইমাম অবশ্যই মুসল্লিদের সমর্থিত হতে হবে, তাকে নিঃশর্তভাবে আনুগত্য করতে হবে। কিন্তু সমস্যাটা হলো প্রচলিত সিস্টেমে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিরা পার্লামেন্টে গিয়ে নিজেরা আইন রচনা করেন। এই জায়গায় মানুষ হয়ে যায় বিধানদাতা। আমাদের কথা হচ্ছে, বিধানদাতা বা ইলাহ একমাত্র আল্লাহ। যে বিষয়ে আল্লাহর কোনো হুকুম আছে, বিধান আছে, সেখানে অন্য কেউ বিধান রচনা করতে পারবে না। এটাই আল্লাহর সার্বভৌমত্ব বা তওহীদ। আমাদের প্রস্তাবিত তওহীদভিত্তিক

    রাষ্ট্রব্যবস্থায় সকল বিষয়ে ন্যায়-অন্যায়ের মানদণ্ড হবে আল্লাহর বিধান।” সংগঠনটির শরিয়তপুর জেলা সভাপতি বায়জিদ মালতের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন হেযবুত তওহীদের বরিশাল আঞ্চলিক সভাপতি রুহুল আমিন মৃধা,শরীয়তপুর জেলা নারী নেত্রী ফারজানা আক্তার মিতু প্রমুখ।

    বক্তারা আল্লাহর দেওয়া জীবনব্যবস্থা অনুসরণ করে মহানবী (সা.) যেভাবে একটি নিরাপদ ও আদর্শ সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, তার উদাহরণ তুলে ধরেন। তারই আলোকে একটি তওহীদভিত্তিক আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা, বিচারব্যবস্থা, প্রতিরক্ষা, গণমাধ্যম, নারীর মর্যাদা, আইনসভা ও সামাজিক সুরক্ষাসহ রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গ কীভাবে পরিচালিত হবে, তার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র উঠে আসে আলোচনায়।

    এসময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি এস এম শফিকুল ইসলাম স্বপন,এ্যাড.মাসুদুর রহমান প্রমুখ।

    উল্লেখ্য, উক্ত প্রস্তাবনা বিষয়ে সারাদেশে সেমিনার, গোলটেবিল বৈঠক, আলোচনা সভা, মতবিনিময় সভা করে আসছে সংগঠনটি।

  • ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে লংমার্চ : পদ্মা নদীতে আট শিক্ষার্থী ভেসে যাওয়ার ঘটনা।

    ভোলা-বরিশাল সেতুর দাবিতে লংমার্চ : পদ্মা নদীতে আট শিক্ষার্থী ভেসে যাওয়ার ঘটনা।

    ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে ঢাকার সেতু ভবনের উদ্দেশে ঘোষিত লংমার্চ বুধবার হঠাৎ নাটকীয় মোড় নেয়। “ভোলা-বরিশাল ছাত্র জনতা” ব্যানারে থাকা শিক্ষার্থীরা পদ্মা সেতু দিয়ে হেঁটে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে বিকেল তিনটার দিকে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বাধিক খরস্রোতা পদ্মা নদী সাঁতরে পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ভয়াবহ স্রোতের মুখে নদীতে নামার পর মুহূর্তেই অন্তত আট শিক্ষার্থীকে স্রোতে ভেসে যেতে দেখা যায়।

    রাত আটটার দিকে দীর্ঘ সময় স্রোতের সঙ্গে লড়াই করে পাঁচজন শিক্ষার্থী জীবিত অবস্থায় পৌঁছে যায় মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাটে। কাঁপতে থাকা শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন আগুন জ্বালিয়ে গরম করার উদ্যোগ নেন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তারা প্রশ্ন তুলেন—“এভাবে শিক্ষার্থীরা জীবন ঝুঁকিতে পড়ল, অথচ সেতু কর্তৃপক্ষ কী করল?”

    ভেসে যাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে দুজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার পাচ্চর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের শারীরিক অবস্থা সংকটজনক হওয়ায় তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের মধ্যে আরও একজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়।

    ঘটনার পর পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে সেতু কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অবস্থান নেয়। উদ্ধার অভিযানে কয়েকটি ট্রলার নদীতে নামানো হলেও প্রবল স্রোত ও অন্ধকারের কারণে কাজ বেশ কঠিন হয়ে পড়ে।

    গোসাইরহাট সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শামসুল আরেফীন বলেন, “সেতু দিয়ে হাঁটার অনুমতি না থাকায় তারা নদী পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিছু দূর এগিয়ে তারা শরীয়তপুরের একটি চরে অবস্থান নিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।”

    শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম জানান, “আমরা বারবার নিষেধ করেছি নদীতে নেমে সাঁতার কাটতে, কিন্তু তারা কথা না শুনে পানিতে নামে। উদ্ধার কাজ অব্যাহত রয়েছে এবং তারা মুন্সীগঞ্জে পৌঁছানোর সময় আমরা সঙ্গে ছিলাম।”

    লংমার্চের নেতৃত্বে থাকা মীর মোশারফ হোসেন অমি বলেন, “পদ্মা সেতু দিয়ে হাঁটার অনুমতি না দেওয়ায় আমরা বাধ্য হয়ে নদী সাঁতরে পার হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কেউ নিহত বা আহত হলে এর দায় সম্পূর্ণভাবে সেতু কর্তৃপক্ষ ও সরকারের।”

    তিনি আরও বলেন, “দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়ন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার স্বার্থে ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণ এখন জনদাবিতে রূপ নিয়েছে।”

    শিমুলিয়া ঘাটে পাঁচ শিক্ষার্থী জীবিত পৌঁছানোর ঘটনা স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। তারা অভিযোগ করেন—“এত বড় নদীতে তরুণ শিক্ষার্থীরা প্রাণ হাতে নিয়ে সাঁতার কাটছে, অথচ প্রশাসন সময়মতো সহায়তা করল না। তাদের এমন ঝুঁকি নেওয়ার মতো পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো—এটাই বড় প্রশ্ন।”

    ভোলা-বরিশাল সেতু নির্মাণের দাবিতে লংমার্চের এই ঘটনাটি দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ সংকটের বাস্তব চিত্র নতুন করে সামনে এনেছে।